প্রায় দুই মাস পর আগের মতো স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে গ্যাস সরবরাহ। শিল্পে অগ্রাধিকার দিয়ে তিন দিন ধরে দেশে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। বাড়তি গ্যাসের তিন ভাগের এক ভাগ বিদ্যুৎ খাতে সরবরাহ করা হচ্ছে। বাকি দুই ভাগ শিল্প খাতে।
পেট্রোবাংলা সূত্র বলছে, দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট হলেও ২৬৫ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হচ্ছিল দীর্ঘদিন ধরে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সরবরাহ করা হয়েছে ২৬০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে দেশি গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন করা হয়েছে ১৬১ কোটি ঘনফুট। আর এলএনজি থেকে সরবরাহ করা হয়েছে ৯৯ কোটি ঘনফুট।
এর আগে গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেটের ভাসমান টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর সেটি থেকে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে দিনে সরবরাহ নেমে এসেছিল ২২০ কোটি ঘনফুটে। ১৫ আগস্ট টার্মিনাল চালুর পর সরবরাহ বাড়িয়ে ২৩২ কোটি ঘনফুট করা হয়। এখন এটি আরও বাড়িয়ে আগের অবস্থায় নেওয়া হচ্ছে। গত মঙ্গলবার এলএনজি থেকে ১০১ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করায় মোট সরবরাহ ২৬৩ কোটি ঘনফুট হয়েছিল।
জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, সরবরাহ বাড়ানোর পর সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে শিল্প গ্রাহকদের। বাড়তি গ্যাসের অধিকাংশ যাচ্ছে শিল্প খাতে
সোমবার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। ওই অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার থেকে শিল্পে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি। যদিও সোমবার রাত থেকেই প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো হয়।
জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, সরবরাহ বাড়ানোর পর সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে শিল্প গ্রাহকদের। বাড়তি গ্যাসের অধিকাংশ যাচ্ছে শিল্প খাতে। বাগেরহাটের রামপাল ও পটুয়াখালীর পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি করে ইউনিট কারিগরি কারণে বন্ধ আছে। তাই চলমান লোডশেডিং কমাতে বিদ্যুৎ খাতেও গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে।
তবে গ্যাস বিতরণ সংস্থা ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসারে বাড়তি গ্যাসের পুরোটা শিল্পে সরবরাহ করা হয়নি। বুধবার এটি জানিয়ে রপ্তানি খাতের তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতের চারটি সংগঠনের পক্ষ থেকে সঞ্চালন কোম্পানি জিটিসিএলকে একটি যৌথ চিঠি দেওয়া হয়েছে। সংগঠনগুলো হলো বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমইএ এবং বিটিটিএলএমইএ। চিঠিতে বলা বলা হয়, দেশের সবচেয়ে বড় বিতরণ সংস্থা তিতাস গ্যাসকে শিল্প খাতের চাহিদার চেয়ে ৩০ শতাংশ কম সরবরাহ করা হচ্ছে। আর অন্য বিতরণ সংস্থাগুলোকে প্রায় ৩০ শতাংশ বাড়তি সরবরাহ করা হচ্ছে। তাঁরা দ্রুত তিতাস এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর দাবি জানান চিঠিতে।
শিল্প, আবাসিক ও সিএনজি খাতে আগের মতো সরবরাহ করতে পারছে না তিতাস। ফলে শিল্পের পাশাপাশি আবাসিকে রান্নার কাজেও ভোগান্তি শেষ হয়নি গ্রাহকের।
ঢাকা, সাভার, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও ময়মনসিংহ এলাকায় গ্যাস সরবরাহ করে তিতাস। এ সংস্থার দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, গত ২১ জুলাইয়ের আগে তিতাসকে মোট ১৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ খাতে ৩০ কোটি ঘনফুট, সার কারখানায় ৭ কোটি ঘনফুট, শিল্পসহ অন্যান্য খাতে ১১৩ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হয়। আর গতকাল তিতাস পেয়েছে ১৩৭ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে বিদ্যুৎ খাতে ২২ কোটি ঘনফুট, সারে ৭ কোটি ঘনফুট, শিল্পসহ অন্যান্য খাতে সরবরাহ করা হয়েছে ১০৮ কোটি ঘনফুট। তার মানে শিল্প, আবাসিক ও সিএনজি খাতে আগের মতো সরবরাহ করতে পারছে না তিতাস। ফলে শিল্পের পাশাপাশি আবাসিকে রান্নার কাজেও ভোগান্তি শেষ হয়নি গ্রাহকের।
পেট্রোবাংলা ও তিতাস সূত্র বলছে, ময়মনসিংহের ভালুকা শিল্প এলাকায় গ্যাসের সরবরাহ আগের ধারায় ফিরেছে। নারায়ণগঞ্জের অধিকাংশ এলাকায় সরবরাহ বেড়েছে, কিছু এলাকায় গ্যাসের চাপ এখনো কম। সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুরের চন্দ্রা, সফিপুর ও কোনাবাড়ী এলাকায় গ্যাসের সরবরাহ তেমন বাড়ানো যায়নি। নরসিংদীর কিছু এলাকায় ভালো, আর কিছু এলাকায় গ্যাস তেমন বাড়েনি।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়মিত নজরদারি করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকেও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ধীরে ধীরে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে আসছে। পরিকল্পনা অনুসারে শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। আজ থেকে শিল্পে সরবরাহ আরও স্বাভাবিক হবে। এরপর দুটি কয়লাবিদ্যুৎকেন্দ্র (পায়রা ও রামপাল) থেকে উৎপাদন বাড়লে শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ আরও বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে।
সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুরের চন্দ্রা, সফিপুর ও কোনাবাড়ী এলাকায় গ্যাসের সরবরাহ তেমন বাড়ানো যায়নি। নরসিংদীর কিছু এলাকায় ভালো, আর কিছু এলাকায় গ্যাস তেমন বাড়েনি।
ঢাকার সাভার উপজেলার বিভিন্ন এলাকার শিল্পকারখানাগুলোয় গ্যাসের সরবরাহ কোথাও বেড়েছে, কোথাও অপরিবর্তিত রয়েছে। আশুলিয়ার বাইপাইল–সংলগ্ন ফাউন্টেন গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেডের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ) আশিকুল ইসলাম গতকাল দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে গ্যাসের চাপ কমপক্ষে ৭–৮ পিএসআই (প্রতি বর্গ ইঞ্চি) থাকতে হয়। দুই মাস ধরে ১ থেকে দেড় পিএসআই ছিল। গত বুধবার সর্বোচ্চ সোয়া ৫ পিএসআই, বৃহস্পতিবার ৭ পিএসআই পাওয়া গেছে।
নারায়ণগঞ্জের শিল্পকারখানাগুলোয় গ্যাসের চাপ কিছুটা বেড়েছে। এতে অনেক কারখানায় উৎপাদন স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে এখনো কিছু এলাকায় গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। সদর উপজেলার ফতুল্লার কায়েমপুর এলাকায় অবস্থিত বৃহৎ ফকির নিটওয়্যার লিমিটেডে। এই প্রতিষ্ঠানে পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ ৫–৬ পিএসআই পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি ২৪ ঘণ্টা উৎপাদন চালাতে পারছে।
একই শিল্পনগরীতে ফেয়ার অ্যাপারেলস লিমিটেডে ডাইং কারখানার মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মাসুম প্রথম আলোকে বলেন, আগের তুলনায় গ্যাসের চাপ বেড়েছে। টানা উৎপাদনকাজ চালাতে পারছেন তাঁরা।
নারায়ণগঞ্জের শিল্পকারখানাগুলোয় গ্যাসের চাপ কিছুটা বেড়েছে। এতে অনেক কারখানায় উৎপাদন স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে এখনো কিছু এলাকায় গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।
সারা দেশে মোট কাপড়ের চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ উৎপাদিত হয় নরসিংদীতে। ছোট-বড় তিন হাজারের বেশি শিল্পকারখানা রয়েছে এই জেলায়। প্রায় দুই মাস ভোগান্তির পর জেলার শিল্পকারখানাগুলোয় গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। মাধবদীর এমএমকে ডাইংয়ের স্বত্বাধিকারী মোমেন মোল্লা জানান, গ্যাসের সমস্যা এখন আর নেই, তবে বিদ্যুতের সমস্যা রয়ে গেছে।
নরসিংদী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি রাশেদুল হাসান বলেন, গ্যাসের অভাবে কোনো শিল্পকারখানাই এখন বন্ধ নেই। গ্যাস পরিস্থিতি আগের অবস্থায় ফিরেছে, এটি ধরে রাখতে হবে।
গাজীপুরে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজার শিল্পকারখানা রয়েছে। এর মধ্যে দুই হাজারের বেশি পোশাক কারখানা। গাজীপুরে গ্যাসের চাপ কিছুটা বাড়ার পর কারখানায় উৎপাদনে গতি ফিরেছে। কোনো কারখানায় উৎপাদন ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। টাওয়েল টেক্সের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার ওমর ফারুক বলেন, গ্যাসের চাপ বাড়ায় কারখানায় উৎপাদন আগের তুলনায় বেড়েছে।
গতকাল দুপুরে সাভারের কলমা এলাকার উইন্টার ড্রেস লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক মো. রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, উৎপাদনের জন্য গ্যাসের চাপ অন্তত ৫ পিএসআই প্রয়োজন। গতকালও এই চাপে গ্যাস আসেনি। বয়লার বন্ধ রাখতে হয়েছে।
তিতাস গ্যাস অ্যান্ড ট্রান্সমিশন ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি পিএলসির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (গাজীপুর) সাখাওয়াত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ধীরে ধীরে সাভার উপজেলায় গ্যাসের সমস্যা অনেকটাই স্বাভাবিক হচ্ছে। দু-এক দিনের মধ্যে পুরোপুরি সমাধান হয়ে যাবে।
গতকাল বেলা আড়াইটার দিকে নরসিংদীর ঘোড়াদিয়া এলাকার শিল্পী ডাইংয়ের কর্মকর্তা অমিত সাহা বলেন, ভোর থেকে গ্যাস ছিল না। তবে দুপুরের পর কারখানায় গ্যাসের চাপ দেড় পিএসআই দেখা গেছে। এ চাপে বয়লার চলে না, অন্তত আড়াই পিএসআই লাগে।
তৈরি পোশাক খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, শিল্পাঞ্চলগুলোর অধিকাংশ জায়গায় আগের তুলনায় গ্যাস পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। কোনো কোনো এলাকায় ১২ থেকে ১৫ পিএসআই চাপেও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে কিছু জায়গায় গ্যাসের চাপ ওঠানামা করার পাশাপাশি কম চাপের তথ্যও পাওয়া গেছে।
[প্রতিবেদনে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার ও প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদী]
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
জন্মপূর্ব, জন্মকালীন ও জন্ম-পরবর্তী যেকোনো সময়ে জেনেটিক এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশের প্রভাবে শিশুদের অটিজম হতে পারে।বর্তমানে অভিভাবকেরা শিশু কথা বলতে দেরি করলেই ভয় পেয়ে যান যে অটিজম না তো। আর যদি অটিজম শনাক্ত হয়, তবে সামাজিকভাবে অনেকেই বিভিন্ন প্রতিকূলতার শিকার হন। সবচেয়ে দুঃখজনক, অনেক ক্ষেত্রেই মা–বাবাকে, বিশেষত মাকে এ জন্য দোষারোপ করা হয়।অটিজম স্নায়ুর বিকাশজনিত জটিলতা। এ কারণে সাধারণত তিনটি সমস্যা দেখা দেয়১. মৌখিক কিংবা অন্য কোনো প্রকার যোগাযোগ সমস্যা২. সামাজিক বিকাশগত সমস্যা এবং৩. খুব সীমাবদ্ধ ও গণ্ডিবদ্ধ জীবনযাপন ও চিন্তাভাবনা এবং পুনরাবৃত্তিমূলক আচরণ।এর লক্ষণগুলো সাধারণত জন্মের প্রথম তিন বছরে প্রকাশ পায়। সারা বিশ্বে প্রায় প্রতি ৫৪ জনে একটি করে শিশু অটিজমে আক্রান্ত। আমাদের দেশের প্রতি ১০ হাজার শিশুর মধ্যে কমপক্ষে ১৭টি শিশু অটিজমে আক্রান্ত। অটিজমের কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো নির্দিষ্ট বিষয় চিহ্নিত করা যায়নি।একাধিক বালিশে ঘুমালে কি ঘাড়ে সমস্যা হতে পারে বিভিন্ন গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী যা পাওয়া গেছে, সেগুলো হলো-সময়ের আগে জন্ম নেওয়া এবং প্রসবকালীন জটিলতা অটিজমের ঝুঁকি কিছুটা বাড়াতে পারে।মা–বাবার বয়স প্রভাব ফেলতে পারে।গর্ভকালীন ভাইরাল (জিকা, রুবেলা ইত্যাদি) ইনফেকশন, গর্ভকালীন জটিলতা এবং বায়ুদূষণকারী উপাদানগুলো স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার হওয়ার ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা রাখে।বিভিন্ন জিনের কারণে অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার হতে পারে।আবার কোনো কোনো শিশুর ক্ষেত্রে জেনেটিক ডিজঅর্ডার, যেমন রেট সিনড্রোম (একটি বিরল জিনগত স্নায়বিক বিকাশজনিত ব্যাধি) বা ফ্র্যাজাইল এক্স সিনড্রোমের (একটি বংশগত ব্যাধি, যা মূলত মস্তিষ্কের বিকাশ ও শেখার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে) সঙ্গে এই রোগ হতে পারে।কিছু জিন মস্তিষ্কের কোষগুলোর পরিবহনব্যবস্থায় বাধা প্রদান করে এবং রোগের তীব্রতা বাড়ায়।জেনেটিক বা জিনগত সমস্যা বংশগতও হতে পারে আবার নির্দিষ্ট কোনো কারণ ছাড়াই রোগটি হতে পারে। ভ্যাকসিন বা প্রতিষেধক দেওয়া বা না–দেওয়ার সঙ্গে অটিজমের কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।অটিজম হওয়ার ক্ষেত্রে মা–বাবা কেউই দায়ী নন। অটিজমের মূল কারণগুলো জেনেটিক ও মস্তিষ্কের বিকাশের সঙ্গে সম্পর্কিত। এমনকি এটা এখনো পুরোপুরি প্রতিরোধযোগ্যও নয়। তবে অটিজম হওয়ার ঝুঁকি কিছুটা কমানো যায়।গর্ভাবস্থায় মায়ের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো উচিত, গর্ভের শিশু ঠিকমতো বেড়ে উঠছে কি না, সেদিকে খেয়াল করা জরুরি।প্রসব যেন নিরাপদ হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে, যাতে গর্ভকালীন জটিলতা এড়ানো সম্ভব হয়।গর্ভধারণের সময় মায়ের ডায়াবেটিস, থাইরয়েড, অপুষ্টি; এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।গর্ভাবস্থার আগে ও সময়ে ফলিক অ্যাসিড গ্রহণ করতে হবে।ইনফেকশন হলে দ্রুত চিকিৎসা করতে হবে।অকারণে ওষুধ খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।ধূমপান, অ্যালকোহল, মাদক সম্পূর্ণভাবে এড়াতে হবে।অটিজমের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন সমন্বিত চেষ্টা। এর মধ্যে শিশু স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ, শিশু মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ, মনোবিদ, স্পিচ থেরাপিস্ট, অকুপেশনাল থেরাপিস্ট, শিক্ষক, সমাজকর্মী, জনপ্রতিনিধি, শিশুর অভিভাবক, পরিবারের সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত।অটিজম কোনো অভিশাপ নয়। শিক্ষিত-অশিক্ষিত, ধনী-গরিব, শহর-গ্রাম, সচেতন-অসচেতন যেকোনো মা–বাবার সন্তানই এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। অটিজম পুরোপুরিভাবে প্রতিরোধ করা যায় না। সঠিক সময়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করলে শিশুর ভাষা, আচরণ, শিক্ষা, সামাজিক দক্ষতার উন্নতি হতে পারে।টবে ৪টি ডিম, ঢেঁকিঘরে ১২টি—সবই কি সাপের
মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আত্মহত্যার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে সামাজিক কুসংস্কার ভেঙে খোলামেলা আলোচনা করতে হবে। মানসিক টানাপোড়েন, তীব্র বিষণ্নতা কিংবা একাকিত্ব আড়াল না করে সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার বার্তা নিয়ে বিশেষ সেমিনার করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা। বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ১০ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে আটটায় ভার্চ্যুয়ালি এটি অনুষ্ঠিত হয়।মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ‘মনের বন্ধু’র সহযোগিতায় জাবি বন্ধুসভার অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে সরাসরি এই সেমিনার সম্প্রচারিত হয়। অনুষ্ঠানে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হিসেবে যুক্ত ছিলেন পেশাদার সাইকোসোশ্যাল কাউন্সেলর আনতাজ হেনা আঁখি। সঞ্চালনা করেন প্রথম আলোর ক্যাম্পেইন অ্যান্ড কমিউনিকেশন অফিসার গিয়াস উদ্দিন।সাইকোসোশ্যাল কাউন্সেলর আনতাজ হেনা আঁখি আত্মহত্যার ঝুঁকি, মানসিক সংকটের প্রাথমিক লক্ষণ এবং তা শনাক্ত করার উপায় নিয়ে বিশদ আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, ‘মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সংকট কোনো ব্যক্তিগত দুর্বলতা বা লজ্জার বিষয় নয়। যে কেউ জীবনের যেকোনো পর্যায়ে তীব্র মানসিক চাপ, ব্যর্থতা, ট্রমা কিংবা হতাশার ভেতর দিয়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে জরুরি হলো আক্রান্ত ব্যক্তির অনুভূতিকে অবমূল্যায়ন না করে বিচারহীনভাবে শোনা, তাকে আশ্বস্ত করা এবং সময়মতো পেশাদার মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।’আলোচনার এক পর্যায়ে জাতীয় বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার অনাকাঙ্ক্ষিত প্রবণতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন কাউন্সেলর আঁখি। তিনি উল্লেখ করেন, পরীক্ষার ফলাফল আশানুরূপ না হলে পারিবারিক চাপ ও সামাজিক গ্লানি থেকে অনেকেই এমন চরম পথ বেছে নেয়। তবে পরিবারের মানসিক সমর্থন ও সহানুভূতি থাকলে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব। তিনি আরও পরামর্শ দেন, সমাজ বা পারিপার্শ্বিক প্রত্যাশার পাশাপাশি নিজের ব্যক্তিগত পছন্দ, ভালো লাগা ও চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত। মনের ভেতরের যেকোনো চাপ বা দ্বিধাদ্বন্দ্ব চেপে না রেখে বিশ্বস্ত পরিবারের সদস্য কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান জানান।অনুষ্ঠানে মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে দেশের সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য ও গ্রহণযোগ্য করে তুলতে নিরলস কাজ করে যাওয়া প্ল্যাটফর্ম ‘মনের বন্ধু’র প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়।সঞ্চালক গিয়াস উদ্দিন তরুণদের মানসিক বিকাশ ও সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবসের অন্যতম মূল লক্ষ্য হলো আত্মহত্যা নিয়ে সামাজিক ট্যাবু ও নীরবতা দূর করা। ‘নিজে জানুন, বন্ধুকেও জানান মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব’—এই প্রতিপাদ্য কেবল কথায় নয়, আমাদের প্রাত্যহিক আচরণে ধারণ করতে হবে। ক্যাম্পাসে এবং ক্যাম্পাসের বাইরে প্রতিটি বন্ধুর পাশে মানবিক ঢাল হিসেবে দাঁড়াতে জাবি বন্ধুসভাসহ অন্যান্য বন্ধুসভা নিয়মিত এ ধরনের প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে যাচ্ছে।লাইভের কমেন্ট বক্সে দর্শকেরা এমন সময়োপযোগী ও জীবনঘনিষ্ঠ আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতায় নিয়মিত এমন অধিবেশন শিক্ষার্থীদের মানসিক শক্তি জোগাতে এবং বিষণ্নতা দূর করতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তাঁরা অভিমত ব্যক্ত করেন।
ইরানবিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তথ্যানুসন্ধান মিশনের প্রতিবেদন প্রত্যাখান করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এ প্রতিবেদনের ফলাফলকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করে না।জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধান মিশন গতকাল বৃহস্পতিবার জানায়, ইরান যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধাপরাধ করেছে—এমনটা বিশ্বাস করার মতো প্রমাণ পাওয়া গেছে।জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধান মিশন তার প্রতিবেদনে ইরানের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথা উল্লেখ করেছে। এ হামলায় ১৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন।ইরানের স্কুলে–ক্রীড়া স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা যুদ্ধাপরাধের শামিল, বলছে জাতিসংঘইরানের কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, হামলাটিতে নিহত ব্যক্তিদের মধ্য অন্তত ১২০ জন ছিল স্কুলশিক্ষার্থী।জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধান মিশনের প্রতিবেদনে ইরানে চালানো আরেকটি বিমান হামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, সহজেই শনাক্ত করা যায়, এমন একটি ক্রীড়া স্থাপনা ও আবাসিক এলাকায় হামলায় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এ হামলায় ২২ জন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হন।বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে প্রতিবেদনটি জমা দেওয়া হবে।ইরানের মিনাব স্কুলে হামলার দায় নিয়ে নতুন করে কী বললেন ট্রাম্প২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল থেকে তাঁর দেশকে প্রত্যাহার করে নেন। তখন এই কাউন্সিলসহ জাতিসংঘের কিছু সংস্থা–প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের পরিপন্থীভাবে কাজ করার অভিযোগ তুলেছিল ওয়াশিংটন।প্রতিবেদনটির বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তা বলেন, জাতিসংঘের এই কাউন্সিল যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য ও ইহুদিবিদ্বেষ ছড়ায়। তারা দমনমূলক শাসনব্যবস্থাকে প্রশ্রয় দেয়।ইরানে বিদ্যালয়ে হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রই: প্রাথমিক অনুসন্ধানহোয়াইট হাউসও প্রতিবেদনটির বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে বলে জানায় বার্তা সংস্থা এপি। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, এই সংঘাতে একমাত্র ইরানের শাসকগোষ্ঠীই যুদ্ধাপরাধ করেছে।নতুন ভিডিও ইঙ্গিত দিচ্ছে, ইরানের স্কুলে হামলায় যুক্তরাষ্ট্র জড়িত: সিএনএন