ক্ষমতার অপব্যবহার করে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ প্রায় ১৪ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আজ মঙ্গলবার দুদক চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক সাঈদ আহমদ ইমরান বাদী হয়ে নিজ কার্যালয়ে মামলাটি করেন।
দুদক জানায়, ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত আ জ ম নাছির উদ্দীনের নামে ২ কোটি ৩০ লাখ ১৮ হাজার ৯১০ টাকার স্থাবর এবং ২৬ কোটি ৩৮ লাখ ১ হাজার ২৮৫ টাকার অস্থাবর সম্পদ ছিল। একই সময়ে তাঁর দায়-দেনার পরিমাণ ছিল ৬ কোটি ১৮ লাখ ৯৭ হাজার ৮ টাকা। দায়-দেনা বাদ দেওয়ার পর তাঁর নিট সম্পদের মূল্য দাঁড়ায় ২২ কোটি ৪৯ লাখ ২৩ হাজার ১৮৭ টাকা।
দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, ওই সময়ে আ জ ম নাছির উদ্দীন পারিবারিক ও অন্যান্য খাতে ১৮ কোটি ১২ লাখ ৫৫ হাজার ৬৪৮ টাকা ব্যয় করেন। ফলে তাঁর মোট অর্জিত সম্পদের মূল্য দাঁড়ায় ৪০ কোটি ৬১ লাখ ৭৮ হাজার ৮৩৫ টাকা। বিপরীতে অনুসন্ধানে তাঁর গ্রহণযোগ্য আয়ের পরিমাণ পাওয়া যায় ২৬ কোটি ৬২ লাখ ৩৭ হাজার ২৬৫ টাকা। এ হিসাবে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদের পরিমাণ ১৩ কোটি ৯৯ লাখ ৪১ হাজার ৫৭০ টাকা।
দুদক চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক সাঈদ আহমদ ইমরান প্রথম আলোকে বলেন, আ জ ম নাছির উদ্দীন তাঁর সম্পদের বিবরণীতে মৎস্য চাষ থেকে আয় দেখিয়েছেন। কিন্তু অনুসন্ধানে বাস্তবে তাঁর কোনো মৎস্য চাষের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। যাঁদের সঙ্গে মৎস্য চাষের চুক্তিপত্র দেখানো হয়েছে, তাঁরাও জানিয়েছেন, নাছির উদ্দীনের সঙ্গে তাঁদের কোনো চুক্তি হয়নি। তাঁদের কোনো পুকুরও নেই।
সাঈদ আহমদ ইমরান আরও বলেন, আ জ ম নাছির উদ্দীন দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অসাধু উপায়ে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন করে তা ভোগদখলে রেখেছেন। এসব অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন আ জ ম নাছির উদ্দীন। গণ-অভ্যুত্থানে চট্টগ্রামে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যাসহ অন্তত ১০টি মামলা হয়। এর মধ্যে কয়েকটি মামলায় বাদীরা পরে তাঁর নাম বাদ দেওয়ার আবেদন করেছেন।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় উন্নয়নকাজে সমন্বয় বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাকে নির্দেশনা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সড়কে এক সংস্থা কাজ শেষ করার পর আরেক সংস্থা যেন নতুন করে খোঁড়াখুঁড়ি না করে- সে বিষয়ে সমন্বিত কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতি ১৫ দিন পরপর সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ঢাকা সিটি ও আশপাশের এলাকার সব উন্নয়নকাজ যেন সমন্বিতভাবে হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সব স্টেকহোল্ডার, মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও কর্তৃপক্ষকে নিয়ে বৈঠক হয়েছে। এর উদ্দেশ্য নগরবাসীর ভোগান্তি কমানো এবং উন্নয়নকাজ দ্রুত ও সমন্বিতভাবে শেষ করা। তিনি বলেন, বিভিন্ন সংস্থা ও মন্ত্রণালয়ের অধীনে চলমান উন্নয়নকাজগুলো সমন্বয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে পরামর্শ ও প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তাদের পর্যায়ে সমন্বয়ের জন্য ফোকাল পয়েন্টও নির্ধারণ করা হয়েছে। আরও পড়ুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী / গুলশানে আ’লীগের মিছিলের বিষয়ে তথ্য ছিল, তবে পুলিশ আন্দাজ করতে পারেনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এক সংস্থা কাজ করলে আবার আরেক সংস্থা একই জায়গায় আবার কাজ করতে যেন খোঁড়াখুঁড়ি না করে, অন্যান্য জটিলতা যেন সৃষ্টি না হয়। উদ্দেশ্য একটাই, নগরবাসীকে, জনগণকে স্বস্তি দেওয়া, ভোগান্তি কমানো এবং সমন্বিতভাবে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডগুলো শেষ করা। তিনি জানান, প্রতি ১৫ দিন পরপর এ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি কর্মকর্তা পর্যায়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সমন্বয় সভা করা হবে। রাজধানীতে চলমান বিভিন্ন বড় প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এমআরটি, সেতু কর্তৃপক্ষ, সড়ক বিভাগ, সিটি করপোরেশন, ওয়াসা, ডেসকোসহ বিভিন্ন সংস্থার উন্নয়নকাজ চলছে। এসব কাজ যেন পরস্পরের সঙ্গে সমন্বয় করে করা হয়, সে জন্যই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) নেতৃত্বে এ সমন্বয় সভা হচ্ছে। একই সড়কে একাধিক সংস্থার আলাদা সময়ে কাজ করার উদাহরণ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, কোনো একটি সংস্থা রাস্তা খুঁড়ে কাজ শেষ করে তা মেরামত করার পর অন্য কোনো সংস্থা এসে একই জায়গা আবার খুঁড়লে জনদুর্ভোগ বাড়ে। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে একই সময়ে প্রয়োজনীয় কাজগুলো সমন্বয়ের মাধ্যমে করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ইলেকট্রিসিটি ডিপার্টমেন্ট একটা রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করলো, তারা আবার সেটা রিপেয়ার করে চলে গেল, এরপরে দেখা গেল গ্যাস ডিপার্টমেন্ট আসলো। এসব কাজ যেন না হয়, একই সঙ্গে যেন করতে পারে ডেভেলপমেন্ট ওয়ার্কটা। এমআরটি নির্মাণের ক্ষেত্রে ইউটিলিটি স্থানান্তরের কাজও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে করা হচ্ছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। পাশাপাশি উন্নয়নকাজের কারণে যেন যানজট বা ট্রাফিক ঝুঁকি তৈরি না হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হচ্ছে। এতে যান চলাচলে শৃঙ্খলা আসছে এবং নগরবাসী স্বস্তি পাচ্ছে। উন্নয়নকাজও এমনভাবে করার চেষ্টা চলছে, যেন ট্রাফিক ব্যবস্থায় বড় ধরনের সমস্যা তৈরি না হয়। আরও পড়ুন মানবতাবিরোধী অপরাধ / আওয়ামী লীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগ তিন সংগঠনেরই সভাপতি-সেক্রেটারির ফাঁসির আদেশ বারবার সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধে দীর্ঘমেয়াদি কোনো স্মার্ট ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, রাতারাতি বৈপ্লবিক পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে এ ধরনের সমন্বিত ব্যবস্থার দিকে সরকার এগোচ্ছে। তিনি বলেন, ওভারনাইট তো আমরা এর মধ্যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারবো না। আমরা শুরু করেছি। আশা করি একদিন আমরা এই সিস্টেমে যেতে পারবো। উন্নয়নকাজের আগে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করতে ছোট ছোট সাব-কমিটির মতো কাঠামো করা হয়েছে। এসব কমিটি প্রয়োজন অনুযায়ী নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করে সমন্বয় করবে। সরকারি ব্যয় ও সময় কমানোর পাশাপাশি জনদুর্ভোগ কমানোই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ডিএমপি কমিশনার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রধান এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। টিটি/কেএসআর
প্রধান প্রজনন মৌসুমে ইলিশ মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। মা ইলিশের প্রজনন নিরাপদ রাখার লক্ষ্যে আগামী ৭ থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ ধরা বন্ধ থাকবে। এ সময়ে পরিবহন, ক্রয়-বিক্রয়, মজুত ও বিনিময় নিষিদ্ধ থাকবে। আজ বৃহস্পতিবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ইলিশের নিরাপদ প্রজননের লক্ষ্যে ৭ থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, ক্রয়-বিক্রয়, মজুত ও বিনিময় নিষিদ্ধ থাকবে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় প্রতিবছরের মতো এবারও ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বাংলাদেশ সায়েন্স এক্সপোজিয়াম-২০২৬ এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী। যৌথভাবে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সায়েন্স সোসাইটি, বেস্টক্যাড কর্প এবং ওয়াদুদ ময়মুন্নেসা ফাউন্ডেশন। অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, বর্তমান বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের পাশাপাশি সামনে পঞ্চম শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জও আসছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মকে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সসহ (এআই) আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। তিনি বলেন, একই সঙ্গে শিক্ষা, প্রজ্ঞা ও জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে ভালো মানুষ ও দায়িত্বশীল সুনাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষার উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষায় ঋণ সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি গবেষণা খাতেও বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও তরুণদের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় আরও বেশি সুযোগ তৈরি হবে। তরুণ প্রজন্মকে দেশের ভবিষ্যৎ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজকের তরুণরাই আগামী দিনের শক্তি। জ্ঞান, দক্ষতা ও নৈতিকতার মাধ্যমে নিজেদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান। গত ৩১ জুলাই ও ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় বাংলাদেশ সায়েন্স এক্সপোজিয়াম ২০২৬-এ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দুই হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেয়।এক্সপোজিয়ামের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ২০০ জনকে পুরস্কার দেওয়া হয়। আরটি/এমএএইচ/