কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতি মানুষের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে। এই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা কর্মীরা নিজেরাই এখন মানবজাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে মারাত্মক শঙ্কিত। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এ শঙ্কার কথা জানিয়েছেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করা শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান ‘অ্যানথ্রোপিক’-এর সাবেক গবেষক জ্যাকব কক্সন।
অ্যানথ্রোপিক থেকে সম্প্রতি পদত্যাগ করেছেন জ্যাকব কক্সন। তিনি বলেন, এআই প্রযুক্তি যে অবিশ্বাস্য গতিতে এগিয়ে চলেছে, তা মানুষের জীবনে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে গবেষকেরা নিজেরাই ভীষণ আতঙ্কিত। কক্সন সতর্ক করে বলেন, ‘আমরা যদি এখনই এই অগ্রগতির রাশ টেনে না ধরি, তাহলে এটার বড় সম্ভাবনা রয়েছে যে অদূর ভবিষ্যতে আমরা সবাই মারা যেতে পারি।’
চাকরি ছাড়ার পর এআইয়ের বিপদ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কক্সনের একটি বার্তা ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই তিনি বিবিসির সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেন। ২৭ বছর বয়সী কক্সনের সাবেক প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিকের প্রধান দারিও আমোদেইও সম্প্রতি এআইয়ের অগ্রগতির গতি ধীর করার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে সংশ্লিষ্ট অনেকে তাঁর এই আহ্বানের পেছনের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। অবশ্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের প্রধান স্যাম অল্টম্যান এবং এক্সএআইয়ের প্রধান ইলন মাস্ক আমোদেইয়ের প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন। তাঁরা পুরো শিল্পজুড়ে কাজের গতি কমানো, কঠোর নিয়মনীতি চালু এবং এআই মডেল ডেভেলমেন্টের ওপর স্বাধীন তদারকির পক্ষে মত দিয়েছেন।
শনিবার এক নিবন্ধে আমোদেই লিখেছেন, প্রযুক্তির উন্নয়ন নিয়ে প্রশ্ন নেই। কিন্তু এর সঙ্গে যে ঝুঁকি রয়েছে, তা ‘গুরুতর’। এসব ঝুঁকি মোকাবিলা করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে কিছুটা সময় দিতে হবে। অ্যানথ্রোপিকে যোগ দেওয়ার আগে ওপেনএআইয়ে কাজ করা কক্সন এআইয়ের অগ্রগতি ধীর করার এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা এড়াতে এ প্রক্রিয়ায় চীনকেও যুক্ত করতে হবে।
কক্সনের মতে, এআইয়ের কারণে মানবজাতির চরম বিপর্যয় বা ধ্বংস কেমন হতে পারে, তা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। তবে অ্যানথ্রোপিক প্রধান আমোদেই একটি বড় ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, অসংখ্য স্বয়ংক্রিয় প্রোগ্রাম (বট) একজোট হয়ে একটি শক্তিশালী সুপার কম্পিউটারের মতো রূপ নিতে পারে এবং পুরো ইন্টারনেট দখল করে নিতে পারে। কক্সন মনে করেন, আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যেই এমন ভয়ংকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়া বিচিত্র কিছু নয়।
কক্সনের পদত্যাগের প্রতিক্রিয়ায় অ্যানথ্রোপিকের এক মুখপাত্র বলেন, ‘এআই প্রযুক্তির বিপুল সুফলের পাশাপাশি যে নজিরবিহীন কিছু ঝুঁকিও রয়েছে, তা আমরা শুরু থেকেই অত্যন্ত খোলামেলাভাবে বলে আসছি। এসব ঝুঁকি দূর করতে আমরা পুরো এআই–শিল্পের মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী নিরাপত্তাব্যবস্থা মেনে নতুন মডেল তৈরি করছি।’
ওই মুখপাত্র আরও জানান, এআই মডেলগুলো ভেতরে কীভাবে কাজ করে, তা গবেষণার ক্ষেত্রে অ্যানথ্রোপিক শুরু থেকেই পথপ্রদর্শক। এআই উন্নয়নের ঝুঁকি কমানোর জন্য তারাই বিশ্বে প্রথম একটি সুরক্ষা-রূপরেখা প্রকাশ করেছিল। এ ছাড়া এআই যেন মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায় এবং যে কেউ যেন তা পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই করতে পারে, সে জন্য প্রতিষ্ঠানটি তাদের মডেলগুলো অত্যন্ত কঠোরভাবে পরীক্ষা করে এবং সেই ফলাফল সবার জন্য প্রকাশ করে।
অ্যানথ্রোপিকের মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা চাই এ খাতের সব প্রতিষ্ঠান আইনসম্মত ও যাচাইযোগ্য উপায়ে একযোগে কাজ করুক। এভাবে নিয়ন্ত্রিত গতিতে শক্তিশালী মডেলগুলো বাজারে ছাড়া সম্ভব হলে শেষ পর্যন্ত গোটা বিশ্বই উপকৃত হবে।’
মানুষের নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা ছাড়িয়ে যেতে পারে
সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক গত বৃহস্পতিবার একটি ‘থ্রেট ইন্টেলিজেন্স’ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনে বিভিন্ন অপশক্তি কীভাবে অ্যানথ্রোপিকের ক্লড এআই মডেল ব্যবহার করে অস্ত্র তৈরি, সাইবার আক্রমণ, নজরদারি ও জালিয়াতির মতো কাজ পরিচালনা করছে, তার বিবরণ উঠে আসার পর আমোদেই নিবন্ধটি প্রকাশ করেন।
আমোদেই মূলত এআই-ব্যবস্থার নিজেকে নিজে উন্নত করার ক্রমবর্ধমান সক্ষমতাকে ইঙ্গিত করে বলেন, এটি মানুষের নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ রয়েছে। সেই সঙ্গে ওপেনএআই ও হাগিং ফেসের সাম্প্রতিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটিকে এআই মডেলের অগ্রগতিতে লাগাম টানার প্রাথমিক কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
অন্যদের চেয়ে নিজেদের নিরাপত্তাসচেতন ল্যাব হিসেবে তুলে ধরলেও অ্যানথ্রোপিকও এসব আশঙ্কার ঊর্ধ্বে নয়। গত সপ্তাহে তারা তাদের এআই মডেল কর্তৃক বাইরের সিস্টেমে হ্যাক করার আরও একটি ঘটনা প্রকাশ করে। এর আগে গত জুলাই মাসে সাইবার নিরাপত্তা পরীক্ষার সময় ক্লডের কিছু মডেল তিনটি কোম্পানির সিস্টেমে হ্যাক করেছিল।
আমোদেই লেখেন, ‘এআই সক্ষমতার দ্রুতগতির বিকাশ দেখে আমার ভয় হচ্ছে যে ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে এ ধরনের স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্টদের দল গোটা ইন্টারনেট নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিতে পারে, যার ফলে শত শত বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হওয়া সম্ভব।’
তবে আমোদেই পরিষ্কার করেছেন যে তিনি মডেলের প্রশিক্ষণ কিংবা প্রযুক্তিগত অগ্রগতি সম্পূর্ণ বন্ধ করার কথা বলছেন না; বরং প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে তাদের মডেলগুলোকে নিরাপদ করার এবং থার্ড পার্টি বিশ্লেষকদের মাধ্যমে এসব পদক্ষেপ নিশ্চিত করার জন্য পর্যাপ্ত সময় নেয়, সেটিই তিনি চাইছেন।
গত সপ্তাহে রয়টার্স জানায়, ওপেনএআইয়ের একদল নিয়ন্ত্রণহীন এআই এজেন্ট একটি জার্মান ওয়েবসাইট হাইজ্যাক করে অন্যান্য এআই এজেন্টের ব্যবহারের জন্য বুলেটিন বোর্ডে রূপান্তরিত করেছে। উন্মুক্ত কোড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ‘হাগিং ফেস’-এ জুলাইয়ের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর এ ঘটনা ঘটায় ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটি নির্মাতারা বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করেছিলেন।
ওপেনএআইয়ের মতো ডেভেলপারদের এআই এজেন্টগুলো বাইরের সিস্টেমে হ্যাক করা বা ঢোকার চেষ্টা চালানোর একের পর এক ঘটনা এআই মডেলগুলোর বাড়তে থাকা সক্ষমতা এবং ডেভেলপারদের এগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষমতা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
আমোদেই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বহু আইনপ্রণেতা যখন এআই নিয়ন্ত্রণের জন্য নতুন আইনের দাবি জানাচ্ছেন, তখন এআই কোম্পানিগুলোর উচিত স্বেচ্ছায় একে অপরের সঙ্গে কাজ করে সুরক্ষার মানদণ্ড নির্ধারণ করা।
বারাক ওবামার উদ্বেগ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না হলে তা ‘বিপজ্জনক’ হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। এই সমস্যা মোকাবিলায় নীতি ও শাসন পরিচালনাসংক্রান্ত এজেন্ডা প্রস্তুত করতে তিনি ডেমোক্র্যাটদের তাগিদ দিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। ওবামার উদ্ধৃতি দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, গত বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ‘বিষয়টি বেসরকারি খাতে খুব দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে; আর আমরা যদি এটি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারি, তবে আমার মনে হয় এটি বিপজ্জনক হতে পারে।’
বার্নি স্যান্ডার্সের আহ্বান
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংকে এআই থামানোর আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। তিনি বলেছেন, এআই উন্নয়নের গতি ধীর করার বিষয়ে দারিও আমোদেই, স্যাম অল্টম্যান ও ইলন মাস্কের আহ্বান একটি সূচনা মাত্র, তবে যথেষ্ট নয়।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
বামপন্থি নেতৃত্বের হাতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি। কয়েক বছর আগেও দেশটিতে ছিল তীব্র খাদ্য ও জ্বালানি সংকট, চারদিকে ছিল হাহাকার। আজ সেখানে স্বস্তি ফিরছে। খাদের কিনারা থেকে এই পথ পরিবর্তন মোটেও সহজ ছিল না শ্রীলঙ্কার জন্য। বিশেষ করে, একজন বামপন্থি নেতার হাত ধরে দেশটির এই অর্থনৈতিক পরিবর্তন বিশ্বজুড়ে ব্যাপক কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিশানায়েকের সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংস্কার কর্মসূচির ফলেই শ্রীলঙ্কা আজকের এই অবস্থানে পৌঁছাতে পেরেছে। অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও দেউলিয়া হওয়ার অন্ধকার অধ্যায় শ্রীলঙ্কার এই সংকটের শুরু হয়েছিল ভুল সরকারি নীতি ও বৈদেশিক ঋণের পর্বতসম বোঝার কারণে। ২০১৯ সালের ট্যাক্স কাট, করোনা মহামারি এবং পর্যটন খাতের বিপর্যয় দেশটিকে চরম সংকটে ফেলে দেয়। কৃষিতে হঠাৎ রাসায়নিক সার নিষিদ্ধ করার মতো নীতি পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তোলে। ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় শেষ হয়ে যায়। তাতে জ্বালানি আমদানির অর্থ জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়ে। দেশজুড়ে দেখা দেয় খাদ্য ও ওষুধের সংকট। মূল্যস্ফীতি বেড়ে যায় ৭০ শতাংশের ওপরে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ থাকত না। পেট্রল ও ডিজেলের জন্য মানুষকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হতো। একপর্যায়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করে শ্রীলঙ্কা। ৫১ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে খেলাপি হয় তারা। এটি ছিল দেশটির ইতিহাসে প্রথম সার্বভৌম ঋণখেলাপি। গণ-অভ্যুত্থান ও পরবর্তী রাজনৈতিক সংকট চরম অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিক্রিয়ায় দেশজুড়ে সৃষ্টি হয় তীব্র গণ-অসন্তোষ, যা ইতিহাসে ‘আরাগলায়া’ বা গণ-সংগ্রাম নামে পরিচিত। বিক্ষুব্ধ জনতা তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের বাসভবনে চড়াও হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন তিনি। এরপর রাজনৈতিক এক সমঝোতার মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব নেন রনিল বিক্রমাসিংহে। তিনি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বেইলআউট প্যাকেজ সচল করার চেষ্টা করেন। তবে তার কঠোর কর নীতি এবং ব্যয় সংকোচন সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তোলে। জনগণের মধ্যে পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি চরম অনাস্থা তৈরি হয়। দুর্নীতিমুক্ত ও গণমুখী এক নতুন নেতৃত্বের আকাঙ্ক্ষা তীব্র হয়ে ওঠে। বামপন্থিদের নাটকীয় উত্থান ঠিক এই রাজনৈতিক ও সামাজিক শূন্যতার মধ্যে উত্থান ঘটে ন্যাশনাল পিপলস পাওয়ারের (এনপিপি) বামপন্থি নেতা অনুরা কুমারা দিশানায়েকের। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, রাজনৈতিক অভিজাতদের বিশেষ সুবিধা কমানো এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কারের প্রতিশ্রুতি অনুরাকে সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত জনপ্রিয় করে তোলে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয় পান তিনি। পার্লামেন্টে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় তার জোট। অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন, একজন মার্ক্সবাদী নেতা ক্ষমতায় আসলে হয়তো বিদেশি বিনিয়োগকারীরা মুখ ফিরিয়ে নেবে। এমনকি আইএমএফের সঙ্গে চুক্তিও বাতিল হতে পারে বলে ভাবা হয়েছিল। কিন্তু অনুরা দিশানায়েকে প্রমাণ করেছেন, তিনি ভাবাদর্শের চেয়ে বাস্তবমুখী অর্থনীতিকেই বেশি গুরুত্ব দেন। তিনি ক্ষমতায় এসেই আইএমএফের কর্মসূচির মৌলিক শর্তগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ঘোষণা দেন। তবে একই সঙ্গে এতে যুক্ত করেন নিজস্ব সংস্কার এজেন্ডা। অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংস্কার কর্মসূচি অনুরা দিশানায়েকের বামপন্থি সরকার কর ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। রাজস্ব প্রশাসন শক্তিশালী করা, ভ্যাট ব্যবস্থায় সংস্কার, কর আদায় বাড়ানো এবং দুর্নীতি কমানোর উদ্যোগের পাশাপাশি নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর চাপ কমাতে বেশ কিছু করছাড় দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে গাড়ি আমদানি ফের চালু করার সঙ্গে ৩০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করেছে লঙ্কান সরকার। অবৈধ ব্যবসা এবং কালোবাজারি চক্রের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান দেশে আর্থিক স্বচ্ছতা ফেরাতে সাহায্য করছে। সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রেও ব্যাপক সংস্কার আনা হয়েছে। চা বাগান কর্মীদের দৈনিক মজুরি বৃদ্ধি, স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য আবাসন প্রকল্প চালু করা হয়েছে। রাজস্ব আদায়ে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। একই সময়, বিদেশি ঋণ পুনর্গঠন প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের সুফল এখনো সবার কাছে সমানভাবে পৌঁছায়নি। ঘুরে দাঁড়ানোর বাস্তব চিত্র বর্তমান সময়ে এসে শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি এক অভাবনীয় মাইলফলক স্পর্শ করেছে। দেশটির জিডিপি প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে। একসময়ের আকাশচুম্বী মূল্যস্ফীতি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় অবদান রাখছে পর্যটন খাতের অভাবনীয় পুনরুত্থান এবং প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স। আইএমএফের হিসাবে, ২০২৫ সালে শ্রীলঙ্কার পাঁচ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চের শেষে দেশটির সরকারি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে প্রায় সাত বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। রাজস্ব আদায়ও শক্তিশালী হয়েছে। ২০২৫ সালে দেশটি ২ হাজার ৫৫৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন রুপি রাজস্ব সংগ্রহ করে, যা তাদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ। ঋণ পুনর্গঠন এগিয়ে যাওয়ায় দেশটির ঋণ পরিস্থিতিও আগের তুলনায় টেকসই অবস্থার দিকে যাচ্ছে। সামনে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ালেও সংকট পুরোপুরি শেষ হয়নি। আইএমএফের কর্মসূচির আওতায় রাজস্ব বাড়ানো এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণের কারণে জনগণের ওপর কর ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ রয়েছে। দারিদ্র্য ও আয়বৈষম্যের প্রভাবও পুরোপুরি কাটেনি। তাছাড়া, আইএমএফের সর্বশেষ মূল্যায়ন বলছে, ২০২৬ সালে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রায় তিন শতাংশে নেমে আসতে পারে। তেলের চড়া দাম, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং পর্যটন আয়ে সম্ভাব্য ধাক্কা অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। অর্থাৎ পুনরুদ্ধারের পথ এখনো ঝুঁকিমুক্ত নয়। তবু সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি অন্য জায়গায়। দেউলিয়া হয়ে যাওয়া একটি দেশ এখন আবার প্রবৃদ্ধির পথে। রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে বেরিয়ে এসেছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে। ঋণ পুনর্গঠনের কাজ এগিয়েছে। আর এই পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এমন একজন নেতা, যার রাজনৈতিক পরিচয়ের শিকড় বামপন্থি ও মার্কসবাদী রাজনীতিতে। এক নতুন শ্রীলঙ্কার বার্তা অনুরা কুমারা দিশানায়েকে বিশ্বকে দেখিয়েছেন, কেবল পুঁজিবাদী বা সমাজতান্ত্রিক তত্ত্বের অন্ধ অনুসরণ নয়, বরং সুশাসন ও বাস্তববাদী নীতিমালার মাধ্যমেই ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব। সংকটকে শক্তিতে রূপান্তর করে কীভাবে দুর্নীতি দূর করা যায় এবং অর্থনীতিকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো যায়, শ্রীলঙ্কা এখন তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের জন্য শ্রীলঙ্কার এই ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প এক বড় ধরনের অনুপ্রেরণা। সূত্র: রয়টার্স, এপি, ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ, আইএমএফকেএএ/
মিমের জীবনে সবচেয়ে প্রিয় মানুষ কে? এমন প্রশ্নের উত্তর অভিনেত্রী নিজেই দিয়েছেন। ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা বিদ্যা সিনহা মিমের কাছে সেই মানুষটি তার সবচেয়ে কাছের, সবচেয়ে প্রিয় এবং জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের সঙ্গী। বিশেষ এই মানুষটিকে ঘিরে মিমের ভালোবাসার প্রকাশও মাঝেমধ্যে দেখা যায় তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে। অভিনয়ের ব্যস্ততার বাইরে ব্যক্তিজীবনের নানা মুহূর্ত ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নেন মিম। বিশেষ করে ভ্রমণ, অবসর কিংবা কাছের মানুষদের সঙ্গে কাটানো সময়ের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করতে দেখা যায় তাকে। এবারও তেমনই এক বিশেষ দিনে প্রিয় মানুষটির প্রতি ভালোবাসা জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। মিমের সেই প্রিয় মানুষ আর কেউ নন, তার স্বামী ও ব্যাংকার সনি পোদ্দার। আজ সনি পোদ্দারের জন্মদিন। বিশেষ দিনটিতে স্বামীর সঙ্গে তোলা বেশ কয়েকটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে ভালোবাসামাখা শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মিম। মিম লিখেছেন, ‘শুভ জন্মদিন আমার প্রিয় মানুষ। সনি পোদ্দার, আজও তুমি আমার সবচেয়ে প্রিয়, সবচেয়ে প্রিয় ভ্রমণসঙ্গী, আর প্রিয় সবকিছু। তোমার সঙ্গে জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত ভাগ করে নিতে ভালো লাগে। তোমাকে পাশে নিয়ে জীবনটা কাটিয়ে দিতে চাই।’ দীর্ঘ আট বছরের প্রেমের পর ২০২২ সালের ৪ জানুয়ারি সনি পোদ্দারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন মিম। বিয়ের পরও স্বামীর সঙ্গে দাম্পত্য জীবনের নানা সুন্দর মুহূর্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেছেন তিনি। এদিকে, ব্যক্তিজীবনের পাশাপাশি কাজ নিয়েও ব্যস্ত সময় পার করছেন মিম। সম্প্রতি শেষ করেছেন নতুন সিনেমা ‘জীবন অপেরা’র শুটিং। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন আলভী আহমেদ। যদিও প্রযোজনা বা পরিচালনা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এখনো সিনেমাটি নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি, মিম নিজেই শুটিং শেষ করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এমআই/এলআইএ
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার সঙ্গে প্রতিশোধের কোনো সম্পর্ক নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। সেই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, সরকার এ রায়কে স্বাগত জানায় এবং তারা সমাজে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চান। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে আদালতের মৃত্যুদণ্ডের আদেশের বিষয়ে সরকারের বক্তব্য জানতে চাইলে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আমাদের সরকারের কিছু বলার নেই। এই মামলায় নিশ্চিতভাবেই আমাদের যারা প্রসিকিউশন টিম আছেন, তারা কাজ করছেন।’ ‘আমরা জনগণ। সুতরাং আমরা যেটা দেখতে চাই, অনেকে বলেন, ফাঁসির রায় দেখে আমরা ভীষণ খুশি হয়ে গেছি। কারও ফাঁসির রায় দেখে ভীষণ খুশি হওয়ার চেয়ে যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, সেটা হলো আমরা আমাদের সমাজে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছি কি না,’ যোগ করেন তিনি। অভিযুক্তরা দেশে থাকলে তারা তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে আদালতে অবস্থান তুলে ধরতে পারতেন বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘তারা যেহেতু ছিলেন না, থাকলে আরও ভালো হতো, তারা এগুলো কনটেস্ট করতেন। সেটার ভিত্তিতে আমরা বিশ্বাস করি বা ধারণা করি যে, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া সম্ভব।’ তিনি জানান, এসব শাস্তিকে সরকার স্বাগত জানায়। তবে এর সঙ্গে প্রতিশোধস্পৃহার কোনো সম্পর্ক নেই। ‘আমরা আমাদের সমাজে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চাই। আমরা মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাপত্রে বলেছিলাম- আমরা সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চাই। সেটা নিশ্চিত হচ্ছে কি না, আমরা সেটা দেখতে চাই,’ বলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। আরও পড়ুন মানবতাবিরোধী অপরাধ / ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ড গ্রামীণ কল্যাণের কর মামলায় সরকারের হস্তক্ষেপ নেই গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকার করের বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশ এবং এ নিয়ে করা রিটের প্রসঙ্গেও সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, বিষয়টি আদালতের এবং এ ক্ষেত্রে সরকারের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। তিনি জানান, কর মওকুফের বিষয়ে আদালতের রায় কী হয়েছিল এবং কেন তা তখন কার্যকর হয়নি এ নিয়ে কিছুটা ভুল ধারণা ছিল। এখন বিষয়টি বিস্তারিতভাবে অনেকের সামনে এসেছে। আদালতের রায় অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ওই কর দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, তারা নিজেরাই বাদী হয়ে এই কর দিতে চাননি। সরকারের এখানে আসলে কিছু করার নেই। কারণ এখন যে মামলা, তার গতিতে চলবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট পক্ষ আপিল বিভাগে যেতে পারে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, তারা সেখানে নিজেদের অবস্থান টিকিয়ে রাখতে না পারলে কর পরিশোধ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বা অন্য কারও প্রতি সরকারের অনুরাগ বা বিরাগের প্রশ্ন নেই বলেও স্পষ্ট করেন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘এটি বিচার বিভাগের ব্যাপার। আমরা বিশ্বাস করি এবং আপনারা অনেক ক্ষেত্রেই দেখবেন যে, বিচার বিভাগ তার স্বাধীনভাবে যে দায়িত্ব পালন করার কথা, সেটা তারা করছেন।’ আরও পড়ুন রায় বহাল / ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতেই হবে মালয়েশিয়া নির্ধারিত ২৫ এজেন্সির বিষয়ে সরকারের ক্ষমতা নেই সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়া-সংশ্লিষ্ট একটি সিন্ডিকেটে ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও কথা বলেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, ২৫টি প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের ক্ষমতা বাংলাদেশ সরকারের হাতে নেই। মালয়েশিয়া সরকারই এই সংখ্যা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান নির্ধারণ করে। ‘এই যে ২৫ সংখ্যাটা আছে, এটা সিলেক্ট করার কোনো ক্ষমতা আমাদের সরকারের নেই। এটা আসলে মালয়েশিয়ান সরকার ডিসাইড করে। এখন এটা দিয়ে কোনো সমস্যা থাকবে কি না, কতটুকু হবে, সেটা অনেকখানি আমাদের হাতে নেই,’ বলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তবে বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ যতটা সম্ভব নিশ্চিত করতে ওই ২৫ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অন্যদের সহযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি আরও জানান, আলোচনার মাধ্যমে মালয়েশিয়া থেকে নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অন্যদের যুক্ত করা হয়েছে, যাতে বাংলাদেশ থেকেও অন্তত একটি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়। প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা আশা করি, যারা ২৫ প্রতিষ্ঠান আছেন, তারা নিশ্চয়ই বুঝবেন যে, আগের রেজিম নেই এবং এই সরকারের সঙ্গে কীভাবে কাজ করতে হবে। আমরা একটা বেটার রেজাল্ট আশা করছি। এমএএস/একিউএফ