নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার মেঘনা নদীতে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে বন্য প্রাণী আইনে সংরক্ষিত সাত মণ (২৮০ কেজি) ওজনের বিশাল আকৃতির একটি শাপলাপাতা মাছ। ধরা পড়া মাছটি গতকাল বুধবার বিকেলে হাতিয়ার ঐতিহ্যবাহী চেয়ারম্যানঘাটে আনা হয়। মাছটি দেখতে ভিড় জমায় উৎসুক জনতা। পরে মাছটি কেটে টুকরা করে প্রায় ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।
তরুণাস্থিময় সামুদ্রিক এই মাছ বাংলাদেশ বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন, ২০১২ অনুযায়ী শিকার, সংগ্রহ, ক্রয়-বিক্রয় ও বাজারজাতকরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ; কিন্তু নিষিদ্ধ এই মাছ বিক্রিতে জেলেদের কোনো ধরনের বাধার মুখে পড়তে হয়নি।
চেয়ারম্যানঘাটের স্থানীয় জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার ভাসানচরের কাছাকাছি মেঘনা নদীতে ‘চরঘেরা’ জাল ফেলেন একদল জেলে। বিকেলে সেই জালে বিশালাকৃতির ওই শাপলাপাতা মাছটি আটকে পড়ে। গতকাল বুধবার বিকেলে জেলেরা মাছটি বিক্রির জন্য হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটে নিয়ে আসেন। ঘাটের জামাল মেম্বারের মৎস্য আড়ত থেকে মাছটি কিনে নেন স্থানীয় এক মৎস্য ব্যবসায়ী। পরে তিনি ঘাটে বসেই মাছটি কেটে টুকরা করে প্রায় ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন।
চেয়ারম্যান ঘাটে উপস্থিত সুবর্ণচর উপজেলার বাসিন্দা আবদুল বারী প্রথম আলোকে বলেন, বুধবার বিকেলে তিনি চেয়ারম্যান ঘাট ঘুরতে গিয়ে শাপলাপাতা মাছটি দেখতে পান। আড়তে ডাকের মাধ্যমে ৯০ হাজার টাকায় মাছটি বিক্রি করা হয়। এরপর ক্রেতা কেটে টুকরা করে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে বিক্রি করা হয়। তিনি বলেন, শাপলাপাতা মাছ ধরা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও বিষয়টি জেলেরা জানেন বলে মনে হয়নি।
ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সোসাইটির (ডব্লিউসিএস) তথ্য অনুযায়ী, শাপলাপাতা মাছের ১৬টি প্রজাতি আছে। বাংলাদেশে যে ৮ থেকে ১০ প্রজাতির শাপলাপাতা মাছ পাওয়া যায়, তার মধ্যে ২টি প্রজাতি মহাসংকটাপন্ন ও ৩টি সংকটাপন্ন। পিতাম্বরী বা নাঙলা ও ঘণ্টি শাপলাপাতা মাছকে মহাসংকটাপন্ন ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া পান্ন্যা, শিংচোয়াইন ও ঠোট্ট্যা ঘাপরি শাপলাপাতা মাছকে সংকটাপন্ন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এরপর আছে চিত্রাহাউশ শাপলাপাতা, ছোটলেজি শাপলাপাতা, কালি শাপলাপাতা, ফুল শাপলাপাতা, বাদুড় শাপলাপাতা, বাদা শাপলাপাতা, থাইন ও চুনি প্রজাতি। এর কয়েকটি প্রজাতি বিক্রিনিষিদ্ধ।
বিষয়টি নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা হারুন-অর-রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী শাপলাপাতা মাছ ধরা সরাসরি নিষিদ্ধ নয়; তবে বন্য প্রাণী ও বন আইন অনুযায়ী এটি একটি ‘‘বিপন্ন বা বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতি’’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত এবং ওই আইনে এটি ধরা বা বিক্রি করা নিষিদ্ধ।’
বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য জানার জন্য নোয়াখালী উপকূলীয় বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোল্লা মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও বন্ধ পাওয়া যায়। পরে একই বিষয়ে জেলা বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা ইব্রাহিম খলিলকেও ফোন করা হয়। তিনিও ফোন ধরেননি।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
দিশা পাটানির স্টাইল যেন এক চলমান গল্প। কখনো এফর্টলেস স্ট্রিট স্টাইল, কখনো বোল্ড গ্ল্যামার, আবার কখনো ট্র্যাডিশনাল সাজে নতুন টুইস্ট। নিজের কমফোর্ট, কনফিডেন্স আর এক্সপেরিমেন্টিং-এর ওপর ভর করে প্রতিনিয়ত বদলেছেন তিনি। সম্প্রতি গণপতি উদ্যাপনে লাল ঘাঘরা ও ডিপ-নেক ব্লাউজে হাজির হয়ে সামাজিক মাধ্যমে পোশাক নিয়ে বিতর্কেও জড়িয়েছেন অভিনেত্রী। তবে সমালোচনার পাশাপাশি তাঁর সাজের গ্ল্যামারও ছিল আলোচনায়। এর-এর সাম্প্রতিক কভার স্টোরিতে নিজের ফ্যাশন ফিলোসফি, স্কিনকেয়ার ও ফিটনেস নিয়েও কথা বলেছেন দিশা। তাঁর সাম্প্রতিক কিছু লুক দেখলে বোঝা যায়, ক্যাজুয়াল চিক থেকে হাই-অকটেন গ্ল্যামার। প্রতিটি সাজেই নিজের আলাদা ফ্যাশন আইডেন্টিটি তৈরি করে চলেছেন তিনি।টমেটো রেড বডিকন ড্রেসগাড়ির ভেতরের এই লুকে দিশা পাটানির পরনে ছিল টমেটো-রেড স্লিভলেস বডিকন ড্রেস। স্কুপ নেকলাইন আর ফর্ম-ফিটিং সিলুয়েট পুরো লুকটিকে বোল্ড আর মিনিমাল রেখেছে। চুল খোলা, স্বাভাবিকভাবে উড়ছে। কানে ছোট্ট গোল্ড হুপ এয়াররিং। মেকআপ গ্লসি আর ডিউয়ি, চোখের লুক সফট স্মোকি। অ্যাকসেসরিজ প্রায় নেই বললেই চলে, কারণ এখানে ড্রেসের রংটাই আসল স্টেটমেন্ট।নেভি ব্লু কো-অর্ড সেটএই লুকে পরনে গাঢ় নেভি রঙের ব্লেজার আর মিনি স্কার্টের কো-অর্ড সেট। ব্লেজারে ডিপ-ভি নেকলাইন, গোল্ড বাটন, আর কলারের কাছে ছোট্ট জুয়েলড ব্রোচ পিন বসানো, যেটা পুরো লুকে একটা শার্প, পাওয়ার-ড্রেসিং ফিল দেয়। স্কার্টটা হাই-স্লিট, সঙ্গে ম্যাচিং পকেট ডিটেইল। পায়ে কালো পয়েন্টেড-টো স্ট্র্যাপি হিল। হাতে স্ট্যাকড গোল্ড রিং, মিনিমাল জুয়েলারি। পুরো লুকটা কনফিডেন্ট আর এলিগ্যান্ট, একদম বোর্ডরুম-টু-ইভিনিং ভাইব।গোল্ডেন টেক্সচার্ড গাউনএই লুকে পরনে মাস্টার্ড-গোল্ড রঙের হাই-নেক, স্লিভলেস গাউন। ফ্যাব্রিকে ক্রিঙ্কেল বা ক্রাশড টেক্সচার আছে, সঙ্গে ছড়ানো পার্ল অ্যাপ্লিকের ডিটেইলিং, যা গাউনটাকে একটা টেক্সচারাল, আর্টিস্টিক লুক দিয়েছে। সিলুয়েটটা বডি-হাগিং, নিচের দিকে গিয়ে একটু ফ্লেয়ার্ড। চুল লম্বা, ঢেউ খেলানো, ব্যাকড্রপ ও ভলিউমমিনাস। এই লুকে অ্যাকসেসরিজ একদম মিনিমাল রাখা হয়েছে, যাতে গাউনের টেক্সচার আর কালারই হাইলাইট হয়।লালেই নজরকাড়ালাল রঙের এমব্রয়ডার্ড ব্লাউজে দিশার সাজে ছিল সাহসী গ্ল্যামারের ছোঁয়া। ডিপ-নেক ডিজাইনটিই পুরো লুকের মূল আকর্ষণ, আর তার সঙ্গে মানানসই লাল ঘাঘরা তৈরি করেছে এক নাটকীয় আবহ।শিয়ার দোপাট্টায় নরম আবেশগাঢ় লাল পোশাকের সঙ্গে শিয়ার দুপাট্টা লুকটিকে আরও হালকা ও পরিশীলিত করেছে। এক কাঁধে আলগাভাবে জড়িয়ে নেওয়া দুপাট্টায় পুরো সাজে এসেছে আধুনিক উৎসবের আমেজ।গয়নায় স্টেটমেন্ট টাচচেহারার সাজকে খুব বেশি ভারী না করে দিশা বেছে নিয়েছেন স্টেটমেন্ট কানের দুল। আলো পড়তেই গয়নার ঝিলিক লাল পোশাকের সঙ্গে তৈরি করেছে আকর্ষণীয় কনট্রাস্ট।খোলা চুলে গ্ল্যামারপোশাকের জাঁকজমকের সঙ্গে চুল ছিল একেবারেই সাদামাটা। খোলা, ঢেউখেলানো চুল তাঁর লুকে দিয়েছে স্বাভাবিক অথচ গ্ল্যামারাস একটা মুড।চুড়িতে উৎসবের ছোঁয়াহাতে একাধিক চুড়ি যোগ হয়েছে সাজে। লাল পোশাক, ঝলমলে গয়না আর চুড়ির সমন্বয়ে পুরো লুকটি পেয়েছে জমকালো উৎসবের আবহ।সাহসী ব্লাউজ, নিজস্ব স্টাইলডিপ-নেক ব্লাউজ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নানা মন্তব্য হলেও পোশাকটি স্পষ্টভাবেই দিশার পরিচিত বোল্ড স্টাইলের সঙ্গে মিলে যায়। ট্র্যাডিশনাল সাজেও নিজের ব্যক্তিত্ব ধরে রাখার চেষ্টা দেখা গেছে।লাল রঙে ফেস্টিভ গ্ল্যামলাল ঘাঘরার সূক্ষ্ম নকশা ও এমব্রয়ডারি সাজটিকে করেছে আরও সমৃদ্ধ। উৎসবের চেনা পোশাককে নিজের স্টাইল সেন্সে নতুনভাবে তুলে ধরেছেন দিশা।দিশা মানেই কনফিডেন্ট স্টাইলপ্রশংসা হোক কিংবা সমালোচনা, দিশা পাটানি নিজের স্টাইল নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করতে পিছিয়ে যান না। তাঁর এই লুকও যেন সেই বার্তাই দেয়, ট্রেন্ড অনুসরণ করার পাশাপাশি নিজের কনফিডেন্সই হতে পারে সবচেয়ে বড় স্টাইল স্টেটমেন্ট।
সাগরে ভেসে যাওয়া কুকুরটি উদ্ধার করেন যাত্রীবাহী নৌযানের যাত্রীরাকুতুবদিয়া চ্যানেলের মাঝখানের সাগরের স্রোতে ভেসে যাচ্ছিল কিছু একটা। দেখে মনে হচ্ছিল, মানুষের মাথা। দূর থেকে সেটি দেখতে পেয়েছিলেন একটি যাত্রীবাহী নৌকার যাত্রীরা। ইঞ্জিনচালিত ওই নৌকা কাছাকাছি হতেই যাত্রীরা দেখতে পেলেন, কোনো মানুষ নয়, স্রোতের টানে ভেসে যেতে যেতে বাঁচার চেষ্টা করছে একটি কুকুর। প্রাণীটি কোনো রকমে পানির ওপর মাথা তুলে রেখেছে। নৌকার যাত্রীদের অনুরোধে সাগরে ভেসে যাওয়া কুকুরটিকে উদ্ধারের জন্য মাঝি নৌকা থামান। উদ্ধার করা হয় কুকুরটি।গতকাল বুধবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। যাত্রীরা জানান, কক্সবাজারের কুতুবদিয়ার উত্তর ধুরুন ঘাট থেকে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর ছনুয়াঘাট যাচ্ছিল নৌকাটি। বেলা আড়াইটার দিকে মিজবাউল আলম নামের এক যাত্রী প্রথম কুকুরটিকে দেখতে পান। তিনি বিষয়টি অন্য যাত্রীদের জানান। এরপর নৌকা থামিয়ে কুকুরটিকে তুলে নিতে চালককে বাধ্য করেন যাত্রীরা।মামুনুল ইসলাম কুতুবী নামের এক যাত্রী বলেন, যাত্রীদের দাবির মুখে মাঝি নৌকা থামালে পানিতে রশি ফেলা হয়। দুই যাত্রী দুই দিক থেকে রশি ধরে কুকুরটির কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। তখন অনেক স্রোত ছিল। কয়েকবার এদিক-ওদিক ভেসে যাওয়ার পর অবশেষে রশির নাগালে আসে কুকুরটি। এরপর দুই যাত্রী মিলে শক্ত করে ধরে টেনে তোলেন কুকুরটিকে। মুহূর্তেই পানির বুক থেকে নৌকার ওপর উঠে এল কুকুরটি। দীর্ঘ সময় পানিতে ভাসলেও তার মাথাটি ছিল শুকনা। মামুনুল ইসলাম বলেন, ‘প্রথমে আমরা মানুষের মাথা মনে করেছিলাম। কাছে গিয়ে বুঝলাম, কুকুর। আমরা মূলত একটা প্রাণ বাঁচিয়েছি।’উদ্ধারের পর কুকুরটিকে নৌকাতেই রাখা হয়। পরে বাঁশখালীর ছনুয়াঘাটে পৌঁছে সেটিকে নামিয়ে দেওয়া হয়। নৌকার চালক জহির উদ্দিন বলেন, ‘ওটা যদি মানুষ হতো, তখন তো সবাই দৌড়াতাম। চিন্তা করলাম, কুকুরও তো একটা প্রাণী। তাই সেটিকে উদ্ধার করেছি আমরা।’
সড়কটি পাকা ছিল, ভেঙে গেছে। ভাঙা সড়কের মাটি বের হয়ে আছে। ধানের বীজ পড়ে চারা হয়েছে। পরে সেই গাছের ধান পেকে গেছে; কিন্তু সড়কটি মেরামত বা পাকা হয়নি এখনো। এখন সড়কে পাকা ধানের শিষ বাতাসে দোল খাচ্ছে। এই চিত্র রাজশাহীর পবা-তানোর সড়কের। সড়কের ওই ধান পথচারী ও যাত্রীদের হাসি–তামাশার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।পবা উপজেলার বায়া মোড় থেকে তানোর উপজেলার কাশিমবাজার পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার ভেঙে গেছে। গত এক বছর সেটি কাঁচা রাস্তায় পরিণত হয়েছে। সড়কে চলাচল করা মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। বায়ার মোড়ের দুটি স্থানে বড় দুটি গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। যানবাহন পার হতে গেলেই দেবে যায়। এলাকার লোকজন ওই দুটি স্থানে কাঠি পুঁতে তাতে চিপসের দুটি প্যাকেট রেখে দিয়েছেন, যাতে চালকদের চোখে পড়ে।সড়কের বায়া মোড় থেকে কাশিমবাজারের দিকে যেতে প্রথম ৫০০ মিটার সড়কের মাটি বের হয়ে আছে। স্থানীয় লোকজন জানান, রাস্তার পাশে গত বৈশাখ মাসে ট্রাকে ধান বোঝাই করার সময় কিছু ধান ঝরে পড়েছিল। সেই ধান থেকে চারা বের হয়। ধীরে ধীরে সেই চারা বড় হয়। ধানের শিষ বের হয়। সেই ধান এখন পেকেছে। তবে যত ধান পেকেছে, তার চেয়ে আরও বেশি ধান এখনো শিষ বের হওয়ার অপেক্ষায় আছে।হাসমত আলী, দোকানি গত বৈশাখ মাসে ধানের গাড়ি বোঝাই করার সময় কিছু ধান ঝরে পড়েছিল। তারপর সেই ধানের চারা হয়েছে। পাকা সড়কে ধানগাছের চারা গজানো দেখে তাঁরা রেখে দিয়েছেন।গত রোববার ওই সড়কে গিয়ে দেখা যায়, দোকানি হাসমত আলীর দোকানের সামনে ধান মোটামুটি পেকেছে। তিনি বলেন, গত বৈশাখ মাসে ধানের গাড়ি বোঝাই করার সময় কিছু ধান ঝরে পড়েছিল। তারপর সেই ধানের চারা হয়েছে। পাকা সড়কে ধানগাছের চারা গজানো দেখে তাঁরা রেখে দিয়েছেন। যত্ন করেছেন; কাউকে নষ্ট করতে দেননি। এখন সেই ধান পেকে গেছে।এটা ‘প্রকৃতির প্রতিবাদ’ উল্লেখ করে হাসমত আলী বলেন, টানা এক বছর ধরে এই সড়কের যাত্রীদের দুর্ভোগ হচ্ছে। একটু বৃষ্টি হলে পথচারীদের কাদা মেখে বাড়ি যেতে হয়। রাস্তা দিয়ে একটি গাড়ি পার হতে গেলে পথচারীর গায়ে কাদা লাগবেই।বৃহস্পতিবার খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাসমত আলী তাঁর দোকানের সামনে কয়েক ঝাড় ধান কেটে দোকানে রেখেছেন। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ধান পেকে ঝরে পড়ে যাচ্ছিল। তাই কেটে দোকানে রেখেছেন। এক ঝাড়েই এক কেজি ধান হয়েছে।পাশের আরেক দোকানি আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘রাস্তা খারাপ বলেই সুন্দর ধান হয়েছে। এটা একটি সৌন্দর্য। এই সৌন্দর্যই একটা প্রতিবাদ।’বেসরকারি সংস্থার এক কর্মকর্তা রসিকতা করে বলেন, এবার বৃষ্টি বেশি হলে মানুষ রাস্তার গর্তে মাছ ছাড়বে।ধানের ছবি তুলে নিয়ে পবা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল মান্নানকে দেখালে তিনি বলেন, এটা ব্রি-৮৭ অথবা ১০৩ জাতের হতে পারে। তবে ব্রি-৮৭ জাতের ধান হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কারণ, ব্রি–১০৩ জাত এর চেয়ে একটু বেশি লম্বা হয়ে থাকে।দুর্ঘটনা এড়াতে বেহাল সড়কে কাঠি পুঁতে তাতে চিপসের দুটি প্যাকেট ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে জনদুর্ভোগের বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে বুধবার যোগাযোগ করা হলে তিনি মুঠোফোনে কোনো বক্তব্য দিতে চাননি। তাঁর কার্যালয়ে দেখা করতে বলেন। বৃহস্পতিবার নির্ধারিত সময়ে কার্যালয়ে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, সাইটে আছেন। কতক্ষণ পরে আসবেন জানতে চাইলে বলেন, সাইটে এলেই সময় বেশি লেগে যায়। তিনি এসে কথা বলবেন। ঘণ্টাখানেক বসতে হবে। তবে তিনি আর আসেননি। ঘণ্টাখানেক পর উপসহকারী প্রকৌশলী মসিউর রহমান সড়ক সংস্কারের বিষয়ে তথ্য দেন। তিনি বলেন, এই রাস্তা সংস্কারের জন্য ১৪ কোটি টাকার কিছু বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মে মাস থেকে কাজ শুরু হয়েছে। বৃষ্টির কারণে কাজ বন্ধ রয়েছে। তবে এজিংয়ের (সড়কের দুই পাশের মেরামত) কাজ চলছে। কাজের মেয়াদ রয়েছে এক বছর। আগামী মে মাসে কাজ শেষ হবে।সড়কের বায়া মোড়ে মানুষের সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ। সেখান থেকে কেন শুরু করা হয়নি, জানতে চাইলে মসিউর রহমান বলেন, এই জায়গায় ‘সয়েল কন্ডিশন’ খারাপ। তাই এখানে আরসিসি কনস্ট্রাকশন হবে। পরে কাজ শুরু হবে।