রাজশাহীর একটি তিনতলা বাড়ির ছাদ। সেখানে সারি সারি টব, বাহারি ফুল, বনসাই, ক্যাকটাস, অর্কিড, সাকুলেন্ট, অ্যাডেনিয়াম—কী নেই সেখানে! গাছের সংখ্যা এত বেশি যে জায়গা বাঁচাতে বানানো হয়েছে একাধিক স্তরের কাঠামো। ছাদ ছাড়িয়ে এখন বাড়ির সীমানা ছড়িয়ে পড়ছে এই বাগান।
এই বাগানের মালিক শারমিন আক্তার। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনায় বিবিএ ও এমবিএ করেছেন তিনি। তাঁর স্বামী জাহাঙ্গীর আলম পেশায় ব্যাংকার। দুজনের মিলিত শখ এখন ব্যবসায় রূপ নিয়েছে। ‘নেসারস টাচ’ নামে তাঁদের গাছের ব্যবসা চলছে। শারমিন জানান, মাসে গড়ে লাখ টাকার বেশি বিক্রি হয়। কোনো কোনো মাসে বিক্রি হয় তিন লাখ টাকা পর্যন্ত। তাঁদের বাড়ি রাজশাহী নগরের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের মোহনপুর এলাকায়।
গাছের প্রতি শারমিনের ভালোবাসা শুরু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়। প্রথম বর্ষের প্রথম সেমিস্টারেই তাঁর বিয়ে হয়। তখন থাকতেন হলে। হলের বারান্দায় কয়েকটি গাছ রাখতেন। বিভাগ ও হলের আশপাশে থাকা মানিপ্ল্যান্ট কিংবা অন্য গাছের ডাল-চারা এনে লাগাতেন।
প্রথম সন্তান হওয়ার সময় স্বামীর সঙ্গে ভাড়া বাসায় ওঠেন। গাছের সঙ্গে সম্পর্কটা তখন আরও গভীর হয়। এক বাসা থেকে আরেক বাসায় যাওয়ার সময় কাপড়চোপড়ের সঙ্গে গাছও যেতে থাকে। শারমিন জানালেন, একপর্যায়ে গাছ রাখাকে কেন্দ্র করে ভাড়া বাসায় অশান্তিও হয়েছে। কোনো বাড়ির মালিক বলেছেন, বাসায় থাকা যাবে, কিন্তু ছাদে গাছ রাখা যাবে না।
শারমিন জানালেন, একসময় পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে গাছের জন্যই নতুন বাসা খোঁজা শুরু করতে হয়। কয়েকটি বাসা দেখেও শেষ পর্যন্ত পছন্দমতো জায়গা মেলেনি। গাছের সংখ্যা তখন এত বেড়ে গিয়েছিল যে সাধারণ ভাড়া বাসার ছাদে সেগুলো রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। তখনই সিদ্ধান্ত—নিজেদের বাড়ি করতে হবে। আর সেই বাড়ির নকশায় গাছের জায়গা থাকতেই হবে।
২০২১ সালের শেষ দিকে গাছগুলো নতুন বাড়ির ছাদে ওঠানো শুরু হয়। ২০২২ সালের ১৪ জানুয়ারি তাঁরা নতুন বাড়িতে ওঠেন। তবে বাড়ি পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই ছাদে গাছ চলে আসে।
শারমিন জানালেন, স্বামী তাঁকে বাজারের জন্য টাকা দিলে তিনি অনেক সময় তার বড় একটি অংশ গাছ কিনতে খরচ করতেন। গাছ কেনার এই প্রবণতা এমন পর্যায়ে যায় যে বাসা ছাড়ার নোটিশ পাওয়ার দিনও শারমিন একটি গাছ কিনে বাসায় ফিরেছিলেন। সেটি আবার ছিল স্বামীর অপছন্দের সাকুলেন্ট।
সেদিনের কথা বলতে গিয়ে জাহাঙ্গীর হাসতে হাসতে বলেন, বাড়িওয়ালা বাসা ছাড়তে বলেছেন, নতুন বাসা খুঁজতে হবে, অথচ স্ত্রী সেই সময়ও গাছ নিয়ে হাজির।
এই দম্পতি জানালেন, একটি ভাড়া বাসায় প্রায় ৯ বছর থাকার পর বাড়ির মালিক তাঁদের বাসা ছাড়তে বলেন। কারণ হিসেবে বলা হয়, বাসা ভাড়া দেওয়া হলেও ছাদ ভাড়া দেওয়া হয়নি; সেখানে এত গাছ রাখা যাবে না। এরপর গাছের জন্য নতুন বাসা খোঁজা শুরু হয়। একটি বাসা পছন্দ হলেও প্রায় ১০০টি গোলাপের টব রাখা হবে শুনে বাড়ির মালিক ভাড়া দেননি।
তত দিনে শারমিনের গাছের সংখ্যা এত বেড়েছে যে সাধারণ বাসার ছাদে সেগুলো রাখা সম্ভব নয়। গাছগুলো কোথায় যাবে, এ নিয়ে পরিবারকে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
শেষ পর্যন্ত নিজেদের বাড়ি করার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হয়। বাড়ির কাজ চলার সময় অগ্রাধিকার পায় ছাদ। শারমিন বলেন, দ্রুত ছাদ ঢালাই করে গাছগুলো সেখানে তুলে দিতে চেয়েছিলেন তাঁরা। বাড়ি পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই ছাদে পানি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। গাছগুলো একে একে সেখানে তোলা হয়। জায়গা কমে গেলে গাছ রাখার জন্য তৈরি হয় কাঠামো। একটির ওপর আরেকটি স্তর তৈরি করে জায়গার সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হয়। এখন তিনতলা বাড়ির ছাদজুড়ে সেই বাগান।
শারমিন বলেন, ‘আমরা গাছের জন্যই বাড়ি করেছি। ভাড়া বাড়িতে কত কষ্ট করেছি। কত কটু কথা শুনতে হয়েছে। হয়তো গাছের জন্যই বাড়ি করার সাহস দেখেছিলাম। আর বাড়ি করার আগে থেকেই ভাবছিলাম, গাছগুলো কোথায় রাখব।’
বাগানটিতে গাছের বৈচিত্র্যই সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে। অ্যাডেনিয়ামের ২০০-এর বেশি ভ্যারাইটি, অ্যাগলোনিমার ৬০-এর বেশি, অর্কিডের ৬৫-এর বেশি, সাকুলেন্টের প্রায় ১০০, স্নেক প্ল্যান্টের ১০০-এর বেশি এবং ক্যাকটাসের ৫০-এর বেশি ভ্যারাইটি রয়েছে বলে জানান এই দম্পতি।
এ ছাড়া আছে বিভিন্ন ধরনের বনসাই, মনস্টেরা, জিজি প্ল্যান্ট, জেড প্ল্যান্ট, ক্যালাথিয়া, সিঙ্গোনিয়াম, পিস লিলি, পাথোস, অ্যান্থুরিয়াম, ফিটোনিয়া, হাওয়ারথিয়া, ইউফরবিয়া, বাগানবিলাসসহ নানা ধরনের ফুল ও পাতাবাহার গাছ।
ফল ও সবজির গাছও আছে এই দম্পতির ছাদে। আনার, আম, সফেদা, থাই সফেদা, পেয়ারা, ম্যান্ডারিন, অ্যাভোকাডো, অ্যাপ্রিকট, আপেল, আঙুর, পেঁপে, কলা, বেগুন, টমেটো, মরিচসহ বিভিন্ন গাছ রয়েছে।
বাগানে শুধু সৌন্দর্যের জন্য গাছ নয়, পরিবারের খাবারের জন্যও সবজি উৎপাদন করা হয়। শারমিন বলেন, এসব সবজিতে তাঁরা কীটনাশক ব্যবহার করেন না।
বাগানের সব গাছের দাম এক নয়। কোনো চারা পাওয়া যায় ২০০-৩০০ টাকায়, আবার কোনো গাছের দাম প্রায় লাখ টাকা পর্যন্ত। শারমিন জানান, অ্যাডেনিয়ামের দাম ৫০ টাকা থেকে শুরু করে লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তাঁর বাগানের একটি ক্যাকটাস ৬৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। কিছু বড় ও বিরল গাছের দাম কয়েক হাজার থেকে কয়েক লাখ টাকা।
বাগানের কিছু গাছ আবার ১৭ বছর ধরে তাঁদের কাছে রয়েছে। ২৮ বছর বয়সী ক্যাকটাসও আছে। সবচেয়ে দামি গাছগুলোর মধ্যে রয়েছে বিরল অ্যাডেনিয়াম।
শারমিনের এই বাগানের সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি এসেছে জাতীয় পর্যায়ে। পরিবেশবান্ধব এ উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে সম্প্রতি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত ‘বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার-২০২৫’-এ ‘ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে সৃজিত ছাদবাগান’ ক্যাটাগরিতে সারা দেশে প্রথম স্থান অধিকার করেন। পুরস্কার নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে। শারমিনের কাছে এটি শুধু একটি পুরস্কার নয়, বহু বছরের স্বপ্নপূরণের মুহূর্ত।
শারমিন জানালেন, গাছের পরিচর্যা ও রোগবালাই নিয়ে তাঁর পরামর্শ নিতে আসেন অনেকেই। কারও গাছের পাতা কুঁকড়ে গেলে, পাতা হলুদ হয়ে গেলে, ফল ঝরে পড়লে কিংবা গাছের পরিচর্যায় সমস্যা হলে তাঁকে ছবি পাঠানো হয়।
শারমিন জানালেন, অনেকে মজা করে তাঁকে ‘গাছের ডাক্তার’ বলে ডাকেন। নামটি দিয়েছেন তাঁর নানিশাশুড়ি। পরিচিতদের মধ্যেও নামটি এখন বেশ জনপ্রিয়। তাঁর ভাষ্য, ছবি দেখেই অনেক সময় পরামর্শ দিতে পারেন। প্রয়োজন হলে নিজেও গিয়ে গাছ দেখে আসেন।
এই পথচলায় স্বামীর সহযোগিতাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন শারমিন। গাছ কেনা, পরিচর্যার লোক ঠিক করা, কাঠামো তৈরি থেকে গাছ সরানো—সবকিছুতেই পাশে থাকেন জাহাঙ্গীর।
আগস্টে প্রায় তিন লাখ টাকার গাছ বিক্রি হয়েছে শারমিনের। গড়ে মাসে লাখ টাকার বেশি বিক্রি হয়।
শারমিন বলেন, ‘গাছের প্রতি আমার এই ভালোবাসায় সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা পেয়েছি আমার স্বামীর কাছ থেকে। তিনি আর্থিক ও মানসিকভাবে সব সময় পাশে থেকেছেন। তাঁর সহযোগিতা না থাকলে এত বড় বাগান করা সম্ভব হতো না।’
জাহাঙ্গীরও এখন গাছের নাম মনে রাখেন, বনসাই তৈরি করেন। সন্তানদের মধ্যেও গাছের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছে। মেজ ছেলে বৃত্তির টাকা দিয়ে মাকে গাছ কিনে দিয়েছে।
গাছের শখ এখন শারমিনদের ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। ‘নেসারস টাচ’ নামে তাঁদের ফেসবুক পেজ আছে। অফলাইন–অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে। শারমিন জানান, গত মাসে প্রায় তিন লাখ টাকার গাছ বিক্রি হয়েছে। মাসভেদে বিক্রি কমবেশি হয়। গড়ে মাসে লাখ টাকার বেশি বিক্রি হয়।
বাগানের পরিচর্যার বিভিন্ন সময়ে ৮ থেকে ১০ জন মানুষ যুক্ত থাকেন। কেউ কমিশনভিত্তিতে গাছ বিক্রি করেন। দুজনকে নিয়মিত বেতন দিতে হয়। তাঁদের একজনকে ১২ হাজার এবং অন্যজনকে ১৮ হাজার টাকা।
তবে শারমিন ও তাঁর স্বামী নিজেদের শ্রমের কোনো মূল্য হিসাব করেন না। শারমিনের ভাষায়, ‘আমাদের শ্রমটা ফ্রি। কিন্তু এই বাগান থেকে যে মানসিক শান্তি পাই, সেটার দাম তো হিসাব করা যায় না।’
ছাদবাগানেই থেমে থাকতে চান না শারমিন। এখন বাগানকে আরও বড় করার পরিকল্পনা আছে তাঁর। বাড়ির সীমানার জায়গাও ফাঁকা রাখেননি তাঁরা। সেখানে লাউ, কলা, পেঁপে, বেগুন, টমেটো, মরিচসহ বিভিন্ন গাছ লাগানো হয়েছে। সামনে শীতের সবজির চাষও করার পরিকল্পনা রয়েছে।
অন্যদিকে রাস্তার পাশে একটি বিক্রয়কেন্দ্র করার প্রস্তুতি চলছে। সেখানে সাধারণ গাছের পাশাপাশি টব, সার ও অন্যান্য বাগানসংশ্লিষ্ট উপকরণ পাওয়া যাবে। শারমিনের লক্ষ্য, ক্রেতারা যেন শুধু একটি গাছ কিনতে না এসে গাছের পরিচর্যা সম্পর্কেও ধারণা পান।
শারমিনের স্বপ্ন এখন আরও বড়—ছাদবাগানকে একটি পূর্ণাঙ্গ নার্সারি ও প্ল্যান্ট সেন্টারে রূপ দেওয়া।
গাছের জন্য একসময় এক বাসা থেকে আরেক বাসায় ছুটতে হয়েছিল শারমিনকে। গাছের জন্যই শেষ পর্যন্ত বানিয়েছেন তিনতলা বাড়ি। সেই ছাদের বাগানই এখন তাঁর পরিচয়, শখ ও আয়ের উৎস। শারমিনের কথা, গাছের প্রতি যে ভালোবাসা একসময় পরিবারের কাছে ছিল বিরক্তির কারণ। সেটিই এখন তাঁদের পরিবারের সবচেয়ে বড় সম্পদগুলোর একটি। প্রধানমন্ত্রী তাঁকে বলেছেন, তিনি যেন আরও অনেকের মধ্যে গাছের প্রতি এই ভালোবাসা ছড়িয়ে দেন।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
রাশিয়া ও ইউক্রেন চলমান যুদ্ধে নিজেদের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা স্থগিত করেছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে নিজের অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে ট্রাম্প এ তথ্য জানান। খবর দ্য টেলিগ্রাফের। দীর্ঘদিন ধরে চলা এ যুদ্ধে রাশিয়া নিয়মিতই ইউক্রেনের শহরগুলোতে ও বিভিন্ন সেনাঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে আসছে। ইউক্রেনও রাশিয়ার বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনায় দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে সফলভাবেই আঘাত করছে। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা না চালাতে ইউক্রেন সম্মত হয়েছে। রাশিয়াও একই সম্মতি দিয়েছে। বিশ্বের জ্বালানি তেলের দাম বেশি প্রভাবিত হয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে, ইরানের কারণে নয়। এর আগে, রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) আয়ারল্যান্ড সফরের সময় সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, জেলেনস্কিকে একটি কাজ করতে হবে। তাকে রাশিয়ায় জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করতে হবে। আরও পড়ুন রাশিয়ার জ্বালানিতে নয়, অন্য কিছুতে হামলা চালাও: ইউক্রেনকে ট্রাম্প এ বিষয়ে জেলেনস্কির সঙ্গে তার কথা হয়েছে বলেও জানান তিনি। ট্রাম্প বলেন, রাশিয়ায় হামলার জন্য আরও অনেক লক্ষ্যবস্তু রয়েছে। তবে, জ্বালানি স্থাপনায় হামলা করা উচিত নয়। তার মতে, এসব হামলার কারণে সারা বিশ্বের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এএমএ
রাজধানীর পল্লবীতে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে আহত সজীব হোসাইন (২২) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার ভোরে কাইল্লার বস্তি এলাকায় তিনি হামলার শিকার হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় জুয়েল ও জয় নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।নিহত সজীব পেশায় গেঞ্জি বিক্রেতা ছিলেন। তিনি মিরপুরের ওয়াপদা বিল্ডিং বেনারসিপল্লি এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। তাঁর বাবার নাম মৃত সেলিম হোসাইন। দুই ভাইয়ের মধ্যে সজীব ছিলেন বড়। সজীবের এক ছেলে রয়েছে।পল্লবী থানার উপপরিদর্শক রাশেদ আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে সজীব আহত হন। পরে স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে বাসায় নিয়ে আসা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে গত বৃহস্পতিবার তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।সজীবের মামাতো বোন শারমিন বলেন, ছিনতাইকারীরা সজীবের পিঠের ডান পাশে ও বুকে ছুরিকাঘাত করে তাঁর মুঠোফোন নিয়ে যায়।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোয় সিরিয়ার বেশ কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভের মধ্যে কয়েক ঘণ্টা ধরে একটি প্রধান মহাসড়ক অবরুদ্ধ করে রাখেন বিক্ষোভকারীরা।সিরিয়া সরকার রোববার ডিজেলের দাম ৪০ শতাংশ এবং পেট্রলের দাম ২৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ায়। সরকারের দাবি, বৈশ্বিকভাবে জ্বালানি সংগ্রহের খরচ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার কারণেই এই সাময়িক মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে।দাম বাড়ানোর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ বানিয়াস শোধনাগার সংস্কারের কথাও উল্লেখ করেছে সিরিয়া সরকার। তারা জানিয়েছে, এর ফলে শোধনাগারটির উৎপাদনক্ষমতা প্রতিদিন ৮০ হাজার ব্যারেল থেকে বেড়ে ১ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল হবে।জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সিরিয়ার হামা, খান শেইখুন ও মারাত আল-নুমান শহরে বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। আল–জাজিরার প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, রাস্তায় জড়ো হওয়া মানুষ টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছেন। দাম বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।শনিবার সিরিয়ার জ্বালানিমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-বশির বলেন, দেশটিতে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ২০০০ ব্যারেল তেল উৎপাদিত হচ্ছে; কিন্তু দেশের ভেতরে ব্যবহারের জন্য প্রতিদিন প্রয়োজন প্রায় ৩ লাখ ২৫ হাজার ব্যারেল। এই ঘাটতি পূরণের জন্য তারা আমদানির ওপর নির্ভর করছেন।রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা সিরিয়ান আরব নিউজ এজেন্সির (সানা) তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিশ্ববাজারের পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তারা দাম সমন্বয়ের কাজ চালিয়ে যাবে। এ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে তেল শোধন ও মজুত করার ক্ষমতা বাড়াতেও কাজ করবে তারা।দীর্ঘ ১৪ বছরের যুদ্ধের পর সিরিয়া এখন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। তাই দেশটির অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জন্য জ্বালানির সরবরাহ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।