জাতীয়

উপকূলের নারীদের জীবিকা ও স্বাস্থ্যে নজর দিন

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
উপকূলের নারীদের জীবিকা ও স্বাস্থ্যে নজর দিন
উপকূলের নারীদের জীবিকা ও স্বাস্থ্যে নজর দিন

‘জলবায়ু পরিবর্তন, জেন্ডার সমতা: নারী ও কিশোরীর সক্ষমতা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে বাদাবন সংঘ ও প্রথম আলো

পারভীন সুলতানা ৬০ হাজার টাকা দাদন নিয়ে কয়েক বছর আগে একটি জাল কিনেছিলেন। সেই জাল দিয়ে স্বামী–স্ত্রী পশুর নদে মাছ ধরেন। এটাই তাঁদের জীবিকা। মাছ দেওয়ার বিনিময়ে দাদন শোধ করে যাচ্ছেন। তবে ঋণের এই চক্র থেকে বের হতে পারছেন না। আর্থিক সংকটও কাটছে না। মাছ ধরার পাশাপাশি সংসারের কাজ ও সুপেয় পানি সংগ্রহের বাড়তি চাপ, শারীরিক অসুস্থতা আর দাদন শোধের চিন্তায় ঘুরপাক খান উপকূলের ত্রিশোর্ধ্ব এই নারী। তাঁর বাড়ি বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলায়।

গতকাল মঙ্গলবার বাদাবন সংঘ ও প্রথম আলো আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে এই নারী জানান, তাঁর মতো এলাকার বেশির ভাগ নারী একই ধরনের সমস্যায় জর্জরিত। অনুষ্ঠানে তিনি আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে এসেছিলেন।

পারভীনের কথাকে সমর্থন জানিয়ে একই এলাকার সমবয়সী আরেক নারী কুসুম আক্তার জানান, তাঁকে প্রতিদিন দেড়–দুই কিলোমিটার হেঁটে খাওয়ার পানি সংগ্রহ করতে হয়। পরিবারে মা, বাবা আর এক মেয়েসন্তান রয়েছে। সংসার চালাতে বাবার সঙ্গে তিনি বাড়ি লাগোয়া দুই বিঘা জমিতে চিংড়ি চাষ করেন। দিনের বড় একটি সময় লবণাক্ত পানিতে থাকার কারণে গায়ে চুলকানি হয় প্রায়ই। নিজের হাতের কালো দাগ দেখিয়ে তিনি বলেন, এক বছরে ১৭–১৮ হাজার টাকা খরচ করেছেন, তা–ও চুলকানি থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না।

‘জলবায়ু পরিবর্তন, জেন্ডার সমতা: নারী ও কিশোরীর সক্ষমতা’ শিরোনামের গোলটেবিল বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে। অনুষ্ঠানে বক্তাদের কথাতেও উঠে আসে উপকূলের নারী ও কিশোরীদের সংকটের কথা। এসব সংকটের অনেকটাই জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে। কিছু সংকট মানবসৃষ্ট ও সামাজিক প্রেক্ষাপটের কারণে। সমস্যার মূলে গিয়ে কাজ না করার কারণে পূঞ্জীভূত সমস্যা বড় সংকট তৈরি করছে।

ঝুঁকিতে বাংলাদেশ সপ্তম

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ সপ্তম অবস্থানে। উপকূল এলাকায় লবণাক্ততা বেড়ে কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে, খাদ্যনিরাপত্তা দেখা দিচ্ছে। একেকটি পরিবার দাদনের চক্রে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে যাচ্ছে। জীবিকার প্রয়োজনে লবণাক্ত পানিতে বেশি সময় থাকার কারণে অনেক নারী প্রজননস্বাস্থ্যের ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন। পুরুষেরা অন্য এলাকায় কাজের সন্ধানে গেলে সংসারের চাপ নারীর ওপর পড়ে। দারিদ্র্যের কারণে এলাকায় বাড়ে বাল্যবিবাহ, স্কুল থেকে ঝরে পড়ার হার। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিযোজন পরিকল্পনায় (ন্যাশনাল অ্যাডাপটেশন প্ল্যান বা এনএপি) নারীর প্রজননস্বাস্থ্যের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা ও পানির লবণাক্ততার প্রভাব আরও বিশদভাবে আনা, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও অংশীদারি সংস্থাগুলোকে আরও জবাবদিহির জায়গায় আনার সুপারিশ করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক) মো. সাইমুম পারভেজ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত যেকোনো দুর্যোগের ক্ষেত্রে নারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী হলেও কোনো নীতি গ্রহণের সময় জেন্ডার দৃষ্টিকোণ বাদ পড়ে যান। যেকোনো নীতি গ্রহণের সময় নারীর প্রতিনিধিত্ব রাখতে হবে। এনএপিতে নারীর প্রজননস্বাস্থ্য ও নিরাপদ পানির বিষয় অন্তর্ভুক্তির জন্য আলোচনা করা হবে বলে তিনি জানান।

মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ‘জলবায়ু সহনশীল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা’ মডেল গড়ে তোলা হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের পরিচালক ও জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা ইউনিটের সমন্বয়ক অধ্যাপক ইকবাল কবীর। তিনি বলেন, সাধারণভাবে একজন নারী লবণাক্ততার কারণে প্রজননস্বাস্থ্যের ঝুঁকিতে পড়েন না। তবে উপকূলের নারীদের ক্ষেত্রে একটি সমস্যা হলো অনেকের জরায়ু প্রোল্যাপ্স (জরায়ু নিচে নেমে আসা) হলেও তাঁরা সামাজিক সংস্কার থেকে তা লুকিয়ে রাখেন, চিকিৎসক দেখান না। ওই অবস্থায় লবণাক্ত পানিতে কাজ করার কারণে তাঁরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েন। একপর্যায়ে তাঁদের হিস্টেরেক্টমি বা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জরায়ু অপসারণ করতে হয়।

প্রজনন স্বাস্থ্যের সঙ্গে লবণ–পানির সম্পর্ক

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (ত্রাণ কর্মসূচি অধিশাখা) সেখ ফরিদ আহমেদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি থেকে পানিসংকট, লবণাক্ততা বাড়া ও নারীর প্রজননস্বাস্থ্যের ঝুঁকি হয় কি না—সে বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে। তবে মতদ্বৈততা থাকলেও এটা সত্যি যে সামাজিক প্রেক্ষাপটের কারণে উপকূলের নারীরা দুর্ভোগ বেশি পোহান। শিক্ষার বিস্তার ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর নেতৃত্ব না রাখলে এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব নয়।

বাদাবন সংঘের নির্বাহী পরিচালক লিপি রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নারী কীভাবে পুরুষের চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, নারীর জীবন–জীবিকা কীভাবে প্রভাবিত হচ্ছে ও নারী কীভাবে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন—তা নিয়ে আলোচনা হওয়া জরুরি।

একশনএইড বাংলাদেশের প্রতিনিধি (কান্ট্রি ডিরেক্টর) ফারাহ্ কবির বলেন, উপকূল এলাকায় গবেষণার ভিত্তিতে তাঁরা দেখেছেন, নারীদের প্রজননস্বাস্থ্যের ঝুঁকির সঙ্গে লবণাক্ত পানির সম্পৃক্ততা রয়েছে। এ ছাড়া সুপেয় পানির সংকটের কারণে ৯০ শতাংশ পরিবারে স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয়। তবে চিকিৎসা খাতে পরিবারগুলোর বাজেট কম থাকায় তারা চিকিৎসাসেবা নিতে পারে না।

উপকূল এলাকার সব সংকটের জন্য জলবায়ু পরিবর্তনকে শুধু দায়ী করলে হবে না মন্তব্য করে ওয়াটারএইড বাংলাদেশের প্রতিনিধি (কান্ট্রি ডিরেক্টর) আজমান আহমেদ চৌধুরী বলেন, সংকট উত্তরণে সেখানে নারী নেতৃত্ব বিকাশে বিনিয়োগ করা উচিত।

ফাউন্ডেশন ফর ডিজাস্টার ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যসচিব গওহার নঈম ওয়ারা বলেন, সুন্দরবন এলাকায় পানি সমস্যা সমাধানের বিকল্প নিয়ে ভাবা হচ্ছে না। সেখানে সাত মাস বৃষ্টি হলেও কেন পানি ব্যবস্থাপনা করা যায় না—সেই প্রশ্ন করেন তিনি।

চিংড়িঘেরের কারণে পানিতে লবণাক্ততা বাড়ছে উল্লেখ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক স্নিগ্ধা রেজওয়ানা বলেন, উপকূলের নারীরা নিরাপদ পানি সংগ্রহ করেন। ঋণের মাধ্যমে নারীকে ‘পিংক ট্যাংক’ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। অথচ এই নারীরা নিজের মাসিক ব্যবস্থাপনায় ওই পানি ব্যবহার করতে পারেন না। এতে নারীর স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়ছে।

আরও বক্তব্য দেন সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের প্রধান নির্বাহী মো. শামসুদ্দোহা, ইউএন উইমেনের কর্মসূচি বিশেষজ্ঞ দিলরুবা হায়দার, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুমিতা তানজিলা, ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাহফুজা পারভীন, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জহিরুল ইসলাম, জনস্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ জেবুন্নেসা রহমান ও প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিনিধি শিশির মোড়ল।

সূচনা বক্তব্য দেন বাদাবন সংঘের কর্মসূচি ব্যবস্থাপক ফারিহা জেসমিন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইনজীবী সারাবন তহুরা জামান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রথম আলোর সহকারী সম্পাদক ফিরোজ চৌধুরী।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
মাগুরা জেলা কারাগারে কয়েদির ঢামেকে মৃত্যু, পরিবারের ক্ষোভ
মাগুরা জেলা কারাগারে কয়েদির ঢামেকে মৃত্যু, পরিবারের ক্ষোভ

মাগুরা জেলা কারাগারে থাকা নূর আলম মুন্সি (৫০) নামের এক সাজাপ্রাপ্ত কয়েদির মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত নূর আলম মুন্সি মাগুরা শহরের ভিটাসাইর এলাকার মৃত মুন্সি সব্দার হোসেনের ছেলে। ২০১৯ সালের একটি মাদক মামলায় (জিআর ১৯১৯/১৯, মামলা নং ৩৫১/১৯) এক বছর দুই মাসের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে গত ৮ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি মাগুরা জেলা কারাগারে সাজা ভোগ করছিলেন। মাগুরা জেলা কারাগারের জেল সুপার শেখ মো. মহিউদ্দীন হায়দার জানান, গত ১৩ সেপ্টেম্বর কারাগারে নূর আলম হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে তাৎক্ষণিকভাবে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যাম্বুলেন্সে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে সেখানেও তার শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে ঢামেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নূর আলমের পরিবার এই মৃত্যুকে ঘিরে গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেছে। নিহতের ভাই মঞ্জুরুল আলম অভিযোগ করে বলেন, ‘গত ৮ সেপ্টেম্বর আমার ভাইকে সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। ১৩ সেপ্টেম্বর তিনি অসুস্থ হলেও কারা কর্তৃপক্ষ আমাদের কিছুই জানায়নি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হঠাৎ করে তার মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘একজন সুস্থ মানুষ কারাগারে গিয়ে কয়েকদিনের মধ্যে কীভাবে মারা গেলেন, তা নিয়ে আমাদের মধ্যে তীব্র সন্দেহ রয়েছে। আমরা এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায়বিচার দাবি করছি।’ বর্তমানে নূর আলমের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। মো. মিনারুল ইসলাম জুয়েল/কেজে/এএসএম

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
প্রতিদিন ৩০ মিনিট ওয়াশিং মেশিন চালালে মাসে বিদ্যুৎ বিল কত?

প্রতিদিন ৩০ মিনিট ওয়াশিং মেশিন চালালে মাসে বিদ্যুৎ বিল কত?

ভাঙার আগে শেষ দেখা: মগবাজারের ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী হাউজ

ভাঙার আগে শেষ দেখা: মগবাজারের ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী হাউজ

গরু চুরি করে বিএনপি নেতার গোয়ালঘরে রেখে গেল চোর!

গরু চুরি করে বিএনপি নেতার গোয়ালঘরে রেখে গেল চোর!

এসএসসি ও দাখিলে যে ১৩ বিষয়ে একই প্রশ্নে ২০২৭ সালের পরীক্ষা হবে
এসএসসি ও দাখিলে যে ১৩ বিষয়ে একই প্রশ্নে ২০২৭ সালের পরীক্ষা হবে

২০২৭ সালে অনুষ্ঠেয় দাখিল ও এসএসসি পরীক্ষায় নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য ১৩টি বিষয়ে প্রশ্নপত্র হবে অভিন্ন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। দাখিল ও এসএসসি পরীক্ষায় অভিন্ন প্রশ্নপত্র হওয়া বিষয়গুলো হলো বাংলা ২য় পত্র (১০২), ইংরেজি ১ম পত্র (১০৭), ইংরেজি ২য় পত্র (১০৮), তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (১৫৪), গণিত (১০৯), বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (১৫০), পদার্থবিজ্ঞান (১৩৬), রসায়ন (১৩৭), জীববিজ্ঞান (১৩৮), উচ্চতর গণিত (১২৬), পৌরনীতি ও নাগরিকতা (১৪০), কৃষিশিক্ষা (১৩৪), গার্হস্থ্যবিজ্ঞান (১৫১)।উত্তরপত্র মূল্যায়নে এত ভুল কেন, মূল্যায়নব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্নবাংলা ১ম পত্রের পরিবর্তিত বিষয় কোড ১০১ হলেও এসএসসি ও দাখিল স্তরের সিলেবাসের ভিন্নতার কারণে ২০২৭ সালের নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য পৃথক প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা হবে। ২০২৭ সালে অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে তাদের রেজিস্ট্রেশন কার্ডে বর্ণিত বিষয় কোড বহাল থাকবে এবং তাদের জন্য আগের মতো পৃথক প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা হবে। এসএসসির খাতা ঠিকমতো না দেখা পরীক্ষকদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
একজন অস্ত্র তাক করে আছেন, হামলা-ভাঙচুর করছেন কয়েকজন, ভিডিও ভাইরাল

একজন অস্ত্র তাক করে আছেন, হামলা-ভাঙচুর করছেন কয়েকজন, ভিডিও ভাইরাল

ব্রোকারেজ হাউস–মার্চেন্ট ব্যাংকে অর্থ পাচার প্রতিরোধ ইউনিট গঠনের নির্দেশ

ব্রোকারেজ হাউস–মার্চেন্ট ব্যাংকে অর্থ পাচার প্রতিরোধ ইউনিট গঠনের নির্দেশ

প্রতিবাদের ভাষা অশ্লীল হবে কেন?

প্রতিবাদের ভাষা অশ্লীল হবে কেন?

সৌদি আরব ভ্রমণে সতর্ক করলো যুক্তরাষ্ট্র
সৌদি আরব ভ্রমণে সতর্ক করলো যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরব ভ্রমণ নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে মার্কিন নাগরিকদের। সৌদি-ইয়েমেন সংঘাতের কারণে দেশটিতে ভ্রমণের ক্ষেত্রে নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আন্তর্জাতিক ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইটে এ সতর্কতা জারি করা হয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, সৌদি আরবে থাকা মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা ও ব্যক্তিদের ওপর ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি রয়েছে। আরও পড়ুন মক্কার দক্ষিণে ড্রোন হামলা, সৌদির হুঁশিয়ারি একই সঙ্গে সশস্ত্র সংঘাত ও সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকি, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের স্থানীয় আইন নিয়েও সতর্ক করা হয়েছে। সৌদি আরবের কিছু এলাকায় ঝুঁকি আরও বেশি বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। তাই এসব এলাকায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিকদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। গত কয়েক দিনে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটিতে হামলার দাবি করেছে হুথিরা। পাশাপাশি, দেশটির বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। গত এক সপ্তাহে হুথিদের হামলা বেড়ে যাওয়ার পর এসব সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আরও পড়ুন পাইপলাইন বন্ধ / সৌদির তেল ফুরিয়ে যেতে পারে কয়েক দিনের মধ্যেই সম্প্রতি পবিত্র মক্কা নগরীর দক্ষিণে হুথিরা ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সৌদি আরব। তবে, ড্রোনটি দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী ধ্বংস করেছে। এ ঘটনায় পবিত্র মক্কা ও মুসল্লিদের নিরাপত্তার বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে সৌদি আরব। ইসলামি সহযোগিতা সংস্থাও (ওআইসি) এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থাটি ঘটনাটিকে গুরুতর হামলা হিসেবে বর্ণনা করে এজন্য হুথিদের দায়ী করেছে। একই সঙ্গে ৫৭টি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের এই জোট সৌদি আরবের বিরুদ্ধে চলমান হামলারও নিন্দা জানিয়েছে সংস্থাটি। আরও পড়ুন মদিনায় বিপুল ইউরেনিয়ামের সন্ধান, জানাল সৌদি আরব এদিকে, হুথিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের কিছু এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। এসব এলাকা বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছাকাছি। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে পণ্য পরিবহন হয়। হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হওয়ার পর লোহিত সাগরপথে তেল পরিবহন নিয়েও নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। প্রতিবেশী ইয়েমেনে ভ্রমণের ক্ষেত্রেও মার্কিন নাগরিকদের জন্য কঠোর সতর্কতা বহাল রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ভ্রমণ সতর্কতা এখনো ‘লেভেল ৪—ভ্রমণ করবেন না’ পর্যায়ে রয়েছে। ইয়েমেনে চলমান সংঘাত ও নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে মার্কিন নাগরিকদের সেখানে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটিতে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদেরও নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা এমডিআরএইচ/

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির সুযোগ, দেখুন আবেদনের যোগ্যতা

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির সুযোগ, দেখুন আবেদনের যোগ্যতা

ভুলে চ্যাটজিপিটিতে চ্যাট ডিলিট হলে, ফিরে পাবেন যেভাবে

ভুলে চ্যাটজিপিটিতে চ্যাট ডিলিট হলে, ফিরে পাবেন যেভাবে

শহুরে ডেঙ্গুর থাবায় আক্রান্ত প্রত্যন্ত উত্তরাঞ্চল

শহুরে ডেঙ্গুর থাবায় আক্রান্ত প্রত্যন্ত উত্তরাঞ্চল

0 Comments