জাতীয়

গণতন্ত্রের পশ্চাদ্‌যাত্রা, লড়াই চলছে দেশে দেশে

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
গণতন্ত্রের পশ্চাদ্‌যাত্রা, লড়াই চলছে দেশে দেশে
গণতন্ত্রের পশ্চাদ্‌যাত্রা, লড়াই চলছে দেশে দেশে

প্রতিবছর ১৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস সারা বিশ্বে গণতন্ত্রের অবস্থা বিবেচনা করার এবং তার সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করার সুযোগ তৈরি করে। অন্যদিকে দিবসটি প্রতিটি গণতান্ত্রিক এবং গণতন্ত্রাকাঙ্ক্ষী রাষ্ট্রকে এই আত্মোপলব্ধির মুখোমুখি করে যে গণতন্ত্রচর্চায় কতটা ঘাটতি আছে, কোথায় নজর দেওয়া প্রয়োজন। দেশে দেশে গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য দিনটি হচ্ছে গণতন্ত্রের জন্য তাঁদের আকাঙ্ক্ষা ও সংকল্পকে আরও দৃঢ় করার এবং তাঁদের ভূমিকা স্মরণ করার দিন।

২০২৬ সালে যখন আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস পালিত হচ্ছে, তখন বৈশ্বিকভাবে গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক সময় নয়। দুই দশক ধরেই সারা বিশ্বে গণতন্ত্রের পশ্চাদ্‌যাত্রা চলছে। পরিস্থিতি এমন এক জায়গায় উপনীত হয়েছে, যেখানে কর্তৃত্ববাদী দেশের সংখ্যা উদার এবং নির্বাচনী গণতন্ত্র (ইলেকটোরাল ডেমোক্রেসি) চর্চা করে এমন দেশকে ছাড়িয়ে গেছে। এই বছরের গোড়াতে প্রকাশিত ভ্যারাইটিজ অব ডেমোক্রেসি (ভি-ডেম) ইনস্টিটিউটের হিসাব অনুযায়ী, গণতান্ত্রিক দেশের সংখ্যা ৮৭, আর স্বৈরাচারী সরকারের অধীনস্থ দেশের সংখ্যা ৯২।

বৈশ্বিক এই চিত্রের সঙ্গে যা স্মরণ করা দরকার, তা হচ্ছে গণতন্ত্র এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। কেননা অতীতে গণতন্ত্রবিরোধী সরকারগুলো নিজের দেশের ভেতরেই তাদের কার্যক্রমকে সীমাবদ্ধ রেখেছিল। কিন্তু গত কয়েক বছরে এই সব দেশ নিজেদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় তাদের প্রভাব বাড়াচ্ছে।

চীন, রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া, ইরান, মিয়ানমার, তাজিকিস্তান, বেলারুশের মতো দেশগুলোর মধ্যে গড়ে ওঠা সহযোগিতা এখন কেবল অর্থনৈতিক নয়, কৌশলগতও। ভারতের মতো বড় দেশগুলো অভ্যন্তরীণভাবে গণতন্ত্রের পথ থেকে যেমন সরে আসছে, তেমনই এ ধরনের জোটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ছে। এই সহযোগিতার একটি প্রাতিষ্ঠানিক কেন্দ্র গড়ে না উঠলেও আদর্শিক জায়গা থেকে এদের অবস্থান গণতান্ত্রিক কাঠামোর বিপরীতে।

অন্যদিকে যেসব দেশ একসময় কনসোলিডেটেড ডেমোক্রেসি বা শক্তিশালী গণতন্ত্র বলে বিবেচিত হতো, যেমন যুক্তরাষ্ট্র; সেখানেও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমাগত দুর্বল হয়ে পড়ছে, ক্ষমতাসীনদের আচরণ কতটা গণতান্ত্রিক তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে; সর্বোপরি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর জনগণের আস্থায় চিড় ধরছে।

অবাধ নির্বাচন গণতন্ত্রে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করে, কিন্তু শাসনব্যবস্থায় জনগণের অংশীদারত্ব তৈরি হয় না যতক্ষণ পর্যন্ত জনগণের সঙ্গে সরকারের একটি আস্থার সম্পর্ক তৈরি হয়, জনগণের সঙ্গে রাষ্ট্রের একটি সামাজিক চুক্তি প্রতিষ্ঠিত হয়, জনগণ মনে করে তার মৌলিক অধিকার সুরক্ষার ব্যবস্থা আছে, সবার মধ্যে সুযোগের সমতার পথে অগ্রসর হওয়া যাচ্ছে এবং ক্ষমতাশালীদের জবাবদিহির প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

২০২৩ সালে ২৪টি দেশের ওপর করা পিউ রিসার্চের এক জরিপে দেখা যায় যে ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ, ৭৭ শতাংশ মানুষ, প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্রের পক্ষে। কিন্তু একই সঙ্গে ৫৯ শতাংশ মানুষ তাদের দেশে গণতন্ত্র যেভাবে চলছে, তাতে সন্তুষ্ট নয়। এদের অধিকাংশই মনে করে যে রাজনীতিবিদেরা তাদের কথা শুনছেন না। এর বাইরেও গণতন্ত্র যেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে, তার মধ্যে আছে সমাজে মেরুকরণ, পরিকল্পিত মিথ্যাচার।

গণতন্ত্রের এই সংকট সত্ত্বেও আশার বিষয় হচ্ছে, মানুষের গণতন্ত্রের আকাঙ্ক্ষাকে দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারী ব্যবস্থা এবং নিপীড়নও দমন করতে পারে না। অধিকাংশ স্বৈরাচারী শাসন এবং হাইব্রিড রেজিম (বা দো-আঁশলা ব্যবস্থা) নির্বাচনকে তাদের ক্ষমতা সংহত করার উপায় হিসেবে সাজিয়ে নেয়। ফলে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সুযোগ হয় অত্যন্ত সীমিত; আন্দোলন ও অভ্যুত্থানের পথই হয়ে ওঠে একমাত্র উপায়।

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব আন্দোলন ও অভ্যুত্থান ক্ষমতাসীনদের অপসারিত করার পাশাপাশি কাঠামোগত সংস্কারের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটায়। যেসব কারণ গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছিল, যেসব ব্যবস্থা ক্ষমতার এককেন্দ্রীকরণ ঘটিয়েছিল, যেসব ব্যবস্থা জবাদিহির পথগুলোকে রুদ্ধ করে দিয়েছিল, সেগুলো অব্যাহত রেখে যে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়, সেটা সহজেই বোধগম্য।

সাম্প্রতিক কালে সেসব দেশে নির্বাচনের মাধ্যমেও ক্ষমতা থেকে স্বৈরাচারী শাসকদের সরিয়ে দেওয়া গেছে, যেমন ২০২৩ সালে পোল্যান্ড এবং ২০২৬ সালে হাঙ্গেরি; সেখানেও নতুন গণতান্ত্রিক সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে, কী করে অতীতের স্বৈরাচারী শাসকদের তৈরি করা বিচারিক এবং প্রশাসনিক কাঠামোগুলো এবং গণমাধ্যমব্যবস্থাকে জবাবদিহিমূলক করে তোলা যায়।

বৈশ্বিকভাবে গণতন্ত্রের এই সংকট এবং চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও আমরা গত বছরগুলোয় নাগরিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বিভিন্ন দেশে আন্দোলন-অভ্যুত্থান প্রত্যক্ষ করেছি। শ্রীলঙ্কায় ২০২২ সালে, বাংলাদেশে ২০২৪, মাদাগাস্কারে ২০২৫ এবং নেপালে ২০২৬ সালে গণ-অভ্যুত্থানগুলো অগণতান্ত্রিক, জনবিচ্ছিন্ন এবং স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটিয়েছে।

এর বাইরে ভারত, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, মরক্কো, কেনিয়ায়ও সরকারের বিরুদ্ধে, বিশেষত সমাজে বিদ্যমান বৈষম্য, ক্ষমতাসীনদের দুর্নীতি, শাসনব্যবস্থায় জনগণের সীমিত অংশগ্রহণ, জবাবদিহির অভাবের বিরুদ্ধে তরুণসমাজ জেন–জির আহ্বানে মানুষ প্রতিবাদী হয়ে উঠেছে।

এ রকম একটি পটভূমিকায় এই বছর আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস পালন করা হচ্ছে। বাংলাদেশের জন্য এ বছর এই দিবসের তাৎপর্য অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। একটি অভাবনীয় গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে একটি নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে।

কিন্তু গত কয়েক দশকে বৈশ্বিকভাবেই দেখা গেছে, গণ-অভ্যুত্থান এবং অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে নির্বাচন ও নির্বাচিত সরকারই গণতান্ত্রিক উত্তরণের নিশ্চয়তা প্রদান করে না। এর জন্য দরকার হচ্ছে ওই সরকারের এবং তার সঙ্গে যুক্তদের পদক্ষেপ, যা পুরোনো ব্যবস্থা, তার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও আইনি প্রক্রিয়া বদলে দেবে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল এবং এগুলো কার্যকর করার একটি রূপরেখা জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এ প্রতিফলিত হয়েছে।

যে ক্লেপ্টোক্রেটিক ব্যবস্থা স্বৈরাচারী শাসনের ভিত্তি হয়, তা সমাজে বৈষম্য এবং দুর্নীতির বিকাশ ঘটায়, সেই একই ব্যবস্থা বহাল রেখে সাময়িকভাবে ক্ষমতাসীনেরা লাভবান হলেও গণতন্ত্রে উত্তরণ ঘটানো সম্ভব হয় না। গত কয়েক বছরে দেখা গেছে যে জেন-জি প্রজন্মের প্রধান ক্ষোভ, যা জনগণের কাছে সহজেই আবেদন তৈরি করেছে, তা হচ্ছে দুর্নীতি ও সুযোগের সমতার অভাব।

স্বৈরাচারী ব্যবস্থা থেকে গণতন্ত্রে উত্তরণ ঘটাতে এবং গণতন্ত্রকে স্থায়ী করতে হলে অংশগ্রহণ এবং অংশীদারত্বের পার্থক্য উপলব্ধি করা জরুরি। অবাধ নির্বাচন গণতন্ত্রে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করে, কিন্তু শাসনব্যবস্থায় জনগণের অংশীদারত্ব তৈরি হয় না যতক্ষণ পর্যন্ত জনগণের সঙ্গে সরকারের একটি আস্থার সম্পর্ক তৈরি হয়, জনগণের সঙ্গে রাষ্ট্রের একটি সামাজিক চুক্তি প্রতিষ্ঠিত হয়, জনগণ মনে করে তার মৌলিক অধিকার সুরক্ষার ব্যবস্থা আছে, সবার মধ্যে সুযোগের সমতার পথে অগ্রসর হওয়া যাচ্ছে এবং ক্ষমতাশালীদের জবাবদিহির প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ এবং জনগণের অংশীদারত্বের গণতন্ত্রের এই পার্থক্য অনুধাবন করতে না পারলে নির্বাচন অনুষ্ঠান, নির্বাচনে বিজয় এবং তার উদ্‌যাপনকেই গণতন্ত্র বলে মনে হবে।

স্বৈরাচারী ব্যবস্থার অনুকূল অতীতের আইনি এবং প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাগুলো নতুন মোড়কে সজ্জিত করা কিংবা ইতিমধ্যে এসব বিষয়ে অন্তর্বর্তী সময়ে যতটা অগ্রগতি হয়েছিল, তা থেকে সরে আসার যে প্রবণতা, স্বাধীন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান তৈরির ব্যাপারে যে অনীহা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যাপারে প্রতিশ্রুত পথ অবলম্বনে যে অনাগ্রহ গত কয়েক মাসে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীনদের আচরণে দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে, তা গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত দেয় না। রাষ্ট্রব্যবস্থা ও অর্থনীতির মৌলিক কাঠামোগত সংস্কার যদি না ঘটে, তবে পুরোনো ব্যবস্থার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কাই বাস্তবে রূপ নেয়।

৫৪ বছরের শাসনের অভিজ্ঞতা, বারবার গণতন্ত্রের পথচ্যুতি এবং দলমত-নির্বিশেষে ষোলো বছর ধরে অত্যাচার-নিপীড়নের শিকার ও জুলাই ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানে নিহত-আহত হাজার মানুষের আত্মদানের মধ্য দিয়েই গণতন্ত্রে উত্তরণের পথ তৈরি হয়েছে। এই সুযোগ যাতে হাতছাড়া হয়ে না যায়, সেটা নিশ্চিত করা ক্ষমতাসীনদের দায়িত্ব; কিন্তু ক্ষমতাসীনদের তা স্মরণ করিয়ে দেওয়া, তাঁদের প্রশ্নের মুখে রাখা, তাঁদের আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব অন্যান্য রাজনৈতিক দলের, নাগরিক প্রতিষ্ঠানগুলোর, গণমাধ্যমের এবং নাগরিকদের।

  •  আলী রীয়াজ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও অধ্যাপক

    মতামত লেখকের নিজস্ব

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
সৌদি যাওয়া হলো না, মায়ের মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফিরলেন নিরব
সৌদি যাওয়া হলো না, মায়ের মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফিরলেন নিরব

শুক্রবার সৌদি আরব যাওয়ার কথা ছিল নিরবের (২১)। ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়ে পরিবারের ভাগ্য বদলানোর স্বপ্নে ঋণ করে চার লাখ ৮০ হাজার টাকা জোগাড়ও করেছিলেন বাবা-মা। তবে সৌদি যাওয়া আর হলো না নিরবের। মায়ের মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়েছে তাকে। সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন তার মা। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন নিরব ও তার পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু পুলেরঘাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন তার মা জয়বাহার (৪৫)। দুপুর ১২টার দিকে কিশোরগঞ্জের পুলেরঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিরব ও তার বাবা রাশিদ মিয়া আহত হয়েছেন। নিরব কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার। আরও পড়ুন বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪, আহত ৭ পরিবার সূত্র জানায়, সড়ক দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জয়বাহারের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু ঢাকার পথে নরসিংদীর ইটেরখোলা এলাকায় গাড়ির ভেতরই তার মৃত্যু হয়। নিরবের বাবা রশিদ মিয়া বলেন, ‘ছেলেকে বিদেশে পাঠাতে ঋণ করে চার লাখ ৮০ হাজার টাকা জোগাড় করেছিলাম। এখন স্ত্রীকে হারিয়ে সব শেষ হয়ে গেল।’ ইটনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী মাসুদ জানান, এ ঘটনায় কটিয়াদী হাইওয়ে থানায় মামলা হয়েছে। দুর্ঘটনায় জড়িত লরি বা মালবাহী গাড়িটি এখনো শনাক্ত করা যায়নি। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে। এসকে রাসেল/এসআর/জেআইএম

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
আসিফের অভিযোগ এআই দিয়ে লেখা, দুদক সচিব বললেন ‘অনেক কথাই বলা হচ্ছে’

আসিফের অভিযোগ এআই দিয়ে লেখা, দুদক সচিব বললেন ‘অনেক কথাই বলা হচ্ছে’

জুবিনের রেখে যাওয়া কাজ নিয়ে যে প্রতিশ্রুতি দিলেন গরিমা

জুবিনের রেখে যাওয়া কাজ নিয়ে যে প্রতিশ্রুতি দিলেন গরিমা

চবির আলাওল হলের প্রভোস্টের কক্ষে তালা, পদত্যাগ দাবি

চবির আলাওল হলের প্রভোস্টের কক্ষে তালা, পদত্যাগ দাবি

বৃক্ষরোপণ শুধু গাছ লাগানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়
বৃক্ষরোপণ শুধু গাছ লাগানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়

‘বৃক্ষ শুধু রোপণ নয়, যত্ন নিয়ে বাঁচাতে হয়’ প্রতিপাদ্যে কয়েক ধাপে বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ করেছে ঠাকুরগাঁও বন্ধুসভা। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি ও তরুণদের মধ্যে পরিবেশ বিষয়ে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এই কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, আশ্রম, নদীর তীর ও সড়কের পাশে এগুলো রোপণ করা হয়।সব মিলিয়ে কর্মসূচির আওতায় ৫ হাজার ১৩০টি গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে ৪৮৩টি, লক্ষ্মীপুর হাজিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০০টি, ঠাকুরগাঁও রিভার ভিউ উচ্চবিদ্যালয়ে ৮৩০টি, ইকো পাঠশালা অ্যান্ড কলেজে ১ হাজার ৩০টি, সালান্দর আলিয়া মাদ্রাসায় ৫১৩টি এবং আর কে স্টেট উচ্চবিদ্যালয়ে ৮৩০টি গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া টিএমএস থেকে পাওয়া ১ হাজার ২৪৪টি গাছের চারাও বিভিন্ন স্থানে বিতরণ করা হয়েছে।ঠাকুরগাঁও বন্ধুসভার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি মুন্সিপাড়া গোরস্থান মাদ্রাসা ও শ্রীশ্রী শ্মশান কালীমাতা মন্দির প্রাঙ্গণেও গাছের চারা রোপণ করা হয়। কচুবাড়ি-কৃষ্ণপুর এলাকায় টাঙ্গন নদের তীর ও সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা লাগানো হয়। একই সঙ্গে মাতৃশিশু ও বয়স্ক আশ্রমের প্রাঙ্গণেও বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে।রোপণ করা চারাগুলোর পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিভিন্ন স্থানে চারাগুলো খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রঙিন জাল দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় মানুষ ও শিক্ষার্থীদের এসব গাছের পরিচর্যায় উৎসাহিত করা হচ্ছে। বন্ধুসভার সদস্যরা জানান, গাছ লাগানোর পর সেগুলোকে বাঁচিয়ে রাখাই তাঁদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।ঠাকুরগাঁও বন্ধুসভার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শিহাব বলেন, ‘বৃক্ষরোপণ শুধু গাছ লাগানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একটি চারা রোপণের পর সেটিকে যত্ন নিয়ে বাঁচিয়ে রাখাই আমাদের মূল দায়িত্ব। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে তরুণদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে হবে।’ঠাকুরগাঁও বন্ধুসভার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।সভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘শুধু গাছের চারা রোপণ করেই দায়িত্ব শেষ, এমনটি ভাবলে চলবে না। রোপণ করা এসব চারা পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ করাও আমাদের দায়িত্ব। এ কারণে গাছগুলোতে খুঁটি দেওয়া ও জাল দিয়ে ঘিরে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বন্ধুসভার সদস্যদের এসব গাছ নিয়মিত দেখভালের জন্য দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।’মাসব্যাপী এ কর্মসূচির সমন্বয় করেন বন্ধুসভার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম ইবনে আলিফ, প্রচার সম্পাদক সিয়ামুর রশিদ ও বন্ধু নুসরাত নিশি। কর্মসূচিতে সহসভাপতি রাবিয়া সুলতানা, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মারুফ হাসান, পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক ফারজানা উর্মি, বন্ধু পিংকি আক্তার, আল নাফিস চৌধুরী, মো. উজ্জ্বল, আনিসসহ বন্ধুসভার অন্যান্য সদস্যরা অংশ নেন।

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
নতুন সিম কেনার সময় যেসব বিষয় খেয়াল না করলেই বিপদ

নতুন সিম কেনার সময় যেসব বিষয় খেয়াল না করলেই বিপদ

হাম উপসর্গে ঝরলো আরও ৬ শিশুর প্রাণ

হাম উপসর্গে ঝরলো আরও ৬ শিশুর প্রাণ

আওয়ামী লীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগ তিন সংগঠনেরই সভাপতি-সেক্রেটারির ফাঁসির আদেশ

আওয়ামী লীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগ তিন সংগঠনেরই সভাপতি-সেক্রেটারির ফাঁসির আদেশ

শার্শায় যুবলীগের এক নেতা ও ইউপি সদস্যকে গ্রেফতার
শার্শায় যুবলীগের এক নেতা ও ইউপি সদস্যকে গ্রেফতার

যশোরের শার্শায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন যুবলীগের নেতা ও ইউপি সদস্য আসাদুল ইসলাম (৫২) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া উত্তরপাড়া গ্রামস্থ নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানান, শার্শা থানার ওসি শামিনুল হক। আটক আসাদুল ইসলাম বাগআঁচড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) এবং উক্ত ইউনিয়নের কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি মৃত কাওসার আলী বিশ্বাসের ছেলে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শার্শা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায়। অভিযানে বাগআঁচড়া উত্তরপাড়া গ্রামস্থ নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে। পুলিশ বলছে, ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে শার্শা থানায় দায়ের করা একটি সহিংসতার ঘটনার মামলায় তদন্ত সাপেক্ষে তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক বলেন, আটক আসামিকে দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। থানা এলাকায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলেও জানান তিনি। মো. জামাল হোসেন/কেজে/জেআইএম

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
গরুর মাংস নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে আতঙ্ক, বদলে যাচ্ছে খাদ্যাভ্যাস

গরুর মাংস নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে আতঙ্ক, বদলে যাচ্ছে খাদ্যাভ্যাস

মৃত্যুদণ্ড নিয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী, ‘এ রায়ে সন্তুষ্ট হতে পারিনি’

মৃত্যুদণ্ড নিয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী, ‘এ রায়ে সন্তুষ্ট হতে পারিনি’

চামড়ার ব্যাগ থেকে জুতা, তেজগাঁওয়ে বসছে ৫ দিনের মেলা

চামড়ার ব্যাগ থেকে জুতা, তেজগাঁওয়ে বসছে ৫ দিনের মেলা

0 Comments