জাতীয়

নার্ভাস হলে পেটে অস্বস্তি হয় কেন? মস্তিষ্ক আর পেটের এই গভীর যোগাযোগ ব্যবস্থার যত্ন কীভাবে নেবেন

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
নার্ভাস হলে পেটে অস্বস্তি হয় কেন? মস্তিষ্ক আর পেটের এই গভীর যোগাযোগ ব্যবস্থার যত্ন কীভাবে নেবেন
নার্ভাস হলে পেটে অস্বস্তি হয় কেন? মস্তিষ্ক আর পেটের এই গভীর যোগাযোগ ব্যবস্থার যত্ন কীভাবে নেবেন

কোনও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পেটের ভেতরটা কেমন যেন গুলিয়ে ওঠে,  কারও সঙ্গে কথা বলার সময় হঠাৎ পেটে অস্বস্তি হয়। পরীক্ষার আগের রাতে অনেক সময় বারবার বাথরুমে যেতে হয় কিংবা কোনও খারাপ খবর শোনার পর মনে হয়, পেটের ভেতরটাও যেন অস্থির হয়ে উঠেছে। এর পেছনে কিন্তু শুধু মনের খেলা নেই। এরকম কিছু ঘটা মানে শরীরের ভেতর সত্যিই তখন মস্তিষ্ক ও অন্ত্রের মধ্যে এক ধরনের যোগাযোগ চলছে।

পেটের ভেতরে আছে নিজস্ব স্নায়ুতন্ত্র

‘দ্য মাইন্ড-গাট কানেকশন’ বইয়ে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, লস অ্যাঞ্জেলেসের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ও স্নায়ুবিজ্ঞানী ডা. এমেরান মেয়ার মস্তিষ্ক ও অন্ত্রের এই সম্পর্কটি সহজভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। আমাদের অন্ত্রে আছে একটি বিশাল স্নায়ুতন্ত্র, যার নাম ‘এন্টেরিক নার্ভাস সিস্টেম’, এটি পরিপাকতন্ত্রের বিভিন্ন কাজ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একারণেই একে অনেক সময় ‘দ্বিতীয় মস্তিষ্ক’ বলা হয়। পেট শুধু খাবার হজম করার জায়গা নয়,  অন্ত্রের নিজস্ব স্নায়ুতন্ত্র সারাক্ষণ শরীরের ভেতরের নানা পরিবর্তন বুঝতে ও তার প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে কাজ করে।

মস্তিষ্ক শুধু নির্দেশ দেয় না

আমরা সাধারণত শরীরের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে একমুখীভাবে ভাবি। মস্তিষ্ক নির্দেশ দেবে, আর শরীর সেই নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করবে কিন্তু বাস্তবে যোগাযোগটি অনেক বেশি জটিল। মস্তিষ্ক ও অন্ত্রের মধ্যে যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হলো ভেগাস নার্ভ। এই স্নায়ুপথের মাধ্যমে অন্ত্রের অবস্থা সম্পর্কে মস্তিষ্কে নিয়মিত সংকেত পৌঁছায় ফলে আমরা কী খেয়েছি, অন্ত্রে কী ধরনের পরিবর্তন হচ্ছে কিংবা শরীরের ভেতরের পরিবেশ কেমন, তার কিছুটা প্রভাব মস্তিষ্কের কার্যক্রমেও পড়তে পারে।

এই কারনে ভয়, উদ্বেগ বা উত্তেজনার সময় পেটে অস্বস্তি হতে পারে। আবার দীর্ঘদিনের মানসিক চাপের প্রভাবও পরিপাকতন্ত্রে দেখা দিতে পারে। তার মানে অন্ত্র ও মস্তিষ্কের মধ্যে সত্যিই জৈবিক যোগাযোগ আছে।

মানসিক চাপ ও অন্ত্রের সম্পর্ক

এই সম্পর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো অন্ত্রের অণুজীব বা মাইক্রোবায়োম। আমাদের অন্ত্রে অসংখ্য অণুজীব বসবাস করে, যেগুলো পরিপাক, বিপাক এবং শরীরের বিভিন্ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, অনিয়মিত জীবনযাপন এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অন্ত্রের স্বাভাবিক পরিবেশে পরিবর্তন আনতে পারে। একইভাবে অন্ত্রের পরিবর্তনও শরীর ও মস্তিষ্কের বিভিন্ন সংকেত ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে।আমাদের জীবন যাপনের ধরনের উপর নির্ভর করে  একটি চক্র তৈরি হয়।

মানসিক চাপ বাড়ল, ঘুম ও খাবারের রুটিন এলোমেলো হলো, অন্ত্রের স্বাভাবিক ভারসাম্যে পরিবর্তন এলো, তারপর সেই পরিবর্তনের প্রভাব শরীর ও মনের ওপরও পড়ল, যেকারনে অস্বস্তি আরও বাড়তে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে উদ্বেগ বা বিষণ্ণতার একমাত্র কারণ অন্ত্রের সমস্যা। মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে জড়িত বিষয়গুলো অনেক বেশি জটিল এবং এর পেছনে জৈবিক, মানসিক ও সামাজিক নানা কারণ কাজ করে।

তাহলে এই যোগাযোগ ব্যবস্থার যত্ন নেবেন কীভাবে?

মস্তিষ্ক ও অন্ত্রের সম্পর্কের কথা ভাবলে শুধু খাবারের দিকে তাকালেই হবে না জীবনযাপনের সামগ্রিক চিত্রটিও গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং ধীরে খাওয়ার অভ্যাস শরীরের জন্য উপকারী। পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি, ফল, ডাল, গোটা শস্য ও অন্যান্য আঁশযুক্ত খাবার রাখা যেতে পারে।

যেসব খাবারে উপকারী অণুজীব বা তাদের বৃদ্ধিতে সহায়ক উপাদান থাকে, সেগুলোকেও সুষম খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। অন্যদিকে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার, চিনি ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস কমানো অন্ত্রের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে।

তবে সবার জন্য একই নিয়ম নয়

অন্ত্রের স্বাস্থ্য নিয়ে এখন অনলাইনে অসংখ্য পরামর্শ পাওয়া যায়। কোন খাবার ‘অবশ্যই’ খেতে হবে, কোন অণুজীবের জন্য কোন সাপ্লিমেন্ট প্রয়োজন কিংবা কোন খাবার খেলেই সব ধরনের হজমের সমস্যা চলে যাবে, এমন দাবি প্রায়ই দেখা যায় তবে বাস্তবে বিষয়টি এতটা সহজ নয়। একজনের জন্য উপকারী খাবার অন্যজনের ক্ষেত্রে অস্বস্তির কারণ হতে পারে।

বিশেষ কোনও শারীরিক সমস্যা থাকলে, নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে কিংবা দীর্ঘদিন ধরে হজমের সমস্যা চললে নিজের মতো করে সাপ্লিমেন্ট বা কঠোর খাদ্যতালিকা শুরু না করাই ভালো। আপনার শরীরের প্রয়োজন নির্ভর করে আপনার খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাপন, শারীরিক অবস্থা ও ব্যক্তিগত ইতিহাসের ওপর।

মন আর পেটকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই

কোনও দুশ্চিন্তায় পেট মোচড় দিতে পারে, আবার দীর্ঘদিনের পেটের অস্বস্তি মনের ওপরও চাপ তৈরি করতে পারে। এই দুইয়ের সম্পর্ক বুঝতে পারলে নিজের শরীরের অনেক সংকেতকেই নতুনভাবে দেখা সম্ভব। তাই সুস্থ থাকার যত্ন শুধু প্লেটের খাবার নিয়েই নয়, ঘুম, মানসিক চাপ, দৈনন্দিন অভ্যাস এবং শরীরের দেওয়া সংকেতগুলোর দিকেও নজর রাখা জরুরি। মন ও পেটকে আলাদা দুটি বিষয় না ভেবে, শরীরের একই যোগাযোগব্যবস্থার অংশ হিসেবে দেখুন।

আপনার শারীরিক অবস্থা, জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাস বিবেচনা করে ব্যক্তিগত খাদ্য ও পুষ্টি পরিকল্পনা প্রয়োজন হলে একজন অভিজ্ঞ পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিতে পারেন।

ছবি পেক্সেল ও জেমিনি
তথ্য এন আই এইচ পাব মেড সেন্টার

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
শিক্ষার্থীদের মনে বৃক্ষপ্রেমের বীজ বুনে দিতে উদ্যোগ
শিক্ষার্থীদের মনে বৃক্ষপ্রেমের বীজ বুনে দিতে উদ্যোগ

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মনে বৃক্ষপ্রেমের বীজ বুনে দিতে উদ্যোগ নিয়েছে ভৈরব বন্ধুসভা। ‘বৃক্ষ শুধু রোপণ নয়, যত্ন নিয়ে বাঁচাতে হয়’ প্রতিপাদ্যে স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ, চারা বিতরণ ও গাছের পরিচর্যাবিষয়ক নানা কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি।গত ২৭ আগস্ট আফছর উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। এদিন শিক্ষার্থীদের মধ্যে শতাধিক ফলদ, বনজ ও পরিবেশবান্ধব গাছের চারা বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি বিদ্যালয় চত্বরেও বেশ কয়েকটি চারা রোপণ করেন বন্ধুসভার সদস্যরা।পরিবেশবিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতাচারা হাতে পেয়ে আনন্দে মেতে ওঠে শিক্ষার্থীরা। শুধু গাছ লাগানোই নয়, সেগুলো পরম যত্নে বড় করে তোলার দৃঢ়প্রত্যয় ব্যক্ত করে তারা। কর্মসূচিকে আরও প্রাণবন্ত করতে আয়োজন করা হয় পরিবেশবিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা।অনুষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা তুলে ধরে বক্তব্য দেন ভৈরব বন্ধুসভার সভাপতি জান্নাতুল মিশু। এ ছাড়া সাধারণ সম্পাদক জিসানউল্লাহ আনাস বৃক্ষরোপণকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন এবং পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক মহিমা মেধা প্রতিটি চারাকে পরিচর্যার মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ গাছে পরিণত করার আহ্বান জানান।শিক্ষার্থীদের মধ্যে গাছের পরিচর্যা নিয়ে আলোচনাআফছর উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম রিপন বন্ধুসভার এ উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ‘আশা করি, শিক্ষার্থীরা গাছগুলোকে ভালোবাসবে ও বড় করবে। একই সঙ্গে পরিবেশ রক্ষায় উদ্যোগী হয়ে উঠবে।’পরবর্তী ধাপে ব্লু বার্ড স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও অর্ধশত গাছ উপহার হিসেবে দেওয়া হয়। কেবল নতুন চারা রোপণই নয়, পূর্বের বছরগুলোতে রোপণ করা গাছের নিয়মিত খোঁজখবর রাখছে সংগঠনটি। তারই অংশ হিসেবে জব্বার জুট মিলস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন সদস্যরা।ব্লু বার্ড স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য গাছ পাঠানোবিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক হাসিনা পান্না জানান, গত বছর বন্ধুসভার সহযোগিতায় গড়ে তোলা ফলের বাগানটির সঠিক যত্ন নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে চলতি সেপ্টেম্বরেও সেখানে নতুন কিছু চারা উপহার দেওয়া হচ্ছে।সব মিলিয়ে ভৈরব বন্ধুসভার ও শুভানুধ্যায়ীদের যৌথ অর্থায়নে চলতি মৌসুমে দুই শতাধিক চারা রোপণ ও বিতরণ করা হয়েছে।আফছর উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গাছ রোপণ করাকর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি আফিসা আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাসেল রাজ, বইমেলা সম্পাদক মাহমুদুল হাসান, পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক হেপী বেগম, মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক ভুবন আহমেদ, বন্ধু অনুপম, তুহিন, আদিব, লোভনা ইসলাম, জিসান, রাকিবসহ অনেকে।সাংস্কৃতিক সম্পাদক, ভৈরব বন্ধুসভা

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে এবারও ভিসা দিল না যুক্তরাষ্ট্র, কিন্তু কেন

ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে এবারও ভিসা দিল না যুক্তরাষ্ট্র, কিন্তু কেন

পরিবেশবান্ধব গাড়িতে রেকর্ড অর্থায়ন

পরিবেশবান্ধব গাড়িতে রেকর্ড অর্থায়ন

বন্ধুদের আড্ডায় পরিকল্পনা, এবার যুক্তরাষ্ট্রে মর্টার তৈরির প্রতিযোগিতায় চুয়েটের চার শিক্ষার্থী

বন্ধুদের আড্ডায় পরিকল্পনা, এবার যুক্তরাষ্ট্রে মর্টার তৈরির প্রতিযোগিতায় চুয়েটের চার শিক্ষার্থী

মক্কার দিকে হুতিদের ড্রোন, পাশে পাকিস্তান, কী বলছে তুরস্ক?
মক্কার দিকে হুতিদের ড্রোন, পাশে পাকিস্তান, কী বলছে তুরস্ক?

ইরানপন্থী হুতিরা পবিত্র মক্কা নগরীর দিকে ড্রোন ছুড়েছে বলে অভিযোগ করেছে সৌদি আরব। এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে ওআইসি। সৌদি আরবের মিত্র তুরস্ক ও পাকিস্তান এ বিষয়ে কী বলছে, দেখুন ভিডিওতে...

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
যোগসাজশমূলক গাড়িবিলাস বন্ধ করতে হবে

যোগসাজশমূলক গাড়িবিলাস বন্ধ করতে হবে

মায়ামিতে মেসির শততম গোল, জিতলেন শিরোপা

মায়ামিতে মেসির শততম গোল, জিতলেন শিরোপা

নতুন দায়িত্বের শুরুতেই ক্ল্যাসিক হলিউড আমেজে নজর কাড়লেন নুসরাত ফারিয়া

নতুন দায়িত্বের শুরুতেই ক্ল্যাসিক হলিউড আমেজে নজর কাড়লেন নুসরাত ফারিয়া

আমিয়াখুম ভ্রমণের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা
আমিয়াখুম ভ্রমণের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা

নাগরিক ভ্রমণ–১ সেকশন: , নাগরিক সংবাদ ট্যাগ: , , রেমাক্রি, সাঙ্গু নদ, ট্যুর গ্রুপ, ছবি: ...নামে এডু জবসে মেটা ও এক্সসার্প্ট: ব্লার্ব: ১ ব্লার্ব: ২ ব্লার্ব–৩ আমার জীবনের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ভয়ংকর আর স্মৃতিতে জাগরূক হয়ে থাকবে এবারের নাফাখুম-আমিয়াখুম ট্যুর। প্রায় মরতে মরতে বেঁচে ফিরে এসেছি। আমি দীর্ঘদিন ট্যুর করি। এটা আমার প্যাশন। ইতিমধ্যে বাংলাদেশের জনপ্রিয় অনেক দর্শনীয় স্থান আমার দেখা হয়েছে। অনেকদিন থেকেই আমার নাফাখুম–আমিয়াখুম যাওয়ার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু যেহেতু এটা ট্রেকিং ট্যুর আর এক্সপেনসিভ (অন্তত আমার কাছে), তাই ব্যাটে–বলে মিলছিল না। কিন্তু এবারের রোজার ঈদে সবকিছু মনমতো হয়ে যাওয়াতে বেরিয়ে পড়লাম নাফাখুমের উদ্দেশে।রাত ৮টায় আমরা সায়েদাবাদ থেকে বান্দরবানের বাসে একটা ট্যুর গ্রুপের সঙ্গে উঠে পড়ি। সেখানে আরও কয়েকটা ট্যুর গ্রুপ ছিল। সব মিলিয়ে প্রায় ৩৫ জন। বাস ছেড়ে দিল, তারপর রাতের ঠান্ডা হাওয়া উপভোগ করতে করতে পৌঁছে গেলাম চকরিয়া। সেখান থেকে আরেকটা বাসে আলীকদম। আলীকদম থেকে চান্দের গাড়ি করে থানচি। থানচি থেকে ট্রলারে করে পদ্মঝিরি।আমি ভেবেছিলাম, আমিয়াখুম বোধ হয় আর যেতে পারব না। শরীরে এত ব্যথা ছিল। ১২টা নাগাদ রাতের খাবার দিল। কোনোরকম মুখে গুঁজে তারপর কিছু ওষুধ খেয়ে নিলাম।থানচি থেকেই মূলত নো নেটওয়ার্কের আওতায় পড়ে। কোনো নেট নেই এরপর আর। আর এখানেই আমাদের দুর্ভোগের সূচনা। কথা ছিল, আমাদের রেমাক্রি পর্যন্ত ট্রলারে করে নিয়ে যাওয়া হবে। তারপর সেখান থেকে ৪-৫ ঘণ্টা হেঁটে থুইসা পাড়ায় পৌঁছে যাব। কিন্তু বিধিবাম! ট্রেকিং যেহেতু করতে এসেছি, প্রকৃতি আমাদের ট্রেকিংয়ের আদ্যোপান্ত শিখিয়ে দিল। বলা হলো, তেলসংকটের কারণে ট্রলার আর সামনে যাবে না আমাদের এখান থেকেই ট্রেকিং শুরু করতে হবে। পদ্মঝিরি থেকে আমাদের ট্রেকিংয়ের শুরু হলো বেলা ১টায়।প্রথমে ভালোই লাগছিল, ঝিরিপথ ধরে হাঁটছিলাম পাহাড়ি দৃশ্য উপভোগ করতে করতে। দুপুরের খাবার খেয়ে নিলাম। তারপর আবার ঝিরি ধরে হাঁটা। আসল খেলা শুরু হলো বিকেল ৪টার পর। একের পর এক পাহাড় চলে আসছিল সামনে। ওগুলো বেয়ে বেয়ে ওপরে উঠি। সন্ধ্যা নেমে গেলে আমাদের বলা হলো দোকানে বসে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিতে। আর আধা ঘণ্টা হাঁটলেই আমরা থুনচিপাড়ায় পৌঁছে যাব। কিন্তু দেখা গেল, আধা ঘণ্টার স্থানে ২ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও পাড়ার দেখা মিলছে না। একে তো ক্লান্ত শরীর, তার ওপর উঁচু উঁচু খাড়া পাহাড়ের ঢাল। এর মধ্যে আবার রাত নেমে এসেছে। টর্চ জ্বালিয়ে সবাই হাঁটছিলাম। আমাদের গ্রুপে বেশ কয়েকজন ছিলেন পঞ্চাশোর্ধ্ব। তাঁরা আগে তেমন ট্যুর করেননি। এটা যে ট্রেকিং ট্যুর, তাঁরা এটাও জানতেন না। আমিয়াখুমের ভিউ দেখে আর হুজুগে পড়ে চলে এসেছেন। তাঁদের সবার অবস্থা খারাপ। হাঁটছেন আর হোস্টকে গালি দিচ্ছেন। ইয়াং যাঁরা, তাঁরাও হতাশ। এ রকম ট্যুর হবে, কেউ প্রত্যাশাই করেননি। সবার শরীর টালমাটাল। শুধু মনের জোরে হাঁটছেন সবাই। পথ যেন শেষই হয় না।যাঁরা আমিয়াখুম যাবেন, ভালো করে খোঁজখবর নিয়ে যাবেন। আর সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হবেন। ট্যুরিজম খাতকে রক্ষা করতে আমাদের এক হতে হবে।অন্ধকারে একবার পাহাড়ে উঠি আবার নেমে ঝিরিপথ দিয়ে হেঁটে আবার আরেকটা পাহাড়। আমার মনে হয়, ৭-৮টা পাহাড় অন্ধকারে আমরা অতিক্রম করেছিলাম। রাত প্রায় সাড়ে ১০টায় আমরা পাড়ায় পৌঁছে গেলাম। আমি লিটারেলি শুয়ে পড়লাম পাড়ার উঠানে। শরীরে আর এক বিন্দু শক্তি নেই। আধা ঘণ্টা এভাবে শুয়ে থাকার পর আমাদের জুমঘরে রুম ঠিক হলো। ৫ জন মেয়ের জন্য একটা রুম, যেখানে আবার রান্নাও হচ্ছে। ফ্লোরে চাঁটাই বিছিয়ে শোয়ার ব্যবস্থা। না খেয়েই শুয়ে পড়লাম। আমি ভেবেছিলাম, আমিয়াখুম বোধ হয় আর যেতে পারব না। শরীরে এত ব্যথা ছিল। ১২টা নাগাদ রাতের খাবার দিল। কোনোরকম মুখে গুঁজে তারপর কিছু ওষুধ খেয়ে নিলাম।পরদিন সকালে ও শরীর খুব ব্যথা, তবু মনের জোরে বের হয়ে পড়লাম আমিয়াখুমের উদ্দেশে। আমাদের টিমের ৩৫ জনের মধ্যে আমিয়াখুম রওনা দিলেন মাত্র ১০ জন। তাঁদের মধ্যে আবার আমরা ২ জন মেয়ে। আঙ্কেলসমাজ বেশ ট্রল করল আমাদের নিয়ে, ‘দেখো, আমরা পারি না, আর বাচ্চা বাচ্চা মেয়ের কী সাহস!’যা–ই হোক, ২ ঘণ্টা হাঁটার পর সেই কাঙ্ক্ষিত দেবতা পাহাড়। যা কিনা আমিয়াখুম যাওয়ার পথে সবচেয়ে ভয়ংকর পাহাড়। কারণ, এর উচ্চতা প্রায় ১ হাজার ৯০০ ফুট আর সবচেয়ে বড় কথা, এটি প্রায় /////////////////৯০° //////////////////খাড়া। দড়ি বেয়ে প্রাণ হাতে নিয়ে নামলাম। একটু এদিক সেদিক হলেই খাদে পড়ে আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।দেবতা পাহাড় থেকে নেমে ভেলাখুম তারপর আমার স্বপ্নের আমিয়াখুম চলে এলাম। ২ দিন যা কষ্ট করেছিলাম, সব মুহূর্তেই পানি হয়ে গেল। এত্ত সুন্দর..!আমিয়াখুমে ছবি তুলে গোসল করে আবার দেবতা পাহাড়ের কাছে চলে এলাম। আরেক অ্যাডভেঞ্চার। কখনো হেঁটে, কখনো বসে, কখনো হামাগুড়ি দিয়ে তারপর চূড়ায় উঠলাম। সেখান থেকে নেমে পাড়ায়।পরদিন আবার তল্পিতল্পা গুটিয়ে নাফাখুম যাত্রা। কথা ছিল, সেখান থেকে রেমাক্রি গিয়ে তারপর বোটে করে থানচি, তারপর চান্দের গাড়ি, তারপর বাসে করে ঢাকা। নাফাখুম দেখে রেমাক্রি এলাম। এই পর্যন্ত সব ঠিক ছিল। রেমাক্রি আসার পর আর নৌকার দেখা নেই। সকাল থেকে দুপুর, দুপুর গড়িয়ে বিকেল। হোস্ট গেছেন নৌকা আনতে। তাঁর আসার খবর নেই। এদিকে নো নেটওয়ার্কের কারণে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগও করা যাচ্ছে না। আমাদের প্যাকেজে লাঞ্চ আছে, সেটাও করানো হচ্ছে না। আমরা সবাই টুকটাক খেয়ে নিলাম।হোস্ট এলেন প্রায় সন্ধ্যায়। এই রাতের বেলায় আমাদের সাঙ্গু নদ দিয়ে যেতে হবে। যেখানে সাঙ্গু নদ হচ্ছে পাহাড়ি নদ। চলতি পথে সব বড় বড় পাথর। দিনের আলোতেই ওখানে চলা যায় না। আর রাত। তবু বুকে সাহস নিয়ে উঠে পড়লাম। গ্রীষ্মকাল হওয়াতে পানি কম। কিছুদূর গিয়ে সবাই নৌকা থেকে নেমে নৌকা ঠেলতে লাগলেন। এক জায়গায় গিয়ে নৌকা আর চলেই না, তারপর আমরা নেমে কিছুদূর পাড় ধরে হাঁটলাম। মাঝি নৌকা ঠেলে নিয়ে এলেন। তারপর নৌকায় উঠার সময় আমরা নদের ওপর দিয়ে হেঁটে ট্রলারে উঠতে হবে, কারণ পানি কম। কিছুদূর গেলাম। মাঝনদীতে গিয়ে দেখি, তীব্র স্রোত। প্রায় ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। কোনোমতে গাইডকে ধরে বাঁচলাম। এরপর নৌকা চলতে শুরু করল বড় বড় পাথরের মাঝখান দিয়ে। এক জায়গায় এসে প্রায় উল্টে গিয়েছিল। আল্লাহ বাঁচিয়ে দিলেন আবার।তিন্দু এসে পৌঁছালাম। মাথায় এখনো টেনশন, এই রাতে কীভাবে থানচি যাব। পাহাড়ি উঁচু খাড়া পথ। অন্ধকারে চান্দের গাড়ি তো চলতে পারবে না। এক ঘণ্টা ওয়েট করার পর হোস্ট বললেন, অনেক দেরি হয়ে গেছে। এ সময় চান্দের গাড়ি চলবে না। আর আমরা যে বাসে উঠব, তা রাতে না গেলে আর যাওয়া যাবে না। আমাদের নিজের টাকায় তিন্দুতে থাকতে হবে। তারপর নিজেদের টাকায় ঢাকা পৌঁছাতে হবে। তাঁরা লাঞ্চের পরিবর্তে সকালে নাশতা করাবেন। এ কথা শুনে সবাই তো অবাক। এত টাকা দিয়েছি, এত কষ্ট করে এই পর্যন্ত এসে এখন এ কথা। তা ছাড়া নো নেটওয়ার্কের কারণে কেউ চাইলেও বিকাশ বা ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে পারবেন না। তারপর সবাই মিলে বুঝিয়ে–শুনিয়ে হোস্টকে তিন্দু থাকার খরচ আর অন্যান্য খরচে রাজি করালেন।সকাল হলে আমরা ট্রলারে করে থানচি, তারপর চান্দের গাড়ি করে চকরিয়া এলাম। এখানে এসে আরেক বিপদ। ঈদের কারণে ঢাকাগামী কোনো সরাসরি বাস নেই। হোস্ট কিছুক্ষণ চেষ্টা করে তারপর আমাদের বাসভাড়া দিয়ে দিলেন। চকরিয়া থেকে চট্টগ্রামে এলাম। সেখান থেকে আবার বাসে করে ঢাকায় পৌঁছালাম ভোর ৫টায়। তারপর স্বস্তির নিশ্বাস ছাড়লাম। যত দিন বেঁচে থাকব, এই ট্যুরের কথা আমি কখনোই ভুলব না।যাঁরা আমিয়াখুম যাবেন, ভালো করে খোঁজখবর নিয়ে যাবেন। আর সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হবেন। ট্যুরিজম সেক্টরকে রক্ষা করতে আমাদের এক হতে হবে।লেখক: শায়লা এ্যামিন, শিক্ষার্থী, উত্তরা, ঢাকানাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই–মেইল: ns@prothomalo.com

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
১৩২ বছর পর গ্রন্থাগারে ফিরল সাময়িকী

১৩২ বছর পর গ্রন্থাগারে ফিরল সাময়িকী

ভেজা আউটফিল্ডে ম্যাচ পরিত্যক্ত, সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

ভেজা আউটফিল্ডে ম্যাচ পরিত্যক্ত, সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

ব্রিটিশ কাউন্সিলের অনলাইন কোর্স, ফ্রি ডিজিটাল আপগ্রেডের সুযোগ

ব্রিটিশ কাউন্সিলের অনলাইন কোর্স, ফ্রি ডিজিটাল আপগ্রেডের সুযোগ

0 Comments