পাবনার ঈশ্বরদী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ইপিজেড) স্থাপিত এসপিএস এগ্রোটেক লিমিটেড পড়েছে শুল্কসংক্রান্ত জটিলতায়। বিদেশি বিনিয়োগের এ কারখানাটি উৎপাদনে যাওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়, যা বহাল রয়েছে প্রায় ১৬ মাস ধরে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কারখানাটিতে ‘ক্রুড রাইস ব্রান অয়েল’ বা ধানের তুষ থেকে তেল উৎপাদন শুরুর পরই রপ্তানি শুল্ক নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। এরপর সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে চিঠি চালাচালি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতার কারণে এটি আর চালু করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি প্রতিষ্ঠানটির।
এখন কারখানা বন্ধ থাকায় শুধু বিনিয়োগকারীই নন, সেই সঙ্গে ৩৫০ জন শ্রমিক, রপ্তানি আয়, বৈদেশিক মুদ্রা এবং সরকারের ভ্যাট-ট্যাক্স আদায়ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এসপিএস এগ্রোটেকের স্বত্বাধিকারী প্রদীপ্ত মজুমদার। তার দাবি, কারখানায় বর্তমানে প্রায় ২০ কোটি টাকার পণ্য পড়ে আছে। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় এসব পণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
কারখানাটি চালু ও রপ্তানির সুযোগ দিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ চেয়ে অর্থমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছে এসপিএস এগ্রোটেক। সম্প্রতি দেওয়া এই আবেদনে ‘দ্য এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন অথরিটি অ্যাক্ট-১৯৮০’-এর ১৫(বি) ধারার আওতায় বিষয়টি নিষ্পত্তির অনুরোধ জানানো হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ে দেওয়া প্রতিষ্ঠানটির আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ঈশ্বরদী ইপিজেডের দ্বিতীয় ফেজের ১৩৩-১৩৬ ও ১৬৩-১৬৬ নম্বর প্লটে বিদেশি বিনিয়োগে কারখানাটি স্থাপন করা হয়। এজন্য ২০২১ সালের ১ এপ্রিল বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) সঙ্গে চুক্তি করে এসপিএস এগ্রোটেক।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, চুক্তি সম্পাদনের সময় ক্রুড রাইস ব্রান অয়েল বাংলাদেশ থেকে রপ্তানিতে কোনো শুল্ক ছিল না। সেই হিসাবেই বিনিয়োগ ও কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও বৈধ কাগজপত্র সংগ্রহের পর ২০২৫ সালের ১২ এপ্রিল উৎপাদন শুরু হয়। তবে রপ্তানি কার্যক্রমে শুল্কসংক্রান্ত জটিলতা দেখা দেওয়ার পর ১৭ এপ্রিল কারখানাটি বন্ধ হয়ে যায় বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে ২০২৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) অপরিশোধিত ও পরিশোধিত ক্রুড রাইস ব্রান অয়েল রপ্তানিতে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। পরে ১৭ সেপ্টেম্বর তা কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয় বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এরপর ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট-পরবর্তী বাংলাদেশ কাস্টমস ট্যারিফে ক্রুড রাইস ব্রান অয়েল রপ্তানিতে ২৫ শতাংশ কাস্টমস ডিউটি আরোপ করা হয়। একই সঙ্গে গত ৮ জুন জারি করা এসআরও নম্বর-১৭৭ অনুযায়ী এ পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ রেগুলেটরি ডিউটি আরোপ করা হয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এসপিএস এগ্রোটেকের দাবি, এসব শুল্ক ইপিজেডের বাইরের প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য হলেও ইপিজেডভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বিষয়টি আইনগতভাবে কীভাবে প্রযোজ্য হবে, সেটিই মূল জটিলতা।
শুল্ক জটিলতা সমাধানে বিষয়টি সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে গড়ালেও এখনো স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২৫ সালের ২ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের বিনিয়োগ সমন্বয় কমিটির ষষ্ঠ সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।
সভার সিদ্ধান্তে বলা হয়, ইপিজেডে উৎপাদিত ক্রুড রাইস ব্রান অয়েল রপ্তানির ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের বিষয়টি যুক্তিযুক্ত কি না, তা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বেপজা দ্বিপক্ষীয় সভার মাধ্যমে সমাধান করবে। এর ধারাবাহিকতায় ২৩ ডিসেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বেপজার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সভা হয়। সভার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে বিষয়টি ‘দ্য এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন অথরিটি অ্যাক্ট-১৯৮০’-এর ১৫(বি) ধারার আওতায় নিষ্পত্তির জন্য অনুরোধ জানানো হয়।
এর তিন মাস পর ৮ এপ্রিল এনবিআর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে রাইস ব্রান অয়েল রপ্তানির ক্ষেত্রে রেগুলেটরি ডিউটি আরোপের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট মতামত দিতে অনুরোধ করে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও প্রায় সাড়ে তিন মাস পর ১৯ জুলাই সুস্পষ্ট মতামতসহ একই আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুনরায় চিঠি দেয়। তবে এতসব প্রক্রিয়ার পরও কারখানাটি চালু হয়নি।
অর্থাৎ, কারখানা বন্ধ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে দফায় দফায় আলোচনা ও পত্র যোগাযোগ হলেও দীর্ঘ সময়েও কার্যকর সমাধান না হওয়ায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ প্রতিষ্ঠানটির।
ঈশ্বরদী ইপিজেডের দ্বিতীয় ফেজের ১৩৩-১৩৬ ও ১৬৩-১৬৬ নম্বর প্লটে বিদেশি বিনিয়োগে কারখানাটি স্থাপন করা হয়। এজন্য ২০২১ সালের ১ এপ্রিল বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) সঙ্গে চুক্তি করে এসপিএস এগ্রোটেক।
অর্থ মন্ত্রণালয়ে দেওয়া আবেদনে এসপিএস এগ্রোটেক উল্লেখ করেছে, কারখানাটি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় প্রতিষ্ঠানটি ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে গড়ে ওঠা একটি রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান এভাবে দীর্ঘদিন উৎপাদনের বাইরে থাকায় বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, বাংলাদেশে বছরে সাড়ে চার থেকে পাঁচ কোটি মেট্রিক টন ধান উৎপাদিত হয়। ধানের ৭ থেকে ৮ শতাংশ হিসাবে বছরে ৩২ থেকে ৩৫ লাখ মেট্রিক টন তুষ পাওয়া যায়। কারখানাটিতে বছরে এক লাখ ২০ হাজার থেকে এক লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন তুষ কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, এটি দেশের মোট উৎপাদিত তুষের ৪ থেকে সাড়ে ৪ শতাংশ। ফলে তাদের কারখানায় কাঁচামাল হিসেবে তুষ ব্যবহারের কারণে স্থানীয় বাজারে সংকট তৈরি হবে না বলেও আবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এসপিএস এগ্রোটেকের পক্ষ থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সমাধানের সুপারিশ চাওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, শুল্কসংক্রান্ত জটিলতার কারণে একটি সম্ভাবনাময় রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা শুধু ওই কোম্পানির আর্থিক ক্ষতির বিষয় নয়, এর সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, রপ্তানি আয় ও দেশের শিল্পোন্নয়নের বিষয়ও জড়িত।
তাই ইপিজেডভুক্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত ক্রুড রাইস ব্রান অয়েল রপ্তানিতে শুল্ক আরোপের বিষয়টি বিদ্যমান আইন ও ইপিজেডের নীতিগত সুবিধার আলোকে দ্রুত নিষ্পত্তি করে কারখানাটি পুনরায় চালুর সুযোগ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এ বিষয়ে নিজের ক্ষোভ ও হতাশার কথা তুলে ধরেছেন প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী প্রদীপ্ত মজুমদার। ভারতীয় এই বিনিয়োগকারী জাগো নিউজকে বলেন, কোনো বিদেশি বিনিয়োগকারী বিশ্বের যে কোনো দেশে আইন-কানুন মেনে বিনিয়োগ করার পর তার কারখানা বন্ধ হয়ে গেলে শুধু তিনিই ক্ষতিগ্রস্ত হন না, একই সঙ্গে দেশের শ্রমিক, রপ্তানি, বৈদেশিক মুদ্রা আয় এবং সরকারের রাজস্ব আদায়-কিছুই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
‘আমাদের কারখানায় প্রায় ৩৫০ জন শ্রমিক কাজ করেন। তাদের কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি সরকারের রপ্তানি আয়, বৈদেশিক মুদ্রা এবং ভ্যাট-ট্যাক্স আদায়ের সুযোগও বন্ধ হয়েছে। কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো, সেটিই আমার বোধগম্য নয়,’ যোগ করেন প্রদীপ্ত মজুমদার।
তিনি বলেন, ‘কোনো দেশে যখন বিদেশি বিনিয়োগ আসে, তখন ওই দেশই সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়। আমার ৪৫ বছরের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতায় আমি এটিই শিখেছি।’
বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এই বিনিয়োগকারী জানান, নিচে কী হচ্ছে বা কী ধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে এসব বিষয় ওপরের মহলে সঠিকভাবে যাচ্ছে না। ফলে সঠিক সিদ্ধান্তও আসছে না।
নিজের বিনিয়োগের বিষয়ে প্রদীপ্ত মজুমদার বলেন, ‘আমি বড় কোনো বিনিয়োগকারী নই, মধ্যম শ্রেণির একজন বিনিয়োগকারী। জীবনের সঞ্চিত অর্থ দিয়ে এখানে বিনিয়োগ করেছি। ঈশ্বরদীর কারখানায় ১০০ কোটি টাকার মতো বিনিয়োগ করেছি। পুরো অর্থ বিদেশ থেকে এনে বিনিয়োগ করা হয়েছে। এখন সেই বিনিয়োগই তাকে সর্বস্বান্ত হওয়ার পথে নিয়ে গেছে।’
‘আদালতের আদেশও যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় আমাদের কারখানা পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার পথে। এই কারখানায় বিনিয়োগ করে আমি প্রায় দেউলিয়া হওয়ার অবস্থায় চলে গেছি,’ বলেন তিনি।
প্রদীপ্ত মজুমদার জানান, কারখানায় প্রায় ২০ কোটি টাকার পণ্য পড়ে আছে। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় তা নষ্ট হচ্ছে, পোকায় খেয়ে ফেলছে। কিছু তেলও পড়ে আছে। কীভাবে এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাবেন, তার কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছেন না। এ বিষয়ে এনবিআর, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বেপজা, অর্থ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, এমনকি মুখ্য সচিবের কাছেও গেছেন। সবাই শুধু বলছেন- ‘হবে, দেখছি, করছি’। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ফল পাননি। কোনো ক্লিয়ারেন্সও পাননি। কারখানা বন্ধ, তার সর্বস্ব শেষ হওয়ার পথে।
ঈশ্বরদীর কারখানায় ১০০ কোটি টাকার মতো বিনিয়োগ করেছি। পুরো অর্থ বিদেশ থেকে এনে বিনিয়োগ করা হয়েছে। এখন সেই বিনিয়োগই তাকে সর্বস্বান্ত হওয়ার পথে নিয়ে গেছে।- স্বত্বাধিকারী প্রদীপ্ত মজুমদার
বিদেশি বিনিয়োগের সুফল তুলে ধরে এসপিএস এগ্রোটেকের এই স্বত্বাধিকারী বলেন, তার কারখানায় কাজ করা শ্রমিকদের প্রায় ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশই বাংলাদেশি। বিদেশি কর্মী ছিলেন মাত্র দুজনের মতো। কারখানাটি বন্ধ থাকায় ঈশ্বরদী ইপিজেডে কর্মরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। একই সঙ্গে দেশের রপ্তানি ও বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সুযোগও বন্ধ রয়েছে।
প্রদীপ্ত মজুমদার বলেন, সবকিছু মিলিয়ে তার সামনে এখন একটাই পথ, তা হলো কারখানাটি চালু করা। এটি চালু করতে পারলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হবে। তা না হলে তিনি রাস্তায় বসে যাবেন। তবে তিনি বসে যাওয়ার আগে এই দেশের ক্ষতিটাই হবে সবচেয়ে বেশি। কারণ এমন অভিজ্ঞতার কথা জানলে বিদেশি অন্য বিনিয়োগকারীরাও বাংলাদেশে বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হবেন।
কারখানা বন্ধের জন্য সরাসরি এনবিআরকে দায়ী করেছেন এই বিনিয়োগকারী। তিনি বলেন, শুধু ‘এনবিআরের কারণেই এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। এনবিআরের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ নেই, বিষয়টি মূলত মানসিকতার।’
বিদেশি বিনিয়োগকারী হিসেবে নিজ দেশের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে প্রদীপ্ত মজুমদার বলেন, বিনিয়োগের সময় দুই দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করেই বাংলাদেশে এসেছেন। সমস্যা তৈরির পরও কয়েকবার দূতাবাসে গেছেন এবং কয়েকটি চিঠি দিয়েছেন।
তিনি বলেন, দূতাবাস থেকেও বলা হয়েছে- ‘আমরা দেখছি, হচ্ছে’। কিন্তু দূতাবাসের দেওয়া তথ্য বা বক্তব্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে শুনছে না।
বেপজার ভূমিকা সম্পর্কে তিনি জানান, বেপজা তাদের অনেক সহযোগিতা করছে এবং তাদের পক্ষেই রয়েছে। কিন্তু বেপজা সরাসরি কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না।
দীর্ঘদিন ধরে কারখানা বন্ধ থাকায় নিজের ক্ষতির পাশাপাশি ভবিষ্যৎ বিদেশি বিনিয়োগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রদীপ্ত মজুমদার। তিনি বলেন, ‘আমি চাই না, জীবনে আর কোনো বিনিয়োগকারী এ ধরনের পরিস্থিতির শিকার হোন।’
তার মতে, বিদেশি বিনিয়োগ যে কোনো দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিনিয়োগকারীর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দেশের শ্রমিক, রপ্তানি, বৈদেশিক মুদ্রা আয়, ভ্যাট-ট্যাক্স এবং শিল্পায়নের সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তাই দ্রুত কারখানাটি চালুর সুযোগ তৈরি করে সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান করা উচিত।
এমএএস/একিউএফ/এমএফএ
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
মাগুরা জেলা কারাগারে থাকা নূর আলম মুন্সি (৫০) নামের এক সাজাপ্রাপ্ত কয়েদির মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত নূর আলম মুন্সি মাগুরা শহরের ভিটাসাইর এলাকার মৃত মুন্সি সব্দার হোসেনের ছেলে। ২০১৯ সালের একটি মাদক মামলায় (জিআর ১৯১৯/১৯, মামলা নং ৩৫১/১৯) এক বছর দুই মাসের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে গত ৮ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি মাগুরা জেলা কারাগারে সাজা ভোগ করছিলেন। মাগুরা জেলা কারাগারের জেল সুপার শেখ মো. মহিউদ্দীন হায়দার জানান, গত ১৩ সেপ্টেম্বর কারাগারে নূর আলম হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে তাৎক্ষণিকভাবে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যাম্বুলেন্সে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে সেখানেও তার শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে ঢামেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নূর আলমের পরিবার এই মৃত্যুকে ঘিরে গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেছে। নিহতের ভাই মঞ্জুরুল আলম অভিযোগ করে বলেন, ‘গত ৮ সেপ্টেম্বর আমার ভাইকে সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। ১৩ সেপ্টেম্বর তিনি অসুস্থ হলেও কারা কর্তৃপক্ষ আমাদের কিছুই জানায়নি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হঠাৎ করে তার মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘একজন সুস্থ মানুষ কারাগারে গিয়ে কয়েকদিনের মধ্যে কীভাবে মারা গেলেন, তা নিয়ে আমাদের মধ্যে তীব্র সন্দেহ রয়েছে। আমরা এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায়বিচার দাবি করছি।’ বর্তমানে নূর আলমের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। মো. মিনারুল ইসলাম জুয়েল/কেজে/এএসএম
২০২৭ সালে অনুষ্ঠেয় দাখিল ও এসএসসি পরীক্ষায় নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য ১৩টি বিষয়ে প্রশ্নপত্র হবে অভিন্ন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। দাখিল ও এসএসসি পরীক্ষায় অভিন্ন প্রশ্নপত্র হওয়া বিষয়গুলো হলো বাংলা ২য় পত্র (১০২), ইংরেজি ১ম পত্র (১০৭), ইংরেজি ২য় পত্র (১০৮), তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (১৫৪), গণিত (১০৯), বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (১৫০), পদার্থবিজ্ঞান (১৩৬), রসায়ন (১৩৭), জীববিজ্ঞান (১৩৮), উচ্চতর গণিত (১২৬), পৌরনীতি ও নাগরিকতা (১৪০), কৃষিশিক্ষা (১৩৪), গার্হস্থ্যবিজ্ঞান (১৫১)।উত্তরপত্র মূল্যায়নে এত ভুল কেন, মূল্যায়নব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্নবাংলা ১ম পত্রের পরিবর্তিত বিষয় কোড ১০১ হলেও এসএসসি ও দাখিল স্তরের সিলেবাসের ভিন্নতার কারণে ২০২৭ সালের নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য পৃথক প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা হবে। ২০২৭ সালে অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে তাদের রেজিস্ট্রেশন কার্ডে বর্ণিত বিষয় কোড বহাল থাকবে এবং তাদের জন্য আগের মতো পৃথক প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা হবে। এসএসসির খাতা ঠিকমতো না দেখা পরীক্ষকদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরব ভ্রমণ নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে মার্কিন নাগরিকদের। সৌদি-ইয়েমেন সংঘাতের কারণে দেশটিতে ভ্রমণের ক্ষেত্রে নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আন্তর্জাতিক ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইটে এ সতর্কতা জারি করা হয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, সৌদি আরবে থাকা মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা ও ব্যক্তিদের ওপর ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি রয়েছে। আরও পড়ুন মক্কার দক্ষিণে ড্রোন হামলা, সৌদির হুঁশিয়ারি একই সঙ্গে সশস্ত্র সংঘাত ও সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকি, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের স্থানীয় আইন নিয়েও সতর্ক করা হয়েছে। সৌদি আরবের কিছু এলাকায় ঝুঁকি আরও বেশি বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। তাই এসব এলাকায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিকদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। গত কয়েক দিনে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটিতে হামলার দাবি করেছে হুথিরা। পাশাপাশি, দেশটির বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। গত এক সপ্তাহে হুথিদের হামলা বেড়ে যাওয়ার পর এসব সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আরও পড়ুন পাইপলাইন বন্ধ / সৌদির তেল ফুরিয়ে যেতে পারে কয়েক দিনের মধ্যেই সম্প্রতি পবিত্র মক্কা নগরীর দক্ষিণে হুথিরা ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সৌদি আরব। তবে, ড্রোনটি দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী ধ্বংস করেছে। এ ঘটনায় পবিত্র মক্কা ও মুসল্লিদের নিরাপত্তার বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে সৌদি আরব। ইসলামি সহযোগিতা সংস্থাও (ওআইসি) এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থাটি ঘটনাটিকে গুরুতর হামলা হিসেবে বর্ণনা করে এজন্য হুথিদের দায়ী করেছে। একই সঙ্গে ৫৭টি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের এই জোট সৌদি আরবের বিরুদ্ধে চলমান হামলারও নিন্দা জানিয়েছে সংস্থাটি। আরও পড়ুন মদিনায় বিপুল ইউরেনিয়ামের সন্ধান, জানাল সৌদি আরব এদিকে, হুথিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের কিছু এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। এসব এলাকা বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছাকাছি। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে পণ্য পরিবহন হয়। হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হওয়ার পর লোহিত সাগরপথে তেল পরিবহন নিয়েও নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। প্রতিবেশী ইয়েমেনে ভ্রমণের ক্ষেত্রেও মার্কিন নাগরিকদের জন্য কঠোর সতর্কতা বহাল রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ভ্রমণ সতর্কতা এখনো ‘লেভেল ৪—ভ্রমণ করবেন না’ পর্যায়ে রয়েছে। ইয়েমেনে চলমান সংঘাত ও নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে মার্কিন নাগরিকদের সেখানে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটিতে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদেরও নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা এমডিআরএইচ/