নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ‘সরকার উৎখাতের পরিকল্পনা’র অভিযোগে রাজধানীর উত্তরখান থেকে গ্রেপ্তার আটজনের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরখান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম আজ আসামিদের আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ রিমান্ডের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান তালুকদার রিমান্ড আবেদন বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন জানান। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে প্রত্যেকের চার দিন করে রিমান্ডের আদেশ দেন।
রিমান্ডে নেওয়া আসামিরা হলেন মো. মাজহারুল ইসলাম ওরফে রায়হান (৩৩), মো. রাকিব (২৩), মো. তানভীর খান (২৬), মো. আব্দুর রহমান (৪০), মো. সিফাত (২৩), মো. মাহাফুজার রহমান (২৪), মো. আশিক মিয়া (২৩) ও মো. বকুল আহমেদ ওরফে রাজু (২৪)।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ১২ সেপ্টেম্বর রাতে উত্তরখান থানার পুরানপাড়ার একটি অটো গ্যারেজের ভেতরে সমবেত হয়ে সরকার ও জনসাধারণের শান্তি বিনষ্টসহ নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা চলছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরখান থানা-পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে এই আটজনকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২৫ থেকে ৩০ জন পালিয়ে যান। এ ঘটনায় উত্তরখান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদ হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
র্যাবের ক্ষমতা, জনবল, কর্তৃত্ব, সম্পদ ও প্রাতিষ্ঠানিক উত্তরাধিকার স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে পুনঃপ্রতিষ্ঠা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) ও বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। মঙ্গলবার ঢাকায় রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘র্যাব থেকে এসআরবি: কসাই বাহিনীর পুনর্বিন্যাস, গুম-খুনের নতুন বন্দোবস্ত’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এই দাবি জানিয়েছে তারা। রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম। তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর কোনো সদস্যের অন্য কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অধীনে কাজ করার কথা নয়। ক্ষমতাকাঠামোর কারণে এসব বাহিনী ক্রমাগত ভয়ংকর হয়ে ওঠে। অভ্যুত্থানের পর জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে নতুন করে জিজ্ঞাসাবাদের নামে বন্দিশালা স্থাপন করা হচ্ছে। সরকার প্রতিনিয়ত জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।সভাপতির বক্তব্যে জেএসডির সিনিয়র সহসভাপতি তানিয়া রব বলেন, রাষ্ট্রের নিয়মিত বাহিনী থাকার পরও যখন বিশেষ বাহিনী গঠন করা হয়, তখনই তার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ভয়ের সংস্কৃতি উপেক্ষা করে গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠার নতুন লড়াই শুরু করতে হবে।পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেন, সেনাবাহিনীর সদস্যদের পুলিশের কর্মকাণ্ডে সংযুক্ত করা হলে তা রাষ্ট্রে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। র্যাবের চেয়ে এসআরবিকে কোনো কোনো ক্ষেত্রে আরও বেশি শক্তিশালী করা হয়েছে।সভায় ৭ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। সেগুলো হলো—১. র্যাবের ক্ষমতা, জনবল, কর্তৃত্ব, সম্পদ ও প্রাতিষ্ঠানিক উত্তরাধিকার এসআরবি নামে পুনঃপ্রতিষ্ঠা বন্ধ করা।২. এসআরবির নামে জবাবদিহিহীন বিশেষ বাহিনী গঠন না করা।৩. প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে বিতর্কিত বিশেষ বাহিনীর কাঠামোতে ব্যবহার বন্ধ করা।৪. গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন ও বেআইনি আটকের প্রতিটি অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা।৫. ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৬’ সংশোধন করা।৬. প্রতিটি গ্রেপ্তার, আটক ও জিজ্ঞাসাবাদ সম্পূর্ণভাবে নথিবদ্ধ ও জবাবদিহিমূলক করা।৭. সব আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের ওপর কার্যকর বিচারিক, সংসদীয় ও বেসামরিক নজরদারি নিশ্চিত করা।সভায় বিশেষ আলোচক ছিলেন জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, স্থায়ী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সহসভাপতি হাবিবুর রহমান রাজা প্রমুখ।
বাংলাদেশি চলচ্চিত্র ‘অ্যান অ্যাপল ট্রি ইনসাইড দ্য হেড’ অবলম্বনে ঢাকায় শুরু হয়েছে একই নামে আলোকচিত্র প্রদর্শনী। মঙ্গলবার রাজধানীর আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দো ঢাকার লা গ্যালারিতে প্রদর্শনীটির উদ্বোধন হয়।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দো ঢাকার পরিচালক ফ্রাঁসোয়া শামব্রো, চলচ্চিত্রটির প্রযোজক জসীম আহমেদ, অভিনয়শিল্পী জয়িতা মহলানবীশ এবং লেখক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক মানস চৌধুরী। এ সময় চলচ্চিত্রটির নির্মাতা মোহাম্মদ ফজলে রাব্বি মৃধা, প্রযোজক আরিফুর রহমান ও অন্য কলাকুশলীরা উপস্থিত ছিলেন।ভিউজ অ্যান্ড ভিশন ও গুপী বাঘা প্রডাকশনস লিমিটেডের যৌথ আয়োজনে চলচ্চিত্রটি নির্মাণের সময় সিনেম্যাটিক দৃশ্য অবলম্বনে ধারণ করা আলোকচিত্র এ প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হয়েছে। পুরো গল্পটি প্রকাশ না করেই ছবিগুলোতে চলচ্চিত্রের চরিত্র, আবহ, অভিনয়শিল্পীদের অভিব্যক্তি ও সামগ্রিক দৃশ্যপট ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।প্রকল্পটি নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ফ্রাঁসোয়া শামব্রো বলেন, ‘প্রদর্শনীটি পুরো চলচ্চিত্রের একটি প্রতিফলন। পরিচালক ও প্রযোজকদের অভিনন্দন।’ স্থানীয় শিল্পচর্চার প্রতি তাঁদের প্রতিষ্ঠানের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, ‘আলিয়ঁস সব সময় শিল্পের পাশে থাকবে।’প্রযোজক আরিফুর রহমান বলেন, ‘প্রদর্শনীটি আলোকচিত্রের মাধ্যমে চলচ্চিত্রটিকে একটি নতুন জীবন দিয়েছে এবং প্রচলিত পরিবেশনা কাঠামোর বাইরে গিয়ে দর্শকদের এটি উপভোগ করার সুযোগ করে দিচ্ছে।’ফজলে রাব্বি মৃধার রচনা ও পরিচালনায় নির্মিত এই চলচ্চিত্রের গল্প মিন্টু মৃধা নামের একটি চরিত্র ঘিরে, যার স্ত্রী জেসমিন ও ছেলে সোহাগ প্রায়ই ঘোরগ্রস্তের মতো বাড়ি থেকে দূরে কোথাও হারিয়ে যায়। পরিবারে কোনো অদৃশ্য শক্তির প্রভাব পড়েছে বিশ্বাস করে মিন্টু এক সাধুর শরণাপন্ন হয়। সাধু তাকে একটি আশীর্বাদপুষ্ট আপেল দেয়, যার রোগ নিরাময় ক্ষমতা রয়েছে বলে দাবি করা হয়। বাস্তবতা ও বিভ্রমের মধ্যকার সীমারেখা যখন অস্পষ্ট হতে শুরু করে, তখন সেই আপেলটি মুক্তির উপায়, এক প্রলোভন ও রহস্যময় সংকেত হয়ে ওঠে।চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় করেছেন মোস্তফা মনোয়ার, জয়িতা মহলানবীশ, আবুল কালাম আজাদ ও সোহাগ মৃধা। এটি প্রযোজনা করেছেন আরিফুর রহমান, বিজন ও জসীম আহমেদ।প্রদর্শনীটি প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। চলবে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
- তদন্তের উদ্যোগে যাতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভীতি না ছড়ায় সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ।- মন্দা বাজারে গতিশীলতা ফেরাতে শর্টসেল চালুর দাবি।– মিউচুয়াল ফান্ড খাতে গতি ফেরানোর তাগিদ।শেয়ারবাজারে ডে নেটিং বা দিনে দিনে শেয়ার কেনাবেচার সুবিধা চালু হবে ডিসেম্বরের মধ্যে। এই সুবিধা চালু হলে বিনিয়োগকারীরা একই দিনে একই শেয়ার যতবার খুশি ততবার কেনাবেচা করতে পারবেন। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শেয়ারবাজারে এই সুবিধা চালু করা হবে বলে জানিয়েছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ।শেয়ারবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে করণীয় বিষয়ে ডিএসইর সদস্যভুক্ত শীর্ষ ৩০ ব্রোকারেজ হাউসের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে আজ মঙ্গলবার এক বৈঠকে এই তথ্য জানিয়েছে ডিএসই। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। এ ছাড়া বৈঠকে স্থগিত বিও হিসাবের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ভালো কোম্পানির তালিকাভুক্তি, মিউচুয়াল ফান্ড খাতে গতি ফেরানোসহ বাজার-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।গত জুলাইয়ে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ডে নেটিং সুবিধা চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। তবে বিষয়টি চূড়ান্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হয় দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষকে। বিএসইসির সিদ্ধান্তের পর ডে নেটিং সুবিধা চালুর বিষয়ে কাজ শুরু করে ডিএসই। আজকের সভায় সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, চলতি বছরের মধ্যে এই সুবিধা চালুর প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।শীর্ষ ৩০ ব্রোকারেজ হাউসের নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকে শেয়ারবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় ব্রোকারেজ হাউসের শীর্ষ নির্বাহীরা বিভিন্ন ধরনের তদন্তের নামে বাজারে যাতে ভীতি ছড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য ডিএসইর প্রতি আহ্বান জানান। বৈঠকে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ারবাজারে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার ও ব্রোকারেজ হাউসে তদন্তের উদ্যোগে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভীতি ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ব্রোকারেজ হাউসের শীর্ষ নির্বাহীদের এই অভিযোগের জবাবে ডিএসইর পক্ষ থেকে বলা হয়, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষার স্বার্থে তদন্ত জরুরি। ডিএসইর কাজের একটি বড় অংশজুড়েই আছে নানা অনিয়মের তদন্ত। ব্রোকারেজ হাউসের প্রতিনিধিরা তদন্তের বিষয়ে একমত পোষণ করেন। তবে তাঁরা বলেন, তদন্ত এমনভাবে করতে হবে, যাতে তা বাজারে সব ধরনের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভীতি না ছড়ায়। দফায় দফায় তদন্তের চিঠি দিয়ে তথ্য সংগ্রহের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে ভীতি ছড়িয়ে পড়ে।বৈঠক সূত্রে জানা যায়, একাধিক ব্রোকারেজ হাউসের শীর্ষ নির্বাহী অভিযোগ করেছেন, কয়েক বছর আগের ঘটনায়ও এখন এসে তদন্ত করা হচ্ছে। আবার একই বিষয়ে বারবার তথ্য চাওয়া হচ্ছে। ব্রোকারেজ হাউসের সেই তথ্য যাচাই–বাছাই ছাড়া নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে পাঠানো হয়। যার ফলে প্রকৃত তথ্য তাতে পাওয়া যায় না। উল্টো ভোগান্তিতে পড়তে হয় ব্রোকারেজ হাউসগুলোকে। এ কারণে বৈঠকে উপস্থিত ব্রোকারেজ হাউস প্রতিনিধিরা ডিএসইকে পরামর্শ দিয়েছেন, তথ্য সংগ্রহের পর সেই তথ্য চূড়ান্ত করার আগে এ বিষয়ে ব্রোকারেজ হাউসের ব্যাখ্যাও নেওয়া উচিত। এরপর কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করার পরই তা নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো দরকার। তবে বাজারের স্বার্থে ডিএসইর পক্ষ থেকে তদন্তের উদ্যোগ ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বৈঠকে সবাই একমত পোষণ করেন। তবে তাঁরা তদন্তের প্রক্রিয়া আরও উন্নত করার পরামর্শ দেন।এ ছাড়া বাজারে যেসব বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাবের লেনদেন স্থগিত রয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে যত দ্রুত সম্ভব সিদ্ধান্ত গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়ে ডিএসইকে প্রয়োজনে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির সঙ্গে আলোচনার পরামর্শ দেন শীর্ষ ব্রোকাররা।এ ছাড়া মন্দা বাজারেও যাতে বাজার গতিশীল থাকে, সে জন্য শর্টসেল সুবিধা চালুর দাবি জানান ব্রোকারেজ হাউসের শীর্ষ নির্বাহীরা। তাঁরা বলেন, এ ধরনের সুবিধা থাকলেও বাজারের খারাপ সময়েও শেয়ার লেনদেন বাড়বে। শর্টসেল হলো এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে পড়তি বাজারে বিনিয়োগকারীর লোকসানে থাকা শেয়ার কয়েক মাসের জন্য ধার নিতে পারে সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউস। নির্ধারিত সময় শেষে ওই শেয়ার আবার বিনিয়োগকারীকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। যে কয় মাসের জন্য শেয়ার ধার নেওয়া হয়, ওই কয় মাসের জন্য সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীকে আর্থিক সুবিধা দেয় সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউস। এ ধরনের সুবিধায় বিনিয়োগকারীর কোনো ধরনের লোকসান হয় না। নির্ধারিত সময় শেষে বিনিয়োগকারী শেয়ার ফেরত পান। তার সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের জন্য শেয়ার ধার দিয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ থাকে।ডিএসই সূত্রে জানা যায়, বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার, ডিএসই ব্রোকারস অ্যাসোসিয়েশন বা ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম, ডিএসইর পরিচালক রিচার্ড ডি রোজারিও, শীর্ষ ব্রোকারেজ হাউস লঙ্কাবাংলা সিকিউরিটিজ, সিটি ব্রোকারেজ, ব্র্যাক ইপিএল, ইউসিবি স্টক ব্রোকারেজ, ইবিএল সিকিউরিটিজ, আইডিএলসি সিকিউরিটিজ, এমটিবি সিকিউরিটিজসহ শীর্ষস্থানীয় ব্রোকারেজ হাউসের শীর্ষ ব্যক্তিরা।বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ব্রোকারেজ হাউসের শীর্ষ নির্বাহীরা বাজারের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরার পাশাপাশি কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। বাজারের যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে তদন্তকে সবাই স্বাগত জানিয়েছেন। তবে সেটি যেন বাজারে ভীতি না ছড়ায়, সে জন্য তদন্তের ক্ষেত্রে গোপনীয়তা রক্ষা এবং যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হয়। এ ছাড়া বাজারে ভালো শেয়ারের সরবরাহ বৃদ্ধি, শর্টসেল সুবিধা, ডে নেটিং, লেনদেন নিষ্পত্তির সময় কমানোসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়।