চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানার কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকায় ৬৩ বিদেশি নাগরিকের অবস্থানের তথ্য বেরিয়ে আসার ঘটনায় গ্রেফতার মোহাম্মদ মহসিনের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে সাইবার অপরাধের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহিদুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ডিসি (প্রসিকিউশন) মোহাম্মদ হাসান ইকবাল চৌধুরী জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ১১৮ গ্রাম কোকেন উদ্ধারের মামলায় মহসিনের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ১২ সেপ্টেম্বর খুলশী এলাকা থেকে মহসিনকে গ্রেফতার করা হয়। তার বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলায়। তিনি নগরের কর্ণফুলী এলাকায় এক প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত।
পুলিশের দাবি, মহসিনের পাঠানো ১১৮ গ্রাম কোকেনের সূত্র ধরেই খুলশীর কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার এক আটতলা ভবনে ৬৩ বিদেশি নাগরিকের অবস্থানের তথ্য পাওয়া যায়। কয়েক দিন আগে কুরিয়ারের মাধ্যমে ঢাকায় এক ব্যক্তির কাছে কোকেন পাঠান মহসিন। পরে কোকেন ফেরত এলে বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে পুলিশ।
অনুসন্ধানের একপর্যায়ে ওই ভবনে বিদেশি নাগরিকদের অবস্থানের তথ্য সামনে আসে। পুলিশের দাবি, ৬৩ বিদেশির সঙ্গে মহসিনের সরাসরি যোগাযোগ ছিল এবং তার মাধ্যমেই তাদের জন্য ভবনটি ভাড়া নেওয়া হয়। এমনকি বিদেশিদের পাসপোর্টও তার কাছে জমা ছিল বলে দাবি পুলিশের।
এর আগে অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে খুলশীর ওই ভবন থেকে ৬৩ বিদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে ১৩৪টি মোবাইল ফোন, ৫৭টি ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়। তবে তাদের কারও কাছ থেকে পাসপোর্ট পাওয়া যায়নি।
গ্রেফতার ৬৩ বিদেশির মধ্যে লাওসের ৩৪ জন, পাকিস্তানের ২১ জন, চীনের পাঁচজন, নেপালের একজন ও ভিয়েতনামের একজন রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২০ জন নারী। এছাড়া তাদের সঙ্গে একটি শিশুও ছিল।
পুলিশের ভাষ্য, প্রায় দেড় মাস ধরে ওই ভবনে অবস্থান করে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ওয়েবসাইট ব্যবহার করে প্রতারণাসহ অনলাইন অপরাধ চালিয়ে আসছিলেন তারা।
এ ঘটনায় কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের এসআই রেজাউল করিম চৌধুরী বাদী হয়ে সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করেন। ওই মামলায় ৬৩ বিদেশিকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আজ মঙ্গলবার একই আদালত ৬৩ বিদেশির প্রত্যেকের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এমআরএএইচ/কেএসআর
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
মানবেন্দ্র নারায়ণ (এম এন) লারমা সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিলেন। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর যে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার কথা বলে হয়েছে, এম এন লারমা তা ১৯৭২ সালে সংবিধান প্রণয়নের সময় গণপরিষদে বলেছিলেন। বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য হলেও এম এন লারমার সংবিধান দর্শন পর্যালোচনা করা উচিত। এসব কথা উঠে এসেছে রাজনীতিবিদ মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার ৮৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ‘জাত্যভিমানী সংবিধানের খেরোখাতায় মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার সংবিধান দর্শন’ শীর্ষক আলোচনায়। আজ মঙ্গলবার বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান মিলনায়তনে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভার আয়োজন করে ‘বিপ্লবী মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার ৮৭তম জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন কমিটি–২০২৬’।সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আমেনা মহসিন বলেন, সরকারের কাছে পাহাড়িদের যে সংকট তৈরি হচ্ছে, সেটি বাহাত্তর সালের সংবিধানের সময়ও ছিল। সে সময় এম এন লারমার যে ভূমিকা, সেটা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ভিন্ন জাতির হয়ে একাই নিজেদের অধিকারের কথা তুলে ধরেছিলেন। সর্বোপরি সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কথা তুলে এনে তিনি সংবিধানের ত্রুটিগুলো বিশ্লেষণ করেছিলেন।আমেনা মহসিন আরও বলেন, এম এন লারমা তাঁর সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিলেন। বাঙালি জাতীয়তাবাদের জায়গায় বর্তমানে বিএনপির যে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ তার মধ্য দিয়ে কতটুকু অন্তর্ভুক্তি সম্ভব, সেটাও প্রশ্ন থেকে যায়। পার্বত্য চট্টগ্রামে কতটুকু গণতন্ত্রচর্চা হচ্ছে, সেসব বিষয়ও তুলে আনা প্রয়োজন।গবেষক ও মানবাধিকারকর্মী ঈশিতা দস্তিদার বলেন, বাংলাদেশের মানুষের জীবন এবং অধিকার সম্পর্কিত অতি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয়ের সঙ্গে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার সংবিধান দর্শন জড়িত, যা কোনোভাবেই বিচ্ছিন্নতাবাদ নয়। এ যুগে পরিবেশ বিপর্যয়ে জনপদগুলো যখন বিপর্যস্ত হচ্ছে তখন লারমার পরিবেশ-প্রতিবেশ দর্শনের প্রাসঙ্গিকতা উঠে আসে।পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় সদস্য দীপায়ন খীসা বলেন, বিএনপি এবং তারেক রহমানের বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ স্পষ্ট নয়; বরং ধোঁয়াশাজনক। এর চেয়ে লারমার বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী দর্শন অধিক স্পষ্ট এবং বৈজ্ঞানিক। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর যে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার কথা বলে হয়েছে, এম এন লারমা তা ১৯৭২ সালে সংবিধান প্রণয়নের সময় গণপরিষদে বলেছিলেন।আলোচনা সভায় বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের অর্থ সম্পাদক মেইনথিন প্রমীলা বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্র যতভাবে সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা করুক, আদিবাসীরা আদিবাসীই। নানা ন্যারেটিভ তৈরির মাধ্যমে আদিবাসীদের রাষ্ট্রীয় অধিকারকে ধামাচাপা দেওয়া হয়। সরকার পরিবর্তন হওয়ার পরও সরকারের দখলদার চরিত্র পরিবর্তিত হয় না।আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন কমিটির আহ্বায়ক গবেষক পাভেল পার্থ। তিনি তাঁর উপস্থাপনায় বলেন, মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার সংবিধান দর্শন বাংলাদেশের সংবিধানের আলাম (চাকমাদের বুননশিল্প)। বাঙালি ছাড়া অন্যান্য জাতিসর অস্তিত্বকে অস্বীকার করে রাষ্ট্র বাঙালি কর্তৃত্ববাদের জাত্যভিমানী চরিত্রকেই জাহির করছে। এম এন লারমার সংবিধান দর্শনে জুম চাষ, কৃষি চাষ, রাজস্ব আদায়, উৎপাদন ব্যবস্থায় কৃষি প্রশ্ন, পরিবেশ-প্রতিবেশ দর্শন তথা শোষিত-নিপীড়িত জনগোষ্ঠীসমূহের অধিকারকে সন্নিবেশিত করাসহ নারী প্রশ্ন বৈজ্ঞানিক বহুত্ববাদী রাষ্ট্রেরই ধারক–বাহক, যা বর্তমান সময়ে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।পাভেল পার্থ বলেন, বাংলাদেশে আদিবাসী-বাঙালির ঐতিহাসিক সম্প্রীতি অস্বীকার করে উপজাতি-ক্ষু্দ্রূ নৃগোষ্ঠী নানা পরিচয়ের হীন বাইনারি ন্যারেটিভের মাধ্যমে রাষ্ট্র কলোনিয়াল (ঔপনিবেশিক) শাসনকে দীর্ঘস্থায়ী করতে বদ্ধপরিকর।লেখক, গবেষক ও সংবিধান সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য ফিরোজ আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা–উত্তর নব্য স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র পার্বত্য চট্টগ্রামে সেটেলার পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছিল। তা সত্ত্বেও প্রতিহিংসা পেরিয়ে সংবিধান দর্শনের মাধ্যমে রাষ্ট্রনায়কোচিত ভূমিকা পালন করা এম এন লারমার দ্বারাই সম্ভব ছিল।সভায় রাজনৈতিক বিশ্লেষক মারুফ মল্লিক বলেন, স্বাধীনতা–পরবর্তী সংবিধানে চাপিয়ে দেওয়া বাঙালি জাতীয়তাবাদ কখনো গ্রহণযোগ্য নয়। এটি রাষ্ট্রে বহুত্ববাদী অন্তর্ভুক্তির পথে অন্তরায়। বাহাত্তর সালের সংবিধানের প্রণয়নকালে এম এন লারমার দর্শন বর্তমান আধুনিক রাষ্ট্রের কাছে অবশ্যই প্রাসঙ্গিক।আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন ‘বিপ্লবী মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার ৮৭তম জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন কমিটি–২০২৬’–এর সদস্যসচিব মনিরা ত্রিপুরা।
আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টা ২ মিনিট। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আঞ্চলিক কার্যালয়–৫–এর মূল ফটক বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন সংস্থাটির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। এরপর কার্যালয়ের বিভিন্ন কক্ষ ঘুরে ও হাজিরা খাতা যাচাই করে দেখলেন যে প্রায় ২৫ শতাংশ কর্মকর্তা–কর্মচারী কর্মস্থলে অনুপস্থিত। পরে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা কর্মকর্তা–কর্মচারীদের বিরুদ্ধে চাকরির বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন প্রশাসক। আজ সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে কোনো প্রটোকল ছাড়াই শুধু ব্যক্তিগত গাড়ির চালককে সঙ্গে নিয়ে অঞ্চল–৫ কার্যালয়ে যান এবং কর্মকর্তা–কর্মচারীদের কর্মস্থলে আসা পর্যবেক্ষণ করেন প্রশাসক আবদুস সালাম।ঢাকা দক্ষিণ সিটির জনসংযোগ বিভাগের দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কার্যালয়ে ঢুকে প্রশাসক বিভিন্ন কক্ষ ঘুরে দেখেন। পরে হাজিরা খাতা যাচাই করেন। এতে প্রায় এক–চতুর্থাংশ কর্মকর্তা–কর্মচারীর অনুপস্থিতির তথ্য পাওয়া যায়। এ ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করে অনুপস্থিত কর্মকর্তা–কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে ওই অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা আক্তার উননেছাকে নির্দেশ দেন তিনি। অনুপস্থিত থাকা কর্মকর্তা–কর্মচারীদের কারণ দর্শাতে নোটিশ দেওয়া হবে।এরপর ঢাকা দক্ষিণ সিটির ১১ নম্বর ওয়ার্ডের শাহজাহানপুর এলাকায় যান প্রশাসক। সেখানে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের উপস্থিতি ও হাজিরা খাতা তদারক করেন। এ সময় তিনি সড়ক পরিষ্কারের কাজে পর্যাপ্তসংখ্যক পরিচ্ছন্নতাকর্মী উপস্থিত দেখতে না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরবর্তী সময় প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর মাহবুবুর রহমান তালুকদারকে এ নিয়ে সতর্ক করেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।মতিঝিল পীর জঙ্গির মাজার থেকে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল, ফকিরাপুল, আরামবাগ ও দৈনিক বাংলা হয়ে বঙ্গভবন পর্যন্ত এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেন প্রশাসকপ্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, নাগরিক সেবা প্রদানে কোনো ধরনের গাফিলতি বা অবহেলা বরদাশত করা হবে না। সিটি করপোরেশনের নিজস্ব কর্মচারী কিংবা বাইরের কোনো পক্ষ জনভোগান্তি সৃষ্টি করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার পাশাপাশি সেবা প্রদানে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ ও পরিদর্শন অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।পরে মতিঝিল পীর জঙ্গির মাজার থেকে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল, ফকিরাপুল, আরামবাগ ও দৈনিক বাংলা হয়ে বঙ্গভবন পর্যন্ত এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেন প্রশাসক। অভিযানে ফুটপাতের ওপর থাকা অবৈধ দোকানপাট ও অস্থায়ী স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।
প্ল্যাগশিপ ওভার-ইয়ার হেডফোনের বাজারে নতুন মডেল আনতে পারে নাথিং। সংস্থার পরবর্তী প্রিমিয়াম হেডফোন হিসেবে আসতে পারে নাথিং হেডফোন (১) প্রো। আনুষ্ঠানিক লঞ্চের আগেই ফাঁস হয়েছে সম্ভাব্য দাম, ফিচার ও স্পেসিফিকেশনের বেশ কিছু তথ্য। জানা যাচ্ছে, আগের মডেলের তুলনায় নতুন হেডফোনে অডিও, নয়েজ ক্যানসেলেশন ও কানেক্টিভিটিতে বড় ধরনের আপগ্রেড থাকতে পারে। নাথিং হেডফোন (১) প্রো-এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হতে পারে এর অডিও সেটআপ। ফাঁস হওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, এতে থাকবে ট্রিপল-ড্রাইভার আর্কিটেকচার। আলাদা ড্রাইভার বাস ও অডিওর নির্ভুলতা নিয়ন্ত্রণ করবে। উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সির জন্য থাকতে পারে এক্সএমইএমএস ড্রাইভার। আরও পড়ুন ৫০ ঘণ্টা ব্যাটারি, এআই নয়েজ ক্যানসেলেশনসহ এলো এই ইয়ারবাডস অডিও টিউনিংয়ের কাজ মেট্রোপলিস স্টুডিওস-এর সঙ্গে যৌথভাবে করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। হেডফোনে হাই-রেস অডিও সার্টিফিকেশন ও এলডিএসি সাপোর্ট থাকতে পারে। পাশাপাশি ফ্ল্যাট ইকিউ মোড, স্টুডিও-স্টাইল সাউন্ড অ্যাডজাস্টমেন্ট এবং হেড ট্র্যাকিংসহ স্থানিক অডিও পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। নয়েজ ক্যানসেলেশনের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আসতে পারে। নাথিং হেডফোন (১) প্রো-তে অ্যাটাপ্টিভ এএনসি থাকার কথা বলা হয়েছে, যা পরিবেশের শব্দ বুঝে রিয়েল টাইমে নয়েজ ক্যানসেলেশনের মাত্রা পরিবর্তন করতে পারবে। এই কাজে ব্যবহার করা হতে পারে ১০টি মাইক্রোফোন। পাশাপাশি বাইরের শব্দ শোনার জন্য স্বচ্ছতা মোড-ও থাকতে পারে। ব্যাটারি ব্যাকআপেও নজর কাড়তে পারে নতুন হেডফোন। একবার চার্জে ৬০ ঘণ্টা পর্যন্ত চলার ক্ষমতা থাকতে পারে বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। কানেক্টিভিটির জন্য ব্লুটুথ ৬.১, ইউএসবি টাইপ-সি পোর্ট এবং ৩.৫ মিমি হেডফোন জ্যাক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আরও পড়ুন ৫০ ঘণ্টা ব্যাটারি ও এআই ফিচারসহ আসছে ভিভোর নতুন ইয়ারবাড ডিজাইনের ক্ষেত্রেও নাথিং হেডফোন (১) প্রো-কে আরও প্রিমিয়াম করার চেষ্টা থাকতে পারে। এতে অ্যালুমিনিয়াম বডির সঙ্গে স্ক্র্যাচ-রেজিস্ট্যান্ট গ্লাস ব্যবহার করা হতে পারে। পাশাপাশি IP52 রেটিং থাকায় ধুলা ও হালকা পানির ছিটে থেকে কিছুটা সুরক্ষা মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে মনে রাখতে হবে, এগুলো এখনও ফাঁস হওয়া তথ্য। নাথিংয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত দাম, ফিচার বা স্পেসিফিকেশনে পরিবর্তন হতে পারে। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর বাজারে আসতে পারে হেডফোনটি। হেডফোনটি কালো ও সাদা এই দুই রঙে পাওয়া যেতে পারে। দামের জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছুদিন। কেএসকে