বাংলাদেশ রেলওয়েতে প্যানেল আইনজীবী পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। ৩টি রেলওয়ে অঞ্চলে মোট ২২ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আবেদনের শেষ তারিখ ৪ অক্টোবর ২০২৬।
চাকরির বিবরণ
পদের নাম: আইনজীবী
১. আদালত: আপিল বিভাগ
রেলওয়ে অঞ্চল: পূর্বাঞ্চল
পদসংখ্যা: ২
২. আদালত: হাইকোর্ট বিভাগ
রেলওয়ে অঞ্চল: পশ্চিমাঞ্চল
পদসংখ্যা: ৮
৩. আদালত: হাইকোর্ট বিভাগ
রেলওয়ে অঞ্চল: পূর্বাঞ্চল
পদসংখ্যা: ১২
শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা
প্রার্থীকে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে ন্যূনতম স্নাতক ডিগ্রিধারী হতে হবে। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগে মামলা পরিচালনায় পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। আপিল বিভাগের প্যানেল আইনজীবীদের ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগে মামলা পরিচালনায় ১০ বছরের অভিজ্ঞতা এবং আপিল বিভাগে তালিকাভুক্তিসহ মামলা পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
নিয়োগের ধরন
চুক্তিভিত্তিক (প্রাথমিকভাবে ৩ বছর)।
আবেদনের নিয়ম
প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদনপত্র ডাকযোগে/সরাসরি প্রেরণ করতে হবে। নমুনা আবেদন (জীবনবৃত্তান্ত) ফরম এবং প্যানেল আইনজীবীদের কর্মপরিধি (Terms of Reference) ওয়েবসাইটে (www.railway.gov.bd) পাওয়া যাবে। ফরমটি ডাউনলোড/অনুরূপ ছক যথাযথ পূরণপূর্বক আবেদন করা যাবে।
আবেদনের ঠিকানা
অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো), বাংলাদেশ রেলওয়ে এবং আহ্বায়ক, প্যানেল আইনজীবী নিয়োগ কমিটি, রেলভবন (কক্ষ নং-৪০১), ঢাকা।
আবেদনের শেষ তারিখ
৪ অক্টোবর ২০২৬
নির্দেশনা ও শর্তগুলো
১. ৫ মার্চ ২০২৫ তারিখের বিজ্ঞপ্তির বিপরীতে যেসব প্রার্থী আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন, তাঁদের নতুন করে আবেদন করার প্রয়োজন নেই। তবে যদি কেউ তার অভিজ্ঞতা হালনাগাদ করতে চান, তিনি আবার আবেদন করতে পারেন।
২. একজন আবেদনকারী একাধিক প্যাকেজে প্যানেলভুক্তির জন্য আলাদাভাবে আবেদন করতে পারবেন।
বিস্তারিত দেখুন এই ঠিকানায়।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
এশিয়ান গেমসের আনুষ্ঠানিক পর্দা উঠবে ১৯ সেপ্টেম্বর। তবে তার আগেই মাঠে গড়াচ্ছে ক্রিকেট, যেখানে সোনা জয়ের লড়াইয়ে নামবে এশিয়ার ক্রিকেট শক্তিগুলো। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কার মতো আইসিসির পূর্ণ সদস্য দলগুলোর সঙ্গে থাকছে স্বাগতিক জাপানসহ আরও কয়েকটি দেশ। ছেলে ও মেয়েরা মাঠে নামছে কবে, কোন ফরম্যাটে খেলা, কয়টি দল অংশ নিচ্ছে, কারা খেলছেন, কোথায় হবে ম্যাচ—এশিয়ান গেমসে ক্রিকেট নিয়ে জানার আছে যা কিছু, থাকছে এই আয়োজনে।ক্রিকেট কি এই প্রথমনা। এশিয়ান গেমসে ক্রিকেট আগেও হয়েছে। তবে নিয়মিত ছিল না। ২০১০ গুয়াংঝু এবং ২০১৪ ইঁচিয়নের পর তৃতীয়বার হয় ২০২৩ সালে হাংঝুতে। এবার জাপানের আইচি–নাগোয়া আসে ক্রিকেট যুক্ত হয়েছে চতুর্থবার।কতটি ইভেন্ট, কত দলক্রিকেটে মোট দুটি ইভেন্ট—একটি ছেলেদের, আরেকটি মেয়েদের। ছেলেদের ইভেন্টে অংশ নিচ্ছে ১০টি দল, মেয়েদের ইভেন্টে ৮টি।কোন কোন দেশ খেলছেমোট ১২টি দেশ ক্রিকেটে অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ছেলে ও মেয়ে দুই বিভাগেই দল আছে বাংলাদেশ, ভারত, জাপান, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার। শুধু ছেলেদের বিভাগে দল আছে আফগানিস্তান, হংকং, নেপাল ও ওমানের। আর শুধু নারী বিভাগে আছে চীন ও থাইল্যান্ড।ইভেন্ট অনুসারে দেখলে, পুরুষ ইভেন্টে অংশ নিচ্ছে: আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, হংকং, ভারত, জাপান, মালয়েশিয়া, নেপাল, ওমান, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। আর নারী ইভেন্টে বাংলাদেশ, চীন, ভারত, জাপান, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড।কবে খেলা শুরুমেয়েদের খেলা শুরু ১৭ সেপ্টেম্বর। ২২ সেপ্টেম্বর সোনা (ফাইনাল) ও ব্রোঞ্জের (তৃতীয় স্থান নির্ধারণী) লড়াই।ছেলেদের খেলা শুরু হবে ২৪ সেপ্টেম্বর। পদকের লড়াই (ফাইনাল ও তৃতীয় স্থান নির্ধারণী) ৩ অক্টোবর।খেলা কোথায়এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটের সব খেলাই একই ভেন্যুতে। মাঠের নাম কোরোগি স্পোর্টস পার্ক। এ বছরের শুরুতে ২০২৬ টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপের পূর্ব এশিয়া–প্যাসিফিক সাব রিজিওনাল কোয়ালিফায়ার হয়েছিল এ মাঠে। এশিয়ান গেমসের আগে এ মাঠের স্টান্ডের দর্শক ধারণক্ষমতা ২ হাজার।এ মাঠেই হবে এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটের সব খেলাকোন ফরম্যাটে খেলাছেলে ও মেয়েদের ইভেন্টে ফরম্যাট ভিন্ন। মেয়েদের ইভেন্টে আটটি দল। আইসিসির পূর্ণ সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা সরাসরি এশিয়ান গেমসে জায়গা করে। জাপানের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয় স্বাগতিক হওয়ায়। আর একটি বাছাই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করেছে মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও চীন। এই আটটি দল চারটি কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হবে। জয়ী দল সেমিফাইনালে, দুই সেমিজয়ী ফাইনালে। আগেই হয়ে যাওয়া ড্র অনুসারে কোয়ার্টার ফাইনাল–১–এ বাংলাদেশ–চীন, কোয়ার্টার ফাইনাল–২–এ পাকিস্তান–থাইল্যান্ড, কোয়ার্টার ফাইনাল–৩–এ শ্রীলঙ্কা–মালয়েশিয়া এবং কোয়ার্টার ফাইনাল–৪–এ ভারত–জাপান মুখোমুখি হচ্ছে।ছেলেদের ইভেন্টে দল মোট ১০টি। আইসিসির পূর্ণ সদস্যদেশ হিসেবে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা এবং স্বাগতিক হিসেবে জাপান সরাসরি জায়গা করেছে। গত মে–জুনে হওয়া বাছাইপর্বের মাধ্যমে যোগ হয়েছে হংকং, মালয়েশিয়া, নেপাল ও ওমান।দশ দলের মধ্যে র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা চার দল ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে। বাকি ছয় দলকে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে, যাকে বলা হচ্ছে প্রিলিমিনারি স্টেজ। প্রতি গ্রুপের সেরা দুটি দল কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে যাবে।এশিয়ান গেমসে পুরো শক্তির দল নিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ, লিটনই অধিনায়ককারা খেলছেননারী ইভেন্টে আইসিসির পূর্ণ সদস্যদেশগুলো নিজেদের পূর্ণশক্তির দলই পাঠিয়েছে। পুরুষদের ইভেন্টেও গড়া হয়েছে শক্তিশালী দল।বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দলে নিগার সুলতানা, মারুফা আক্তার, স্বর্ণা আক্তার; ভারতীয় দলে হারমানপ্রীত কৌর, স্মৃতি মান্ধানা, শেফালি বর্মা; পাকিস্তান দলে ফাতিমা সানা, মুনিবা অলী, আলিয়া রিয়াজ এবং শ্রীলঙ্কা দলে চামারি আতাপাত্তু, নীলাক্ষী দি সিলভা, হাসিনি পেরেরারা আছেন।ছেলেদের ইভেন্টে বাংলাদেশ অধিনায়ক করেছে লিটন দাসকে। এ ছাড়া ভারতকে শ্রেয়াস আইয়ার, আফগানিস্তানকে দারউইশ রাসুল, পাকিস্তানকে সাহিবজাদা ফারহান ও শ্রীলঙ্কাকে সাহান আরাচিগে নেতৃত্ব দেবেন।ফেবারিট কারাছেলে ও মেয়ে দুই বিভাগেই সোনার দৌড়ে ভারতই ফেবারিট। সদ্য সমাপ্ত এশিয়া কাপজয়ী দলটিকে নিয়ে এশিয়ান গেমসে নামছে ভারত। আর ছেলেদের টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী দেশটি গেমসে দল পাঠিয়েছে যশপ্রীত বুমরা, বৈভব সূর্যবংশী, অক্ষর প্যাটেল, অভিষেক শর্মা, সঞ্জু স্যামসনসহ নিয়মিত আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টি খেলা দলটিকেই।বেসবল মাঠে ক্রিকেট, এশিয়ান গেমসে ক্রিকেট ভেন্যু নিয়ে নানা শঙ্কা
পরীক্ষা ও রমজান বিবেচনায় আগামী মে মাসের আগে ভোটের সম্ভাবনা কম দেখছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে আজ আন্তমন্ত্রণালয় সভা নির্বাচন কমিশনে।নানা অজুহাতে নির্বাচন বিলম্বিত করার প্রবণতা তৈরি হচ্ছে বলে আশঙ্কা জামায়াতের।নির্বাচন কমিশন (ইসি) আগামী ১২ নভেম্বর ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) ভোটের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরুর প্রাথমিক পরিকল্পনা করলেও এ বছর ভোট হওয়ার সম্ভাবনা কম। বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষা, এরপর রমজান ও এসএসসি পরীক্ষার সময় বিবেচনায় আগামী মের আগে নির্বাচন আয়োজনের কম সম্ভাবনা দেখছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়ের ব্যাপারে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম গতকাল বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশন আন্তমন্ত্রণালয় সভা ডেকেছে। সেখানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিরা তাঁদের মতামত ও প্রস্তুতির অবস্থা তুলে ধরবেন। সবার মতামত পাওয়ার পর কখন নির্বাচন করা সম্ভব, সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। এসব বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচন কমিশন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সভায় আলোচনার আগে নির্দিষ্ট কোনো সময়ের কথা বলা ঠিক হবে না।স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রশ্নে ইসি ও সরকারের সমন্বয়হীনতা প্রকাশ্যেএদিকে ইসি সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন উপলক্ষে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আজ বৃহস্পতিবার প্রস্তুতিমূলক সভা ডাকা হয়েছে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এ সভায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন, স্বরাষ্ট্র, নৌপরিবহন, পররাষ্ট্র, অর্থ, তথ্য ও সম্প্রচার, স্থানীয় সরকার, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও সংস্থার কর্মকর্তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।২০২৬ শিক্ষাবর্ষের মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, বার্ষিক পরীক্ষা নভেম্বর তৃতীয় সপ্তাহে শুরু হয়ে ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে শেষ হওয়ার কথা।সরকারসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ভোটের সময় নির্ধারণে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ও প্রস্তুতির বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন আয়োজনের কারণে এতে ব্যাঘাত ঘটুক, তা সরকার চায় না। চলতি বছরের শেষ ভাগ এবং আগামী বছরের প্রথম কয়েক মাসের পরীক্ষা, রমজান ও ঈদের সময় মিলিয়ে ভোটের উপযুক্ত সময় বিবেচনা করার জন্য আন্তমন্ত্রণালয় সভায় প্রস্তাব আসতে পারে।ইসি ইতিমধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সাতটি ধাপের সম্ভাব্য তারিখ জানিয়েছিল। তবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বলেছে, ওই সময়সূচি নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়নি। পরে ইসি সচিবালয়ও ব্যাখ্যা দিয়েছে, তারিখগুলো একেবারেই প্রাথমিক; সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মতামত নিয়ে তা চূড়ান্ত করা হবে।ঈদের পরপরই রয়েছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনুমোদিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী বছরের ১৪ মার্চ পরীক্ষা শুরু হয়ে ১৫ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা। এর আগে জানুয়ারিতে পরীক্ষা শুরুর পরিকল্পনা থাকলেও পরে তা পরিবর্তন করা হয়। পরীক্ষার এ সময়েও ভোট আয়োজনের পক্ষে নয় সরকার।পরীক্ষা ও রমজান বিবেচনায়২০২৬ শিক্ষাবর্ষের মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, বার্ষিক পরীক্ষা নভেম্বর তৃতীয় সপ্তাহে শুরু হয়ে ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে শেষ হওয়ার কথা।সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য, শুধু ভোটের দিন পরীক্ষার বাইরে রাখলেই হবে না, নির্বাচনের প্রস্তুতি ও আয়োজনের সময়ও বিবেচনায় নিতে হবে। পরীক্ষার্থীদের ক্ষতি এড়াতে এ সময়ে ভোট আয়োজনের পক্ষে নয় সরকার-সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা।এরপর আগামী বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি রমজান শুরু এবং ১০ মার্চ ঈদুল ফিতরের সম্ভাবনা ধরে সময় বিবেচনা করছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। রমজান ও ঈদের সময়ও নির্বাচন করতে চায় না সরকার।ঈদের পরপরই রয়েছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনুমোদিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী বছরের ১৪ মার্চ পরীক্ষা শুরু হয়ে ১৫ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা। এর আগে জানুয়ারিতে পরীক্ষা শুরুর পরিকল্পনা থাকলেও পরে তা পরিবর্তন করা হয়। পরীক্ষার এ সময়েও ভোট আয়োজনের পক্ষে নয় সরকার।এসব বিবেচনায় আগামী মে মাসের আগে নির্বাচন শুরুর সম্ভাবনা কম বলে মনে করছে সরকারসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। তবে মে মাসেই ভোট হবে—এমন সিদ্ধান্তও হয়নি। আজকের সভায় মন্ত্রণালয়গুলোর মতামত পাওয়ার পর সম্ভাব্য সময় নিয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।এরপর আগামী বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি রমজান শুরু এবং ১০ মার্চ ঈদুল ফিতরের সম্ভাবনা ধরে সময় বিবেচনা করছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। রমজান ও ঈদের সময়ও নির্বাচন করতে চায় না সরকার।ইসির পরিকল্পনা ও সরকারের বক্তব্যগত সোমবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সম্ভাব্য দিনক্ষণ জানান নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, প্রথম ধাপে ৮০টি উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদে ১২ নভেম্বর ভোট করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইসির প্রাথমিক পরিকল্পনায় দ্বিতীয় ধাপে ১৩ ডিসেম্বর ও তৃতীয় ধাপে ৩০ ডিসেম্বর ভোটের কথা বলা হয়। পরবর্তী চার ধাপের সম্ভাব্য তারিখ রাখা হয় আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২২ এপ্রিল ও ২৭ মে।এই সময়সূচি সামনে আসার পর সরকারের সঙ্গে আলোচনা না হওয়ার বিষয়টি তোলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ঘোষিত তারিখগুলোর বিষয়ে সরকার কিংবা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় অবহিত নয়। সময়সূচি নিয়ে সরকারের সঙ্গে চিঠি আদান-প্রদান বা অন্যভাবেও আলোচনা হয়নি।প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়। প্রস্তুতি, আইনশৃঙ্খলা ও বাজেটের বিষয়গুলো বিবেচনা করে তারিখ ঘোষণা করা হয়।এরপর ওই দিনই ইসি সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ ব্যাখ্যা দেন, আলোচিত তারিখগুলো একেবারেই প্রাথমিক। প্রস্তুতিমূলক আলোচনার ভিত্তিতে পাঁচটি মূল ধাপের পাশাপাশি দুটি অতিরিক্ত ধাপ রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মতামত নিয়ে কমিশন সময়সূচি চূড়ান্ত করবে।ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজন ও পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। ভোটের তারিখও ঠিক করে কমিশন। আর নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়। সেই আলোচনার জন্যই আজকের আন্তমন্ত্রণালয় সভা।ইউপি নির্বাচনের ঘোষিত সূচি ‘একেবারেই প্রাথমিক’: ইসি সচিবভোট বিলম্বিত করার আশঙ্কাএদিকে নানা প্রশাসনিক ও অন্যান্য অজুহাতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিলম্বিত করার পরিকল্পিত প্রবণতা তৈরি হচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামী। গতকাল দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, অনির্বাচিত প্রশাসকদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার মেয়াদ দীর্ঘায়িত হলে জনগণের ভোটাধিকার ও নির্বাচিত প্রতিনিধিত্ব আরও পিছিয়ে যাবে। তিনি দ্রুত সুস্পষ্ট ও সময়বদ্ধ নির্বাচনী রূপরেখা ঘোষণা এবং ইসির সিদ্ধান্তে সরকারি হস্তক্ষেপ না করার দাবি জানান।জনপ্রতিনিধি পেতে বাড়বে অপেক্ষাদেশে ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা ৪ হাজার ৫৮০। এসব ইউনিয়নে সর্বশেষ বড় পরিসরে কয়েক ধাপে নির্বাচন হয় ২০২১-২২ সালে। প্রথম ধাপে ২০২১ সালের ২১ জুন ২০৪টি ইউনিয়নে ভোট হয়। এর বড় অংশ ছিল বরিশাল বিভাগে। শুধু বরিশাল জেলার ৯ উপজেলার ৫০টি ইউনিয়নে সেদিন ভোট হয়েছিল। ওই ভোটের পাঁচ বছর পেরিয়েছে গত জুনে।তবে স্থানীয় সরকারের সব ধরনের প্রতিষ্ঠানের আগের নির্বাচন একই সময়ে হয়নি। উপজেলা পরিষদের সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচন হয় ২০২৪ সালে; জেলা পরিষদের হয় ২০২২ সালের অক্টোবরে। আবার ২০২৪ সালের আগস্টে ১২টি সিটি করপোরেশনের মেয়রকে অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। ফলে কোন ধরনের প্রতিষ্ঠানে আগে ভোট হবে, সেটিও আলাদাভাবে ঠিক করতে হবে।এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকবে না। ইতিমধ্যে এ-সংক্রান্ত আইনও সংশোধন হয়েছে।নির্বাচনের সময় নির্ধারণের আলোচনার মধ্যে মেয়াদ শেষ হওয়া ইউনিয়নগুলোর বিষয়টিও সামনে এসেছে। বরিশালের ১৯টি ইউনিয়নে নিয়মিত কাজ চালাতে সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অনেক স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানও চলছে প্রশাসক দিয়ে। নির্বাচন আগামী মে মাস পর্যন্ত পিছিয়ে গেলে এসব প্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি পেতে মানুষের অপেক্ষা আরও বাড়বে।
২০০১ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে ব্র্যাক ব্যাংক সব সময়ই গ্রাহককেন্দ্রিক চিন্তাকে প্রাধান্য দিয়ে এসেছে। গ্রাহকদের অগ্রাধিকারের ধারায় পরিবেশবান্ধব গাড়ির ঋণেও সুবিধা পাচ্ছে। আধুনিক নগরায়ণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ব্যক্তিগত যাতায়াতের চাহিদাও বাড়ছে। তবে এখন সময় এসেছে পরিবেশ নিয়ে ভাবার। এ কারণেই ব্র্যাক ব্যাংক গ্রিন মোবিলিটি বা পরিবেশবান্ধব গাড়ি কেনায় গ্রাহকদের বিশেষভাবে উৎসাহিত করছে।পরিবেশবান্ধব স্মার্ট যাতায়াত নিশ্চিত করতে হাইব্রিড ও ইলেকট্রিক গাড়ি (ইভি) কেনার ক্ষেত্রে আমরা আকর্ষণীয় অফার ও অগ্রাধিকার দিচ্ছি। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, বর্তমানে ইভি বা হাইব্রিড গাড়ির মূল্যের সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত অটো লোন দেওয়া হচ্ছে। দেশের সাধারণ ও মধ্যবিত্ত গ্রাহকেরা যেন সহজেই পরিবেশবান্ধব গাড়ির মালিক হতে পারেন, সে জন্য মাত্র ২০ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে এবং ১২ থেকে ৭২ মাসের সহজ কিস্তিতে (ইএমআই) গাড়ি কেনার সুযোগ করে দিয়েছি আমরা।নারীর ক্ষমতায়নে ব্র্যাক ব্যাংক সব সময় অগ্রণী। আমাদের বিশেষায়িত ব্যাংকিং উইং ‘তারা’-এর মাধ্যমে নারী গ্রাহকেরা পরিবেশবান্ধব গাড়ি কেনায় অগ্রাধিকার, সহজ শর্ত এবং ক্রেডিট কার্ডে কম সুদের সুবিধা পাচ্ছেন।গ্রাহকদের ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে আমাদের অটো লোন প্রসেসিং এখন আগের চেয়ে অনেক সহজ ও দ্রুত। দেশজুড়ে দুই হাজারের বেশি টাচ পয়েন্ট এবং সুদক্ষ লোন প্রসেসিং টিমের কারণে যাচাই-বাছাইয়ে সময় অনেক কম লাগছে। চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে মাসিক আয় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা হলেই অটো লোনের আবেদন করা যাচ্ছে। ‘আস্থা’ অ্যাপ এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ঘরে বসেই প্রাথমিক আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। এরপর আমাদের প্রতিনিধি ডোরস্টেপ সার্ভিসের মাধ্যমে গ্রাহকের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করেন।এ ছাড়া স্বনামধন্য গাড়ির ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে আমাদের কৌশলগত অংশীদারত্ব রয়েছে। যেমন বর্তমানে নির্দিষ্ট মডেলের হুন্দাই গাড়ির ক্ষেত্রে শূন্য প্রসেসিং ফি ও বিশেষ মূল্যছাড়সহ নানা সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। পরিবেশ সুরক্ষায় রিকন্ডিশন্ড ও নতুন হাইব্রিড গাড়ির লোনকে সহজলভ্য করার মাধ্যমে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি দূষণমুক্ত ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়াই আমাদের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য।ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড হেড অব রিটেইল ব্যাংকিং, ব্র্যাক ব্যাংক