বাংলায় একটা প্রবাদ আছে, ‘বারে বারে ঘুঘু তুমি খেয়ে যাও ধান, এবার ঘুঘু তোমার বধিব পরান’।
ফরাসি সমর নায়ক নেপোলিয়ন বোনাপার্ট বাংলা জানতেন না, তাই তিনি কথাটা একটু ভিন্নভাবে বলেছেন, ‘একই শত্রুর সঙ্গে তোমার বারবার লড়াই করা উচিত নয়; তাহলে সে তোমার যুদ্ধের সমস্ত কৌশল শিখে ফেলবে।’
ইরানের ওপর বারবার হামলা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সে ভুলই করল। ঘুঘু বারে বারে ধান খেয়েছ, আর নয়। ২০২৬ সালে ইরান তার শত্রুদের বিরুদ্ধে আরও বেশি কৌশলী প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পর এখন ইরানের শাসনক্ষমতা মূলত আরও পেশাদার নেতৃবৃন্দের হাতে ন্যস্ত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রকে ‘মহা শয়তান’ বলে গালিগালাজ করার দিন শেষ। ইরানি নেতৃবৃন্দ প্রতিরোধের পথ বেছে নিয়েছেন।
নতুন নেতৃত্বে যদিও কট্টরপন্থী ও মধ্যপন্থীদের সংমিশ্রণ রয়েছে, তবে তাঁরা প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানেই নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা মোকাবিলার কৌশল নির্ধারণ করছেন।
গত ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রথম ধাক্কা কাটিয়ে ইরান দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
ইরান তাদের সশস্ত্র বাহিনীকে বিভিন্ন রিজিওনাল ইউনিটে ভাগ করে তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছে।
ইরানের জনগণকে একসময় মনে করা হতো সরকার থেকে বিচ্ছিন্ন। কিন্তু এই যুদ্ধ তাদের অনেকভাবে সরকার ও সামরিক বাহিনীর পেছনে ঐক্যবদ্ধ করেছে।
ইরানিদের মনোবল বলা যায় এখন যেকোনো সময়ের চেয়েও অনেক ভালো।
প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুতগতিতে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করছে ইরান।
নিউইয়র্ক টাইমস সাম্প্রতিক এক নিবন্ধে লিখেছে, ‘মার্কিন গোয়েন্দা বাহিনীর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা নিয়ে ইরান আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে কোণঠাসা বা ব্যর্থ করার লক্ষ্যে তারা আরও কয়েক মাস ধরে এই সংঘাত চালিয়ে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে মনে হচ্ছে।’
সামরিক শক্তির দিক দিয়ে এটা একটা অসম যুদ্ধ। কিন্তু যুদ্ধে জয়–পরাজয় শুধু এক পক্ষের সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের নিরিখে নির্ধারিত হয় না, অপর পক্ষের কতটুকু সহনশক্তি আছে, তার ওপরও নির্ভর করে।
ইরানের ব্যাপারেও তা–ই হয়েছে। বিরাট বিরাট রণতরি ও অত্যাধুনিক বোমারু বিমানও টলাতে পারেনি ইরানিদের দৃঢ় মনোবল।
ইরানিরা সমানতালে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় বন্ধুদেরও ভীতসন্ত্রস্ত করেছে। প্রচারযুদ্ধেও তারা যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের আচরণের সমালোচনা করে বলেছেন, ‘তারা ইরানের আত্মসমর্পণ চায়; ইরানিরা শক্তির কাছে নতি স্বীকার করে না।’
সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, অস্ত্র নয়, এবার তিনি ইরানকে হারাবেন অর্থনৈতিক অবরোধ করে। সেটা আরও হাস্যকর ঠেকেছে।
পৃথিবীর কোনো দেশই তাঁর এ উদ্যোগে সাড়া দেয়নি। চীন ও রাশিয়ার বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক লেনদেনে যে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রভাব নেই, সেটা সমগ্র বিশ্ব জানে।
ট্রাম্পের সেই ‘অর্থনৈতিক ডি-ডের’ দেখা যে মিলবে না, তা যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় সংবাদমাধ্যম বিশাল বিশাল শিরোনামে প্রকাশ করেছে।

যুদ্ধটা শুরু হয়েছিল কী নিয়ে? ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র শুরু করেছিল, চেয়েছিল ইরানের সরকারের পরিবর্তন, যাকে তারা বলেছিল ‘রেজিম চেঞ্জ’ এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে বন্ধ করতে।
অনেক তর্কবিতর্ক ও মধ্যস্থতা হয়েছে, অনেক ‘এম ও ইউ’ (চুক্তির খসড়া) লেখা হয়েছে। কিন্তু কিছুতেই কাজ হয়নি। ইরান তাদের সিদ্ধান্তে অটল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের হতাশ করেছে।
যুদ্ধটা এখন কী নিয়ে? যুক্তরাষ্ট্রের আগের ওই সব দাবিদাওয়া এখন আর তেমন নেই। এখন তারা শুধু চাইছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেন জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক থাকে।
কারণ, ইরান হরমুজে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় রণতরিও পারছে না হরমুজকে সম্পূর্ণ কবজা করতে।
এখন মনে হচ্ছে, যুদ্ধ–পূর্ববর্তী পরিস্থিতে ফিরিয়ে আনতে পারলে যুক্তরাষ্ট্র খুশি। তারা শুধু চায় হরমুজে অবাধ জাহাজ চলাচল ফিরিয়ে আনতে, যাতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম স্বাভাবিক হয়।
তবে ইরান হরমুজের নিয়ন্ত্রণ ছাড়ছে না, তার কারণ একটাই—ভবিষ্যতে সংঘাত ও আক্রমণের বিরুদ্ধে হরমুজ তাদের বিরাট রক্ষাকবচ।
হরমুজকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে ইরানের পক্ষে বিশ্বে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাও কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে—এটাই যুক্তরাষ্ট্রকে কাবু করার তাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র।
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে।
কেউ এটাকে দেখছেন ‘মুসলিম ন্যাটো’ গঠনের প্রাথমিক পদক্ষেপ, যুক্তরাষ্ট্র এটাকে দেখছে ইরানবিরোধী প্রতিরক্ষা চুক্তি হিসেবে, অন্যরা যে যার মতো এই চুক্তি নিয়ে বিশ্লেষণ করছে।
তবে একটা বিষয় সম্ভবত নিশ্চিতভাবে বলা যায়, মক্কা চুক্তি ইরান যুদ্ধে কোনো প্রভাব ফেলবে না।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অন্তত বিশবার উচ্চারণ করেছেন—যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের জয় হয়েছে এবং যুদ্ধ থেমে গেছে। যুদ্ধ কি সত্যই থেমে গেছে?
আপনি বিশ্বের পাঁচজন বিশিষ্ট সাংবাদিককে প্রশ্ন করুন, তাঁরা পাঁচ রকমের উত্তর দেবেন। আপনি পাঁচজন সমরকৌশলীকে প্রশ্ন করুন, তাঁরাও উত্তর দিতে থতমত খাবেন। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ‘যুদ্ধ বলব না। এখন কোনো সত্যিকার গোলাগুলি নেই।’
ইরানের প্রতিরোধক্ষমতা খুব কম, কিন্তু তাদের প্রতি–আক্রমণের ক্ষমতা প্রচুর। তারা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোয় প্রতি–আক্রমণ চালিয়ে আক্রমণের বদলা নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের দুই–তৃতীয়াংশ জনগণ যুদ্ধের বিরুদ্ধে এবং যেভাবে তেলের দাম বাড়ছে, তাতে জনগণ দারুণ ক্ষুব্ধ। এদিকে সামনেই মধ্যবর্তী নির্বাচন।
তবে যুদ্ধ বলা হোক বা সংঘাত বলা হোক, বৈরিতা রয়েই গেছে। ট্রাম্পের মনমর্জির ওপর নির্ভর করে যুদ্ধক্ষেত্রে কী হচ্ছে! মার্কিন বাহিনী কোনো সুনির্দিষ্ট কৌশল করে যুদ্ধ চালাচ্ছে না।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের ভান্ডারও এখন বেশ সীমিত। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হঠাৎ মাঝেমধ্যে খেপে গিয়ে ইরানে আক্রমণ চালানোর হুকুম দেন।
ইরানের প্রতিরোধক্ষমতা খুব কম, কিন্তু তাদের প্রতি–আক্রমণের ক্ষমতা প্রচুর। তারা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোয় প্রতি–আক্রমণ চালিয়ে আক্রমণের বদলা নিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দুই–তৃতীয়াংশ জনগণ যুদ্ধের বিরুদ্ধে এবং যেভাবে তেলের দাম বাড়ছে, তাতে জনগণ দারুণ ক্ষুব্ধ। এদিকে সামনেই মধ্যবর্তী নির্বাচন।
কানসাস অঙ্গরাজ্যে যেখানে গত ১০০ বছরে কোনো সিনেটর ডেমোক্রেটিক পার্টি থেকে নির্বাচিত হননি, সেখানে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিলটন এ বছর বেশ আশাবাদী।
তিনি যখন ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছিলেন, ৭৮ বছর বয়স্ক একজন লোক তাঁকে তেল কেনার রসিদটা দেখিয়ে বললেন, এ জন্যই তোমাকে আমি ভোট দেব।
ইরান যুদ্ধ ট্রাম্প ও রিপাবলিকান পার্টিকে মধ্যবর্তী নির্বাচনে দারুণ বিপাকে ফেলেছে। মনে হচ্ছে, যুদ্ধ আগামী নভেম্বর পর্যন্ত ঢিমেতালে চলবে, হঠাৎ হঠাৎ আক্রমণ ও প্রতি–আক্রমণ হবে।
তবে মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হলে ট্রাম্প বা তাঁর দলকে পরবর্তী দুই বছরে আর কোন নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হবে না। তখন কি তিনি কোনো চরম সিদ্ধান্ত নিতে পারেন?
গত এপ্রিল মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, তেহরান ওয়াশিংটনের দাবি মেনে না নিলে ইরানের ‘পুরো সভ্যতা ধ্বংস করা হবে’। তিনি মাঝেমধ্যে একই ধরনের হুমকি দিয়ে আসছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সন্ত্রাসবিরোধী সাবেক উপদেষ্টা জো কেন্ট টাকার কার্লসনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রচলিত সামরিক উপায়ে ইরানকে পরাজিত করতে ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দেশটির বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারেন।
আমরা এই বীভৎসতার কথা চিন্তাই করতে পারছি না। আশা করা যায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর প্রেসিডেন্সির বাকি দুই বছর তাঁর লিগ্যাসি নিয়ে কাজ করবেন।
তাঁর সুযোগ রয়েছে, যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ করে শান্তির দূত হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার এবং শান্তিতে নোবেল পুরস্কার ছিনিয়ে নেওয়ার। একজন প্রেসিডেন্টের জন্য দায়িত্ব শেষ করার এটাই সম্ভবত সবচেয়ে উত্তম উপায়।
সালেহ উদ্দিন আহমদ শিক্ষক, লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
ই-মেইল: salehpublic711@gmail.com
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
রাশিয়া ও ইউক্রেন চলমান যুদ্ধে নিজেদের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা স্থগিত করেছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে নিজের অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে ট্রাম্প এ তথ্য জানান। খবর দ্য টেলিগ্রাফের। দীর্ঘদিন ধরে চলা এ যুদ্ধে রাশিয়া নিয়মিতই ইউক্রেনের শহরগুলোতে ও বিভিন্ন সেনাঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে আসছে। ইউক্রেনও রাশিয়ার বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনায় দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে সফলভাবেই আঘাত করছে। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা না চালাতে ইউক্রেন সম্মত হয়েছে। রাশিয়াও একই সম্মতি দিয়েছে। বিশ্বের জ্বালানি তেলের দাম বেশি প্রভাবিত হয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে, ইরানের কারণে নয়। এর আগে, রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) আয়ারল্যান্ড সফরের সময় সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, জেলেনস্কিকে একটি কাজ করতে হবে। তাকে রাশিয়ায় জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করতে হবে। আরও পড়ুন রাশিয়ার জ্বালানিতে নয়, অন্য কিছুতে হামলা চালাও: ইউক্রেনকে ট্রাম্প এ বিষয়ে জেলেনস্কির সঙ্গে তার কথা হয়েছে বলেও জানান তিনি। ট্রাম্প বলেন, রাশিয়ায় হামলার জন্য আরও অনেক লক্ষ্যবস্তু রয়েছে। তবে, জ্বালানি স্থাপনায় হামলা করা উচিত নয়। তার মতে, এসব হামলার কারণে সারা বিশ্বের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এএমএ
রাজধানীর পল্লবীতে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে আহত সজীব হোসাইন (২২) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার ভোরে কাইল্লার বস্তি এলাকায় তিনি হামলার শিকার হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় জুয়েল ও জয় নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।নিহত সজীব পেশায় গেঞ্জি বিক্রেতা ছিলেন। তিনি মিরপুরের ওয়াপদা বিল্ডিং বেনারসিপল্লি এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। তাঁর বাবার নাম মৃত সেলিম হোসাইন। দুই ভাইয়ের মধ্যে সজীব ছিলেন বড়। সজীবের এক ছেলে রয়েছে।পল্লবী থানার উপপরিদর্শক রাশেদ আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে সজীব আহত হন। পরে স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে বাসায় নিয়ে আসা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে গত বৃহস্পতিবার তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।সজীবের মামাতো বোন শারমিন বলেন, ছিনতাইকারীরা সজীবের পিঠের ডান পাশে ও বুকে ছুরিকাঘাত করে তাঁর মুঠোফোন নিয়ে যায়।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোয় সিরিয়ার বেশ কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভের মধ্যে কয়েক ঘণ্টা ধরে একটি প্রধান মহাসড়ক অবরুদ্ধ করে রাখেন বিক্ষোভকারীরা।সিরিয়া সরকার রোববার ডিজেলের দাম ৪০ শতাংশ এবং পেট্রলের দাম ২৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ায়। সরকারের দাবি, বৈশ্বিকভাবে জ্বালানি সংগ্রহের খরচ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার কারণেই এই সাময়িক মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে।দাম বাড়ানোর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ বানিয়াস শোধনাগার সংস্কারের কথাও উল্লেখ করেছে সিরিয়া সরকার। তারা জানিয়েছে, এর ফলে শোধনাগারটির উৎপাদনক্ষমতা প্রতিদিন ৮০ হাজার ব্যারেল থেকে বেড়ে ১ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল হবে।জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সিরিয়ার হামা, খান শেইখুন ও মারাত আল-নুমান শহরে বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। আল–জাজিরার প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, রাস্তায় জড়ো হওয়া মানুষ টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছেন। দাম বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।শনিবার সিরিয়ার জ্বালানিমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-বশির বলেন, দেশটিতে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ২০০০ ব্যারেল তেল উৎপাদিত হচ্ছে; কিন্তু দেশের ভেতরে ব্যবহারের জন্য প্রতিদিন প্রয়োজন প্রায় ৩ লাখ ২৫ হাজার ব্যারেল। এই ঘাটতি পূরণের জন্য তারা আমদানির ওপর নির্ভর করছেন।রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা সিরিয়ান আরব নিউজ এজেন্সির (সানা) তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিশ্ববাজারের পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তারা দাম সমন্বয়ের কাজ চালিয়ে যাবে। এ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে তেল শোধন ও মজুত করার ক্ষমতা বাড়াতেও কাজ করবে তারা।দীর্ঘ ১৪ বছরের যুদ্ধের পর সিরিয়া এখন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। তাই দেশটির অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জন্য জ্বালানির সরবরাহ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।