ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগুনের আতংকে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় পড়ে গিয়ে পদদলিত হয়ে নিহত হন সিএনজি চালক রমজান আলী (৩৮)। স্বামীকে হারিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন তার দুই স্ত্রী। তারা দুজনই অন্তঃসত্ত্বা। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম স্বামীর মৃত্যুতে অনাগত সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।
নিহত রমজান আলী জেলার ফুলবাড়িয়া উপজেলার বিদ্যানন্দ গ্রামের মৃত আহাম্মদ আলীর ছেলে।
তার ভাই সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার দিন সকালে বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন রমজান আলী। পরীক্ষায় তার হার্টের সমস্যা ধরা পড়ে। তিনি হাসপাতালের চারতলায় ভর্তি ছিলেন।’
তিনি আরও বলেন, রমজান আলী দুটি বিয়ে করেছেন। তার দুই স্ত্রীর নামই খাদিজা। একজনের বয়স ৩৫, অপরজনের বয়স ২৭ বছর। দুই স্ত্রীর ঘরের দুটি করে চার ছেলেমেয়ে রয়েছে। বর্তমানে শাহজাহানের দুই স্ত্রীই অন্তঃসত্ত্বা। একজন সাত মাসের ও অন্যজন চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ভাই রমজান আলী ফুলবাড়িয়া শাখা এশিয়া ব্যাংক থেকে এক লাখ ৫ হাজার, এনজিও থেকে ৬০ হাজার ও বিভিন্নজনের কাছ থেকে অন্তত এক লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। এখন তার দুই স্ত্রী সংসার চালাবে নাকি ঋণ দেবে? সরকার যদি সহায়তা না করে, তারা দুজনই চরম বিপাকে পড়বে।’
নিহত রমজান আলী
হাসপাতালে কথা হয় রমজানের স্ত্রী খাদিজার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমরা চারতলায় ভর্তি ছিলাম। আগুন লাগার খবরে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় আমার স্বামী সিঁড়িতে পড়ে যান। পদদলিত হয়ে তিনি মারা যান।’
আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘স্বামীকে বাঁচাতে হাসপাতালে নিয়ে এলাম, সেই হাসপাতালের আগুনেই মারা গেলেন আমার স্বামী। আমার স্বামীর দুটি সংসার। দুই সংসারই এখন অথৈ সাগরে ভাসছে। কীভাবে চলবে সংসার?’
তিনি আরও বলেন, তাদের কোনো অর্থ-সম্পদ নেই। স্বামীই ছিলেন সংসারের একমাত্র ভরসা। স্বামীকে সুস্থ করে বাড়ি ফিরিয়ে নেওয়ার আশায় তিনি তাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্বামীর মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়েছে তাকে।
‘আমার চারটি সন্তান। আবার আমি গর্ভবতী। আমার স্বামী সিএনজি চালিয়ে সংসার চালাতেন। এখন আমি কী খাবো, সন্তানদের কীভাবে বড় করবো, কিছুই বুঝতে পারছি না’, বলছিলেন খাদিজা।
স্বামীর মৃত্যুর পর এক সন্তানকে নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন দ্বিতীয় স্ত্রী। তার নিজের কোনো ঘরবাড়ি নেই। স্বামী যে ছোট্ট একটি ঘর করে দিচ্ছিলেন, সেটিও এখনো পুরোপুরি তৈরি হয়নি।
খাতিজা আক্তার জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমার স্বামী ফোন দিয়ে বলেছিলেন, আমি আসতেছি, সুস্থ হয়ে গেছি। কিন্তু তিনি আর বাড়িতে আসতে পারলেন না। আমি আমার স্বামীকে চাই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কারণে যদি এমন হয়ে থাকে (মারা যায়), তাহলে আমি তাদের শাস্তি চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি আগে গার্মেন্টসে চাকরি করে সংসার চালাতাম। এখন আমি অন্তঃসত্ত্বা, তাই চাকরি করতে পারি না। আমার এই মেয়েকে নিয়ে কোথায় যাবো? কে আমাদের খাওয়াবে? আমার বাড়িঘর কিছুই নেই।’
স্বামীর সংসারে সিএনজিটিই ছিল বেঁচে থাকার প্রধান অবলম্বন জানিয়ে খাতিজা বলেন, ‘আমার স্বামী সিএনজি চালিয়ে সংসার চালাতেন। অনেক কষ্ট করে সিএনজিটি কিনেছিলাম। এখনো সেই ঋণ শোধ করতে পারিনি। স্বামী চলে যাওয়ার পর আমি কীভাবে সেই ঋণ শোধ করবো?’
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালের বিভিন্ন তলা থেকে রোগী ও স্বজনরা আতংকে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে থাকেন। এসময় কয়েকজন আহত হন। এর মধ্যেই জরুরি বিভাগের রেজিস্টারে চারজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনার তথ্য লিপিবদ্ধ করা হয়।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, ‘একজন নার্স তাৎক্ষণিকভাবে রেজিস্টারে তথ্য লিখেছিলেন। তবে ওই চারজন পদদলিত হয়ে মারা গেছেন, এমন কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই। তাদের শরীরেও পদদলিত হওয়ার কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘লিফটে আগুন লাগার ঘটনায় কোনো গাফিলতি ছিল কি-না, তদন্ত কমিটি তা খতিয়ে দেখবে। ঘটনায় কারও গাফিলতি থাকলে তা বিবেচনায় নেওয়া হবে।’
এরআগে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের অষ্টম তলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এসআর
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
শ্রমিকসংকট, পুঁজির অভাব, বাজারে চকচকে চালের চাহিদা, করপোরেট প্রতিযোগিতা ও সরকারি নীতিমালার কারণে দিনাজপুরের হাসকিং মিলগুলো টিকতে পারছে না। বিস্তারিত ভিডিওতে...
তালের পায়েসের রেসিপি দিয়েছেন শুভাগতা দেবাশীষ উপকরণপাকা তাল ১টি বড়আতপ চাল ৫০ গ্রাম (প্রায় সিকি কাপ)দুধ দেড় লিটারএলাচি ৩-৪টিতেজপাতা ১টিচিনি আধা কাপ বা স্বাদ অনুযায়ীখেজুরের গুড় ২-৩ টেবিল চামচ (ঐচ্ছিক)ঘি ১ চা-চামচনারকেল কোরানো ২ টেবিল চামচ (ঐচ্ছিক) কাজু বা কিশমিশ সামান্যভাইরাল থেকে ঘরোয়া, ঢাকার ১০ শিঙাড়া, স্বাদ যাচাইয়ে কে পেল কতপ্রণালিতাল চেঁছে অল্প পানি দিয়ে ভালোভাবে চটকে নিন।ছাঁকনি দিয়ে ক্বাথ ছেঁকে নিন। আঁশ ও আঁটি বাদ দিন।আতপ চাল ধুয়ে ১৫-২০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। একটি ভারী হাঁড়িতে দুধ দিয়ে দিন। তেজপাতা ও এলাচি দিয়ে মাঝারি আঁচে জ্বাল দিন। দুধ কিছুটা কমে এলে চাল দিয়ে দিন। চাল নরম হয়ে গেলে সিকি কাপ কিংবা এক কাপের তিন ভাগের এক ভাগ তালের ক্বাথ দিয়ে নাড়তে থাকুন। আরও ১০-১৫ মিনিট অল্প আঁচে রান্না করুন। তালের ক্বাথ দেওয়ার পর চুলার আঁচ কমিয়ে দিন। না হলে দুধ কেটে যেতে পারে। এবার চিনি দিন। চাইলে খেজুরের গুড়ও দিতে পারেন। ঘন হয়ে এলে ঘি, নারকেল, কাজু বা কিশমিশ দিয়ে আরও ২-৩ মিনিট রান্না করুন। চুলা বন্ধ করে ঠান্ডা হতে দিন। ঠান্ডা করে পরিবেশন করলে তালের স্বাদ আরও ভালো লাগে।১২ হাজার টন কমলার খোসা ফেলা হয়েছিল জঙ্গলে, ১৬ বছর পর সেখানে কী হলো
নেত্রকোনায় ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী সাদিয়া আক্তারকে দলীয় পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে দলটি।গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় এনসিপির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানার সই করা এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।সাদিয়া আক্তার (২৩) নেত্রকোনা জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তিনি নেত্রকোনা সরকারি কলেজের স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর বাড়ি সদর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল দুপুরে সাদিয়া জামিনে মুক্ত হয়েছেন। এ বিষয়ে সাদিয়া আক্তারের মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে।ফাহিম রহমান খান পাঠান, নেত্রকোনা জেলা এনসিপির সদস্যসচিব দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাদিয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। আশা করি, তিনি উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগের জবাব দিয়ে রেহাই পাবেন। আমরা মনে করি, সাদিয়া সরকারদলীয় নেতৃবৃন্দের আক্রোশের শিকার।দলীয় চিঠিতে বলা হয়েছে, গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশক্রমে সাদিয়াকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কেন তাঁর বিরুদ্ধে সংগঠনের গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ ও ব্যাখ্যা দাখিল করতে বলা হয়েছে।পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাদিয়ার বিরুদ্ধে কয়েকজনকে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে ৩ হাজার টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে কুড়পাড় এলাকায় আরও একজনের কাছ থেকে টাকা নিতে গেলে স্থানীয় লোকজন তাঁকে আটক করে পুলিশে খবর দেন।ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগে এনসিপি নেত্রী গ্রেপ্তারঘটনার পরদিন ৯ সেপ্টেম্বর সকালে পৌর শহরের বলাইনগুয়া চেয়ারম্যানবাড়ি এলাকার বাসিন্দা সুমন মিয়ার স্ত্রী প্রিয়া আক্তার বাদী হয়ে নেত্রকোনা মডেল থানায় প্রতারণার মামলা করেন। পরে পুলিশ সাদিয়া আক্তারকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।এদিকে সাদিয়াকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন জেলা এনসিপির সদস্যসচিব ফাহিম রহমান খান পাঠান। গতকাল মুঠোফোনে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাদিয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। আশা করি, তিনি উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগের জবাব দিয়ে রেহাই পাবেন। আমরা মনে করি, সাদিয়া সরকারদলীয় নেতৃবৃন্দের আক্রোশের শিকার।’