জাতীয়

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে ৫ এলএনজি টার্মিনাল, ৩০০ কূপ খননের পরিকল্পনা

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে ৫ এলএনজি টার্মিনাল, ৩০০ কূপ খননের পরিকল্পনা
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে ৫ এলএনজি টার্মিনাল, ৩০০ কূপ খননের পরিকল্পনা

বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ খাত নিয়ে সরকারের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ব্যবসায়ী নেতাদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৮ সাল শুরু হওয়ার আগেই তৃতীয় এফএসআরইউ (ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল) সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে পাঁচটি এফএসআরইউ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, ‘বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এরই মধ্যে একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন দিয়েছেন এবং সরকারের দুই বছর, পাঁচ বছর এবং ১০ বছর মেয়াদি অর্থাৎ স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি, দীর্ঘমেয়াদি যে পরিকল্পনা রয়েছে বিদ্যুৎ এবং গ্যাসের ক্ষেত্রে সেটি বিস্তারে উপস্থাপন করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যদি উদাহরণ হিসেবে দেখি, গ্যাসের ক্ষেত্রে আমরা এরই মধ্যে জানি যে, দুটো এফএসআরইউ থাকার কারণে আমাদের একটা ডিপেন্ডেন্স তৈরি হয়েছে এবং তার মাঝে একটা দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট ছিল। বর্তমান সরকার শুধু সেটি রিপেয়ারই করছে না, সামনের দিনগুলোতে কীভাবে এফএসআরইউ সংখ্যা বাড়ানো যায়, প্রাথমিকভাবে তিনটি এবং তারপর আরও দুটি অর্থাৎ পাঁচটি করে দেওয়া যায়, সেজন্য একটা কার্যকর লক্ষ্যে কাজ শুরু হচ্ছে। ২০২৮ সাল শুরুর আগেই চেষ্টা করা হচ্ছে তৃতীয় এফএসআরইউটা সম্পৃক্ত করার জন্য, যার মাধ্যমে আমাদের গ্যাসের সমস্যার সমাধান হবে।’

আরও পড়ুন

প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস / মঙ্গলবার রাত থেকেই সংকট দূর হয়ে গ্যাস-বিদ্যুৎ আগের অবস্থায় ফিরবে

মধ্যমেয়াদে প্রায় ১৫০টি গ্যাস কূপ খননের প্রক্রিয়া চলমান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রী উপস্থাপন করেছেন কীভাবে ১৫০টির মতো গ্যাসের কূপ খননের প্রক্রিয়া চলমান মধ্যমেয়াদে এবং তারপর এটি সম্পন্ন হওয়ার পর আরও ১৫০টি কূপ খননের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

মাহদী আমিন বলেন, ‘শুধু এফএসআরইউ স্থাপন করা হচ্ছে না, এর পাশাপাশি ল্যান্ডবেসড এলএনজি টার্মিনাল কীভাবে করা যায় এবং কীভাবে গ্যাস পাইপলাইন স্থাপন করা যায়, সেগুলো নিয়ে সরকারের দিক থেকে বহুমুখী উদ্যোগ রয়েছে।’

বিদ্যুৎখাতের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বিদ্যুতের ক্ষেত্রে আমাদের তেল, গ্যাস এবং কয়লা থেকে একটা সমন্বিত উৎপাদনমুখী ব্যবস্থা যেখানে আমাদের বিদ্যুতের স্বনির্ভরতা থাকবে এবং এর পাশাপাশি বিশেষভাবে সোলার এনার্জিকে প্রাইওরিটাইজ করা হয়, সেটা উপস্থাপন করা হয়েছে এবং সামনের দিনগুলোতে আমরা চাই আমাদের যেন বিদ্যুৎখাত বৈচিত্র্যময় হয় এবং আমাদের এনার্জি রিসোর্সে আমরা একদিকে যেমন সেলফ সাফিসিয়েন্ট হবো, একই সঙ্গে সোলার এনার্জিকে সবচেয়ে বেশি প্রাইওরিটাইজ করবো।’

তিনি বলেন, ‘এখানে আমাদের ২১টি বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন এবং এপেক্স বডির যারা শীর্ষ নেতৃত্বে ছিলেন এবং আমাদের গণমাধ্যমের কিছু পরিচিত মুখ, ওনারা ওনাদের বিভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেছেন।’

আরও পড়ুন

রাত ১২টা বাজার অপেক্ষায় থাকেন গৃহিণীরা

ব্যবসায়ীদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, ‘বিশেষভাবে আমাদের ব্যবসায়ী নেতারা যাদের ট্যাক্স, শ্রম এবং ঘামের ওপর ভিত্তি করে দেশে শিল্পায়ন হচ্ছে, অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা হয়, সেটাকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন কীভাবে আমরা চাই যে পাবলিক সেক্টর থেকে পলিসি সাপোর্ট দেওয়া হবে এবং প্রাইভেট সেক্টর থেকে সেগুলো এক্সিকিউট করবো এবং একসঙ্গে পাবলিক সেক্টর, প্রাইভেট সেক্টর, সরকার এবং আমাদের বেসরকারি খাত কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবো।’

অনেক পুঞ্জীভূত সমস্যা রয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘হয়তো একদিনে বা এক মাসে বা এক বছরে সেটার পূর্ণাঙ্গ সমাধান সম্ভব নয়, তবে সরকারের সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতা রয়েছে, আন্তরিকতা রয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। আজ বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি খাতে সেটা উপস্থাপন করা হয়েছে।’

মাহদী আমিন বলেন, ‘ব্যবসায়ী নেতারা ওনাদের কিছু সমস্যার কথা বলেন এবং সরকার বিশ্বাস করে প্রতিটি সমস্যাই একেকটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। সেটি ধারণ করেই ব্যবসায়ী নেতাদের এবং ওনাদের যে অ্যাসোসিয়েশন এবং এপেক্স বডি রয়েছে, ওনাদের সঙ্গে সরকারের সহযোগিতা আরও কীভাবে বাড়ানো যায় এবং এই যে মতবিনিময় সভা, এটি ধারাবাহিকভাবে সামনের দিনগুলোতে অনুষ্ঠিত হবে।’

আরএমএম/ইএ

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
শিশুর সৃজনশীলতা বিকাশে শুরু হচ্ছে ‘দোলন ক্রিয়েটিভ ভিশন’
শিশুর সৃজনশীলতা বিকাশে শুরু হচ্ছে ‘দোলন ক্রিয়েটিভ ভিশন’

শিশু-কিশোরদের সৃজনশীলতা, পর্যবেক্ষণ শক্তি, কল্পনাশক্তি ও শিল্পচর্চাকে উৎসাহিত করতে শিশুদের পত্রিকা দোলন আয়োজন করছে ‘দোলন ক্রিয়েটিভ ভিশন ২০২৬’। চিত্রশিল্প ও মোবাইল ফটোগ্রাফিকে সমন্বয় করে আয়োজিত এ বিশেষ কর্মশালায় ৫ম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করতে পারবে। আগামী ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বাংলা একাডেমিতে বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে মূল কর্মশালা। প্রথম দিন মোবাইল ফটোগ্রাফি এবং দ্বিতীয় দিন চিত্রশিল্পের বেসিক বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। কর্মশালায় শিক্ষার্থীদের শুধু ছবি আঁকা কিংবা ছবি তোলার কৌশল শেখানো হবে না; বরং চারপাশের পরিবেশকে কীভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হয়, বিষয় নির্বাচন, ফ্রেমিং, কম্পোজিশন, আলো-ছায়া, রং, আকার, গভীরতা ও দৃষ্টিভঙ্গির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কেও ধারণা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে মোবাইল ক্যামেরাকে কীভাবে সৃজনশীল কাজে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়েও থাকবে হাতেকলমে শেখার সুযোগ। আরও পড়ুন বিশ্বব্যাপী শিশু-কিশোরদের মেধা কি কমছে? কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে থাকবেন আলোকচিত্র শিল্পী ও মোশন গ্রাফিক্স ডিজাইনার অনুপ রায় এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির চিত্রাংকন ও সৃজন প্রশিক্ষক তানজিমা তাবাচ্ছুম এশা। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে আগামী ১০ অক্টোবর ঢাকার লালবাগ কেল্লায় অনুষ্ঠিত হবে ‘আউটডোর ক্রিয়েটিভ ডে’। সেখানে শিক্ষার্থীরা দলভিত্তিক বিভিন্ন দৃশ্য, স্থাপত্য, প্রকৃতি, আলো-ছায়া ও পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করে মোবাইলে ছবি তুলবে। পরে নিজের তোলা ছবিকে ভিত্তি করে বাসায় ছবি আঁকবে এবং সেই শিল্পকর্ম দোলনের কাছে জমা দেবে। আয়োজকদের মতে, ছবি শুধু তোলা নয়—ছবি দেখার অভ্যাসও একটি সৃজনশীল শিক্ষা। তথ্যপ্রযুক্তির এই সময়ে শিশুদের মোবাইল ফোন ব্যবহার পুরোপুরি বাদ দেওয়া সম্ভব নয়। তাই মোবাইলকে শুধু বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে না দেখে এর সৃজনশীল ও ইতিবাচক ব্যবহার শেখানোই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য। আরও পড়ুন শিশুর লেখাপড়ার হাতেখড়িতে মায়ের করণীয় দোলন পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক কামাল মুস্তাফা বলেন, ‌‘শিশুরা যেন আনন্দের সঙ্গে শিখতে পারে, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য। বর্তমানে শিশুরা মোবাইল ফোনের প্রতি অনেক বেশি আকৃষ্ট হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তির যুগে মোবাইল থেকে তাদের পুরোপুরি দূরে রাখাও সম্ভব নয়। তাই তারা যেহেতু মোবাইল ব্যবহার করছে, আমরা চাই সেই মোবাইল দিয়েই তারা সৃজনশীল কিছু শিখুক—ছবি তুলুক, ছবি দেখুক এবং ছবি আঁকুক।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এই আয়োজনের মাধ্যমে শিশুরা শুধু ফটোগ্রাফি ও চিত্রশিল্প শিখবে না, তারা বাইরে গিয়ে প্রকৃতি, স্থাপত্য ও চারপাশের পরিবেশকে নতুনভাবে দেখার সুযোগ পাবে। বিশেষ করে লালবাগ কেল্লা আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেখানে গিয়ে শিশুরা ছবি তুলবে, জায়গাটিকে দেখবে, জানবে এবং সেই অভিজ্ঞতা থেকেই শিল্পকর্ম তৈরি করবে। আমরা চাই প্রযুক্তির সঙ্গে শিল্প, আনন্দের সঙ্গে শিক্ষা এবং শিশুদের সঙ্গে আমাদের ঐতিহ্যের একটি সুন্দর সংযোগ তৈরি হোক।’ কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের জন্য থাকবে নোটবুক, পেন ও টিফিন। কর্মশালা শেষে প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীকে সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে। কর্মশালায় অংশগ্রহণ ও রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানতে হোয়াটসঅ্যাপে ০১৭৫৮৮৩৩০৭৫ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। রেজিস্ট্রেশনের শেষ সময় ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এসইউ

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে জনবল নিয়োগ, থাকছে না বয়সসীমা

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে জনবল নিয়োগ, থাকছে না বয়সসীমা

নামাজের সময়সূচি: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নামাজের সময়সূচি: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

উপকূলের নারীদের জীবিকা ও স্বাস্থ্যে নজর দিন

উপকূলের নারীদের জীবিকা ও স্বাস্থ্যে নজর দিন

মিশিগানে ওয়েইন স্টেট ইউনিভার্সিটিতে বিজিএসএর যাত্রা
মিশিগানে ওয়েইন স্টেট ইউনিভার্সিটিতে বিজিএসএর যাত্রা

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে ওয়েইন স্টেট ইউনিভার্সিটিতে বাংলাদেশি গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীদের ঐক্য, পারস্পরিক সহযোগিতা ও পেশাগত যোগাযোগের নতুন ঠিকানা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশি গ্র্যাজুয়েট স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএসএ)। সংগঠনটির আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে ৬ সেপ্টেম্বর রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয় ‘অরুণোদয় ও নবীনবরণ’ অনুষ্ঠান। বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া আয়োজনে কেক কেটে বিজিএসএর আনুষ্ঠানিক যাত্রার ঘোষণা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে ২০২৬–২০২৭ মেয়াদের নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির পরিচিতি, নতুন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বরণ এবং গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদের বিদায় ও সম্মাননা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন পিএইচডি শিক্ষার্থী সালমা আক্তার ও নুরানি হাফসা। সংগঠনের নেতারা জানান, নতুন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও সামাজিক পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সহায়তা করা, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানো এবং একাডেমিক ও পেশাগত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলাই বিজিএসএর প্রধান লক্ষ্য। পাশাপাশি ওয়েইন স্টেট ইউনিভার্সিটির বহুসাংস্কৃতিক পরিবেশে বাংলাদেশের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরার উদ্যোগও নেওয়া হবে। আরও পড়ুন সৈকতের আড়ালে মালদ্বীপে বইছে ইসলামের সুবাতাস অনুষ্ঠানে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় নতুনভাবে যুক্ত হওয়া শিক্ষার্থীদের হাতে উপহারসামগ্রী তুলে দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদেরও দেওয়া হয় সম্মাননা। শিক্ষক, গবেষক, প্রকৌশলী ও বিভিন্ন পেশার বাংলাদেশি পেশাজীবীদের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি হয় অভিজ্ঞতা বিনিময়, মেন্টরশিপ ও ক্যারিয়ার পরামর্শের সুযোগ। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ওয়েইন স্টেট ইউনিভার্সিটির অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর-রিসার্চ ড. শরীফ সিদ্দিকী, অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর-রিসার্চ ড. মো. হাফিজ উদ্দিন, পোস্টডক্টরাল গবেষক মৌসুমী খান ও মো. লুকমান হোসেন এবং ক্যাসটেক হাইস্কুলের সায়েন্স এডুকেটর মোহাম্মদ হাফিজ কবীর। বিজিএসএ-এর ২০২৬–২০২৭ মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি হলেন বিজয় কৃষ্ণ রায়। সহ-সভাপতি হিসেবে রয়েছেন আবরার নূর-ই ফাইয়াজ এবং সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ উন নবী। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—কোষাধ্যক্ষ তাওসিফ চৌধুরী, সহকারী কোষাধ্যক্ষ রিদওয়ানুল মুস্তাফা, সাংস্কৃতিক সম্পাদক নাদিয়া আনজুম, সহকারী সাংস্কৃতিক সম্পাদক সুমাইয়া খান সুজানা, সাংগঠনিক সম্পাদক সালমা আক্তার, মিডিয়া সম্পাদক সামিনা আক্তার টুম্পা এবং ক্রীড়া সম্পাদক এস্তেহাদ পাঠান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্টেলানটিস এর ম‍্যানেজার ইঞ্জিনিয়ার অনন্ত সাইফ, ফোর্ড মটরস কোম্পানির ডাটা সায়েন্সটিসট ফারিয়া মাহনাজ, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার নাইমা হোসাইন, ইঞ্জিনিয়ার দেবানজান দিপ, ইঞ্জিনিয়ার সুরভী বণিক ও সাংবাদিক তোফায়েল রেজা সোহেল। এমআরএম

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
আল নাসরের ভয়াবহ রাত, এমন লজ্জায় আর পড়েননি রোনালদো

আল নাসরের ভয়াবহ রাত, এমন লজ্জায় আর পড়েননি রোনালদো

ঢাকাসহ ২৫ জেলায় তাপপ্রবাহ, হতে পারে ভারী বর্ষণও

ঢাকাসহ ২৫ জেলায় তাপপ্রবাহ, হতে পারে ভারী বর্ষণও

মেস থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

মেস থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

সৈকতের আড়ালে মালদ্বীপে বইছে ইসলামের সুবাতাস
সৈকতের আড়ালে মালদ্বীপে বইছে ইসলামের সুবাতাস

নীল সমুদ্র, সাদা বালুর সৈকত আর বিলাসবহুল রিসোর্টের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত মালদ্বীপ। তবে পর্যটনকেন্দ্রিক রিসোর্ট এলাকার বাইরে স্থানীয় দ্বীপগুলোতে দেখা যায় ভিন্ন এক সামাজিক বাস্তবতা। সেখানে দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে আছে আজান, নামাজ, মসজিদ, হিজাব ও ইসলামি সংস্কৃতি। রাজধানী মালে শহরের ব্যস্ত সড়ক, বাজার ও আবাসিক এলাকায় আধুনিক নগরজীবনের পাশাপাশি চোখে পড়ে মসজিদের মিনার। নামাজের সময় অনেক মানুষকে মসজিদমুখী হতে দেখা যায়। ধর্মীয় অনুশীলন দেশটির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। হিজাবে মালদ্বীপের নারী মালদ্বীপের স্থানীয় দ্বীপগুলোতে নারীদের পোশাকে ইসলামি মূল্যবোধের প্রভাব স্পষ্ট। অনেক নারী হিজাব, স্কার্ফ, আবায়া কিংবা বোরকা পরেন। আবার কেউ আধুনিক পোশাকের সঙ্গে মাথায় স্কার্ফ ব্যবহার করেন। রাজধানী মালে শহরে পোশাকের বৈচিত্র্য তুলনামূলক বেশি হলেও স্থানীয় আবাসিক দ্বীপগুলোতে শালীন পোশাক ও হিজাবের ব্যবহার আরও দৃশ্যমান। স্থানীয়দের কেউ কেউ মনে করেন, গত দুই দশকে নারীদের মধ্যে হিজাব ও ধর্মীয় পোশাক ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে। ২০০৪ সালের ভয়াবহ সুনামির পর জীবন ও মৃত্যু এবং ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে মানুষের মধ্যে নতুন করে ভাবনার সৃষ্টি হয়েছিল বলেও তাদের কেউ কেউ মনে করেন। আরও পড়ুন মালয়েশিয়ায় অন্যের পারমিটে চাকরি, ১৭৪ বাংলাদেশি আটক তবে ধর্মীয় পোশাক ব্যবহারের পরিবর্তনকে শুধু সুনামির ফল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ধর্মীয় শিক্ষা, আলেমদের দাওয়াতি কার্যক্রম, সামাজিক পরিবর্তন এবং রাজনৈতিক-সামাজিক পরিবেশ—বিভিন্ন বিষয় এতে ভূমিকা রেখেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। নামাজের সময় বদলে যায় মালের চেহারা মালদ্বীপে নামাজ অনেকের ব্যক্তিগত ইবাদতের পাশাপাশি সামাজিক জীবনযাত্রারও অংশ। নামাজের সময় মালে শহরের কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। কর্মীরা মসজিদে নামাজ আদায় করতে যান। কোথাও অল্প সময়ের জন্য দোকান বন্ধ রেখে নামাজ শেষে আবার ব্যবসা শুরু করা হয়। শুক্রবারের চিত্র আরও আলাদা। জুমার নামাজকে কেন্দ্র করে মসজিদগুলোতে মুসল্লিদের উপস্থিতি বাড়ে। ব্যস্ত শহরে সাময়িকভাবে কর্মচাঞ্চল্য কমে আসে এবং মসজিদমুখী মানুষের সংখ্যা বেড়ে যায়। মালে ৩০টিরও বেশি মসজিদের শহর আয়তনে ছোট হলেও ঘনবসতিপূর্ণ রাজধানী মালে শহরে ৩০টিরও বেশি মসজিদ রয়েছে। শহরের বিভিন্ন এলাকা, বাজার ও আবাসিক অঞ্চলের মাঝেই ছড়িয়ে আছে এসব মসজিদ। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, জুমা, ধর্মীয় শিক্ষা ও বিভিন্ন ইসলামি কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মসজিদগুলো স্থানীয় সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। মালে শহরে শুধু আধুনিক মসজিদই নয়, রয়েছে কয়েক শত বছরের পুরোনো ইসলামি স্থাপত্যের নিদর্শনও। হুকুরু মিস্কি—প্রবাল পাথরে ইসলামের ইতিহাস মালদ্বীপের ঐতিহাসিক হুকুরু মিস্কি বা মালে ফ্রাইডে মসজিদ দেশটির ইসলামি স্থাপত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। ইউনেসকোর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান মসজিদটি ১৬৫৮ সালে নির্মিত। এটি ১১৫৩ সালে নির্মিত একটি প্রাচীন মসজিদের স্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রবাল পাথর, কাঠের কাজ, সূক্ষ্ম নকশা ও আরবি ক্যালিগ্রাফি মসজিদটির স্থাপত্যে বিশেষ বৈশিষ্ট্য তৈরি করেছে। মালদ্বীপের প্রবাল-পাথরের মসজিদগুলো শুধু ধর্মীয় স্থাপনা নয়; ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন সংস্কৃতির পারস্পরিক যোগাযোগ ও স্থাপত্যশৈলীরও সাক্ষ্য বহন করে। ‘কোরাল স্টোন মসজিদ অব মালদ্বীপ’ নামে প্রবাল-পাথরের মসজিদগুলোর একটি সিরিজ ইউনেসকোর সম্ভাব্য বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাতেও রয়েছে। মসজিদ শুধু ইবাদতের জায়গা নয় মালদ্বীপের স্থানীয় সমাজে মসজিদের ভূমিকা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কোরআন শিক্ষা, ধর্মীয় আলোচনা, ইসলামি শিক্ষা ও সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্র হিসেবেও মসজিদ গুরুত্বপূর্ণ। অনেক দ্বীপে মসজিদকে কেন্দ্র করে শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষার ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। ফলে স্থানীয় সমাজে মসজিদ ধর্মীয় উপাসনার পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। পর্যটনের দেশ, স্থানীয় দ্বীপে ভিন্ন বাস্তবতা মালদ্বীপ বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য। বিদেশি পর্যটকদের জন্য রিসোর্ট দ্বীপগুলোতে তুলনামূলকভাবে আলাদা পরিবেশ রয়েছে। তবে রিসোর্টের বাইরে স্থানীয় দ্বীপগুলোর সামাজিক বাস্তবতা ভিন্ন। সেখানে পোশাক, ধর্মীয় আচরণ ও সামাজিক জীবনযাত্রায় ইসলামি মূল্যবোধের প্রভাব স্পষ্ট। একদিকে আন্তর্জাতিক পর্যটনের জন্য উন্মুক্ত পরিবেশ, অন্যদিকে স্থানীয় সমাজে শক্তিশালী ইসলামি পরিচয়—এই দুই বাস্তবতা একই সঙ্গে মালদ্বীপের সামাজিক চিত্রকে তুলে ধরে। সুনামি ও ধর্মীয় অনুভূতির প্রশ্ন ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর ভারত মহাসাগরের ভয়াবহ সুনামি মালদ্বীপেও আঘাত হানে। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে দেশটির বহু দ্বীপ ও মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই অভিজ্ঞতার পর জীবন, মৃত্যু ও স্রষ্টার প্রতি মানুষের নির্ভরতা নিয়ে নতুন উপলব্ধি তৈরি হয়েছিল বলে কয়েকজন স্থানীয়ের অভিমত। তবে সাংবাদিকতার দৃষ্টিতে ধর্মীয় অনুশীলন বৃদ্ধির একমাত্র কারণ হিসেবে সুনামিকে চিহ্নিত করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই। ধর্মীয় শিক্ষা, দাওয়াতি কার্যক্রম, সামাজিক পরিবর্তন এবং রাষ্ট্রীয়-রাজনৈতিক পরিবেশের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবও এক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। ইসলামের দীর্ঘ ইতিহাস মালদ্বীপে ইসলাম প্রতিষ্ঠার ইতিহাস নিয়ে বিভিন্ন ঐতিহাসিক বর্ণনা ও লোককথা রয়েছে। প্রচলিত বর্ণনায় আবুল বারাকাত ইউসুফ আল-বারবারির নাম পাওয়া যায়। ইউনেসকোর ঐতিহাসিক বিবরণে মালদ্বীপে ইসলাম গ্রহণের সময়কাল ১১৫৩ খ্রিস্টাব্দ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইসলাম গ্রহণের পর ধীরে ধীরে ধর্মটি দেশটির রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক পরিচয়ের কেন্দ্রীয় অংশ হয়ে ওঠে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ইসলামি পরিচয় মসজিদ, স্থাপত্য, শিক্ষা, সামাজিক রীতি ও মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে মিশে গেছে। মালদ্বীপের আরেক পরিচয় মালদ্বীপকে শুধু রিসোর্ট, পর্যটন ও সমুদ্রসৈকট দিয়ে দেখলে দেশটির পুরো চিত্র পাওয়া যায় না। স্থানীয় সমাজে ইসলামি সংস্কৃতির উপস্থিতিও দেশটির পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রাজধানী মালে শহরের আধুনিক নগরজীবনের মধ্যেও মসজিদের উপস্থিতি, নামাজের সময় মানুষের মসজিদমুখী হওয়া, স্থানীয় নারীদের মধ্যে হিজাবের ব্যবহার এবং দ্বীপভিত্তিক ধর্মীয় সংস্কৃতি সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন। আর শত শত বছরের পুরোনো প্রবাল-পাথরের মসজিদগুলো সাক্ষ্য দেয়, মালদ্বীপে ইসলাম শুধু ধর্মীয় বিশ্বাসের বিষয় নয়; দেশটির ইতিহাস, স্থাপত্য, সংস্কৃতি ও সামাজিক পরিচয়ের সঙ্গেও তা গভীরভাবে যুক্ত। সমুদ্রের নীল জলের আড়ালে যেমন রয়েছে প্রবালপ্রাচীর, তেমনি পর্যটনের ঝলমলে মালদ্বীপের বাইরেও রয়েছে মসজিদ, আজান, নামাজ, হিজাব ও ইসলামি সংস্কৃতিতে গড়ে ওঠা স্থানীয় সমাজের এক ভিন্ন চিত্র। এমআরএম

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
মেসির জন্য বিদায়ী ম্যাচ আয়োজন করছে আর্জেন্টিনা, খেলবেন শেষবারের মতো

মেসির জন্য বিদায়ী ম্যাচ আয়োজন করছে আর্জেন্টিনা, খেলবেন শেষবারের মতো

সরকারি সফরে জাপান গেলেন সেনাপ্রধান

সরকারি সফরে জাপান গেলেন সেনাপ্রধান

নিখোঁজের ৭ দিন পর শিশুর বস্তাবন্দি টুকরো মরদেহ উদ্ধার

নিখোঁজের ৭ দিন পর শিশুর বস্তাবন্দি টুকরো মরদেহ উদ্ধার

0 Comments