জাতীয়

রুমিনের বক্তব্য ঘিরে সংসদে ব্যাপক হট্টগোল, গালাগালের অভিযোগ

News সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ 0
রুমিনের বক্তব্য ঘিরে সংসদে ব্যাপক 
হট্টগোল, গালাগালের অভিযোগ
রুমিনের বক্তব্য ঘিরে সংসদে ব্যাপক হট্টগোল, গালাগালের অভিযোগ

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বক্তব্য ঘিরে জাতীয় সংসদে ব্যাপক হট্টগোল হয়েছে। রুমিন বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে বক্তব্য দিলে সরকারি দলের সদস্যরা হইচই-হট্টগোল করে প্রতিবাদ জানান। এ সময় হঠাৎ করেই কিছু সময়ের জন্য সংসদ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রুমিনকে উদ্দেশ করে গালাগাল করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

আজ বুধবার ব্যাংক রেজোল্যুশন (সংশোধন) বিল পাসের আলোচনায় এ ঘটনা ঘটে। হইচই-হট্টগোলে কিছু সময়ের জন্য সংসদের স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়। একাদশ সংসদে বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সদস্য ছিলেন রুমিন। এবার তিনি স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য।

বিলের আলোচনায় অংশ নিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘প্রত্যেকটা সরকারের একটা চরিত্র থাকে। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর গ্যাস–বিদ্যুৎ সংকট হবে না, এটা হইতে পারে না। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আবার সারের সংকট হবে না, গরিব কৃষক সারকারখানায় গিয়ে সেটা লুট করবেন না; সেটাও হতে পারে না।’

রুমিনের এমন বক্তব্যে বিএনপির সংসদ সদস্যরা হইচই করে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। রুমিন বলতে থাকেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর দুর্নীতিতে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হবে না, সেটাও হওয়া সম্ভব না, মাননীয় স্পিকার।’

এ সময় বিএনপির সংসদ সদস্যরা আরও বেশি হইচই শুরু করেন। রুমিন বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ঋণখেলাপিতে সর্বোচ্চ স্থান অর্জন করবে না, সেটাও হইতে পারে না। সুতরাং বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানে ঋণখেলাপিতে সর্বোচ্চ হওয়া, ৬ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকার ওপরে ঋণখেলাপি হওয়া ইত্যাদি ইত্যাদি।’

সরকারি দলের সদস্যদের হট্টগোলের মধ্যে রুমিন বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, এত অসহিষ্ণু সংসদ, মনে হয় যেন আওয়ামী লীগের আমলে ফিরে গেছি আমরা। মজা, মন্দ না। আওয়ামী লীগকে যখন বলতাম, তখন তারাও হট্টগোল করত। এখন বিএনপি একই ধরনের আচরণ করছে। আরও খারাপ আচরণ।’

হইচইয়ের মধ্যেই রুমিন বলতে থাকেন, ‘এই সংসদে বেশির ভাগ সংসদ সদস্য ঋণখেলাপি হিসেবে পরিচিত। নির্বাচনের আগে নামটা কাটানোর জন্য হাইকোর্টে গিয়ে রিট করা, এগুলো আমাদের পুরোনো সংস্কৃতি। এগুলো আমরা বহুত দেখেছি।’

এ সময় রুমিনের জন্য নির্ধারিত সময় শেষ হলে মাইক বন্ধ হয়ে যায়। তবে সংসদে হইচই-হট্টগোল চলতে থাকে। রুমিনও মাইক ছাড়া কথা বলতে থাকেন। স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অশালীন ভাষায় গালি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করতে থাকেন তিনি। স্পিকার বারবার বসার অনুরোধ জানালেও তিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন।

এ সময় এনসিপির সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদও দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করতে থাকেন। মাইক ছাড়া তাঁকে বলতে শোনা যায়, একজন সংসদ সদস্যকে এভাবে গালি দেওয়া যায় না।

হট্টগোলের মধ্যে সভাপতির আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বারবার সংসদ সদস্যদের শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু কেউই থামছিলেন না। চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনিও দাঁড়িয়ে কিছু বলছিলেন। ডেপুটি স্পিকার সব সদস্যকে শান্ত হওয়ার অনুরোধ করেন।

কথা বলার স্বাধীনতা আছে

ডেপুটি স্পিকার বলেন, একজন সদস্য বক্তব্য রাখছেন। তাঁর কথা বলার স্বাধীনতা আছে। কিন্তু অন্য সদস্যরা ওনার বক্তব্যে বাধা প্রদান, সেটা কিন্তু গণতান্ত্রিক রীতিনীতির বাইরে।

রুমিন এ সময়ও দাঁড়িয়ে কিছু বলতে চাইছিলেন। তাঁকে বসার অনুরোধ করেন ডেপুটি স্পিকার।

চিফ হুইপের উদ্দেশে কায়সার কামাল বলেন, ‘সংসদ সদস্যদের প্রত্যেকের এখানে লিবার্টি আছে, তাঁরা তাঁদের বক্তব্য উপস্থাপন করবেন। আপনাদের টার্ন যখন আসে, আপনারা তখন সেটা খণ্ডন করবেন। কিন্তু বক্তব্য প্রদানে বাধা কোনো অবস্থাতেই কাম্য নয়।’

এরপর বিলের আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য আরেক স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমানকে আহ্বান জানান। তখনো হইচই চলছিল। এ সময় রুমিন ফারহানা ও হান্নান মাসউদকে দাঁড়িয়ে কিছু বলতে দেখা যায়। স্পিকার তাঁদের বসতে অনুরোধ করেন। এরপর শেখ মুজিবুর রহমান বক্তব্য দেন।

পরে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান দাঁড়িয়ে বলেন, সংসদ সদস্যের বক্তব্য অসংসদীয় হলে সেটা স্পিকার রুলিং দিতে পারেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী জবাব দিতে পারেন।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন,‘ আজকে উনি কী বললেন, আমরা তো একেবারেই বুঝতে পারলাম না। উনি কি গালি দিলেন না দোয়া দিলেন, কিছুই বুঝলাম না। এখন আসলেই কি তিনি বক্তব্য রাখতে পারলেন?’

এ পর্যায়ে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, তাঁরা সংসদে সব সমস্যার সমাধান চান। কিন্তু নিজেরাই সমস্যা তৈরি করলে সেটা সমস্যা।

বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি, ভঙ্গুর রাজনীতি পেয়েছে উল্লেখ করে চিফ হুইপ বলেন, একজন সদস্য যখন কথা বলেন, তাঁর নিজেরও দৃষ্টি রাখা দরকার। মাত্র কয়েক দিন আগে উনি (রুমিন) বিএনপির পক্ষে কথা বলেছেন।

এ পর্যায়ে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, ‘চিফ হুইপ হিসেবে আপনারও কিন্তু রেসপন্সিবিলিটি আছে, হুইপিং দ্য মেম্বারস অব দ্য পার্লামেন্ট। একজন সম্মানিত সদস্য, উনি কথা বলতে পারবেন, অসংসদীয় হলে সেটা এই চেয়ার থেকে এক্সপাঞ্জ করা হবে। কিন্তু সেটাকে বাধাগ্রস্ত করা, এটা ঠিক না। আর চিফ হুইপ হিসাবে আপনার মূল দায়িত্ব হাউসের শৃঙ্খলা রাখা।’

পরে বিলের আলোচনায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমি তো বিষয় কী, সেটাই বুঝতে পারছি না। আমি কী বললাম, আলোচনা কী হলো?’ তিনি বলেন, দুঃখজনক, একটা সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক আলোচনা এখানে চলে আসছে।

পরে রুমিন ফারহানা প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপির সংসদ সদস্যরা তাঁকে অশালীন ভাষায় গালাগাল করেছেন। এ সময় চিফ হুইপের ভূমিকা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
বনশ্রীতে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষ, প্রাণ গেল মাইলস্টোনের শিক্ষিকার
বনশ্রীতে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষ, প্রাণ গেল মাইলস্টোনের শিক্ষিকার

রাজধানীর রামপুরার বনশ্রীতে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে তাসফিয়া আহমেদ তিশা (৩১) নামে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষিকা নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বনশ্রী ফরাজী হাসপাতালের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ফরাজী হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত ৯টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত তাসফিয়া আহমেদ তিশা চাঁদপুর সদর উপজেলার প্রফেসর পাড়ার মো. শফিউদ্দিন আহমেদের মেয়ে। তিনি খিলগাঁওয়ের মেরাদিয়ার নয়াপাড়ায় থাকতেন এবং আফতাবনগরের মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষকতা করতেন। খিলগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অনয় চন্দ্র পাল জানান, সন্ধ্যায় তাসফিয়া তিশা মোটরসাইকেলে করে বনশ্রী ফরাজী হাসপাতালের সামনের সড়ক দিয়ে এক সহকর্মীর বাসায় যাচ্ছিলেন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে রমজান পরিবহনের একটি বাস মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ছিটকে সড়কে পড়ে যান। পরে সারা পরিবহনের আরেকটি বাসের চাকা তার মাথার ওপর দিয়ে চলে যায়। এতে তার মাথা থেঁতলে গুরুতর আহত হন। এসআই অনয় চন্দ্র পাল আরও জানান, দুর্ঘটনার পর পুলিশ বাস দুটি আটক করেছে। একই সঙ্গে একটি বাসের চালক ও অপর বাসের হেলপারকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান। কেএজেডআইএ/কেএইচকে

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
সুইমিংপুলে সাঁতার কাটতে গিয়ে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যু

সুইমিংপুলে সাঁতার কাটতে গিয়ে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যু

আর্মার-ক্যাভালরি বিষয়ে বাংলাদেশ-মার্কিন সেনাদের অভিজ্ঞতা বিনিময়

আর্মার-ক্যাভালরি বিষয়ে বাংলাদেশ-মার্কিন সেনাদের অভিজ্ঞতা বিনিময়

একাদশে ভর্তি: জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীরাও বঞ্চিত

একাদশে ভর্তি: জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীরাও বঞ্চিত

ভাতার অর্ধেক টাকা দেওয়ার প্রতিবাদে প্রশিক্ষণার্থীদের বিক্ষোভ
ভাতার অর্ধেক টাকা দেওয়ার প্রতিবাদে প্রশিক্ষণার্থীদের বিক্ষোভ

মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের অধীন জীবিকায়নের জন্য মহিলাদের দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ভাতা নিয়ে বগুড়ায় বিক্ষোভ করেছেন প্রশিক্ষণার্থীরা। নির্ধারিত ভাতার ৫০ শতাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বগুড়া মহিলা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বিক্ষোভ করেন তারা। প্রশিক্ষণার্থীদের অভিযোগ, শুরুতেই পূর্ণ ভাতার ভাউচারে স্বাক্ষর নেওয়া হলেও এখন অর্ধেক টাকা দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ভুয়া প্রশিক্ষণার্থীর উপস্থিতি দেখানো এবং নিজেদের টাকায় প্রশিক্ষণের উপকরণ কেনার অভিযোগও তুলেছেন তারা। বুধবার এপ্রিল-জুন ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থীদের ভাতা দেওয়ার কথা ছিল। সকালে কেন্দ্রে গিয়ে তারা জানতে পারেন, নির্ধারিত ভাতার অর্ধেক দেওয়া হবে। তিন মাসের কোর্স শেষে একজন প্রশিক্ষণার্থীর ৫ হাজার ৯০০ টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হচ্ছে ২ হাজার ৯৫০ টাকা। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা বিক্ষোভ শুরু করেন। বিক্ষুব্ধ প্রশিক্ষণার্থী আসিয়া জানান, তিন মাসের প্রশিক্ষণে যাতায়াত বাবদ প্রতিদিন ১০০ টাকা হিসাবে মোট ৫ হাজার ৯০০ টাকা পাওয়ার কথা। প্রশিক্ষণের শুরুতেই তাদের কাছ থেকে ১০০ শতাংশ ভাতার ভাউচারে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল। এখন একটি চিঠি দেখানো হলেও তার কপি তাদের দেওয়া হচ্ছে না। আসিয়ার অভিযোগ, প্রশিক্ষণে অনুপস্থিত থাকা ভুয়া প্রশিক্ষণার্থীদের উপস্থিতি খাতায় তাদের দিয়ে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া হতো। এমনকি ৫০ টাকা দিলে অনুপস্থিত প্রশিক্ষণার্থীর উপস্থিতি বাড়িয়ে দেওয়ার চুক্তি করা হতো বলেও তিনি দাবি করেন। অন্য এক প্রশিক্ষণার্থী বলেন, সরকার থেকে প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি। নিজেদের টাকা দিয়ে প্রশিক্ষণের অনুশীলনের সামগ্রী কিনতে হয়েছে। এখন ভাতার টাকাও অর্ধেক দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে তাদের ভেতরে ডেকে ভিন্ন কথা বলা হচ্ছে। প্রশিক্ষণার্থীদের অভিযোগ, ভাতার বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাদের বলেছেন, অর্ধেক ভাতার বিষয়টি আগে জানালে প্রশিক্ষণার্থীরা কোর্স না করেই চলে যেতেন। এ কারণে বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল। তবে ভাতা কম দেওয়ার বিষয়ে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর বগুড়ার উপপরিচালক তাঞ্জিমা আক্তার বলেন, গত অর্থবছরের শেষ ব্যাচগুলোর প্রশিক্ষণ ভাতা পরিশোধে সরকারের একটি নির্দেশনা আসে। এতে মোট বরাদ্দের ৫০ শতাংশ পরিশোধের আদেশ ছিল। তিনি বলেন, ওই নির্দেশনা আসার আগেই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১০০ শতাংশ ভাতার ভাউচারে স্বাক্ষর নিয়ে ট্রেজারি অফিসে জমা দেওয়া হয়েছিল। পরে ট্রেজারি অফিস বিলটি ফেরত দেয়। এর মধ্যে জুন মাস পার হয়ে যাওয়ায় ওই টাকা তামাদি হয়ে যায়। তাঞ্জিমা আক্তার আরও বলেন, পরে দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে বর্তমান বাজেট থেকে ৫০ শতাংশ হারে ভাতা পরিশোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাকি ৫০ শতাংশ অর্থ পুনরায় বরাদ্দ চেয়ে দপ্তরে যোগাযোগ করা হচ্ছে। টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেলে প্রশিক্ষণার্থীদের ডেকে বকেয়া পরিশোধ করা হবে। তবে পূর্ণ ভাতার ভাউচারে আগে স্বাক্ষর নেওয়ার পর ভাতা অর্ধেক দেওয়ার বিষয়টি তদন্ত এবং ভুয়া উপস্থিতির অভিযোগ খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন প্রশিক্ষণার্থীরা। একই সঙ্গে তাদের পূর্ণ পাওনা দ্রুত পরিশোধের দাবি জানান তারা। এল.বি/কেএইচকে

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
এশিয়ান গেমসে ভোরে চীনের বিপক্ষে নামছে বাংলাদেশ, জিতলে সেমিতে ভারত

এশিয়ান গেমসে ভোরে চীনের বিপক্ষে নামছে বাংলাদেশ, জিতলে সেমিতে ভারত

ঢিল ছুড়ে মশার ওষুধ বাছাই, ধোঁয়া দেওয়ার ২০ মিনিট পর যা ঘটল

ঢিল ছুড়ে মশার ওষুধ বাছাই, ধোঁয়া দেওয়ার ২০ মিনিট পর যা ঘটল

খুলনার এক মামলায় সাতজনকে খালাসের আদেশ কেন অসাংবিধানিক নয়: হাইকোর্ট

খুলনার এক মামলায় সাতজনকে খালাসের আদেশ কেন অসাংবিধানিক নয়: হাইকোর্ট

মোটরসাইকেল থেকে পড়ার পর দুই বাসের চাপায় মাইলস্টোনের শিক্ষিকার মৃত্যু
মোটরসাইকেল থেকে পড়ার পর দুই বাসের চাপায় মাইলস্টোনের শিক্ষিকার মৃত্যু

রাজধানীর বনশ্রীতে দুই বাসের চাপায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষিকা নিহত হয়েছেন। তিনি মোটরসাইকেলে চড়ে যাওয়ার সময় পেছন থেকে পড়ে গিয়ে এই দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন বলে তাঁর এক স্বজন জানিয়েছেন। নিহত শিক্ষক হলেন তাসপিয়া আহমেদ তিসা (৩১)। তিনি মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের আফতাবনগর শাখার শিক্ষক ছিলেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর সদর উপজেলার প্রফেসর পাড়ায়। খিলগাঁওয়ের মেরাদিয়া নোয়াপাড়ায় থাকতেন।আজ বুধবার সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে বনশ্রীর ফরাজী হাসপাতালের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। খিলগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অনয় চন্দ্র পাল জানান, রমজান পরিবহন ও আরেকটি বাসের চাপায় ঘটনাস্থলেই তাসপিয়া আহমেদ মারা যান। খবর পেয়ে পুলিশ তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে রাত নয়টার দিকে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।এসআই অনয় চন্দ্র পাল আরও বলেন, রমজান পরিবহনের একটি বাসসহ দুটি বাস জব্দ করা হয়েছে। বাস দুটির চালক ও হেলপারকে আটক করা হয়েছে।তাসপিয়ার ভাই এনাম আহমেদ বলেন, তাঁর বোন কাজে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। সন্ধ্যায় তিনি খবর পান, ফরাজী হাসপাতালের সামনে মোটরসাইকেলের পেছন থেকে পড়ে গিয়ে দুই বাসের চাপায় তাঁর বোন দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। খবর পেয়ে তিনি ঢাকা মেডিকেলে এসেছেন।ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসা বনশ্রীর একটি টেইলার্সের মালিক মো. মূসা বলেন, তাসপিয়া তাঁর দোকান থেকে নিয়মিত কাপড় তৈরি করাতেন। তিনি খুব ভালো মানুষ ছিলেন। আগামীকাল তাঁর কক্সবাজারে বেড়াতে যাওয়ার কথা ছিল। অথচ আজ সন্ধ্যায় সড়কে তাঁর রক্তাক্ত নিথর দেহ দেখতে হয়েছে। পরে তিনি তাসপিয়ার পরিবারের সদস্যদের খবর দেন।

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাবের পর অচেতন, নোয়াখালীর সেই বিদ্যালয়ে আরও ১০ শিক্ষার্থী অসুস্থ

মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাবের পর অচেতন, নোয়াখালীর সেই বিদ্যালয়ে আরও ১০ শিক্ষার্থী অসুস্থ

খালেদ নিলেন আরও ৩ উইকেট, ম্যাচে মোট ৮টি

খালেদ নিলেন আরও ৩ উইকেট, ম্যাচে মোট ৮টি

সিলেটে সুইমিংপুলে সাঁতার কাটতে গিয়ে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যু

সিলেটে সুইমিংপুলে সাঁতার কাটতে গিয়ে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যু

0 Comments