জাতীয়

‘স্বচ্ছতা ও সহনশীল শর্তই গাড়ির ঋণের মূল শক্তি’

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
‘স্বচ্ছতা ও সহনশীল শর্তই গাড়ির ঋণের মূল শক্তি’
‘স্বচ্ছতা ও সহনশীল শর্তই গাড়ির ঋণের মূল শক্তি’

ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের অটো লোন সুবিধা, স্বচ্ছতা, পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড যানবাহনে অর্থায়ন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. এহতেশামুল হক খান। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন শামসুল হক মো. মিরাজ।

অটো লোনে দীর্ঘমেয়াদি কিস্তির সুবিধা গ্রাহকদের মূলধন ব্যবস্থাপনায় কীভাবে সহায়তা করছে?

এহতেশামুল হক খান: আমরা সব সময় গ্রাহকদের সুবিধার কথা বিবেচনা করেই ঋণের কিস্তি নির্ধারণ করে থাকি। অটো লোনে দীর্ঘমেয়াদি কিস্তির সুবিধা থাকায় গ্রাহকদের মাসিক ঋণ পরিশোধের চাপ তুলনামূলকভাবে অনেক কমে আসে। ফলে গ্রাহককে এককালীন বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় না করে একটি নির্দিষ্ট ও পূর্বনির্ধারিত মাসিক কিস্তির মাধ্যমে পছন্দসই গাড়ি কেনার সুযোগ তৈরি হয়।

বিশেষ করে চাকরিজীবী গ্রাহকদের ক্ষেত্রে মাসিক আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কিস্তি শোধের সুযোগ থাকায় তাঁদের ব্যক্তিগত নগদ প্রবাহ (ক্যাশ ফ্লো) আরও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয়। একইভাবে ব্যবসায়ী গ্রাহকেরা তাঁদের ব্যবসার চলতি মূলধন (ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল) বা দৈনন্দিন পরিচালন ব্যয় অক্ষুণ্ণ রেখেও স্বাচ্ছন্দ্যে গাড়ির অর্থায়ন করতে পারেন।

আপনারা ‘জিরো হিডেন চার্জ’-এর কথা বলছেন। লোন প্রসেসিং ও অন্যান্য ফির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা কীভাবে বজায় রাখেন?

এহতেশামুল হক খান: অটো লোনসহ যেকোনো ঋণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রযোজ্য নির্দেশনা ও অনুমোদিত চার্জ কাঠামো কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়। আমাদের অনুমোদিত ও প্রকাশিত চার্জের বাইরে কোনো গোপন বা অপ্রকাশিত ফি আরোপ করা হয় না। কোনো গ্রাহক কার লোনের জন্য আবেদন করার আগেই প্রযোজ্য চার্জ, প্রসেসিং ফি, সুদের হার এবং অন্যান্য সব শর্ত সম্পর্কে স্পষ্টভাবে অবহিত করা হয়। স্বচ্ছতা ও আস্থার ভিত্তিতে গ্রাহকদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সম্পর্ক গড়ে উঠছে।

নির্ধারিত সময়ের আগে লোন সম্পূর্ণ বা আংশিক পরিশোধ করতে চাইলে কোনো অতিরিক্ত জরিমানা বা পেনাল্টি ফি আছে কি?

এহতেশামুল হক খান: ঋণের আগাম সম্পূর্ণ বা আংশিক পরিশোধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শর্তাবলি বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালনা করা হয়। বর্তমানে নির্ধারিত সময়ের আগে সম্পূর্ণ বা আংশিক পরিশোধের ক্ষেত্রে প্রদেয় টাকার ওপর দশমিক ৫ শতাংশ ফি প্রযোজ্য হয়।

বিশাল শাখা ও এজেন্ট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ঢাকার বাইরের শহরের গ্রাহকদের কীভাবে অটো লোনের আওতায় আনছেন?

এহতেশামুল হক খান: আমরা প্রান্তিক পর্যায়ের গ্রাহকদের কাছেও কার লোন সেবা পৌঁছে দিচ্ছি। সম্প্রতি ঢাকার বাইরেও

বিভিন্ন নামীদামি ব্র্যান্ডের গাড়ির শোরুম চালু হচ্ছে, ফলে সেখানেও গাড়ি কেনার একটি বড় চাহিদা আছে। একই সঙ্গে লোন নিয়ে গাড়ি কেনার প্রবণতাও সেখানে বাড়ছে।

দেশের বিস্তৃত অঞ্চলে আমাদের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক থাকায় গ্রাহকেরা খুব সহজেই লোনের জন্য আবেদন করতে পারছেন। আমাদের ২৪৩টি শাখা, ৩৫০টি উপশাখা এবং ৫ হাজার ৬২০টি এজেন্ট আউটলেটের মাধ্যমে দ্রুত প্রসেসিং নিশ্চিত করে রাজধানীর বাইরের গ্রাহকদের জন্যও সহজ ও সুবিধাজনক অর্থায়ন নিশ্চিত করা হচ্ছে।

গ্রিন অর্থায়নের নীতিমালার অধীন ইভি গাড়ির প্রসারে আগামী দিনে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের নতুন কোনো পরিকল্পনা আছে কি?

এহতেশামুল হক খান: বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রিন ফাইন্যান্স নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভবিষ্যতে ইলেকট্রিক ভেহিকেল (ইভি) অর্থায়ন আরও সম্প্রসারণ, প্রতিযোগিতামূলক অর্থায়ন কাঠামো প্রবর্তন, ডিলার পার্টনারশিপ বৃদ্ধি এবং গ্রাহকদের জন্য আরও সহজ ও দ্রুত ঋণসেবা প্রদানের লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
অভিজিৎ ও ধ্রুব রাঠি ছাড়া সবাইকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ
অভিজিৎ ও ধ্রুব রাঠি ছাড়া সবাইকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ

নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে শনিবার দিল্লি জুড়ে অন্তত তিন হাজার মানুষ আটক হয়েছে।

News অক্টোবর ১০, ২০২৬ 0
প্রতিদিন যন্তর মন্তরের দিকে মিছিল করার ঘোষণা সিজেপির

প্রতিদিন যন্তর মন্তরের দিকে মিছিল করার ঘোষণা সিজেপির

ছেড়ে দেওয়া হয়েছে মমতা ও কেজরিওয়ালকে

ছেড়ে দেওয়া হয়েছে মমতা ও কেজরিওয়ালকে

গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করে বিএনপি দেশের মানুষের সাথে গাদ্দারি করেছে

গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করে বিএনপি দেশের মানুষের সাথে গাদ্দারি করেছে

বনানীতে কমফিস্টাইলের প্রথম ফ্ল্যাগশিপ আউটলেট চালু
বনানীতে কমফিস্টাইলের প্রথম ফ্ল্যাগশিপ আউটলেট চালু

রাজধানীর বনানী ১১-তে প্রথম ফ্ল্যাগশিপ আউটলেট চালু করেছে পুর্বাণী গ্রুপের ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড কমফিস্টাইল।

News অক্টোবর ১০, ২০২৬ 0
২১ ঘণ্টায়ও মামলা হয়নি, কেউ শনাক্ত হয়নি

২১ ঘণ্টায়ও মামলা হয়নি, কেউ শনাক্ত হয়নি

সিলেটে বাস-অটোরিকশার সংঘর্ষে মা-মেয়ের মৃত্যু

সিলেটে বাস-অটোরিকশার সংঘর্ষে মা-মেয়ের মৃত্যু

ডোপ টেস্ট পজিটিভ, যুবদল নেতা বোরহান কারাগারে

ডোপ টেস্ট পজিটিভ, যুবদল নেতা বোরহান কারাগারে

আবারো সৌদি আরবের বিমানবন্দরে বিস্ফোরণ
আবারো সৌদি আরবের বিমানবন্দরে বিস্ফোরণ

আবারো সৌদি আরবের বিমানবন্দরে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। শনিবার রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়ার পর সেখানে এক ডজনেরও বেশি অ্যাম্বুলেন্সকে দ্রুত ছুটে যেতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

News অক্টোবর ১০, ২০২৬ 0
বগুড়ায় চুরির অভিযোগে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

বগুড়ায় চুরির অভিযোগে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা হবে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী  

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা হবে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী  

পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ‌্যুৎ উৎপাদনে যুগান্তকারী সাফল‌্য: অর্থমন্ত্রী

পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ‌্যুৎ উৎপাদনে যুগান্তকারী সাফল‌্য: অর্থমন্ত্রী

0 Comments