র্যাবের ক্ষমতা, জনবল, কর্তৃত্ব, সম্পদ ও প্রাতিষ্ঠানিক উত্তরাধিকার স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে পুনঃপ্রতিষ্ঠা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) ও বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। মঙ্গলবার ঢাকায় রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘র্যাব থেকে এসআরবি: কসাই বাহিনীর পুনর্বিন্যাস, গুম-খুনের নতুন বন্দোবস্ত’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এই দাবি জানিয়েছে তারা। রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম। তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর কোনো সদস্যের অন্য কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অধীনে কাজ করার কথা নয়। ক্ষমতাকাঠামোর কারণে এসব বাহিনী ক্রমাগত ভয়ংকর হয়ে ওঠে। অভ্যুত্থানের পর জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে নতুন করে জিজ্ঞাসাবাদের নামে বন্দিশালা স্থাপন করা হচ্ছে। সরকার প্রতিনিয়ত জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে জেএসডির সিনিয়র সহসভাপতি তানিয়া রব বলেন, রাষ্ট্রের নিয়মিত বাহিনী থাকার পরও যখন বিশেষ বাহিনী গঠন করা হয়, তখনই তার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ভয়ের সংস্কৃতি উপেক্ষা করে গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠার নতুন লড়াই শুরু করতে হবে।
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেন, সেনাবাহিনীর সদস্যদের পুলিশের কর্মকাণ্ডে সংযুক্ত করা হলে তা রাষ্ট্রে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। র্যাবের চেয়ে এসআরবিকে কোনো কোনো ক্ষেত্রে আরও বেশি শক্তিশালী করা হয়েছে।
সভায় ৭ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। সেগুলো হলো—
১. র্যাবের ক্ষমতা, জনবল, কর্তৃত্ব, সম্পদ ও প্রাতিষ্ঠানিক উত্তরাধিকার এসআরবি নামে পুনঃপ্রতিষ্ঠা বন্ধ করা।
২. এসআরবির নামে জবাবদিহিহীন বিশেষ বাহিনী গঠন না করা।
৩. প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে বিতর্কিত বিশেষ বাহিনীর কাঠামোতে ব্যবহার বন্ধ করা।
৪. গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন ও বেআইনি আটকের প্রতিটি অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা।
৫. ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৬’ সংশোধন করা।
৬. প্রতিটি গ্রেপ্তার, আটক ও জিজ্ঞাসাবাদ সম্পূর্ণভাবে নথিবদ্ধ ও জবাবদিহিমূলক করা।
৭. সব আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের ওপর কার্যকর বিচারিক, সংসদীয় ও বেসামরিক নজরদারি নিশ্চিত করা।
সভায় বিশেষ আলোচক ছিলেন জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, স্থায়ী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সহসভাপতি হাবিবুর রহমান রাজা প্রমুখ।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) এলাকায় দুই জায়গায় পরপর তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদের ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের সামনে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, সাংগঠনিক সম্পাদক নাসিরুদ্দিন শাওনসহ বিশ্ববিদ্যালয় ও হল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তারা ‘লীগ ধর, জেলে ভর’, ‘সন্ত্রাসীদের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না’, 'হই হই রই রই ছাত্রদল গেলি কই'সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। মিছিল শেষে সমাবেশে ঢাবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যারা সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল সেই সন্ত্রাসীদেরকে ১৮ জুলাই এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটি থেকে ছাত্র জনতা বিতাড়িত করেছে। তাদেরকে বাংলাদেশের জনগণ রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তনের সুযোগ দেবে না। শিপন বলেন, আমাদের কাছে খবর আছে এখনও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে ছাত্রলীগের কর্মীরা সুযোগ বুঝে নাম মাত্র পদত্যাগ করে হলে থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার জন্য কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। এদের বিষ দাঁত উপড়ে ফেলতে হবে। এদিকে, রাত সাড়ে ১২টার দিকে ক্যাম্পাসে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনার প্রতিবাদ ও ঘটনার তদন্তের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের সঙ্গে দেখা করেন ছাত্র সংগঠন ‘জাতীয় ছাত্রশক্তি’র নেতৃবৃন্দ। এসময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট ৩ দফা দাবি জানিয়েছে জাতীয় ছাত্রশক্তি। দাবিগুলো হলো- অবিলম্বে এই সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারী ও পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করা, নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের এখনো যেসকল কর্মী ছদ্মবেশে ক্যাম্পাসে অবস্থান করছে তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদার করে অবিলম্বে শিক্ষার্থীদের জন্য শতভাগ নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা। এর আগে, রাত সাড়ে ১০টার পর জগন্নাথ হলের মূল ফটকের বাইরে ও শহীদ মিনার আবাসিক এলাকা সংলগ্ন এলাকায় দুটি ও টিএসসি সংলগ্ন মেট্রোরেলের নিচে একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ দেবাশীস পালও বলেন, হলের দারোয়ান তাকে জানিয়েছেন, বিস্ফোরণটি হলের মূল গেটের বাইরের সড়কে ঘটেছে। ঘটনার পর হলের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছাড়া কোনো বহিরাগতকে হলে প্রবেশ করতে না দেওয়ার জন্য নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা হাউস টিউটরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারা এ ঘটনা ঘটাতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রাধ্যক্ষ বলেন, ঘটনাটি রাস্তার ওপর হওয়ায় এবং দারোয়ানরা হলের ভেতরে থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে কারা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, তা জানা সম্ভব হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ইসরাফিল রতন জানান, তারা ঘটনাটি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সহকারী প্রক্টরদের পাঠিয়েছেন। কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। আরটি/কেএইচকে
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে সরকারের কিছুটা সমন্বয়হীনতা সামনে এসেছে। গত সোমবার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি ঘোষণা করেছে ইসি। এক দিন পর গতকাল মঙ্গলবার বিষয়টি নিয়ে সরকারের দুজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি সরকারের সঙ্গে যথাযথ যোগাযোগ না করার অভিযোগ আনেন। এমনকি ইসির এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।গত সোমবার সাত ধাপে ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করে ইসি বলেছিল, এটি প্রাথমিক সিদ্ধান্ত। ১৭ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে দিন-তারিখ চূড়ান্ত করা হবে।গতকাল মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সাংবাদিকদের বলেন, ইউপি নির্বাচনের সময়সূচির বিষয়ে সরকার কিছু জানে না। এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে ইসির কোনো আলোচনাও হয়নি।প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্যের কিছু সময় পর ইসি সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ইউপি নির্বাচনের যে সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে, তা একেবারেই প্রাথমিক সময়সূচি। ১৭ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে।ইসি সূত্র জানায়, আইন অনুযায়ী স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণের এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের। এখানে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে তফসিল চূড়ান্ত করার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে রীতি হচ্ছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে ইসি ও সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠিক আলোচনা করে। চিঠি আদান-প্রদানও হয়। এবার এখনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। তবে ইসি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনগুলো নির্বাচন দেওয়ার সময় হয়েছে, কোথাও সীমানাসংক্রান্ত বা আইনি জটিলতা আছে কি না—এসব তথ্য চেয়ে গত জুলাইয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভাসংক্রান্ত তথ্য পাঠায় মন্ত্রণালয়। সিটি করপোরেশন, পৌরসভার তথ্য এখনো ইসি পায়নি।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এখন বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বক্তব্য দেওয়ায় ইসি কিছুটা অস্বস্তির মধ্যে পড়েছে। এ ছাড়া দুটি ধাপের ভোটের ঘোষিত তারিখ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে ইসি মনে করছে, তারা আইনি এখতিয়ার বলেই সম্ভাব্য সময়সূচি ঘোষণা করেছে। এখানে তাদের দিক থেকে কোনো ত্রুটি হয়নি।মীর শাহে আলম, প্রতিমন্ত্রী, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ইউপি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার বিষয়ে সরকার কিছু জানে না। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ও কিছু জানে না। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সরকারের এ বিষয়ে কোনো চিঠি-চালাচালি হয়নি। অন্য কোনো মাধ্যমে আলোচনাও হয়নিইসি প্রথম ধাপে ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপে ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপে ৩০ ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপে ১৭ জানুয়ারি এবং পঞ্চম ধাপে ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপে আগামী বছরের ২২ এপ্রিল এবং সপ্তম ধাপে ২৭ মে ভোট করার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ৩০ ডিসেম্বর বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। এই দিন ভোটের সম্ভাব্য তারিখ রাখায় বিএনপি নেতাদের কেউ কেউ অনানুষ্ঠানিকভাবে ইসির কাছে আপত্তি জানিয়েছেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। এ ছাড়া ১৩ ডিসেম্বর জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার গণিত বিষয়ে পরীক্ষা রয়েছে। পরীক্ষার সময় পরিবর্তন না করলে এদিন ভোট করা সম্ভব হবে না। কারণ, পরীক্ষার দিন ভোট হওয়ার নজির নেই।স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর দাবি ইসি আলোচনা করেনিগতকাল সকালে সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সাংবাদিকদের বলেন, ইউপি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার বিষয়ে সরকার কিছু জানে না। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ও কিছু জানে না। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সরকারের এ বিষয়ে কোনো চিঠি-চালাচালি হয়নি। অন্য কোনো মাধ্যমে আলোচনাও হয়নি।নির্বাচন কমিশন স্বাধীন, তাদের নির্বাচন করার সাংবিধানিক ক্ষমতা আছে মন্তব্য করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর তারিখ ঘোষণা করে। প্রস্তুতি সভা বা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা করা হয়। এতে বাজেটসহ বিভিন্ন বিষয় থাকে।অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান গতকাল দুপুরে সচিবালয়ে সরকারের কার্যক্রম সম্পর্কে জানাতে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে বলেন, সংবিধানে জাতীয় ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য ইসি স্বাধীন হলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সিদ্ধান্ত সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই নির্ধারিত হয়। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকারের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন কমিশন ও সরকার সমন্বয় করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য শিরোধার্য বললেন ইসি সচিবগতকাল সকালে নির্বাচন ভবনে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে, এটি নিশ্চিত। তবে নির্বাচন কবে এবং কী পদ্ধতিতে বা কোন পর্যায়ে হবে, তা নিয়ে কমিশনে দুই দিন ধরে প্রাক্-প্রস্তুতিমূলক আলোচনা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় সোমবার একটি সম্ভাব্য সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এটি একেবারেই প্রাথমিক সময়সূচি।স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘উনি (প্রতিমন্ত্রী) যেটা বলেছেন, সেটা শিরোধার্য। তবে এ বিষয়ে পাল্টা কোনো মন্তব্য করার ধৃষ্টতা আমি দেখাব না। নো কমেন্টস ফ্রম মাই সাইড।’সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, আলোচনা একটা চলমান প্রক্রিয়া। কার সঙ্গে কখন, কীভাবে আলোচনা হয়েছে, এ বিষয়ে এ মুহূর্তে বাড়তি কোনো মন্তব্য করতে তিনি রাজি নন।আখতার আহমেদ, জ্যেষ্ঠ সচিব, ইসিস্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে, এটি নিশ্চিত। তবে নির্বাচন কবে এবং কী পদ্ধতিতে বা কোন পর্যায়ে হবে, তা নিয়ে কমিশনে দুই দিন ধরে প্রাক্-প্রস্তুতিমূলক আলোচনা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় সোমবার একটি সম্ভাব্য সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এটি একেবারেই প্রাথমিক সময়সূচিএনসিপির ক্ষোভসরকারের প্রতি ইসির ‘অনুগত আচরণ এবং কমিশনের ওপর সরকারের অন্যায় হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে’ ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে এনসিপি। গতকাল এক বিবৃতিতে দলটি বলেছে, স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইসির নিজস্ব সিদ্ধান্ত ও অবস্থান থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে ‘শিরোধার্য’ মেনে ইসি সচিবের চুপসে যাওয়া প্রমাণ করে, কমিশন স্বাধীন ভূমিকা প্রয়োগ করতে পারছে না। এটি পুরোপুরি সরকারের আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। সরকারের প্রভাবে ও চাপে পড়ে নির্বাচন কমিশন একেক সময় একেক রকম কথা বলে খামখেয়ালিপনা প্রদর্শন করছে, যা নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ন্যূনতম গ্যারান্টিও ধ্বংস করে দিচ্ছে। দলটি ইসিসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নির্বাহী বিভাগের ‘অবৈধ প্রভাব বিস্তার ও অগণতান্ত্রিক হস্তক্ষেপ’ অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে।এখতিয়ার ইসিরসংবিধানে বলা আছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান করবে ইসি। এ ছাড়া সংবিধান বা অন্য কোনো আইনের দ্বারা নির্ধারিত অন্য কোনো দায়িত্ব কমিশন পালন করবে।স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন আইনে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইসিকে। যেমন ইউনিয়ন পরিষদ আইনের ২০ ধারায় বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রণীত বিধি অনুসারে ইসি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নির্বাচনের আয়োজন, পরিচালনা ও সম্পাদন করবে। কোন কোন বিষয়ে ইসি বিধান করতে পারবে, সেটাও এই ধারায় বলা আছে। সেখানে বলা হয়েছে, ভোট গ্রহণের তারিখ, সময়, স্থান ও নির্বাচন পরিচালনাসংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়ে বিধান করতে পারবে ইসি। উপজেলা পরিষদ আইনেও একই কথা বলা আছে।
বর্ষা মৌসুমে রাজধানীতে রাস্তায় খোঁড়াখুঁড়ি করা যাবে না। রাস্তা সংস্কারের সব কাজ শুষ্ক মৌসুমে শেষ করতে হবে। আগামী বছর থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে হবে। সরকার এ জন্যই অর্থবছর পরিবর্তন করেছে। এ ছাড়া ঢাকায় রাস্তা সংস্কারের আগে অবশ্যই পুলিশ প্রশাসনের অনুমতি নিতে হবে।মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়। সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সভাপতিত্ব করেন। ঢাকা মহানগরীতে চলমান ও গৃহীত মেগা প্রকল্পের নির্মাণকাজের কারণে উদ্ভূত যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।এসব সিদ্ধান্ত কতটুকু বাস্তবায়ন হচ্ছে এবং ঢাকার যানজট কতটা নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে, তা দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা ও অংশীজনদের সমন্বয়ে প্রতি ১৫ দিন পরপর সমন্বয় সভা হবে। ওই সভায় সভাপতিত্ব করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।বৈঠকে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, পুলিশের কাছে অনুমতি চাওয়ার আগেই বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা ঢাকায় রাস্তা খোঁড়াখুঁড়িসহ অন্যান্য কাজ শুরু করে। ফলে রাস্তায় দীর্ঘ যানজট দেখা দেয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, নির্মাণকাজ শুরুর আগে পুলিশের অনুমতি নিতে হবে। উন্নয়ন সংস্থা বা তাদের ঠিকাদারকে নিরাপত্তা ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থা নিতে হবে। কাজ শুরুর আগে অবশ্যই গণমাধ্যমে পর্যাপ্ত প্রচার চালাতে হবে। ট্রাফিক ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন রাখতে সাপ্তাহিক কর্মদিবসে রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কাজ করতে হবে। শুক্র ও শনিবার ২৪ ঘণ্টা নির্মাণকাজ করতে পারবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। নির্মাণ সংস্থাকে প্রতি মাসে ডিএমপির কাছে কাজের অগ্রগতি জানাতে হবে।সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে প্রতি ১৫ দিন পরপর সমন্বয় সভা হবে। তিনি আরও বলেন, ঢাকা সিটি করপোরেশন ও আশপাশের সব উন্নয়নমূলক কাজ যাতে সমন্বয় করে করা হয়, সে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এক সংস্থা কাজ শেষ করার পরপরই আরেক সংস্থা একই স্থানে যাতে আবার খোঁড়াখুঁড়ি না করে, সে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য নগরবাসীকে স্বস্তি দেওয়া, ভোগান্তি কমানো এবং জনস্বার্থে সময় ও অর্থের অপচয় রোধ করা। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির প্রবণতা প্রকট আকার ধারণ করে। একই সময়ে বিভিন্ন পরিষেবা স্থানান্তর বা অন্যান্য নির্মাণকাজ যাতে একসঙ্গে শেষ করা যায়, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।সভায় আলোচনায় অর্থবছর পরিবর্তনের বিষয়টি উঠে আসে। এতে বলা হয়, বর্তমানে অর্থবছর শুরু হয় ১ জুলাই, শেষ হয় পরের বছরের ৩০ জুন। সরকার এটি বদলে ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি করার কারণ হচ্ছে, বর্ষা মৌসুমে যাতে কাজ না হয়। জনভোগান্তি এড়াতে অর্থবছর পরিবর্তন করা হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে সব কাজ শেষ করতে হবে।বৈঠকে ঢাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণ নিয়েও আলোচনা হয়। সিদ্ধান্ত হয়, ঢাকায় সব অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে। বৈঠকে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, ব্যাটারিচালিত রিকশার চার্জিং পয়েন্ট বিচ্ছিন্ন করতে গেলে সমন্বিত বাধার মুখে পড়তে হয় তাদের। পরে তাদের ফিরে আসতে হয়। এরপর সিদ্ধান্ত হয়, দিনের বেলায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট বিচ্ছিন্ন করা হবে।অবশ্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাতারাতি কেউ বেকার হয়ে যাক, সরকার তা চায় না। তবে সড়কে শৃঙ্খলা আনা জরুরি। সে জন্য কেউ মহানগরের বাইরে যাবে, কেউ অন্য সড়কে ব্যবহার করবে—এমন কিছু কার্যক্রম হাতে নেওয়া হচ্ছে।সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নগরীতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে এবং যানজট নিরসনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর ফলে যান চলাচলে দৃশ্যমান শৃঙ্খলা আসছে এবং নগরবাসী এর সুফল পাচ্ছেন। ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে ইউটিলিটি শিফটিংয়ের কাজ পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।