তাপপ্রবাহ কমার আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়া, বৃষ্টি, বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিস্তারিত দেখুন ভিডিও প্রতিবেদনে…
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
রাজশাহী নগরে একটি ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে এক পুলিশ কর্মকর্তা ও এক নারীকে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। ৯৯৯–এ ফোন পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের একটি দল এসে দরজা ভেঙে ফ্ল্যাট থেকে দুজনকে বের করা হয়। ফৌজদারি অপরাধের কোনো অভিযোগ না থাকায় পরে তাঁদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ওই পুলিশ কর্মকর্তার নাম মাহবুব আলম। তিনি বর্তমানে সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত আছেন। একসময় তিনি রাজশাহী নগরের চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছিলেন। ৯৯৯–এ ফোন করেছিলেন তাঁর স্ত্রী আন্নি আক্তার। আন্নি আক্তারের দাবি, তাঁর স্বামী ও ওই নারীকে রাজশাহীর পদ্মা আবাসিক এলাকার একটি ফ্ল্যাটে আগেও দুবার দেখেছেন। তখন সংসার টিকিয়ে রাখার কথা বিবেচনা করে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেননি। বিষয়টি নিয়ে ৮ সেপ্টেম্বর পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) এবং ৯ সেপ্টেম্বর সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপারের কাছে তিনি লিখিত অভিযোগও করেছেন। এরপরও মাহবুব আলম ওই নারীর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করেননি।গাজিউর রহমান, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও উপপুলিশ কমিশনারকেউ তাৎক্ষণিকভাবে ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ না করায় মাহবুব আলম ও ওই নারীকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। পরে আন্নি আক্তার মাহবুব, তাঁর পালিত কন্যা ও তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাংবাদিকদের আন্নি আক্তার বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে তিনি জানতে পারেন তাঁর স্বামী নাদের হাজীর মোড়ের একটি ফ্ল্যাটে গেছেন। সেখানে ওই নারীও রয়েছেন। পরে শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে তিনি স্বজনদের নিয়ে ওই ফ্ল্যাটে যান। কিন্তু ভেতর থেকে দরজা খোলা হচ্ছিল না। একপর্যায়ে তিনি ৯৯৯-এ ফোন করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও ভেতর থেকে দরজা খোলা হয়নি। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গিয়ে দরজা ভেঙে ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন। সেখান থেকে মাহবুব আলম ও ওই নারীকে বের করে আনা হয়। পরে তাঁদের চন্দ্রিমা থানায় নেওয়া হয়।থানায় নেওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মাহবুব আলম। সঙ্গে থাকা নারীকে তিনি স্ত্রী বলে দাবি করেন। অন্যদিকে আন্নি আক্তারকে নিজের ষষ্ঠ স্ত্রী বলে দাবি করলেও মাহবুব আলম জানান, তাঁকে চার দিন আগে তালাক দিয়েছেন। এ–সংক্রান্ত একটি কাগজ পুলিশের কাছে জমা দিয়েছেন। তবে যে নারীকে স্ত্রী দাবি করেছেন, তাঁকে কবে বিয়ে করেছেন, এ বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি মাহবুব আলম। ওই নারীও কোনো কথা বললেননি, বরং নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা করছিলেন।আন্নি আক্তার অভিযোগ করেন, বিভিন্ন জায়গায় দায়িত্ব পালনের সময় তাঁর স্বামী একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক ও বিয়ের ঘটনায় জড়িয়েছেন। চলতি বছর মাহবুব আলম তাঁকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তিনি এসব বিষয়ে জানতে পারেন। নগরের যে ফ্ল্যাটটিতে নারীসহ মাহবুব আলম ছিলেন, সেটি তাঁর পালিত মেয়ের নামে ভাড়া নেওয়া বলে জানা গেছে। সেখানে তাঁর মেয়ে ও জামাতা থাকেন। চন্দ্রিমা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ছুটিতে আছেন। পুলিশ কর্মকর্তা মাহবুব আলমের বিষয়ে জানতে চাইলে থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ সিদ্দিকী বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।বিষয়টি নিয়ে আজ বিকেলে হোয়াটসঅ্যাপে লিখিত বক্তব্য পাঠিয়েছেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও উপপুলিশ কমিশনার মো. গাজিউর রহমান। তিনি জানান, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ফ্ল্যাটের দরজা খুলে মাহবুব আলম ও তাঁর সঙ্গে একজন নারীকে দেখতে পান। সেখানে হট্টগোল শুরু হলে তাঁদের থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে মাহবুব ও ওই নারী নিজেদের স্বামী-স্ত্রী দাবি করেন। আন্নি আক্তার নামে অপর নারীকে তিনি কয়েক দিন আগে তালাক দিয়েছেন বলে জানান মাহবুব।গাজিউর রহমান বলেন, কেউ তাৎক্ষণিকভাবে ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ না করায় মাহবুব আলম ও ওই নারীকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। পরে আন্নি আক্তার মাহবুব, তাঁর পালিত কন্যা ও তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।লিখিত অভিযোগে আন্নি আক্তার দাবি করেন, গত ১ মে মাহবুব আলমের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। পরে স্বামীর আগের বিয়ের বিষয়ে জানতে পারেন। সংসার টিকিয়ে রাখতে বিষয়টি মেনে নেন বলেও তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।অভিযোগ থেকে জানা যায়, মাহবুব আলমের আগের স্ত্রীর করা অভিযোগ মীমাংসার জন্য বিভিন্ন সময় আন্নি আক্তার মোট ১৭ লাখ টাকা দিয়েছেন। ২৪ আগস্ট মাহবুব আলমের পালিত মেয়ে ও জামাইয়ের মাধ্যমে আন্নির বিরুদ্ধে চুরির মামলা করার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। ওই দিন রাতে তাঁকে চায়ের সঙ্গে কিছু মিশিয়ে খাওয়ানো হয়। পরে আন্নি আক্তার অসুস্থ হয়ে ২৫ থেকে ৩০ আগস্ট রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।অভিযোগে আন্নি আক্তার আরও বলেন, তাঁর ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয়ভীতি দেখিয়েছেন মাহবুব আলম। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিলে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার এবং পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।
জহির রায়হান ছিলেন বাংলাদেশের অন্যতম প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক, ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা। তিনি ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ছিলেন। তাঁর রচিত উপন্যাস ‘আরেক ফাল্গুন’ নিয়ে পাঠচক্রের আসর করেছে জামালপুর বন্ধুসভা। সম্প্রতি আশেক মাহমুদ কলেজ প্রাঙ্গণে এই আসর বসে।‘আরেক ফাল্গুন’ জহির রায়হানের একটি বিখ্যাত উপন্যাস। পটভূমি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন। তখন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এর প্রতিবাদে বাংলার ছাত্র-তরুণ ও সাধারণ মানুষ আন্দোলনে নেমে পড়ে। মাতৃভাষার অধিকার রক্ষার জন্য তাঁরা নিজেদের জীবন পর্যন্ত দিতে প্রস্তুত ছিল।উপন্যাসে সেই সময়ের ছাত্রসমাজের দেশপ্রেম, সাহস, প্রতিবাদ, ভালোবাসা ও আত্মত্যাগের চিত্র খুব সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। তাঁরা শুধু নিজের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন নিজের ভাষায় কথা বলতে পারে এবং নিজের ভাষার মর্যাদা নিয়ে বাঁচতে পারে—এই চিন্তা থেকেই আন্দোলন করেছিল। আন্দোলনের কারণে অনেককে গ্রেপ্তার হতে হয়েছে, নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে; তবু তাঁদের মধ্যে ভয় কাজ করেনি।পাঠচক্র শেষে জামালপুর বন্ধুসভার বন্ধুরা।জহির রায়হান এই উপন্যাসে ভাষা আন্দোলনকে শুধু একটি রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে দেখাননি। তিনি আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত তরুণ-তরুণীদের ব্যক্তিগত জীবন, আবেগ, সম্পর্ক, ভালোবাসা, স্বপ্ন এবং মানসিক দ্বন্দ্বও তুলে ধরেছেন। তাই বইটি পড়লে মনে হয়, আমরা শুধু ইতিহাস পড়ছি না—বরং সেই সময়ের মানুষগুলোর সঙ্গে তাঁদের জীবনের একটি অংশ অনুভব করছি।উপন্যাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস। শাসকগোষ্ঠীর চাপ ও ভয়ের মধ্যেও তরুণেরা নিজেদের অধিকার থেকে পিছিয়ে যায়নি। তাঁদের কাছে বাংলা শুধু একটি ভাষা ছিল না; বাংলা ছিল তাদের পরিচয়, অস্তিত্ব ও আত্মমর্যাদার অংশ।‘আরেক ফাল্গুন’ নামটির মধ্যেও একটি গভীর প্রতীকী অর্থ রয়েছে। ফাল্গুন মানে বসন্ত—নতুন জীবন, নতুন আশা ও জাগরণের প্রতীক। ‘আরেক ফাল্গুন’ যেন বোঝায়, একুশের সেই আন্দোলন ও জাগরণ এখানেই শেষ নয়। ভবিষ্যতেও নতুন প্রজন্ম অন্যায়ের বিরুদ্ধে জেগে উঠবে এবং নিজেদের অধিকার রক্ষায় সংগ্রাম করবে।পাঠ আলোচনায় অংশ নিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমির হামজা, স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া সম্পাদক জোবাইর আহম্মদ, মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক মো. হৃদয় ও কার্যনির্বাহী সদস্য মো. বায়েজিদসহ অন্য বন্ধুরা।পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক, জামালপুর বন্ধুসভা
ড্র দিয়ে বাংলাদেশ ফুটবল লিগের নতুন মৌসুম শুরু করল গত দুবারের রানার্সআপ আবাহনী লিমিটেড। আজ মানিকগঞ্জে তারা গোলশূন্য ড্র করেছে পিডব্লুডির সঙ্গে।লিগের প্রথম দিনে ঢাকার বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় ফর্টিস এফসি ৬-০ উড়িয়ে দিয়েছে নবাগত চট্টগ্রাম সিটি ফুটবল ক্লাবকে। গোপালগঞ্জে নবাগত ঢাকা সিটি ক্লাবের কাছে ৩-০ গোলে হেরেছে ব্রাদার্স। চাঁদপুর জেলা স্টেডিয়ামে ফকিরেরপুল ইয়ংমেনস ক্লাব ২-১ ব্যবধানে জিতেছে ঢাকা ওয়ান্ডারার্সের বিপক্ষে। গাজীপুরে বাংলাদেশ পুলিশ এফসি ১ - ০ গোলে হারিয়েছে রহমতগঞ্জকে।একের পর এক চেষ্টা করেও পিডব্লুডির গোলমুখ খুলতে পারেনি আবাহনী। গোলের সুযোগ পেয়েছে পিডব্লুডিও । কিন্তু তারাও গোলের দেখা পায়নি। একাদশে পিডব্লুডি একজন ক্যামেরুনের আর একজন জার্মানির খেলোয়াড় নিয়ে নেমেছিল। বিদেশিরা এখনো না আসায় আবাহনীর খেলেছে সব স্থানীয় ফুটবলার নিয়ে। নতুন মৌসুমে আবাহনীর অধিনায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার ইয়াছিন খান। কিন্তু অধিনায়ক হিসেবে শুরুটা ভালো হলো না তাঁর।কিংসের মাঠে ছয় গোলের বিশাল জয়, উচ্ছ্বসিত হওয়ার কথা ফর্টিসের। কিন্তু তারা আসলে উচ্ছ্বসিত ছিল না। ফর্টিস আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতা আশা করেছিল প্রতিপক্ষের কাছ থেকে। আর সেটা না পাওয়ায় অতৃপ্তি রয়ে গেছে দলটির। ভালোভাবে প্রাক মৌসুম প্রস্তুতি নিয়ে না এলে যে এমন দুরবস্থায় পড়তে হবে ফুটবল কোচেরা ভালোই জানেন। ফর্টিসের কোচ মাসুদ কায়সারের কথায় সেটারই প্রতিধ্বনি ম্যাচের পর , ‘ফুটবলে মাঠে নামার আগে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিতে হয়। সেটা না নিলে ফলে ভুগতে হবেই। চট্টগ্রামের দলটির অনুশীলন করতে পারেনি সেভাবে। তাই তারা রানিংয়েই অনেক পিছিয়ে ছিল আমাদের চেয়ে।’বাংলাদেশ লিগে নবাগত চট্টগ্রাম সিটি ক্লাব প্রথমার্ধে কিছুটা প্রতিরোধের ছাপ রাখলেও দ্বিতীয়ার্ধে পুরোপুরি দাঁড়িয়ে পড়ে। মাত্র একটি অনুশীলন সেশন করে এসে দেশের শীর্ষ লিগের ম্যাচ খেলা সহজ ব্যাপার নয়। তাও আবার এমন দলের সঙ্গে, যারা আড়াই মাস ধরে প্রস্তুতিতে ছিল। এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের জন্য অনেক আগেই অনুশীলন শুরু করেছিল ফর্টিস।চট্টগ্রামের দলটির দুই সেন্টার ব্যাকসহ ডিফেন্ডারদের খুব কমই প্রতিপক্ষ ফরোয়ার্ডদের সঙ্গে বল দখলের লড়াইয়ে যেতে দেখা গেছে। ফর্টিসের ফরোয়ার্ডরা বল নিয়ে ঢুকেছেন আর অনায়াসে গোল করেছেন। এই যদি অবস্থা হয়, তাহলে দেশের শীর্ষ লিগের মান কোথায় নামছে তা নিয়ে ফর্টিসের এক কর্মকর্তা নিজেই আক্ষেপ করলেন ম্যাচ শেষে। ম্যাচে ছিলেন না চট্টগ্রাম সিটির প্রধান কোচ জুলিও মরিনো। কানাডার এই কোচ এখনো বাংলাদেশে এসে পৌঁছাননি।