সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্যালয় থেকে বের হওয়ার পথে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের গাড়ি থামিয়ে বঞ্চনার প্রতিকার চাইলেন সংস্থাটির সাবেক পরিবেশক বা ডিলাররা। অন্তর্বর্তী ও বর্তমান সরকারের সময় এসব পরিবেশকের চুক্তি বাতিল হয়। এর মধ্যে কিছু ডিলারের চুক্তি সরকার বাতিল করে দিয়েছিল। আর কিছু ডিলারের চুক্তি মেয়াদ শেষে নবায়ন করা হয়নি।
চুক্তি নবায়নের দাবিতে বেশ কয়েক দিন ধরে এই ডিলাররা রাজধানীর কারওয়ান বাজারে টিসিবি কার্যালয়ের সামনে অনশন করছেন। এ অবস্থায় গতকাল বৃহস্পতিবার টিসিবির সেবানির্ভর ‘উপকারী’ মোবাইল অ্যাপ উদ্বোধন করে বের হওয়ার পথে আন্দোলনরত ডিলাররা বাণিজ্যমন্ত্রীর গাড়ি আটকে তাঁদের দাবি তুলে ধরেন। যদিও পুলিশি সুরক্ষায় মন্ত্রী নিরাপদে ঘটনাস্থল ছেড়ে যান। এ–সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার পথে গাড়ির জানালা নামিয়ে মন্ত্রী আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলছেন। এ সময় তিনি সচিবালয়ে গিয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার কথা বলেন এবং নিজের ভিজিটিং কার্ড দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামী রোববার আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে তাঁদের দাবিদাওয়ার বিষয়ে বৈঠক করবেন বাণিজ্যমন্ত্রী। এ বিষয়ে পরে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আন্দোলনকারী ডিলারদের বলা হয়েছে সচিবালয়ে আসতে। তাঁদের কথা শুনব। দাবির যৌক্তিকতা থাকলে তাঁরা নিশ্চয়ই প্রতিকার পাবেন।’
এদিকে টিসিবি ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফরিদ উদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘টিসিবি মনগড়া ডিলার নিয়োগ দিচ্ছে। অথচ যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও আমাদের কাউকে বাতিল করেছে, কাউকে নবায়নের সুযোগ দিচ্ছে না। আমরা এর প্রতিকার চাই। এ জন্যই বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে চাই। বাণিজ্যমন্ত্রী আগামী রোববার আমাদের যেতে বলেছেন। আশা করছি, আমরা মন্ত্রীর কাছ থেকে ন্যায্যতা পাব।’
টিসিবি ডিলার নিয়োগ ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা অনুযায়ী, ডিলারশিপ দুই বছর পরপর নবায়নযোগ্য। নতুন নীতিমালা প্রকাশ করা হয় ২০২৫ সালের মার্চে। ক্ষতিগ্রস্ত ডিলারদের অভিযোগ, কোথাও ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত আসন নেই—এমন কারণ দেখিয়ে ডিলারশিপ নবায়ন করা হয়নি। আবার একই ধরনের ওয়ার্ডে নতুন নতুন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা আরও অভিযোগ করেন, ওয়ার্ডভিত্তিক আসন ও ভোক্তার প্রাপ্যতার যুক্তি সমানভাবে প্রয়োগ করা হয়নি। গত ৩ মে ৬৪ জন এবং ১১ মে ৯৯ জন ডিলারের সঙ্গে নবায়ন চুক্তি করেনি টিসিবি। কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত আসন বা ভোক্তার প্রাপ্যতা না থাকার কথা বলা হয়। অন্যদিকে ৩ মে ৫৮ জন এবং ১১ মে ৫১ জন ডিলারের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করেছে।
জানতে চাইলে টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, আগের নীতিমালাটি পরিপূর্ণ ছিল না। এক জায়গায় একজনের বদলে ৩০ জন ডিলারও ছিল। নতুন নীতিমালা করে এ বিষয়ে সংস্কার আনা হয়েছে।
‘উপকারী’ মোবাইল অ্যাপের উদ্বোধন
টিসিবির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সংস্থাটির সেবা–সম্পর্কিত অ্যাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের সরবরাহ ব্যবস্থাপনা এখনো পুরোপুরি নিরবচ্ছিন্ন ও কার্যকর হয়নি। উৎপাদক পর্যায় থেকে পণ্য শহর বা রাজধানীর খুচরা বাজারে পৌঁছানোর পর অনেক ক্ষেত্রে দামের বড় ব্যবধান তৈরি হয়। আবার সাময়িক সরবরাহ–ঘাটতিও বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করে।
টিসিবি বলছে, নতুন ‘উপকারী’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে উপকারভোগীরা প্রচলিত কার্ডের পাশাপাশি নিরাপদ ডিজিটাল মাধ্যমেও সেবা নিতে পারবেন। ডিজিটালি স্বাক্ষরিত ও এনক্রিপ্টেড কিউআর কোডের মাধ্যমে উপকারভোগীর পরিচয় ও পণ্য পাওয়ার যোগ্যতা যাচাই করা হবে। ফলে কার্ড হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হলেও প্রকৃত উপকারভোগী নির্ধারিত পণ্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবেন না।
অ্যাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরে টিসিবির বিভিন্ন উদ্যোগ ও ডিজিটাল রূপান্তরের ফলে গত বছরের তুলনায় ৩০০ থেকে ৩৫০ কোটি টাকার ভর্তুকি সাশ্রয় হতে পারে। অ্যাপের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) তদারকি ব্যবস্থার মাধ্যমে কোন এলাকায় কত পণ্য বিক্রি ও বিতরণ হচ্ছে, কোথাও অনিয়ম হচ্ছে কি না—এসব তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, জাতীয় পরিচয়পত্র, মুঠোফোন নম্বর ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে টিসিবির উপকারভোগীর তালিকা থেকে প্রায় ৫৯ লাখ অযোগ্য আবেদনকারীকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে একটি যাচাইকৃত ডিজিটাল তথ্যভান্ডার তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৭৯ লাখ উপকারভোগী টিসিবির সেবার আওতায় রয়েছেন, যা ভবিষ্যতে এক কোটিতে উন্নীত হবে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
২০১২ সালের এপ্রিল মাসে কিশোরদের জন্য নববর্ষ সংখ্যা প্রকাশ করেছিল প্রথম আলো। কিশোর আলোর পূর্বসূরী বলা চলে এই সংখ্যাটাকে। এটি ব্যাপক জনপ্রিয় হওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, বের হবে কিশোর আলো। সেই সংখ্যায় লিখেছিলেন প্রখ্যাত সব লেখকেরা। আসছে ১ অক্টোবর কিশোর আলোর ১৩তম জন্মদিন। জন্মদিনের আনন্দ পাঠকের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে নবর্ষ সংখ্যা থেকে ধারাবাহিকভাবে লেখা প্রকাশিত হবে শুধু কিশোর আলো অনলাইনে। প্রথম লেখা হিসেবে থাকল, হুমায়ূন আহমেদের রোমাঞ্চকর শৈশবের গল্প। লেখাটি পত্র-পত্রিকায় ও কিছু শৈশব বইয়ে প্রকাশিত হয়েছে।ছ -য়-সাত বছরের একটি বালক জানালার শিক ধরে দাঁড়িয়ে আছে। সে বৃষ্টি দেখছে। সিলেটের বিখ্যাত 'বৃষ্টি। ফিনফিনে ইলশেগুঁড়ি না, ঝুমবৃষ্টি। এই বৃষ্টি একনাগাড়ে সাত দিন পর্যন্ত চলতে পারে। ছেলেটি বৃষ্টি দেখছে,তবে তার দৃষ্টিতে মুগ্ধতা নেই, বিস্ময়বোধ নেই, আছে দুঃখবোধ ও হতাশা। তাকে সারা দিনের জন্য আটকে রাখা হয়েছে। আজ সে ঘর থেকে বের হতে পারবে না। সে একটি গুরুতর অপরাধ করেছে। কাঠের সিন্দুকের ওপর পাঁচটা চিনামাটির প্লেট রাখা ছিল, সব কটা একসঙ্গে ভেঙেছে। বাসায় আর কোনো প্লেট নেই।প্রাথমিক শান্তি চড়থাপড় একদফা হয়েছে। বালক এই ধরনের শাস্তিকে হিসাবের মধ্যে ধরে না। বালকের মাতা এই তথ্য জানেন বলে মানসিক শান্তির দিকে গেলেন। ঘোষণা করা হলো, এখন থেকে সবাই প্লেটে করে খাবে, বালক খাবে মেঝেতে। মেঝের একটা অংশ পরিষ্কার করে রাখা হবে, সেখানেই ভাত-তরকারি দেওয়া হবে।বালক এই মানসিক শান্তিও আমল দিল না। কারণ, সে জানে এই কাজটি করা হবে না। সে এই বয়সেই বুঝে গেছে, বড়দের কথা এবং কাজ এক না। একটি দরিদ পরিবারের কাছে পাঁচটা চিনামাটির প্লেট যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ, এটা বোঝা গেল যখন বালককে ছুটির দিনে বন্দী করে রাখা হলো।বন্দী ঠিকমতো শাস্তি ভোগ করছে কি না তা তার ভাইবোনেরা এবং কাজের ছেলে রফিক মাঝেমধ্যে উঁকি দিয়ে দেখে যাচ্ছে। সবচেয়ে আনন্দিত রফিক। তার মুখ ভর্তি হাসি। এই বাসার যেকোনো শিশুকে শাস্তি পেতে দেখলে সে বিমল আনন্দ উপভোগ করে।হুমায়ূন আহমেদ বললেন, একুশের বইমেলা হবে, লোকেদের ভিড়, আড্ডা, আমি সেখানে থাকব না!দুপুরের ভাত খাবার সময়বালককে মুক্তি দেওয়া হলো। সে ছুটে বের হয়ে গেল। প্রথম কিছুক্ষণ বৃষ্টিতে লাফালাফি করল;তারপর দৌড়ে রাস্তা পার হলো। রাস্তার ওপাশেই মাঠ। মাঠে কিছু নিচু জায়গা আছে, সেখানে পানি জমেছে। পানির ওপর ঝাঁপাঝাঁপি করা যায়। মাথার ওপর ঝুমবৃষ্টি, পায়ের নিচে পানি-কী আনন্দ। বালককে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার জন্য ছাতা দিয়ে রফিককে পাঠানো হলো। সে গম্ভীর মুখে কিছুক্ষণ বালকের লাফালাফি দেখল; তারপর ছাতা বন্ধ করে নিজেও ঝাঁপাঝাঁপিতে যুক্ত হলো। যুক্ত কেনই বা হবে না? রফিক বালকের চেয়ে দু-এক বছরের বড়। বৃষ্টিবিলাস থেকে সে কেন নিজেকে দূরে রাখবে।রফিকের নেতৃত্বে বৃষ্টিযাপনের অর্থ হলো একের পর এক দুঃসাহসিক অভিযান। তার একটি হচ্ছে-দেয়াল টপকে প্রফেসর সাহেবের বাড়িতে ঢোকা (অধ্যাপক, এমসি কলেজ)। প্রফেসর সাহেবের বাগান ভর্তি আমগাছ। ঝড়-বৃষ্টিতে গাছতলায় নিশ্চয়ই অনেক আম পড়েছে।অভিযান সফল হলো। পকেট ভর্তি আম নিয়ে বালক পরবর্তী অভিযানে বের হলো। পাকা 'পুসকুনি'তে গোসল। পাকা পুসকুনিতে সব দিন স্নানের সুযোগ হয় না। বড় কেউ সঙ্গে গেলেই সুযোগ হয়। তখনো সমস্যা, বড়দের কারণে মনের আশ মিটিয়ে পানিতে ডুবাডুবি খেলা যায় না।মহানন্দে পুকুরে ঝাঁপাঝাঁপির একপর্যায়ে রফিক লক্ষ করল, ছাতাটা সঙ্গে নেই। পরবর্তী অভিযান ছাতা খুঁজে বের করা।আহসান হাবীবের কমিকস 'পটলা-ক্যাবলা'ম্যাজিশিয়ান হুমায়ূন আহমেদশুকনা। ছাতা হারানো গেছে, না জানি কী হয় সন্ধ্যার আগে আগে তারা বাসায় ফিরল। দুজনের মুখ বস্তুই আশ্চর্যের ব্যাপার, ছাতা নিয়ে কেউ একটা কথাও বলল না। মনে হয় বাসার কেউ রফিকের ছাতা নিয়ে বের হওয়ার বিষয়টা জানে না। সারা দিন বৃষ্টিতে ভেজার জন্য কোনো শান্তি হলো না।পারিবারিক আদালতের প্রধান বিচারপতি, বালকের বাবা, অপরাধের সব ফিরিস্তি শোনার পর কিছই বললেন না। রেডিওর নব ঘোরাতে লাগলেন। এই সময়ে 'আকাশবাণী' থেকে নাটক প্রচার করা হয়। তিনি নাটক শুনতেই বেশি আগ্রহী। বালক তখনো নিশ্চিন্ত হতে পারছে না। তার ধারণা, শান্তির ব্যবস্থা হবে রেডিওর নব ঘোরানো শেষ হওয়ার পর। নব ঘোরানো একসময় শেষ হলো। প্রধান বিচারপতি বালকের দিকে তাকিয়ে বিস্মিত গলায় বললেন, দাঁড়িয়ে আছিস কী জন্য?বালকের মা রাগী গলায় বললেন, এতক্ষণ তোমাকে কী বললাম? প্রধান বিচারপতি বললেন, কী বলেছ?কী বলেছি তুমি জানো না?না। আবার বলো।মা উঠে চলে গেলেন। প্রধানবিচারপতি পুত্রকে জিজ্ঞেস করলেন, তোর মা কি রাগ করে উঠে চলে গেল?পুত্র হ্যাঁ-সূচক মাথা নাড়ল।তোর মায়ের রাগ ভাঙানোর ব্যবস্থ করতে হবে। জোরেশোরে বৃষ্টি নামলে বলবি-গুষ্টিসুদ্ধ বৃষ্টিতে ভিজব। বৃষ্টিতে ভিজলে কী হয়, জানিস?না। গায়ের ঘামাচি মরে। তোর কিঘামাচি আছে?গা ভর্তি ঘামাচি।কোনো চিন্তা নাই, ঘামাচি ধ্বংসের ব্যবস্থা করছি। বৃষ্টিটা ভালোমতো নামতে দে।পাঠক, উপন্যাসের মতো কি লাগছে? মনে হচ্ছে কি ঔপন্যাসিক একটা পারিবারিক উপন্যাস ফেঁদেছেন? কিছুক্ষণের মধ্যেই নাটকীয় ঘটনা ঘটবে। কাহিনি এগোবে তরতর করে।উপন্যাস লিখছি না। নিজের শৈশবের কথাই লিখছি। পঞ্চাশ বছর আগেকার কথা। সবকিছু হুবহু মনেনেই। যেসব জায়গা মনে নেই, সেসব জায়গায় Fill up the blank করেছি। লেখকের স্বাধীনতাও ব্যবহার করেছি, তবে যেটুকু না করলেই নয় শুধু ততটুকুই। উদাহরণ দিই-সারা দিন রফিককে নিয়ে বৃষ্টিতে ভেজা, ছাতা হারানো-সব ঠিক আছে। এত বড় অপরাধের পর কোনো শাস্তি হয়নি, তাও ঠিক আছে। শাস্তির বদলে ওই রাতেই যে আবারও সবাই মিলে বৃষ্টিস্নান উৎসব করেছে, তাও ঠিক আছে। শুধু শান্তিবিষয়ক কথোপকথন তৈরি করা-কারণ, কেন শাস্তি হয়নি, সেটা মনে করতে পারছি না।খুদে ভক্তের জন্য কেন কেঁদেছিলেন হুমায়ূন আহমেদবড় ভাই হুমায়ূন আহমেদ পাঁচ হাজার টাকা দিয়েছিলেন, এটা আমার কাছে পুরস্কার পাওয়ার চেয়েও আনন্দময় — আহসান হাবীব
বেচারা বৈভব সূর্যবংশী! আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজে একটি ম্যাচেও মাঠে নামতে পারলেন না। এই সুযোগে তাঁকে ছাড়িয়ে অনেক দূরে চলে গেছেন অভিষেক শর্মা।সব ধরনের টি–টুয়েন্টি মিলিয়ে চলতি বছরে ভারতীয়দের মধ্যে এখন সর্বোচ্চ ছক্কা অভিষেকের—৯৬টি। এই আফগানিস্তান সিরিজেই বাঁহাতি ওপেনার ছক্কা মেরেছেন ২২টি। অন্যদিকে আফগানিস্তান সিরিজের আগে এগিয়ে থাকা সূর্যবংশী পড়ে আছেন ৮৬ ছক্কায়।সূর্যবংশী অবশ্য বলতে পারেন—একটি জায়গায় আমিই সবার ওপরে। ১৫ বছর বয়সী সূর্যবংশী ৮৬টি ছক্কা মেরেছেন মাত্র ২২ ম্যাচে। ভাবা যায়! গড়ে প্রতি ৪.৯৯ বলে একটি করে ছক্কা। অন্যদিকে অভিষেকের একটি ছক্কা মারতে গড়ে খেলতে হয়েছে ৬.৬৪ বল।কাল ৩০ বলে সেঞ্চুরি করেছেন অভিষেক শর্মাঅভিষেকেরও পাল্টা বলার সুযোগ আছে। কারণ, যে রেকর্ড ভাঙার জন্য অভিষেক ও সূর্যবংশী এ বছর লড়ছেন, সে রেকর্ডও অভিষেকেরই। গত বছর ১০৮টি ছক্কা মেরে ভারতীয়দের মধ্যে এক বছরে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড গড়েন অভিষেক। ২০২৪ সালেও তাঁর ব্যাট থেকে এসেছিল ৮৭টি ছক্কা। অর্থাৎ টানা তিন বছর ধরে ছক্কার তালিকায় নিজের নামটাকেই বারবার ওপরে তুলছেন অভিষেক।লড়াইটা যদি শুধু ভারতীয়দের মধ্যে না রাখা হয়, তাহলে কেমন হবে? তখনো আসলে বলতে হবে, ভারতের ক্রিকেটাররাই ছক্কার নতুন ‘মাস্টার’। ২০২৫ সালের কথাই ধরুন। অভিষেক ১০৮টি ছক্কা মেরে সর্বোচ্চ ছক্কা মারা ব্যাটসম্যানদের তালিকায় পূর্ণ সদস্যদেশগুলোর মধ্যে দুইয়ে ছিলেন। তাঁর ওপরে ছিলেন শুধু নিকোলাস পুরান। এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ছক্কা মেরেছিলেন ১২১টি। মানে, অভিষেকের চেয়ে পুরান ১৩টি ছক্কা বেশি মেরেছেন। কিন্তু এই ১৩টি ছক্কার জন্য পুরানকে অভিষেকের চেয়ে ২২টি ম্যাচ বেশি খেলতে হয়েছে।চলতি বছরেও সর্বোচ্চ ছক্কার তালিকায় অভিষেক আছেন তিনে। তাঁর চেয়ে বেশি ছক্কা মেরেছেন পুরান ও ফিন অ্যালেন। পুরান মেরেছেন তিনটি বেশি (৯৯), অ্যালেন পাঁচটি (১০১)। এ দুজনও অভিষেকের চেয়ে অনেক বেশি ম্যাচ খেলেছেন। অভিষেক যেখানে ৪১টি ম্যাচ খেলেছেন, সেখানে পুরান খেলেছেন ৪৯টি, অ্যালেন ৫২টি।সেঞ্চুরি করেই অভিষেক কেন মেডিটেশনে বসলেনঅভিষেক যদি ৮–১০টি ম্যাচ বেশি খেলতেন, ছক্কার তালিকায় কোথায় থাকতেন? ধারণা করা কঠিন হওয়ার কথা নয়। তাহলে সূর্যবংশীর বেলায় কী বলবেন? তিনি তো অভিষেকের চেয়েও ১৯টি ম্যাচ কম খেলেছেন।পুরানদের আসল খেলাই দেখা যায় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগেভারতীয় ক্রিকেটারদের ম্যাচ কম খেলার কিছু কারণও আছে। অভিষেকরা দেশের বাইরে কোনো লিগে খেলতে পারেন না। আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টিতে ভারতও দলে অনেক পরিবর্তন আনে। সূর্যবংশী তো আফগানিস্তানের বিপক্ষে একটি ম্যাচেও খেলার সুযোগ পেলেন না।অন্যদিকে পুরানদের আসল খেলাই দেখা যায় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে। ফলে ম্যাচ খেলার সুযোগও তাঁদের বেশি।সেঞ্চুরি করেই অভিষেক কেন মেডিটেশনে বসলেন
প্রতি বছর পরিযায়ী পাখি হাজারো কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয়। এই দীর্ঘ যাত্রায় এদের জন্য বড় বিপদ হয়ে দাঁড়ায় শহরের আলো। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবনের সঙ্গে ধাক্কা লেগে প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে অন্তত ১০০ কোটি পাখি মারা যায়।যুক্তরাষ্ট্রে ১২ সেপ্টেম্বর শনিবার শরতের মাইগ্রেশন বা পরিযায়ী পাখির চলাচল শুরু হয়েছে। এবার ৩০ কোটির বেশি পাখি আকাশে উড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাখিদের নিরাপদে উড়ে যাওয়ার সুযোগ দিতে দেশটির বিভিন্ন শহরের বাসিন্দাদের বাড়িঘর ও ভবনের আলো নিভিয়ে বা কমিয়ে রাখার অনুরোধ করা হয়েছে।এই পরিযায়ী দলে আছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। কালোপোল ওয়ার্বলার, চিমনি সুইফট, স্কিসর-টেইলড ফ্লাইক্যাচারসহ শত শত প্রজাতির পাখি উত্তর গোলার্ধ থেকে দক্ষিণ আমেরিকার দিকে উড়ে যাবে। শীতের সময় তুলনামূলক উষ্ণ আবহাওয়া ও বেশি খাবারের সন্ধানে এরা এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দেবে। পাখির এই যাত্রা মোটেও নিরাপদ না। কর্নেল ইউনিভার্সিটির বার্ডকাস্টের গবেষক আদ্রিয়ান ডক্টর বলেন, প্রতিবছর অন্তত ১০০ কোটি পাখি আকাশচুম্বী ভবন ও আলোয় ভরা অন্যান্য স্থাপনার সঙ্গে ধাক্কা লেগে মারা যায়। বার্ডকাস্ট হলো এমন একটি অনলাইন ব্যবস্থা, যেখানে পাখিদের পরিযানের গতিবিধি প্রায়রিয়েল টাইম বা বাস্তব সময়ে দেখা যায়।শীতকালেই কেন পরিযায়ী পাখি দেখা যায়? যুক্তরাষ্ট্রে ১২ সেপ্টেম্বর শনিবার শরতের মাইগ্রেশন বা পরিযায়ী পাখির চলাচল শুরু হয়েছে। এবার ৩০ কোটির বেশি পাখি আকাশে উড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।সাধারণত রাতের অন্ধকারে পাখিরা পরিযায়ী হয়। ১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার সবচেয়ে বেশি পাখির দেখা মিলতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলের মিনেসোটা ও মিশিগানে। এরপর এরা ইলিনয় ও ইন্ডিয়ানা হয়ে দক্ষিণের অঙ্গরাজ্যগুলোর দিকে যেতে পারে। সেখান থেকে উড়ে এরা যুক্তরাষ্ট্রের সীমানা পেরিয়ে দক্ষিণ আমেরিকার দিকে চলে যাবে বলে গবেষকেরা পূর্বাভাস দিয়েছেন।পাখির নিরাপদ চলাচলের জন্য মিনিয়াপোলিস ও শিকাগোর মতো কিছু শহর বাসিন্দাদের ঘরের ও ভবনের আলো নিভিয়ে বা কমিয়ে রাখার অনুরোধ করেছে। ভবনের মালিক ও ব্যবস্থাপকেরাও বাইরে সাজসজ্জার জন্য ব্যবহৃত আলো ও উজ্জ্বল আলো নিভিয়ে রাখতে পারেন। প্রয়োজনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মানুষ বা কোনো প্রাণীর চলাচল বুঝে জ্বলে ওঠে এমন সেন্সরও ব্যবহার করতে পারে। পাখি সংরক্ষণ নিয়ে কাজ করা খ্যাতনামা সংগঠন অডুবন সোসাইটির পরামর্শ, রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত অপ্রয়োজনীয় আলো বন্ধ বা কমিয়ে রাখা ভালো।বুনো পাখির মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ ভবনের সঙ্গে ধাক্কা লাগা। নিউইয়র্ক সিটি বার্ড অ্যালায়েন্সের নির্বাহী পরিচালক জেসিকা উইলসনের মতে, খারাপ আবহাওয়ার সময় অনেক পাখি দিক হারিয়ে উঁচু ভবনের সঙ্গে ধাক্কা খায়। আবার আলোয় আকৃষ্ট হয়ে অনেক পাখি উজ্জ্বল জায়গার দিকে উড়ে যায়। সেখানে কাচের জানালা থাকলে এরা সেটি বুঝতে পারে না। ফলে কাচে ধাক্কা লেগে আহত হয় বা মারা যায়।শীতের পরিযায়ী১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার সবচেয়ে বেশি পাখির দেখা মিলতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলের মিনেসোটা ও মিশিগানে। এরপর এরা ইলিনয় ও ইন্ডিয়ানা হয়ে দক্ষিণের অঙ্গরাজ্যগুলোর দিকে যেতে পারে।এ বছরের শরতের পরিযায়ী পাখির চলাচল শুরু হয়েছে আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে। আগামী দুই সপ্তাহে এর তীব্রতা সবচেয়ে বেশি হতে পারে। পার্ডু ইউনিভার্সিটির পোস্টডক্টরাল গবেষণা সহকারী ডিলান অস্টারহাউসের ধারণা, এ সময় উত্তর গোলার্ধের আকাশে ৫০ কোটির বেশি পাখি উড়তে পারে। সাধারণত নভেম্বরের মাঝামাঝি গিয়ে শরতের পরিযায়ী পাখির যাত্রা শেষ হয়।কখন উড়তে হবে, সেটি ঠিক করতে পাখিরা আবহাওয়ার ওপর অনেকটা নির্ভর করে। কোনো এলাকায় ঝড় শুরু হলে এরা ওড়া থামিয়ে দিতে পারে। পারডু ও কর্নেল ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা আবহাওয়ার রাডার থেকে পাওয়া তথ্য ব্যবহার করে পাখির চলাচলের পূর্বাভাস দেন। বাতাসের অনুকূল পরিবর্তনের মতো কিছু আবহাওয়াগত পরিস্থিতির সঙ্গে বড় ঝাঁক বেঁধে পাখির উড়ে যাওয়ার সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছেন তাঁরা। কয়েক দশকের আবহাওয়ার তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা এমন একটি মডেল তৈরি করেছেন, যার মাধ্যমে আবহাওয়ার পরিবর্তনের ভিত্তিতে কত পাখি আকাশে উড়তে পারে তার পূর্বাভাস দেওয়া যায়।তবে সব প্রজাতির পাখির পরিযানের ধরন এক না। যেমন ডার্ক-আইড জুনকো পাখি গ্রীষ্মকালে কানাডায় বাসা বাঁধে। শীত এলে এরা যুক্তরাষ্ট্রের দিকে চলে যায়। গবেষক ডিলান অস্টারহস বলেছেন, বেঁচে থাকা ও নিজেদের বংশধর টিকিয়ে রাখার সম্ভাবনা বাড়াতেই পাখিরা এভাবে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যায়।কিছু পাখি কেন মানুষের মতো কথা বলেকয়েক দশকের আবহাওয়ার তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা এমন একটি মডেল তৈরি করেছেন, যার মাধ্যমে আবহাওয়ার পরিবর্তনের ভিত্তিতে কত পাখি আকাশে উড়তে পারে তার পূর্বাভাস দেওয়া যায়।শরতের এই উড়ালে পাখির সংখ্যা বেশি থাকে। কারণ, গ্রীষ্মের প্রজনন মৌসুম শেষ হয়ে যাওয়ার পর অনেক নতুন পাখি দলে যোগ দেয়। আহত বা অসুস্থ পাখিদের চিকিৎসা দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ড বার্ড ফান্ডের যোগাযোগ পরিচালক ক্যাথরিন কুয়েল জানান, ৫ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার পর্যন্ত তাঁদের কাছে ৪৫৩টি পাখি এসেছে। এর মধ্যে ১২৪টি পাখি জানালার কাচে ধাক্কা খেয়ে আহত হয়েছিল।পাখির জন্য কাচের জানালা একটি বড় সমস্যা। জানালায় গাছপালা বা আকাশের প্রতিবিম্ব দেখা যায়। পাখিরা একে আসল গাছ বা খোলা আকাশ মনে করে সেদিকে উড়ে যায়। ফলে কাচের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। শুধু নিউইয়র্ক শহরেই প্রতিবছর ভবনের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ২ লাখ ৫০ হাজারের বেশি পাখি মারা যায়।তবে পাখিদের বাঁচাতে মানুষ কিছু সহজ কাজ করতে পারে। গবেষকদের পরামর্শ, জানালার কাচে নকশাযুক্ত বিশেষ ফিল্ম বা আবরণ লাগানো যেতে পারে। এতে কাচের স্বচ্ছতা কমে যাবে এবং পাখিরা জানালাকে বাধা হিসেবে সহজে বুঝতে পারবে।লেখক: জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক, কিশোর আলোসূত্র: নিউইয়র্ক টাইমসপাখি টানা কতদিন আকাশে উড়তে পারে