জাতীয়

অনলাইনে জনপ্রিয়তা পাওয়া মিমের ইতিহাস সম্পর্কে আমরা কতটা জানি

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
অনলাইনে জনপ্রিয়তা পাওয়া মিমের ইতিহাস সম্পর্কে আমরা কতটা জানি
অনলাইনে জনপ্রিয়তা পাওয়া মিমের ইতিহাস সম্পর্কে আমরা কতটা জানি

ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাঁরা সক্রিয়, তাঁদের কাছে ‘মিম’ শব্দটি খুবই পরিচিত। মিম হলো মূলত কোনো বিষয়ের হাস্যকর ছবি, ভিডিও বা লেখা, যা মানুষকে বিনোদন দিয়ে থাকে। মিমের মাধ্যমে হাস্যরসের পাশাপাশি ব্যঙ্গও করা হয়ে থাকে। আর তাই বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিম হয়ে উঠেছে শক্তিশালী যোগাযোগের মাধ্যম।

এই মিমের উৎপত্তি কোথায় বা কীভাবে হয়েছে, তা নিয়ে অনেকেরই স্পষ্ট ধারণা নেই। মিম কেবল ইন্টারনেট যুগের সৃষ্টি নয়। ভাষাবিজ্ঞানীদের মতে, মানুষ শত শত বছর ধরে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে মিম ব্যবহার করে আসছে। এটি মূলত সাংস্কৃতিক কথোপকথনের একটি মাধ্যম। মানুষ সচেতনভাবে বা অজান্তে নানা ধরনের মিমের সঙ্গে যুক্ত থাকে। নিউইয়র্ক টাইমস ক্রসওয়ার্ড পাজলে ১৯৪০–এর দশক থেকে এখন পর্যন্ত মিম শব্দটি প্রায় ষাটবার ব্যবহার করা হয়েছে।

ব্রিটিশ বিবর্তনবাদী জীববিজ্ঞানী রিচার্ড ডকিন্স ১৯৭৬ সালের ‘দ্য সেলফিশ জিন’ বইয়ে প্রথম মিম শব্দটি ব্যবহার করেন। তাঁর মতে, মিম হলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিলিপি তৈরি করতে পারা তথ্যের টুকরা। মানুষের একে অপরকে বারবার কিছু বলার বা ভেটকি দেওয়ার প্রবণতা থেকেই এর বিস্তার ঘটে। ফরাসি ভাষায় মেমে শব্দের অর্থ একই এবং গ্রিক শব্দ মিমৌমাই অর্থ অনুকরণ করা। ইন্টারনেটে মিম শব্দটি মাইক গডউইন ১৯৯৩ সালে প্রথম ব্যবহার করেন।

বিজ্ঞানী ডকিন্সের মতে, ‘আমাদের ধারণা, আদর্শ, সংস্কৃতি ও প্রথা নিজেরাই পুনরুৎপাদিত হয় নানাভাবে। অনেকটা ভাইরাসের মতো এসব অনুকরণ হয়। পরে তা শেয়ার ও পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে ছড়িয়ে পড়ে। মিম বলতে আমরা বর্তমানে অনুভূতি, চিন্তা, ধারণা বা নিছক কৌতুকের দৃশ্যগত রূপকে বুঝি। এসব বিষয় অবশ্য কোনো না কোনো আকারে খ্রিষ্টপূর্ব তিন অব্দ থেকে দেখা গেছে।

প্রত্নতাত্ত্বিকেরা প্রাচীন অ্যান্টিওক শহরের একটি স্থানে তিনটি ফ্রেমে বিভক্ত একটি মোজাইক আবিষ্কার করেছেন, যা দেখে মনে হয় একটি গোসলের দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। প্রথম ফ্রেমে একজন ভৃত্য গোসলের প্রস্তুতি নিচ্ছে; দ্বিতীয় ফ্রেমে এক তরুণ গোসল করা থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে এবং এক বয়স্ক ভৃত্য তাকে ধরার জন্য পেছন পেছন দৌড়াচ্ছে, কিন্তু ধরতে পারছে না।

শেষ দৃশ্যে আপাতদৃষ্টে আনন্দিত তরুণ বেপরোয়া কঙ্কাল এক জারের ওয়াইন সামনে অলস ভঙ্গিতে বসে রয়েছে। তার নিচের শিলালিপিতে খোদাই করা আছে, আনন্দ করো, জীবন উপভোগ করো। সেই গল্পের অন্তর্নিহিত বার্তাটি যেন এমন, আপনাকে কীভাবে বাঁচতে হবে, তা কাউকে বলতে দেবেন না! যা ইচ্ছা তা–ই করুন, কারণ শেষ পর্যন্ত আমাদের সবাইকে মরতেই হবে। বলা হয়, সেই মোজাইকের ছবি ইতিহাসের আদি ওয়াইওএলও। ইংরেজিতে ওয়াইওএলও বহুল ব্যবহৃত হয়, যার অর্থ আপনি একবারই বাঁচবেন।

আমাদের পূর্বপুরুষেরা কম্পিউটার চালাতে বা সিরির সঙ্গে কথা বলতে জানতেন না, কিন্তু তাঁদেরও নিজস্ব মিম ছিল, যা আজও সারা বিশ্বে খুঁজে পাওয়া যায়। যুক্তরাষ্ট্রে কিলরয়ের ছবি দেখা যায়। তাঁর দীর্ঘ নাক ও বোঁচা বা মস্তকহীন অবয়ব অনেক জায়গাতেই দেখা যেত। এই ছবির উৎপত্তি নিয়ে নানা মিথ ও কিংবদন্তি থাকলেও সত্যি হলো, কিলরয় ঠিক কোথা থেকে শুরু হয়েছিল, তা নিশ্চিত করে কেউ জানে না। কিংবদন্তি বলে, এর উৎপত্তি জাহাজ পরিদর্শক জেমস কিলরয়ের মাধ্যমে, আবার অন্য একটি মতে ফ্রান্সিস কিলরয় নামের এক সেনা কর্মীর কথা বলা হয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আমেরিকান সৈনিকদের লড়াইয়ের সময় কিলরয় চিহ্ন বেশি জনপ্রিয় হয়। জার্মানিরা মনে করত, কিলরয় হয়তো কোনো আসল গুপ্তচর। তিনি সমুদ্র পেরিয়ে বিদেশ ভ্রমণ করেছিলেন। কিলরয় ছিলেন বিশ্বজোড়া খ্যাতি পাওয়া এক মিম। জেরুজালেমের হিব্রু ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক লিমোর শিফম্যান ইন্টারনেট মিম নিয়ে গবেষণা করেন। তিনি বলেন, ডিজিটাল মিম অনন্য। কারণ, এগুলো কেবল একটি একক ধারণা নয়। এসব একে অপরের সম্পর্কে সচেতন থেকে তৈরি করা ধারণার একটি সমষ্টি। পেপে দ্য ফ্রগ–এর কথাই ধরা যাক। এই চরিত্র ফিলস গুড ম্যান নামের ডকুমেন্টারির তারকা। নিজে থেকে সে একটি সহজ–সরল ব্যাঙ, কিন্তু পেপের ছবি থেকে তৈরি মিম শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদের প্রতীকে পরিণত হয়েছিল।

ইন্টারনেট মিম সম্পর্কে শিফম্যান বলেন, এসব মিম সাধারণ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ডিজিটাল কনটেন্টের একক। একে অপরের সচেতনতায় ব্যবহারকারীরা এসব তৈরি করেন। এসব অনেক ব্যবহারকারী ইন্টারনেটে প্রচার করে। ব্যবহারকারীরাই নির্ধারণ করে দেন কোন মিম জনপ্রিয় হবে।

ইন্টারনেট মিমের ইতিহাস খুব বেশি পুরোনো নয়, তবে মিমের টিকে থাকার ক্ষমতা অসাধারণ। ড্যান্সিং বেবি নামের নাচের শিশুর মিম ১৯৯৬ সালে প্রকাশিত হয়। অনেকেই একে প্রথম ডিজিটাল মিম বলে মনে করেন। এটি ডাউনলোড করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগত। ২০০০ সালের পরে ইন্টারনেটভিত্তিক চ্যাটরুমের জনপ্রিয়তা পেলে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু মিম জনপ্রিয় হয়। ২০১০ সালের পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিভিন্ন ব্লগিং প্ল্যাটফর্ম, মাইক্রোভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মের জনপ্রিয়তা বাড়ে। এসব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পশ্চিমা–দুনিয়ার অনেক মিম সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। আবার এশিয়া অঞ্চলের অনেক বিখ্যাত ছবিও মিম আকারে প্রচার হতে থাকে।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মিমের অর্থের মধ্যেও পরিবর্তন এসেছে। আধুনিক যুগে মিম হলো এমন একটি মিডিয়া, যা মূলত হাস্যরসের মাধ্যমে কোনো সাংস্কৃতিক বা রাজনৈতিক বার্তা দেয়। এটি যেকোনো বিনোদনের মাধ্যমকে দ্রুত জনপ্রিয় করে তুলতে সাহায্য করে থাকে। পপ–সংস্কৃতির নানা ঘটনা মিম তৈরির বড় ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করে। ইন্টারনেটের যুগে মিম মানুষকে এক সুতায় বাঁধতে সাহায্য করে। খুব কম সময়ে সহজে বোধগম্য হওয়ার কারণে এগুলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে অনেক সময় মিম বেশ একচেটিয়া হয়ে থাকে। কারণ, কেবল নির্দিষ্ট বিষয় বা তার উৎস সম্পর্কে জানা ব্যক্তিরাই এর আসল অর্থ বুঝতে পারেন।


সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস, পিবিএস

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
এমপির ডিও লেটার তোয়াক্কা করেন না চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান!
এমপির ডিও লেটার তোয়াক্কা করেন না চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান!

মাধ্যমিক স্কুলের পরিচালনা কমিটি গঠনে স্থানীয় সংসদ সদস্যের ডিও লেটার (আধা সরকারিপত্র) উপেক্ষা করার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরীর বিরুদ্ধে। সম্প্রতি চট্টগ্রামের বাঁশখালীর কয়েকটি উচ্চবিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি মনোনয়ন নিয়ে একই আসনের (চট্টগ্রাম-১৬, বাঁশখালী) সংসদ সদস্য মাওলানা জহিরুল ইসলাম পৃথক ডিও লেটারে যাদের সুপারিশ করেছিলেন, তাদের বাদ দিয়ে কমিটির সভাপতি অনুমোদন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বোর্ড চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। বোর্ড চেয়ারম্যানের এমন কর্মকাণ্ডকে ‘দায়িত্বহীন’ দাবি করে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অভিযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন সংসদ সদস্য মাওলানা জহিরুল ইসলাম। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, ‘বাঁশখালীর বাণীগ্রাম সাধনপুর উচ্চবিদ্যালয়সহ কয়েকটি স্কুলের সভাপতি মনোনয়ন নিয়ে আমি সুপারিশসহ ডিও লেটার দিয়েছিলাম। যাদের জন্য ডিও লেটার দিয়েছি, তারা কোনো দলীয় লোক নন। কোনো দলের পদেও নেই। শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নের স্বার্থে এ সুপারিশ করা হয়েছিল। তাছাড়া মন্ত্রণালয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়েছিল। একসঙ্গে খাবারও খেয়েছি। তখন কমিটির সভাপতি অনুমোদনের বিষয়েও তার সঙ্গে কথা হয়।’ তিনি বলেন, ‘প্রথমে স্কুল থেকে অ্যাডহক কমিটির একটি প্যানেল জেলা প্রশাসনের কাছে সুপারিশের জন্য পাঠানো হয়। পরে জেলা প্রশাসনের সুপারিশের ভিত্তিতে স্কুলের প্রধান শিক্ষক শিক্ষাবোর্ডে অনুমোদনের জন্য চিঠি দেন। কিন্তু জেলা প্রশাসনের সুপারিশও কর্ণপাত করেননি শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান। বাণীগ্রাম সাধনপুর উচ্চবিদ্যালয়ের সভাপতি মনোনয়ন তালিকায় ব্যাংকার বেলালুর রহমানের নাম এক নম্বরে ছিল। আমিও তার জন্য সুপারিশ করে ডিও লেটার দিয়েছিলাম। কিন্তু তালিকার দ্বিতীয় ব্যক্তিকে সভাপতি হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়।’ জানা যায়, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা-২০২৪-এর প্রবিধি ৭৪(২) অনুযায়ী বিদ্যালয় পরিচালনার জন্য অ্যাডহক কমিটির সভাপতি অনুমোদনের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক গত ২৫ জুন তিনজন সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগীর নাম প্রস্তাব করেন। তালিকায় প্রথমে ছিলেন ব্যাংকার বেলালুর রহমান, দ্বিতীয় অ্যাডভোকেট জায়েদ বিন রশিদ এবং তৃতীয় স্থানীয় সমাজসেবক জাহিদ উদ্দিন চৌধুরী। জেলা প্রশাসনের সুপারিশ করা ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করে অনুমোদনের জন্য ২৮ জুন শিক্ষাবোর্ডে চিঠি দেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কাসেম মোহাম্মদ মঈন উদ্দীন। একই চিঠির পাশাপাশি তালিকায় প্রথমে থাকা বেলালুর রহমানকে সভাপতি করার সুপারিশ করে বোর্ড চেয়ারম্যানকে ডিও লেটার দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মাওলানা জহিরুল ইসলাম। তবে, সংসদ সদস্যের ওই ডিও লেটার উপেক্ষা করে তালিকার দ্বিতীয় ব্যক্তি অ্যাডভোকেট জায়েদ বিন রশিদকে সভাপতি করে কমিটি অনুমোদন দেয় শিক্ষাবোর্ড। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরীর সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে মোবাইল ফোনে খুদে বার্তা ও হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া শিক্ষাবোর্ডে তার দপ্তরে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। এমডিআইএইচ/এমএএইচ/

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
রংপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত ৬৪ পরিবার পেল সোয়া ২ কোটি টাকা

রংপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত ৬৪ পরিবার পেল সোয়া ২ কোটি টাকা

বরিশালে দাম্পত্য কলহের জেরে স্বামীকে খুন করে পালালো স্ত্রী

বরিশালে দাম্পত্য কলহের জেরে স্বামীকে খুন করে পালালো স্ত্রী

পটুয়াখালীতে তরুণীকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে বিএনপি নেতাকে পুলিশে সোপর্দ

পটুয়াখালীতে তরুণীকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে বিএনপি নেতাকে পুলিশে সোপর্দ

প্রতি মাসে বিনামূল্যে পণ্য পাবেন প্রবীণ শিল্পীরা
প্রতি মাসে বিনামূল্যে পণ্য পাবেন প্রবীণ শিল্পীরা

ছোটপর্দার অভিনয়শিল্পীদের সংগঠন অভিনয়শিল্পী সংঘ। শিল্পীদের কল্যাণে নানারকম কাজ করে যাচ্ছে তারা। প্রায়ই দেখা যায় নানা উদ্যোগ। এবার আরও একটি উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।যার ফলে নাটকের শিল্পীরা প্রতি মাসে বিনামূল্যে ৫ হাজার টাকার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনাকাটা করতে পারবেন। অভিনয়শিল্পী সংঘ ও সুপারশপ স্বপ্ন’র মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। সে চুক্তির আওতায় সংঘের তালিকাভু্ক্ত ২৫ জন প্রবীণ শিল্পী স্বপ্ন’র যেকোনো আউটলেট থেকে এই কেনাকাটা করতে পারবেন। ‎‎সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সংঘের কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।‎‎সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এটি কোনো আর্থিক সহায়তা নয়। বরং নাট্যাঙ্গনে দীর্ঘদিনের অবদান রাখা প্রবীণ ও গুণী শিল্পীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো একটি সম্মানজনক উদ্যোগ।‎‎সংঘের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু বলেন, চুক্তি অনুযায়ী অভিনয় শিল্পী সংঘের ২৫ জন সদস্য বিনামূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করতে পারবেন। এছাড়া ৬০ বছরের বেশি বয়সের শিল্পীরা ৭ শতাংশ এবং সকল সদস্যরা ৫ শতাংশ ছাড়ের সুবিধা পাবেন।‎‎তিনি জানান, ভবিষ্যতে অন্যান্য কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে এ ধরনের সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।‎‎সুপারশপ ‘স্বপ্ন’র উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান বর্তমান নির্বাহী কমিটির সদস্যারা।‎‎অনুষ্ঠানে অভিনয়শিল্পী সংঘের বর্তমান কমিটির নেতৃবৃন্দ, প্রবীণ সদস্যরা এবং ‌স্বপ্ন-এর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।   এমআই/এলআইএ

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
ছাত্রলীগের সাদ্দামকে কাদের বলেছিলেন, ‘তোমরা মারো না কেন, মারো?’

ছাত্রলীগের সাদ্দামকে কাদের বলেছিলেন, ‘তোমরা মারো না কেন, মারো?’

দাড়ি রাখতে পারবেন না কলকাতা পুলিশের সদস্যরা

দাড়ি রাখতে পারবেন না কলকাতা পুলিশের সদস্যরা

অভূতপূর্ব মানবাধিকার থাকার দাবি মাহদীর, মানতে নারাজ ইফতেখারুজ্জামান

অভূতপূর্ব মানবাধিকার থাকার দাবি মাহদীর, মানতে নারাজ ইফতেখারুজ্জামান

হলি ক্রস কলেজে ভর্তি পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ
হলি ক্রস কলেজে ভর্তি পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ

রাজধানীর খ্যাতনামা হলি ক্রস কলেজের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার পর এ ফল প্রকাশ করা হয়। কলেজের ওয়েবসাইট ও অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এ ফল পাওয়া যাচ্ছে। এদিকে, প্রকাশিত ফলাফলে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের আজ বিকেল ৫টা থেকে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার মধ্যে অনলাইনে বিকাশের মাধ্যমে ভর্তি ফি জমা দিয়ে ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি ফি জমা না দিলে ভর্তির সুযোগ বাতিল বলে গণ্য হবে। হলি ক্রসে আসন কত হলি ক্রস কলেজে এবার বিজ্ঞান বিভাগে ৭৮০টি, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ২৮০টি এবং মানবিক বিভাগে ২৯০টি আসন রয়েছে। সব মিলিয়ে একাদশ শ্রেণিতে মোট ১ হাজার ৩৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। ভর্তি সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য কলেজের ওয়েবসাইট www.hcc.edu.bd ও ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হবে। বিবাহিতদের ভর্তি নয় হলি ক্রস কলেজ জিপিএ ও অন্যান্য অ্যাকাডেমিক যোগ্যতার পাশাপাশি ভর্তির ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু শর্ত দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, হলি ক্রসে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিতে বিবাহিত ছাত্রীদের আবেদন করার প্রয়োজন নেই। সেশন (২০২৬-২৭) চলাকালে কোনো শিক্ষার্থী বিয়ে করলে তাকেও টিসি (ট্রান্সফার সার্টিফিকেট) দেওয়া হবে। পাশাপাশি নিয়মিত ক্লাস ও ব্যবহারিক ক্লাসে উপস্থিতি; কলেজ নির্ধারিত ইউনিফর্ম পরিধান; শরীরচর্চা ও সহ-পাঠ্যক্রম কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক। কলেজে মোবাইল ফোন আনা ও ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষেধ। এসব বিষয়ে আপত্তি থাকলে আবেদন করার প্রয়োজন নেই বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। ফল দেখতে এখানে ক্লিক করুন (https://www.facebook.com/share/p/1cjYYkgPBU/) এএএইচ/এমকেআর

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
সুপ্রিম কোর্টের মূল ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ

সুপ্রিম কোর্টের মূল ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ

গণতন্ত্রের পশ্চাদ্‌যাত্রা, লড়াই চলছে দেশে দেশে

গণতন্ত্রের পশ্চাদ্‌যাত্রা, লড়াই চলছে দেশে দেশে

গাজীপুরের বেক্সিমকোর শ্রমিকদের কেউ এখন চা বিক্রি করেন, কেউ চালান অটোরিকশা

গাজীপুরের বেক্সিমকোর শ্রমিকদের কেউ এখন চা বিক্রি করেন, কেউ চালান অটোরিকশা

0 Comments