চলতি বছর গ্রীষ্মে ইউরোপীয় ইউনিয়নে এক হাজার ৭৫০টিরও বেশি দাবানল লেগেছে। আর প্রতি গ্রীষ্মেই যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া প্রস্তুত হয় দাবানলের মৌসুমের জন্য। তবে আজকাল সেখানে দাবানল ঠেকাতে ব্যবহার করা হচ্ছে ছাগল। কিন্তু ছাগল কি সত্যিই দাবানল প্রতিরোধে সাহায্য করে?
আসলে আমরা যেভাবে ভাবছি, ছাগল সেভাবে সরাসরি আগুন নেভাতে কোনো সাহায্য করে না। তবে সঠিকভাবে ছাগলের পাল ব্যবহার করলে দাবানলের তীব্রতা ও ছড়ানোর ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। বিভিন্ন গবেষণা ও অগ্নিনির্বাপণ সংস্থাগুলো আসলে কী বলছে এই বিষয়ে?
ফ্রান্স ও স্পেনের বিশাল দাবানল নেভাতে অগ্নিনির্বাপণকর্মীরা বিমান খুঁজে পাচ্ছেন না। এমন সময় জলবায়ুর এই সংকট মোকাবিলায় অভিনব এক সমাধান হয়ে দাঁড়িয়েছে ছাগল ও ভেড়ার দল। শুনতে অবাক লাগলেও ভবিষ্যতে দাবানল ঠেকানোর কাজটা কিন্তু নির্ভর করছে পর্যাপ্ত ছাগল পাওয়ার ওপর।
বনে বা ঝোপঝাড়ের শুকনা পাতা ও গাছপালা খেয়ে অগ্নিনিরোধক পথ বা ‘ফায়ারব্রেক’ তৈরি করতে তৃণভোজী প্রাণীদের এই ব্যবহার এখন ইউরোপজুড়ে বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে। ইউরোপীয় কমিশন ও কৃষকদের বড় বড় সংগঠনগুলোও আনুষ্ঠানিকভাবে এই ধারণাকে মেনে নিয়েছে। স্পেনের বিভিন্ন অঞ্চলে ছাগল ও ভেড়ারা বনের ছোট ছোট ঝোপঝাড় খেয়ে ফেলায় সেখানে আগুন বেশি দূর ছড়াতে পারেনি।

উপায়টি খুব জটিল প্রযুক্তিনির্ভর না হলেও এতে কিছুটা খরচ আছে। মেষপালকদের এই কাজে টিকিয়ে রাখতে সরকারি সাহায্যের দরকার পড়ে। তবে অগ্নিনির্বাপণ বিশেষজ্ঞদের মতে বড় সমস্যা অন্য জায়গায়। নেতারা আগুন লাগার পর তা নেভাতে যত টাকা ঢালেন, আগুন যাতে না লাগে সেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থায় ততটা বরাদ্দ দেন না।
স্পেনের দাবানল গবেষণাকারী সংস্থা ‘পাউ কোস্টা ফাউন্ডেশন’-এর প্রধান জর্দি ভেন্ড্রেল। তিনি জানান, অগ্নিনির্বাপণকর্মীদের মতো মেষপালকদের কাজের গুরুত্বও আমাদের সমানভাবে বোঝা দরকার।
এদিকে ফ্রান্সে দাবানল বাড়ায় কৃষকেরা নিজেদের পানির ট্যাংক নিয়ে অগ্নিনির্বাপণকর্মীদের সঙ্গে আগুন নেভানোর কাজে নেমে পড়েছেন। তবে গ্রামে কৃষকের সংখ্যা দিন দিন কমে যাওয়াও এক বড় সংকট।
মানুষ যখন চাষাবাদ ছেড়ে দেয়, তখন সেই পরিত্যক্ত জমিতে ঘাস ও ঝোপঝাড় জমে শুকিয়ে কাঠ হয়ে যায়। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার কৃত্রিম উপগ্রহ ‘কোপার্নিকাস’ দেখিয়েছে, বর্তমানে ইউরোপের যেসব জায়গায় বড় দাবানল ছড়াচ্ছে, সেগুলো মূলত এই ধরনের ঝোপঝাড় আর পরিত্যক্ত বনভূমির অংশ।
বনে ছাগল বা গবাদিপশু চরানোর জন্য পর্যাপ্ত চারণভূমি থাকলেও রাখালদের জন্য অর্থনৈতিক লাভ খুব একটা নেই। লাভজনক না হলে তরুণেরা ছাগল পালনে উৎসাহ পাবে না। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পেশাকে টিকিয়ে রাখতে এবং দাবানলপ্রবণ এলাকা সুরক্ষায় রাখালদের বিশেষ সরকারি তহবিল বা আর্থিক সহায়তা দেওয়া জরুরি।

কাতালুনিয়ার ‘ফায়ার ফ্লকস’ প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারি সহায়তায় ছাগল ও ভেড়ার পালকে বনের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। এই পশুগুলো বনের ছোট ছোট ঝোপঝাড় খেয়ে আগুন ছড়ানোর সুযোগ কমিয়ে দেয়। আবার এসব পশুর দুধ দিয়ে তৈরি পনির ও দই বাজারে বিশেষ লেবেল লাগিয়ে বিক্রি করা হয়, যাতে সাধারণ মানুষও এই উদ্যোগে উৎসাহিত হন। স্পেনের ‘কুসো’ এলাকায় এই কাজের জন্য ব্যবহৃত গরুর মাংসের চাহিদাও এখন সবচেয়ে বেশি।
একসময় বনের আশপাশের জমি অর্থনৈতিক কাজে ব্যবহার করা হতো। কিন্তু এখন তা কমে যাওয়ায় বনের যত্ন নেওয়ার মানুষ নেই। অথচ গবাদিপশু চরানোর মাধ্যমে পরিবেশদূষণ না করেই দাবানল প্রতিরোধ করা সম্ভব।
স্পেনের মাদ্রিদে সম্প্রতি ২৭ হাজার হেক্টর বন পুড়ে যাওয়ার পর সরকার মাত্র ৩ হাজার ৭০০ হেক্টর বনে ছাগল চরানোর পরিকল্পনা নিয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। গবেষকেরা মনে করেন, শুধু ছাগল চরানোই একমাত্র সমাধান নয়। তবে একে বাদ দিয়েও উপায় নেই। কারণ, চারণকারী প্রাণী না থাকলে বনের ঝোপঝাড় বারবার গজিয়ে উঠতেই থাকবে। নেতাদের উচিত কেবল আগুন লাগলে নেভানোর কথা না ভেবে, আগে থেকেই পুরো বনাঞ্চলকে সঠিকভাবে চারণভূমির মাধ্যমে সুরক্ষিত রাখা।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
চলতি বছর গ্রীষ্মে ইউরোপীয় ইউনিয়নে এক হাজার ৭৫০টিরও বেশি দাবানল লেগেছে। আর প্রতি গ্রীষ্মেই যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া প্রস্তুত হয় দাবানলের মৌসুমের জন্য। তবে আজকাল সেখানে দাবানল ঠেকাতে ব্যবহার করা হচ্ছে ছাগল। কিন্তু ছাগল কি সত্যিই দাবানল প্রতিরোধে সাহায্য করে?আসলে আমরা যেভাবে ভাবছি, ছাগল সেভাবে সরাসরি আগুন নেভাতে কোনো সাহায্য করে না। তবে সঠিকভাবে ছাগলের পাল ব্যবহার করলে দাবানলের তীব্রতা ও ছড়ানোর ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। বিভিন্ন গবেষণা ও অগ্নিনির্বাপণ সংস্থাগুলো আসলে কী বলছে এই বিষয়ে?ফ্রান্স ও স্পেনের বিশাল দাবানল নেভাতে অগ্নিনির্বাপণকর্মীরা বিমান খুঁজে পাচ্ছেন না। এমন সময় জলবায়ুর এই সংকট মোকাবিলায় অভিনব এক সমাধান হয়ে দাঁড়িয়েছে ছাগল ও ভেড়ার দল। শুনতে অবাক লাগলেও ভবিষ্যতে দাবানল ঠেকানোর কাজটা কিন্তু নির্ভর করছে পর্যাপ্ত ছাগল পাওয়ার ওপর।বিশ্বজুড়ে ২০২৬, কিন্তু ইথিওপিয়ায় কেন ২০১৯ সালের নববর্ষ উদ্যাপন করা হচ্ছেবনে বা ঝোপঝাড়ের শুকনা পাতা ও গাছপালা খেয়ে অগ্নিনিরোধক পথ বা ‘ফায়ারব্রেক’ তৈরি করতে তৃণভোজী প্রাণীদের এই ব্যবহার এখন ইউরোপজুড়ে বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে। ইউরোপীয় কমিশন ও কৃষকদের বড় বড় সংগঠনগুলোও আনুষ্ঠানিকভাবে এই ধারণাকে মেনে নিয়েছে। স্পেনের বিভিন্ন অঞ্চলে ছাগল ও ভেড়ারা বনের ছোট ছোট ঝোপঝাড় খেয়ে ফেলায় সেখানে আগুন বেশি দূর ছড়াতে পারেনি।অগ্নিনির্বাপণকর্মীদের মতো মেষপালকদের কাজের গুরুত্বও আমাদের সমানভাবে বোঝা দরকারউপায়টি খুব জটিল প্রযুক্তিনির্ভর না হলেও এতে কিছুটা খরচ আছে। মেষপালকদের এই কাজে টিকিয়ে রাখতে সরকারি সাহায্যের দরকার পড়ে। তবে অগ্নিনির্বাপণ বিশেষজ্ঞদের মতে বড় সমস্যা অন্য জায়গায়। নেতারা আগুন লাগার পর তা নেভাতে যত টাকা ঢালেন, আগুন যাতে না লাগে সেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থায় ততটা বরাদ্দ দেন না।স্পেনের দাবানল গবেষণাকারী সংস্থা ‘পাউ কোস্টা ফাউন্ডেশন’-এর প্রধান জর্দি ভেন্ড্রেল। তিনি জানান, অগ্নিনির্বাপণকর্মীদের মতো মেষপালকদের কাজের গুরুত্বও আমাদের সমানভাবে বোঝা দরকার।এদিকে ফ্রান্সে দাবানল বাড়ায় কৃষকেরা নিজেদের পানির ট্যাংক নিয়ে অগ্নিনির্বাপণকর্মীদের সঙ্গে আগুন নেভানোর কাজে নেমে পড়েছেন। তবে গ্রামে কৃষকের সংখ্যা দিন দিন কমে যাওয়াও এক বড় সংকট।ইনানী জাতীয় উদ্যানে যেভাবে মেঘলা চিতার দেখা মিললবিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে জ্বলছে দাবানল। ধোঁয়ায় ঢেকেছে আকাশ। সড়ক দিয়ে এগিয়ে চলেছে একটি গাড়ি। গতকাল স্পেনের আলমেরিয়া অঞ্চলেমানুষ যখন চাষাবাদ ছেড়ে দেয়, তখন সেই পরিত্যক্ত জমিতে ঘাস ও ঝোপঝাড় জমে শুকিয়ে কাঠ হয়ে যায়। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার কৃত্রিম উপগ্রহ ‘কোপার্নিকাস’ দেখিয়েছে, বর্তমানে ইউরোপের যেসব জায়গায় বড় দাবানল ছড়াচ্ছে, সেগুলো মূলত এই ধরনের ঝোপঝাড় আর পরিত্যক্ত বনভূমির অংশ।বনে ছাগল বা গবাদিপশু চরানোর জন্য পর্যাপ্ত চারণভূমি থাকলেও রাখালদের জন্য অর্থনৈতিক লাভ খুব একটা নেই। লাভজনক না হলে তরুণেরা ছাগল পালনে উৎসাহ পাবে না। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পেশাকে টিকিয়ে রাখতে এবং দাবানলপ্রবণ এলাকা সুরক্ষায় রাখালদের বিশেষ সরকারি তহবিল বা আর্থিক সহায়তা দেওয়া জরুরি।বনে বা ঝোপঝাড়ের শুকনা পাতা ও গাছপালা খেয়ে অগ্নিনিরোধক পথ বা ‘ফায়ারব্রেক’ তৈরি করতে তৃণভোজী প্রাণীদের এই ব্যবহার এখন ইউরোপজুড়ে বেশ জনপ্রিয় হচ্ছেকাতালুনিয়ার ‘ফায়ার ফ্লকস’ প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারি সহায়তায় ছাগল ও ভেড়ার পালকে বনের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। এই পশুগুলো বনের ছোট ছোট ঝোপঝাড় খেয়ে আগুন ছড়ানোর সুযোগ কমিয়ে দেয়। আবার এসব পশুর দুধ দিয়ে তৈরি পনির ও দই বাজারে বিশেষ লেবেল লাগিয়ে বিক্রি করা হয়, যাতে সাধারণ মানুষও এই উদ্যোগে উৎসাহিত হন। স্পেনের ‘কুসো’ এলাকায় এই কাজের জন্য ব্যবহৃত গরুর মাংসের চাহিদাও এখন সবচেয়ে বেশি।একসময় বনের আশপাশের জমি অর্থনৈতিক কাজে ব্যবহার করা হতো। কিন্তু এখন তা কমে যাওয়ায় বনের যত্ন নেওয়ার মানুষ নেই। অথচ গবাদিপশু চরানোর মাধ্যমে পরিবেশদূষণ না করেই দাবানল প্রতিরোধ করা সম্ভব।স্পেনের মাদ্রিদে সম্প্রতি ২৭ হাজার হেক্টর বন পুড়ে যাওয়ার পর সরকার মাত্র ৩ হাজার ৭০০ হেক্টর বনে ছাগল চরানোর পরিকল্পনা নিয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। গবেষকেরা মনে করেন, শুধু ছাগল চরানোই একমাত্র সমাধান নয়। তবে একে বাদ দিয়েও উপায় নেই। কারণ, চারণকারী প্রাণী না থাকলে বনের ঝোপঝাড় বারবার গজিয়ে উঠতেই থাকবে। নেতাদের উচিত কেবল আগুন লাগলে নেভানোর কথা না ভেবে, আগে থেকেই পুরো বনাঞ্চলকে সঠিকভাবে চারণভূমির মাধ্যমে সুরক্ষিত রাখা।সূত্র: ইউরো পলিটিকো, ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকআবার ফিরছে সিডি ও ক্যাসেট, কারণ কী
নুরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, সুইডেন সুইডেনের জাতীয় নির্বাচনে এক আসনের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে বর্তমান পার্লামেন্টের বিরোধীদল তথা মধ্য-বাম জোট। দেশটির ৩৪৯ আসনের পার্লামেন্টে জোটটি ১৭৫টি আসন পেতে পারে বলে প্রাথমিক ভোট গণনায় দেখা গেছে। বিপরীতে ক্ষমতাসীন ডানপন্থি জোট পেতে পারে ১৭৪টি আসন। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ভোট গণনায় দেশটির ৬ হাজার ৩১২টি নির্বাচনি এলাকার মধ্যে ৪ হাজার ৮৫৩টির ফল গণনার পর এ হিসাব পাওয়া গেছে। এর আগে সুইডিশ পাবলিক ব্রডকাস্টা টেলিভিশন এসভিটি’র এক্সিট পোলেও মধ্য-বাম জোটকে এগিয়ে রাখা হয়। এতে চারটি দল মিলিয়ে জোটটির ভোট ৫১ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ক্ষমতাসীন জোটের ভোট ৪৬ দশমিক ৮ শতাংশ দেখানো হয়। এই জরিপে ভোটকেন্দ্রের বাইরে ১৩ হাজার ৭০৯ জন ভোটারের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। অন্যদিকে, টিভি৪-এর এক্সিট পোলে মধ্য-বাম জোট ৫১ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ক্ষমতাসীন জোট ৪৭ শতাংশ ভোট পেতে পারে বলে ধারণা করা হয়। আরও পড়ুন এটিএমে পড়ে থাকা ১৯০০ ক্রোনা নিয়ে ৫২ হাজার ক্রোনা জরিমানা তবে ভোট গণনার সময় দুই জোটের ব্যবধান ছিল খুবই কম। প্রায় অর্ধেক ভোট গণনার সময় এসভিটি’র হিসাবে বিরোধী জোটের ভোট ছিল ৪৯ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ক্ষমতাসীন জোটের ৪৯ দশমিক ২ শতাংশ। দুই পক্ষের ভোটের ব্যবধান ছিল প্রায় ২০ হাজার। দলভিত্তিক এক্সিট পোলের হিসাবে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি পেয়েছে ২৮ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট। দলটির নেতা ম্যাগদেলিনা অ্যান্ডারসন ২০২১ সালে সুইডেনের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন। প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, ক্ষমতাসীন জোটের মডারেট পার্টি পেয়েছে ১৮ দশমিক ১ শতাংশ এবং সুইডেন ডেমোক্র্যাটস পেয়েছে ১৭ দশমিক ২ শতাংশ ভোট। ২০২২ সালের নির্বাচনে সুইডেন ডেমোক্র্যাটসের ভোট ছিল ২০ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০১০ সালে পার্লামেন্টে প্রবেশের পর এবারই প্রথম দলটির ভোটের হার কমার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। গত চার বছর ধরে উলফ ক্রিস্টেরসনের সরকারের বাইরে থেকে সমর্থন দিয়ে আসছিল সুইডেন ডেমোক্র্যাটস। নির্বাচনের আগে দলটির নেতা জিমি অকেসন সরকারে মন্ত্রী হওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছিলেন। এক্সিট পোল অনুযায়ী, লিবারেল পার্টি পেয়েছে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট। সুইডেনের পার্লামেন্টে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় ৪ শতাংশ ভোটের সীমা এবার পার করতে পারে দলটি। এছাড়া সেন্টার পার্টি ৭ দশমিক ৫ শতাংশ, লেফট পার্টি ৮ শতাংশ, গ্রিন পার্টি ৭ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ক্রিস্টিয়ান ডেমোক্র্যাটস ৬ দশমিক ১ শতাংশ ভোট পেতে পারে বলে এক্সিট পোলে উঠে এসেছে। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর গ্রিন পার্টির ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য অ্যালিস বাহ কুনকে বলেন, সুইডিশ জনগণ তাদের বার্তা দিয়েছে এবং তারা ‘টিডো’ নিয়ে ক্লান্ত। ‘টিডো’ হলো বর্তমান সরকারের সঙ্গে সুইডেন ডেমোক্র্যাটসসহ সংশ্লিষ্ট দলগুলোর সহযোগিতার রাজনৈতিক চুক্তি। স্টকহোম ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক টমি মোলার সুইডিশ সংবাদ সংস্থা টিটি’র কাছে বলেন, দুই সম্ভাব্য সরকার গঠনের পথের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। এক্সিট পোলের ফল আগের জরিপগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে পরিস্থিতি বেশ স্পষ্ট বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে ম্যাগদেলিনা অ্যান্ডারসনকে লেফট পার্টি ও সেন্টার পার্টিসহ সম্ভাব্য সমর্থনকারী দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতায় যেতে হতে পারে। নির্বাচনি প্রচারে জাতীয় নিরাপত্তা, গ্যাং অপরাধ, অভিবাসন ও কল্যাণব্যবস্থায় ব্যয় ছিল গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। সব ভোট গণনা এবং আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর সুইডেনের নির্বাচন কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করবে। এমআরএম
জার্মানিতে কট্টর ডানপন্থি অলটারনেটিভ ফর জার্মানির (এএফডি) উত্থান নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই এবার রাজপথে নেমেছেন লাখো মানুষ। সম্প্রতি দলটির নির্বাচনি সাফল্যের পর এএফডিকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। গত শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দেশটির রাজধানী বার্লিন, হামবুর্গ ও মিউনিখসহ জার্মানির প্রায় ২০টি শহরে বিক্ষোভ করেন মানুষ। আয়োজকদের হিসাবে, এসব কর্মসূচিতে প্রায় দেড় লাখ মানুষ অংশ নেন। এএফডিকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে এসব বিক্ষোভের আয়োজন করে অভিযান পরিচালনাকারী সংগঠন প্রুফ। বিক্ষোভকারীদের হাতে ছিল নানা ধরনের প্ল্যাকার্ড। কোনোটিতে লেখা ছিল, ‘এএফডিকে এখনই নিষিদ্ধ করুন’। আবার কোনোটিতে ছিল, ‘গণতন্ত্রের কোনো বিকল্প নেই’। আরও পড়ুন জার্মান চ্যান্সেলরের বিরুদ্ধে মামলা নাগরিক অধিকার ও বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে জনমত তৈরিতে কাজ করা সংগঠন ক্যাম্প্যাক্টও বিক্ষোভে অংশ নেয়। সংগঠনটির প্রধান ক্রিস্টফ বাউৎস বলেন, সংবিধানের শত্রুদের সরকার পরিচালনার ক্ষমতায় যাওয়া ঠেকাতে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ রাজপথে নেমেছেন। ক্যাম্প্যাক্টের হিসাবে, হামবুর্গে প্রায় ২৫ হাজার এবং মিউনিখে ১২ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। বার্লিনেও কয়েক হাজার মানুষ আলাদা কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে, বার্লিনে এএফডিও পাল্টা সমাবেশ করেছে। এতে এএফডির বার্লিন রাজ্য শাখার নেত্রী ও আসন্ন আঞ্চলিক নির্বাচনে দলটির প্রধান প্রার্থী ক্রিস্টিন ব্রিঙ্কার অংশ নেন। আরও পড়ুন জার্মানিতে কট্টর ডানপন্থিদের উত্থান, অভিবাসন নিয়ে বড় বার্তা গত ৬ সেপ্টেম্বর পূর্ব জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের নির্বাচনে এএফডি প্রায় ৪৪ শতাংশ ভোট পায়। দলটি চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের নেতৃত্বাধীন ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন বা সিডিইউকে বড় ব্যবধানে পেছনে ফেলে। সিডিইউ পেয়েছে প্রায় ১৭ শতাংশ ভোট। এ নির্বাচনে এএফডির এই সাফল্যের পরই দলটির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ আরও জোরালো হয়েছে। নির্বাচনটির আগে এএফডির ‘রিমিগ্রেশন’ নীতি নিয়েও জার্মানিতে বিতর্ক তৈরি হয়। গত বুধবার জার্মান পার্লামেন্ট বুন্ডেস্টাগে অভিবাসন নিয়ে বিতর্কের সময় চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ এ নীতির সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বংশপরিচয় বা গায়ের রঙের ভিত্তিতে মানুষকে জার্মানি থেকে বের করে দেওয়ার কথা এএফডির নীতিতে বলা হচ্ছে। তার মতে, এ ধরনের নীতি ‘জাতিগত নিধনের’ সমান। এর জেরে মের্জের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ করে এএফডি। আরও পড়ুন জার্মানিতে কট্টরপন্থিদের উত্থানে ‘হৃদয় রক্তাক্ত’ মেরকেলের এদিকে, অভিবাসনবিরোধী অবস্থানের পাশাপাশি এএফডির রাশিয়ার প্রতিও তুলনামূলক বন্ধুত্বপূর্ণ অবস্থান রয়েছে। স্যাক্সনি-আনহাল্টের নির্বাচনে দলটি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। ৮৩ আসনের রাজ্য পার্লামেন্টে এএফডি ৩৯টি আসন পেতে পারে। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য দলটির আরও তিনটি আসন প্রয়োজন। এএফডির এ ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তায় জার্মানির অনেক মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে, দেশটির নাৎসি অতীতের কারণে দলটির উত্থান নিয়ে আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে। এর মধ্যেই এএফডিকে নিষিদ্ধ করার দাবিও জোরালো হচ্ছে। তবে, জার্মানিতে কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়া আইনগতভাবে খুবই জটিল। সূত্র: আল-জাজিরা এমডিআরএইচ/