না, দ্রুততম সেঞ্চুরির বিশ্ব রেকর্ড ভাঙতে পারেননি। আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডটা এস্তোনিয়ার সাহিল চৌহানেরই রইল।
তবে আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন ভারতের অভিষেক শর্মা। আজ দিল্লিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে মাত্র ৩০ বলে সেঞ্চুরি করেছেন ভারতের এই ওপেনার। যা আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টি ইতিহাসে তৃতীয় দ্রুততম। তবে এই সেঞ্চুরির পথেই অভিষেক গড়েছেন পাওয়ার প্লেতে সবচেয়ে বেশি রানের বিশ্ব রেকর্ড। ভারতের ইনিংসের প্রথম ছয় ওভারের মধ্যেই একাই ৭৬ রান তুলেছেন অভিষেক।
দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে সিরিজের তৃতীয় টি-টুয়েন্টিতে আফগানিস্তান টসে জিতে ভারতকে ব্যাটিংয়ে পাঠায়। শুরুতে পিচ বোলারদের সহায়তা করবে, এমন আশাই ছিল আফগান অধিনায়ক ইব্রাহিম জাদরানের। কিন্তু সেটা যে কত বড় ভুল ছিল, খেলা শুরু হওয়ার পর তা হাড়ে হাড়ে টের পেতে শুরু করে আফগানিস্তান।
প্রথম ওভারের চতুর্থ বলে প্রথম বাউন্ডারি মারা অভিষেক দ্বিতীয় ওভার থেকে রীতিমতো তাণ্ডব শুরু করেন। আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের ওভার থেকে ২টি ছক্কা ১টি চার, এরপর ফজলহক ফারুকির তৃতীয় ওভার থেকে ২টি ছক্কা ২টি চার... আক্রমণের গতি শুধু বেড়েছেই।

চতুর্থ ওভারে বোলিংয়ে আসা মুজিব উর রেহমানকে ছক্কা মেরে ১৪ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন অভিষেক। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে রশিদ খানের বল খেলেছেন চারটি, দুটিতে চার একটি ছক্কা। ৬ ওভার শেষে ভারতের রান ১০০, অভিষেকেরই ২২ বলে ৭৬।
আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে পাওয়ার প্লেতে সবচেয়ে বেশি ব্যক্তিগত রানের রেকর্ড ছিল পর্তুগালের কুলদীপ গোলিয়ার। ২০২৩ সালে মাল্টার বিপক্ষে ২৫ বলে ৭৪ রান করেছিলেন তিনি। ৩ বল কম খেলেই তাঁকে ছাড়িয়ে গেছেন অভিষেক।

উদ্বোধনী জুটিতে ১৪২ রান পেয়ে যাওয়া ভারত শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ২২১ রান তোলে। অভিষেক ৩৪ বলে ১০৮ রান করে রশিদের বলে উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচ দেন। তাঁর ইনিংসে ৯ চারের সঙ্গে ছিল ১১ ছক্কা।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৩ ওভারে বিনা উইকেটে ৩১ রান তুলেছিল আফগানিস্তান।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
গণসংগীতের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের নানা তথ্য সংরক্ষণ করে গেছেন মুক্তিযোদ্ধা, লেখক ও গবেষক দিনু বিল্লাহ। তাঁর লেখা গণসংগীতের ইতিহাসবিষয়ক গ্রন্থ ‘মিলিত প্রাণের কলরব’ নিয়ে আলোচনা ও তাঁকে স্মরণ করে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি স্মরণ অনুষ্ঠান। আলোচনায় বক্তারা বলেন, বইটি শুধু গণসংগীতের ইতিহাস নয়, একটি সময়ের সাংস্কৃতিক আন্দোলন ও মানুষের অংশগ্রহণেরও গুরুত্বপূর্ণ দলিল।শুক্রবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার সেমিনার কক্ষে ঢাকা থিয়েটার ও অনন্যা প্রকাশনীর যৌথ আয়োজনে এ স্মরণ অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অনন্যা প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী মনিরুল হক। আলোচনায় অংশ নেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মফিদুল হক, নাট্যকার ও নির্দেশক মামুনুর রশীদ, গণসংগীত–গবেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সাইম রানা এবং দিনু বিল্লাহর জীবনসঙ্গী মাহবুবা খানম। সঞ্চালনা করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দীন ইউসুফ।নাট্যকার ও নির্দেশক মামুনুর রশীদ বলেন, ‘মিলিত প্রাণের কলরব শুধু গণসংগীতের ইতিহাস নয়, একটি সময়ের সাংস্কৃতিক পরিবেশেরও গুরুত্বপূর্ণ দলিল। কোন গান কখন, কোথায় ও কীভাবে তৈরি ও পরিবেশিত হয়েছে, তার পাশাপাশি দিনু নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও যুক্ত করেছেন। ফলে হারিয়ে যাওয়া অনেক শিল্পী, সুরকার ও গানের তথ্য বইটিতে উঠে এসেছে।’নতুন প্রজন্মের উদ্দেশে মামুনুর রশীদ বলেন, ‘দিনু বিল্লাহকে আর ফিরে পাওয়া যাবে না, অনেককেই পাওয়া যাবে না। তবে সেই সময় ও সাংস্কৃতিক চর্চায় ফিরে যাওয়ার স্বপ্ন দেখা দরকার। এ বইকে কেন্দ্র করে নতুন প্রজন্মের জন্য আরও গবেষণার সুযোগ রয়েছে। সেই গবেষণার মধ্য দিয়ে তৎকালীন মূল্যবোধ, সাংস্কৃতিক আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধের আত্মত্যাগের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।’দিনু বিল্লাহকে স্মরণ করে মফিদুল হক বলেন, ষাটের দশকের দ্বিতীয়ার্ধে যে সাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ে উঠেছিল, দিনু বিল্লাহ তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন। তাঁর কথায়, ‘দিনু ছিলেন স্নিগ্ধ ব্যক্তিত্বের মানুষ। হাসিখুশি, সদালাপী দিনু খুব সহজেই মানুষের সঙ্গে মিশে যেতে পারতেন। দিনু ছিলেন সংগীত অন্তপ্রাণ। একুশে ফেব্রুয়ারির অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পৃক্ততা ছিল। অনেক গুণী মানুষের সান্নিধ্যে বেড়ে ওঠার ফলে তাঁর অভিজ্ঞতার পরিসরও ছিল বিস্তৃত। সেই সময়ের সাংস্কৃতিক পরিবেশ ও মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক দিনুর জীবন ও লেখায় নানাভাবে ছাপ ফেলেছে।’দিনু বিল্লাহর স্ত্রী মাহবুবা খানম যখন কথা বলছিলেন, তখন চারপাশে শোকের আবহ তৈরি হয়। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি স্মরণ করেন স্বামীর সঙ্গে কাটানো নানা সময়ের কথা। তিনি বলেন, ‘শিশু থেকে বৃদ্ধ—যেকোনো বয়সের মানুষের সঙ্গে সহজেই মিশে যেতে পারতেন দিনু।’ মুক্তিযুদ্ধ দিনু বিল্লাহর অন্যতম চিন্তার কেন্দ্র ছিল উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের কথা পৌঁছে দেওয়ার তাগিদ তাঁর মধ্যে গভীরভাবে গেঁথে ছিল।পরিবারের অন্যান্য সদস্যের মধ্যে এদিন আরও উপস্থিত ছিলেন দিনু বিল্লাহর বোন, অভিনেত্রী ও সংগীতশিল্পী শিমূল ইউসুফ। ভাইয়ের সঙ্গে স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, ‘আমার জন্য মিষ্টি (দিনু বিল্লাহকে এ নামেই ডাকতেন শিমূল) যা করেছে, এই জীবনে সেই ঋণ আমি শোধ করতে পারব না। ছোটবেলায় তাঁর সাইকেলে চড়ে ছায়ানট, টেলিভিশন সেন্টার, রেডিওসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যেতাম। তাঁর হাত ধরেই বহু গুণী মানুষের সান্নিধ্যে আসার সুযোগ হয়েছিল আমার।’২০২৩ সালের ২৩ আগস্ট কানাডায় মৃত্যু হয় দিনু বিল্লাহর। মৃত্যুর আগে দেহদান করে যান তিনি। ভাইয়ের এ দেহদান প্রসঙ্গে শিমূল ইউসুফ বলেন, ‘আমার ভাইয়ের শরীরের বিভিন্ন অংশ নিয়ে যারা হাঁটছেন, তাদের সঙ্গে একটু বুক মেলাতে ইচ্ছা করে। আমার ভাই তো তাদের অংশ হয়ে আছে।’গণসংগীত–গবেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সাইম রানা গণসংগীতের বিকাশ ও ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় দিনু বিল্লাহর গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর গবেষণাকর্ম গণসংগীতের বিভিন্ন পর্যায়, গান ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের তথ্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে আলোচনায় উঠে আসে।দিনু বিল্লাহ ঢাকা থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন। নাট্যচর্চার পাশাপাশি তিনি লেখালেখি ও গবেষণায় যুক্ত ছিলেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘কাকা বাবুর টয় হাউজ’, ‘টয় হাউজ থেকে ১৯৭১: মৃত্যু ছায়াসঙ্গী’। এ ছাড়া শহীদ আলতাফ মাহমুদকে নিয়ে তিনি লিখেছেন ‘সুরের বরপুত্র’।আলোচনা শেষে অনুষ্ঠানে গণসংগীত পরিবেশন করে ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী।
রাজধানীর কদমতলীতে একটি বাসা থেকে ইয়ানূর বেগম (২৫) নামের এক নারীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে তালাবদ্ধ কক্ষের খাটের নিচ থেকে তাঁর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকেই ইয়ানূরের স্বামী জুয়েল পলাতক।নিহত ইয়ানূর পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গোয়াবাড়িয়া গ্রামের হানিফ হাওলাদারের মেয়ে। তিনি কদমতলীর ৬১ নম্বর ওয়ার্ডের একটি পাঁচতলা ভবনের ফ্ল্যাটে সাবলেট হিসেবে স্বামীর সঙ্গে থাকতেন।পরিবারের বরাত দিয়ে কদমতলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুন নাহার জানান, প্রায় তিন মাস আগে নিজেদের পছন্দে পালিয়ে বিয়ে করেন জুয়েল ও ইয়ানূর। জুয়েল পেশায় বাসের সুপারভাইজার। বিয়ের পর থেকেই তাঁদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। বৃহস্পতিবার রাতেও দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয়। বিষয়টি রাতেই মুঠোফোনে নিজের মাকে জানিয়েছিলেন ইয়ানূর।শুক্রবার সকালে ইয়ানূরকে একাধিকবার ফোন দিয়েও না পেয়ে তাঁর বাসায় যান ছোট ভাই ইমাম হোসেন। সেখানে গিয়ে তিনি কক্ষটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। একপর্যায়ে সন্দেহ হলে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে মেঝেতে রক্তের দাগ দেখতে পান তিনি। পরে খোঁজাখুঁজির পর খাটের নিচে বোনের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।কামরুন নাহার বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে ইয়ানূরকে হত্যা করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিকেলে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ইয়ানূরের আগে বিয়ে হয়েছিল। আগের স্বামীর সঙ্গে তাঁর বিবাহবিচ্ছেদ হয়। ওই সংসারে তাঁর পাঁচ বছরের একটি ছেলে রয়েছে। ছেলেটি নানা-নানির কাছে থাকে।
লাতিন আমেরিকার দেশ বলিভিয়ার জঙ্গলে একটি বাচ্চা বিড়াল খুঁজে পেয়েছিলেন স্থানীয় এক বাসিন্দা। শরীরে ছোপ ছোপ দাগ। আকৃতি পোষা বিড়ালের মতোই। ওই ব্যক্তি ভেবেছিলেন, এটি হয়তো পোষা বিড়াল। কিন্তু বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি বুঝতে পারেন, এটির আচরণ বাসাবাড়ির সাধারণ বিড়ালের মতো নয়। পরে সেটির স্থান হয় প্রাণীদের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে। ওই আশ্রয়কেন্দ্রে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে ছিলেন বলিভিয়ার বিজ্ঞানী নোগালেস-আসারুনস। তাঁর চোখে পড়ে বিড়ালটি। বুঝতে পারেন, এটি একটি বন্য বিড়াল। শুরু করেন সেটি নিয়ে পরীক্ষা। যোগ দেন অন্য গবেষকেরাও। শেষ পর্যন্ত দেখা যায়, এটি নতুন এক প্রজাতির বন্য বিড়াল। আর আশ্রয়কেন্দ্রে ওই বিড়ালের বাইরে এ প্রজাতির অন্য কোনো বিড়াল কখনো দেখা যায়নি।বিড়ালটি নিয়ে গবেষণা গত বৃহস্পতিবার বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী কারেন্ট বায়োলজিতে প্রকাশিত হয়েছে। বিজ্ঞানী নোগালেস এই গবেষণাপত্রের একজন সহলেখক। গবেষণাপত্রে বন্য বিড়ালের নতুন প্রজাতিটির বৈজ্ঞানিক নাম উল্লেখ করা হয়েছে লেপার্ডাস টিলকায়ো। আর বন্য বিড়ালটিকে ডাকা হচ্ছে ‘টাইগ্রিনো’ নামে। সেটির বয়স ১০ বছর। এখন সেটি লম্বায় ১৮ ইঞ্চি, ওজন প্রায় দেড় কেজি।গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, বলিভিয়ার ইউঙ্গাস অঞ্চল থেকে বন্য বিড়ালটি উদ্ধার করা হয়। এটি ঘন বনে ঢাকা একটি পাহাড়ি অঞ্চল। এই বনভূমি মেঘে ঢাকা থাকে এবং বাতাসের আর্দ্রতা বেশি থাকে। বিজ্ঞানী নোগালেস বলেন, বন্য বিড়ালের এই প্রজাতি রাতে বেশি সক্রিয় থাকে বলে মনে হচ্ছে। আর বিড়ালটির মল থেকে ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর দেহাবশেষ পাওয়া গেছে। সেগুলো হয়তো এটির খাবার।বন্য বিড়াল ও পোষা বিড়াল—দুটোই ফেলিডাই নামের জৈবিক পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। এই পরিবারে রয়েছে বাঘ, সিংহ, চিতা থেকে শুরু করে সব ধরনের বিড়ালজাতীয় প্রাণী। এত দিন ফেলিডাই পরিবারে ৪১ প্রজাতির বিড়ালজাতীয় প্রাণী ছিল। বন্য বিড়ালের নতুন প্রজাতিসহ এখন হলো ৪২টি। তবে বিজ্ঞানীদের ধারণা, সব মিলিয়ে বিড়ালের ৪৪টি বা তার বেশি প্রজাতি থাকতে পারে।