সপ্তাহান্তের ইউরোপীয় ফুটবলে ছিল গোল, নাটক আর রেকর্ডের সমাহার। ১০ জনের ম্যানচেস্টার সিটি বিতর্কিত এক ম্যাচে নগর প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে হারিয়েছে আরলিং হালান্ডের গোলে। আর্সেনালও সান্ডারল্যান্ডকে ২-০ গোলে হারিয়ে প্রিমিয়ার লিগে নিজেদের নিখুঁত শুরু ধরে রেখেছে।
লিভারপুল ফুলহ্যামের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ে খুব একটা ছন্দে ছিল না। চেলসিও হালের কাছে ২-২ গোলে ড্র করে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছে।
লা লিগায় লেভান্তেকে ৪-২ গোলে হারিয়ে মৌসুমের প্রথম পাঁচ ম্যাচেই পাঁচ জয় পেয়েছে বার্সেলোনা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা রিয়াল মাদ্রিদও রায়ো ভায়েকানোকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে। আর অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ শেষ দিকে তিন গোল করে রিয়াল সোসিয়েদাদকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে।
বুন্দেসলিগায় এসভি এলভার্সবার্গকে ২-১ গোলে হারিয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। বরুশিয়া মঞ্চেনগ্ল্যাডবাখকে হারিয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ফ্রেইবুর্গ। পাদেরবর্নকে হারিয়ে টানা তিন ম্যাচে জয় পেয়েছে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডও। সপ্তাহান্তের ইউরোপীয় ফুটবলের সেরা পরিসংখ্যানগুলো একনজরে-
৯: ম্যানচেস্টার সিটি ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মধ্যকার প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন আরলিং হালান্ড। ম্যানচেস্টার ডার্বিতে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে সবচেয়ে বেশি গোল করা ফ্রান্সিস লি ও জো হেইসের রেকর্ড ছুঁতে আর মাত্র ১ গোল প্রয়োজন হালান্ডের। আর ম্যানচেস্টার ডার্বির সর্বকালের রেকর্ড থেকে তিনি ২ গোল পিছিয়ে। ওয়েন রুনির ডার্বি গোলসংখ্যা ১১।
১০: প্রিমিয়ার লিগে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে সফরকারী দল হিসেবে ম্যানচেস্টার সিটি ১০টি জয় পেয়েছে। এই ভেন্যুতে সফরকারী দল হিসেবে এটিই সর্বোচ্চ জয়। লিভারপুল ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ৮ বার জিতেছে। আর্সেনাল ও চেলসি জিতেছে ৬ বার করে।
২: প্রিমিয়ার লিগে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে সফরকারী দল হিসেবে এখন পর্যন্ত ৫০টি দল লাল কার্ড দেখেছে। কিন্তু তাদের মধ্যে মাত্র ২টি দল লাল কার্ড দেখেও ম্যাচ জিতেছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে এভার্টন এবং এবার ম্যানচেস্টার সিটি। মজার বিষয়, দুই ম্যাচেই জয়ী দলের হয়ে মাঠে ছিলেন ইলিমান এনদিয়ায়ে।
MANCHESTER IS BLUE
— ESPN FC (@ESPNFC) September 13, 2026
Down to 10 men since the 23rd minute, Man City find the winner through Erling Haaland and take all three points at Old Trafford pic.twitter.com/eUd7Ic2dOF
০: প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে নিজেদের মৌসুমের প্রথম চার ম্যাচেই হেরে কোনো গোল করতে পারেনি- এমন দলের তালিকায় পঞ্চম দল হলো কভেন্ট্রি সিটি। এর আগে ডার্বি ১৮৯৯-০০, স্টোক ১৯০৬-০৭, প্রেস্টন ১৯২৪-২৫ এবং ক্রিস্টাল প্যালেস ২০১৭-১৮ মৌসুমে একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিল।
৪: ২০২৬-২৭ মৌসুমে টটেনহ্যাম হটস্পার প্রথম চার ম্যাচে কোনো গোল করতে পারেনি। প্রিমিয়ার লিগে মৌসুম শুরুর পর গোলহীন থাকার দিক থেকে তাদের চেয়ে দীর্ঘ সময় পার করেছে শুধু ক্রিস্টাল প্যালেস। ২০১৭-১৮ মৌসুমে প্যালেস প্রথম ৭ ম্যাচে গোল করতে পারেনি। এটি ইংল্যান্ডের শীর্ষ চার স্তরের ফুটবলে টটেনহ্যামের মৌসুম শুরুর সবচেয়ে দীর্ঘ গোলখরা।
৯: প্রিমিয়ার লিগে টানা ৯ ম্যাচ জিতেছে আর্সেনাল। ২০০৪ সালের মার্চের পর এটি তাদের সবচেয়ে দীর্ঘ জয়ধারা। সেবারও টানা ৯ ম্যাচ জিতেছিল তারা। প্রিমিয়ার লিগের কোনো মৌসুমের প্রথম চার ম্যাচেই জয় পাওয়ার ঘটনা আর্সেনালের ইতিহাসে মাত্র চতুর্থবার। এর আগে ২০০৩-০৪, ২০০৪-০৫ ও ২০২২-২৩ মৌসুমে তারা এমন শুরু করেছিল।
৮: নটিংহাম ফরেস্টের মরগ্যান গিবস-হোয়াইট প্রিমিয়ার লিগে নিজেদের শেষ ৮টি অ্যাওয়ে ম্যাচের প্রতিটিতেই গোল করেছেন অথবা অ্যাসিস্ট করেছেন। এই সময়ে তার গোল ৬টি, অ্যাসিস্ট ৪টি। তার চেয়ে দীর্ঘ ধারার রেকর্ড আছে মাত্র তিনজনের- আরলিং হালান্ড, রবিন ফন পার্সি ও অ্যান্ড্রু কোল। তিনজনেরই ধারাটি ছিল ৯ ম্যাচের।
৫: চেলসির হয়ে প্রিমিয়ার লিগ মৌসুমের প্রথম চার ম্যাচেই গোল বা অ্যাসিস্ট করা পঞ্চম খেলোয়াড় হলেন মরগ্যান রজার্স। এর আগে এই কীর্তি গড়েছেন দিদিয়ের দ্রগবা (২০১০-১১), সেস ফ্যাব্রেগাস (২০১৪-১৫), দিয়েগো কস্তা (২০১৪-১৫ ও ২০১৬-১৭) এবং এডেন হ্যাজার্ড (২০১৮-১৯)।
Tottenham still have not scored a goal this Premier League season pic.twitter.com/5moTdrZ1AX
— ESPN FC (@ESPNFC) September 12, 2026
৪: অ্যানফিল্ডে প্রিমিয়ার লিগের শেষ ৪ ম্যাচেই ড্র করেছে লিভারপুল। ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত টানা ৮ ম্যাচ জয়হীন থাকার পর এটাই অ্যানফিল্ডে তাদের সবচেয়ে দীর্ঘ জয়হীন ধারা। সেই ৮ ম্যাচে লিভারপুলের ফল ছিল ২ জয়, ৬ ড্র ও কোনো হার।
৩: একুশ শতকে লা লিগার মৌসুমের প্রথম পাঁচ ম্যাচে তিনটি জোড়া গোল করা দ্বিতীয় খেলোয়াড় হয়েছেন লামিনে ইয়ামাল। এর আগে ২০১২-১৩ মৌসুমে বার্সেলোনার হয়েই এই কীর্তি গড়েছিলেন লিওনেল মেসি।
৯: ২০২৬-২৭ লা লিগায় বার্সেলোনার প্রথম পাঁচ ম্যাচে ৯টি গোলে অবদান রেখেছেন রাফিনহা- ৬ গোল ও ৩ অ্যাসিস্ট। মৌসুমের প্রথম পাঁচ ম্যাচে বার্সেলোনার কোনো খেলোয়াড়ের এর চেয়ে বেশি গোল-অবদান ছিল সর্বশেষ ২০১৭-১৮ মৌসুমে। সেবার মেসির গোল-অবদান ছিল ১০টি, ৯ গোল ও ১ অ্যাসিস্ট।
২: ১৯ বছর ১১৫ দিন বয়সে বার্সেলোনার হয়ে একুশ শতকে লা লিগায় গোল করা দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ ডিফেন্ডার হয়েছেন জাভি এসপার্ট। বার্সেলোনার হয়ে তার চেয়ে কম বয়সে গোল করা একমাত্র ডিফেন্ডার পাও কুবার্সি। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জিরোনার বিপক্ষে ১৯ বছর ২৫ দিন বয়সে গোল করেছিলেন তিনি।
৫: মৌসুমের শুরুতে টানা ৫টি লা লিগা ম্যাচ জিতেছে বার্সেলোনা। গোল ব্যবধানও +১৭। বার্সেলোনার ইতিহাসে মৌসুমের প্রথম পাঁচ ম্যাচে এমন জয় ও গোল ব্যবধানের কীর্তি তৃতীয়বার। সর্বশেষ তারা এমন শুরু করেছিল ২০১৭-১৮ মৌসুমে।
১৭: সান্তিয়াগো বার্নাব্যুয়ে লা লিগার কোনো ম্যাচের প্রথম ১৭ মিনিটের মধ্যে গোল ও অ্যাসিস্ট করা রিয়াল মাদ্রিদের প্রথম খেলোয়াড় হয়েছেন কিলিয়ান এমবাপে। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে এস্পানিওলের বিপক্ষে হামেস রদ্রিগেজের পর আর কেউ এই কীর্তি গড়তে পারেননি।
৬: ২০২৬-২৭ লা লিগায় ৬ গোল করেছেন এমবাপে। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে মৌসুমের প্রথম পাঁচ লা লিগা ম্যাচে ৬ গোল করা প্রথম খেলোয়াড় তিনি নন; সর্বশেষ এই কীর্তি করেছিলেন করিম বেনজেমা, ২০২১-২২ মৌসুমে।
৫: লা লিগায় চলতি মৌসুমে জুড বেলিংহামের গোল ৩টি, অ্যাসিস্ট ২টি- মোট গোল-অবদান ৫টি। ২০২৩-২৪ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদে অভিষেকের পর প্রথম পাঁচ লিগ ম্যাচে ৬ গোল- অবদানের পর এবারই তার সেরা শুরু।
26 G/A THROUGH SIX GAMES
— ESPN FC (@ESPNFC) September 13, 2026
Raphinha - 8 goals and 3 assists
Lamine Yamal - 7 goals and 2 assists
Fermín López - 4 goals and 2 assists
Anthony Gordon - 4 assists
Karim Adeyemi - 3 goals and 1 assist
Barcelona's attack is nearly unstoppable to start the season pic.twitter.com/YCRrqDi23s
৮: লা লিগায় এমবাপের ৮টি গোলে অ্যাসিস্ট করেছেন আরদা গুলের। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে গত তিন মৌসুমে কোনো সতীর্থের গোলের জন্য এতবার অ্যাসিস্ট করা আর কেউ নেই।
১৯ বছর ২৮ দিন: ফিওরেন্তিনার হয়ে ভেনেজিয়ার বিপক্ষে ৪-২ জয়ে তিন গোল করে লিওনেল মেসিকে পেছনে ফেলেছেন ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়ানো। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে হ্যাটট্রিক করা সর্বকনিষ্ঠ আর্জেন্টাইন খেলোয়াড় এখন তিনি। মেসিকে ছাড়িয়ে এই রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন মাস্তানতুয়ানো।
২২ বছর ৩৭ দিন: এসির হয়ে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে এক ম্যাচে একাধিক গোল করা সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হয়েছেন দিয়েগো মোরেইরা। ২০০৪-০৫ মৌসুম থেকে হিসাব করলে সিরি আতে এসির কোনো খেলোয়াড় হিসেবে বদলি নেমে জোড়া গোল করার ক্ষেত্রে তিনিই সর্বকনিষ্ঠ।
০: সাসুওলোর বিপক্ষে জুভেন্টাসের শুরুর একাদশে ১০ জন আউটফিল্ড খেলোয়াড়ের মধ্যে একজন ইতালিয়ানও ছিলেন না। জুভেন্টাসের ইতিহাসে কোনো ম্যাচে শুরুর একাদশের ১০ আউটফিল্ড খেলোয়াড়ের একজনও ইতালিয়ান না থাকার ঘটনা এটাই প্রথম।
৪৯: ২০২২-২৩ মৌসুম থেকে গত পাঁচ সিরি আ মৌসুমে বদলি খেলোয়াড়দের মাধ্যমে ৪৯ গোল করেছে এসি মিলান। এই সময়ে বদলি খেলোয়াড়দের কাছ থেকে লাজিও পেয়েছে ৫০ গোল, যা সবচেয়ে বেশি।
৯৯: এসভি এলভার্সবার্গের বিপক্ষে চলতি মৌসুমে নিজের প্রথম বুন্দেসলিগা গোল করেছেন হ্যারি কেইন। এটি ছিল বুন্দেসলিগায় ৯৭ ম্যাচে তার ৯৯তম গোল। এখন ১০০ গোলের মাইলফলক থেকে মাত্র ১ গোল দূরে কেইন। বুন্দেসলিগায় সবচেয়ে দ্রুত ১০০ গোলের রেকর্ড এখন ডিয়েটার মুলারের দখলে। কোলনের হয়ে ১২৯ ম্যাচে ১০০ গোল করেছিলেন তিনি।
৫০০: বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৫০০তম ম্যাচ খেলেছেন জশুয়া কিমিখ। এই ৫০০ ম্যাচে তার গোল ৪৭টি এবং অ্যাসিস্ট ১২২টি।
৬: পিএসজির হয়ে পাঁচ লিগ ম্যাচে ৬ গোল করেছেন ফেরান তোরেস। ব্রেস্টের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানের জয়ের ম্যাচে গোল করে তিনি প্রথম পাঁচ লিগ ম্যাচে ৬ গোলের কীর্তি গড়েছেন। এই কীর্তিতে তিনি ছুঁয়েছেন জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচকে। পিএসজির হয়ে লিগ মৌসুমের প্রথম পাঁচ ম্যাচে জ্লাতানও ৬ গোল করেছিলেন।
আইএইচএস/
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
দক্ষিণ চীনের গুয়াংদং প্রদেশের এক সংরক্ষণকেন্দ্রের বালুর বাসা থেকে বের হয়েছে সবুজ সামুদ্রিক কচ্ছপের ৫৯টি বাচ্চা। বিস্তারিত ভিডিওতে…
হাসান মাহমুদ জাতীয় দলের দায়িত্ব পালন করবেন, তাই তাকে কাউন্টি ক্রিকেট থেকে সরিয়ে নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তবে রয়ে গেছেন খালেদ আহমেদ। তিনি কেন্টের হয়ে খেলছেন। কেন্টাবুরিয়ে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের চারদিনের টেস্টে প্রথম ইনিংসে আগুন ঝরানো বোলিং করেছেন খালেদ আহমেদ। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ে ল্যাঙ্কাশায়ার মাত্র ১৬১ রানে গুটিয়ে গেছে। দলের কোনো ব্যাটার ফিফটিও করতে পারেননি। সর্বোচ্চ ৪৪ রান আসে ওপেনার মাইকেল জোনসের ব্যাট থেকে। বাংলাদেশের পেসার খালেদ আহমেদ ৪২ রান খরচায় একাই নিয়েছেন ৫টি উইকেট। তিনিই ইনিংসে সেরা বোলার। এছাড়া ২৮ রানে ৪টি উইকেট শিকার করেন ম্যাট মিলনেস। এমএমআর
গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে ভারতে যায়নি বাংলাদেশ দল। তখন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন আসিফ নজরুল। বিশ্বকাপ না খেলার কারণ অনুসন্ধানে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তেই বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যায়নি জাতীয় দল। এমনকি তখন ক্রীড়া মন্ত্রণালয় তথা আসিফ নজরুলের সেই সিদ্ধান্তে সায় দিয়েছিল বিসিবি। এ নিয়ে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে নিজের অবস্থান তুলে ধরে বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়েছেন আসিফ নজরুল। ‘টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: কেন ভারতে যাইনি?’ শিরোনামে লেখা তার সেই স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো। টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: কেন ভারতে যাইনি? ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলতে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি তখনকার ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে মূলত আমারই ছিল। আমি নিজেই এ কথা একাধিকবার প্রকাশ্যে বলেছি। তাই এতোদিন পর ক্রীড়া মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিষয়টি তদন্ত করে তা প্রকাশের কী এমন কারণ ঘটলো বুঝলাম না। ঘটনার সূত্রপাত উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের চাপের মুখে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নির্দেশে মুস্তাফিজকে আইপিএল থেকে অপমানজনকভাবে বাদ দেওয়া থেকে। এর পরপরই আমরা নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা এবং বাংলাদেশের প্রতি অবমাননার প্রতিবাদে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার বিষয়ে অনীহা জানাই। আরও পড়ুন তদন্ত কমিটি / আসিফ নজরুলের নির্দেশেই ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যায়নি বাংলাদেশ আমাদের আশঙ্কা যে অমূলক ছিল না, আইসিসির প্রথম রিপোর্টেই তার স্বীকৃতি ছিল। সেখানে ভারতে নিরাপত্তা-আশঙ্কার তিনটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছিল—বিশ্বকাপের দলে মুস্তাফিজ থাকলে, বাংলাদেশের সমর্থকরা মুক্তভাবে ঘোরাফেরা করলে এবং বাংলাদেশে নির্বাচন এগিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে। বিবিসি বাংলা ওই রিপোর্টের হুবহু বাংলা অনুবাদও প্রকাশ করেছিল। এই পরিস্থিতিতে আমরা ভারতে খেলতে যাবো কেন? আমরা শেষ পর্যন্ত অন্য কোনো ভেন্যুতে বিশ্বকাপ খেলার জন্য বহু চেষ্টা করেছি। কোনো কোনো দেশ থেকে সমর্থনও পেয়েছিলাম। কিন্তু সম্ভবত আইসিসির নেতৃত্বে ভারতীয়দের আধিপত্যে থাকার কারণে শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমাদেরকে ভারতে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। আমাদের সিদ্ধান্তের পেছনে তিনটি বিষয় ছিল অত্যন্ত পরিষ্কার—দেশের মর্যাদা, আমাদের ক্রিকেটার-সাংবাদিক-সমর্থকদের নিরাপত্তা এবং আগামী নির্বাচনের আগে দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা। সে সময় বলা হয়েছিল, বিশ্বকাপ না খেললে বিদেশি দলগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের খেলা বন্ধ হয়ে যাবে। আমাদের ক্রিকেট বোর্ডের নানা উদ্যোগে সেই আশঙ্কাও শেষ পর্যন্ত দূর হয়েছিল। আমি মনে করি, আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। একটি ছোট দেশ বলে কেউ আমাদের ইচ্ছেমতো অপমান করবে, আর আমরা সবসময় তা মুখ বুঝে মেনে নেবো এমন প্রত্যাশা করা ঠিক নয়। আমি সমমর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বে বিশ্বাসী । মাথা নত করে সব মেনে নেওয়াতে না। এমকেআর