রংপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ও নিহত ৬৪ জনের পরিবারকে দুই কোটি ১৬ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসন কার্যালয় মিলনায়তনে এ আর্থিক সহায়তা করেন জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান।
এতে রংপুর জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩০ জনের পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা করে মোট দেড় কোটি, গুরুতর আহত ১৮ জনকে এক লাখ টাকা করে মোট ১৮ লাখ এবং সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি এমন ১৬ জন ভুক্তভোগীকে তিন লাখ করে মোট ৪৮ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়।
বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি-বিআরটিএ, রংপুর অফিসের সহকারী পরিচালক শফিকুল আলম সরকার বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ও নিহতদের পরিবারের করা আর্থিক সহায়তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিআরটিএ নিয়মিত আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করছে। যাদের আজ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হলো তাদের বেশিরভাগই পরিবারের প্রধান উপার্জনকারীই সড়ক দুর্ঘটনার শিকার। অনেকের স্বামী সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বা শরীরের কোনো অঙ্গ হারিয়ে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছেন। তাদের পরিবারের এখন করুণ অবস্থা। সেই পরিবারগুলোকে এই আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে যাতে করে তারা এটিকে মূলধন হিসেবে ব্যবহার করে পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে পারেন।
জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান বলেন, একটি পরিবারের যখন কেউ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়ে যায় বা আহত হয়, সেই ক্ষতিটি কোনোভাবে পূরণ করা সম্ভব নয়। তবুও সরকারের মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে নেওয়া উদ্যোগের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে স্বাবলম্বী গড়ে তুলতে এ অর্থ দেওয়া হয়েছে। সরকার প্রত্যাশা করে এই আর্থিক সহায়তা দিয়ে প্রতিটি পরিবার বিনিয়োগ বা ব্যাবসায়িক উদ্যোগ গ্রহণের মধ্য দিয়ে স্বাবলম্বী হবে।
জিতু কবীর/এনএইচআর
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
টানা দরপতনের পর মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দেশের শেয়ারবাজারে বড় উত্থান হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার পাশাপাশি মূল্যসূচকের বড় উত্থান হয়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ। এর আগে টানা দরপতনের প্রেক্ষিতে সোমবার ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স সাড়ে তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে যায়। এ পরিস্থিতিতে ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিলে। লেনদেনের শুরুতে দেখা দেওয়া এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লেনদেনের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। ফলে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বাড়ার পাশাপাশি মূল্যসূচকের বড় উত্থান দিয়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসই সব খাত মিলে ৩৩৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে ২১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। আর ৩৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১৭১টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১০টির দাম কমেছে এবং ২০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৭৪টি কোম্পানিরই শেয়ার দাম বেড়েছে। বি গ্রুপের কোন কোম্পানির শেয়ার দাম কমেনি। বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৯১টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১১টির এবং ১৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর ১৬টি মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বাড়ার বিপরীতে ২টির দাম কমেছে এবং ১৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আরও পড়ুন আরও তলানিতে শেয়ারবাজার, দরপতন চলছেই দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৯৩ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৪৭২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ২৪ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৮৭ পয়েন্টে উঠে এসেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৬ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৯৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে। মূল্যসূচক বাড়ার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৫০৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪৮৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ১৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে আইপিডিসি ফাইন্যান্সের শেয়ার। কোম্পানিটির ১৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৯ কোটি ২৫ লাখ টাকার। ১৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ইস্টার্ন ব্যাংক। এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, এনভয় টেক্সটাইল, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স, সায়হাম টেক্সটাইল, মার্কেন্টাইল ইন্স্যুরেন্স, মালেক স্পিনিং এবং প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল। অন্য শেয়ারবাজার সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৮১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০৫টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৬১টির দাম কমেছে এবং ১৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৪৪ পয়েন্ট। লেনদেন হয়েছে ১৯ কোটি ২০ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ২১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এমএএস/এমআইএইচএস
রাজশাহীতে পদ্মা নদীর পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে। তবে এখনো কাটেনি সংকট। পদ্মার দক্ষিণ তীরের চরখিদিরপুর, খানপুরসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলের মানুষ এখনো পানিবন্দি রয়েছেন। ফলে নদীর পানির উচ্চতা কিছুটা কমলেও কমেনি মানুষের দুর্ভোগ। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টায় রাজশাহী পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানির উচ্চতা ১৭ দশমিক ২৫ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। যা বিপৎসীমা ১৮ দশমিক ০৫ মিটারের চেয়ে ৮০ সেন্টিমিটার নিচে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের মিটারগেজ রিডার এনামুল হক। তিনি জানান, পদ্মার পানি বর্তমানে কমতির দিকে রয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজশাহী পয়েন্টে পানির উচ্চতা ১৭ দশমিক ২৮ মিটার এবং বিকেলে ১৭ দশমিক ২৭ মিটার রেকর্ড করা হয়। মঙ্গলবার বেলা ১২টায় তা কমে ১৭ দশমিক ২৫ মিটারে দাঁড়িয়েছে। এনামুল হক বলেন, ‘রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধ নিয়ে বর্তমানে কোনো ঝুঁকি নেই। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বাঁধের কোনো স্থানে ঝুঁকি দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এদিকে পদ্মার পানি কমতে শুরু করলেও কমেনি মানুষের দুর্ভোগ। রাজশাহী শহরের বিপরীত পাশে ভারত সীমান্তঘেঁষা চরখিদিরপুর ও খানপুরের বেশিরভাগ এলাকা এখনো প্লাবিত রয়েছে। এসব এলাকার অনেক বাসিন্দা পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এছাড়া তালাইমারী এলাকা থেকে শুরু করে বাঁধসংলগ্ন বিভিন্ন এলাকার মানুষও পানির কারণে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। প্লাবিত এলাকাগুলোতে বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে। রাজশাহীর তালাইমারী এলাকার বাসিন্দা আরিফুর রহমান বলেন, ‘গতকালের তুলনায় আজ পানি কিছুটা কমেছে। তবে এখনো আমাদের বাড়িঘর পানির মধ্যে রয়েছে। গবাদিপশুগুলোও এখনো লোকালয়ে রয়েছে। পুরোপুরি পানি কমার অপেক্ষায় আছি আমরা।’ মনির হোসেন মাহিন/কেজে/জেআইএম
বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরিচালিত ডিপ্লোমা–ইন–টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষাক্রমের তৃতীয়, চতুর্থ, ষষ্ঠ ও অষ্টম পর্বের শিক্ষার্থীদের পুনর্ভর্তি কার্যক্রমসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। গতকাল সোমবার বোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি–বেসরকারি সব টেক্সটাইল প্রতিষ্ঠানের জন্য এই নির্দেশনা জারি করা হয়। প্রবিধান ২০১০ ও ২০২২ অনুযায়ী, পুনর্ভর্তি হতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে হবে। প্রতিষ্ঠানগুলো প্রাপ্ত আবেদন যাচাই–বাছাই করে ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বোর্ডের নির্ধারিত অনলাইন লিংকে ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে তথ্য পাঠাতে পারবে। এরপর আগামী ১ থেকে ১২ নভেম্বরের মধ্যে বোর্ডের অনুকূলে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে ব্যাংক ড্রাফট বা পে–অর্ডারসহ প্রিন্ট কপি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে।স্ট্যানফোর্ডে পড়াশোনার সুযোগ অনলাইনে, নেই টিউশন ফি, যাঁরা আবেদনের যোগ্যআবেদনের শর্তাবলি ও ফি পুনর্ভর্তির ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন কার্ড, সর্বশেষ পর্বের পরীক্ষার প্রবেশপত্র, নম্বরপত্র ও ফলাফলের সত্যায়িত কপি সংযুক্ত করতে হবে। আবেদনকারীদের জন্য শিক্ষার্থীপ্রতি ২০০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে একটি ব্যাংক ড্রাফটে ‘সচিব, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড’–এর অনুকূলে জমা দিতে হবে। শিক্ষার্থী মূল প্রবিধান অনুযায়ী পুনর্ভর্তির যোগ্য না হলে অনলাইন ডেটা পাঠানো হলেও তা বাতিল বলে গণ্য হবে।