জাতীয়

হাসপাতালে আগুন: সতর্কবার্তা কি এবারও উপেক্ষিত হবে?

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
হাসপাতালে আগুন: সতর্কবার্তা কি এবারও উপেক্ষিত হবে?
হাসপাতালে আগুন: সতর্কবার্তা কি এবারও উপেক্ষিত হবে?

হাসপাতাল এমন একটি স্থান, যেখানে মানুষ জীবন বাঁচানোর আশায় প্রবেশ করে। অথচ সেই হাসপাতালই যদি আগুন, ধোঁয়া ও অপরিকল্পিত সরিয়ে নেওয়ার কারণে মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়, তবে সেটিকে কেবল একটি দুর্ঘটনা বলে পাশ কাটানোর সুযোগ নেই। এটি রাষ্ট্রের স্বাস্থ্যব্যবস্থা, ভবননিয়ন্ত্রণ, অগ্নিনিরাপত্তা এবং প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ববোধের সম্মিলিত ব্যর্থতার নির্মম প্রতিচ্ছবি।

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আটতলা নতুন ভবনে অগ্নিকাণ্ড আবারও সেই অস্বস্তিকর সত্যটি সামনে এনেছে। প্রাথমিক তথ্যে বলা হয়েছে, লিফট বা লিফটের নিয়ন্ত্রণকক্ষ-সংশ্লিষ্ট স্থানে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। কোনো প্রতিবেদনে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট, কোথাও অতিরিক্ত উত্তাপ, আবার কোথাও সিগারেটের আগুনের সম্ভাবনার কথা এসেছে। লিফট-শ্যাফট দিয়ে ধোঁয়া ও আগুন ওপরের তলা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়লে রোগী, স্বজন, চিকিৎসক ও নার্সদের মধ্যে ভয়াবহ আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

হতাহতের সংখ্যা নিয়েও সংবাদমাধ্যমে পরস্পরবিরোধী তথ্য প্রকাশিত হয়েছে—কোথাও মৃত্যুর ঘটনা অস্বীকার করা হয়েছে, কোথাও হুড়োহুড়িতে অন্তত ২০ জন আহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে, আবার একটি পরবর্তী প্রতিবেদনে একাধিক মৃত্যুর দাবিও এসেছে। প্রকৃত সংখ্যা নিরপেক্ষ তদন্তে নিশ্চিত করা জরুরি। তবে সংখ্যা যা-ই হোক, একটি বিষয় স্পষ্ট: আগুনের শিখার চেয়ে আতঙ্ক, ধোঁয়া, বিশৃঙ্খলা এবং প্রস্তুতির ঘাটতি অনেক বড় বিপদ তৈরি করেছিল।

ময়মনসিংহের আগুন আমাদের দরজায় কড়া নাড়েনি; দরজা ভেঙে সতর্ক করেছে। সরকার, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং জনগণ যদি এবারও না জাগে, পরবর্তী অগ্নিকাণ্ডকে আর “দুর্ঘটনা” বলা যাবে না। সেটি হবে জানা ঝুঁকিকে উপেক্ষা করার পরিণতি—অর্থাৎ আমাদের সম্মিলিত, প্রাতিষ্ঠানিক ও নৈতিক ব্যর্থতা।

প্রশ্ন হলো—এটি কি কেবল ময়মনসিংহ মেডিকেলের একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা, নাকি দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের জন্য চূড়ান্ত সতর্কসংকেত?

“শর্টসার্কিট”—দায় এড়ানো জাতীয় শব্দ-

বাংলাদেশে অধিকাংশ অগ্নিকাণ্ডের পর প্রথম যে শব্দটি শোনা যায়, সেটি হলো—“শর্টসার্কিট”। এই একটি শব্দ উচ্চারণ করেই যেন তদন্ত শেষ, দায় শেষ এবং কর্তৃপক্ষের দায়িত্বও শেষ। কিন্তু শর্টসার্কিট কোনো পূর্ণাঙ্গ তদন্ত-ফল নয়; এটি বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার কোনো গভীর ত্রুটির দৃশ্যমান পরিণতি মাত্র।

কেন শর্টসার্কিট হলো? কেবলটি কি অতিরিক্ত লোড বহন করছিল? সার্কিট ব্রেকারের রেটিং কি সঠিক ছিল? আর্থিং কার্যকর ছিল কি? ইনসুলেশন রেজিস্ট্যান্স পরীক্ষা করা হয়েছিল কি? লিফটের কন্ট্রোল প্যানেল, মোটর, কেবল ও সেফটি ডিভাইসের নিয়মিত পরীক্ষা হয়েছিল কি? তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার আগাম সংকেত শনাক্ত করতে থার্মাল স্ক্যানিং করা হয়েছিল কি? অকার্যকর লিফটের শ্যাফটে ময়লা-আবর্জনা বা দাহ্য পদার্থ জমতে দেওয়া হয়েছিল কেন? লিফট-শ্যাফটের ফায়ার-স্টপিং ও ধোঁয়া প্রতিরোধব্যবস্থা কোথায় ছিল?

এসব প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে “শর্টসার্কিট” বলা হলো রোগের কারণ না খুঁজে শুধু জ্বরকে দায়ী করার মতো। একটি নতুন ভবনে লিফট বা তার শ্যাফট দিয়ে আগুন ও ধোঁয়া একাধিক তলায় ছড়িয়ে পড়া আরও গুরুতর প্রশ্ন তোলে। প্রতিটি তলায় শ্যাফটের প্রবেশপথ যথাযথ ফায়ার-রেটেড সুরক্ষা পেয়েছিল কি? কেবল ও পাইপ প্রবেশের ফাঁকগুলো অনুমোদিত ফায়ার-স্টপিং উপকরণ দিয়ে বন্ধ ছিল কি? ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণ, ফায়ার কম্পার্টমেন্টেশন এবং সুরক্ষিত সিঁড়িঘর কার্যকর ছিল কি? “নতুন ভবন” মানেই নিরাপদ ভবন নয়; নকশা, নির্মাণ, কমিশনিং, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ—এই পাঁচটি স্তরে মান নিশ্চিত হলেই কেবল একটি ভবন নিরাপদ হতে পারে।

আগুন নেভানোর প্রথম দায়িত্ব কার?

ফায়ার সার্ভিস অবশ্যই রাষ্ট্রের প্রধান পেশাদার অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধারকারী সংস্থা। কিন্তু অগ্নিকাণ্ডের পর যানজট, দূরত্ব ও প্রবেশগত প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছাবে। আগুন লাগার পর প্রথম ৫ থেকে ১০ মিনিটই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—অর্থাৎ “গোল্ডেন মিনিটস”—সম্পূর্ণভাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও নিজস্ব প্রশিক্ষিত ফায়ার রেসপন্স টিমের হাতে থাকে।

এই সময়ের মধ্যে আগুন শনাক্ত করা, অ্যালার্ম বাজানো, সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা, দরজা বন্ধ করে ধোঁয়ার বিস্তার সীমিত করা, উপযুক্ত অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র প্রয়োগ করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের পরিকল্পিতভাবে নিরাপদ কম্পার্টমেন্টে সরানো গেলে ছোট আগুন বড় বিপর্যয়ে পরিণত হয় না।

ময়মনসিংহের ঘটনায় তাই শুধু ফায়ার সার্ভিস কত মিনিটে পৌঁছেছে—এই প্রশ্ন করলেই দায়িত্ব শেষ হবে না। জানতে হবে, হাসপাতালের অ্যালার্ম স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করেছিল কি না; নিয়ন্ত্রণকক্ষে সংকেত পৌঁছেছিল কি না; প্রশিক্ষিত ফায়ার টিম কোথায় ছিল; অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র, হোস রিল, হাইড্র্যান্ট ও ফায়ার পাম্প ব্যবহার করা হয়েছিল কি না; এবং করা না গেলে কেন করা যায়নি।

কাগজে ফায়ার টিম থাকা আর আগুনের সময় কাজ করার সক্ষমতা এক বিষয় নয়। দেয়ালে ঝোলানো অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র নিরাপত্তা দেয় না—প্রশিক্ষিত হাত সেটিকে কার্যকর করে। রিজার্ভ ট্যাংক বা ছাদে পানির ট্যাংক থাকলেই হাইড্র্যান্ট ব্যবস্থা কার্যকর হয় না—পাম্প, চাপ, ভালভ, পাইপ, বিদ্যুৎ, বিকল্প শক্তি এবং নিয়মিত পরীক্ষা একসঙ্গে সচল থাকতে হয়।

হাসপাতাল খালি করা সাধারণ ভবন খালি করার মতো নয়-

হাসপাতালে সবাই স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারেন না। এখানে অস্ত্রোপচাররত রোগী, ভেন্টিলেটরে থাকা রোগী, আইসিইউ ও সিসিইউ রোগী, নবজাতক, শিশু, গর্ভবতী নারী, ডায়ালাইসিসে থাকা ব্যক্তি, অক্সিজেননির্ভর রোগী এবং মানসিকভাবে বিভ্রান্ত মানুষ থাকেন। তাদের কাউকে সিঁড়ি দিয়ে দৌড় করিয়ে নামানো যায় না। একজন রোগীকে নিরাপদে সরাতে কখনো একাধিক প্রশিক্ষিত কর্মী, অক্সিজেন, স্ট্রেচার, হুইলচেয়ার, ওষুধ এবং ধারাবাহিক চিকিৎসা-সহায়তা প্রয়োজন হয়।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২০ মে ২০২৬-এর অগ্নিকাণ্ডে আইসিইউ থেকে রোগী সরানোর সময় একজন রোগীর মৃত্যু এবং নার্সসহ কয়েকজনের আহত হওয়ার ঘটনা আমাদের ইতিমধ্যে সতর্ক করেছিল। মাত্র কয়েক মাস পর ময়মনসিংহের ঘটনা প্রমাণ করল—আমরা প্রথম সতর্কতা শুনিনি।

আন্তর্জাতিকভাবে হাসপাতালে আগুন লাগলে নির্বিচারে পুরো ভবন খালি করার পরিবর্তে আগুনের উৎস নিয়ন্ত্রণ, ধোঁয়ার বিস্তার রোধ এবং ধাপে ধাপে “হরাইজন্টাল ইভাকুয়েশন” বা একই তলার নিরাপদ ফায়ার কম্পার্টমেন্টে রোগী সরানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এরপর প্রয়োজন হলে উল্লম্বভাবে নিচের তলায় বা ভবনের বাইরে স্থানান্তর করা হয়। এর জন্য প্রয়োজন কার্যকর ফায়ার ও স্মোক কম্পার্টমেন্ট, ফায়ার-রেটেড দরজা, সুরক্ষিত করিডর, বিকল্প সিঁড়ি, র‌্যাম্প, ইভাকুয়েশন চেয়ার এবং রোগীর অবস্থাভিত্তিক অগ্রাধিকার তালিকা।

ময়মনসিংহ মেডিকেলের ভবনে একাধিক বিকল্প বের হওয়ার পথ থাকায় বড় বিপর্যয় সীমিত হয়ে থাকতে পারে। কিন্তু দেশের কতটি জেলা হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ক্লিনিক ও বেসরকারি হাসপাতালে দুটি স্বাধীন ও সুরক্ষিত সিঁড়ি আছে? কতটিতে একটি সিঁড়িও দখলমুক্ত? কতটিতে আইসিইউ রোগী স্থানান্তরের মহড়া হয়েছে? প্রশ্নগুলোর সৎ উত্তর আমাদের আতঙ্কিত করবে।

হাসপাতালের অক্সিজেন জীবনও বাঁচায়, আগুনও তীব্র করে-

হাসপাতালে মেডিকেল অক্সিজেন, দাহ্য রাসায়নিক, অ্যালকোহলভিত্তিক জীবাণুনাশক, এলপিজি, জেনারেটরের জ্বালানি, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, ব্যাটারি এবং বিভিন্ন গ্যাস ব্যবহৃত হয়। অক্সিজেন নিজে দাহ্য নয়, কিন্তু আগুনকে অত্যন্ত দ্রুত ও তীব্র করে তোলে। একটি ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সংযোগ, অতিরিক্ত গরম যন্ত্র বা ছোট স্ফুলিঙ্গ অক্সিজেনসমৃদ্ধ পরিবেশে ভয়াবহ পরিণতি সৃষ্টি করতে পারে।

তাই মেডিকেল গ্যাস পাইপলাইন, ম্যানিফোল্ড রুম, জোন ভালভ, অ্যালার্ম, সিলিন্ডার সংরক্ষণ ও জরুরি বিচ্ছিন্নকরণব্যবস্থা নিয়মিত পরীক্ষা করা আবশ্যক। কোন ওয়ার্ডের অক্সিজেন কোথা থেকে বন্ধ করতে হবে—এ তথ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক, নার্স, প্রকৌশলী ও ফায়ার টিমকে জানতে হবে। আতঙ্কে অক্সিজেন সংযোগ খুলে রোগী টেনে নেওয়া উদ্ধার নয়; সেটি রোগীর জীবনকে নতুন ঝুঁকিতে ফেলা।

এখন শুধু তদন্ত কমিটি নয়—কার্যকর ব্যবস্থা চাই-

সরকারকে অবিলম্বে দেশের সব সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি হাসপাতালের জন্য সময়সীমাবদ্ধ জাতীয় ফায়ার সেফটি অডিট চালু করতে হবে। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে নেতৃত্ব দিতে হবে এবং ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় সরকার ও সিটি করপোরেশন, রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট ভবন অনুমোদনকারী সংস্থা, গণপূর্ত অধিদপ্তর, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী গ্যাস কর্তৃপক্ষকে একই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও যৌথ পরিদর্শন কাঠামোর আওতায় আনতে হবে।

প্রতিটি হাসপাতালের অনুমোদিত নকশা, ব্যবহার অনুমতি, ফায়ার সেফটি প্ল্যান, ফায়ার লাইসেন্স, বৈদ্যুতিক সিঙ্গেল লাইন ডায়াগ্রাম, আর্থিং পরীক্ষার ফলাফল, ইনসুলেশন রেজিস্ট্যান্স টেস্ট, থার্মাল স্ক্যানিং রিপোর্ট, ফায়ার পাম্প পরীক্ষার রেকর্ড এবং মহড়ার তথ্য যাচাই করতে হবে। শুধু যন্ত্রপাতি আছে কি না দেখলে চলবে না; অ্যালার্ম থেকে পাম্প, পাম্প থেকে হাইড্র্যান্ট, এবং অ্যালার্ম পাওয়ার পর মানুষের প্রতিক্রিয়া—পুরো ব্যবস্থার সমন্বিত পরীক্ষা করতে হবে।

প্রতিটি হাসপাতালে সার্বক্ষণিক প্রশিক্ষিত ফায়ার সেফটি ম্যানেজার ও শিফটভিত্তিক রেসপন্স টিম থাকতে হবে। চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ডবয়, নিরাপত্তাকর্মী, প্রকৌশলী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ভূমিকা লিখিতভাবে নির্ধারণ করতে হবে। বছরে অন্তত দুইবার বাস্তবসম্মত মহড়া আয়োজন করতে হবে—দিন ও রাতের শিফটে পৃথকভাবে। আইসিইউ, ওটি, নবজাতক ইউনিট ও ডায়ালাইসিস বিভাগের জন্য আলাদা রোগী-স্থানান্তর পরিকল্পনা থাকতে হবে।

যে হাসপাতাল জরুরি সংশোধনের নির্দেশ অমান্য করবে, তাকে শুধু সতর্কপত্র দিলে চলবে না। ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী নতুন রোগী ভর্তি সীমিত করা, সংশ্লিষ্ট অংশ বন্ধ করা, জরিমানা, লাইসেন্স স্থগিত এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকারি হাসপাতাল বলে ছাড় কিংবা বেসরকারি হাসপাতাল বলে দরকষাকষি—দুটিই বন্ধ করতে হবে। আগুন সরকারি-বেসরকারি বোঝে না; সে শুধু দুর্বলতা খোঁজে।

আগুনের আগে দায়িত্বশীল হই-

আমাদের দেশে আগুন লাগার পর সবাই সক্রিয় হয়—তদন্ত কমিটি গঠিত হয়, পরিদর্শন শুরু হয়, ক্যামেরার সামনে কঠোর বক্তব্য দেওয়া হয়। কয়েক সপ্তাহ পর জনমনের ক্ষত শুকায়, ফাইল বন্ধ হয়, দায়িত্বও ঘুমিয়ে পড়ে। কিন্তু একটি হাসপাতালের রোগী ঘুমিয়ে থাকলেও অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা ঘুমাতে পারে না।

ময়মনসিংহ মেডিকেলের ঘটনা সৌভাগ্যবশত আরও ভয়াবহ হতে পারত। কিন্তু প্রতিবার ভাগ্য রাষ্ট্রের অব্যবস্থাপনার পাহারাদার হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। পরবর্তী আগুনটি যদি গভীর রাতে কোনো আইসিইউ, অপারেশন থিয়েটার, নবজাতক ইউনিট বা একমাত্র সিঁড়িসম্পন্ন বেসরকারি হাসপাতালে লাগে, তখন ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

আগুনের পর একজন রোগীকে উদ্ধার করা বীরত্ব; কিন্তু আগুন লাগার আগেই ঝুঁকি দূর করা রাষ্ট্রীয় প্রজ্ঞা। হাসপাতাল মানুষকে বাঁচানোর স্থান—সেখানে নিরাপত্তা কোনো সৌন্দর্যবর্ধক সংযোজন, লাইসেন্স পাওয়ার আনুষ্ঠানিকতা কিংবা মুনাফার পরে বিবেচিত বিষয় হতে পারে না।

ময়মনসিংহের আগুন আমাদের দরজায় কড়া নাড়েনি; দরজা ভেঙে সতর্ক করেছে। সরকার, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং জনগণ যদি এবারও না জাগে, পরবর্তী অগ্নিকাণ্ডকে আর “দুর্ঘটনা” বলা যাবে না। সেটি হবে জানা ঝুঁকিকে উপেক্ষা করার পরিণতি—অর্থাৎ আমাদের সম্মিলিত, প্রাতিষ্ঠানিক ও নৈতিক ব্যর্থতা।

লেখক : ফায়ার, ডিজাস্টার অ্যান্ড ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট বিশেষজ্ঞ; সাবেক পরিচালক, বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স।

এইচআর/এএসএম

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
বন্ধ চার পাটকল চুক্তিতে চালু করল আবুল খায়ের গ্রুপ 
বন্ধ চার পাটকল চুক্তিতে চালু করল আবুল খায়ের গ্রুপ 

ফরিদপুর ও মাদারীপুরের বন্ধ চার পাটকল চুক্তিতে চালু করেছে দেশের এই শিল্পগ্রুপ। এসব পাটকলে কর্মসংস্থান হয়েছে ১৫ হাজার শ্রমিকের।ফরিদপুরের রাজ্জাক জুট ইন্ডাস্ট্রিজ নানা সমস্যায় বন্ধ হয়ে যায়। এতে পাটকলটির অনেক শ্রমিক বেকার হন। বন্ধ সেই কারখানা চলতি বছর চালু করেছে আবুল খায়ের গ্রুপ। এখন পাটকলটির উৎপাদিত পণ্য রপ্তানিও হচ্ছে। রাজ্জাক জুট ইন্ডাস্ট্রিজের পাশাপাশি আরও তিনটি বন্ধ পাটকল সম্প্রতি চালু হয়েছে আবুল খায়ের গ্রুপের হাত ধরে। অন্য তিনটি পাটকল হচ্ছে ফরিদপুরের ফরিদপুর জুট ফাইবার্স ও দাহমাশী জুট ইন্ডাস্ট্রিজ এবং মাগুরার এআর জুট মিলস। বন্ধ এই চার পাটকল চালুর ফলে নতুন করে কারখানাগুলোতে কর্মসংস্থান হয়েছে ১৫ হাজার শ্রমিকের। বন্ধ ও রুগ্​ণ এই চার পাটকল নতুন করে চালু করে পাটপণ্য উৎপাদন করছে আবুল খায়ের গ্রুপের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান শাহ অ্যাগ্রো লিমিটেড।আবুল খায়ের গ্রুপের কর্মকর্তারা জানান, গত বছর পাট কেনাবেচার ব্যবসা শুরু করে এই শিল্পগোষ্ঠী। একপর্যায়ে পাটপণ্যের ব্যবসায় নামার অংশ হিসেবে বেসরকারি খাতের চারটি বন্ধ পাটকলের সঙ্গে চুক্তি করা হয়। তারপর চলতি বছরের বিভিন্ন সময় এই পাটগুলো চালু করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নতুন করে চালু করা চার পাটকল থেকে বছরে ৮০ হাজার মেট্রিক টন পাটের সুতা ও পাটজাত পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে আবুল খায়ের গ্রুপ। এখন পর্যন্ত এসব পাটকলে উৎপাদিত ১২০ কোটি মার্কিন ডলারের পাটের সুতা রপ্তানি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তুরস্ক ও চীনে এসব পাটপণ্য রপ্তানি করা হয়।► নতুন করে চালু করা চার পাটকল থেকে বছরে ৮০ হাজার মেট্রিক টন পাটের সুতা ও পাটজাত পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে আবুল খায়ের গ্রুপ। জানতে চাইলে আবুল খায়ের গ্রুপের হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড লিগ্যাল শেখ শাবাব আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘পাটপণ্যের ব্যবসা অনেক বেশি মূলধননির্ভর। দেশের বেসরকারি খাতে অনেক পাটকল বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। তাই নতুন কারখানা না করে আমরা বন্ধ কারখানার মালিকদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে সেগুলো চালু করেছি। আমরা পাট কিনে কারখানায় দিচ্ছি। কারখানার কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের ব্যবস্থাপনা করে পণ্য উৎপাদন করে। সেই পণ্য আমরা বিদেশে রপ্তানি করি।’শেখ শাবাব আহমেদ জানান, বন্ধ চার পাটকল চালুর পর আরও ২-৩টি বন্ধ পাটকল চালুর বিষয়ে এসব পাটকলের মালিকপক্ষের সঙ্গে চুক্তির আলোচনা চলছে। সেগুলো চূড়ান্ত হলে সেখানেও পাটপণ্য উৎপাদন করা হবে। এ ছাড়া সরকারি বন্ধ ৩-৪টি পাটকল ইজারায় নেওয়ার আবেদনও করেছে আবুল খায়ের গ্রুপ।শেখ শাবাব আহমেদ, করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড লিগ্যাল বিভাগের প্রধান, আবুল খায়ের গ্রুপ বেসরকারি খাতে অনেক পাটকল বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। তাই নতুন কারখানা না করে আমরা বন্ধ কারখানার মালিকদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে সেগুলো চালু করেছি। শেখ শাবাব আহমেদ আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতে বেশি মূল্যের (ভ্যালু অ্যাডেড পণ্য) পাটপণ্য উৎপাদনের জন্য আমরা চেষ্টা করছি। তখন আমরা বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করব। তখন নতুন কারখানাও করতে হবে। বাংলাদেশের পাটের মান উন্নত। পরিবেশবান্ধব এই পণ্যের বৈশ্বিক বাজারও রয়েছে। সে জন্য আমাদের প্রতিষ্ঠান পাটপণ্যে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে পরোক্ষভাবে হলেও পাটচাষিদের ভাগ্যের উন্নয়ন হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’পাটপণ্য রপ্তানিতে আবুল খায়ের গ্রুপের বিনিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান তাপস প্রামাণিক প্রথম আলোকে বলেন, গতানুগতিক ধারার বাইরে কিছুটা ভিন্নভাবেই পাটপণ্যের ব্যবসায় এসেছে আবুল খায়ের গ্রুপ। বন্ধ কারখানার মালিকদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে সেসব কারখানা চালুর নতুন ব্যবসায়িক মডেলটি মন্দ নয়। আবুল খায়ের মতো বড় শিল্পগ্রুপ যদি পাটপণ্যের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা ও বহুমুখী পাটপণ্যের বাজার ধরার জন্য মনোযোগী হয়, তাহলে দেশ খাতটি থেকে অনেক বেশি উপকৃত হবে।

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
তিন বছর পর থ্রেডসের প্রতিদ্বন্দ্বী এক্স ব্যবহারের কারণ জানালেন মার্ক জাকারবার্গ

তিন বছর পর থ্রেডসের প্রতিদ্বন্দ্বী এক্স ব্যবহারের কারণ জানালেন মার্ক জাকারবার্গ

প্রসববেদনার সময় কি নামাজ আদায় করতে হবে

প্রসববেদনার সময় কি নামাজ আদায় করতে হবে

একাধিক বালিশে ঘুমালে কি ঘাড়ে সমস্যা হতে পারে 

একাধিক বালিশে ঘুমালে কি ঘাড়ে সমস্যা হতে পারে 

একাদশে ক্লাস শুরুর তারিখ পেছাল
একাদশে ক্লাস শুরুর তারিখ পেছাল

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরুর তারিখ এক দিন পিছিয়েছে। ক্লাস শুরু হবে ২৪ সেপ্টেম্বর। পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে ২৩ সেপ্টেম্বর দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এক দিনের ছুটি থাকায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।অস্ট্রেলিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিবার আনার সুযোগ বন্ধের প্রস্তাববিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে অনলাইনের মাধ্যমে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরুর তারিখ ২৩ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত ছিল। তবে পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে ওই দিন দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এক দিনের ছুটি থাকবে। এই পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরুর তারিখ আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর পুনর্নির্ধারণ করা হলো। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।হার্ভার্ডের একাডেমি স্কলারস প্রোগ্রাম, মাসে ৬৬৬৬ ডলার স্টাইপেন্ড, করুন আবেদনএদিকে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে কলেজ ও মাদ্রাসায় একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিতে অনলাইনে আবেদন করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে নির্বাচিত হয়েছে ৯ লাখ ৮০ হাজার ৮১৫ শিক্ষার্থী। আবেদন করেও আসন পায়নি ১৪ হাজার ৪১৫ জন। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পাওয়া ২ হাজার ২০৫ শিক্ষার্থী আবেদন করেও নির্বাচিত হয়নি। বুধবার রাতে প্রথম ধাপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের এ ফলাফল প্রকাশ করা হয়। দেশে একাদশ শ্রেণিতে কলেজ ও মাদ্রাসা মিলিয়ে ভর্তিযোগ্য আসন রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ। ফলে এবার বিপুলসংখ্যক আসন খালি থাকবে।ব্রিটিশ কাউন্সিলের অনলাইন কোর্স, ফ্রি ডিজিটাল আপগ্রেডের সুযোগ

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
বিপিএলে ফিক্সিং: এবার শাস্তি পেলেন দলের মালিক ও ম্যানেজার

বিপিএলে ফিক্সিং: এবার শাস্তি পেলেন দলের মালিক ও ম্যানেজার

নারায়ণগঞ্জে ৭ কোটি টাকার ভবন করেছে সওজ, তবে অফিস চলে ঢাকায়

নারায়ণগঞ্জে ৭ কোটি টাকার ভবন করেছে সওজ, তবে অফিস চলে ঢাকায়

অদৃশ্য জীবাণু, দৃশ্যমান অবদান: মাইক্রোবায়োলজিস্টদের গল্প

অদৃশ্য জীবাণু, দৃশ্যমান অবদান: মাইক্রোবায়োলজিস্টদের গল্প

আঙিনায় বনভোজন
আঙিনায় বনভোজন

ছোটবেলায় আমার বেড়ে ওঠা শহরে। নানু মারা যাওয়ার পর আমার নানা ঢাকা শহরেই ছিলেন, সুতরাং গ্রামের স্মৃতি তেমন একটা মনে নেই আমার। খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলের বাংলোয় চুলা আর ওভেন ছিল ইলেকট্রিক। মাটির চুলায় রান্না করার একটা গোপন শখ ছিল আমার। খুব ছোটবেলায় বাসা থেকে আলু আর চাল নিয়ে মাঠে আমি আর সুজন ম্যাচ নিয়ে বহু চেষ্টা করেছি আগুন জ্বালিয়ে রাঁধতে। পারিনি আর শাস্তিস্বরূপ ছোটখাটো হাঁড়িপাতিল থাকলেও ছোট্ট মাটির চুলা কেউ আমাকে বানিয়ে দেয়নি।স্কুলে থাকতে বছরে এক দিন পিকনিক হতো সিনিয়র কলোনিতে। ক্লাবের পেছনে মাটির চুলা বানিয়ে রান্না হতো। কেমন স্বপ্নিল একটা ব্যাপার। তবু রান্নার আশপাশে আমি ঘেঁষতে পারিনি। স্কুলে থাকতে একবার বান্ধবীদের সঙ্গে পিকনিক করার অনুমতি পেয়েছিলাম বহু কান্নাকাটির পর, তা–ও আব্বুর কারণে। আম্মি দেবে তো না–ই, তা–ও আবার জাম কালারের শাড়ি পরে পিকনিক।বাংলোয় ফায়ারপ্লেস থাকলেও দেশে এতটা শীত কোনো দিন ছিল না যে সেটা জ্বালানো হবে। সুইডেন বা যুক্তরাষ্ট্রে সব গ্যাসের। কাছের লগ পাওয়া যায়, তবে এত দিনে পাঠকের মৃত্যু হয়েছে। এখন ঝামেলা কম করে যত থাকা যায়, এই মানসিকতা। এর মধ্যে মাস কয়েক আগে বন্ধুরা বসে গল্প করছিল একজনের কাব্যিক ব্যাকইয়ার্ডে। কাব্যিক বলার কারণ, এর বাসাটা পুরোনো ইংরেজি সিনেমার মতো। সামনে–পেছনে বাগান। চমৎকার পাথরের সারি যে জায়গায়, সেখানে থেরাপিউটিক কোনো সুবিধা আছে কি না, জানতে খালি পায়ে হাঁটতে চেষ্টা করে পায়ে কাঁটা ফুটিয়ে ফেলেছিলাম প্রায়। যাক, সেদিন অল্প আলোয় বন্ধুরা বলল, কাঠের চুলায় রান্না করে পিকনিক করি চল। ক্রিয়েটিভ ফারহাত আপু বললেন, বেশ।তারপর এই শনিবারে ছিল সেই দিন। ইট বসিয়ে চুলা বানিয়ে সব ফায়ার সেফটি মেনে পিকনিকটা আসলেই হবে, সেটা আমার কল্পনায় ছিল না। প্রস্তুতির ছবিগুলো দেখছিলাম। এক প্যাচে শাড়ি, মাথায় খোঁপা করবে সবাই। মনে হচ্ছিল, সেই কোন ছোটবেলায় ফিরে গেছি আমি। আব্বুর পেছন–পেছন ঘুরছি, আব্বু, আমি পিকনিকে যেতে চাই। আম্মি শাড়ি দেবে না, একটু বলে দেন।কাজের উইকেন্ড ছিল সেটা। দ্রুত কাজ শেষ করে শাড়ি পরে খোঁপাজাতীয় কিছু মাথায় বেঁধে হুড়োহুড়ি করতে গিয়ে হাতে ব্যথা পেয়ে কোনোরকমে পৌঁছালাম আপুর বাসায়। গিয়ে দেখি, পরিরা হাঁটছে। ব্যাকইয়ার্ডে ইটের চুলায় ডাল আর গরুর মাংস রান্না হচ্ছে। জিলাপি আর বেগুন ভাজা হচ্ছে। এক পাশে আমভর্তা, জামভর্তা, চানাচুরমাখা, পেঁয়াজু। আলো আর ফুলে ভরা একটা বিকেল। ধীরে ধীরে সন্ধ্যা নামছে। বন্ধুদের সঙ্গে অনেক ছবি তুললাম। খুন্তি নিয়ে রান্নার ভান করলাম। সন্ধ্যার পর আমরা //////////////আন্কসরি//////////// খেলেছি। কোনো দল হারার পাত্র নয়। মা–মেয়ে নাচল গানের সঙ্গে। কী অপূর্ব কিছু সময়! আপু আমাকে গাইতে বলেছিল ‘লীলাবালি’। গাইলাম। চুলায় রান্না করা খাবার খেলাম। পরদিন কাজ না থাকলে আরও অনেকক্ষণ হয়তো বসে থাকতাম। আপুর ফাল্গুন অনুষ্ঠান বা যেকোনো কিছু এত মন ছোঁয়া হয়! আর্কিটেক্ট বলেই হয়তো। ব্যস্ত জীবনে এমন আনন্দের ছোঁয়া ঘুরে ঘুরে আসুক সবার।দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: dp@prothomalo.com

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
হার্ভার্ডের একাডেমি স্কলারস প্রোগ্রাম, মাসে ৬৬৬৬ ডলার স্টাইপেন্ড, করুন আবেদন

হার্ভার্ডের একাডেমি স্কলারস প্রোগ্রাম, মাসে ৬৬৬৬ ডলার স্টাইপেন্ড, করুন আবেদন

চাঁদের পাশে শুক্র গ্রহ কেন দেখা গেল

চাঁদের পাশে শুক্র গ্রহ কেন দেখা গেল

সিটি করপোরেশন থেকে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে বসাতে হবে সৌর প্যানেল

সিটি করপোরেশন থেকে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে বসাতে হবে সৌর প্যানেল

0 Comments