দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক পেজ, আইডি ও চ্যানেল থেকে এই জাল বিক্রি করা হচ্ছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দোকানেও এগুলো কিনতে পাওয়া যায়।
মৎস্য অধিদপ্তরের একটি প্রচারপত্রে বলা হয়েছে, দেশি প্রজাতির মাছ ও জলজ জীববৈচিত্র্য দেশের অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদ, যা খাদ্যনিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল ব্যবহারে মাছ, পোনা ও অন্যান্য জলজ প্রাণী নির্বিচার ধ্বংস হচ্ছে।
চায়না দুয়ারি জাল মাছ ধরার বিশেষ ফাঁদ। এর দুই পাশে দুয়ার বা প্রবেশপথ রয়েছে। যেখান দিয়ে মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণী প্রবেশ করে, কিন্তু বের হতে পারে না। এটি চায়না রিং জাল নামেও পরিচিত। কয়েক হাত থেকে শত হাত লম্বা এই জালে একটু পরপর রিং বসানো থাকে।
মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইনে ‘চায়না দুয়ারি জাল’ শব্দবন্ধের উল্লেখ নেই। তবে আইনে বলা আছে, ‘ফিক্সড ইঞ্জিন’ স্থাপন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ বা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। আইন অনুযায়ী ‘ফিক্সড ইঞ্জিন’ হলো মাছ ধরার জন্য মাটিতে গেঁথে বা অন্য কোনো উপায়ে স্থিরীকৃত কোনো জাল, খাঁচা, ফাঁদ বা অন্য কোনো কৌশল।
চায়না দুয়ারি জাল ফিক্সড ইঞ্জিনের আওতায় পড়ে এবং এটি অবৈধ বলে জানান মৎস্য অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ মৎস্য বিভাগের পরিচালক মোতালেব হোসেন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, এভাবে চলতে থাকলে খাল–বিল, নদী–নালা, হাওর–বাঁওড়ে একসময় মাছ পাওয়া যাবে না। মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী রক্ষায় এই জাল অবৈধ করা হয়েছে।
ফেসবুক ও ইউটিউবে বিজ্ঞাপন দিয়ে চায়না দুয়ারি জাল বিক্রি করা হয়ে থাকে। কিছু ভিডিও বিজ্ঞাপনে রিং লাগিয়ে মাছ ধরার উপযোগী চায়না দুয়ারি জাল দেখানো হয়। আবার কিছু ভিডিও বিজ্ঞাপনে জাল তৈরির কারখানা দেখানো হয়। তবে কারখানা কোথায়, তা ভিডিওতে উল্লেখ করা হয় না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কারখানার মালিক নিজের মুখ দেখান না। এসব ভিডিওতে ফোন নম্বর, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইমো নম্বর দেওয়া থাকে। কেউ এসব নম্বরে যোগাযোগ করলে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে তারা এই জাল সরবরাহ করে থাকে। টাকার লেনদেন বিকাশ কিংবা রকেটের মাধ্যমে হয়।
‘চাইনা রিং জাল পাকাড়ি বাজার’ নামের একটি ফেসবুক পেজে চায়না দুয়ারি জাল বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে। চলতি বছরের জুলাই থেকে আগস্ট পর্যন্ত ১৪টি ছবি, ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে। কারখানার ঠিকানা পেজে পাওয়া যায় না।
বিভিন্ন পোস্টে ২৫ হাত থেকে ১০২ হাত লম্বা চায়না দুয়ারি জালের দাম ১ হাজার ১০০ টাকা থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
‘চায়না রিং জাল’ নামেই অনেকগুলো পেজ রয়েছে। এ ছাড়া বিডি ফিশিং গিয়ার্স, চায়না রিং জাল কালেকশন, চায়না রিং জাল বিক্রয় বাজার, চায়না রিং জাল বাজার, চায়না রিং জাল অনলাইন শপ, চায়না রিং জাল পাইকারি বাজার, চায়না রিং জাল হাউজ, চায়না রিং জাল পাইকারি সেল বাজার নামেও পেজ আছে।
ইউটিউবেও এই জাল বিক্রি করা হচ্ছে। চায়না রিং জাল নামে একটি ইউটিউব চ্যানেলে বেশ কয়েকটি ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে। এসব ভিডিওতে দেখা যায়, কারখানায় চায়না দুয়ারি জাল প্রস্তুত করা হচ্ছে। হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো ও ফোন নম্বর দেওয়া হচ্ছে। দামও উল্লেখ করা আছে।
ঢাকার বাজারেও এই জাল পাওয়া যায়। ৫ সেপ্টেম্বর পুরান ঢাকার চকবাজারে একজন দোকানদার জানান, তাঁর কাছে চায়না দুয়ারি জাল আছে। তিনি কেরানীগঞ্জের জিঞ্জিরা থেকে জাল এনে বিক্রি করেন বলে জানান।
অবৈধ এই জালের বিক্রি ও ব্যবহার ঠেকাতে মৎস্য অধিদপ্তর কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। জানতে চাইলে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. খালেদ কনক প্রথম আলোকে বলেন, চায়না জাল তৈরির উপকরণ (জাল ও রিং) সহজলভ্য। তা ছাড়া অধিদপ্তরের জনবলসংকট রয়েছে। তাঁদের একার পক্ষে এটা নিয়ন্ত্রণ করা কষ্টকর। পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় প্রতিদিন অভিযান চলছে।
মৎস্য অধিদপ্তর গত ১৩ এপ্রিল দেশের সব বিভাগের মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালকদের চিঠি দিয়ে অভিযান বা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা বাড়িয়ে অবৈধ চায়না দুয়ারি জালের উৎপাদন ও ব্যবহার বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে। এরপর কিংবা চলতি বছর অধিদপ্তর কত অভিযান বা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে, তার তথ্য নেই অধিদপ্তরে। অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ মৎস্য বিভাগের পরিচালক মোতালেব হোসেন অবশ্য দাবি করেন, তাঁরা ব্যাপকভাবে চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করছেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কয়েকটি কারখানার বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছেন।
২০২০–২১ সাল থেকে দেশে এই প্রযুক্তি ব্যাপকভাবে ব্যবহার হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ টেকনোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মো. শহীদ রেজা। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, মাছ থেকে শুরু করে সাপ, ব্যাঙসহ সব ধরনের জলজ প্রাণী আটকে পড়ে চায়না দুয়ারি জালে। এ কারণে সরকার বাধ্য হয়ে এই জাল নিষিদ্ধ করে। এটি কার্যকর করতে অভিযান আরও জোরদার করতে হবে। প্রয়োজনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি এর বিরুদ্ধে প্রচারও চালাতে হবে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ডের রায়ে ‘শুকরিয়া আদায়’ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেল এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। সাত আসামির সবাই পলাতক। রায় ঘোষণার পর সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, অধিকাংশ অভিযোগ আসামিদের বিরুদ্ধে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দিয়েছেন। আমরা এই রায়ে শুকরিয়া আদায় করছি। আরও পড়ুন কাদেরসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড: সাত আসামির কার কী অপরাধ মামলায় সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি পাঁচ আসামির ৫০ শতাংশ সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এ মামলায় প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে চারটি করে অভিযোগ ছিল। অধিকাংশ অভিযোগই আসামিদের বিরুদ্ধে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, আসামিদের নির্মম কর্মকাণ্ডের কারণে সারাদেশে প্রায় ১ হাজার ৪০০ ছাত্র-জনতা শহীদ হয়েছেন এবং প্রায় ২৫ হাজার মানুষ পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। পলাতক সাত আসামির বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। তবে তারা যেহেতু এখন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, তাদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হলে দ্রুত গ্রেফতার করে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মামলাটিতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এম এইচ তামিম। অন্যদিকে আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে ছিলেন এম হাসান ইমাম ও ইশরাত জাহান। এফএইচ/এমকেআর
‘নোয়াখালী সরকারি হাসপাতালে টাকা না দেওয়ায় এক মাকে চিকিৎসাসেবা না দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরে পেটের ব্যথায় রাস্তায় সন্তান প্রসব করতে বাধ্য হয়েছেন তিনি’—এমন দাবিতে দুটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ছবিগুলোকে বাংলাদেশের নোয়াখালীর ঘটনা হিসেবে প্রচার করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগও তোলা হচ্ছে।তবে যাচাইয়ে দেখা গেছে, ছবি দুটি নোয়াখালীর কোনো ঘটনার নয়। ঘটনাটি নেপালের সপ্তরী জেলার রাজবিরাজের। ১০ সেপ্টেম্বর সেখানে গজেন্দ্র নারায়ণ সিংহ হাসপাতালের বাইরে ফুটপাতে এক নারী সন্তান প্রসব করেন।নোয়াখালীর ঘটনা দাবি করে ছড়ায় ছবি ভাইরাল দুটি ছবির একটিতে দেখা যায়, এক গর্ভবতী নারী ফুটপাত দিয়ে হেঁটে আসছেন। অন্য ছবিতে ফুটপাতে পড়ে থাকা এক নারীর দিকে একজন নারী ও একজন পুরুষকে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়।৫৪ হাজারের বেশি ফলোয়ার থাকা ‘মানিক চৌধুরী’ নামের একটি ফেসবুক প্রোফাইল থেকে ছবিগুলো নোয়াখালীর ঘটনা হিসেবে প্রচার করা হয়। পোস্টের ক্যাপশনে লেখা হয়, ‘নোয়াখালী সরকারি হাসপাতাল থেকে একজন মাকে টাকা না দেওয়ার কারণে চিকিৎসাসেবা না দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত পেটের ব্যথায় রাস্তায় বাচ্চা জন্ম দিতে বাধ্য হয়েছেন—এটি শুধু একটি পরিবারের দুঃখ নয়, আমাদের স্বাস্থ্যসেবার মানহীনতা এবং মানবতার ওপর একটি গুরুতর প্রশ্ন!’প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পোস্টটিতে ১৫ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া, ১ হাজারের বেশি মন্তব্য এবং ২ হাজার শেয়ার হয়েছে।ছবি ও ক্যাপশনে ঘটনাটিকে নোয়াখালীর ঘটনা ধরে নিয়ে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সাইফুল আলম নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, ‘মানবিকতা কোথায়? হাসপাতালে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কোথায়? চরম পর্যায়, মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে, এর জবাব কে দেবে?’হুমায়ন কবীর সেলিম নামের আরেকজন লেখেন, ‘ভাই এই দেশে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কোনো দাম নেই। এই দেশে মানবতা বলতে কিছুই নাই।’নোয়াখালীর ঘটনা ধরে নিয়ে পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শুধু ফেসবুকেই ৫০টির বেশি পেজ ও প্রোফাইল থেকে ঘটনাটিকে বাংলাদেশের ঘটনা হিসেবে প্রচার করতে দেখা গেছে।ঘটনাটি আসলে কোথাকার ছড়িয়ে পড়া দাবিটি যাচাই করতে প্রথমে ভাইরাল দুটি ছবির রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। যাচাইয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিগুলোর হুবহু পাওয়া যায়।ছবি দুটি পোস্ট করে লেখা রয়েছে ‘ফি নিয়ে বিরোধের পর নেপালের হাসপাতালের বাইরে ফুটপাতে সন্তান প্রসব নারীর’। সেখানে বলা হয়েছে, নেপালের রাজবিরাজে নির্ধারিত পরীক্ষার খরচ জোগাতে পরিবারের হিমশিম খাওয়ার পর এক নারী হাসপাতালের বাইরে ফুটপাতে সন্তান প্রসব করেছেন।ইনস্টাগ্রাম, এক্স ও ফেসবুকেও একই ছবি পাওয়া যায়। এসব পোস্টের বর্ণনায় ঘটনাটিকে নেপালের সাম্প্রতিক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।কোলাজ: প্রথম আলো গ্রাফিকসপাশাপাশি প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড দিয়ে অনুসন্ধানেও ভাইরাল ছবিগুলো সম্পর্কে নেপালের একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন পাওয়া যায়।প্রথম লিংক, দ্বিতীয় লিংক, তৃতীয় লিংকএর মধ্যে কাঠমান্ডু পোস্টে ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায় এই শিরোনামে ‘রক্ত পরীক্ষার টাকা জোগাড় করতে না পেরে হাসপাতালের বাইরে সন্তান প্রসব’।প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী,৩ ০ বছর বয়সী ববিতা কুমারী পাসওয়ান ৯ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে প্রসবব্যথা নিয়ে গজেন্দ্র নারায়ণ সিংহ হাসপাতালে যান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্বামী হরেরাম পাসওয়ান ও এক প্রতিবেশী।হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ববিতার রক্ত পরীক্ষা করানোর জন্য একটি স্লিপ দেওয়া হয়। তাঁর স্বামী হরেরামের দাবি, পরীক্ষাগুলোর জন্য প্রায় ৩ হাজার ২০০ নেপালি রুপি প্রয়োজন বলে জানানো হয়েছিল। কিন্তু তাঁর কাছে ছিল মাত্র ২ হাজার রুপি। আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের কাছ থেকে বাকি টাকা জোগাড়ের চেষ্টা করেও তিনি সফল হননি।এরপর রাত দুইটার দিকে দম্পতি হাসপাতালের বাইরে অপেক্ষা করতে থাকেন। ভোর সাড়ে চারটার দিকে ববিতার প্রসবব্যথা তীব্র হলে কয়েকজন নারী তাঁকে সহযোগিতা করেন। পরে রাস্তার পাশের নালার ওপর ফুটপাতে তিনি ছেলেসন্তানের জন্ম দেন। ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর হাসপাতালে নেওয়া হয় মা-শিশুকেফুটপাতে সন্তান প্রসবের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ববিতা ও তাঁর নবজাতককে অ্যাম্বুলেন্সে করে আবার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, সেখানে তাঁদের বিনা মূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা দেওয়া হয়।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, মা ও নবজাতক দুজনের অবস্থাই স্বাভাবিক ছিল।ঘটনাটি নিয়ে তদন্তও শুরু হয়েছে। নেপালের স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় এবং নেপাল মেডিক্যাল কাউন্সিল পৃথক তদন্ত দল পাঠিয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ঘটনার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেওয়া তিন মাসব্যাপী কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী। প্রধানমন্ত্রীর কর্মী হয়ে আমিও কাজে বিশ্বাসী।’ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নগর ভবনের সিটি হল সভাকক্ষে ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাসিক প্রশাসক বলেন, ‘নগরবাসীকে ডেঙ্গুর ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখতে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।’ মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, ‘নগরবাসীর সহযোগিতায় আমরা একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও ডেঙ্গুমুক্ত রাজশাহী নগরী গড়ে তুলতে চাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিয়মিত জনসচেতনতা সৃষ্টি, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মশকনিধন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খোসা কিংবা অন্যান্য পাত্রে পানি জমতে না দিলে এডিস মশার প্রজননস্থল অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।’ রাসিক প্রশাসক নগরবাসীর প্রতি সপ্তাহে অন্তত একদিন নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আঙিনা পরিষ্কার করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘সবাই নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আঙিনা পরিষ্কার করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।’ তিনি আরও বলেন, ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি হিসেবে রাজশাহীর যে সুনাম রয়েছে, তা অক্ষুণ্ন রাখতে চাই। রাজশাহী মহানগরীকে নতুনভাবে ঢেলে সাজাতে চাই।’ নগরীকে আরও সবুজ করতে ইতোমধ্যে দুই লাখ ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি গাছের চারা রোপণ করা সম্ভব হবে।’ রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, কীটতত্ত্ববিদ, স্বাস্থ্যকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার ডা. মোফাখখারুল ইসলাম বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে। বাসাবাড়িতে সপ্তাহে একদিন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে দুদিন বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন।’ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আজিজুল হক আজাদ বলেন, ‘রাজশাহীতে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আলাদা ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত জ্বর, যা এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। দিনে বা রাতে যে কোনো সময় ডেঙ্গুবাহী এডিস মশার কামড়ে সংক্রমণ হতে পারে। তাই দিনে ও রাতে ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি।’ সভায় ডেঙ্গু পরিস্থিতির সার্বিক তথ্য উপস্থাপন করেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের জেলা কীটতত্ত্ববিদ উম্মে হাবিবা এবং বিভাগীয় পরিচালক স্বাস্থ্য কার্যালয়ের কীটতত্ত্বীয় টেকনিশিয়ান মো. আব্দুল বারী। ডেঙ্গু প্রতিরোধে রাসিকের গৃহীত পদক্ষেপের তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন রাসিকের উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা সেলিম রেজা রঞ্জু। মনির হোসেন মাহিন/কেজে/জেআইএম