জাতীয়

লোডশেডিংয়ে বদলে যায় জীবন, বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে আলোচিত যেসব সিনেমা

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
লোডশেডিংয়ে বদলে যায় জীবন, বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে আলোচিত যেসব সিনেমা
লোডশেডিংয়ে বদলে যায় জীবন, বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে আলোচিত যেসব সিনেমা

বিদ্যুৎ চলে গেলে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে নেমে আসে অস্বস্তি। গরমে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠা, কাজের ব্যাঘাত, অন্ধকারে বসে থাকা কিংবা বিদ্যুৎ আসার অপেক্ষা। লোডশেডিংয়ের সঙ্গে এমন অভিজ্ঞতা কমবেশি সবারই আছে। কিন্তু এই চেনা অভিজ্ঞতাই যখন সিনেমার গল্পের বিষয় হয়ে ওঠে, তখন সেটি শুধু অন্ধকারের গল্প থাকে না। উঠে আসে মানুষের জীবন, সমাজ, রাজনীতি, বৈষম্য ও প্রযুক্তিনির্ভরতার নানা দিক।

বিদ্যুৎকে ঘিরে তৈরি সিনেমার তালিকায় অন্যতম উল্লেখযোগ্য মালয়ালাম ছবি ‘ওরিদাথু’। ১৯৮৭ সালে গোবিন্দন আরাভিন্দনের পরিচালনায় নির্মিত এই ব্যঙ্গাত্মক ছবির গল্প একটি প্রত্যন্ত গ্রামে প্রথমবার বিদ্যুৎ পৌঁছানোকে ঘিরে। বিদ্যুৎ আসার আগে গ্রামের জীবন যেমন ছিল, নতুন প্রযুক্তি আসার পর সেই জীবনে কী ধরনের পরিবর্তন ঘটে তা হাস্যরস ও ব্যঙ্গের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। ভারতের সরকারি চলচ্চিত্র আর্কাইভের তথ্যেও ছবিটিকে বিদ্যুৎ আসার ফলে একটি গ্রামের জীবনে তৈরি হওয়া পরিবর্তনের গল্প হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ-সংকট ও লোডশেডিংকে আরও সরাসরি তুলে ধরেছে ২০১২ সালের পাঞ্জাবি সিনেমা ‘পাওয়ার কাট’। জাসপাল ভাট্টির পরিচালনায় নির্মিত এই হাস্যরসাত্মক ছবিতে বিদ্যুৎ-সংকটের পাশাপাশি বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও দুর্নীতিকে ব্যঙ্গ করা হয়েছে। গল্পের পটভূমিতে রয়েছে ভারতের পাঞ্জাবের ঘনঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়া।

বিদ্যুৎ-সংকটের আরও বাস্তব ও কঠিন চিত্র দেখা যায় তথ্যচিত্র ‘কাটিয়াবাজ’-এ। কানপুরের দীর্ঘ লোডশেডিংকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই ছবিতে দেখানো হয়েছে, বিদ্যুতের ঘাটতি কীভাবে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার একটি পেশার জন্ম দেয়। ছবির অন্যতম চরিত্র লোহা সিং বিদ্যুৎ চুরি করে মানুষের বাড়িতে সংযোগ দেন। অন্যদিকে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ঋতু মহেশ্বরী অবৈধ সংযোগ বন্ধ করার চেষ্টা করেন। ছবিটি কানপুরের বিদ্যুৎ-সংকটকে কেন্দ্র করে নির্মিত এবং দীর্ঘ সময়ের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা কীভাবে সাধারণ মানুষের জীবনকে বিপর্যস্ত করে, সেটিও তুলে ধরে।

২০১৭ সালের তামিল সিনেমা ‘কানাভু ভারিয়াম’-এর গল্পও বিদ্যুৎ-সংকট ঘিরে। অরুণ চিদাম্বরম পরিচালিত ছবিটি তামিলনাড়ুর গ্রামাঞ্চলের বিদ্যুৎ-ঘাটতি ও বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সমস্যাকে কেন্দ্র করে নির্মিত। ফলে বিদ্যুৎ এখানে শুধু পটভূমি নয়, গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ছবিটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবেও প্রদর্শিত হয়েছে এবং পুরস্কারও পেয়েছে।

বিদ্যুতের সংকট যখন সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যায় রূপ নেয়, সেই দিকটিও উঠে এসেছে ‘বাত্তি গুল মিটার চালু’ ছবিতে। ২০১৮ সালের এই হিন্দি ছবিতে বিদ্যুৎ-সংকটের পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল ও বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার নানা অনিয়মকে গল্পের কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।

আর লোডশেডিং যদি হঠাৎ দীর্ঘস্থায়ী হয়, তখন একটি সমাজ কতটা ভেঙে পড়তে পারে সেই প্রশ্নের অন্ধকার দিক দেখিয়েছে ১৯৯৬ সালের হলিউডের ‘দ্য ট্রিগার ইফেক্ট’। ছবিতে হঠাৎ বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের পর যোগাযোগব্যবস্থা, নগদ টাকা তোলার ব্যবস্থা ও দৈনন্দিন জীবন অচল হয়ে যায়। ক্রমে মানুষের মধ্যে ভয়, অবিশ্বাস ও বিশৃঙ্খলা বাড়তে থাকে। ছবিটির মূল ভাবনাই হলো- প্রযুক্তিনির্ভর সভ্যতার নিরাপত্তার আবরণ সরে গেলে মানুষের আচরণ কত দ্রুত বদলে যেতে পারে।

লোডশেডিংয়ে পরিস্থিতি কতটা ভয়ংকর হতে পারে সেটি দেখানো হয়েছে কলকাতার ‘নিশিযাপন’ সিনেমায়। ২০০৫ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটি পরিচালনা করেন সন্দীপ রায়। প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের গল্প অবলম্বনে নির্মিত সিনেমাটির গল্প উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকার একটি নির্জন বাংলোয় বেড়াতে যাওয়া এক পরিবারকে ঘিরে। হঠাৎ ভূমিকম্পে ভেঙে যায় যোগাযোগের পথ। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় চারপাশ ডুবে যায় অন্ধকারে। বাইরের পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে খাদ্যসংকট ও অনিশ্চয়তার মধ্যে আটকে পড়ে পরিবারটি। আর এই পরিস্থিতিতেই ধীরে ধীরে প্রকাশ পেতে থাকে মানুষের ভেতরের ভয়, লোভ, হিংসা ও স্বার্থপরতা।



ছবিটিতে অভিনয় করেছেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, সব্যসাচী চক্রবর্তী, দীপঙ্কর দে ও রাইমা সেনসহ অনেকে। তবে ‘নিশিযাপন’ শুধুই দুর্যোগে আটকে পড়া কয়েকজন মানুষের গল্প নয়, বিদ্যুৎহীন একটি রাত, বিচ্ছিন্ন একটি পাহাড়ি বাংলো আর চারপাশের অনিশ্চয়তাকে কেন্দ্র করে সিনেমাটি যেন একটি প্রশ্নই ছুড়ে দেয়- বাইরের আলো নিভে গেলে মানুষের ভেতরের অন্ধকার কতটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে?

 

এলআইএ

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা, আসামির যাবজ্জীবন
কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা, আসামির যাবজ্জীবন

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ১৭ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যার মামলায় মো. নজরুল ইসলাম ওরফে মিঠুকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক মোহাম্মদ সাইফুর রহমান এ রায় দেন। মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় হাটহাজারীর মির্জাপুরে খালার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে নিখোঁজ হয় ওই কিশোরী। নিখোঁজের তিন দিন পর ১৭ অক্টোবর দানু মিয়া ব্রিক ফিল্ডের পূর্ব পাশে পুকুরপাড়ের একটি টয়লেটের ট্যাংকি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে পরনের কাপড় দেখে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা হাটহাজারী থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ নজরুল ইসলামকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত মঙ্গলবার তাকে দোষী সাব্যস্ত করে এ সাজা দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(২) ধারায় নজরুলকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ডের টাকা আদায় হলে তা আইন অনুযায়ী নিহত কিশোরীর বাবা মো. ছোট্ট মিয়া ওরফে চুট্টু মিয়াকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার পর আসামিকে দণ্ড পরোয়ানাসহ কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। এমআরএএইচ/এমআইএইচএস

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
পিরোজপুরে সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে নেমে রাজমিস্ত্রির মৃত্যু

পিরোজপুরে সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে নেমে রাজমিস্ত্রির মৃত্যু

শাহরুখ খানের বাড়িতে জায়গা পাবেন ভক্তরাও

শাহরুখ খানের বাড়িতে জায়গা পাবেন ভক্তরাও

এমন দিনে রোদচশমা তো লাগবেই, তারকাদের হাত ধরে স্টাইলে ফিরেছে বড় ফ্রেম

এমন দিনে রোদচশমা তো লাগবেই, তারকাদের হাত ধরে স্টাইলে ফিরেছে বড় ফ্রেম

৩০ বছর পর বার্সেলোনায় ফিরছে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল
৩০ বছর পর বার্সেলোনায় ফিরছে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আবার চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল হতে যাচ্ছে বার্সেলোনায়। ২০২৯ সালের পুরুষ চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল আয়োজনের চূড়ান্ত দায়িত্ব পেয়েছে কাতালানদের ঐতিহ্যবাহী স্টেডিয়াম ক্যাম্প ন্যু। গ্রিসের থেসালোনিকিতে উয়েফা কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় নেওয়া হয়েছে এই সিদ্ধান্ত। প্রায় ৩০ বছর পর আবার ইউরোপে ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদার ম্যাচ বসবে কাতালানদের এই ঐতিহাসিক মাঠে।ক্যাম্প ন্যুতে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালের সর্বশেষ স্মৃতি? ১৯৯৯ সালে। কী নাটকীয় এক ফাইনাল! ৬ মিনিটে গোল করে এগিয়ে যাওয়া বায়ার্ন মিউনিখ শেষ পর্যন্ত হার মেনেছিল যোগ হওয়া সময়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জোড়া গোলে।এর আগে ২০২৮ সালের ফাইনাল হবে বায়ার্ন মিউনিখের আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায়। ২০১২ ও ২০২৫ সালের পর তৃতীয়বার চ্যাম্পিয়নস লিগ আয়োজন করতে যাচ্ছে আলিয়াঞ্জ অ্যারেনা। এর আগে মিউনিখের অলিম্পিক স্টেডিয়ামেও তিনবার হয়েছে ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণী ম্যাচ। আর চলতি মৌসুমের ফাইনাল যে আতলেতিকো মাদ্রিদের মেত্রোপোলিতানো স্টেডিয়ামে হবে, সেটা তো অনেক আগেই নির্ধারিত।২০১২ ও ২০২৫ সালের পর তৃতীয়বার চ্যাম্পিয়নস লিগ আয়োজন করতে যাচ্ছে আলিয়াঞ্জ অ্যারেনা। ক্যাম্প ন্যুতে খেলা ফিরলেও সংস্কারকাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। গ্যালারির তৃতীয় স্তর নির্মাণ এবং ছাদ বসানোর কাজ এখনো বাকি। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৭ সালের মধ্যেই শেষ হবে সব কাজ। তখন স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা দাঁড়াবে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার।থেসালোনিকিতে একই সভায় উয়েফা আরও কয়েকটি টুর্নামেন্টের ভেন্যুও ঘোষণা করেছে। নারী চ্যাম্পিয়নস লিগের ২০২৮ ফাইনাল হবে ফ্রান্সের পার্ক অলিম্পিক লিওঁতে। ২০২৯ সালের আসর বসবে ওয়েলসের কার্ডিফে, ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে।ইউরোপা লিগের ২০২৮ ফাইনাল পাবে রোমানিয়ার বুখারেস্টের ন্যাশনাল অ্যারেনা। ২০২৯ সালে ফাইনাল হবে সার্বিয়ার বেলগ্রেডে, ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে।কনফারেন্স লিগের ২০২৮ ফাইনাল হবে ইতালির তুরিনে, জুভেন্টাস স্টেডিয়ামে। ২০২৯ সালে এই আসরের ফাইনাল যাবে হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে, পুসকাস অ্যারেনায়।এ ছাড়া ২০২৭ ও ২০২৮ উয়েফা সুপার কাপ অনুষ্ঠিত হবে যথাক্রমে আমস্টারডামের ইয়োহান ক্রুইফ অ্যারেনা ও কাজাখস্তানের আস্তানা অ্যারেনায়। ২০২৭ ফুটসাল চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল বসবে সুইজারল্যান্ডের বিয়েল বিয়েন অ্যারেনায়।

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
১৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ, চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র আ জ ম নাছিরের বিরুদ্ধে মামলা

১৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ, চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র আ জ ম নাছিরের বিরুদ্ধে মামলা

মক্কা ও জেদ্দায় হামলার আশঙ্কায় সতর্কতা

মক্কা ও জেদ্দায় হামলার আশঙ্কায় সতর্কতা

জিলাপিতে ‘হাইড্রোজ’ কতটা ক্ষতিকর?

জিলাপিতে ‘হাইড্রোজ’ কতটা ক্ষতিকর?

সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিআরটিসির বাস ভাড়া বন্ধের দাবিতে লিগ্যাল নোটিশ
সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিআরটিসির বাস ভাড়া বন্ধের দাবিতে লিগ্যাল নোটিশ

সাধারণ মানুষের গণপরিবহন সংকট নিরসনে সরকারি মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানগুলোতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) বাস ভাড়া দেওয়া অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়ে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি সংস্থাগুলোকে নিজেদের পরিবহন চাহিদা মেটাতে নিজস্ব বাস কেনা অথবা বেসরকারি পরিবহন খাত থেকে গাড়ি ভাড়া নেওয়ার বিষয়ে বাধ্যতামূলক নির্দেশনা জারির অনুরোধ জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া না হলে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের অধিকার ও রাষ্ট্রীয় অর্থনীতি রক্ষায় হাইকোর্টে রিট করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। জনস্বার্থে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) অ্যাডভোকেট মো. মাহমুদুল হাসান এ লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন আইনজীবী নিজেই। নোটিশে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়েছে। নোটিশে বিআরটিসির বহরে থাকা সব বাস সাধারণ যাত্রীদের সেবায় উন্মুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব পরিবহন চাহিদা পূরণে নিজস্ব বাস কেনা অথবা বেসরকারি খাত থেকে পরিবহন সেবা ভাড়া নেওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারির দাবি জানানো হয়েছে। আইনজীবীর দাবি, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিআরটিসির বাস ভাড়া দেওয়ার ফলে সাধারণ যাত্রীদের জন্য গণপরিবহনের সংকট আরও তীব্র হচ্ছে। এ অবস্থায় বিআরটিসির বাসগুলো জনসাধারণের পরিবহন সেবায় ব্যবহার করা হলে যাতায়াতের সংকট কিছুটা কমার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় সম্পদেরও সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত হবে। নোটিশে বলা হয়, সাধারণ নাগরিকদের নিরাপদ ও সাশ্রয়ী যাতায়াত নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই জনগণের অর্থে বিআরটিসি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে বিআরটিসির বহরের একটি বড় অংশ বিভিন্ন সরকারি মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে বাস ভাড়া দেওয়ায় সাধারণ মানুষ পর্যাপ্ত গণপরিবহন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। নোটিশদাতার দাবি, জনগণের করের অর্থে পরিচালিত রাষ্ট্রীয় পরিবহনব্যবস্থার বাস সাধারণ মানুষের যাতায়াতের পরিবর্তে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিবহনে ব্যবহৃত হওয়ায় গণপরিবহন সংকট আরও তীব্র হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় গণপরিবহন থেকে সাধারণ জনগণকে এভাবে বঞ্চিত করা বৈষম্যমূলক ও অযৌক্তিক বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। নোটিশে সামষ্টিক অর্থনীতির ‘আয়ের বৃত্তাকার প্রবাহ’ তত্ত্বের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, সরকারি মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানগুলো যখন বিআরটিসি থেকে বাস ভাড়া নেয়, তখন রাষ্ট্রীয় অর্থের একটি অংশ এক সরকারি খাত থেকে অন্য সরকারি খাতে আবর্তিত হয়। এতে অর্থনীতিতে বেসরকারি খাত ও সাধারণ মানুষের কাছে অর্থপ্রবাহের সুযোগ সীমিত হয় বলে নোটিশদাতার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, অর্থনীতির ‘ফিসক্যাল মাল্টিপ্লায়ার ইফেক্ট’ বিবেচনায় সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিবহন চাহিদা বেসরকারি খাতের মাধ্যমে পূরণ করা হলে এর ইতিবাচক প্রভাব অর্থনীতিতে পড়তে পারে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব বাস কেনার পাশাপাশি বেসরকারি পরিবহন খাত থেকে বাস ভাড়া করলে পরিবহন ব্যবসায় অর্থপ্রবাহ বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। নোটিশে আগামী ১০ দিনের মধ্যে সরকারি মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিআরটিসির বাস ভাড়া দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে বিআরটিসির সব বাস সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি সংস্থাগুলোর পরিবহন চাহিদা পূরণে নিজস্ব বাস কেনা অথবা বেসরকারি পরিবহন খাত থেকে গাড়ি ভাড়া করার বিষয়ে বাধ্যতামূলক নির্দেশনা জারির অনুরোধ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া না হলে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের অধিকার এবং রাষ্ট্রীয় অর্থনীতি রক্ষায় হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে বলেও নোটিশে জানানো হয়েছে। এফএইচ/এমএএইচ/

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
জাতীয় তথ্য বাতায়নে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর জীবনী নেই, মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটগুলো অসম্পূর্ণ

জাতীয় তথ্য বাতায়নে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর জীবনী নেই, মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটগুলো অসম্পূর্ণ

সরকারি চাকরিজীবীদের কাজ হলো- কিছু চুরি কিছু কাজ : পরিবেশ মন্ত্রী

সরকারি চাকরিজীবীদের কাজ হলো- কিছু চুরি কিছু কাজ : পরিবেশ মন্ত্রী

আসিফ নজরুলের নির্দেশেই ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যায়নি বাংলাদেশ

আসিফ নজরুলের নির্দেশেই ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যায়নি বাংলাদেশ

0 Comments