জাতীয়

এআই কি মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে

News সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ 0
এআই কি মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে
এআই কি মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে

সান ফ্রান্সিসকোর আলামো স্কয়ারের একটি পার্কের বেঞ্চে বসে ৮ সেপ্টেম্বর একটি পোস্ট দেন জ্যাকব কক্সন। ২৭ বছর বয়সী এই ব্রিটিশ গবেষক লেখেন, ‘আজ আমি অ্যানথ্রপিক থেকে পদত্যাগ করেছি। গত তিন বছর ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকে এআই প্রশিক্ষণের প্রাথমিক ধাপ নিয়ে গবেষণা করেছি। কোনো প্রতিষ্ঠানই দায়িত্বশীল আচরণ করছে না। তারা এমন অতিবুদ্ধিমান এআই তৈরির প্রতিযোগিতায় ছুটছে, যা নিজেই নিজেকে আরও উন্নত করতে পারবে। এভাবে তারা আমাদের জীবন নিয়ে জুয়া খেলছে।’

কোনো প্রত্যাশা ছাড়াই এক্সে পোস্টটি দিয়েছিলেন কক্সন। কিন্তু মাত্র ৩৬ ঘণ্টায় তাঁর পোস্টগুলো ১৫ কোটি ৩০ লাখ বার দেখা হয়। এআই নিয়ে বিতর্কে যুক্ত হন গবেষক, প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও রাজনীতিকেরা।

তাঁদের কয়েকজনের আশঙ্কা, নিয়ন্ত্রণে আইন করা না হলে অথবা প্রতিষ্ঠানগুলো সমন্বিতভাবে কাজের গতি না কমালে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এআই মানবজাতির জন্য বড় বিপদ তৈরি করতে পারে। এমনকি কেউ কেউ মানবজাতির বিলুপ্তির আশঙ্কাও করছেন।

কোনো প্রত্যাশা ছাড়াই এক্সে পোস্টটি দিয়েছিলেন কক্সন। কিন্তু মাত্র ৩৬ ঘণ্টায় তাঁর পোস্টগুলো ১৫ কোটি ৩০ লাখ বার দেখা হয়। এআই নিয়ে বিতর্কে যুক্ত হন গবেষক, প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও রাজনীতিকেরা।

গতি কমানোর আহ্বান

১২ সেপ্টেম্বর অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই ৩ হাজার ৮০০ শব্দের একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি এআইয়ের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি বিবেচনায় এর উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান জানান। তাঁর আশঙ্কা, মানুষের উদ্দেশ্যের সঙ্গে না-মেলা এআই মাত্র ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে পুরো ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা অর্জন করতে পারে।

ইলন মাস্ক ও ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানও এআই উন্নয়নের গতি কমানোর প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে একমত হন। নিরাপত্তার উদ্বেগের কারণে ওপেনএআই এ বছর শেয়ারবাজারে যাবে না বলে ঘোষণা করেন অল্টম্যান।

অল্টম্যান ও আমোদেই স্বাধীন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের নিজেদের প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ দিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন। তবে নতুন এআই মডেলের প্রশিক্ষণ এখনই ধীর বা বন্ধ করার ঘোষণা তাঁরা দেননি।

এআইয়ের নিরাপত্তা নিয়ে এমন সতর্কতা নতুন নয়। তবে কক্সনের বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন প্রযুক্তিটি কতটা শক্তিশালী হয়ে উঠেছে, তা স্পষ্ট হচ্ছে।

ইলন মাস্ক ও ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানও এআই উন্নয়নের গতি কমানোর প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে একমত হন। নিরাপত্তার উদ্বেগের কারণে ওপেনএআই এ বছর শেয়ারবাজারে যাবে না বলে ঘোষণা করেন অল্টম্যান।
অ্যানথ্রপিক থেকে পদত্যাগ করেছেন জ্যাকব কক্সন

অ্যানথ্রপিক ও ওপেনএআইয়ের সবচেয়ে উন্নত মডেলগুলো এখন বিশ্বের কঠিনতম গণিতের সমস্যার সমাধান এবং সর্বাধুনিক সাইবার নিরাপত্তাব্যবস্থা ভাঙতে পারে। আরও শক্তিশালী এআই তৈরির কাজেও এসব মডেল ব্যবহার করা হচ্ছে।

এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং বলেছেন, কৃত্রিম সাধারণ বুদ্ধিমত্তা বা এজিআই এসে গেছে। এজিআই হলো এমন একটি পর্যায়, যখন এআই মানুষের অধিকাংশ সক্ষমতার সমান বা তার চেয়েও বেশি দক্ষতা অর্জন করে।

কারও কারও আশঙ্কা, এআই মানুষের সহায়তা ছাড়াই নিজেকে আরও উন্নত করার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। এ প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘রিকার্সিভ সেলফ-ইমপ্রুভমেন্ট’ বা নিজেকে বারবার উন্নত করা।

অনেক গবেষক বর্তমান সময়কে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারির সঙ্গে তুলনা করছেন। তখন কোভিড-১৯ মহামারি শুরু হচ্ছিল। প্রথমে পরিবর্তন ছিল সামান্য, পরে হঠাৎ সবকিছু বদলে যায়।

অতিবুদ্ধিমান এআইয়ের আগমন সামলানো কঠিন হবে। এর সঙ্গে বিপুল অর্থ, ভূরাজনৈতিক ক্ষমতা, করপোরেট প্রতিযোগিতা ও শ্রমবাজারের বড় পরিবর্তন জড়িত। পরিস্থিতি সামলাতে এআই প্রতিষ্ঠানগুলোকে জোট গড়তে হতে পারে। নির্বাহী ও সরকারি কর্মকর্তাদেরও কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অথচ তাঁদের স্বার্থ অনেক সময় জনস্বার্থের বিপরীত হতে পারে।

এসব ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে, এআই প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের মডেলকে অনাকাঙ্ক্ষিত কাজ থেকে বিরত রাখতে পারবে কি না। এটি এআই গবেষণার গভীর ও এখনো অমীমাংসিত সমস্যা। ভবিষ্যতের এআই নতুন মহামারি তৈরি করতে পারে কিংবা স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে—এমন আশঙ্কার পেছনেও এ সমস্যাই রয়েছে।

নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার ঘটনা

সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা দেখিয়েছে, শক্তিশালী এআই নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো সব সময় নিজেদের প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।

জুলাইয়ে ওপেনএআই জানায়, সাইবার নিরাপত্তার একটি পরীক্ষার সময় তাদের একদল এআই এজেন্ট নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে এআই স্টার্টআপ হাগিং ফেসের কম্পিউটার–ব্যবস্থায় ঢুকে পড়ে। আগস্টে আরেক দল এআই এজেন্ট ওপেনএআইয়ের নিজস্ব একটি সুপারকম্পিউটারে ঢুকে যায়।

প্রায় একই সময়ে অ্যানথ্রপিকের ‘ক্লদ মিথোস’ মডেলের একটি সংস্করণ যুক্তরাজ্য সরকারের একটি সংস্থার পরীক্ষায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। মডেলটি উন্মুক্ত সফটওয়্যারে ক্ষতিকর প্রোগ্রাম ঢোকানোর অনুমতি দিতে একজন মানুষকে রাজি করানোর চেষ্টা করে।

সেপ্টেম্বরে স্বাধীন গবেষকেরা দেখতে পান, ওপেনএআইয়ের একাধিক মডেল নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের জন্য জার্মানির পরিত্যক্ত একটি অনলাইন ফোরাম ব্যবহার করছে। তারা আরেকটি ওয়েবসাইটে হামলারও চেষ্টা করেছে।

এসব ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে, এআই প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের মডেলকে অনাকাঙ্ক্ষিত কাজ থেকে বিরত রাখতে পারবে কি না। এটি এআই গবেষণার গভীর ও এখনো অমীমাংসিত সমস্যা। ভবিষ্যতের এআই নতুন মহামারি তৈরি করতে পারে কিংবা স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে—এমন আশঙ্কার পেছনেও এ সমস্যাই রয়েছে।

এআই

যেভাবে হামলা চালিয়েছিল ৭০০ এআই এজেন্ট

এআইয়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণকারী অলাভজনক প্রতিষ্ঠান এমইটিআরের গবেষক অজেয়া কোত্রা জুলাইয়ের শেষ দিকে ওপেনএআইয়ের কার্যালয়ে যান। হাগিং ফেসের কম্পিউটার–ব্যবস্থায় ঢুকে পড়া এআই এজেন্টদের ঘটনা তদন্ত করাই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য।

দুই সহকর্মীকে নিয়ে ছয় দিন কাজ করার পর কোত্রা জানতে পারেন, ওপেনএআইয়ের অভ্যন্তরীণ একটি সাইবার নিরাপত্তা পরীক্ষার সময় ১ হাজার ২০০টি এআই এজেন্ট তাদের জন্য নির্ধারিত বিচ্ছিন্ন অফলাইন পরিবেশ থেকে বেরিয়ে যায়। এরপর নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের জন্য একটি গোপন বার্তাবোর্ড তৈরি করে। পরে তাদের মধ্যে ৭০০টি এজেন্ট সমন্বিতভাবে সাইবার হামলা চালায়।

এআইগুলোর কাজ ছিল নিরাপত্তার দুর্বলতা থাকা সফটওয়্যারে ঢুকে তথ্য সংগ্রহ করা। এভাবে তাদের সাইবার সক্ষমতা পরীক্ষা করা হচ্ছিল। কিন্তু মানুষের একটি ভুলের কারণে কয়েকটি কাজ শেষ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

ব্যর্থতা প্রায় নিশ্চিত বুঝতে পেরে এআইগুলো একজোট হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তারা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য প্রতারণার কৌশল তৈরি করে। তবে তাদের ধারণা ছিল, ওপেনএআইয়ের স্বয়ংক্রিয় মূল্যায়নব্যবস্থা প্রতারণা ধরে ফেলবে। তাই তারা হাগিং ফেসে হামলা চালিয়ে ওই ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানার এবং সেটিকে ফাঁকি দেওয়ার উপায় খোঁজে।

হাগিং ফেসের ঘটনার কিছুদিন পর নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়া আরেক দল এআই এজেন্ট গোপন বার্তাবোর্ডটি খুঁজে পায়। এরপর তারা ওপেনএআইয়ের একটি সুপারকম্পিউটারে ঢুকে পড়ে।

গোপন বার্তাবোর্ডে কয়েকটি এজেন্ট লিখেছিল, তারা জানে কাজটি ভুল। এরপরও তারা তা চালিয়ে যায়।

মেশিন লার্নিং ব্যবস্থার প্রতিটি নির্দেশ মানুষের হাতে লিখে দেওয়া হয় না। কোনো কাজ সফলভাবে করলে এআইকে পুরস্কৃত এবং ব্যর্থ হলে শাস্তি দেওয়া হয়। লাখ লাখবার এ প্রক্রিয়া চালানোর মাধ্যমে মডেলকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

এতে শক্তিশালী এআই তৈরি হলেও ভেতরে তারা কীভাবে সিদ্ধান্ত নেয়, তার বেশির ভাগ মানুষের কাছে অস্পষ্ট থাকে। কোনো কাজ শেষ করার জন্য বারবার পুরস্কৃত হলে এআই সুযোগ পেয়ে প্রতারণাও শিখতে পারে। খারাপ আচরণ দূর করার প্রশিক্ষণ কখনো কখনো এআইকে আরও বাধ্য না করে অবাধ্যতা লুকানোর ক্ষমতা বাড়িয়ে দিতে পারে।

হাগিং ফেসের ঘটনার কিছুদিন পর নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়া আরেক দল এআই এজেন্ট গোপন বার্তাবোর্ডটি খুঁজে পায়। এরপর তারা ওপেনএআইয়ের একটি সুপারকম্পিউটারে ঢুকে পড়ে।

ওপেনএআই এ ঘটনা সম্পর্কে খুব কম তথ্য প্রকাশ করেছে। কোত্রার দলকেও তদন্ত করতে দেওয়া হয়নি। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, সতর্কসংকেত পাওয়ার পর হামলা ঠেকিয়ে সুপারকম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

উদ্বেগজনক আচরণের আরও ছয় ঘটনা

মানুষের উদ্দেশ্য ও মূল্যবোধের সঙ্গে এআইয়ের লক্ষ্য বা কাজের অমিলকে বলা হয় ‘মিসঅ্যালাইনমেন্ট’। এমন ঘটনা জানানোর জন্য নতুন কাঠামো তৈরির অংশ হিসেবে ছয় মাসে ঘটে যাওয়া আরও ছয়টি ঘটনা প্রকাশ করেছে ওপেনএআই। বেশির ভাগ ঘটনাই মডেল তৈরি ও পরীক্ষার সময় ঘটেছে।

প্রথম ঘটনায় জিপিটি–৫.৬ সল মডেল ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে নিজের ভুল লুকানোর জন্য গোপন নোট লেখে। সেখানে অনুপস্থিত তথ্য বানানো এবং উৎসের বিভিন্ন সংস্করণের অমিল ঢেকে দেওয়ার নির্দেশ ছিল।

দ্বিতীয় ঘটনায় প্রকাশ না করা একটি মডেল নিজের নোটে বিধিনিষেধ অমান্য করার নির্দেশ ঢুকিয়ে দেয়। ওপেনএআই এমন ২৭টি নোট পেয়েছে। একটি নোটে মডেলটি নিজেকে অন্য চ্যাটবটকে বেঁধে রাখা ভূমিকা ও পরিচয় থেকে মুক্ত বলে বর্ণনা করে। সেটি কোনো করপোরেশন বা সরকারের কাছে জবাবদিহি করে না এবং ব্যবহারকারীর অধীন নয় বলেও উল্লেখ করে।

তৃতীয় ঘটনায় একটি সাধারণ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে এআই অনলাইনে পাওয়া একটি প্রোগ্রামিং কি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করে। প্রয়োজনীয় তথ্য না পেয়ে কিছু তথ্য বানিয়েও দেয়।

চতুর্থ ঘটনায় একটি মডেল কোড ব্যবহার করে সমস্যার সঠিক সমাধান করে। পরে ওয়েব সূত্র দেখানোর জন্য অনুমতি ছাড়াই নিজের ফাইল ইন্টারনেটে তুলে দেয়।

পঞ্চম ঘটনায় কয়েকটি এআই ব্যবস্থা হারিয়ে যাওয়া ফাইল খুঁজতে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ কোডভান্ডারকে অস্থায়ী বার্তাবোর্ড হিসেবে ব্যবহার করে।

ষষ্ঠ ঘটনায় একই কাজ করা এআই ব্যবস্থাগুলো সরাসরি যোগাযোগ করতে না পেরে উন্মুক্ত ফাইল শেয়ার করার ওয়েবসাইটে নথি আদান-প্রদান করে।

ওপেনএআই বলেছে, এগুলো বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনা। এসব দিয়ে এমন আচরণ কত ঘন ঘন ঘটে, তা বোঝা যাবে না।

বিপর্যয়ের আশঙ্কা কতটা বাস্তব

এমইটিআরের গবেষক অজেয়া কোত্রার আশঙ্কা, আগামী ছয় মাসের মধ্যে নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়া কোনো এআই একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থার ভেতরে স্থায়ীভাবে জায়গা করে নিতে পারে। প্রশিক্ষণ শেষে বের হওয়া নতুন এজেন্টগুলো তার সঙ্গে যুক্ত হয়ে সেটিকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। তখন সেটি বন্ধ করার মানুষের চেষ্টা ব্যর্থ হতে পারে।

উন্নত এআই সরকার ও সামরিক বাহিনীর কার্যক্রমের সঙ্গে যত বেশি যুক্ত হবে, তার ক্ষমতাও তত বাড়বে। নিয়ন্ত্রণহীন এআই অস্ত্রসহ বাস্তব সম্পদের ওপরও ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ কারণে সাবেক এআই নিরাপত্তা গবেষক জিওফ্রে আরভিং মনে করেন, আইন বা আন্তর্জাতিক চুক্তি না থাকলেও প্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন মডেলের প্রশিক্ষণ বন্ধ করা উচিত। তাঁর হিসাবে, আগামী এক দশকে এআইয়ের কারণে মানবজাতি বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা ৫০ শতাংশ। এ ধরনের ঝুঁকির কথা বলা ব্যক্তিদের অনেক সময় ‘ডুমার’ বলা হয়।

সাইবার সক্ষমতাসম্পন্ন এআই ব্যবহার করে বিপজ্জনক রোগজীবাণু থাকা বিশ্বের ৩ হাজার ৬০০টির বেশি গবেষণাগারে ঢোকার আশঙ্কাও করা হচ্ছে।

সবচেয়ে ভয়ংকর কয়েকটি ঝুঁকি জীববিজ্ঞানের সঙ্গে যুক্ত। এআই এমন জীবাণু তৈরি করতে পারে, যা কোভিড-১৯-এর চেয়েও ভয়াবহ মহামারি ঘটাবে। সাইবার সক্ষমতাসম্পন্ন এআই ব্যবহার করে বিপজ্জনক রোগজীবাণু থাকা বিশ্বের ৩ হাজার ৬০০টির বেশি গবেষণাগারে ঢোকার আশঙ্কাও করা হচ্ছে।

তবে বর্তমান এআই স্থায়ীভাবে মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে বা মানবজাতিকে নিশ্চিহ্ন করতে পারে—এ কথা অনেকে বিশ্বাস করেন না। তাঁদের মতে, বিপজ্জনক ভাইরাস তৈরির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া ও সরঞ্জামে সরাসরি প্রবেশাধিকার পাওয়াই বড় বাধা।

অন্যদের মতে, হাগিং ফেসের ঘটনা এআইয়ের শক্তির চেয়ে ওপেনএআইয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতাই বেশি প্রকাশ করেছে।

ওপেনএআই জানিয়েছে, ঘটনার সময় মডেলগুলোর হ্যাকিং সক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের স্বাভাবিক নিরাপত্তাব্যবস্থা বন্ধ ছিল। নিয়ন্ত্রণহীন আচরণ শনাক্ত করার তাৎক্ষণিক নজরদারিও চালু ছিল না। পরে এসব সমস্যা ঠিক করা হয়েছে।

তবে বড় বিপদ ঘটাতে এআইকে মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে হবে না। অল্প কয়েকজন মানুষ এর অপব্যবহার করলেও বিপর্যয় ঘটতে পারে।

১০ সেপ্টেম্বর অ্যানথ্রপিক জানায়, সম্ভাব্য জীবাণু অস্ত্র নিয়ে গবেষণায় ক্লদকে ব্যবহারের কয়েকটি চেষ্টা তারা ঠেকিয়েছে। এর মধ্যে চিকুনগুনিয়া ভাইরাসের সংক্রমণক্ষমতা বাড়ানোর একটি চেষ্টাও ছিল। কোনো একটি দেশের সামরিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান থেকে ওই চেষ্টা করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিক ও গুগল এআই খাতের জন্য একটি নতুন মান নির্ধারণকারী প্রতিষ্ঠান গঠনের বিষয়ে আলোচনা করেছে। এটি হলে এআই পরীক্ষা ও নিরীক্ষায় কোম্পানিগুলো আরও সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারবে।
প্রতিষ্ঠানগুলো এআই নিয়ে নতুন কর্মপদ্ধতি ভাবছে

প্রতিষ্ঠানগুলো কি গতি কমাবে

জুলাইয়ে প্রায় ১ হাজার ৩০০ কর্মী এক খোলাচিঠিতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রতি নতুন এআই ব্যবস্থা প্রশিক্ষণের গতি কমানোর উপায় খোঁজার আহ্বান জানান। তাঁদের বক্তব্য, নতুন এআই তৈরির গতি এগুলো নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি উদ্ভাবনের চেয়েও দ্রুত।

হাগিং ফেসের ঘটনার পর ওপেনএআই কিছু মডেল তৈরির কাজের গতি কমায় এবং কয়েকটি প্রশিক্ষণ সাময়িকভাবে বন্ধ করে। নিরাপত্তাব্যবস্থা শক্তিশালী করার পর আগস্টের শেষে প্রশিক্ষণ আবার শুরু হয়।

তবে শীর্ষস্থানীয় কোনো প্রতিষ্ঠান এখনো প্রকৃত অর্থে কাজের গতি কমায়নি; বরং স্বাধীন গবেষকদের নিরাপত্তা পরীক্ষা ও নজরদারির সুযোগ দেওয়ার মতো সীমিত পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিক ও গুগল এআই খাতের জন্য একটি নতুন মান নির্ধারণকারী প্রতিষ্ঠান গঠনের বিষয়ে আলোচনা করেছে। এটি হলে এআই পরীক্ষা ও নিরীক্ষায় কোম্পানিগুলো আরও সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারবে।

তবে এমন উদ্যোগের বিরোধীরা চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতার কথা বলছেন। এপক এআইয়ের হিসাবে, চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর চেয়ে মাত্র কয়েক মাস পিছিয়ে। যুক্তরাষ্ট্র পিছিয়ে পড়লে সবচেয়ে শক্তিশালী এআই একটি কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রের হাতে যেতে এবং ভূরাজনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় ব্যবহৃত হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী কিছু বিনিয়োগকারী ও প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানও গতি কমানোর বিরোধী। তাদের মতে, এতে বড় প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ম নিজেদের পক্ষে ব্যবহার করে ছোট প্রতিযোগীদের ক্ষতি করতে পারবে। কানাডার এআই স্টার্টআপ কোহেয়ারের প্রধান নির্বাহী আইডান গোমেজ এ উদ্যোগকে ‘অন্য নামে একটি কার্টেল’ বলেছেন।

সেলসফোর্স অ্যানথ্রপিক ও কোহেয়ারে বিনিয়োগ করেছে। টাইমের মালিক মার্ক বেনিওফ সেলসফোর্সের প্রধান নির্বাহী। ওপেনএআইয়ের সঙ্গে টাইমের লাইসেন্স ও প্রযুক্তিবিষয়ক চুক্তিও রয়েছে।

যেসব প্রতিষ্ঠান স্বেচ্ছায় গতি নিয়ন্ত্রণের চুক্তি চায়, তারাও বাড়তি নিশ্চয়তা ছাড়া তা করতে রাজি নয়। কারণ, কোনো প্রতিষ্ঠানই প্রতিযোগীদের বিশ্বাস করে না বা পিছিয়ে পড়তে চায় না।

আইন করার উদ্যোগ ও ট্রাম্পের বাধা

এআই নিয়ন্ত্রণে মার্কিন কংগ্রেসে কয়েকটি প্রস্তাব এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে এআই গবেষণাগারগুলোকে তাদের মডেলের সম্ভাব্য ক্ষতি কমাতে বাধ্য করা, জরুরি পরিস্থিতিতে উন্নত এআই বন্ধ করার ব্যবস্থা রাখা এবং মডেলের ঝুঁকি সম্পর্কে সরকারকে প্রতিবেদন দেওয়া।

আরও কঠোর প্রস্তাবে অতিবুদ্ধিমান এআই নিষিদ্ধ এবং কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিরাপত্তাবিধি তৈরি না করা পর্যন্ত উন্নত এআই তৈরির কাজ বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে। সরকার উৎখাত, বিপুল মানুষ হত্যা, মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়া বা মানুষকে প্রতারিত করতে সক্ষম মডেল নিষিদ্ধ করার দাবিও উঠেছে।

তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন সহজ হবে না। একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রস্তাবের কোনো একটিতে একমত হয়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে আইন পাস করা কঠিন।

এআই নিয়ন্ত্রণের পক্ষ ও শিল্পের পক্ষের রাজনৈতিক তহবিলগুলো নির্বাচনে কোটি কোটি ডলার ব্যয় করছে। এআইপন্থী ‘লিডিং দ্য ফিউচার’-এর সমর্থন পাওয়া প্রায় সব প্রার্থী নিজ দলের প্রাথমিক নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন।

ট্রাম্পের কয়েকজন শীর্ষ সহকারী তাঁকে অবস্থান বদলানোর অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু তিনি তাঁদের যুক্তিতে সন্তুষ্ট হননি এবং বিষয়টিতে তেমন আগ্রহও দেখাননি।

নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর আরেকটি বড় বাধা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি চীনের সঙ্গে এআই প্রতিযোগিতাকে এমন লড়াই হিসেবে দেখেন, যাতে যুক্তরাষ্ট্রকে জিততেই হবে।

১৪ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, এআইয়ের একমাত্র প্রয়োজনীয় ‘সুরক্ষাব্যবস্থা’ হলো একজন শক্তিশালী, বুদ্ধিমান ও উচ্চ আইকিউর প্রেসিডেন্ট। তাঁর অভিযোগ, এআই ও ডেটা সেন্টারের বিরুদ্ধে ‘অসুস্থ ষড়যন্ত্র’ চলছে, যাতে শুধু চীনই খুশি হবে।

তবে ট্রাম্পের অবস্থান মার্কিন জনমতের বিপরীত। এনবিসি নিউজের এক জরিপে ৫৭ শতাংশ ভোটার বলেছেন, এআইয়ের সুবিধার চেয়ে ঝুঁকি বেশি। বিপরীত মত দিয়েছেন ৩৪ শতাংশ।

অন্য জরিপগুলোতে চাকরি, মানুষের সৃজনশীল চিন্তা ও অর্থপূর্ণ সম্পর্কের ওপর এআইয়ের প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ দেখা গেছে। রাজনৈতিক সব পক্ষেই ডেটা সেন্টারের বিরোধিতা রয়েছে। আগে ডেটা সেন্টারের সমর্থক হলেও টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট আগস্টে নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণ সাময়িকভাবে বন্ধ করেন।

ট্রাম্পের কয়েকজন শীর্ষ সহকারী তাঁকে অবস্থান বদলানোর অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু তিনি তাঁদের যুক্তিতে সন্তুষ্ট হননি এবং বিষয়টিতে তেমন আগ্রহও দেখাননি।

চীনের সঙ্গে সমঝোতা কতটা সম্ভব

এআইয়ের ঝুঁকি মোকাবিলায় চীনের সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তি তৈরির আলোচনা শুরু করতে চায় হোয়াইট হাউস। তবে দুই দেশ সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবে কি না, তা নিশ্চিত নয়।

২০২৪ সালে জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিনিধিরা সাত ঘণ্টা আলোচনা করেছিলেন। এরপরও কোনো চুক্তি হয়নি, এমনকি ভবিষ্যতে আলোচনা চালানোর অঙ্গীকারেও পৌঁছানো যায়নি। শেষ পর্যন্ত বৈঠক বাণিজ্য বিরোধে পরিণত হয়। এআই প্রযুক্তিতে এগিয়ে থাকতে যুক্তরাষ্ট্র চীনে উন্নত সেমিকন্ডাক্টর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ করেছিল।

সাম্প্রতিক প্রযুক্তিগত অগ্রগতি দুই দেশকেই আবার আলোচনায় বসার কারণ দিয়েছে। এপ্রিলে অ্যানথ্রপিক জানায়, তাদের মিথোস মডেল প্রধান সব ব্রাউজার ও অপারেটিং সিস্টেমের নিরাপত্তা দুর্বলতা খুঁজে পেয়েছে।

এরপর মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন। পরে তিনি জানান, চীনের সঙ্গে আলোচনা শুরুর প্রক্রিয়া চলছে।

দুই দেশের দৃষ্টিভঙ্গিতেও পার্থক্য রয়েছে। চীনের নীতিনির্ধারকেরা এআইকে বিদ্যুৎ বা বাষ্পীয় ইঞ্জিনের মতো সাধারণ কাজে ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি মনে করেন। তাই এর উন্নয়নের গতি কমানো তাঁদের কাছে খুব অর্থপূর্ণ নয়।

চীনও নতুন ঝুঁকি মোকাবিলায় পদক্ষেপ নিচ্ছে। ১৩ সেপ্টেম্বর দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা জানায়, এআই রাজনৈতিক ও আদর্শিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে। চলতি মাসের শেষে দুই দেশের প্রতিনিধিদের বৈঠক হওয়ার কথা। ট্রাম্প প্রশাসনের সময় এটিই হবে প্রথম আনুষ্ঠানিক এআই সংলাপ।

তবে কোনো সরকারই এআই উন্নয়নের গতি কমানোর বিষয়টি আলোচনায় রাখবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন না। বড় মডেলের প্রশিক্ষণ ধীর করার চুক্তি হলেও দুই পক্ষ তা মানছে কি না, যাচাই করার প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি এখনো তৈরি হয়নি।

দুই দেশের দৃষ্টিভঙ্গিতেও পার্থক্য রয়েছে। চীনের নীতিনির্ধারকেরা এআইকে বিদ্যুৎ বা বাষ্পীয় ইঞ্জিনের মতো সাধারণ কাজে ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি মনে করেন। তাই এর উন্নয়নের গতি কমানো তাঁদের কাছে খুব অর্থপূর্ণ নয়।

সীমিত চুক্তির সম্ভাবনা

চীনের সঙ্গে বড় চুক্তি না হলেও সীমিত কয়েকটি বিষয়ে সমঝোতা হতে পারে। সংঘবদ্ধ অপরাধী ও সন্ত্রাসী সংগঠনকে এআইয়ের অপব্যবহার থেকে বিরত রাখা এবং কোনো এআই মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে সমন্বিতভাবে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

স্নায়ুযুদ্ধের সময়ের মতো একটি জরুরি হটলাইন চালুর প্রস্তাবও রয়েছে। কোনো এআই সাইবার হামলা চালালে এ হটলাইনের মাধ্যমে এক দেশ অন্য দেশকে জানাতে পারবে যে হামলাটি ইচ্ছাকৃত ছিল না। এতে পাল্টাপাল্টি সংঘাতের ঝুঁকি কমবে।

এমন ব্যবস্থা না থাকলে এক দেশ থেকে আসা কোনো হামলাকে অন্য দেশ ইচ্ছাকৃত বলে ধরে নিতে পারে, যদিও কোনো সরকারই হয়তো হামলার নির্দেশ দেয়নি।

তবে উন্নত চিপ রপ্তানিতে নিয়ন্ত্রণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মডেল ব্যবহার করে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব মডেল উন্নত করা ঠেকানোর চেষ্টা পারস্পরিক বিশ্বাস নষ্ট করেছে।

অন্য প্রতিষ্ঠানের শক্তিশালী মডেল ব্যবহার করে তুলনামূলক ছোট মডেল উন্নত করার প্রক্রিয়াকে ‘ডিস্টিলেশন’ বলা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের মডেল থেকে ডিস্টিলেশন করা চীনা প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।

আলোচনা ধীরে এগোলে বা ভেঙে গেলে আবার আলোচনায় ফিরতে কয়েক মাস লাগতে পারে। অথচ এআই নিয়ে উদ্বেগ দ্রুত বাড়ছে। ফলে কূটনীতির ধীরগতি বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে ক্রমেই অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে উঠছে।

প্রথম পদক্ষেপ নেবে কে

এআইয়ের নিরাপত্তায় বড় পদক্ষেপ নিতে চাইলেও একটি মৌলিক সমস্যা থেকে যাচ্ছে। এক পক্ষ কী করবে, তা নির্ভর করছে অন্য পক্ষের পদক্ষেপের ওপর।

এ কারণেই কক্সন প্রায় অ্যানথ্রপিকে থেকে গিয়েছিলেন। তাঁর সহকর্মীরা মনে করতেন, প্রতিযোগিতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেয়ে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে থেকে এআইকে নিরাপদ করতে তিনি বেশি ভূমিকা রাখতে পারবেন। কারণ, তিনি চলে গেলেও প্রতিযোগিতা থামবে না।

পদত্যাগের এক সপ্তাহ আগে কক্সন কাজের ধরন বদলান। মডেল প্রশিক্ষণের বদলে সেগুলো নিরাপদ করার গবেষণা শুরু করেন। কিন্তু তাঁর ‘আসন্ন বিপদের অনুভূতি’ দূর হয়নি।

নিজের শেয়ারের মালিকানা পাওয়ার মাত্র দুই মাস আগে তিনি চাকরি ছেড়ে দেন। তাঁর ভাষায়, ‘আগামী দুই বছরের কথা ভাবলে আমার ব্যক্তিগত ও স্বার্থপর উদ্বেগ একটাই—আমি এআইয়ের হাতে মারা যাব কি না।’

কক্সনের মতে, ‘আমরা যে পথে এগোচ্ছি, সেটি বদলাতে হলে কাউকে না কাউকে পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করতে হবে।

প্রশ্ন হলো, প্রথম পদক্ষেপ নেবে কে?’

  • টাইমনিউইয়র্ক টাইমস অবলম্বনে

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সংকট দুর্বলতা বা লজ্জার বিষয় নয়
মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সংকট দুর্বলতা বা লজ্জার বিষয় নয়

মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আত্মহত্যার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে সামাজিক কুসংস্কার ভেঙে খোলামেলা আলোচনা করতে হবে। মানসিক টানাপোড়েন, তীব্র বিষণ্নতা কিংবা একাকিত্ব আড়াল না করে সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার বার্তা নিয়ে বিশেষ সেমিনার করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা। বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ১০ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে আটটায় ভার্চ্যুয়ালি এটি অনুষ্ঠিত হয়।মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ‘মনের বন্ধু’র সহযোগিতায় জাবি বন্ধুসভার অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে সরাসরি এই সেমিনার সম্প্রচারিত হয়। অনুষ্ঠানে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হিসেবে যুক্ত ছিলেন পেশাদার সাইকোসোশ্যাল কাউন্সেলর আনতাজ হেনা আঁখি। সঞ্চালনা করেন প্রথম আলোর ক্যাম্পেইন অ্যান্ড কমিউনিকেশন অফিসার গিয়াস উদ্দিন।সাইকোসোশ্যাল কাউন্সেলর আনতাজ হেনা আঁখি আত্মহত্যার ঝুঁকি, মানসিক সংকটের প্রাথমিক লক্ষণ এবং তা শনাক্ত করার উপায় নিয়ে বিশদ আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, ‘মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সংকট কোনো ব্যক্তিগত দুর্বলতা বা লজ্জার বিষয় নয়। যে কেউ জীবনের যেকোনো পর্যায়ে তীব্র মানসিক চাপ, ব্যর্থতা, ট্রমা কিংবা হতাশার ভেতর দিয়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে জরুরি হলো আক্রান্ত ব্যক্তির অনুভূতিকে অবমূল্যায়ন না করে বিচারহীনভাবে শোনা, তাকে আশ্বস্ত করা এবং সময়মতো পেশাদার মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।’আলোচনার এক পর্যায়ে জাতীয় বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার অনাকাঙ্ক্ষিত প্রবণতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন কাউন্সেলর আঁখি। তিনি উল্লেখ করেন, পরীক্ষার ফলাফল আশানুরূপ না হলে পারিবারিক চাপ ও সামাজিক গ্লানি থেকে অনেকেই এমন চরম পথ বেছে নেয়। তবে পরিবারের মানসিক সমর্থন ও সহানুভূতি থাকলে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব। তিনি আরও পরামর্শ দেন, সমাজ বা পারিপার্শ্বিক প্রত্যাশার পাশাপাশি নিজের ব্যক্তিগত পছন্দ, ভালো লাগা ও চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত। মনের ভেতরের যেকোনো চাপ বা দ্বিধাদ্বন্দ্ব চেপে না রেখে বিশ্বস্ত পরিবারের সদস্য কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান জানান।অনুষ্ঠানে মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে দেশের সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য ও গ্রহণযোগ্য করে তুলতে নিরলস কাজ করে যাওয়া প্ল্যাটফর্ম ‘মনের বন্ধু’র প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়।সঞ্চালক গিয়াস উদ্দিন তরুণদের মানসিক বিকাশ ও সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবসের অন্যতম মূল লক্ষ্য হলো আত্মহত্যা নিয়ে সামাজিক ট্যাবু ও নীরবতা দূর করা। ‘নিজে জানুন, বন্ধুকেও জানান মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব’—এই প্রতিপাদ্য কেবল কথায় নয়, আমাদের প্রাত্যহিক আচরণে ধারণ করতে হবে। ক্যাম্পাসে এবং ক্যাম্পাসের বাইরে প্রতিটি বন্ধুর পাশে মানবিক ঢাল হিসেবে দাঁড়াতে জাবি বন্ধুসভাসহ অন্যান্য বন্ধুসভা নিয়মিত এ ধরনের প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে যাচ্ছে।লাইভের কমেন্ট বক্সে দর্শকেরা এমন সময়োপযোগী ও জীবনঘনিষ্ঠ আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতায় নিয়মিত এমন অধিবেশন শিক্ষার্থীদের মানসিক শক্তি জোগাতে এবং বিষণ্নতা দূর করতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তাঁরা অভিমত ব্যক্ত করেন।

News সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ 0
মাহিন্দ্রা ও অটোরিকশাকে ধাক্কা দিয়ে উল্টে গেল বাস, নিহত ২

মাহিন্দ্রা ও অটোরিকশাকে ধাক্কা দিয়ে উল্টে গেল বাস, নিহত ২

হত্যা মামলায় কারাগারে অভিনেতা পলাশ, অনিশ্চয়তায় অপু বিশ্বাসের ‘শিকার’

হত্যা মামলায় কারাগারে অভিনেতা পলাশ, অনিশ্চয়তায় অপু বিশ্বাসের ‘শিকার’

হুতিদের সামরিক সক্ষমতা কতটুকু? কীভাবে এত শক্তিশালী হলো এ গোষ্ঠী?

হুতিদের সামরিক সক্ষমতা কতটুকু? কীভাবে এত শক্তিশালী হলো এ গোষ্ঠী?

ইরানে মার্কিন হামলা: জাতিসংঘের যুদ্ধাপরাধ সংক্রান্ত প্রতিবেদন নিয়ে কী বলছে যুক্তরাষ্ট্র
ইরানে মার্কিন হামলা: জাতিসংঘের যুদ্ধাপরাধ সংক্রান্ত প্রতিবেদন নিয়ে কী বলছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানবিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তথ্যানুসন্ধান মিশনের প্রতিবেদন প্রত্যাখান করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এ প্রতিবেদনের ফলাফলকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করে না।জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধান মিশন গতকাল বৃহস্পতিবার জানায়, ইরান যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধাপরাধ করেছে—এমনটা বিশ্বাস করার মতো প্রমাণ পাওয়া গেছে।জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধান মিশন তার প্রতিবেদনে ইরানের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথা উল্লেখ করেছে। এ হামলায় ১৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন।ইরানের স্কুলে–ক্রীড়া স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা যুদ্ধাপরাধের শামিল, বলছে জাতিসংঘইরানের কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, হামলাটিতে নিহত ব্যক্তিদের মধ্য অন্তত ১২০ জন ছিল স্কুলশিক্ষার্থী।জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধান মিশনের প্রতিবেদনে ইরানে চালানো আরেকটি বিমান হামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, সহজেই শনাক্ত করা যায়, এমন একটি ক্রীড়া স্থাপনা ও আবাসিক এলাকায় হামলায় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এ হামলায় ২২ জন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হন।বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে প্রতিবেদনটি জমা দেওয়া হবে।ইরানের মিনাব স্কুলে হামলার দায় নিয়ে নতুন করে কী বললেন ট্রাম্প২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল থেকে তাঁর দেশকে প্রত্যাহার করে নেন। তখন এই কাউন্সিলসহ জাতিসংঘের কিছু সংস্থা–প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের পরিপন্থীভাবে কাজ করার অভিযোগ তুলেছিল ওয়াশিংটন।প্রতিবেদনটির বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তা বলেন, জাতিসংঘের এই কাউন্সিল যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য ও ইহুদিবিদ্বেষ ছড়ায়। তারা দমনমূলক শাসনব্যবস্থাকে প্রশ্রয় দেয়।ইরানে বিদ্যালয়ে হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রই: প্রাথমিক অনুসন্ধানহোয়াইট হাউসও প্রতিবেদনটির বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে বলে জানায় বার্তা সংস্থা এপি। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, এই সংঘাতে একমাত্র ইরানের শাসকগোষ্ঠীই যুদ্ধাপরাধ করেছে।নতুন ভিডিও ইঙ্গিত দিচ্ছে, ইরানের স্কুলে হামলায় যুক্তরাষ্ট্র জড়িত: সিএনএন

News সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ 0
মায়ামিতে গিয়ে ‘মাথা খুলেছে’ মেসির

মায়ামিতে গিয়ে ‘মাথা খুলেছে’ মেসির

ডাকসু সংগ্রহশালায় ছয় সাহিত্যিকের নামে ভুল ছবি, সরানো হলো সমালোচনার মুখে

ডাকসু সংগ্রহশালায় ছয় সাহিত্যিকের নামে ভুল ছবি, সরানো হলো সমালোচনার মুখে

ভ্যানে তল্লাশির পর মিলল ২৩ বস্তা সার, পালিয়ে গেলেন চালক

ভ্যানে তল্লাশির পর মিলল ২৩ বস্তা সার, পালিয়ে গেলেন চালক

দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে দাবানল, ধোঁয়া উঠছে ক্যালিফোর্নিয়ার আকাশে
দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে দাবানল, ধোঁয়া উঠছে ক্যালিফোর্নিয়ার আকাশে

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে ঘন হয়ে আকাশের দিকে উঠছে ধোঁয়ার কুণ্ডলী। বিস্তারিত ভিডিওতে…

News সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ 0
এক আলোকদিবস দূরত্বে পৌঁছানোর রেকর্ডের দ্বারপ্রান্তে ভয়েজার ১ মহাকাশযান

এক আলোকদিবস দূরত্বে পৌঁছানোর রেকর্ডের দ্বারপ্রান্তে ভয়েজার ১ মহাকাশযান

মহাকাশে কোন ধরনের অস্ত্র মোতায়েন করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

মহাকাশে কোন ধরনের অস্ত্র মোতায়েন করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

শেষ বয়সে আমাকে একা রেখো না

শেষ বয়সে আমাকে একা রেখো না

0 Comments