সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতার নান্দনিক আবহে অনুষ্ঠিত হলো মেঘদূত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও লেখক-সুহৃদ মিলনমেলা-২০২৬।
‘সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে আলোকিত সমাজ বিনির্মাণের প্রত্যয়’কে ধারণ করে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম এমপি। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন কথাসাহিত্যিক সাদাত হোসাইন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলা বানান ও উচ্চারণ গবেষক রাশেদ চৌধুরী। স্বাগত ও সাংগঠনিক পর্বে উপস্থিত ছিলেন মেঘদূতের সাধারণ সম্পাদক কবি ও কথাসাহিত্যিক খান আফিফা লুনা, আহ্বায়ক প্রাবন্ধিক ও গবেষক গরীব নেওয়াজ এবং সদস্যসচিব সংগীতশিল্পী লুৎফুন নাহার পাখি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম বলেন, একটি আলোকিত ও মানবিক সমাজ নির্মাণে সাহিত্য-সংস্কৃতির চর্চার কোনো বিকল্প নেই। কবিতা, গল্প, গান ও শিল্পচর্চা মানুষের ভেতরের সৌন্দর্যকে জাগিয়ে তোলে এবং সমাজে সহনশীলতা, সম্প্রীতি ও মানবিকতার বোধ তৈরি করে। নতুন প্রজন্মকে বই, সাহিত্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি বলেন, সুস্থ সংস্কৃতিচর্চা শুধু বিনোদনের বিষয় নয়; এটি জাতির মনন, মূল্যবোধ ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের অন্যতম শক্তি। মেঘদূতের মতো সংগঠনগুলো নিয়মিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে সেই দায়িত্ব পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সভাপতির বক্তব্যে রাশেদ চৌধুরী বলেন, সাহিত্য ও সংস্কৃতির মূল শক্তি মানুষের হৃদয়কে স্পর্শ করা। সময়ের স্রোতে অনেক কিছু বদলে গেলেও একটি ভালো কবিতা, একটি সুন্দর গল্প কিংবা একটি নির্মল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা মানুষের মনে দীর্ঘস্থায়ী আলো জ্বালাতে পারে। মেঘদূতের ছয় বছরের পথচলা সেই আলোরই একটি ধারাবাহিক প্রয়াস।
তিনি বলেন, লেখক-সুহৃদদের পারস্পরিক যোগাযোগ ও সৃষ্টিশীলতার আদান-প্রদান সাহিত্যাঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ করবে। আগামী দিনে মেঘদূতের সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার পরিসর আরও বিস্তৃত হবে, এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বে ছিল স্ব-রচিত কবিতা পাঠ, লেখক পরিচিতি, নতুন গ্রন্থের সঙ্গে পরিচয়, সাহিত্যপত্র পাঠ উন্মোচন, সাহিত্যবিষয়ক আলোচনা, সম্মাননা প্রদান ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।
কবিতা ও কথার আবেশ, সুর ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনে পুরো আয়োজন হয়ে ওঠে লেখক-সুহৃদদের এক প্রাণের মিলনমেলা। ছয় বছরের পথচলার স্মৃতি ও আগামী দিনের স্বপ্নকে সঙ্গে নিয়ে মেঘদূতের এই আয়োজন যেন আবারও মনে করিয়ে দিল, সংস্কৃতির আলো যত ছড়াবে, সমাজের অন্ধকার ততই সরে যাবে।
এমএমএআর
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
বাংলাদেশ সরকারের ওয়েব পোর্টাল জাতীয় তথ্য বাতায়নের মধ্যে থাকা কোনো ওয়েবসাইটের কোথাও রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জীবনবৃত্তান্ত নেই। সংশ্লিষ্ট সাইটগুলোতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীর নাম ও ছবি থাকলেও ‘বিস্তারিত’–এ ক্লিক করলে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায় না। বেশির ভাগ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টারও জীবনবৃত্তান্ত নেই। কয়েকজনের জীবনবৃত্তান্ত আছে বাংলায়, কয়েকজনের ইংরেজিতে। আজ মঙ্গলবার ও গতকাল সোমবার সরকারের ৫৭ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ওয়েবসাইট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, মন্ত্রণালয়ের সাইটগুলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অসম্পূর্ণ। প্রতিটি সরকারি সাইটের কারিগরি সহয়তায় আছে এটুআই (অ্যাস্পায়ার টু ইনফরমেশন), ক্যাবিনেট ডিভিশন (মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ), আইসিটি বিভাগ ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে আছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, এটুআই, বিসিসি (বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল), আইসিটি অধিদপ্তর ও বেসিস।৫৭ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ওয়েবসাইট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সব সাইটই একটি ধাঁচে তৈরি। এর মধ্যে নোটিশ বোর্ড সব সাইটেই হালনাগাদ হয়। অনেক সাইটে চলমান ও সমাপ্ত প্রকল্পের তালিকা আছে। অনেক সাইটে প্রকল্প মেন্যুটিই নেই। আবার কিছু মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে ‘অননুমোদিত নতুন প্রকল্পের’ তালিকা আছে। প্রকল্প অননুমোদিত হলে নতুন হয় কী করে? এ ধরনের ভাষাগত সমস্যা প্রায় সব সাইটেই আছে।জাতীয় তথ্য বাতায়নের মূল পৃষ্ঠা বা হোমে ৫৭ মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ক্লিক করলে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের তালিকা পাওয়া যায়। এই তালিকা বর্ণানুক্রমিক নয়, বা গুরুত্ব অনুসারে সাজানো হয়নি। শুরুতে ১ ও ২ নম্বরে আছে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এরপর ৩ নম্বরে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও ৪ নম্বরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। ৫ নম্বরে আছে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ৬ নম্বরে প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় যেমন অর্থ ১৯ নম্বরে, পররাষ্ট্র ২০ নম্বরে, স্বরাষ্ট্র ২২ নম্বরে। এই তালিকাটা বর্ণানুক্রমিক বা মন্ত্রণালয়ের গুরুত্ব অনুসারে সাজানো উচিত।বঙ্গভবনের ওয়েবসাইটে রাষ্ট্রপতির জীববৃত্তান্ত নেইজাতীয় তথ্য বাতায়ন থেকে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে ক্লিক করলে বঙ্গভবনের ওয়েবসাইট আসে। এখানে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে স্বাগত জানিয়ে একটি লেখা ও তাঁর কর্মকাণ্ডের কিছু ছবি থাকলেও জীবনবৃত্তান্ত নেই। লেখার ওপরে ‘মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, রাষ্ট্রপতি, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’ লেখা আছে। এরপর ‘বিস্তারিত’ হাইপার লিংক থাকলেও সেখানে ক্লিক করে তাঁর ছবি পাওয়া যায়, কিন্তু কোনো জীবনবৃত্তান্ত নেই। যদিও এখানে লেখা আছে ‘কনটেন্ট: জীবনবৃত্তান্ত’। সাবমেনু ‘মহামান্য রাষ্ট্রপতির পারিবারিক সদস্যবৃন্দ’–এও কোনো তথ্য নেই।বঙ্গভবন ডটগভ ডটবিডি ওয়েবসাইটের মধ্যে আরও দুটি ওয়েবসাইট আছে। ‘আপন বিভাগ’ ও ‘জন বিভাগ’। এই দুই বিভাগের কোনোটাতেই রাষ্ট্রপতির জীবনবৃত্তান্ত খুঁজে পাওয়া গেল না। ‘রাষ্ট্রপতির ভাষণ’ মেন্যুতে দেখা যায় সবার ওপরে হালনাগাদ করা ভাষণটি ২০২৩ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তারিখের। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের ভাষণের বিষয়টি শুধু লেখা আছে। অথচ মো. আবদুল হামিদের পর আরও একজন রাষ্ট্রপতি (মো. সাহাবুদ্দিন) হয়েছিলেন। জনবিভাগের সচিবের নাম ও ছবি থাকলেও জীবনবৃত্তান্ত নেই।বঙ্গভবন ডটগভ ডটবিডির আপন বিভাগের ওয়েবসাইটে ডান দিকে রাষ্ট্রপতির নাম ও ছবি থাকলেও জীবনী নেই। রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিবের নাম, ছবি ও বিস্তারিত থাকলেও কোনো হাইপারলিঙ্ক নেই। ‘রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, আপন বিভাগ, বঙ্গভবনের ওয়েবসাইটে আপনাকে স্বাগতম’ শিরোনামে একটা লেখা আছে। এতে উল্লেখ আছে রাষ্ট্রপতির কার্যক্রম কী, সে তালিকা।প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নামের নিচে ‘বিস্তারিত’ হাইপারলিঙ্কও নেইনেই প্রধানমন্ত্রীর বিস্তারিত তথ্যকোন কর্মকর্তা কবে থেকে কবে ছুটি নিচ্ছেন, কোথায় যাচ্ছেন সেসব তথ্য নিয়ে হালনাগাদ করা ‘নোটিশ বোর্ড’ থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কোনো জীবনবৃত্তান্ত নেই। এমনকি তাঁর নামের নিচে ‘বিস্তারিত’ হাইপারলিঙ্কও নেই। ‘প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ’ মেনুতে ‘জাতির উদ্দেশে ভাষণ’ ও ‘অন্যান্য ভাষণ’ দুটি সাবমেনুর একটিও কাজ করে না। তবে ‘প্রধানমন্ত্রীর বাণী’ মেনুতে বিভিন্ন দিবসে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর বাণীগুলো আছে, ‘বিবৃতি’ নেই। আছে প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন কার্যক্রমের ছবি।মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর ওয়েবসাইট অসম্পূর্ণজাতীয় তথ্য বাতায়নে ৫৭টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ওয়েবসাইট থাকলেও সেগুলো অসম্পূর্ণ। সব সাইটেই নোটিশ বোর্ড নিয়মিত হালনাগাদ হয়। সবার ওপরে নোটিশ বোর্ড দৃষ্টিকটু লাগে। তবে বেশির ভাগ সাইটে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা সচিবের জীবনবৃত্তান্ত নেই।সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের ওয়েবসাইটের ডান দিকে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ও নাম থাকলেও জীবনবৃত্তান্ত নেই। উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামের নাম ও ছবি থাকলেও জীবনবৃত্তান্ত নেই। তবে প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারের জীবনবৃত্তান্ত আছে ইংরেজিতে।মন্ত্রিপরিষদ বিভাগেও প্রধানমন্ত্রীর বিস্তারিত তথ্য নেই। তবে সচিবের জীবনবৃত্তান্ত আছে। পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সাচিং প্রু। তাঁর নাম ও ছবির নিচে বিস্তারিত–এ ক্লিক করলে জীবনবৃত্তান্ত নেই। অবাক করার বিষয় হলো তাঁর বিস্তারিত পেজের ওয়েব ঠিকানায় সাবেক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের নাম লেখা আছে। এখানে প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের জীবনবৃত্তান্তও নেই। এই সাইট ‘চলমান প্রকল্প’–এ কোনো তথ্য নেই।যেসব সাইটে মন্ত্রীদের তথ্য আছেকৃষি, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন (সচিবের জীবনী নেই), সড়ক পরিবহন ও সেতু (প্রতিমন্ত্রীর জীবনী নেই), সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, শিক্ষা (মন্ত্রীর জীবনবৃত্তান্ত ইংরেজিতে, সচিবের নেই), পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন (মন্ত্রীর জীবনবৃত্তান্ত থাকলেও প্রতিমন্ত্রীর নেই), অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ (মন্ত্রীর জীবনবৃত্তান্ত ইংরেজিতে), পররাষ্ট্র (মন্ত্রী, দুই প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের জীবনবৃত্তান্ত ইংরেজিতে), স্বরাষ্ট্র, আইন বিচার ও সংসদ, ভূমি, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি (মন্ত্রীর জীবনবৃত্তান্ত ইংরেজিতে), নৌপরিবহন (প্রতিমন্ত্রীর জীবনবৃত্তান্ত নেই), মহিলা ও শিশুবিষয়ক (সচিবের জীবনবৃত্তান্ত নেই), পানিসম্পদ (মন্ত্রীর জীবনবৃত্তান্ত থাকলেও প্রতিমন্ত্রীর নেই), মুক্তিযুদ্ধ (মন্ত্রীর জীবনবৃত্তান্ত থাকলেও প্রতিমন্ত্রীর নেই), রেলপথ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (মন্ত্রীর জীবনবৃত্তান্ত ইংরেজিতে থাকলেও উপদেষ্টার নেই) মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে মন্ত্রীদের জীবনবৃত্তান্ত আছে।যেসব সাইটে মন্ত্রীদের তথ্য নেইবাণিজ্য (সচিবের জীবনবৃত্তান্ত ইংরেজিতে), সংস্কৃতি (মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের জীবনবৃত্তান্ত নেই), প্রতিরক্ষা (প্রধানমন্ত্রী, উপদেষ্টা, সচিবের জীবনবৃত্তান্ত নেই), খাদ্য (সচিবের জীবনবৃত্তান্ত আছে), প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ (জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে মন্ত্রী ও প্রতমন্ত্রীর জীবনবৃত্তান্ত আছে, তবে সচিবের নেই), পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন (প্রতিমন্ত্রীর জীবনবৃত্তান্ত নেই), জনপ্রশাসন (শুধু সিনিয়র সচিবের জীবনবৃত্তান্ত আছে), মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত, শিল্প, তথ্য ও সম্প্রচার, বস্ত্র ও পাট, শ্রম ও কর্মসংস্থান, স্থানীয় সরকার বিভাগ (প্রতিমন্ত্রীর জীবনবৃত্তান্ত আছে), পরিকল্পনা, ধর্ম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ (সচিবের জীবনবৃত্তান্ত ইংরেজিতে), সমাজকল্যাণ, যুব ও ক্রীড়া (সচিবের জীবনবৃত্তান্ত আছে) এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীদের জীবনবৃত্তান্ত নেই।মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ৯ সেপ্টেম্বর এক পরিপত্রে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের পদবির আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ বা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ লিখিতভাবে ব্যবহার না করার অনুরোধ জানিয়েছে। তারপরও জাতীয় তথ্য বাতায়নের ওয়েবসাইটগুলোতে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ শব্দগুলো রয়ে গেছে। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের সাইটে বীরশ্রেষ্ঠদের তালিকা থাকলেও মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা নেই। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাইটে সশস্ত্রবাহিনীর সদস্য জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা আছে। অনেক ওয়েবসাইটেই প্রকল্পের তথ্য হালনাগাদ হয়নি। সরকার গঠনের সাত মাস পরও সরকারি ওয়েব পোর্টাল জাতীয় তথ্য বাতায়ন একরকমের অবেহলিত অবস্থায় রয়েছে, তা দেখে বোঝা যায়।
চট্টগ্রাম নগরীর ২ নম্বর গেট এলাকার বিপ্লব উদ্যানকে আধুনিক ও নাগরিকবান্ধব বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। সেখানে তরুণ প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরতে বিশেষ ‘ইতিহাস কর্নার’ রাখা হবে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিপ্লবী উদ্যানের চলমান উন্নয়নকাজ পরিদর্শন করে এসব কথা বলেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। পরিদর্শনকালে মেয়র উদ্যানের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে উন্নয়নকাজের অগ্রগতি ও সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেন। একই সঙ্গে কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উন্নয়নকাজ শেষ করার নির্দেশ দেন তিনি। ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বিপ্লবী উদ্যানের সঙ্গে আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি জড়িয়ে আছে। বিশেষ করে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত এই স্থানকে এমনভাবে সাজানো হবে, যেন নগরবাসী বিনোদনের পাশাপাশি আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারে। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্য বিপ্লবী উদ্যানে একটি বিশেষ ইতিহাস কর্নার থাকবে। নতুন প্রজন্ম যেন মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস, জাতীয় অর্জন এবং দেশের জন্য যারা অবদান রেখেছেন, তাদের সম্পর্কে জানতে পারে সেই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে এখানে ইতিহাস তুলে ধরা হবে। মেয়র বলেন, বিপ্লবী উদ্যানকে শুধু পার্ক হিসেবে নয়, ইতিহাস, ঐতিহ্য, বিনোদন ও নাগরিকদের স্বস্তির সমন্বিত একটি নান্দনিক স্থান হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। তিনি বলেন, নগরবাসীর হাঁটার জন্য আধুনিক ওয়াকওয়ে, সবুজায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যমে উদ্যানটিকে আরও দৃষ্টিনন্দন করা হবে। একই সঙ্গে নাগরিকদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। চসিক মেয়র আরও বলেন, চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ, নান্দনিক ও বাসযোগ্য নগর হিসেবে গড়ে তুলতে উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ উদ্যান ও উন্মুক্ত স্থানগুলো পর্যায়ক্রমে আধুনিকায়ন করে নাগরিকদের জন্য আরও ব্যবহারবান্ধব করা হবে। পরিদর্শনকালে চসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তা ও উন্নয়নকাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। এমআরএএইচ/এমকেআর
প্রতিবছর ২০-২২ লাখের বেশি তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছেন। কিন্তু শুধু পুরোনো কয়েকটি খাতের ওপর আর কত দিন? নতুন কাজ, ব্যবসা আর ডলার আনার রাস্তা খুঁজতে হবে। সেই রাস্তার একটি হতে পারে সিলভার ইকোনমি। সিলভার ইকোনমি কী? চীন, জাপান, ফিলিপাইনসহ বিভিন্ন দেশে কীভাবে এই অর্থনীতি কাজ করছে, তা নিয়ে লিখেছেন মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন শিকদারবিশ্ব এখন অনিশ্চিত সময় পার করছে। ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, যুক্তরাষ্ট্র-চীনের টানাটানির সঙ্গে বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়েও উত্তেজনা বাড়ছে। ২০২৫ সালে আইইউ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক রোলান্ড ব্রান্ডটিয়েন তাঁর ইকোস অব দ্য নাইনটিন থার্টিজ: আ সায়েন্টিফিক কমপারেটিভ অ্যানালাইসিস অব প্রি-ওয়ার্ল্ড ওয়ার টু ডায়নামিকস অ্যান্ড কনটেমপোরারি জিওপলিটিকস গবেষণাপত্রে বর্তমান সময়ের সঙ্গে ১৯৩০-এর দশকের কিছু মিল দেখিয়েছেন। ২৪ মার্চ ২০২৬-এ ওয়্যার্ড ম্যাগাজিনের ‘টেক সাপোর্ট’ প্রশ্নোত্তরে সাবেক মার্কিন নিরাপত্তা উপদেষ্টা বেন রোডস বলেন, পৃথিবী তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ‘অস্বস্তিকর রকম কাছাকাছি’। তবে বড় যুদ্ধ হবেই—এটা নিশ্চিত নয়।এই বদলে যাওয়া বিশ্বে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জও কম নয়। প্রতিবছর ২০-২২ লাখের বেশি তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছেন। বিশ্বব্যাংকের ২০১৯ সালের ‘স্কিলিং আপ বাংলাদেশের ইয়ুথ ফর আ চেঞ্জিং জব মার্কেট’ এবং আইএলওর ২০২১ সালের ‘আ বুস্ট টু স্কিলস ট্রেনিং ইন বাংলাদেশ’—দুই লেখাতেই প্রায় একই হিসাব এসেছে।তাহলে এত মানুষের কাজ আসবে কোথা থেকে? তৈরি পোশাক, প্রবাসী আয়, চামড়া—এগুলো থাকবে। কিন্তু শুধু পুরোনো কয়েকটি খাতের ওপর আর কত দিন? নতুন কাজ, ব্যবসা আর ডলার আনার রাস্তা খুঁজতে হবে। সেই রাস্তার একটি হতে পারে সিলভার ইকোনমি।এ কি তারুণ্যের অর্থনীতি নাকি বার্ধক্যের?ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হওয়ার পথে বাধা কোথায়সিলভার ইকোনমি আসলে কী?নামটা শুনতে কঠিন, কিন্তু বিষয়টা সহজ। ধরুন, একজন মানুষের বয়স ৭০ বছর। তাঁর ডাক্তার, ওষুধ, নার্স বা কেয়ারগিভার লাগতে পারে। হাঁটার জন্য হুইলচেয়ার কিংবা নিরাপদে চলাফেরার ব্যবস্থাও দরকার হতে পারে।কিন্তু তিনি শুধু রোগী নন। তিনি খাবার কেনেন, ব্যাংকে টাকা রাখেন, বিমা করেন, বেড়াতে যান, মোবাইল বা স্মার্টওয়াচ ব্যবহার করেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে এসব চাহিদা ঘিরে যে পণ্য, সেবা, প্রযুক্তি আর ব্যবসা গড়ে ওঠে, সহজ কথায় সেটাই সিলভার ইকোনমি।এর মানে শুধু নার্স বা কেয়ারগিভার নয়। হোম কেয়ার, হাসপাতাল, রিহ্যাবিলিটেশন, বয়স্কদের উপযোগী বাড়ি, বিমা, পেনশন, পর্যটন, পরিবহন, হুইলচেয়ার, মেডিক্যাল যন্ত্রপাতি, টেলিমেডিসিন, স্মার্ট হোম, পড়ে গেলে খবর দেওয়ার সেন্সর, এমনকি এআই দিয়ে স্বাস্থ্য দেখাশোনা ও কেয়ার রোবটও এর অংশ।হঠাৎ এত আলোচনা কেনকারণটা সোজা—মানুষ বেশি দিন বাঁচছে, কিন্তু অনেক দেশে সন্তান হচ্ছে কম। জাতিসংঘের ‘ওয়ার্ল্ড পপুলেশন প্রসপেক্টস ২০২৪’ বলছে, বিশ্বের অর্ধেকের বেশি দেশে একজন নারী গড়ে ২ দশমিক ১টির কম সন্তান জন্ম দিচ্ছেন। একই সঙ্গে মানুষের আয়ুও দীর্ঘ হচ্ছে। ফলে একদিকে মানুষ দীর্ঘ জীবন পাচ্ছেন, অন্যদিকে নতুন প্রজন্ম তুলনামূলক ছোট হচ্ছে। তাই তাঁদের দেখাশোনা এবং অর্থনীতির কাজ চালানোর লোক পাওয়া অনেক দেশে কঠিন হয়ে পড়ছে।ইউরোপিয়ান কমিশনের ২০২১ সালে প্রকাশিত গবেষণা ‘গ্রিন পেপার অন এজিং’ বলছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রতি পাঁচজনের প্রায় একজনের বয়স ৬৫ বছরের বেশি। ২০৭০ সালের দিকে তা প্রায় প্রতি তিনজনে একজন হতে পারে। তখন একজন ৬৫ বছরের বেশি মানুষের বিপরীতে কাজ করার বয়সী মানুষ থাকবে দুজনের কম।এর সঙ্গে আছে ‘বেবি বুমার’ প্রজন্ম। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপ, আমেরিকাসহ অনেক দেশে একসঙ্গে অনেক শিশুর জন্ম হয়েছিল। সেই প্রজন্ম এখন অবসরের বয়সে পৌঁছাচ্ছে। জার্মানির সরকারি পরিসংখ্যান সংস্থা ডেস্টাটিস বলছে, আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে তাঁদের বড় অংশ চাকরির বাজার ছাড়বেন। অথচ জায়গা পূরণের মতো নতুন প্রজন্ম তুলনামূলক ছোট।তাই একদিকে সেবা নেওয়ার মানুষ বাড়ছে, অন্যদিকে তা দেওয়ার লোক পাওয়া কঠিন হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, পরিবহন, বিমা ও প্রযুক্তিতে।একজন মানুষের বয়স ৭০ বছর। তাঁর ডাক্তার, ওষুধ, নার্স বা কেয়ারগিভার লাগতে পারে।তাহলে এই অর্থনীতি কত বড়ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম ২৬ আগস্ট ২০২৬-এর ‘হাউ এজিং কনজ্যুমারস আর রিশেপিং দ্য গ্লোবাল ইকোনমি’ লেখায় ওয়ার্ল্ড ডেটা ল্যাবের তথ্য দিয়ে বলেছে, বয়সী মানুষের জন্য বিশেষভাবে তৈরি পণ্য ও সেবার বিশ্ববাজার এখন প্রায় ৪ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার। এটি বছরে প্রায় ৭ শতাংশ হারে বড় হচ্ছে। একই সূত্র অনুযায়ী, বিশ্বের জনসংখ্যার মাত্র ১৫ শতাংশের বয়স ৬০ বছরের বেশি। অথচ ২০২৬ সালে মোট ভোক্তা খরচের প্রায় ২৭ শতাংশ বা ১৯ ট্রিলিয়ন ডলার তাঁদের হাত থেকে আসবে।দুটো হিসাব আবার এক নয়। ১৯ ট্রিলিয়ন ডলার হলো ৬০ বছরের বেশি বয়সী মানুষের মোট কেনাকাটা ও খরচ। আর ৪ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার হলো তাঁদের বিশেষ চাহিদা ঘিরে তৈরি পণ্য ও সেবার বাজার। অর্থাৎ তাঁরা শুধু চিকিৎসা বা পরিচর্যা নেওয়ার মানুষ নন; বড় এক ক্রেতাগোষ্ঠীও।ইউরোপিয়ান কমিশনের ২০২১ সালের ‘সিলভার ইকোনমি’ পেজে এর আকার প্রায় ৫ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ইউরো বলা হয়েছে। আবার কমিশনের ‘ইউরোপিয়ান কেয়ার স্ট্র্যাটেজি’ বলছে, বর্তমান দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা ধরে রাখতেই ২০৫০ সালের মধ্যে আরও ১৬ লাখের বেশি কর্মী যোগ করতে হবে।জার্মানিতে ২০৪৯ সালে প্রায় ২১ লাখ ৫০ হাজার কেয়ার কর্মী দরকার হতে পারে। ডেস্টাটিসের ২০২৪ সালের হিসাবে, তারপরও ২ লাখ ৮০ হাজার থেকে ৬ লাখ ৯০ হাজার লোকের ঘাটতি থাকতে পারে।আমেরিকায় ইউএস ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিসটিকস বা বিএলএস-এর প্রক্ষেপণেও হোম হেলথ ও পার্সোনাল কেয়ার এইড পেশায় প্রতিবছর কয়েক লাখ কাজের সুযোগের কথা বলা হয়েছে। এর সবই নতুন পদ নয়; অবসর, চাকরি ছাড়া ও নতুন কাজ মিলিয়ে এই সংখ্যা।জাপানের মিনিস্ট্রি অব হেলথ, লেবার অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার ২০২৪ সালে জানিয়েছে, ২০২২ সালে প্রায় ২১ লাখ ৫০ হাজার কেয়ার কর্মী ছিলেন। ২০২৬ সালে লাগবে প্রায় ২৪ লাখ, আর ২০৪০ সালে ২৭ লাখ ২০ হাজার। অর্থাৎ আরও প্রায় ৫ লাখ ৭০ হাজার জন লাগবে।দক্ষিণ কোরিয়ার কোরিয়া ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট–কেডিআইয়ের গবেষক জংহিউন কওন ২০২৬ সালের ‘এল্ডারকেয়ার ওয়ার্কফোর্স: প্রজেকশনস অ্যান্ড পলিসি ইমপ্লিকেশনস’ গবেষণায় দেখিয়েছেন, এখনকার কাজের চাপ একই রাখতে ২০৩৩ সালে আরও প্রায় ৩ লাখ ৩২ হাজার, আর ২০৪৩ সালে প্রায় ৯ লাখ ৯০ হাজার কর্মী লাগতে পারে। কেডিআই বিদেশি কর্মী আনার পথ সহজ করার পাশাপাশি কেয়ার রোবট ব্যবহারের কথাও বলছে।অন্যরা তাহলে কী করছেএই পরিবর্তন দেখে বিভিন্ন দেশ শুধু কর্মীর ঘাটতি মেটানোর কথা ভাবছে না; নতুন ব্যবসাও ধরতে চাইছে। সবচেয়ে ভালো উদাহরণ চীন। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে চীনের স্টেট কাউন্সিল ‘ডেভেলপিং দ্য সিলভার ইকোনমি অ্যান্ড ইমপ্রুভিং দ্য ওয়েল-বিয়িং অব দ্য এলডারলি’ নামে একটি জাতীয় নীতিপত্র প্রকাশ করে। সেখানে সিলভার ইকোনমিকে বড় সম্ভাবনার শিল্প হিসেবে দেখা হয়েছে।চীন কী করতে চাইছে, সেটাই আসলে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তারা বয়স্কদের উপযোগী পোশাক ও জুতা, খাবার, স্মার্ট হোম, স্মার্ট ঘড়ি ও পরিধানযোগ্য যন্ত্র, কেয়ার রোবট, স্মার্ট হুইলচেয়ার, পুনর্বাসন সরঞ্জাম তৈরির কথা বলছে। এর সঙ্গে বিমা ও আর্থিক সেবা, হোটেল-মোটেল এবং প্রবীণবান্ধব পর্যটনও রয়েছে। অর্থাৎ এখানে শুধু চাকরি নয়—কারখানা আছে, প্রযুক্তি আছে, রপ্তানি আছে, পর্যটন আছে, নতুন ধরনের সেবাও আছে।অন্যদিকে ভারত প্রশিক্ষিত জেরিয়াট্রিক কেয়ারগিভার তৈরির জন্য সরকারি কর্মসূচি নিয়েছে। দেশটির মিনিস্ট্রি অব সোশ্যাল জাস্টিস অ্যান্ড এমপাওয়ারমেন্টের ‘ট্রেনিং অব জেরিয়াট্রিক কেয়ারগিভার্স’ কর্মসূচির উদ্দেশ্যই হলো বাড়তে থাকা চাহিদার বিপরীতে পেশাগতভাবে প্রশিক্ষিত কর্মীর ঘাটতি কমানো।কেউ দক্ষ মানুষ তৈরি করছে, কেউ নতুন পণ্য বানাচ্ছে, কেউ প্রযুক্তিতে ঢুকছে, কেউ পর্যটন ও সেবা গড়ে তুলছে। অর্থাৎ ৪ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের এই অর্থনীতি ধরার রাস্তা একটাই নয়। মানুষ পাঠানো তার একটি পথ; পণ্য, প্রযুক্তি, ব্যবসা ও সেবা নিয়ে ঢোকাও আরেকটি বড় পথ।ফিলিপাইনও অনেক আগে থেকেই জাপানের সঙ্গে ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট ব্যবহার করে নার্স ও কেয়ারগিভার তৈরি ও পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে। সেখানে শুধু প্রশিক্ষণ নয়; জাপানি ভাষা শেখানো এবং গন্তব্য দেশের পেশাগত পরীক্ষার জন্যও কর্মীদের প্রস্তুত করা হয়।এই উদাহরণগুলোর মধ্যে একটা মিল আছে। কেউ দক্ষ মানুষ তৈরি করছে, কেউ নতুন পণ্য বানাচ্ছে, কেউ প্রযুক্তিতে ঢুকছে, কেউ পর্যটন ও সেবা গড়ে তুলছে। অর্থাৎ ৪ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের এই অর্থনীতি ধরার রাস্তা একটাই নয়। মানুষ পাঠানো তার একটি পথ; পণ্য, প্রযুক্তি, ব্যবসা ও সেবা নিয়ে ঢোকাও আরেকটি বড় পথ।বাংলাদেশ কোথায়, এখন কী করতে হবেবাংলাদেশকে শূন্য থেকে শুরু করতে হবে না। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) অধীনে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) আছে, নার্সিং শিক্ষা আছে, বেসরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানও আছে। জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ–এনএসডিএর অধীনে বয়স্কদের কেয়ারগিভিং প্রশিক্ষণও হচ্ছে। সমস্যা হলো, এগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে; সিলভার ইকোনমিকে সামনে রেখে এক পরিকল্পনায় আনা হয়নি।প্রথম কাজ হওয়া উচিত একটি জাতীয় টাস্কফোর্স। প্রবাসীকল্যাণ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বাণিজ্য, শিল্প ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বিএমইটি, এনএসডিএ, বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্যবসায়ীদের একসঙ্গে বসাতে হবে। কোন দেশে কী ধরনের কর্মী, পণ্য ও সেবার চাহিদা আছে, সেটা দেখে একটি জাতীয় পরিকল্পনা করতে হবে।নতুন প্রতিষ্ঠান বানানোরও দরকার নেই। বিদ্যমান কয়েকটি টিটিসিকে বিশেষায়িত কেয়ারগিভিং একাডেমিতে রূপান্তর করা যায়। সেখানে কেয়ারগিভিংয়ের সঙ্গে জাপানি, জার্মান, কোরীয়সহ প্রয়োজনীয় ভাষা ও গন্তব্য দেশের কাজের নিয়ম শেখাতে হবে। বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব করে তাদের কারিকুলাম, প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষার মান যুক্ত করতে হবে, যাতে এখানকার সনদ বিদেশেও সহজে গ্রহণযোগ্য হয়।ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি যে কারণে অবাস্তব নয় ভালো প্রশিক্ষক ও ভাষাশিক্ষকের ঘাটতি আছে। রাতারাতি তা পূরণ হবে না। বিদেশে থাকা দক্ষ বাংলাদেশিদের অনলাইনে যুক্ত করা যেতে পারে। যাঁরা সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষা ও কাজের পরিবেশ জানেন, সরকার তাঁদের সম্মানী দিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের ক্লাস নিতে পারে। এতে ভাষা শেখানোর পাশাপাশি বিদেশের কাজের বাস্তব অভিজ্ঞতাও দেশে আসবে।বিশ্ববিদ্যালয় ও নার্সিং প্রতিষ্ঠানে জেরিয়াট্রিক কেয়ার, এল্ডার কেয়ার ম্যানেজমেন্ট ও রিহ্যাবিলিটেশনে অনার্স, মাস্টার্স, ডিপ্লোমা ও স্বল্পমেয়াদি কোর্সের সুযোগ বাড়াতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক বাধা ও বিভিন্ন অংশীজনের স্বার্থে সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান অবকাঠামো পুরোপুরি কাজে লাগছে না। প্রয়োজনীয় মান ও নিয়ন্ত্রণ রেখে এই সুযোগ উন্মুক্ত করার সময় এসেছে।তবে পরিকল্পনাটা শুধু লোক পাঠানোয় আটকে থাকলে চলবে না। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের কারখানা, দক্ষতা ও বিদেশি ক্রেতার যোগাযোগ আগে থেকেই আছে। এগুলো কাজে লাগিয়ে বয়স্কদের উপযোগী পোশাক, বিশেষ জুতা ও ব্যবহারযোগ্য পণ্য তৈরি করা যায়। পাশাপাশি ওষুধ, হালকা চিকিৎসা সরঞ্জাম, সহায়ক যন্ত্র, সফটওয়্যার ও ডিজিটাল সেবার বাজারও খুঁজতে হবে। প্রবীণবান্ধব পর্যটন, ওয়েলনেস ও রিহ্যাবিলিটেশন সেবার সুযোগও যাচাই করা যেতে পারে।তাই কাজটা দুই পথে একসঙ্গে করতে হবে—আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ মানুষ তৈরি করে বিদেশে পাঠানো এবং বিদ্যমান শিল্পের শক্তি কাজে লাগিয়ে নতুন পণ্য ও সেবা নিয়ে এই বাজারে ঢোকা। সরকারের কাজ হবে দেশভিত্তিক চুক্তি, প্রশিক্ষণ ও সনদের স্বীকৃতি, বিদেশি অংশীদার আনা এবং ব্যবসার পথ সহজ করা। অর্থাৎ সিলভার ইকোনমিকে শুধু শ্রমবাজার নয়; মানুষ, পণ্য ও সেবা মিলিয়ে নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ হিসেবে দেখতে হবে।মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন শিকদার শিক্ষক ও গবেষক, রাষ্ট্র ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়মতামত লেখকের নিজস্ব