রহিত হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের একটি মামলা প্রত্যাহারের আবেদন মঞ্জুর করে সাতজনকে খালাস দেওয়া সংক্রান্ত খুলনার সাইবার ট্রাইব্যুনালের আদেশ কেন অসাংবিধানিক ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়ে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট।
এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি রাজিক–আল–জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এ রুল দেন।
সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ তথা সাইবার সুরক্ষা আইনের একাধিক ধারা [৫০(৪), ৫০(৫) এবং ৫১ (২) ধারা] এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের একটি মামলায় সাতজনকে খালাস দিয়ে খুলনার সাইবার ট্রাইব্যুনালের দেওয়া আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিটটি করা হয়। রিটটি করেন মোহা. মাহাবুবুর রহমান ওরফে মাহাবুব চান্দু, যিনি বাদী হয়ে ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। রিট আবেদনকারী মেহেরপুর জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এবং ‘মেহেরপুর প্রতিদিন’ পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে।
যে প্রেক্ষাপটে রিট ও ট্রাইব্যুনালের আদেশ
রিট থেকে জানা যায়, ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কয়েকটি ধারায় [২৩/২৫(১)(ক)/২৫(১)(গ)/২৫(২)/২৯/৩১/৩৫] সাতজনের বিরুদ্ধে খুলনার সাইবার ট্রাইব্যুনালে ২০২৩ সালের ২৯ আগস্ট মামলা করেন মাহাবুবুর রহমান। ওই আইনের ২৫(২)/২৯(১) ধারার অধীনে আসামিদের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ১৪ জানুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন দেন তদন্ত কর্মকর্তা।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন রহিত করে ২০২৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর সাইবার নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করা হয় উল্লেখ করে রিটে বলা হয়, সাইবার নিরাপত্তা আইনের ৫৯(২) ধারা অনুযায়ী, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীনে অনিষ্পন্ন মামলাগুলো এমনভাবে পরিচালিত হবে, যেন ওই আইনটি (ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন) রহিত করা হয়নি। ২০২৪ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি খুলনার সাইবার ট্রাইব্যুনাল সাতজনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে অভিযোগ আমলে নেন।
রিট আবেদনকারীপক্ষ জানায়, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সাইবার নিরাপত্তা আইন রহিত করে ২০২৫ সালের ২১ মে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হয়। সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের ৫০(৪) ধারার ভাষ্য, রহিতকরণের আগে ওই আইনের কয়েকটি ধারা [২১, ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ২৮, ২৯, ৩১, ৩৪] এবং ওই ধারাগুলোতে বর্ণিত অপরাধ সংঘটনে সহায়তার অপরাধে কোনো আদালত বা ট্রাইব্যুনালে নিষ্পন্নাধীন কোনো মামলা বা অন্যান্য কার্যধারা অথবা কোনো পুলিশ কর্মকর্তা বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্তাধীন মামলা বা কার্যক্রম বাতিল হবে। এসব বিষয়ে আর কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে না। ওই ধারাগুলোর অধীন কোনো আদালত বা ট্রাইব্যুনালের দেওয়া দণ্ড ও জরিমানা বাতিল বলে গণ্য হবে।
২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর অধ্যাদেশে সংশোধনী আনা হয়। তাতে ৫০(৪) উপধারার পর সন্নিবেশিত হয় উপধারা (৪ক)। এই উপধারার ভাষ্য, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কয়েকটি ধারায় [২১, ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ২৮, ২৯, ৩১] বর্ণিত অপরাধ সংঘটন ও সহায়তার অপরাধে কোনো আদালত বা ট্রাইব্যুনালে নিষ্পন্নাধীন কোনো মামলা বা অন্যান্য কার্যধারা অথবা কোনো পুলিশ কর্মকর্তা বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্তাধীন মামলা বা কার্যক্রম বাতিল হবে। এসব বিষয়ে আর কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে না। ওই ধারাগুলোর অধীন কোনো আদালত বা ট্রাইব্যুনালের দেওয়া দণ্ড ও জরিমানা বাতিল বলে গণ্য হবে।
রিট আবেদন থেকে জানা যায়, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ প্রণয়নের পর রাষ্ট্রপক্ষ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৪ক ধারায় ওই মামলাটি (ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মাহাবুবুর রহমানের দায়ের করা) প্রত্যাহারের আবেদন করে। এই আবেদন মঞ্জুর করে ২০২৫ সালের ১৯ জুন আদেশ দেন খুলনার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক।
আদেশের ভাষ্য, অধ্যাদেশের ৫০(৪) ধারা অনুযায়ী সাইবার নিরাপত্তা আইনের ২৫ ধারায় নিষ্পন্ন–অনিষ্পন্ন সব মামলার কার্যক্রম বাতিল করা হয়। এ অবস্থায় আসামিদের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫ ধারা, যা পরবর্তী সময়ে সাইবার নিরাপত্তা আইনের ২৫ ধারায়ও উল্লেখ করা হয়। ওই অপরাধে গৃহীত কার্যক্রম ২০২৫ সালের আদেশ অনুযায়ী বাতিলযোগ্য। আসামিদের খালাস দেওয়া হলো।
সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা
২০২৫ সালের সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের ৫০(৪) ধারা এবং খুলনার সাইবার ট্রাইব্যুনালের ২০২৫ সালের ১৯ জুন দেওয়া আদেশের বৈধতা নিয়ে গত মার্চে রিটটি করেন মাহাবুবুর রহমান। এদিকে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ রহিত করে বর্তমান সরকারের আমলে গত ১০ এপ্রিল সাইবার সুরক্ষা আইনের গেজেট প্রকাশিত হয়। সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ রহিত হওয়ায় সাইবার সুরক্ষা আইনের ৫০(৪), ৫০(৫) এবং ৫১ (২) ধারার বৈধতা নিয়ে সম্পূরক আবেদন দাখিল করেন রিট আবেদনকারী। রিট আবেদনটি নিয়ে গতকাল আদালতে শুনানি হয়।
আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. নাজমুল হুদা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জামিলা মমতাজ ও শিহাব উদ্দিন খান।
সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ও সাইবার সুরক্ষা আইনে উল্লেখিত চলমান মামলার কার্যক্রম বাতিল করা সম্পর্কিত বিধানগুলো একই ধরনের বলে জানান আইনজীবী মো. নাজমুল হুদা। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘রহিত হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন–২০১৮ অধীন সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন রিট আবেদনকারী। ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন রহিত করে সাইবার নিরাপত্তা আইন করা হয়। ২০২৩ সালের সাইবার নিরাপত্তা আইনটি রহিত করে ২০২৫ সালের ২১ মে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হয়। এই অধ্যাদেশে সাইবার নিরাপত্তা আইন–২০২৩–এর কিছু কিছু ধারা বাতিল ও কিছু কিছু ধারার মামলা চলমান থাকবে বলা হয়। সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলাগুলোর বিষয়ে বলা হয়নি।’
২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে সংশোধনী এনে ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের চলমান মামলা বাতিলের বিধান যুক্ত করা হয় উল্লেখ করে আইনজীবী নাজমুল হুদা বলেন, অথচ এর আগেই রিট আবেদনকারীর দায়ের করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলা প্রত্যাহারের আবেদন ২০২৫ সালের ১৯ জুন মঞ্জুর করে সাতজনকে খালাস দেওয়া হয়। অধ্যাদেশে উল্লেখ নেই, অথচ এর বরাতে চলমান মামলাটি প্রত্যাহারের আদেশ আইনসম্মত নয়। যে কারণে অধ্যাদেশ ও আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা এবং মামলা প্রত্যাহার—সাতজনকে খালাসসংক্রান্ত খুলনার সাইবার ট্রাইব্যুনালের ২০২৫ সালের ১৯ জুন দেওয়া আদেশের বৈধতা নিয়ে রিটটি করা হলে আদালত ওই রুল দেন। একই সঙ্গে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ তথা সাইবার সুরক্ষা আইনের ৫০(৪), ৫০(৫) এবং ৫১ (২) ধারা প্রশ্নেও রুল দেওয়া হয়েছে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
রাজধানীর রামপুরার বনশ্রীতে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে তাসফিয়া আহমেদ তিশা (৩১) নামে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষিকা নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বনশ্রী ফরাজী হাসপাতালের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ফরাজী হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত ৯টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত তাসফিয়া আহমেদ তিশা চাঁদপুর সদর উপজেলার প্রফেসর পাড়ার মো. শফিউদ্দিন আহমেদের মেয়ে। তিনি খিলগাঁওয়ের মেরাদিয়ার নয়াপাড়ায় থাকতেন এবং আফতাবনগরের মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষকতা করতেন। খিলগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অনয় চন্দ্র পাল জানান, সন্ধ্যায় তাসফিয়া তিশা মোটরসাইকেলে করে বনশ্রী ফরাজী হাসপাতালের সামনের সড়ক দিয়ে এক সহকর্মীর বাসায় যাচ্ছিলেন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে রমজান পরিবহনের একটি বাস মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ছিটকে সড়কে পড়ে যান। পরে সারা পরিবহনের আরেকটি বাসের চাকা তার মাথার ওপর দিয়ে চলে যায়। এতে তার মাথা থেঁতলে গুরুতর আহত হন। এসআই অনয় চন্দ্র পাল আরও জানান, দুর্ঘটনার পর পুলিশ বাস দুটি আটক করেছে। একই সঙ্গে একটি বাসের চালক ও অপর বাসের হেলপারকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান। কেএজেডআইএ/কেএইচকে
মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের অধীন জীবিকায়নের জন্য মহিলাদের দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ভাতা নিয়ে বগুড়ায় বিক্ষোভ করেছেন প্রশিক্ষণার্থীরা। নির্ধারিত ভাতার ৫০ শতাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বগুড়া মহিলা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বিক্ষোভ করেন তারা। প্রশিক্ষণার্থীদের অভিযোগ, শুরুতেই পূর্ণ ভাতার ভাউচারে স্বাক্ষর নেওয়া হলেও এখন অর্ধেক টাকা দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ভুয়া প্রশিক্ষণার্থীর উপস্থিতি দেখানো এবং নিজেদের টাকায় প্রশিক্ষণের উপকরণ কেনার অভিযোগও তুলেছেন তারা। বুধবার এপ্রিল-জুন ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থীদের ভাতা দেওয়ার কথা ছিল। সকালে কেন্দ্রে গিয়ে তারা জানতে পারেন, নির্ধারিত ভাতার অর্ধেক দেওয়া হবে। তিন মাসের কোর্স শেষে একজন প্রশিক্ষণার্থীর ৫ হাজার ৯০০ টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হচ্ছে ২ হাজার ৯৫০ টাকা। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা বিক্ষোভ শুরু করেন। বিক্ষুব্ধ প্রশিক্ষণার্থী আসিয়া জানান, তিন মাসের প্রশিক্ষণে যাতায়াত বাবদ প্রতিদিন ১০০ টাকা হিসাবে মোট ৫ হাজার ৯০০ টাকা পাওয়ার কথা। প্রশিক্ষণের শুরুতেই তাদের কাছ থেকে ১০০ শতাংশ ভাতার ভাউচারে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল। এখন একটি চিঠি দেখানো হলেও তার কপি তাদের দেওয়া হচ্ছে না। আসিয়ার অভিযোগ, প্রশিক্ষণে অনুপস্থিত থাকা ভুয়া প্রশিক্ষণার্থীদের উপস্থিতি খাতায় তাদের দিয়ে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া হতো। এমনকি ৫০ টাকা দিলে অনুপস্থিত প্রশিক্ষণার্থীর উপস্থিতি বাড়িয়ে দেওয়ার চুক্তি করা হতো বলেও তিনি দাবি করেন। অন্য এক প্রশিক্ষণার্থী বলেন, সরকার থেকে প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি। নিজেদের টাকা দিয়ে প্রশিক্ষণের অনুশীলনের সামগ্রী কিনতে হয়েছে। এখন ভাতার টাকাও অর্ধেক দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে তাদের ভেতরে ডেকে ভিন্ন কথা বলা হচ্ছে। প্রশিক্ষণার্থীদের অভিযোগ, ভাতার বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাদের বলেছেন, অর্ধেক ভাতার বিষয়টি আগে জানালে প্রশিক্ষণার্থীরা কোর্স না করেই চলে যেতেন। এ কারণে বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল। তবে ভাতা কম দেওয়ার বিষয়ে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর বগুড়ার উপপরিচালক তাঞ্জিমা আক্তার বলেন, গত অর্থবছরের শেষ ব্যাচগুলোর প্রশিক্ষণ ভাতা পরিশোধে সরকারের একটি নির্দেশনা আসে। এতে মোট বরাদ্দের ৫০ শতাংশ পরিশোধের আদেশ ছিল। তিনি বলেন, ওই নির্দেশনা আসার আগেই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১০০ শতাংশ ভাতার ভাউচারে স্বাক্ষর নিয়ে ট্রেজারি অফিসে জমা দেওয়া হয়েছিল। পরে ট্রেজারি অফিস বিলটি ফেরত দেয়। এর মধ্যে জুন মাস পার হয়ে যাওয়ায় ওই টাকা তামাদি হয়ে যায়। তাঞ্জিমা আক্তার আরও বলেন, পরে দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে বর্তমান বাজেট থেকে ৫০ শতাংশ হারে ভাতা পরিশোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাকি ৫০ শতাংশ অর্থ পুনরায় বরাদ্দ চেয়ে দপ্তরে যোগাযোগ করা হচ্ছে। টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেলে প্রশিক্ষণার্থীদের ডেকে বকেয়া পরিশোধ করা হবে। তবে পূর্ণ ভাতার ভাউচারে আগে স্বাক্ষর নেওয়ার পর ভাতা অর্ধেক দেওয়ার বিষয়টি তদন্ত এবং ভুয়া উপস্থিতির অভিযোগ খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন প্রশিক্ষণার্থীরা। একই সঙ্গে তাদের পূর্ণ পাওনা দ্রুত পরিশোধের দাবি জানান তারা। এল.বি/কেএইচকে
রাজধানীর বনশ্রীতে দুই বাসের চাপায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষিকা নিহত হয়েছেন। তিনি মোটরসাইকেলে চড়ে যাওয়ার সময় পেছন থেকে পড়ে গিয়ে এই দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন বলে তাঁর এক স্বজন জানিয়েছেন। নিহত শিক্ষক হলেন তাসপিয়া আহমেদ তিসা (৩১)। তিনি মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের আফতাবনগর শাখার শিক্ষক ছিলেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর সদর উপজেলার প্রফেসর পাড়ায়। খিলগাঁওয়ের মেরাদিয়া নোয়াপাড়ায় থাকতেন।আজ বুধবার সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে বনশ্রীর ফরাজী হাসপাতালের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। খিলগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অনয় চন্দ্র পাল জানান, রমজান পরিবহন ও আরেকটি বাসের চাপায় ঘটনাস্থলেই তাসপিয়া আহমেদ মারা যান। খবর পেয়ে পুলিশ তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে রাত নয়টার দিকে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।এসআই অনয় চন্দ্র পাল আরও বলেন, রমজান পরিবহনের একটি বাসসহ দুটি বাস জব্দ করা হয়েছে। বাস দুটির চালক ও হেলপারকে আটক করা হয়েছে।তাসপিয়ার ভাই এনাম আহমেদ বলেন, তাঁর বোন কাজে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। সন্ধ্যায় তিনি খবর পান, ফরাজী হাসপাতালের সামনে মোটরসাইকেলের পেছন থেকে পড়ে গিয়ে দুই বাসের চাপায় তাঁর বোন দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। খবর পেয়ে তিনি ঢাকা মেডিকেলে এসেছেন।ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসা বনশ্রীর একটি টেইলার্সের মালিক মো. মূসা বলেন, তাসপিয়া তাঁর দোকান থেকে নিয়মিত কাপড় তৈরি করাতেন। তিনি খুব ভালো মানুষ ছিলেন। আগামীকাল তাঁর কক্সবাজারে বেড়াতে যাওয়ার কথা ছিল। অথচ আজ সন্ধ্যায় সড়কে তাঁর রক্তাক্ত নিথর দেহ দেখতে হয়েছে। পরে তিনি তাসপিয়ার পরিবারের সদস্যদের খবর দেন।