জাতীয়

ব্রিটিশ কাউন্সিলের অনলাইন কোর্স, ফ্রি ডিজিটাল আপগ্রেডের সুযোগ

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
ব্রিটিশ কাউন্সিলের অনলাইন কোর্স, ফ্রি ডিজিটাল আপগ্রেডের সুযোগ
ব্রিটিশ কাউন্সিলের অনলাইন কোর্স, ফ্রি ডিজিটাল আপগ্রেডের সুযোগ

ঘরে বসে দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ দিচ্ছে ব্রিটিশ কাউন্সিল। অনলাইন শিক্ষামাধ্যম FutureLearn-এর মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ে ব্রিটিশ কাউন্সিলের কোর্সে অংশ নেওয়া যাচ্ছে। তালিকাভুক্ত কোর্সগুলোর কয়েকটিতে বর্তমানে বিনা মূল্যে ডিজিটাল আপগ্রেডের সুবিধাও দেওয়া হচ্ছে।

FutureLearn-এর ব্রিটিশ কাউন্সিল পেজে মোট ১১টি কোর্সের তালিকা রয়েছে। এর মধ্যে একই প্রত্নতত্ত্বভিত্তিক কোর্সের ইংরেজি, আরবি, ফরাসি ও ফারসি সংস্করণ রয়েছে। ভাষাভিত্তিক সংস্করণ বাদ দিলে আলাদা বিষয় হিসেবে ছয়টি কোর্স রয়েছে।

ফ্রি ডিজিটাল আপগ্রেড কী

‘ফ্রি ডিজিটাল আপগ্রেড’ সুবিধার মাধ্যমে নির্দিষ্ট কোর্সের বাড়তি সুবিধাগুলো বিনা মূল্যে পাওয়া যায়। এর মধ্যে কোর্সের কনটেন্টে দীর্ঘমেয়াদি প্রবেশাধিকার, কোর্সের সব ধাপ সম্পন্ন করার সুযোগ এবং নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে ডিজিটাল সার্টিফিকেট পাওয়ার সুবিধা থাকতে পারে।

যেসব কোর্স করা যাবে

১. আন্তসাংস্কৃতিক যোগাযোগ (Communicating across Cultures): মেয়াদ তিন সপ্তাহ। প্রতি সপ্তাহে প্রায় চার ঘণ্টা সময় দিতে হয়।

২. স্টাডি ইউকে: কর্মজীবনের প্রস্তুতি (Study UK: Preparing for Work): মেয়াদ তিন সপ্তাহ। প্রতি সপ্তাহে প্রায় চার ঘণ্টা সময় দিতে হয়।

৩. যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার সময় নিজের সুস্থতা বজায় রাখা (Managing Your Wellbeing When Studying in the UK): মেয়াদ তিন সপ্তাহ। প্রতি সপ্তাহে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় দিতে হয়।

৪. স্টাডি ইউকে: যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা ও বসবাসের প্রস্তুতি (Study UK: Prepare to **Study and Live in the UK): মেয়াদ চার সপ্তাহ। প্রতি সপ্তাহে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় দিতে হয়।

৫. ঝুঁকিপূর্ণ প্রত্নতত্ত্ব: সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সুরক্ষায় রিমোট সেন্সিংয়ের ব্যবহার (Endangered Archaeology: Using Remote Sensing to Protect Cultural Heritage): মেয়াদ ছয় সপ্তাহ। প্রতি সপ্তাহে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় দিতে হয়।

৬. উন্নত প্রত্নতাত্ত্বিক রিমোট সেন্সিং: মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান অনুসন্ধান, ল্যান্ডস্কেপ আর্কিওলজি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ (Advanced Archaeological Remote Sensing: Site Prospection, Landscape Archaeology and Heritage Protection in the Middle East and North Africa): মেয়াদ ছয় সপ্তাহ। প্রতি সপ্তাহে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় দিতে হয়।

আবেদন করবেন যেভাবে

ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। পছন্দের কোর্স নির্বাচন করে নিবন্ধন করা যাবে। কোর্সের শুরু ও নিবন্ধনের শর্তও সংশ্লিষ্ট পেজে দেওয়া রয়েছে।

কোর্সগুলো অনলাইনে হওয়ায় নিজস্ব সময় অনুযায়ী শেখার সুযোগ রয়েছে। তবে কোর্সভেদে ফ্রি অ্যাকসেস ও ডিজিটাল আপগ্রেডের শর্ত আলাদা হতে পারে।

* বিস্তারিত দেখুন এখানে

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
২ হাজার ই–মেইল থেকে চুলের রহস্য, জোড়া খুনের রহস্য সমাধানে দম্পতির অবিশ্বাস্য যাত্রা
২ হাজার ই–মেইল থেকে চুলের রহস্য, জোড়া খুনের রহস্য সমাধানে দম্পতির অবিশ্বাস্য যাত্রা

২০০২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কানসাসের টোপেকায় খুন হন কারেন হার্কনেস ও মাইক সিসকো। সন্দেহের তির গিয়ে পড়ে সিসকোর সাবেক স্ত্রী ডানা চ্যান্ডলারের দিকে। গ্রেপ্তার, তিন দফা বিচার, সাজা—সবই হয়েছে। কিন্তু খুনের রহস্য কি সত্যিই সমাধান হয়েছে? দুই দশক ধরে সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছেন ইলিন ও কিন উমবের। তাঁদের অনুসন্ধান, জেদ ও সন্দেহ নিয়েই এইচবিওর তিন পর্বের তথ্যচিত্র ‘আ কিলার স্টোরি’। ২০১৭ সালে কানসাসের আলমা শহর থেকে সাংবাদিক জো সেক্সটনের কাছে একটি ই–মেইল আসে। পাঠিয়েছেন ইলিন উমবের, পেশায় গৃহিণী। জানতে চেয়েছেন, ২০০২ সালে টোপেকায় ঘটে যাওয়া একটি জোড়া খুনের সত্যিটা সেক্সটন জানতে চান কি না। অভিজ্ঞ অনুসন্ধানী সাংবাদিক সেক্সটনের তখন এ মামলায় আগ্রহ ছিল না। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও প্রোপাবলিকায় কাজ করা এই সাংবাদিকের কাছে মামলাটি প্রায় সমাধান হয়ে যাওয়া একটি ঘটনা। ২০০২ সালের ৭ জুলাই গভীর রাতে কারেন হার্কনেস ও তাঁর প্রেমিক মাইক সিসকোকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের ধারণা ছিল, হত্যার পেছনে ছিলেন সিসকোর সাবেক স্ত্রী ডানা চ্যান্ডলার। তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ২০১২ সালে প্রথম ডিগ্রির খুনে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।তাই সেক্সটন ইলিনকে জানিয়ে দেন, তিনি এ বিষয়ে আগ্রহী নন। কিন্তু ইলিন থামেননি। কখনো এক সপ্তাহে ১০টি ই–মেইল, কখনো দুই সপ্তাহ কোনো বার্তা নেই, আবার এক দিনেই ২৫টি। প্রতিটি ই–মেইলে আদালতের নথি, ব্যালিস্টিকস রিপোর্ট, সম্পত্তির কাগজপত্রসহ নানা তথ্য। কয়েক শ ই–মেইল একসময় কয়েক হাজারে পৌঁছায়। ইলিনের এই অনুসন্ধান অবশ্য নিছক শখ ছিল না। তাঁর স্বামী কিন উমবের একজন আইনজীবী। তাঁরা নিজেদের অর্থ খরচ করে বহু বছর ধরে চ্যান্ডলারের মামলা খতিয়ে দেখছিলেন এবং তাঁর পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন।এরপর আসে ই–মেইল নম্বর ২ হাজার ৭১৪। ইলিন জানান, কানসাস সুপ্রিম কোর্ট চ্যান্ডলারের দুই খুনের সাজা বাতিল করেছেন। এবার সেক্সটন আর নিজেকে আটকে রাখতে পারলেন না। উত্তর দিলেন, ‘সম্ভবত আমার আপনার সঙ্গে দেখা করতে আসা উচিত।’সেই সাক্ষাৎ থেকেই শুরু হয় নতুন অধ্যায়। এই যাত্রার গল্পই এখন এইচবিওর তিন পর্বের তথ্যচিত্র ‘আ কিলার স্টোরি’। ১০ সেপ্টেম্বর সিরিজটির প্রচার শুরু হয়েছে। পরিচালক ম্যাথিউ গ্যালকিন। নির্বাহী প্রযোজকদের মধ্যে আছেন অস্কারজয়ী ড্যান কোঘান, জোশুয়া লেভিন এবং লিজ গারবাস ও জন বার্ডিনের স্টোরি সিন্ডিকেট।মামলার শেষ ছয় বছরের ঘটনাপ্রবাহ ক্যামেরায় ধারণ করেছেন নির্মাতারা। তবে তাঁদের লক্ষ্য শুধু খুনি কে, সেই উত্তর খোঁজা নয়; বরং তাঁরা দেখেছেন, সত্য সম্পর্কে মানুষের নিশ্চিত হওয়ার প্রবণতা কখনো কখনো সত্যের কাছাকাছি যাওয়ার বদলে উল্টো দূরে সরিয়ে দিতে পারে।‘আ কিলার স্টোরি’র পোস্টার। আইএমডিবি খুনে ছিল ‘ওভারকিল’–এর ছাপ২০০২ সালের ৭ জুলাইয়ের ঘটনার শুরু আগের সন্ধ্যায়। কারেন হার্কনেস ও মাইক সিসকো একটি ক্যাসিনোয় গিয়েছিলেন। রাত দেড়টা পর্যন্ত ক্যামেরায় তাঁদের দেখা যায়। এরপর তাঁরা হার্কনেসের টোপেকার টাউনহাউসে ফিরে যান। রাত তিনটার আগেই সেখানে পৌঁছেছিলেন তাঁরা।পরে হার্কনেসের বাবা তাঁদের মরদেহ খুঁজে পান। দুজনকেই একাধিকবার গুলি করা হয়েছিল।শুরুতেই ডাকাতির সম্ভাবনা বাদ দেয় পুলিশ। ঘরে টাকা পড়ে ছিল, সিসকোর মানিব্যাগেও টাকা ছিল। হার্কনেসের গয়নাও অক্ষত ছিল। গুলির খোসায় কোনো আঙুলের ছাপ পাওয়া যায়নি। কোনো প্রত্যক্ষদর্শীও ছিল না। হত্যার অস্ত্রও উদ্ধার হয়নি।তবে গুলির খোসায় ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র। সেগুলো ইসরায়েলি তৈরি সাবসনিক বুলেট, যা সাধারণত উজি ধরনের অস্ত্রে ব্যবহার করা হয়। কানসাস ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের কর্মকর্তা রে লানডিন ঘটনাটিকে ‘ওভারকিল’ হিসেবে দেখেছিলেন। তাঁর ধারণা, এটি ছিল আবেগ থেকে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড।সিসকোর পরিবার শুরু থেকেই সন্দেহ করেছিল তাঁর সাবেক স্ত্রী ডানা চ্যান্ডলারকে। তাঁদের ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনের বিচ্ছেদ ছিল তিক্ত। সিসকো বাড়ি ও সন্তানদের হেফাজত পেয়েছিলেন। চ্যান্ডলারের মদ্যপানের সমস্যাও ছিল।পরে চ্যান্ডলার হিসাববিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন, মদ ছেড়ে দেন এবং টোপেকা থেকে প্রায় ৫৪০ মাইল দূরে ডেনভারে চলে যান।হত্যাকাণ্ডের কয়েক দিন পর গোয়েন্দা রিচার্ড ভোল চ্যান্ডলারের সঙ্গে কথা বলেন। চ্যান্ডলার ৬ জুলাইয়ের বিভিন্ন কাজের কথা বলেন, যার মধ্যে অটোজোনে যাওয়ার কথাও ছিল। কিন্তু তদন্তকারীরা এমন রসিদ পান, যাতে দেখা যায় তিনি দুটি পাঁচ গ্যালনের গ্যাস ক্যান কিনেছিলেন।তদন্তকারীদের ধারণা হয়, এই জ্বালানি নিয়ে ডেনভার থেকে টোপেকা গিয়ে আবার ফিরে আসা সম্ভব।প্রায় এক দশক সেটি ছিল কেবল একটি তত্ত্ব। তৎকালীন জেলা অ্যাটর্নি রবার্ট হেখট অভিযোগ আনেননি। কারণ, হত্যার সময় চ্যান্ডলার টোপেকায় ছিলেন, এমন কোনো প্রমাণ ছিল না।২০১১ সালে ওকলাহোমা থেকে চ্যান্ডলারকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০১২ সালের মার্চে টোপেকার জুরি মাত্র ৮৩ মিনিটের আলোচনার পর তাঁকে দুটি প্রথম ডিগ্রির খুনে দোষী সাব্যস্ত করে; দেওয়া হয় পরপর দুটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ১০০ বছর পর্যন্ত প্যারোলের সুযোগ ছাড়া।কিন্তু মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তখনো সামনে আসেনি। বিচারের সময় প্রসিকিউটর জ্যাকুই স্প্র্যাডলিং দাবি করেছিলেন, সিসকো চ্যান্ডলারের বিরুদ্ধে ‘প্রটেকশন ফ্রম অ্যাবিউজ’ আদেশ নিয়েছিলেন। গোয়েন্দা ভোলও আদালতে সেই আদেশের কথা বলেন। কিন্তু কিন উমবের নথি খুঁজে দেখেন, এমন কোনো আদেশই ছিল না।চ্যান্ডলার আপিল করেন। ২০১৮ সালের এপ্রিলে কানসাস সুপ্রিম কোর্ট তাঁর দুই সাজা বাতিল করে দেন। আদালত অবশ্য জানান, পারিপার্শ্বিক প্রমাণ নতুন বিচারের জন্য যথেষ্ট। ফলে চ্যান্ডলার মুক্তি পাননি; নতুন বিচারের পথ খুলে যায়।প্রসিকিউটর স্প্র্যাডলিংয়ের বিরুদ্ধেও পরে নৈতিক অভিযোগ করেন কিন। ২০২২ সালের মে মাসে কানসাস সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে আইন পেশা থেকে বহিষ্কার করেন।দুই অপরিচিত মানুষের লড়াইকেন ইলিন ও কিন উমবের এই মামলায় নিজেদের জীবন ঢেলে দিলেন? তাঁরা ছিলেন হাইস্কুলের প্রেমিক–প্রেমিকা। আলমায় সংসার পাতেন। ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত কিন আবর্জনা সংগ্রহের কাজ করতেন এবং স্থানীয় পত্রিকায় অনুসন্ধানী কলাম লিখতেন। তাঁর লেখা নিয়ে ওয়াবাউনসি কাউন্টির কমিশনারদের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়। চাকরি হারানোর পর তিনি মামলা করেন। ১৯৯৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট রায় দেন, স্বাধীন ঠিকাদারদেরও সরকারি প্রতিশোধ থেকে মতপ্রকাশের অধিকার সুরক্ষিত।পরে কিন আইন পড়েন এবং আইনজীবী হন। ইলিন ছিলেন সত্যিকারের অপরাধ কাহিনির ভক্ত। তবে চ্যান্ডলারের মামলায় তাঁর আগ্রহের পেছনে ছিল ব্যক্তিগত বিশ্বাসও। তাঁর ভাষায়, ধর্মীয় শিক্ষাই তাঁকে এমন মানুষের পক্ষে কথা বলতে অনুপ্রাণিত করেছে, যারা নিজের হয়ে কথা বলতে পারে না।‘আ কিলার স্টোরি’র দৃশ্য। এইচবিও ২০১২ সালে চ্যান্ডলার দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ইলিন তাঁকে চিঠি লিখতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত চ্যান্ডলার তাঁর সঙ্গে দেখা করতে রাজি হন। কিন হয়ে ওঠেন মামলাটির আইনজীবী।একপর্যায়ে নিজের আইন পেশাও বন্ধ করে দেন কিন। মামলাটি নিয়ে পুরো সময় কাজ করতে তাঁরা পরিবারের ৫০০ একর জমি বিক্রি করে দেন।ইলিন ও কিনের বিশ্বাস ছিল, চ্যান্ডলার নির্দোষ। তবে একই সঙ্গে তাঁরা বিশ্বাস করতেন, হত্যাকারী অন্য কেউ। তাঁদের সন্দেহ গিয়ে পড়ে কারেন হার্কনেসের জামাই জেফ সাটনের ওপর। সাবেক এই কাউন্টি অ্যাটর্নিকে ঘিরে তাঁরা ২০০ পৃষ্ঠার একটি নথি তৈরি করেন। সেখানে তাঁর সহিংসতার ইতিহাস, টাউনহাউসে প্রবেশের সুযোগ এবং উচ্চক্ষমতার অস্ত্র ব্যবহারের লাইসেন্সের মতো বিষয় তুলে ধরা হয়।ইলিন ও কিনের ধারণা ছিল, শেরিফের জব্দ করা অস্ত্রের তালিকা থেকে একটি উজি হারিয়ে গিয়েছিল। একজন ডেপুটিও তাঁদের বলেছিলেন, তিনি সাটনকে ওই ধরনের অস্ত্র হাতে দেখেছেন।কিন্তু কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাই ইলিন ও কিনের সন্দেহকে গুরুত্ব দেয়নি।গুলির খোসায় পাওয়া চুলমামলায় একটি চুল পাওয়া গিয়েছিল, যা গুলির খোসায় পুড়ে লেগে ছিল। ২০১২ সালের প্রথম বিচারের ঠিক আগে সেটি পরীক্ষা করা হয়। ফলাফল—চুলটি কারেন, মাইক বা চ্যান্ডলারের কারও নয়।কিনের নিজস্ব তত্ত্ব ছিল, গুলি বের হওয়ার সময় খোসাটি ডান দিকে ছিটকে যায়। একজন বাঁহাতি শুটারের হাতের ওপর দিয়ে সেই গরম খোসা গেলে তাতে চুল পুড়ে লেগে থাকতে পারে।অর্থাৎ হত্যাকারী বাঁহাতি। ইলিন তখন পুরোনো একটি সংবাদপত্রের ছবি খুঁজে পান। সেখানে সাটনকে শপথ নেওয়ার সময় বাঁ হাতে স্বাক্ষর করতে দেখা যায়। তাঁরা আদালতের মাধ্যমে সাটনের ডিএনএ নমুনা নেওয়ার উদ্যোগ নেন। বহু বছর পর সাটন তথ্যচিত্রে সাক্ষাৎকার দিতেও রাজি হন। তিনি হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেন।পরীক্ষার ফল অবশ্য উমবের দম্পতির তত্ত্বের পক্ষে যায়নি। গুলির খোসায় পাওয়া চুলটি সাটনেরও নয়।‘আ কিলার স্টোরি’র দৃশ্য। এইচবিও তবু ওই দম্পতির সন্দেহ কাটেনি। নির্মাতাদের কাছে এটিই মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। মানুষের বিশ্বাস অনেক সময় প্রমাণকে ব্যাখ্যা করার বদলে প্রমাণকেই নিজের বিশ্বাসের সঙ্গে মানিয়ে নিতে শুরু করে।দ্বিতীয় বিচারেও মেলেনি উত্তর‘আ কিলার স্টোরি’র শুটিং শুরু হয়েছিল চ্যান্ডলারের দ্বিতীয় বিচারের আগেই। ফলে নির্মাতারাও জানতেন না, তাঁদের গল্পের শেষ কোথায়।২০২২ সালের দ্বিতীয় বিচারে প্রসিকিউটর চার্লস কিট স্বীকার করেন, মামলাটি ডিএনএ, চুল বা আঙুলের ছাপের ওপর দাঁড়িয়ে নেই। তাঁর যুক্তি ছিল, এটি ঈর্ষা, ক্রোধ ও আসক্তির গল্প।আবারও চ্যান্ডলারের বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তিনি হত্যার সময় কোথায় ছিলেন, তা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন কথা বলেছিলেন।চ্যান্ডলারের বন্ধু জেফ বেইলি জানান, চ্যান্ডলার তাঁকে বলেছিলেন, তিনি একা পাহাড়ে ক্যাম্প করছিলেন এবং গাড়িতে ঘুমিয়েছিলেন। পুলিশের কাছে তিনি অন্য আলিবি দিয়েছিলেন, কারণ তাঁর ধারণা ছিল, সত্যিকারের আলিবি পুলিশ বিশ্বাস করবে না।বিচারের ১১তম দিনে আসে আরেক চমক। প্রতিবেশী টেরি অ্যান্ডারসন দাবি করেন, তিনি গুলির শব্দ শুনেছিলেন এবং অল্প সময়ের জন্য চ্যান্ডলারের মতো একটি মুখ দেখেছিলেন। তিনি ৯১১–এ ফোন করার কথাও বলেন।কিন্তু আদালতে কোনো ৯১১ কলের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল, এমন প্রমাণও নেই। তার ওপর ক্যাসিনোর ভিডিও দেখায়, অ্যান্ডারসনের বলা সময়ের পরও নিহত দুজন জীবিত ছিলেন।ছয় দিন আলোচনার পর জুরি বিভক্ত হয়ে যায়—সাতজন দোষী সাব্যস্ত করার পক্ষে, পাঁচজন বিপক্ষে। ফলে মিসট্রায়াল হয়।পরে অ্যান্ডারসন সেক্সটনের সঙ্গে বসে নথিগুলো দেখেন। নিজের স্মৃতি নিয়েই তখন তাঁর সন্দেহ তৈরি হয়। তবে নির্মাতারা মনে করেন, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বলেননি; নিজের স্মৃতিকেই সত্য বলে বিশ্বাস করেছিলেন।খুনের তদন্তের আড়ালে নিজেকে ফিরে পাওয়ার গল্প, বেবি হয়ে উঠলেন ববিতানিজের মামলা নিজেই লড়লেন চ্যান্ডলার২০২৫ সালে তৃতীয়বার বিচার শুরু হয়। এবার টোপেকার বাইরে ওয়েস্টমোরল্যান্ডে। বিচার শুরুর আগে চ্যান্ডলার তাঁর আইনজীবীদের সরিয়ে দেন। নিজের মামলায় নিজেই আইনজীবী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।আগের কোনো বিচারে চ্যান্ডলার সাক্ষ্য দেননি। এবার কয়েক দিন ধরে নিজেই নিজের জীবনের গল্প বলেন। এমনকি রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী হিসেবে আসা নিজের সন্তানদেরও জেরা করেন।চ্যান্ডলার জানান, নিউ মেক্সিকোয় তাঁর জন্ম, পরে কলোরাডোয় বেড়ে ওঠা, সিসকোর সঙ্গে পরিচয়, সন্তান, মদ্যপান ও ভেঙে পড়া দাম্পত্যের কথা।কিন্তু প্রসিকিউশন চ্যান্ডলারের ভিন্ন ভিন্ন আলিবি তুলে ধরে। সমাপনী বক্তব্যে প্রসিকিউটর কিট এবার প্রতিশোধ বা ঈর্ষার বদলে ‘নিয়ন্ত্রণ’–এর ওপর জোর দেন।চ্যান্ডলার পাল্টা বলেন, হত্যার সময় তিনি টোপেকায় ছিলেন, এমন কোনো প্রমাণ নেই। তিনি ৯ মিলিমিটারের অস্ত্র কিনেছেন বা তার মালিক ছিলেন, এমন প্রমাণও নেই। তাই যুক্তিসংগত সন্দেহের ঊর্ধ্বে তাঁর অপরাধ প্রমাণিত হয়নি।জুরি অবশ্য চ্যান্ডলারের সঙ্গে একমত হননি। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে দুই হত্যার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এবার সাজা—পরপর দুটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ৫০ বছর পর্যন্ত প্যারোলের সুযোগ ছাড়া।‘আ কিলার স্টোরি’র দৃশ্য। এইচবিও রায় হয়েছে, রহস্য কি মিটেছে‘আ কিলার স্টোরি’ দর্শককে সহজ কোনো উত্তর দেয় না। পরিচালক গ্যালকিন সাত বছর ধরে মামলাটি অনুসরণ করেও বলেন, তিনি এখনো নিশ্চিত নন ডানা চ্যান্ডলার সত্যিই খুনি কি না। কারণ, শারীরিক প্রমাণ খুবই কম। চ্যান্ডলার যদি সত্যিই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকেন, তাহলে কীভাবে করলেন, সেই প্রশ্নও রয়ে গেছে।আর সবচেয়ে বড় অনুপস্থিতি ছিল চ্যান্ডলারের নিজের কণ্ঠ। এত বছর অন্যরা তাঁর হয়ে কথা বলেছেন। তৃতীয় বিচারে তিনি প্রথমবার নিজের গল্প নিজের মতো করে বলার চেষ্টা করেন। কিন্তু জুরিকে তা বিশ্বাস করাতে পারেননি।সাংবাদিক সেক্সটনের পর্যবেক্ষণ, নিজের গল্প জানা আর সেই গল্প আদালতে কার্যকরভাবে উপস্থাপন করা এক বিষয় নয়। এই তথ্যচিত্র তাই শুধু একটি জোড়া খুনের গল্প নয়। এটি নিশ্চিত হওয়ার মানুষের প্রবণতা, দীর্ঘদিনের বিশ্বাস, বিচারব্যবস্থা ও সত্যের সীমাবদ্ধতার গল্পও। দুই দশকের সন্দেহ ও অনুসন্ধান তিনটি বিচার পর্যন্ত গড়িয়েছে। তবু কোনো রায়ই এই মামলার সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনি।সাধারণ সত্যানুসন্ধানী গল্পে দর্শক শেষ পর্যন্ত জানতে চান, খুনি কে? ‘আ কিলার স্টোরি’ বরং দর্শককে এমন এক অস্বস্তিকর জায়গায় দাঁড় করায়, যেখানে রায় আছে, কিন্তু নিশ্চিত উত্তর নেই।টাইম অবলম্বনে

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
নীতির পরিবর্তনে ঘুরছে পরিবেশবান্ধব গাড়ির চাকা

নীতির পরিবর্তনে ঘুরছে পরিবেশবান্ধব গাড়ির চাকা

ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে টাকা নেওয়ার ঘটনায় এনসিপি নেত্রীকে সাময়িক অব্যাহতি

ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে টাকা নেওয়ার ঘটনায় এনসিপি নেত্রীকে সাময়িক অব্যাহতি

পরিবেশবান্ধব গাড়িতে অর্থায়নে অগ্রাধিকার

পরিবেশবান্ধব গাড়িতে অর্থায়নে অগ্রাধিকার

যৌন হয়রানি প্রতিরোধে সমন্বিত আইন প্রয়োজন
যৌন হয়রানি প্রতিরোধে সমন্বিত আইন প্রয়োজন

‘যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও সুরক্ষা: সমন্বিত আইনের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে ব্লাস্ট ও প্রথম আলো।যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও প্রতিকারে এমন একটি পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর আইন প্রয়োজন, যা সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে—এমন অভিমত বিশেষজ্ঞদের। আইনে অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত ও নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে জবাবদিহিমূলক ও ভুক্তভোগীবান্ধব কাঠামো রাখার প্রস্তাবও করেছেন তাঁরা।গতকাল বুধবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে ‘যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও সুরক্ষা: সমন্বিত আইনের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক গোলটেবিলে এসব কথা উঠে আসে। ইউএন উইমেনের সহযোগিতায় যৌথভাবে গোলটেবিলের আয়োজন করে ব্লাস্ট ও প্রথম আলো। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আইনজীবী, অধিকারকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।গোলটেবিল বৈঠকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শাহনাজ হুদা বলেন, যৌন হয়রানি প্রতিরোধে যে আইনটি নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ হয়েছে, সেটি সংসদে পাস হওয়া প্রয়োজন। তবে শুধু আইন করলেই হবে না, আইনকে কার্যকর করার ব্যবস্থাও থাকতে হবে। তাঁর মতে, কোনো কাজকে অপরাধ হিসেবে গণ্য না করা হলে মানুষ সেটিকে প্রতিরোধমূলকভাবে দেখে না।প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি কমিয়ে আনতে আর্থিক শাস্তির পরামর্শ দেন অধ্যাপক শাহনাজ হুদা। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণের মামলা করার সুযোগ থাকলেও সেটি কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে।বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্লাস্টের লিগ্যাল স্পেশালিস্ট আয়েশা আক্তার। প্রবন্ধে বলা হয়, ২০০৯ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুগান্তকারী নির্দেশনা প্রদান করেন। এ নির্দেশনাগুলো একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো হিসেবে কার্যকর থাকলেও এর বাস্তবায়ন সর্বত্র নিশ্চিত হয়নি।তাই যৌন হয়রানি প্রতিরোধে এমন একটি পূর্ণাঙ্গ আইন প্রয়োজন, যা কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য কার্যকর হবে।চাপ তৈরি করতে হবেঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা বলেন, নতুন আইন যেমন প্রয়োজন, তেমনি আইন বাস্তবায়নের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা ও জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে। বিভিন্ন শ্রমজীবী নারী, শিক্ষার্থী, আইনজীবী, অধিকারকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একসঙ্গে নিয়ে এ বিষয়ে সরকারের ওপর সমন্বিতভাবে চাপ তৈরি করা প্রয়োজন।অধ্যাপক সামিনা লুৎফার মতে, নতুন আইনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে দ্বিমতের সুযোগ নেই। তবে বর্তমান ব্যবস্থাতেও কিছু কাজ করা সম্ভব। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলে বিদ্যমান হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলোকেও এই আলোচনার মধ্যে আনতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।শাহনাজ হুদা, অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যৌন হয়রানি প্রতিরোধে যে আইনটি নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ হয়েছে, সেটি সংসদে পাস হওয়া প্রয়োজন। তবে শুধু আইন করলেই হবে না, আইনকে কার্যকর করার ব্যবস্থাও থাকতে হবে।সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফওজিয়া করিম ফিরোজ বলেন, যৌন হয়রানি প্রতিরোধে আইন ও নীতিমালা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ হলেও বাস্তবে তা কার্যকর করা কঠিন হয়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশনার পরও অনেক ক্ষেত্রে এর বাস্তবায়ন হয়নি।ফওজিয়া করিম ফিরোজ বলেন, শুধু আইন তৈরি করলেই হবে না, আইন সম্পর্কে বিচারক, আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যথাযথ ধারণা থাকতে হবে। একইভাবে নারী ও শিশু নির্যাতন এবং পারিবারিক সহিংসতা-সংক্রান্ত আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবেঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসলিমা ইয়াসমিন বলেন, যৌন হয়রানি প্রতিরোধের আইন নিয়ে ২০১৮ সাল থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও একটি খসড়া আইন অনেক দূর এগিয়েছিল। কিন্তু গেজেট প্রকাশের আগেই নির্বাচন হয়ে যাওয়ায় সেটি অধ্যাদেশ হিসেবে কার্যকর হয়নি।এই সহযোগী অধ্যাপক বলেন, আইনটি এমন হতে হবে, যাতে পোশাকশিল্প, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে তা কার্যকর করা যায়।সামিনা লুৎফা, অধ্যাপক, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন শ্রমজীবী নারী, শিক্ষার্থী, আইনজীবী, অধিকারকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একসঙ্গে নিয়ে এ বিষয়ে সরকারের ওপর সমন্বিতভাবে চাপ তৈরি করা প্রয়োজন। ইউএন উইমেনের প্রোগ্রাম ম্যানেজার শ্রবণা দত্ত বলেন, যৌন হয়রানি প্রতিরোধে শুধু একটি নীতিমালা বা কমিটি যথেষ্ট নয়। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। এর সঙ্গে সক্ষমতা বৃদ্ধি, আইন ও নীতিমালা এবং প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়ও যুক্ত।প্রযুক্তির মাধ্যমে যৌন হয়রানির ঘটনা মোকাবিলায় ডিজিটাল ফরেনসিক সক্ষমতাও বাড়ানো দরকার বলেও মনে করেন শ্রবণা দত্ত।সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কারিশমা জাহান বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় সমস্যা হলো প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা ও জবাবদিহির ঘাটতি। নির্দেশনায় কমিটি গঠনের কথা বলা হলেও কমিটি গঠনের পর সেটি কীভাবে কার্যকরভাবে কাজ করবে, সে বিষয়ে বাস্তব কাঠামোর ঘাটতি রয়েছে।কারিশমা জাহান বলেন, সাইবার নিরাপত্তা-সংক্রান্ত আইনেও যৌন হয়রানির সব ধরনের ঘটনা মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট বিস্তৃত কাঠামো নেই। ফলে বিদ্যমান আইনগুলো দিয়ে সব ধরনের যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন।অনানুষ্ঠানিক খাতের নারীরাও ভুক্তভোগীঅনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত নারীরা যৌন হয়রানির শিকার হলেও তাঁদের সুরক্ষার জন্য বিদ্যমান আইন বা পরিপত্রে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই বলে বৈঠকে উল্লেখ করেন নারী শ্রমিক কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুমাইয়া ইসলাম। তিনি বলেন, অনানুষ্ঠানিক খাতের নারীরা পরিবার ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও হয়রানির শিকার হলে অনেক সময় বিচার বা প্রতিকার পান না।উইমেন উইথ ডিজঅ্যাবিলিটিজ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আশরাফুন নাহার মিষ্টি বলেন, যৌন হয়রানি প্রতিরোধে একটি আইন প্রয়োজন। তবে আইন না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের নির্দেশনা ও বিদ্যমান বিভিন্ন আইনি কাঠামো ব্যবহার করতে হবে।প্রতিকার পাওয়া যায় নাবিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে যৌন হয়রানি নিয়ে একধরনের হতাশা তৈরি হয়েছে বলে বৈঠকে মন্তব্য করেন ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য হেমা চাকমা। তিনি বলেন, ভুক্তভোগীরা মনে করেন, হয়রানির শিকার হলেও প্রতিকার পাওয়া যাবে না। ফলে অনেকেই অভিযোগ করতে আগ্রহী হন না।হেমা চাকমা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল ও কলেজে শিক্ষার্থীদের জন্য এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার আয়োজন করা দরকার। হয়রানির শিকার হলে কোথায় অভিযোগ করতে হবে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ কী—এসব বিষয়ে শিক্ষার্থীদের পরিষ্কার ধারণা থাকা প্রয়োজন।বৈঠকে স্বাগত বক্তব্য দেন ব্লাস্টের পরিচালক (অ্যাডভোকেসি ও কমিউনিকেশন) মাহবুবা আক্তার। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিবেদক মানসুরা হোসাইন। বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন প্রথম আলোর সহকারী সম্পাদক ফিরোজ চৌধুরী এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক সুমনা শারমীন।

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে ৫ বছর পর টাকা তুলে নেওয়া যাবে

সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে ৫ বছর পর টাকা তুলে নেওয়া যাবে

অস্ট্রেলিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিবার আনার সুযোগ বন্ধের প্রস্তাব

অস্ট্রেলিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিবার আনার সুযোগ বন্ধের প্রস্তাব

শিক্ষার্থীদের মনে বৃক্ষপ্রেমের বীজ বুনে দিতে উদ্যোগ

শিক্ষার্থীদের মনে বৃক্ষপ্রেমের বীজ বুনে দিতে উদ্যোগ

ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে এবারও ভিসা দিল না যুক্তরাষ্ট্র, কিন্তু কেন
ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে এবারও ভিসা দিল না যুক্তরাষ্ট্র, কিন্তু কেন

ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে ভিসা দিতে আবারও অস্বীকৃতি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আসছে সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে আব্বাসের নিউইয়র্কে যাওয়ার কথা। কিন্তু ভিসা জটিলতায় তাঁর সেই পরিকল্পনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বিষয়টির সঙ্গে জানাশোনা রয়েছে—এমন একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর প্রকাশ করেছে। এর আগে গত বছর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যোগ দেওয়ার সময়ও আব্বাসকে ভিসা দেয়নি ওয়াশিংটন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের অধিবেশনে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট ভিডিওতে বক্তব্য দিয়েছিলেন।ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) কর্মকর্তা এবং ফিলিস্তিন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও) সদস্যদের ওপর আগে থেকেই ভিসা নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। এখন আব্বাসকে ভিসা না দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এই ভিসা বিধিনিষেধ বর্ধিত করা হয়েছে।ওয়াশিংটনের অভিযোগ, পিএ কর্মকর্তা এবং পিএলও সদস্যরা সংস্কারপ্রক্রিয়া বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছেন। তাঁরা শান্তির সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন। সেই সঙ্গে ওয়াশিংটনকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে দুটি সংগঠনই ব্যর্থ হয়েছে। এসব কারণে তাঁদের ওপর ভিসা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় গড়ে ওঠা পিএলওর নিয়ন্ত্রণ আসলে কার হাতেএক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, পিএ আর পিএলও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ও আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছে। আলোচনার বাইরেও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি পাওয়ার চেষ্টা করেছে। ফিলিস্তিনি বন্দী ও তাঁদের পরিবারের জন্য অর্থ দেওয়া অব্যাহত রেখেছে। এ ছাড়া তারা ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে গৌরবান্বিত’ করেছে।এসব কারণে ২০০২ সালের ‘মিডল ইস্ট পিস কমিটমেন্টস’ আইনের আওতায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কেউই যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাবেন না বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। তবে কোন কোন কর্মকর্তার ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট করা হয়নি।ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস কেন এখন উত্তরসূরি বেছে নিলেনমার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আরও জানায়, জাতিসংঘে পিএলওর পর্যবেক্ষক মিশনে দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তাদের জন্য আগে থেকে থাকা ভিসা ছাড়ের সুবিধা বহাল থাকবে।পিএ হলো ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরে সীমিত স্বায়ত্তশাসন থাকা একটি ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। আর পিএলও হলো ফিলিস্তিনিদের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি সংগঠন। উভয় সংগঠনই ফিলিস্তিনিদের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তারা ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির জন্য চাপ প্রয়োগের কাজে যুক্ত।প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসসহ ফিলিস্তিনের ৮০ কর্মকর্তাকে ভিসা দেবে না যুক্তরাষ্ট্র

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
পরিবেশবান্ধব গাড়িতে রেকর্ড অর্থায়ন

পরিবেশবান্ধব গাড়িতে রেকর্ড অর্থায়ন

বন্ধুদের আড্ডায় পরিকল্পনা, এবার যুক্তরাষ্ট্রে মর্টার তৈরির প্রতিযোগিতায় চুয়েটের চার শিক্ষার্থী

বন্ধুদের আড্ডায় পরিকল্পনা, এবার যুক্তরাষ্ট্রে মর্টার তৈরির প্রতিযোগিতায় চুয়েটের চার শিক্ষার্থী

মক্কার দিকে হুতিদের ড্রোন, পাশে পাকিস্তান, কী বলছে তুরস্ক?

মক্কার দিকে হুতিদের ড্রোন, পাশে পাকিস্তান, কী বলছে তুরস্ক?

0 Comments