বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরুল বাড্ডা ক্যাম্পাসে আয়োজিত এ সেমিনারের শিরোনাম ছিল ‘বিদ্যুৎ, জ্বালানি পরিস্থিতি ও উত্তরণের পথ’।
সেমিনারটির আয়োজক ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর এনার্জি অ্যান্ড লজিস্টিকস (সিইএল)। এতে অংশ নেন নীতিনির্ধারক, জ্বালানিবিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদেরা। তাঁরা দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সিইএলের অ্যাডভাইজরি কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য সুলতান হাফিজ রহমান। তিনি সত্তরের দশকের বৈশ্বিক তেলসংকটের পর থেকে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের পরিবর্তিত বাস্তবতার কথা তুলে ধরেন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের বাংলাদেশবিষয়ক প্রধান জ্বালানিবিশ্লেষক শফিকুল আলম। তিনি বলেন, আমদানিনির্ভর ও ডলারে মূল্য নির্ধারিত জীবাশ্ম জ্বালানি বর্তমানে দেশের জ্বালানি খাতের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ। এ ছাড়া তিনি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ এবং জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা ও গুরুত্ব তুলে ধরেন।
দ্বিতীয় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কনটেইনার কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহামেদুল করিম চৌধুরী। তিনি জ্বালানিনিরাপত্তাকে একটি লজিস্টিকস চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরেন এবং উৎপাদক থেকে ভোক্তার কাছে জ্বালানি পৌঁছে দেওয়ার পুরো ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করেন।
পরে ছয়জন আলোচকের অংশগ্রহণে একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক এবং সিইএলের অ্যাডভাইজরি কাউন্সিলের সদস্য আবদুল হাসিব চৌধুরী বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।
এমজেএল বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং সিইএলের অ্যাডভাইজরি কাউন্সিলের সদস্য আজম জে চৌধুরী বর্তমান সংকট মোকাবিলা এবং সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর দ্রুত সংস্কার বিষয়ে কথা বলেন।
এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) সিনিয়র এনার্জি অ্যাডভাইজার সিদ্দিক জোবায়ের বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের উন্নয়ন, গ্যাস অনুসন্ধান ও কয়লাভিত্তিক জ্বালানি উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেন।
অনলাইনে যুক্ত হয়ে দেশের বিদ্যুৎ–ঘাটতি এবং সমন্বিত জ্বালানি পরিকল্পনার অভাব নিয়ে বক্তব্য দেন ওফানিক্স অ্যানালিটিকসের অ্যাক্টিং চিফ টেকনোলজি অফিসার এবং সিইএল ফেলো ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর এনার্জি রিসার্চের ডিরেক্টর শাহরিয়ার আহমেদ চৌধুরী নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেন।
ব্র্যাক বিজনেস স্কুলের প্রফেসর এবং সিইএল ফেলো সেবাস্টিয়ান গ্রোহ দেশের প্রায় ৬০ লাখ বৈদ্যুতিক তিন চাকার যানবাহনকে কীভাবে সম্ভাবনাময় বিদ্যুৎ সম্পদ হিসেবে গড় তোলা যায়, সে বিষয়ে বক্তব্য দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি মাতারবাড়ীতে স্থলভিত্তিক রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট স্থাপন এবং সমুদ্রের গ্যাস ব্লকে অনুসন্ধান কার্যক্রমসহ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর আরশাদ মাহমুদ চৌধুরী ও সিইএলের ডিরেক্টর মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর এবং সাবেক উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ট্রেজারার আরিফুল ইসলাম এবং ব্র্যাক বিজনেস স্কুলের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ মুজিবুল হক।
এই সেমিনার জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির অঙ্গীকারকে আরও এগিয়ে নিয়েছে। বিশেষ করে এসডিজি-৭ (সাশ্রয়ী ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি) এবং এসডিজি-৯ (শিল্প, উদ্ভাবন ও অবকাঠামো) অর্জনের সঙ্গে এই উদ্যোগ সরাসরি সম্পৃক্ত বলে জানান আয়োজকেরা।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
আজও ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে অবস্থান নিয়েছেন সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা। তবে দেখা যায়নি ব্যাংকটির চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাদের। এর আগে টানা দুই দিন রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির প্রধান কার্যালয়ের সামনে মুখোমুখি অবস্থান নেন সচেতন গ্রাহক ফোরাম ও চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তবে সোমবার অবস্থানের দ্বিতীয় দিন গ্রাহক ফোরামের ওপর হামলা চালান চাকরিচ্যুত ব্যাংক কর্মকর্তারা। এতে পাঁচজন গুরুতরসহ গ্রাহক ফোরামের মোট ৩০ জন সদস্য আহত হন। অন্যদিকে চাকরিচ্যুত ব্যাংক কর্মকর্তাদেরও ২৫ জন আহত হন বলে দাবি করা হয়। আরও পড়ুন মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের সামনে দুই পক্ষের সংঘর্ষ প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবার সকাল থেকেই মতিঝিল দিলকুশা এলাকায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের আশপাশে অবস্থান নেন সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা। পরে মিছিল সহকারে সকাল ১০টায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে অবস্থান নেন তারা। তবে মতিঝিল দিলকুশা এলাকায় দেখা যায়নি চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাদের। এদিকে যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশসহ গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য এবং ইসলামী ব্যাংকের নিজস্ব সিকিউরিটির সদস্যরা উপস্থিত রয়েছেন। সচেতন গ্রাহক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক নুরুন্নবী মানিক বলেন, ইসলামী ব্যাংককে অস্থিতিশীল করার যে কোনো অশুভ তৎপরতা ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে গ্রাহকরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন। গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। আরও পড়ুন ইসলামী ব্যাংকের সামনে থেকে সরে গেলো দুই পক্ষ, সোমবার ফের অবস্থান তিনি বলেন, ব্যাংকের স্থিতিশীলতা ও গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতে হবে। একই সঙ্গে এস আলম গ্রুপের বিদেশে পাচার করা সম্পদ উদ্ধার ও ব্যাংকের স্বার্থে তা বাজেয়াপ্ত করতে হবে। অবৈধভাবে নেওয়া ঋণ সুবিধার সমন্বয় এবং সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। নুরুন্নবী মানিক আরও বলেন, ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৪(খ) ধারা অনুযায়ী এস আলম গ্রুপের অবৈধভাবে ধারণ করা শেয়ার বাজেয়াপ্ত করে তা বাজারে বিক্রি অথবা প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করতে হবে। এসব দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। ইএআর/ইএ
যুক্তরাষ্ট্রে পরিবেশ সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক চাকরির বাজার, প্রয়োজনীয় দক্ষতা এবং বাংলাদেশের তরুণ সাংবাদিকদের সুযোগ নিয়ে কথা বলেছেন পরিবেশ ও অনুসন্ধানী সাংবাদিক মোছাব্বের হোসেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আবদুর রাজ্জাক সরকার।মোছাব্বের হোসেনের সাংবাদিকতা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি পেয়েছে। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় কাজের জন্য তিনি থমসন ফাউন্ডেশনের ‘সাউথ এশিয়ান ইনকোয়ারার ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন। পরিবেশ ও জলবায়ু সাংবাদিকতায় তিনি হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এইচবিআরআই) স্বীকৃতিও অর্জন করেছেন। পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য ও জনস্বার্থভিত্তিক সাংবাদিকতায় ‘ন্যাশনাল টোব্যাকো কন্ট্রোল অ্যাওয়ার্ড’এবং ‘প্রজ্ঞা টোব্যাকো কন্ট্রোল অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন। প্রথম আলোতেও কাজ করছেন। সেরা কর্মীর স্বীকৃতিও পেয়েছেন। পরবর্তী সময়ে বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মন্টানায় পরিবেশবিজ্ঞান ও ন্যাচারাল রিসোর্স জার্নালিজম নিয়ে উচ্চশিক্ষা নিচ্ছেন।প্রশ্ন: তিস্তার পাড় থেকে আপনার পরিবেশ সাংবাদিকতার যাত্রা কীভাবে শুরু হয়েছিল? প্রথম আলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসে আপনার সাংবাদিকতার দৃষ্টিভঙ্গিতে কী পরিবর্তন এসেছে?মোছাব্বের হোসেন: আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা তিস্তা নদীর কাছাকাছি। ছোটবেলায় খুব কাছ থেকে নদীভাঙন দেখেছি। কয়েক মিনিটের মধ্যে মানুষের জমি ও ঘর নদীতে চলে যেতে দেখেছি। একটি পরিবার যখন সবকিছু হারিয়ে অন্য জায়গায় চলে যায়, সেই দৃশ্য আমাকে খুব নাড়া দিত।সাংবাদিকতায় এসে তিস্তা নিয়ে কাজ করতে গিয়েই পরিবেশবিষয়ক রিপোর্টিংয়ের প্রতি আমার আগ্রহ আরও বাড়ে। পরে প্রথম আলোতে প্রায় এক দশক কাজ করতে গিয়ে বুঝতে পারি, পরিবেশের গল্প শুধু নদী, বন বা প্রকৃতির গল্প নয়। এর সঙ্গে মানুষের জীবন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অর্থনীতি, অভিবাসন ও নীতিনির্ধারণও জড়িত।যুক্তরাষ্ট্রে ইউনিভার্সিটি অব মন্টানায় পড়াশোনা করতে এসে আমার দৃষ্টিভঙ্গি আরও বিস্তৃত হয়েছে। এখানে আমি দেখেছি, পরিবেশ সাংবাদিকতায় বিজ্ঞান, ডেটা, পাবলিক রেকর্ড, গবেষণা ও মানুষের অভিজ্ঞতাকে একসঙ্গে ব্যবহার করা হয়। এখন আমি শুধু একটি সমস্যা কী, সেটিই দেখি না; কেন হচ্ছে, কারা দায়ী, কারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সম্ভাব্য সমাধান কী—এসব বিষয়ও খুঁজে দেখি।প্রশ্ন: বাংলাদেশে পরিবেশ ও জলবায়ু সাংবাদিকতার বর্তমান অবস্থা আপনি কীভাবে দেখেন? এই সাংবাদিকতাকে আরও শক্তিশালী করতে কী করা দরকার?মোছাব্বের হোসেন: বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের দিক থেকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি দেশ। তাই পরিবেশ সাংবাদিকতা এখানে কোনো ছোট বা বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়; এটি মানুষের জীবন ও ভবিষ্যতের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।বাংলাদেশে অনেক ভালো পরিবেশ প্রতিবেদন হচ্ছে। তবে আরও গভীর অনুসন্ধান দরকার। শুধু বন্যা হয়েছে, নদী ভেঙেছে বা তাপমাত্রা বেড়েছে—এতটুকু বললে হবে না। কেন হচ্ছে, কোন নীতি কাজ করছে না, অর্থ কোথায় যাচ্ছে, কারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সমাধান কী হতে পারে—এসব প্রশ্নও করতে হবে।সাংবাদিকদের বিজ্ঞান বোঝা, ডেটা বিশ্লেষণ, পাবলিক ডকুমেন্ট ব্যবহার, গবেষণাপত্র পড়া ও অনুসন্ধানী রিপোর্টিংয়ের দক্ষতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় মানুষের কণ্ঠস্বরকে প্রতিবেদনের কেন্দ্রে আনতে হবে।মোছাব্বের হোসেনপ্রশ্ন: পরিবেশ, জলবায়ু ও বিজ্ঞান সাংবাদিকতায় আন্তর্জাতিক চাকরির বাজার কেমন? বাংলাদেশের তরুণ সাংবাদিকদের জন্য কী ধরনের সুযোগ আছে?মোছাব্বের হোসেন: আন্তর্জাতিকভাবে পরিবেশ, জলবায়ু ও বিজ্ঞান সাংবাদিকতায় সুযোগ আগের তুলনায় বেড়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন এখন বিশ্বজুড়ে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ কারণে সংবাদমাধ্যমের পাশাপাশি অলাভজনক নিউজরুম, বিশেষায়িত পরিবেশ ও বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকাশনা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।ফেলোশিপ, রিপোর্টিং গ্র্যান্ট, প্রশিক্ষণ এবং বিশেষ প্রকল্পে কাজের সুযোগও রয়েছে। তবে প্রতিযোগিতা অনেক বেশি। শুধু সাধারণ রিপোর্টিংয়ের অভিজ্ঞতা থাকলেই যথেষ্ট নয়; একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে বিশেষ দক্ষতা তৈরি করা জরুরি।কেউ পানি, নদী বা জলবায়ু অভিযোজন নিয়ে বিশেষায়িত হতে পারেন। কেউ জ্বালানি, বন, জীববৈচিত্র্য, জনস্বাস্থ্য, কৃষি বা জলবায়ু অর্থনীতি নিয়ে কাজ করতে পারেন।বাংলাদেশি সাংবাদিকদের একটি বড় সুবিধা হলো, আমাদের সামনে জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তব প্রভাবের অনেক শক্তিশালী গল্প রয়েছে। এসব স্থানীয় গল্পকে যদি বিজ্ঞান, তথ্য-উপাত্ত ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে যুক্ত করা যায়, তাহলে আন্তর্জাতিক পাঠকের কাছেও তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানায় চাকরি, পদ ১৪২ প্রশ্ন: আন্তর্জাতিক চাকরি বা ফেলোশিপের জন্য একজন তরুণ সাংবাদিক কীভাবে নিজেকে প্রস্তুত করতে পারেন?মোছাব্বের হোসেন: প্রথম বিষয় হলো একটি শক্তিশালী পোর্টফোলিও তৈরি করা। সাংবাদিককে দেখাতে হবে তিনি কী ধরনের কাজ করেছেন এবং কোন বিষয়ে তাঁর বিশেষ দক্ষতা রয়েছে।দ্বিতীয়ত, ইংরেজিতে লেখা ও যোগাযোগের দক্ষতা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করতে হলে নিজের রিপোর্টিং আইডিয়া, অভিজ্ঞতা ও কাজের গুরুত্ব পরিষ্কারভাবে বোঝাতে জানতে হবে।তৃতীয়ত, ডেটা সাংবাদিকতা, পাবলিক রেকর্ড, অনুসন্ধানী কৌশল ও বিজ্ঞানভিত্তিক রিপোর্টিং শেখা দরকার।চতুর্থত, আন্তর্জাতিক সাংবাদিকতা নেটওয়ার্ক, সম্মেলন ও ফেলোশিপের সঙ্গে যুক্ত হওয়া দরকার। আমি মনে করি, সুযোগ পাওয়ার জন্য শুধু অপেক্ষা করা উচিত নয়। নিয়মিত আবেদন করতে হবে, নিজের কাজ উন্নত করতে হবে এবং প্রত্যাখ্যাত হলেও আবার চেষ্টা করতে হবে।প্রশ্ন: আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম, ফেলোশিপ ও পেশাগত নেটওয়ার্কে কাজ করে আপনি কী শিখেছেন?মোছাব্বের হোসেন: প্রথম আলো আমার সাংবাদিকতার ভিত্তি তৈরি করেছে। সেখানে কাজ করতে গিয়ে মাঠপর্যায়ের রিপোর্টিং, সোর্স তৈরি, মানুষের গল্প শোনা ও জনস্বার্থের বিষয় অনুসন্ধান করার অভিজ্ঞতা হয়েছে।রয়টার্সের জন্য কাজ করার সময় শিখেছি, একটি স্থানীয় ঘটনাকে আন্তর্জাতিক পাঠকের জন্য কীভাবে প্রাসঙ্গিক করে উপস্থাপন করতে হয়।ইনসাইড ক্লাইমেট নিউজে কাজ করার অভিজ্ঞতা আমাকে আরও অনেক কিছু শিখিয়েছে। সেখানে দলগত কাজের ওপর অনেক গুরুত্ব দেওয়া হয়। মন্টানায় দাবানল, খনি, পানি ও অন্যান্য পরিবেশগত বিষয় নিয়ে রিপোর্ট করতে গিয়ে আমি আরও গভীরভাবে বুঝেছি, একটি ভালো পরিবেশ প্রতিবেদনে বিজ্ঞান ও মানুষের গল্প—দুটিই গুরুত্বপূর্ণ।আন্তর্জাতিক ফেলোশিপ ও পেশাগত নেটওয়ার্ক আমাকে এটাও শিখিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন একটি বৈশ্বিক সমস্যা হলেও এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত স্থানীয় মানুষের জীবনেই সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখা যায়।যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশের মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুযোগপ্রশ্ন: তরুণ সাংবাদিকদের জন্য আপনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ কী? নিজের ভবিষ্যৎ কাজকে কোথায় নিয়ে যেতে চান?মোছাব্বের হোসেন: আমি পাঁচটি বিষয়ে গুরুত্ব দিতে বলব—বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান, বিজ্ঞান বোঝার ক্ষমতা, ডেটা ও অনুসন্ধানী দক্ষতা, ইংরেজিতে যোগাযোগ ও পেশাগত নেটওয়ার্ক।আরেকটি বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ—কৌতূহল। একজন পরিবেশ সাংবাদিককে সব সময় প্রশ্ন করতে হবে। একটি নদী কেন শুকিয়ে যাচ্ছে? একটি এলাকায় কেন বারবার দাবানল হচ্ছে? একটি প্রকল্পের পরিবেশগত মূল্য কে দিচ্ছে? জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে কম দায়ী মানুষগুলো কেন অনেক সময় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে?নিজের ক্ষেত্রে আমি বিজ্ঞান, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং মানুষের গল্পকে আরও শক্তভাবে একসঙ্গে আনতে চাই। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিবেশ ও সমাধানমুখী সাংবাদিকতায় আরও কাজ করতে চাই।তিস্তার পাড়ে পরিবেশগত পরিবর্তন খুব কাছ থেকে দেখেছি। এখন যুক্তরাষ্ট্রে এসে একই বৈশ্বিক সমস্যাকে অন্য একটি প্রেক্ষাপটে দেখছি। এই দুই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আমি এমন সাংবাদিকতা করতে চাই, যা শুধু সমস্যা তুলে ধরবে না; বরং সমস্যার কারণ অনুসন্ধান করবে, জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রশ্ন তুলবে এবং সম্ভাব্য সমাধানের দিকগুলোও সামনে আনবে।
তরুণ নাট্যকার ও পরিচালক মারুফ হোসেন সজীব আর নেই। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টার দিকে ইন্তেকাল করেন তিনি (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সজীবের মৃত্যুর খবর জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী মেহজাবিন চৌধুরী। ফেসবুক পোস্টে মেহজাবিন লিখেছেন, ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মারুফ হোসেন সজীব ভাইয়ের সঙ্গে খুব বেশি কাজ করা হয়নি, কিন্তু অনেকবার দেখা হয়েছে। আমি যখন নিয়মিত নাটক করতাম, তখন উনার সঙ্গে দেখা হলেই কত কিছু নিয়ে কথা হতো।’ মেহজাবিন আরও লেখেন, ‘কত পরিকল্পনা, কত আইডিয়া ছিল উনার। আরও কত কিছু করতে চেয়েছিলেন। আল্লাহ যেন সজীব ভাইকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন এবং তার পরিবার ও প্রিয়জনদের এই কঠিন সময় সহ্য করার শক্তি ও সবর দান করেন। সবাই উনার জন্য দোয়া করবেন।’ মঙ্গলবার বাদ জোহর সজীবের জানাজা শেষে রাজধানীর উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টর কবরস্থানে দাফন করা হবে। নির্মাতা আশিকুর রহমান জানিয়েছেন, হৃদরোগের সমস্যায় ভুগছিলেন সজীব। কিছুদিন আগেই চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন তিনি। তবে মঙ্গলবার ভোরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন এই তরুণ নির্মাতা। নাট্যাঙ্গনে নিজের গল্প ও নির্মাণশৈলীর জন্য পরিচিতি পেয়েছিলেন মারুফ হোসেন সজীব। তিনি নিজেই গল্প লিখতেন এবং সেই গল্পের নাটক নির্মাণ করতেন। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বেশ কিছু সম্মাননাও পেয়েছেন তিনি। সজীবের নির্মিত উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘বিলোপ’, ‘বাবুই পাখির বাসা’, ‘রঙিন কাগজ’, ‘আধার’, ‘সিকিউরিটি গার্ল’, ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য’, ‘হাসি’, ‘বিকেল বেলার ছাদ’, ‘দুষ্ট মিষ্টি প্রেম’, ‘আদরের চাঁদ’, ‘জোড়া শালিকের ঘর’, ‘জলকৌড়ি’, ‘দু’জন দুজনার’, ‘বাবলার জাদুর বাক্স’, ‘খুশি’, ‘আজ আকাশে চাঁদ নেই’, ‘কথা বন্ধু’, ‘কাজল চোখের মেয়ে’, ‘আপনারা আমাকে শুনুন’, ‘আজকাল তুমি আমি’, ‘১০০ বিঘা ফুল বাগান’, ‘মুমতা’, ‘মেঘলা’ ও ‘নুসাইবা’। তরুণ এই নির্মাতার অকাল মৃত্যুতে নাট্যাঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এমআই/এমএমএআর