এলিজা বিনতে এলাহী
‘ম্যাডাম আপনি কি কুকুর ভয় পান?’ রাজশাহী হাউজের দরজা খুলে একজন তরুণী জানতে চাইলেন।
হ্যাঁ পাই তো!
‘তাহলে একটু দাঁড়ান’।
অল্প সময় পরে তরুণীটি হাসিমুখে দরজা খুলে বললেন ‘ভেতরে আসুন’!
প্রবেশ মুখে একটি খালি স্থান, তারপর কয়েকটি সিঁড়ি। সিঁড়ি পেরিয়ে গেলে একটি করিডোর। করিডোরের একটি চেয়ারে বসে আছেন জনাব ইরতেজা রেজা চৌধুরী। রাজশাহী হাউজের বর্তমান মালিক, এই বাড়ির উত্তরসুরী। প্রবেশ করতেই তিনি বলে উঠলেন ‘কুকুর ভয় পাও কেন? তোমাকে তুমি করেই বললাম, আমার বয়স ৭৬ বছর’। আসলে এই কেন-এর উত্তর নেই আমার কাছে। আমার আম্মুর বাসায় কুকুরের সংখ্যা ১১টি। তারপরও…!
জনাব চৌধুরী যেখানে বসে আছেন সেখান থেকে একটি সিঁড়ি দোতলায় চলে গেছে। রাজশাহী হাউজ একটি দ্বিতল ভবন। সিঁড়ির দেয়ালজুড়ে চারটি পুরোনো ছবি। সিঁড়ি বেশ প্রশস্ত। ঔপনিবেশ পরবর্তী ঢাকায় পঞ্চাশের দশকের বাড়িগুলো যেমন ছিল এই বাড়িটিও ঠিক তেমনি। একেবারে সেই সময়ের সাক্ষ্য বহন করছে। ছবিগুলোর পরিচয় দিলেন জনাব চৌধুরী–আমার দাদা, বড় দাদা, আমার নানা, আমার আব্বা। ধীরে ধীরে পুরো বাড়িই ঘুরে দেখলাম। প্রতিটি আসবাব, দেয়ালের পেইন্টিং, ঝাড়বাতি সবকিছুতেই রয়েছে রুচি ও আভিজাত্যের ছাপ। কিছু কিছু ঝাড়বাতি ও আসবাব শত বছরের পুরোনো, যেগুলো আনা হয়েছে পুর্বপুরুষের বাড়ি থেকে।
মগবাজারে অবস্থিত এই বাড়িটি ঔপনিবেশিক-পরবর্তী ঢাকার আধুনিক স্থাপত্যের ভাষাকে তুলে ধরে। ১৯৫০-এর দশকে ঢাকার নতুন অঞ্চলে বসবাস শুরু করা উচ্চ-মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্য নির্মিত সাধারণ বাড়িগুলোর মতোই। রাজশাহী হাউস একটি নতুন আবাসিক ধরন ও জীবনযাত্রার সূচনাকে প্রতিনিধিত্ব করে।
বাড়িটির নকশা করেছিলেন কলকাতার স্থপতি অর্জুন রায়। বাড়ির প্রবেশপথের ওপর ঝুলন্ত ক্যান্টিলিভার আকৃতিটি নিঃসন্দেহে বাড়ির সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো বৈশিষ্ট্য, যা সেই সময়ে অনন্য এক পদ্ধতিতে নির্মিত হয়েছিল।
দক্ষিণমুখী একটি বড় বারান্দা বাড়ির সবচেয়ে স্বতন্ত্র উপাদান। বারান্দা থেকে কক্ষে যাতায়াতের মধ্য দিয়ে অন্দর ও বহির্মহলের মধ্যে একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে।
বাড়িটি ঢাকার অন্যান্য অনেক উচ্চ-মধ্যবিত্ত পরিবারের মতোই সামনের লন-সহ একটি বাংলো-ধরনের বাড়ির বৈশিষ্টের অনুরূপ। প্রকৃতপক্ষে, প্রথম দিকে বাড়ির উত্তর দিকটি ছিল বড় গাছপালাসহ একটি বাগান এবং কিছু কর্মচারী কোয়ার্টার। ১৯৮০-এর দশকের গোড়ার দিকে, সম্পত্তি বিভাজনের পর, বাগান এলাকাটি বহুতল অ্যাপার্টমেন্টে রূপান্তরিত হয়।
প্রকল্পটি ‘সাইলেন্ট হেরিটেজ: বিল্ডিংস ইন বাংলাদেশ’ একটি বৃহত্তর গবেষণা উদ্যোগের অংশ, যা গ্রামীণ থেকে শহুরে এবং মুঘল থেকে আধুনিক—বিভিন্ন যুগের বাড়িঘর ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ভবনের ওপর কেন্দ্রীভূত। বিশ শতকের বিভিন্ন সময়ের ৫টি বাড়ি নির্বাচন করা হয়। প্রতিটি বাড়ি বিভিন্ন সময়ের এক একটি স্মারক স্থাপত্য।

হিডেন হেরিটেজ দল প্রাথমিক ও মাধ্যমিক তালিকার বাইরেও অনুসন্ধান চালিয়ে এমন প্রতিটি বাড়ি নির্বাচন করেছে যা নির্বাচনি মানদণ্ডের সাথে খাপ খায় এবং নথিভুক্তকরণের জন্য উন্মুক্ত ছিল। কিছু ক্ষেত্রে, দলকে একটি নির্বাচিত বাড়ি পরিদর্শন এবং আংশিক নথিভুক্তকরণ সম্পন্ন করার পরেও পিছিয়ে আসতে হয়েছে এবং তা ছেড়ে দিতে হয়েছে।
এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতা কিছু দিক তুলে ধরছি - স্থাপত্যগত ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা, ঐতিহাসিক, আর্কাইভাল ও শিক্ষামূলক মূল্য, মানুষের জীবন ও সময়কাল নথিভুক্ত করা।
প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল ঢাকার ইতিহাসের স্বতন্ত্র যুগ বা সংস্কৃতির অনুকরণীয় প্রতিনিধি নির্বাচন করা। প্রতিটি নির্বাচিত ভবনের স্বতন্ত্র স্থাপত্য ও স্থানিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। মাত্রা ও পরিধির দিক থেকে, নির্বাচিত ভবনগুলো আবাসিক স্থানের একটি উল্লেখযোগ্য স্থাপত্য। বেঙ্গল ইনস্টিটিউটের একটি অভ্যন্তরীণ কমিটি ঢাকার ইতিহাসের বিভিন্ন কালপর্বের ভবনগুলোর একটি দীর্ঘ তালিকা তৈরি করেন। বিস্তৃত তালিকা থেকে, এই পর্যায়ে নথিভুক্তকরণের জন্য পাঁচটি বাড়ি নির্বাচন করা হয়েছে।
হিডেন হেরিটেজ প্রকল্পটি বেঙ্গল ইনস্টিটিউট এবং ইউনিক ক্লাস্টার বাংলাদেশ কর্তৃক পরিকল্পিত ও উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল। এটি বেঙ্গল ইনস্টিটিউট দ্বারা বাস্তবায়িত হয়েছে এবং ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিনিধিদল এবং ইউনিক ক্লাস্টার বাংলাদেশের সকল সদস্যের সহায়তায় বাস্তবায়ন হয়েছে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো বাড়িটির নাম কেন রাজশাহী হাউজ!
জনাব চৌধুরীর পূর্বপুরুষ এসেছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকোশা গ্রাম থেকে। তার পূর্বপুরুষ সেই অঞ্চলের জমিদার ছিলেন। জমিদারির বয়স দুশো বছর। রাজশাহী হাউজ এর মূল মালিক প্রখ্যাত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মুর্তজা রেজা চৌধুরী। রাজশাহী হাউজের নির্মাণকাল ১৯৫৭। বর্তমান মালিক ইরতেজা রেজা চৌধুরী জানিয়েছেন মূল বাড়িটির পুরো চত্বরের আয়তন ছিল ৬ বিঘা।
তবে রাজশাহী হাউজ আর টিকে থাকছে না। সময়ের প্রয়োজনে ও নতুন বাস্তবতায় ভেঙ্গে ফেলা হবে রাজশাহী হাউজ। বহুতল ভবন নির্মান হবে খুব শিগগিরই। বাড়ির চত্বরে বিল্ডার্স কোম্পানির বোর্ড ঝুলছে।
অল্প দিন পরেই চিরতরে হারিয়ে যাবে রাজশাহী হাউজ। ৫টি হিডেন হেরিটেজ হোমস থেকে মুছে যাবে রাজশাহী হাউজের নাম। তাই শেষবেলায় দেখতে গিয়েছিলাম রাজশাহী হাউজ।
ইরতেজা রেজা চৌধুরী ও তার স্ত্রী ডা নাসিম চৌধুরীর আতিথেয়তায় মুগ্ধ হয়েছি। দুজনেই সানন্দে পুরোনো দিনের গল্প করেছেন। মনে হচ্ছিল আমরা বহুকালের পরিচিত।
এমআরএম
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
এলিজা বিনতে এলাহী ‘ম্যাডাম আপনি কি কুকুর ভয় পান?’ রাজশাহী হাউজের দরজা খুলে একজন তরুণী জানতে চাইলেন। হ্যাঁ পাই তো! ‘তাহলে একটু দাঁড়ান’। অল্প সময় পরে তরুণীটি হাসিমুখে দরজা খুলে বললেন ‘ভেতরে আসুন’! প্রবেশ মুখে একটি খালি স্থান, তারপর কয়েকটি সিঁড়ি। সিঁড়ি পেরিয়ে গেলে একটি করিডোর। করিডোরের একটি চেয়ারে বসে আছেন জনাব ইরতেজা রেজা চৌধুরী। রাজশাহী হাউজের বর্তমান মালিক, এই বাড়ির উত্তরসুরী। প্রবেশ করতেই তিনি বলে উঠলেন ‘কুকুর ভয় পাও কেন? তোমাকে তুমি করেই বললাম, আমার বয়স ৭৬ বছর’। আসলে এই কেন-এর উত্তর নেই আমার কাছে। আমার আম্মুর বাসায় কুকুরের সংখ্যা ১১টি। তারপরও…! জনাব চৌধুরী যেখানে বসে আছেন সেখান থেকে একটি সিঁড়ি দোতলায় চলে গেছে। রাজশাহী হাউজ একটি দ্বিতল ভবন। সিঁড়ির দেয়ালজুড়ে চারটি পুরোনো ছবি। সিঁড়ি বেশ প্রশস্ত। ঔপনিবেশ পরবর্তী ঢাকায় পঞ্চাশের দশকের বাড়িগুলো যেমন ছিল এই বাড়িটিও ঠিক তেমনি। একেবারে সেই সময়ের সাক্ষ্য বহন করছে। ছবিগুলোর পরিচয় দিলেন জনাব চৌধুরী–আমার দাদা, বড় দাদা, আমার নানা, আমার আব্বা। ধীরে ধীরে পুরো বাড়িই ঘুরে দেখলাম। প্রতিটি আসবাব, দেয়ালের পেইন্টিং, ঝাড়বাতি সবকিছুতেই রয়েছে রুচি ও আভিজাত্যের ছাপ। কিছু কিছু ঝাড়বাতি ও আসবাব শত বছরের পুরোনো, যেগুলো আনা হয়েছে পুর্বপুরুষের বাড়ি থেকে। মগবাজারে অবস্থিত এই বাড়িটি ঔপনিবেশিক-পরবর্তী ঢাকার আধুনিক স্থাপত্যের ভাষাকে তুলে ধরে। ১৯৫০-এর দশকে ঢাকার নতুন অঞ্চলে বসবাস শুরু করা উচ্চ-মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্য নির্মিত সাধারণ বাড়িগুলোর মতোই। রাজশাহী হাউস একটি নতুন আবাসিক ধরন ও জীবনযাত্রার সূচনাকে প্রতিনিধিত্ব করে। বাড়িটির নকশা করেছিলেন কলকাতার স্থপতি অর্জুন রায়। বাড়ির প্রবেশপথের ওপর ঝুলন্ত ক্যান্টিলিভার আকৃতিটি নিঃসন্দেহে বাড়ির সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো বৈশিষ্ট্য, যা সেই সময়ে অনন্য এক পদ্ধতিতে নির্মিত হয়েছিল। দক্ষিণমুখী একটি বড় বারান্দা বাড়ির সবচেয়ে স্বতন্ত্র উপাদান। বারান্দা থেকে কক্ষে যাতায়াতের মধ্য দিয়ে অন্দর ও বহির্মহলের মধ্যে একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে। বাড়িটি ঢাকার অন্যান্য অনেক উচ্চ-মধ্যবিত্ত পরিবারের মতোই সামনের লন-সহ একটি বাংলো-ধরনের বাড়ির বৈশিষ্টের অনুরূপ। প্রকৃতপক্ষে, প্রথম দিকে বাড়ির উত্তর দিকটি ছিল বড় গাছপালাসহ একটি বাগান এবং কিছু কর্মচারী কোয়ার্টার। ১৯৮০-এর দশকের গোড়ার দিকে, সম্পত্তি বিভাজনের পর, বাগান এলাকাটি বহুতল অ্যাপার্টমেন্টে রূপান্তরিত হয়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে ‘হিডেন হেরিটেজ: হোমস ইন ঢাকা’ কি? প্রকল্পটি ‘সাইলেন্ট হেরিটেজ: বিল্ডিংস ইন বাংলাদেশ’ একটি বৃহত্তর গবেষণা উদ্যোগের অংশ, যা গ্রামীণ থেকে শহুরে এবং মুঘল থেকে আধুনিক—বিভিন্ন যুগের বাড়িঘর ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ভবনের ওপর কেন্দ্রীভূত। বিশ শতকের বিভিন্ন সময়ের ৫টি বাড়ি নির্বাচন করা হয়। প্রতিটি বাড়ি বিভিন্ন সময়ের এক একটি স্মারক স্থাপত্য। আরও পড়ুন ২০০ দেশ ভ্রমণের ইচ্ছা এলিজার হিডেন হেরিটেজ দল প্রাথমিক ও মাধ্যমিক তালিকার বাইরেও অনুসন্ধান চালিয়ে এমন প্রতিটি বাড়ি নির্বাচন করেছে যা নির্বাচনি মানদণ্ডের সাথে খাপ খায় এবং নথিভুক্তকরণের জন্য উন্মুক্ত ছিল। কিছু ক্ষেত্রে, দলকে একটি নির্বাচিত বাড়ি পরিদর্শন এবং আংশিক নথিভুক্তকরণ সম্পন্ন করার পরেও পিছিয়ে আসতে হয়েছে এবং তা ছেড়ে দিতে হয়েছে। এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতা কিছু দিক তুলে ধরছি - স্থাপত্যগত ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা, ঐতিহাসিক, আর্কাইভাল ও শিক্ষামূলক মূল্য, মানুষের জীবন ও সময়কাল নথিভুক্ত করা। বাড়িগুলো নির্বাচন হলো কীভাবে? প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল ঢাকার ইতিহাসের স্বতন্ত্র যুগ বা সংস্কৃতির অনুকরণীয় প্রতিনিধি নির্বাচন করা। প্রতিটি নির্বাচিত ভবনের স্বতন্ত্র স্থাপত্য ও স্থানিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। মাত্রা ও পরিধির দিক থেকে, নির্বাচিত ভবনগুলো আবাসিক স্থানের একটি উল্লেখযোগ্য স্থাপত্য। বেঙ্গল ইনস্টিটিউটের একটি অভ্যন্তরীণ কমিটি ঢাকার ইতিহাসের বিভিন্ন কালপর্বের ভবনগুলোর একটি দীর্ঘ তালিকা তৈরি করেন। বিস্তৃত তালিকা থেকে, এই পর্যায়ে নথিভুক্তকরণের জন্য পাঁচটি বাড়ি নির্বাচন করা হয়েছে। হিডেন হেরিটেজ প্রকল্পটি বেঙ্গল ইনস্টিটিউট এবং ইউনিক ক্লাস্টার বাংলাদেশ কর্তৃক পরিকল্পিত ও উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল। এটি বেঙ্গল ইনস্টিটিউট দ্বারা বাস্তবায়িত হয়েছে এবং ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিনিধিদল এবং ইউনিক ক্লাস্টার বাংলাদেশের সকল সদস্যের সহায়তায় বাস্তবায়ন হয়েছে। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো বাড়িটির নাম কেন রাজশাহী হাউজ! জনাব চৌধুরীর পূর্বপুরুষ এসেছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকোশা গ্রাম থেকে। তার পূর্বপুরুষ সেই অঞ্চলের জমিদার ছিলেন। জমিদারির বয়স দুশো বছর। রাজশাহী হাউজ এর মূল মালিক প্রখ্যাত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মুর্তজা রেজা চৌধুরী। রাজশাহী হাউজের নির্মাণকাল ১৯৫৭। বর্তমান মালিক ইরতেজা রেজা চৌধুরী জানিয়েছেন মূল বাড়িটির পুরো চত্বরের আয়তন ছিল ৬ বিঘা। তবে রাজশাহী হাউজ আর টিকে থাকছে না। সময়ের প্রয়োজনে ও নতুন বাস্তবতায় ভেঙ্গে ফেলা হবে রাজশাহী হাউজ। বহুতল ভবন নির্মান হবে খুব শিগগিরই। বাড়ির চত্বরে বিল্ডার্স কোম্পানির বোর্ড ঝুলছে। অল্প দিন পরেই চিরতরে হারিয়ে যাবে রাজশাহী হাউজ। ৫টি হিডেন হেরিটেজ হোমস থেকে মুছে যাবে রাজশাহী হাউজের নাম। তাই শেষবেলায় দেখতে গিয়েছিলাম রাজশাহী হাউজ। ইরতেজা রেজা চৌধুরী ও তার স্ত্রী ডা নাসিম চৌধুরীর আতিথেয়তায় মুগ্ধ হয়েছি। দুজনেই সানন্দে পুরোনো দিনের গল্প করেছেন। মনে হচ্ছিল আমরা বহুকালের পরিচিত। এমআরএম
ডেঙ্গুর মৌসুমে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে অভিযান চালাচ্ছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। রাজধানীর ছয়টি এলাকায় অভিযান চালিয়ে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় ২৮টি মামলা করেছেন সংস্থাটির ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসব মামলায় মোট ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। আজ রোববার মিরপুর-১০, রূপনগর, উত্তর পল্লবী, আগারগাঁও, উত্তরা-নিকুঞ্জ ও বারিধারা এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। ডিএনসিসির নিয়োজিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অতিস দশি চাকমা, এস এম রাসেল ইসলাম নূর, শরিফুল আলম তানভীর, প্রমথ রঞ্জন ঘটক ও দেদারুল ইসলামের নেতৃত্বে পৃথক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়।ডিএনসিসি সূত্রে জানা যায়, আগামী তিন মাসের মশকনিধন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আজ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনায় এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি খুঁজে দেখা হয়। যেখানে লার্ভা পাওয়া গেছে, সেখানেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।সবচেয়ে বেশি মামলা ও জরিমানা করা হয়েছে অঞ্চল-৬-এ। ওই অঞ্চলে মোট ১২টি মামলায় ৭৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। উত্তরা মডেল টাউনের ১১ নম্বর সেক্টর থেকে ১৪ নম্বর সেক্টর এবং তুরাগ থানাধীন ঢাকা উত্তর সিটির ৫১, ৫২, ৫৩ ও ৫৪ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে এই এলাকা গঠিত।খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ এলাকায় অভিযান চালানো হয়। ১৩ সেপ্টেম্বরএ ছাড়া অঞ্চল-৫ ও অঞ্চল-৪ দুটি অঞ্চলেই ৫টি করে ১০টি মামলা করা হয়। এর মধ্যে ৫ নম্বর অঞ্চলে ৪৫ হাজার এবং অঞ্চল-৪-এ ২৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। আর অঞ্চল-২-এ দুটি মামলায় ২৫ হাজার টাকা, অঞ্চল-৩-এ একটি মামলায় ৫ হাজার টাকা এবং অঞ্চল-১-এ তিনটি মামলায় ৩ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।ঢাকা উত্তর সিটির অঞ্চল-৬-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, উত্তরা উত্তর মেট্রোস্টেশন থেকে দিয়াবাড়ি গোলচত্বর পর্যন্ত সারি সারি গাড়ি মেরামতের ওয়ার্কশপ রয়েছে। এসব ওয়ার্কশপে পরিত্যক্ত অনেক টায়ারে বৃষ্টির পানি জমে এডিসের লার্ভা জন্মেছে। ওই এলাকাতেই বেশির ভাগ জরিমানা করা হয়েছে। একটি ওয়ার্কশপকে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।ডিএনসিসি জানিয়েছে, আগামী তিন মাসের কর্মসূচিতে শুধু জরিমানা বা অভিযান নয়, মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে সোর্স রিডাকশন, লার্ভিসাইডিং, ছাদবাগান পরিদর্শন, মশকনিধনবিষয়ক মাইকিং, নোবেলিউরন ট্যাবলেট প্রয়োগ এবং জনসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ। এ ছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরি করতে দিকনির্দেশনামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
নতুন আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২৯ অনুযায়ী আমদানিকারকদের জন্য ওপেন অ্যাকাউন্ট পদ্ধতিতে মূল্য পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে ঋণপত্র (এলসি) ছাড়াই বিক্রয় চুক্তিপত্রের মাধ্যমে পণ্য আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনে নিয়োজিত সব অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও প্রিন্সিপাল অফিসে পাঠানো এক সার্কুলারে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি ডিপার্টমেন্ট। সার্কুলারে বলা হয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত ২৪ আগস্ট আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২৯ জারি করেছে। নতুন আমদানি নীতি আদেশটি ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। পরবর্তী নতুন আমদানি নীতি আদেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত এর বিধান কার্যকর থাকবে। আরও পড়ুন বিজিবিএর বিবৃতি / নিট ফেব্রিক আমদানি বন্ধ হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাত নতুন নীতির বিভিন্ন বিধান তুলে ধরে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, আমদানি নীতি আদেশের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদে ওপেন অ্যাকাউন্ট পদ্ধতিতে মূল্য পরিশোধের সুযোগ রাখা হয়েছে। এছাড়া শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে আমদানিযোগ্য পণ্যের ক্ষেত্রে নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এলসি না খুলে বিক্রয় চুক্তিপত্রের মাধ্যমে আমদানি করা যাবে। সার্কুলারে আরও বলা হয়, রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদনে ব্যবহৃত উপকরণ আমদানি ও সংরক্ষণের বিষয়ে নতুন আমদানি নীতিতে বিধান রাখা হয়েছে। ব্যাংক-টু-ব্যাংক ঋণপত্রের মাধ্যমে স্থানীয় উৎস থেকে স্থানীয় মুদ্রায় মূল্য পরিশোধের বিষয়েও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গত ১৩ আগস্ট জারি করা বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী, বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্সধারী রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ব্যাক-টু-ব্যাক ঋণপত্র খোলার অনুমতি রয়েছে। নতুন আমদানি নীতি আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে ওই সার্কুলারের সংশ্লিষ্ট বিধান প্রয়োজনে সংশোধিত বলে গণ্য হবে। আরও পড়ুন আমদানি নীতিতে বড় পরিবর্তন / ব্যবসা সহজ করতে নতুন কাঠামো, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গুরুত্ব বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশ দিয়েছে, পণ্য আমদানি বা স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ-সংক্রান্ত লেনদেন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে নতুন আমদানি নীতি আদেশের বিধান এবং বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন-সংক্রান্ত অন্যান্য বিধিবিধান যথাযথভাবে পরিপালন করতে হবে। ইএআর/এমকেআর