জাতীয়

ক্ষমা চাওয়া, দল বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত থেকে কেন সরে এসেছিল জামায়াত

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
ক্ষমা চাওয়া, দল বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত থেকে কেন সরে এসেছিল জামায়াত
ক্ষমা চাওয়া, দল বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত থেকে কেন সরে এসেছিল জামায়াত

একাত্তরে ভূমিকার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার খসড়া তৈরি হয়েছিল। দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা দফায় দফায় বৈঠকও করেছিলেন। কিন্তু কখনো নেতৃত্বের মত পরিবর্তন, কখনো দলীয় কমিটির বিরোধিতা, আবার কখনো প্রভাবশালী ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে উদ্যোগ থেমে যায়।

জামায়াতে ইসলামীর ভেতরে ক্ষমা চাওয়ার উদ্যোগগুলোর এমন বিবরণ তুলে ধরেছেন দলটির সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক। তাঁর ‘বাংলাদেশ জামায়াত-ই-ইসলামী: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড পলিটিকস’ বইয়ের ‘রিফর্ম অ্যাজেন্ডা উইদইন জামায়াত’ অধ্যায়ে এসব ঘটনার বর্ণনা রয়েছে। বইটি গত মাসে প্রকাশ করেছে ইউপিএল।

সেখানে তিনি লিখেছেন, ২০১৯ সালে একপর্যায়ে জামায়াতের নির্বাহী কমিটি একাত্তরের বিষয়টি মোকাবিলা, দল বিলুপ্ত করা ও নতুন দল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। পরে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। এর পরপরই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।

ব্যারিস্টার রাজ্জাক বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আসামিপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি হিসেবেও কাজ করেছিলেন। তিনি ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্যে যান। ২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আগ পর্যন্ত তিনি আর দেশে ফেরেননি। যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে তিনি দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। ২০১৯ সালে জামায়াত থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। পরে আত্মপ্রকাশ করা এবি পার্টির প্রধান উপদেষ্টা হয়েছিলেন তিনি। দেশে ফেরার পর ২০২৫ সালের ৪ মে তিনি ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা যান।

বইয়ে আবদুর রাজ্জাকের বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি ১৯৮৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে যোগ দেন। ১৯৮৮ সালে রুকন হন এবং ১৯৯১ সালের শুরুর দিকে কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরায় যোগ দেন। ২০০৩ সালে তাঁকে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল করা হয়। দলটির একাত্তরের ভূমিকা নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার পক্ষে তিনি দীর্ঘদিন চেষ্টা করেছিলেন।

গোলাম আযমের ‘দায়সারা’ ক্ষমা প্রার্থনা

বইয়ের বর্ণনা অনুযায়ী, ১৯৯৪ সালের ২২ জুন সুপ্রিম কোর্টের রায়ে গোলাম আযমের বাংলাদেশের নাগরিকত্বের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রায় এক বছর আগে, ১৯৯৩ সালের ৪ জুলাই, জামায়াতের তৎকালীন সেক্রেটারি জেনারেল মতিউর রহমান নিজামীকে চিঠি লিখেছিলেন আবদুর রাজ্জাক। নাগরিকত্ব ফিরে পাওয়ার পর গোলাম আযমের জাতির উদ্দেশে প্রথম ভাষণে একাত্তরের ভূমিকার বিষয়টি তুলে ধরার পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি।

গোলাম আযম

রায়ের পর ২৪ জুন ঢাকার বায়তুল মোকাররমে বিজয় সমাবেশ হয়। গোলাম আযমের বক্তব্য প্রস্তুতে একটি কমিটি করা হয়েছিল। আবদুর রাজ্জাক লিখেছেন, তাঁর যত দূর মনে পড়ে, তিনিও ওই কমিটির সদস্য ছিলেন। গোলাম আযমকে একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল।

রাজ্জাকের মূল্যায়ন ছিল, সুদৃঢ় অবস্থানে থেকে ক্ষমা চাইলে তা আন্তরিক বলে বিবেচিত হতো এবং একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে কঠোর ও তাঁর ভাষায় ‘প্রায়শই অযৌক্তিক’ সমালোচনার অবসান ঘটাতে পারত। গোলাম আযম নীতিগতভাবে প্রস্তাবে একমতও হয়েছিলেন।

কিন্তু সমাবেশে গোলাম আযম কেবল বলেন, ‘অতীতে যদি আমি কোনো ভুল করে থাকি, দয়া করে আমাকে ক্ষমা করবেন।’ রাজ্জাকের মতে, গণমাধ্যম মূলত বক্তব্যটি উপেক্ষা করেছিল। তিনি একে বড়জোর দায়সারা ক্ষমা প্রার্থনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে লিখেছেন, প্রকৃতপক্ষে এটি ক্ষমা প্রার্থনাই ছিল না; গুরুতর একটি বিষয় মোকাবিলার অসংলগ্ন চেষ্টা ছিল।

খসড়া তৈরি হলেও ঘোষণা হয়নি

২০০১ সালের অক্টোবরে চারদলীয় জোটের নির্বাচনী বিজয়কে একাত্তরের বিষয়টি মোকাবিলার আরেকটি ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে দেখেছিলেন আবদুর রাজ্জাক। ওই বছরের ১৬ ডিসেম্বরের আগেই উদ্যোগ নেওয়ার জন্য দলের ভেতরে তৎপরতা শুরু করেন তিনি।

রাজ্জাক লিখেছেন, একটি বিবৃতির খসড়া তৈরিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন অধ্যাপক—আফতাব আহমেদ, এম মাহবুবউল্লাহ ও আবদুর রবের সহায়তা নেন। কয়েক সপ্তাহের চেষ্টায় খসড়া তৈরি হয়। এতে অখণ্ড পাকিস্তানের পক্ষে জামায়াতের অবস্থানের ব্যাখ্যা এবং একাত্তরের রাজনৈতিক ভূমিকার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা ছিল। পাশাপাশি যুদ্ধকালীন বর্বরতায় জামায়াতের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছিল।

ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক

খসড়ার অনুমোদন নিয়ে প্রথম বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন তৎকালীন আমির মতিউর রহমান নিজামী। উপস্থিত ছিলেন আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, আবদুল কাদের মোল্লা ও এ টি এম আজহারুল ইসলাম। পরে মুজাহিদের নেতৃত্বে একটি উপকমিটি হয়।

বইয়ের বিবরণ অনুযায়ী, উপকমিটি অন্তত ছয়বার বৈঠক করে। বিজয় দিবসের আগে সংবাদ সম্মেলনের প্রাথমিক সিদ্ধান্তও হয়। মুজাহিদ, কামারুজ্জামান ও কাদের মোল্লা বিষয়টির নিষ্পত্তি করতে আগ্রহী ছিলেন। তবে আজহারুল ইসলামের আপত্তি ছিল। একটি বৈঠকে মুজাহিদ তাঁকে মৃদু ভর্ৎসনা করেন। শেষ পর্যন্ত আজহারুল ইসলাম আপত্তি থেকে সরে আসেন।

খসড়াটি তৈরিতে প্রতিটি শব্দ ও বাক্য সতর্কতার সঙ্গে বেছে নেওয়া হয়েছিল বলে লিখেছেন রাজ্জাক। তাঁর স্মরণে, সাতটির বেশি খসড়া হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত একটি বিবৃতি নিয়ে ঐকমত্য হয়। কিন্তু খসড়া সম্পন্ন হওয়ার পর মুজাহিদ তাঁকে জানান, তাঁর মনে হয়েছে, দলের প্রবীণদের একজনের পরামর্শে নিজামী হয়তো ক্ষমা চাওয়ার বিষয়ে মত পরিবর্তন করেছেন। মুজাহিদ ওই ব্যক্তির নাম বলেননি; রাজ্জাকও বিস্তারিত জানতে চাননি।

১৬ ডিসেম্বর পেরিয়ে গেলেও ঘোষণা আসেনি। রাজ্জাক আশা করেছিলেন, ২০০২ সালের ২৬ মার্চের আগে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেটিও হয়নি। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, নিজামী মত পরিবর্তনের কারণ জানাননি। বরং বিষয়টি দলের ৩৫ থেকে ৪০ সদস্যের ওয়ার্কিং কমিটিতে তোলার কথা বলেন।

কণ্ঠভোটে প্রত্যাখ্যান

খসড়া তৈরির চার বছর পর, ২০০৫ সালের অক্টোবরে, বিষয়টি ওয়ার্কিং কমিটিতে ওঠে। রাজ্জাক লিখেছেন, সেখানে তিনি যুক্তি দেন, কোনো দেশের স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী দল নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে—বিশ্বের ইতিহাসে এমন নজির নেই। বাংলাদেশে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হয়ে উঠতে হলে জামায়াতকে একাত্তরের বিষয়টি মোকাবিলা করতে হবে।

কিন্তু তাঁর প্রস্তাব কণ্ঠভোটে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় প্রত্যাখ্যাত হয়। রাজ্জাকের ভাষ্য অনুযায়ী, বিরোধিতা এত প্রবল ছিল যে সমর্থকেরা ভীত হয়ে নীরব হয়ে যান এবং নতিস্বীকার করেন।

বিরোধীদের কেউ যুক্তি দেন, জামায়াত মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ পাকিস্তানের অখণ্ডতার পক্ষে ছিল; এতে ভুল ছিল না। কারও যুক্তি ছিল, ভারতের আধিপত্যের আশঙ্কা থেকেই ওই অবস্থান এবং ইতিহাস তাঁদের কাজের যথার্থতা প্রমাণ করেছে। আবার কেউ বলেন, ক্ষমা চাইলেও আওয়ামী লীগ ও তার মিত্ররা তা গ্রহণ করবে না।

দুই জ্যেষ্ঠ সদস্যের বক্তব্য তাঁকে বিশেষভাবে বিচলিত করেছিল বলে লিখেছেন রাজ্জাক। সাবেক এক সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমরা ক্ষমা চাইলে পাকিস্তান আমাদের ওপর অসন্তুষ্ট হবে।’ জামায়াতের শিক্ষা বিভাগের তৎকালীন প্রধানের বক্তব্য ছিল, বিষয়টি বছরে দুবার—মার্চ ও ডিসেম্বরে—আলোচনায় আসে, পরে মিলিয়ে যায়। এটি নিয়ে ওয়ার্কিং কমিটিতে আলোচনা সময়ের অপচয়।

পাকিস্তান অসন্তুষ্ট হওয়ার যুক্তি সম্পর্কে রাজ্জাক লিখেছেন, পরবর্তী ঘটনাবলি তাঁকে নিশ্চিত করেছে যে ওই মূল্যায়ন সঠিক ছিল না।

একাত্তর নিয়ে প্রশ্ন, সিদ্ধান্তহীনতা

২০০৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০১০ সালের জুনে নিজামীসহ নেতারা গ্রেপ্তার হওয়ার আগপর্যন্ত ওয়ার্কিং কমিটি ও নির্বাহী কমিটিতে একাত্তরের ভূমিকা নিয়ে বহুবার আলোচনা হয়। রাজ্জাকের বর্ণনা অনুযায়ী, কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

এসব বৈঠকে তিনি বারবার প্রশ্ন তোলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের পর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সমর্থন করা জামায়াতের জন্য রাজনৈতিক ও নৈতিকভাবে সঠিক ছিল কি না। সঠিক মনে করলে দলকে তা প্রকাশ্যে বলতে হবে; অন্যথায় নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।

রাজ্জাক লিখেছেন, একাত্তর নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান না নেওয়ায় ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে জামায়াতের নেতৃত্বকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। আওয়ামী লীগের বিপুল বিজয়ের পর যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে জামায়াত নেতাদের বিচার প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়।

বইয়ের বর্ণনা অনুযায়ী, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের আগে জামায়াতের মজলিশে শুরার সর্বশেষ উন্মুক্ত অধিবেশন হয় ২০১১ সালের জুলাইয়ে, মগবাজারের আল-ফালাহ ভবনে। সেখানে রাজ্জাক আবারও একাত্তরের বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগ নেওয়ার ওপর জোর দেন। বিশেষ করে তরুণ সদস্যদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

রাজ্জাকের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই অধিবেশনে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘১৯৭১ সালের বিষয়টি নিয়ে কোনো উদ্যোগ না নিয়েও যদি আমরা আমাদের দুই নেতার গাড়িতে জাতীয় পতাকা ওড়াতে পারি, তাহলে এটি নিয়ে আর উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ কী?’ রাজ্জাকের মতে, গুরুতর বিষয়টি মোকাবিলার যথাযথ পন্থা এটি ছিল না।

নতুন নেতৃত্বেও থেমে যায় উদ্যোগ

বইয়ে আবদুর রাজ্জাক লিখেছেন, ২০১৬ সালে নেতাদের ফাঁসি কার্যকরের পর জামায়াতে নেতৃত্বের শূন্যতা তৈরি হয়। নতুন আমির নির্বাচিত হওয়ার পর একাত্তরের বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় এবং একটি কমিটি করা হয়। দলের সেক্রেটারি জেনারেল তাঁকে বিবৃতির খসড়া তৈরি করতে বলেন।

কয়েকজন ঘনিষ্ঠজন ও জামায়াতের তৎকালীন বিদেশি আইনজীবী টবি ক্যাডম্যানের সহায়তায় রাজ্জাক সংক্ষিপ্ত একটি খসড়া প্রস্তুত করেন। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, এতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার রাজনৈতিক বিরোধিতার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা ছিল। পাশাপাশি জামায়াত বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেছে এবং রাষ্ট্র ও দেশের স্বার্থবিরোধী কাজে জড়ায়নি—এমন দাবি ছিল। দল বা তার নেতা-সদস্যদের যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে সংশ্লিষ্টতাও অস্বীকার করা হয়েছিল।

২০১৬ সালের ২১ নভেম্বর আমিরকে ব্যক্তিগত চিঠি লিখে উদ্যোগটির প্রশংসা করেন রাজ্জাক। কমিটির সদস্যদের চিঠির অনুলিপিও দেন। তবে সেবারও উদ্যোগ এগোয়নি।

রাজ্জাকের মূল্যায়ন, যতবার ক্ষমা চাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, ততবার জামায়াতের কাঠামোর ভেতরের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি হস্তক্ষেপ করে দলকে পিছিয়ে দিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত নতুন আমিরও বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা নেননি। অতীতের মতো তা আবারও হিমঘরে চলে যায়।

দল বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত থেকেও সরে আসে

২০১৮ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর তৎকালীন সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমান দলের ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে ব্যারিস্টার রাজ্জাকের পরামর্শ চান। রাজ্জাক লিখেছেন, ওই সময় তিনি জানতে পারেন, যুদ্ধাপরাধের বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া আইনজীবীরা জামায়াতকে রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার সুপারিশ করেছেন। পাশাপাশি সরকার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার কথা বিবেচনা করছে বলে খবর আসে।

২০১৯ সালের ২১ জানুয়ারির মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে—এমন গুঞ্জনের মধ্যে জামায়াতের নির্বাহী কমিটি জরুরি বৈঠক করে। রাজ্জাকের বর্ণনা অনুযায়ী, বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সিদ্ধান্ত হয়, দল একাত্তরের বিষয়টি মোকাবিলা করবে, নিজেদের বিলুপ্ত করবে এবং এরপর নতুন দল গঠন করবে।

সেক্রেটারি জেনারেল তাঁকে ক্ষমা প্রার্থনার খসড়া ও দল বিলুপ্তির প্রস্তাব তৈরির দায়িত্ব দেন। ক্ষমা প্রার্থনার খসড়া আগে থেকেই থাকায় তিনি আইনজীবী দলের সহায়তায় দ্রুত দল বিলুপ্তির প্রস্তাব তৈরি করেন।

এরপর শুরা সদস্যদের মতামত নেওয়া হয়। প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ৩০০ সদস্যের নিয়মিত অধিবেশন করা সম্ভব হয়নি। ছোট ছোট দলে বৈঠকের মাধ্যমে প্রায় ৮০ শতাংশ সদস্যের মতামত সংগ্রহ করা হয়। রাজ্জাক লিখেছেন, তাঁকে পরে জানানো হয়, বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য দল বিলুপ্তির পক্ষে এবং প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ক্ষমা চাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছিলেন।

কিন্তু ২১ জানুয়ারি জামায়াত নিষিদ্ধ করার প্রস্তাবিত বিল মন্ত্রিসভায় ওঠেনি। রাজ্জাকের ভাষ্য অনুযায়ী, এরপর নির্বাহী কমিটি বৈঠকে বসে সম্পূর্ণ বিপরীত সিদ্ধান্ত নেয়—ক্ষমা চাওয়া হবে না, দলও বিলুপ্ত করা হবে না। এর পরপরই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। ২০১৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র পাঠান।

‘সবচেয়ে বড় দুর্বলতা’

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের বিভিন্ন সাক্ষাৎকার নিয়েও বইয়ে মূল্যায়ন রয়েছে। রাজ্জাক লিখেছেন, শফিকুর রহমান শান্ত, আত্মবিশ্বাসী ও মর্যাদাপূর্ণভাবে গণমাধ্যমের প্রশ্ন সামলেছেন। কিন্তু অর্ধশতাব্দীর বেশি আগে পূর্বসূরিদের ভূমিকা নিয়ে বর্তমান জামায়াতের সুস্পষ্ট নীতি না থাকায় তাঁর উত্তরগুলো বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি।

আবদুর রাজ্জাকের মূল্যায়ন, ‘জামায়াতের একাত্তরের ভূমিকা এখনো তাদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা।’ তিনি লিখেছেন, ২০০১ সালের অক্টোবর থেকে পরবর্তী দুই দশকে একাত্তরের বিষয়টি নিয়ে জামায়াতের জন্য অর্ধডজনের বেশি বিবৃতি তৈরিতে সহায়তা করেছেন। কিন্তু সেগুলোর একটিও প্রকাশ করা হয়নি।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে তৈরি কমিক বই পড়ানো হবে পশ্চিমবঙ্গের শিশু স্কুলে
নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে তৈরি কমিক বই পড়ানো হবে পশ্চিমবঙ্গের শিশু স্কুলে

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত এবং তাঁর বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য কাজ সম্পর্কে শিশুদের সচেতন করতে প্রকাশিত হতে চলেছে একটি বাংলা কমিক বই। পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ১ লাখ ১৯ হাজার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে পাঠরত প্রায় ৬৯ লাখ শিশুর হাতে এই বই তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন রাজ্যের বিজেপি সরকার। অঙ্গনওয়াড়ি শিশুকেন্দ্রে গ্রামীণ শিশুদের একেবারে প্রাথমিক স্তরের পড়াশোনার পাশাপাশি পুষ্টি বাড়াতে খাবারদাবার দেওয়া হয়। সম্প্রতি রাজ্য সরকারের এক শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা পশ্চিমবঙ্গের গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর জীবন আলেখ্য থাকা এই কমিক বইয়ে নরেন্দ্র মোদির গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হওয়া থেকে শুরু করে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং তাঁর নেতৃত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নতির নানা চিত্র তুলে ধরা হবে। বইটিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতিতে তৃতীয় বৃহৎ রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের উত্তরণের ঘটনাবহুল যাত্রা।পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের সচিবালয় নবান্ন সূত্রে আরও জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন উপলক্ষে ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত আয়োজিত ‘সেবা সংকল্প’ প্রচার অভিযানের অংশ হিসেবে এই কমিক বই বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এই সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী পদে নরেন্দ্র মোদির মেয়াদকালে শুরু হওয়া কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্পগুলো থেকে সাধারণ মানুষ কীভাবে লাভবান হয়েছে, তা সবিস্তারে নথিবদ্ধ করবেন রাজ্য সরকারের কর্মীরা।রাজ্য নারী ও শিশু উন্নয়ন এবং সমাজকল্যাণ দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই প্রচার অভিযান চলার সময় তিনটি নির্দিষ্ট দিনে শিশুদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর জীবনকাহিনি–সংবলিত কমিক বইটি বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এই বইগুলো ছাপা হচ্ছে এবং খুব শিগগির সেগুলো এসে সরকারি দপ্তরে পৌঁছালে বিতরণের তারিখ চূড়ান্ত করা হবে। নির্ধারিত দিনে যাতে সব ছাত্রছাত্রী উপস্থিত থাকে, সে ব্যাপারে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলোতে আগে থেকেই বিস্তারিত সময়সূচি জানিয়ে দেওয়া হবে।এর আগে ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনী প্রচার শুরু হওয়ার ঠিক আগে মার্চ মাসে প্রকাশিত হয়েছিল নরেন্দ্র মোদির শৈশবগাথা অনুসারে তৈরি কমিক বই ‘বাল নরেন্দ্র: চাইল্ডহুড স্টোরিজ অব নরেন্দ্র মোদি’। বইটির নির্মাতা আহমেদাবাদের ‘ব্লু স্নেইল অ্যানিমেশন’ এবং প্রকাশক রানাডে প্রকাশন। ৪৫-৪৮ পৃষ্ঠার এই কমিক বইটিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ছোটবেলার ১৭টি বাস্তব ঘটনা ও সাহসিকতার গল্প সচিত্র আকারে তুলে ধরা হয়েছিল। বইয়ে উল্লেখিত কাহিনির তালিকায় ছিল শিশু মোদির নদী থেকে কুমিরের বাচ্চা ধরা এবং ডুবন্ত ছেলেকে উদ্ধার করার মতো রোমহর্ষক ঘটনাপঞ্জি। তবে বইটি ‘অত্যন্ত বিরক্তিকর এবং শিশুমনে ন্যূনতম আগ্রহ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ’ বলে মন্তব্য করেছিলেন গ্রন্থ সমালোচকদের একাংশ।

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
শেখ হাসিনাকে ফেরাতে কী উদ্যোগ, প্রতিবেদন চেয়েছে সংসদীয় কমিটি

শেখ হাসিনাকে ফেরাতে কী উদ্যোগ, প্রতিবেদন চেয়েছে সংসদীয় কমিটি

আবাহনী মাঠের বরাদ্দ বাতিল, দেখভাল করবে সরকার

আবাহনী মাঠের বরাদ্দ বাতিল, দেখভাল করবে সরকার

সমালোচনার মুখে ‘অচেনা’ তিন প্রবাসীকে উপদেষ্টা করার সিদ্ধান্ত স্থগিত

সমালোচনার মুখে ‘অচেনা’ তিন প্রবাসীকে উপদেষ্টা করার সিদ্ধান্ত স্থগিত

৩০ বলে সেঞ্চুরি, পাওয়ার প্লেতে বিশ্ব রেকর্ড—ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে অভিষেকের ইতিহাস
৩০ বলে সেঞ্চুরি, পাওয়ার প্লেতে বিশ্ব রেকর্ড—ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে অভিষেকের ইতিহাস

না, দ্রুততম সেঞ্চুরির বিশ্ব রেকর্ড ভাঙতে পারেননি। আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডটা এস্তোনিয়ার সাহিল চৌহানেরই রইল।তবে আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন ভারতের অভিষেক শর্মা। আজ দিল্লিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে মাত্র ৩০ বলে সেঞ্চুরি করেছেন ভারতের এই ওপেনার। যা আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টি ইতিহাসে তৃতীয় দ্রুততম। তবে এই সেঞ্চুরির পথেই অভিষেক গড়েছেন পাওয়ার প্লেতে সবচেয়ে বেশি রানের বিশ্ব রেকর্ড। ভারতের ইনিংসের প্রথম ছয় ওভারের মধ্যেই একাই ৭৬ রান তুলেছেন অভিষেক।দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে সিরিজের তৃতীয় টি-টুয়েন্টিতে আফগানিস্তান টসে জিতে ভারতকে ব্যাটিংয়ে পাঠায়। শুরুতে পিচ বোলারদের সহায়তা করবে, এমন আশাই ছিল আফগান অধিনায়ক ইব্রাহিম জাদরানের। কিন্তু সেটা যে কত বড় ভুল ছিল, খেলা শুরু হওয়ার পর তা হাড়ে হাড়ে টের পেতে শুরু করে আফগানিস্তান। প্রথম ওভারের চতুর্থ বলে প্রথম বাউন্ডারি মারা অভিষেক দ্বিতীয় ওভার থেকে রীতিমতো তাণ্ডব শুরু করেন। আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের ওভার থেকে ২টি ছক্কা ১টি চার, এরপর ফজলহক ফারুকির তৃতীয় ওভার থেকে ২টি ছক্কা ২টি চার... আক্রমণের গতি শুধু বেড়েছেই।আইসিসি পূর্ণ সদস্যে দেশগুলোর মধ্যে আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টিতে দ্রুততম সেঞ্চুরিচতুর্থ ওভারে বোলিংয়ে আসা মুজিব উর রেহমানকে ছক্কা মেরে ১৪ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন অভিষেক। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে রশিদ খানের বল খেলেছেন চারটি, দুটিতে চার একটি ছক্কা। ৬ ওভার শেষে ভারতের রান ১০০, অভিষেকেরই ২২ বলে ৭৬।আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে পাওয়ার প্লেতে সবচেয়ে বেশি ব্যক্তিগত রানের রেকর্ড ছিল পর্তুগালের কুলদীপ গোলিয়ার। ২০২৩ সালে মাল্টার বিপক্ষে ২৫ বলে ৭৪ রান করেছিলেন তিনি। ৩ বল কম খেলেই তাঁকে ছাড়িয়ে গেছেন অভিষেক।টি–টুয়েন্টিতে পাওয়ার প্লেতে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চউদ্বোধনী জুটিতে ১৪২ রান পেয়ে যাওয়া ভারত শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ২২১ রান তোলে। অভিষেক ৩৪ বলে ১০৮ রান করে রশিদের বলে উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচ দেন। তাঁর ইনিংসে ৯ চারের সঙ্গে ছিল ১১ ছক্কা।এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৩ ওভারে বিনা উইকেটে ৩১ রান তুলেছিল আফগানিস্তান।হ্যাটট্রিকের কথা ভুলেই গিয়েছিলেন খালেদ

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
রাজধানীর একাধিক লেকের দূষণ রোধে উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর এবং অন্যান্য খবর

রাজধানীর একাধিক লেকের দূষণ রোধে উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর এবং অন্যান্য খবর

ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহ-মালেকের ছবি মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস বিকৃতি: গণতান্ত্রিক যুক্ত ফ্রন্ট

ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহ-মালেকের ছবি মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস বিকৃতি: গণতান্ত্রিক যুক্ত ফ্রন্ট

সেপটিক ট্যাংকে নেমে অসুস্থ, হাসপাতালে রাজমিস্ত্রিসহ দুজনের মৃত্যু

সেপটিক ট্যাংকে নেমে অসুস্থ, হাসপাতালে রাজমিস্ত্রিসহ দুজনের মৃত্যু

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে সিট দখল, র‍্যাগিং ও ধূমপান নিষিদ্ধ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে সিট দখল, র‍্যাগিং ও ধূমপান নিষিদ্ধ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহনসেবায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বাসে সিট দখল, র‍্যাগিং, শিক্ষার্থীকে হয়রানি, ধূমপান ও মাদকদ্রব্য বহন বা সেবন নিষিদ্ধ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আজ বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক তারেক বিন আতিক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন অফিসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব একতলা, দ্বিতল ও বিআরটিসি থেকে ভাড়া করা বাসে শিক্ষার্থীদের বসার সিট পূর্বেই খাতা, কলম, পানির বোতল, ব্যাগ, মানিব্যাগ কিংবা কাগজ রেখে দখল করার অসৌজন্যমূলক চর্চা লক্ষ করা যাচ্ছে। পাশাপাশি বাস কমিটির প্রভাব খাটানো এবং নবীন শিক্ষার্থীদের আসন পেতে বাধা সৃষ্টি বা হেনস্তা করার বিষয়ও প্রশাসনের নজরে এসেছে।বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এ ধরনের আচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সুস্থ পরিবেশ, সাধারণ শিষ্টাচার ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের পরিপন্থী। কোনো শিক্ষার্থীর ওপর প্রভাব বিস্তার বা সিট দখলের নামে অসম আচরণ, র‍্যাগিংয়ে শামিল হওয়া শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। অপরাধ প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, সরকারি আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক পরিবহনের কোনো যানবাহনের অভ্যন্তরে ধূমপান এবং যেকোনো ধরনের মাদকদ্রব্য বহন বা সেবন কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।বাস ছাড়ার নির্ধারিত সময়ের ১৫ মিনিট আগে শিক্ষার্থীদের জন্য বাসের দরজা খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চালক ও হেলপারদের নির্ধারিত সময়ের ১৫ মিনিট আগে দরজা খুলে দেওয়ার এবং বাসে কোনো অবৈধ সিট দখল বা বিশৃঙ্খলা না ঘটে, তা নিশ্চিত করে প্রশাসনকে অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহনসেবাকে সুশৃঙ্খল, শিক্ষার্থীবান্ধব ও র‍্যাগিংমুক্ত রাখতে সংশ্লিষ্ট সবার সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেছে প্রশাসন।

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
ক্ষমা চাওয়া, দল বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত থেকে কেন সরে এসেছিল জামায়াত

ক্ষমা চাওয়া, দল বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত থেকে কেন সরে এসেছিল জামায়াত

আবার অশান্ত মণিপুর, অন্তত দুজন নিহত

আবার অশান্ত মণিপুর, অন্তত দুজন নিহত

ময়মনসিংহে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে শিশুকে যৌন নির্যাতন ও হত্যা, কিশোর আটক

ময়মনসিংহে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে শিশুকে যৌন নির্যাতন ও হত্যা, কিশোর আটক

0 Comments