দেশে তীব্র সার সংকট, কৃষিকাজ ব্যাহত হওয়া কিংবা ভবিষ্যতে সম্ভাব্য খাদ্য ঘাটতিসংক্রান্ত যেসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী শরিফুল আলম। তিনি জানান, সরকার কৃষকদের নিরবচ্ছিন্ন সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত উৎপাদন, আমদানি ও নিরাপদ মজুত বজায় রেখেছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ৬৮ বিধিতে উত্থাপিত এক জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের জবাবে শিল্প মন্ত্রণালয়ের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
সংসদ সদস্য মো. নাজিবুর রহমান দেশের বিভিন্ন স্থানে সার সংকট ও সম্ভাব্য খাদ্য সংকটের বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করলে তার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিমন্ত্রী ব্যাখ্যা দেন।
তিনি জানান, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) সার উৎপাদন, আমদানি, পরিবহন ও মজুত নিশ্চিত করে কৃষি মন্ত্রণালয়ের চাহিদা অনুযায়ী ডিলারদের মাধ্যমে কৃষকদের মধ্যে তা সরবরাহ করে থাকে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশে এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৮ হাজার ৭৯৯ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদিত হয়েছে এবং ১ লাখ ১৭ হাজার ৮৯৯ মেট্রিক টন সার আমদানি করা হয়েছে। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ৫ লাখ ৩০ হাজার ৯২৫ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার বিতরণ করা হয়েছে এবং বর্তমানে ৪ লাখ ৯ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার নিরাপদে মজুত রয়েছে। আসন্ন পিক ও মিনি পিক সিজনে কৃষকদের সার সংকট যেন না হয়, সে লক্ষ্যে সার কারখানাগুলোর উৎপাদন ও বিদেশ থেকে আমদানি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
দেশের সার কারখানাগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিসিআইসির নিয়ন্ত্রণাধীন সাতটি সার কারখানার মধ্যে পাঁচটি ইউরিয়া, একটি টিএসপি ও একটি ডিএপি সার কারখানা রয়েছে। বর্তমানে ঘোড়াশাল পলাশ ফার্টিলাইজার এবং সিলেটের শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানিতে উৎপাদন স্বাভাবিক রয়েছে। এর পাশাপাশি চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডে গ্যাস সরবরাহ পাওয়ায় এটি পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং শিগগিরই পুরোদমে উৎপাদন শুরু হবে। তবে কাঁচামাল ও গ্যাস সরবরাহের জটিলতায় যমুনা ফার্টিলাইজার, ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানি এবং টিএসপি ও ডিএপি সার কারখানার উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। সামনের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে যথাক্রমে আরও ৮৮ হাজার ও ১ লাখ ১৩ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিগত অর্থবছরের চিত্র তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে ১১ লাখ ৬১ হাজার মেট্রিক টনের বেশি ইউরিয়া, ৬৮ হাজার মেট্রিক টনের বেশি টিএসপি এবং ৮২ হাজার মেট্রিক টনের বেশি ডিএপি সার উৎপাদিত হয়েছে। এছাড়া উক্ত অর্থবছরে ১৪ লাখ ৭ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানি করা হয় এবং সারাদেশে ২৫ লাখ ৯৫ হাজার মেট্রিক টনেরও বেশি ইউরিয়া সার বিতরণ করা হয়েছে। ফলে বিদ্যমান তথ্য-উপাত্ত স্পষ্ট প্রমাণ করে যে সার নিয়ে উদ্বেগের কোনো ভিত্তি নেই এবং এটি নিয়ে কৃষকদের মধ্যে ভীতি ছড়ানোর সুযোগ নেই। সংসদ সদস্যরা বিরোধীদল হিসেবে যে গঠনমূলক পরামর্শ দিয়েছেন তাকে সরকার স্বাগত জানায় এবং প্রান্তিক মানুষের কল্যাণে সরকার বিরোধীদের মতামত শুনে সংসদকে প্রাণবন্ত রাখতে চায়।
কৃষি ব্যবস্থাপনা ও গ্রামীণ অর্থনীতির টেকসই উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যেমন খাল কাটা কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষি বিপ্লব ঘটিয়ে গ্রামীণ অর্থনীতি স্বাবলম্বী করেছিলেন, ঠিক তেমনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার খাল কাটা কর্মসূচি, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, সামাজিক ও ধর্মীয় ভাতা প্রদান এবং কৃষি ঋণ মওকুফের মাধ্যমে কৃষি খাতকে সমৃদ্ধ করার কাজ করে যাচ্ছে।
বিরোধীদলের সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সার কমিটিতে স্থানীয় এমপিদের উপদেষ্টা করার কোনো বাস্তবসম্মত প্রয়োজন নেই। কারণ এটি একটি স্বতন্ত্র প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট কমিটির মাধ্যমে তা যথাযথভাবে পরিচালিত হওয়া উচিত।
মাঠ পর্যায়ে সারের কৃত্রিম সংকট ও ডিলারদের অব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী স্বীকার করেন, বিগত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদের আমলে নিয়ন্ত্রিত যেসব ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, তারা এখনো বহাল থাকার কারণে কিছু প্রশাসনিক ত্রুটি দেখা দিচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে কৃষি মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে ডিলারশিপ বাতিলের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং নতুন সার ডিলার নিয়োগের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে সার্কুলার জারি করেছে। অবৈধভাবে সার মজুত, পাচার কিংবা দুই নম্বরি রুখতে মাঠে সরকারের মনিটরিং ব্যবস্থা অত্যন্ত সক্রিয় রয়েছে। সারাদেশে অভিযান চালিয়ে অবৈধ সার জব্দ করা হচ্ছে, গোডাউন সিলগালা করা হচ্ছে এবং জড়িতদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। সীমান্ত দিয়ে সার পাচারের চেষ্টা প্রমাণ করে যে বাংলাদেশে সারের দাম প্রতিবেশীর তুলনায় কম। সমন্বিত ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এসব ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটি দূর করে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার দেশে পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিপ্লব ঘটাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
এমওএস/একিউএফ
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষকদের যেমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে, তেমনি শিক্ষার্থীদেরও কঠোর পরিশ্রম করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ কে এম ফজলুল হক মিলন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌর এলাকার ভাদার্ত্তী গ্রামে ঐতিহ্যবাহী মসলিন কটন মিলস উচ্চ বিদ্যালয়ের চারতলা অ্যাকাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। ফজলুল হক মিলন বলেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ হলেও শুধু নতুন ভবন, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা কিংবা দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা দিয়ে শিক্ষার মান নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীদের ভালোভাবে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের আন্তরিকতা, দায়িত্বশীলতা ও যথাযথ পাঠদান যেমন প্রয়োজন, তেমনি শিক্ষার্থীদেরও নিয়মিত পড়াশোনা ও কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। শুধু পাঠ্যবইয়ের পড়াশোনার মধ্যে শিক্ষার্থীদের সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি তাদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি খেলাধুলায়ও সম্পৃক্ত হতে হবে। এতে শিক্ষার্থীরা মাদকসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার সুযোগ পাবে। স্থানীয় কর্মসংস্থানের বিষয়ে তিনি বলেন, কালীগঞ্জের বিভিন্ন শিল্পকারখানা ও প্রতিষ্ঠানে যোগ্যতার ভিত্তিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ দিতে হবে। স্থানীয় বেকারদের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজে যুক্ত করা গেলে এলাকার বেকারত্বের সমস্যা অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম কামরুল ইসলাম, বিএনপি নেতা হুমায়ুন কবির মাস্টার, খালেকুজ্জামান বাবলু, মোহাম্মদ হোসেন আরমান মাস্টার, আলমগীর হোসেন স্বপন ও ইব্রাহিম প্রধান। এ সময় মসলিন কটন মিলস উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাপস কুমার দাস, সহকারী প্রধান শিক্ষক বিল্লাল হোসেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ স্থানীয় বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। মসলিন কটন মিলস উচ্চ বিদ্যালয়ের চারতলা অ্যাকাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর এ কে এম ফজলুল হক মিলন পর্যায়ক্রমে কালীগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, যুগলী উচ্চ বিদ্যালয়, জামালপুর রাজমোহন বিদ্যাপীঠ ও চুপাইর বালিকা বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন করেন। পরে উপজেলার বক্তারপুরের ফুলদী এলাকায় বেলাই বিলে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন তিনি। আব্দুর রহমান আরমান/এসজেডএইচ/এএসএম
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সাবেক স্ত্রী ও ব্রিটিশ চলচ্চিত্র প্রযোজক জেমিমা গোল্ডস্মিথ দ্বিতীয়বার বিয়ে করেছেন। ৫২ বছর বয়সী জেমিমার বর ৬২ বছর বয়সী আইরিশ-অস্ট্রেলিয়ান প্রযোজক ক্যামেরন ও’রেইলি। বিস্তারিত ভিডিওতে…
কুমিল্লার নাঙ্গলকোট ও মনোহরগঞ্জে পৃথক দুটি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ‘সিরিয়াল কিলার’ হিসেবে পরিচিত আব্দুল ওয়াদুদ ওরফে মানিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় কুমিল্লা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান। গ্রেফতার মানিক জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলার নাথেরপেটুয়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি তিনজনকে হত্যা করেছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, শনিবার (১২ আগস্ট) নাঙ্গলকোট থানার আটিয়াবাড়ি এলাকায় একটি অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত করে জানা যায়, নিহত ব্যক্তির নাম মো. মেহেদী। তার বয়স ১৮ বছর। পেশায় তিনি অটোরিকশাচালক ছিলেন। এ ঘটনায় তদন্তে নামে নাঙ্গলকোট থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আব্দুল ওয়াদুদ ওরফে মানিক, শাহেদ, ফাহিম ও সেলিমকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা মেহেদীকে হত্যা ও তার অটোরিকশা ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় মানিক আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আরও পড়ুন ধর্ষণের পর তরুণীকে হত্যা, প্রেমিকসহ দুজনের মৃত্যুদণ্ড পুলিশ আরও জানায়, গত ২৪ আগস্ট নাঙ্গলকোটে অটোরিকশাচালক আরমান হোসেন (১৫) নিখোঁজ হন। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পরে একটি অটোরিকশা কাটা অবস্থায় উদ্ধার এবং জোবায়ের হোসেন সুজন, নুর আলম ও গিয়াস উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের দাবি, গ্রেফতারদের জিজ্ঞাসাবাদে আরমানকে অপহরণ করে হত্যার তথ্য পাওয়া যায়। পরে মানিককে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনিও আরমানকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মনোহরগঞ্জ উপজেলার বিনয়ঘর এলাকার একটি পুকুর থেকে আরমানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দুই হত্যাকাণ্ডের পেছনেই অটোরিকশা ছিনতাই মূল উদ্দেশ্য ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। মানিক অটোরিকশাচালকদের টার্গেট করে হত্যা ও অটোরিকশা ছিনতাই করতেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে শাহজাহান ওরফে সাইমন (১৭) নামের এক কিশোরকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন মানিক। এ ঘটনায় করা মামলাটি আদালতে বিচারাধীন। জাহিদ পাটোয়ারী/এসআর/জেআইএম