জাতীয়

জন্ম থেকেই বাঁ হাত নেই, কটু কথা শোনা মেয়েটি এখন চাকরিজীবী

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
জন্ম থেকেই বাঁ হাত নেই, কটু কথা শোনা মেয়েটি এখন চাকরিজীবী
জন্ম থেকেই বাঁ হাত নেই, কটু কথা শোনা মেয়েটি এখন চাকরিজীবী

২৮ বছর বয়সী নাজমা আকতারের বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার দক্ষিণ কাহারিয়াঘোনা এলাকার ছালাম মাস্টারপাড়ায়। জন্ম থেকেই তাঁর বাঁ হাত কনুই পর্যন্ত নেই। এ কারণে জন্মের পর থেকেই স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কটু কথা শুনতে হতো তাঁকে। তবে তিনি এসব উপেক্ষা করে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। বর্তমানে তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে হিসাবরক্ষক হিসেবে কর্মরত।

জন্ম থেকেই বাঁ হাতের কনুই পর্যন্ত নেই নাজমা আকতারের। এলাকার মানুষ তাঁর মা-বাবাকে বলতেন, ‘ও তো প্রতিবন্ধী। ওকে দিয়ে কিছু হবে না। সারা জীবন ঘরে রেখেই খাওয়াতে হবে।’ তবে তিনি এমন কটু কথা শুনেও দমে যাননি। পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। এখন তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে হিসাবরক্ষক হিসেবে কর্মরত।

২৮ বছর বয়সী নাজমা আকতারের বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার দক্ষিণ কাহারিয়াঘোনা এলাকার ছালাম মাস্টারপাড়ায়। তাঁর বাবা নাছির উদ্দিন বন বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী। আর মা নুর আয়েশা বেগম গৃহিণী। তিনি ২০১৩ সালে চকরিয়া কেন্দ্রীয় উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ২০১৫ সালে চকরিয়া কমার্স কলেজ থেকে এইচএসসি, ২০২০ সালে কক্সবাজার সরকারি কলেজ থেকে ব্যবস্থাপনা বিভাগে স্নাতক ও ২০২১ সালে একই বিভাগে চট্টগ্রামের সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর পাস করেছেন।

জানতে চাইলে নাজমা আকতার প্রথম আলোকে বলেন,‘প্রতিবন্ধিতা জয় করে আজ আমি নিজের এলাকায় ভালো বেতনে চাকরি করছি। ছোট থেকেই মানুষের অনেক কটু কথা শুনেছি। কষ্ট পেলেও আমি দমে যাইনি। এখন আর কেউ কটু কথা বলেন না। মূল কথা, একাগ্রতা নিয়ে পড়াশোনা করলে সমাজ জয় করা কোনো ব্যাপারই নয়।’

কটু কথার শুরু শৈশব থেকে

দুই ভাই ও চার বোনের মধ্যে সবার ছোট নাজমা। তাঁর সব ভাইবোন স্বাভাবিক। শুধু নাজমার জন্মগতভাবে বাঁ হাতের অর্ধেক নেই। এ কারণে স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনেরা শৈশব থেকেই তাঁর শারীরিক পার্থক্যটি নিয়ে আলোচনা করতেন।

দুই ভাই ও চার বোনের মধ্যে সবার ছোট নাজমা। তাঁর সব ভাইবোন স্বাভাবিক। শুধু নাজমার জন্মগতভাবে বাঁ হাতের অর্ধেক নেই। এ কারণে স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনেরা শৈশব থেকেই তাঁর শারীরিক পার্থক্যটি নিয়ে আলোচনা করতেন।

নাজমা বলেন, ‘যখন আমার জন্ম হয়, তখনই বাঁ হাতের অর্ধেক নেই। একটু একটু করে বড় হতে থাকি। তখন সমাজ নানা কটু কথা শোনাত। একবার এলাকার এক নারী আমার মাকে বলেছিলেন “মেয়েটির একটি হাত নেই, বড় হয়ে কী হবে। বড় হলে বিয়ে হবে না, সারা জীবন তাঁকে পালতে হবে।”’

তবে এসব শুনেও নাজমার মা–বাবা ভেঙে পড়েননি; বরং তাঁরা মেয়েকে পড়াশোনা করানোর সংকল্প দৃঢ় করেন। তবে এ পথটাও নাজমার জন্য সহজ ছিল না। স্বল্প আয়ের সংসারের চাপ কমাতে উচ্চমাধ্যমিকে পড়ার সময় থেকেই টিউশনি করাতেন নাজমা। এ ছাড়া তিনি স্নাতকে পড়ার সময় লজিংয়ে থেকেছেন। এর বাইরে উপবৃত্তি ও সরকার থেকে পাওয়া প্রতিবন্ধী ভাতা তিনি পড়াশোনায় ব্যয় করেছেন।

২০২৩ সালে মিরাজ উদ্দিন নামের পূর্বপরিচিত এক ব্যক্তির সঙ্গে নাজমার বিয়ে হয়। তাঁর চকরিয়া পৌরসভায় একটি শপিং মলে প্রসাধনীর দোকান রয়েছে। বর্তমানে তাঁদের সংসারে ১৪ মাস বয়সী একটি সন্তান রয়েছে।

নাজমা বলেন, ‘আমার শ্বশুর-শাশুড়ি খুবই ভালো মানুষ। তাঁদের সহযোগিতা আমাকে অনেক বেশি অনুপ্রাণিত করেছে। আমার স্বামী সব সময় আমাকে সাহস জুগিয়েছেন। তাঁর সাপোর্ট না থাকলে আমার পক্ষে এই দুর্গম পথ পাড়ি দেওয়া সম্ভব হতো না।’

নাজমা ‘সোশ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন ফর দ্য ফিজিক্যালি ভালনারেবল’ নামের একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় কর্মরত। প্রতিষ্ঠানটির আঞ্চলিক পরিচালক কাজী মাকসুদুল হক বলেন, ‘কাজে দক্ষতায় নাজমা আকতার একজন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষ, কারও মনে হবে না। তিনি একটি হাত নিয়েই নিজের কাজ সারেন, অফিস সামলান। এককথায়, তিনি প্রতিবন্ধকতাকে জয় করেছেন।’

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
আপনি কি নিজের অজান্তে একাই সম্পর্কটা টেনে নিয়ে যাচ্ছেন? মিলিয়ে নিন এই ৫ লক্ষণ
আপনি কি নিজের অজান্তে একাই সম্পর্কটা টেনে নিয়ে যাচ্ছেন? মিলিয়ে নিন এই ৫ লক্ষণ

ভালোবাসার সম্পর্ক মানে কি ফিফটি-ফিফটি? কেউ যত্ন দেখান কথায়, কেউ কাজে। আসল প্রশ্ন হলো দুজনেই কি সম্পর্কটির দায়িত্ব নিচ্ছেন? সম্পর্কে কি পারস্পরিকতা আছে?সম্পর্কের ভাঙন সব সময় বড় ঝগড়া বা বিচ্ছেদের ঘোষণা দিয়ে হয় না। বেশির ভাগ সময় তা শুরু হয় নীরবেসম্পর্কের ভাঙন সব সময় বড় ঝগড়া বা বিচ্ছেদের ঘোষণা দিয়ে হয় না। বেশির ভাগ সময় তা শুরু হয় নীরবে। একজন বারবার খোঁজ নেন, অন্যজন শুধু উত্তর দেন। একজন পরিকল্পনা করেন, অন্যজন যেটুকু সাড়া না দিলেই নয়, কেবল সেটুকুই দেন। একজন ঝগড়ার পর এগিয়ে যান, অন্যজন অপেক্ষা করেন। বাইরে থেকে সম্পর্কটি তখনো ‘আছে’। কথা হচ্ছে, দেখা হচ্ছে, একসঙ্গে এক ছাদের নিচে ‘থাকা হচ্ছে’। কিন্তু ভেতরে–ভেতরে একজনের মনে কু ডাকছে, ‘আমি না থাকলে কি এই সম্পর্ক আদৌ থাকবে?’ভালোবাসা কি হিসাবের খাতা ভালোবাসার সম্পর্ক মানে কি ফিফটি-ফিফটি? কেউ যত্ন দেখান কথায়, কেউ কাজে। আসল প্রশ্ন হলো দুজনেই কি সম্পর্কটির দায়িত্ব নিচ্ছেন? সম্পর্কে কি পারস্পরিকতা আছে? ‘পারসিভড পার্টনার রেসপনসিভনেস’–এর গবেষণায় সঙ্গী আপনার প্রতি কতটা সহানুভূতিশীল, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আপনাকে গুরুত্ব দেন ও আপনার প্রয়োজনে কতটা সাড়া দেন—এই তিন বিষয়কে সম্পর্কের সুস্থতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে দেখা হয়েছে।দীর্ঘস্থায়ী দাম্পত্য জীবনের মূলমন্ত্র কী? জানালেন ৮৪ বছর ধরে একসঙ্গে থাকা এই দম্পতিপাঁচটি লক্ষণ১. সব সময় কি আপনিই প্রথমে মেসেজ করেন? আপনিই কি দেখা করার বা সব ‘আস টাইমের’ পরিকল্পনা করেন?২. প্রতিটি ঝগড়ার পর আপনিই কি ‘সব ঠিক’ করার দায় অনুভব করেন? ভুল না করেও ক্ষমা চান? গবেষণা বলছে, দ্বন্দ্বের সময় সরে যাওয়া সম্পর্কের মানের জন্য বেশি ক্ষতিকর। আসল কথা, কী নিয়ে ঝগড়া হচ্ছে তা নয়, উভয় পক্ষ সেটি মেটানোর ব্যাপারে কতটা আন্তরিক, সেটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।৩. আপনি থামলে কি যোগাযোগও থেমে যায়? কথোপকথনে সব সময় তাঁর কথাই উঠে আসে আর আপনার দিনটা কেমন গেল, তা জিজ্ঞাসা করে না? উত্তর ‘হ্যাঁ’ হলে এভাবেই সম্পর্ক নীরবে একতরফা হয়ে যায়।৪.বারবার কি আপনিই ছাড় দিচ্ছেন? সময়, পরিকল্পনা, পছন্দ বা প্রয়োজনের ক্ষেত্রে আপনাকেই কি নিয়মিত মানিয়ে নিতে হচ্ছে?৫. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ, সম্পর্কের মধ্যে থেকেও একা লাগা। প্রতিদিন কথা হয়, দেখা হয়, তবু ভেতরে একটা শূন্যতা থেকে যায়। একসঙ্গে থাকা আর আবেগগতভাবে সংযুক্ত থাকা এক কথা নয়।ব্যস্ত জীবনসঙ্গীকে নিয়ে সুন্দর দাম্পত্য সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার ৫ কার্যকর টিপসতাহলে কি সম্পর্ক শেষসব সময় নয়। একজন বেশি মেসেজ করেন, অন্যজন কম, এতেই সম্পর্ক একতরফা হয় না। দেখতে হবে ধরন (প্যাটার্ন)। গত কয়েক মাসে প্রায় সব উদ্যোগ কি আপনার? আপনার প্রয়োজন কি বারবার উপেক্ষিত হচ্ছে? যদি উত্তর বারবার ‘হ্যাঁ’ হয়, তাহলে খোলামেলা কথা বলার সময় এসেছে।ভালোবাসা মানে সমান হিসাব নয়, সমান উপস্থিতি ভালোবাসা কোনো হিসাবের খাতা নয়। সবার প্রতিটি দিন একরকম যায় না। আপনার দিনে আপনি নিজের সেরাটা দিলেন। কিন্তু আপনার খারাপ দিনে তিনি নিজের সবটা দিয়ে পাশে আছেন তো? এই একটি জায়গায় হিসাব জরুরি, সম্পর্কে দুজনেই উপস্থিত তো? ভালোবাসা একটু কমবেশি হোক, ভারসাম্য আছে তো? কেননা দিন শেষে সম্পর্ক কখনো যেকোনো একজনের দায়িত্বে টেকে না।সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়াসম্পর্কে ‘কম্প্যাটিবিলিটি টেস্ট’ করবেন কীভাবে? মিলিয়ে নিন ৫ বৈশিষ্ট্য

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান দিবস উদ্‌যাপন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান দিবস উদ্‌যাপন

তাপপ্রবাহ কমতে পারে, পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে ঝড়বৃষ্টির আভাস

তাপপ্রবাহ কমতে পারে, পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে ঝড়বৃষ্টির আভাস

ছোট হয়ে আসছে শতবর্ষী বেতের তৈরি পণ্যের ব্যবসা

ছোট হয়ে আসছে শতবর্ষী বেতের তৈরি পণ্যের ব্যবসা

সাভারে এসআই আলতাফ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
সাভারে এসআই আলতাফ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

সাভারের আমিনবাজারে সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই-নিরস্ত্র) আলতাফ হোসেনের হত্যাকাণ্ডে জড়িত সব আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।মন্ত্রীর সঙ্গে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাঁর অফিসকক্ষে নিহত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা সাক্ষাৎ করতে আসেন। তিনি সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের তখন এ নির্দেশনা দেন। সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী শোকসন্তপ্ত পরিবারটিকে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার সর্বাত্মক আশ্বাস দেন।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।মন্ত্রী জানান, নিহত পুলিশ কর্মকর্তার পরিবারের সার্বিক কল্যাণে ইতিমধ্যে পুলিশ অধিদপ্তরের কল্যাণ তহবিল থেকে ছয় লাখ টাকার আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নিহত এসআইয়ের পারিবারিক ব্যবসা সচল রাখার সুবিধার্থে ‘কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড’ থেকে প্রয়োজনীয় ঋণসহ সার্বিক সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কর্মজীবনে আলতাফ হোসেনের নৈতিকতা ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে মরণোত্তর ‘পুলিশ পদক (পিপিএম)’ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশ দেন মন্ত্রী।৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে সাভারের আমিনবাজারের বরদেশী পশ্চিমপাড়ায় একটি অটোরিকশা রাখা নিয়ে সৃষ্ট তর্ক-বিতর্ক থামাতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলার মুখে পড়েন এসআই আলতাফ হোসেন। প্রাণ বাঁচাতে তিনি তাঁর বড় ছেলের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিলে সন্ত্রাসীরা দেশি অস্ত্র, রড, পাইপ, হাতুড়ি ও লাঠি নিয়ে সেখানে হামলা চালান। বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে তাঁর ছোট ছেলে আরিফুল ইসলামও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক এসআই আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আলতাফ হোসেনের স্ত্রী শিউলী পারভীন বাদী হয়ে ১৫ জনকে আসামি করে সাভার মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আলতাফ হোসেন ১৯৮৬ সালে সিরাজগঞ্জ জেলা থেকে কনস্টেবল পদে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন। দীর্ঘ ৪০ বছরের কর্মজীবনে তিনি ডিএমপি, রাঙামাটি, আরআরএফ রাজশাহী, আরএমপি ও বরিশাল জেলায় অত্যন্ত সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সাল থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তিনি এসবি, ঢাকায় কর্মরত ছিলেন।

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
এবার দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৬ গোল হজম বাংলাদেশের

এবার দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৬ গোল হজম বাংলাদেশের

মেঘনার চরে সংকটাপন্ন ১৪ প্রজাতির পাখি

মেঘনার চরে সংকটাপন্ন ১৪ প্রজাতির পাখি

সংসদীয় স্থায়ী কমিটি: প্রতিশ্রুতি থেকে পিছু হটলে আস্থা থাকবে কীভাবে

সংসদীয় স্থায়ী কমিটি: প্রতিশ্রুতি থেকে পিছু হটলে আস্থা থাকবে কীভাবে

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, দুই নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, দুই নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে সংগঠনটির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় শাখা ছাত্রদলের দুই যুগ্ম আহ্বায়ককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। আজ বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের নির্দেশে এই নোটিশ দেওয়া হয়।নোটিশ পাওয়া দুই নেতা হলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদার ও মোস্তাফিজুর রহমান রুমি। তাঁদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দায়িত্বশীল পদে থেকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে কেন তাঁদের বিরুদ্ধে স্থায়ী সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে।গতকাল বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঁঠালতলা এলাকায় ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, নবীনবরণ উপলক্ষে আয়োজিত কনসার্টে স্টেজে বসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুমন সরদার ও মোস্তাফিজুর রহমান রুমির অনুসারীদের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে তা ধাক্কাধাক্কি ও সংঘর্ষে গড়ায়।সংঘর্ষে তিন শিক্ষার্থী আহত হন। তাঁরা হলেন গণিত বিভাগের ১৮তম ব্যাচের তানজিল আহমেদ মিথিল, রসায়ন বিভাগের ১২তম ব্যাচের রবিউল ইসলাম শাওন এবং ম্যানেজম স্টাডিজ বিভাগের ১৬তম ব্যাচের মনিরুজ্জামান মনির। তাঁদের ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনের মাথায় আঘাত রয়েছে।ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক কামাল হোসেন জানান, তিনজন চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। তাঁদের মধ্যে দুজনের মাথায় আঘাত ছিল। একজনকে সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. আজম খান বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি। কেউ যদি লিখিত অভিযোগ দেয়, তাহলে আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।’এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদার বলেন, ‘আমরা তো প্রোগ্রাম নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। এদিকে সিনিয়র-জুনিয়রদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়েছে।’ কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি এখনো কিছু জানি না।’

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
মনে রাখতে হবে জনগণেরও ক্ষমতা দেখানোর ইতিহাস আছে: গোলাম পরওয়ার

মনে রাখতে হবে জনগণেরও ক্ষমতা দেখানোর ইতিহাস আছে: গোলাম পরওয়ার

হাসান নন, আইসিসির মাসসেরা খেলোয়াড় দিনুশা

হাসান নন, আইসিসির মাসসেরা খেলোয়াড় দিনুশা

জ্বালানিসংকটে উৎপাদন ব্যাহত, তবে বন্ধ হয়নি কারখানা: বিজিএমইএ

জ্বালানিসংকটে উৎপাদন ব্যাহত, তবে বন্ধ হয়নি কারখানা: বিজিএমইএ

0 Comments