৫০০ বছরের পুরোনো হস্তলিখিত তুলট কাগজের পুঁথি, আর ১৮৫১ সালে রচিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের কালজয়ী শিশুশিক্ষা গ্রন্থ ‘বোধোদয়’। আছে শিশুদের শতাব্দীপ্রাচীন পাঠ্যবই ‘আমার সাথী’ আর পাঁচ আনা মূল্যের দুষ্প্রাপ্য বাংলা পাঠ্যবই ‘মুক্তাহার’-এর মতো বইও। শুধু তা–ই নয়, সংগ্রহে আছে ১৩৫৫ সালে প্রকাশিত পাঁচ সিকা মূল্যের কাব্য সাহিত্য ‘জয়গান’।
শরিফুল ইসলামের ব্যক্তিগত এমন সংগ্রহ আগ্রহী পাঠকের নজর কাড়বে। দুষ্প্রাপ্য অসংখ্য বইয়ের পাশাপাশি সত্তরের দশকের পত্রিকা-ম্যাগাজিন ও ব্রিটিশ আমলের রেলওয়ের টিকিটসহ নানা দুর্লভ জিনিসপত্রও স্থান পেয়েছে তাঁর সংগ্রহশালায়।

শরিফের ব্যক্তি উদ্যোগে গড়া এ সংগ্রহশালা কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পশ্চিম হারুয়া এলাকার কসাইখানা সড়কের পাশে অবস্থিত। স্থানীয় লোকজন চেনেন ‘পুরোনো বুকশপ’ নামে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ব্যবহারকারীদের কাছে পরিচিত ‘ওল্ড কালেকশন’ হিসেবে। নিজের ভাড়া বাসার কাছে মাঝারি আকারের একটি দোকানঘরে এই সংগ্রহশালা গড়ে তুলেছেন শরিফ।
গত শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শরিফের পুরোনো বুকশপে ঢুকতেই চোখে পড়ে শেলফে সাজানো পুরোনো সব বই–পুস্তক আর পত্রিকা। অচেনা মলাট আর অনেক ছেঁড়া বই দেখেই বুঝা যায়, এগুলো পুরোনো সংগ্রহ। ইতিহাসের সাক্ষী ৬০-৭০ বছরের পুরোনো কিছু পত্রিকা বাঁধাই করে দেয়ালে টানিয়ে রেখেছেন শরিফ।
যেভাবে সংগ্রাহক হয়ে ওঠেন
শরিফুল ইসলামের বয়স ৩৮ বছর। তিনি নওগাঁ জেলার রানীনগর উপজেলার কাশিমপুর এলাকার বাসিন্দা। তবে ১২ বছর ধরে তিনি কিশোরগঞ্জের পশ্চিম হারুয়া এলাকায় বসবাস করে কাগজ কেনাবেচার ছোটখাটো ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। বিয়েও করেছেন কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে। স্ত্রী জেসমিন আক্তার একজন গৃহিণী। পুরোনো বই-পুস্তক আর দুর্লভ জিনিসপত্র সংগ্রহে স্ত্রীও তাঁকে উৎসাহ দিয়ে আসছেন। তাঁদের লাবিবা আক্তার ও জায়েন জিসান নামের দুটি সন্তান রয়েছে।
দুষ্প্রাপ্য বইপত্র আর পুরোনো জিনিস সংগ্রহে আগ্রহের বিষয়ে জানতে চাইলে শরিফ প্রথম আলোকে বলেন, শ্বশুরবাড়ি কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে হওয়ার কারণে সেখানে বেশ কিছুদিন বসবাস করার সুযোগ হয় তাঁর। ২০১৫ সালের শুরুর দিকে তিনি হাওরাঞ্চলের নির্দিষ্ট কিছু দোকানে একটি বিষয় লক্ষ করেন। ৪০-৫০ বছর আগের নিউজ প্রিন্টের পুরোনো পত্রিকা-ম্যাগাজিন একটু বেশি দামে বিক্রি করছেন কিছু দোকানি।
শরিফ বলেন, এটা দেখে তিনি একটু অবাক হন। তখন কৌতূহলবশত জানার চেষ্টা করেন, এগুলো যাঁরা কেনেন, সেগুলো দিয়ে তাঁরা কী করেন? খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, এই কাগজগুলো তাঁরা হাতে কেটে টুকরা টুকরা করে বিড়ি তৈরি করে হাওরাঞ্চলের কৃষক, জেলে ও শ্রমজীবী মানুষদের কাছে বিক্রি করেন। তিনি বলেন, এসব বইপত্র ও পত্রিকায় ইতিহাসের অনেক কিছু জড়িয়ে আছে। অথচ সেগুলোকে কেটে টুকরা করে বিড়ি বানিয়ে ধূমপানের প্রসার ঘটানো হচ্ছে।
শরিফ বলেন, ‘তাৎক্ষণিক আমার মাথায় আসে—আমি ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতির এমন স্মৃতি এভাবে ধ্বংস করতে দেব না। আমি এগুলো সংগ্রহ করব। সেই ভাবনা থেকে আমি নেমে পড়লাম ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাক্ষী পুরোনো সেসব বইপত্র ও পত্রিকা সংগ্রহ করার কাজে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সেই থেকেই দুর্লভ-দুষ্প্রাপ্য বইপত্রের পাশাপাশি প্রাচীন জিনিসপত্র সংগ্রহ করার আগ্রহ তৈরি হয় আমার। তখন থেকে যখন যেখানে যা পেয়েছি, তাই সংগ্রহ করে রাখার চেষ্টা করেছি।’

পুরোনো বুকশপের কিছুটা দূরেই রয়েছে একটি বড়সড় গুদামঘর। সারা দেশ থেকে পুরোনো সব বই-পুস্তক প্রথমে গুদামঘরে এনে রাখেন শরিফ। তারপর সেখান থেকে জহুরির মতো মণি-মুক্তা খুঁজে বাছাই করে পুরোনো বুকশপ তথা সংগ্রহশালায় রাখেন।
এই সংগ্রাহক বলেন, ‘বিভিন্ন এলাকার অনেক লোক নিজ উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী মূল্যবান বইসহ নানা জিনিসপত্রের জন্য আমাকে খবর দেন। সারা দেশ থেকে আমি দুষ্প্রাপ্য বইপত্র আর জিনিসপত্র সংগ্রহ করি।’
শরিফ বলেন, ‘দেশ ও দেশের বাইরে থেকে অনেক মানুষ আমার কাছ থেকে এসব জিনিসপত্র কেনেন। অনেকে আমার ফেসবুক পেজ থেকেও অনলাইনে জিনিসপত্র সংগ্রহ করেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই সংগ্রহশালার জন্য আমি আমার জীবনের শ্রম-ঘাম উৎসর্গ করে যাচ্ছি। তবে এই ভেবে ভালো লাগে যে এই সংগ্রহশালা থেকে অনেকে উপকৃত হচ্ছেন।’
এক পত্রিকা ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি
ফেসবুকে ‘ওল্ড কালেকশন’ নামে শরিফের একটি পেজ আছে। সেখানে দুষ্প্রাপ্য বইসহ দুর্লভ নানা জিনিসপত্রের ছবি দেন তিনি। এখান থেকে দেখে অনেকে সেগুলো কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেন। যে জিনিস দুটি বা বেশি থাকে, একটি রেখে সেগুলো বিক্রি করে দেন।

দুর্লভ কিছু বই অনেক বেশি দামে কিনতে চাইলেও শরিফ বিক্রি করতে চান না। তবে ১৯৭১ সালের ১৭ ডিসেম্বর প্রকাশিত ‘দৈনিক বাংলাদেশ’ পত্রিকার একটি সংস্করণ এক প্রবাসী লেখকের কাছে ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। স্বাধীনতার আগ পর্যন্ত এই পত্রিকাটি ‘দৈনিক পাকিস্তান’ নামে প্রকাশিত হতো। এ ছাড়া ১৯৭০ সালে রচিত গোয়েন্দা উপন্যাস ‘দুষ্টগ্রহ’ নামে একটি বই এক অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসীর কাছে ৪০ হাজার টাকায় তিনি বিক্রি করেন।
আছে পাম্প লাইট, পুরোনো টেলিফোন সেট
৬০ থেকে ৭০ হাজার পুরোনো বইপত্র সংগ্রহ করেছেন শরিফ। রয়েছে বহু বছর আগে হাতে লেখা বিভিন্নজনের নানা গুরুত্বপূর্ণ ও সাড়াজাগানো চিঠিও।
বইপত্র ও পত্রিকা-ম্যাগাজিন ছাড়াও আরও নানা পুরোনো জিনিসপত্র রয়েছে শরিফের সংগ্রহে। ঘরে ঢুকতেই বাঁ পাশের শেলফে সাজানো পুরোনো কম্পিউটার, টেপ রেকর্ডার, পাম্প লাইট, ব্রিটিশ আমলের ট্রাংক, পুরোনো থালাবাসন, ক্যাসেট প্লেয়ার, টেলিফোন সেট ও পুরোনো সেই সাদাকালো টেলিভিশন। এ ছাড়া রয়েছে পুরোনো অনেক ধাতব মুদ্রা।

পুরোনো বুকশফে ধুলাজমা বই দেখছিলেন কিশোরগঞ্জ গুরুদয়াল সরকারি কলেজে স্নাতকোত্তরে পড়া মোজাহিদুল ইসলাম। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। গড়ে তুলেছেন ‘কিশোরগঞ্জ ভলান্টিয়ার্স’ নামের স্থানীয় একটি সামাজিক সংগঠন।
মোজাহিদ বললেন, সময়-সুযোগ পেলেই তিনি শরিফুল ইসলামের পুরোনো বুকশপে চলে আসেন। ধুলাবালু জমা এ দোকানেও পাওয়া যেতে পারে মূল্যবান বইপত্রের সন্ধান। সে আশায় ধুলার আস্তরণ মুছে বইপত্র খুঁজে দেখছেন তিনি।
এই শিক্ষার্থী বলেন, শরিফুল ইসলামের ছোট্ট দোকানটিতে আছে অসংখ্য মূল্যবান পুরোনো বইপত্র ও পত্রিকা। এসব বইপত্র ও পত্রিকা ইতিহাসের ঘটনাপ্রবাহের দলিল ও সাক্ষী। অতীতে কোন সময় কী ঘটেছিল, তার সঠিক ইতিহাস জানতে গবেষক, লেখক, কবি-সাহিত্যিকসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সংগ্রাহকেরা শরিফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অনেকে দেশের বাইরে থেকেও অনলাইনে বই সংগ্রহ করেন।

মোজাহিদ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এখানে আসা-যাওয়ায় বুঝতে পারলাম, শরিফুল ইসলাম অনেকটা আর্থিক কষ্টে আছেন। দোকানটি রাস্তার পাশে হওয়ায় ধুলাবালুর যন্ত্রণায় ভুগছেন। এ ছাড়া তাঁর সংগ্রহ করা মূল্যবান জিনিসপত্র ঠিকমতো সংরক্ষণ করতে পারছেন না। শেলফে কাচের ব্যবস্থা করতে পারলে সেগুলো আরও সুরক্ষিত থাকত। সরকারসহ সমাজের বিত্তশালীরা সংগ্রহশালাটিকে সমৃদ্ধ করতে এগিয়ে আসবেন, এমন প্রত্যাশা এই শিক্ষার্থীর।’
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
মাগুরা জেলা কারাগারে থাকা নূর আলম মুন্সি (৫০) নামের এক সাজাপ্রাপ্ত কয়েদির মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত নূর আলম মুন্সি মাগুরা শহরের ভিটাসাইর এলাকার মৃত মুন্সি সব্দার হোসেনের ছেলে। ২০১৯ সালের একটি মাদক মামলায় (জিআর ১৯১৯/১৯, মামলা নং ৩৫১/১৯) এক বছর দুই মাসের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে গত ৮ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি মাগুরা জেলা কারাগারে সাজা ভোগ করছিলেন। মাগুরা জেলা কারাগারের জেল সুপার শেখ মো. মহিউদ্দীন হায়দার জানান, গত ১৩ সেপ্টেম্বর কারাগারে নূর আলম হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে তাৎক্ষণিকভাবে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যাম্বুলেন্সে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে সেখানেও তার শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে ঢামেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নূর আলমের পরিবার এই মৃত্যুকে ঘিরে গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেছে। নিহতের ভাই মঞ্জুরুল আলম অভিযোগ করে বলেন, ‘গত ৮ সেপ্টেম্বর আমার ভাইকে সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। ১৩ সেপ্টেম্বর তিনি অসুস্থ হলেও কারা কর্তৃপক্ষ আমাদের কিছুই জানায়নি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হঠাৎ করে তার মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘একজন সুস্থ মানুষ কারাগারে গিয়ে কয়েকদিনের মধ্যে কীভাবে মারা গেলেন, তা নিয়ে আমাদের মধ্যে তীব্র সন্দেহ রয়েছে। আমরা এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায়বিচার দাবি করছি।’ বর্তমানে নূর আলমের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। মো. মিনারুল ইসলাম জুয়েল/কেজে/এএসএম
২০২৭ সালে অনুষ্ঠেয় দাখিল ও এসএসসি পরীক্ষায় নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য ১৩টি বিষয়ে প্রশ্নপত্র হবে অভিন্ন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। দাখিল ও এসএসসি পরীক্ষায় অভিন্ন প্রশ্নপত্র হওয়া বিষয়গুলো হলো বাংলা ২য় পত্র (১০২), ইংরেজি ১ম পত্র (১০৭), ইংরেজি ২য় পত্র (১০৮), তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (১৫৪), গণিত (১০৯), বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (১৫০), পদার্থবিজ্ঞান (১৩৬), রসায়ন (১৩৭), জীববিজ্ঞান (১৩৮), উচ্চতর গণিত (১২৬), পৌরনীতি ও নাগরিকতা (১৪০), কৃষিশিক্ষা (১৩৪), গার্হস্থ্যবিজ্ঞান (১৫১)।উত্তরপত্র মূল্যায়নে এত ভুল কেন, মূল্যায়নব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্নবাংলা ১ম পত্রের পরিবর্তিত বিষয় কোড ১০১ হলেও এসএসসি ও দাখিল স্তরের সিলেবাসের ভিন্নতার কারণে ২০২৭ সালের নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য পৃথক প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা হবে। ২০২৭ সালে অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে তাদের রেজিস্ট্রেশন কার্ডে বর্ণিত বিষয় কোড বহাল থাকবে এবং তাদের জন্য আগের মতো পৃথক প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা হবে। এসএসসির খাতা ঠিকমতো না দেখা পরীক্ষকদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরব ভ্রমণ নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে মার্কিন নাগরিকদের। সৌদি-ইয়েমেন সংঘাতের কারণে দেশটিতে ভ্রমণের ক্ষেত্রে নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আন্তর্জাতিক ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইটে এ সতর্কতা জারি করা হয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, সৌদি আরবে থাকা মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা ও ব্যক্তিদের ওপর ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি রয়েছে। আরও পড়ুন মক্কার দক্ষিণে ড্রোন হামলা, সৌদির হুঁশিয়ারি একই সঙ্গে সশস্ত্র সংঘাত ও সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকি, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের স্থানীয় আইন নিয়েও সতর্ক করা হয়েছে। সৌদি আরবের কিছু এলাকায় ঝুঁকি আরও বেশি বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। তাই এসব এলাকায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিকদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। গত কয়েক দিনে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটিতে হামলার দাবি করেছে হুথিরা। পাশাপাশি, দেশটির বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। গত এক সপ্তাহে হুথিদের হামলা বেড়ে যাওয়ার পর এসব সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আরও পড়ুন পাইপলাইন বন্ধ / সৌদির তেল ফুরিয়ে যেতে পারে কয়েক দিনের মধ্যেই সম্প্রতি পবিত্র মক্কা নগরীর দক্ষিণে হুথিরা ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সৌদি আরব। তবে, ড্রোনটি দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী ধ্বংস করেছে। এ ঘটনায় পবিত্র মক্কা ও মুসল্লিদের নিরাপত্তার বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে সৌদি আরব। ইসলামি সহযোগিতা সংস্থাও (ওআইসি) এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থাটি ঘটনাটিকে গুরুতর হামলা হিসেবে বর্ণনা করে এজন্য হুথিদের দায়ী করেছে। একই সঙ্গে ৫৭টি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের এই জোট সৌদি আরবের বিরুদ্ধে চলমান হামলারও নিন্দা জানিয়েছে সংস্থাটি। আরও পড়ুন মদিনায় বিপুল ইউরেনিয়ামের সন্ধান, জানাল সৌদি আরব এদিকে, হুথিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের কিছু এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। এসব এলাকা বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছাকাছি। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে পণ্য পরিবহন হয়। হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হওয়ার পর লোহিত সাগরপথে তেল পরিবহন নিয়েও নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। প্রতিবেশী ইয়েমেনে ভ্রমণের ক্ষেত্রেও মার্কিন নাগরিকদের জন্য কঠোর সতর্কতা বহাল রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ভ্রমণ সতর্কতা এখনো ‘লেভেল ৪—ভ্রমণ করবেন না’ পর্যায়ে রয়েছে। ইয়েমেনে চলমান সংঘাত ও নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে মার্কিন নাগরিকদের সেখানে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটিতে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদেরও নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা এমডিআরএইচ/