দেশের প্রকট বেকার সমস্যা নিরসন এবং বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তরুণদের চাকরিপ্রার্থী না বানিয়ে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার অংশ হিসেবে আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) শুরু হচ্ছে ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক আবেদনপ্রক্রিয়া। উপজেলা পর্যায়ে সম্ভাবনাময় তরুণদের খুঁজে বের করে তাঁদের হাতে ব্যবসার পুঁজি তুলে দিতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই নতুন পদক্ষেপ।
কর্মসূচির প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের আট বিভাগের আট জেলা মানিকগঞ্জ, ফেনী, নওগাঁ, ঝিনাইদহ, ভোলা, হবিগঞ্জ, রংপুর ও নেত্রকোনার ৬৪টি উপজেলায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত প্রার্থীরা তাঁদের নতুন বা বিদ্যমান ব্যবসা পরিচালনার জন্য মোট ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পাবেন। এই অর্থায়নের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এতে ঋণের পাশাপাশি বিনা মূল্যে অনুদানের সুযোগ রাখা হয়েছে। মোট সহায়তার ৫০ শতাংশ, অর্থাৎ সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা দেওয়া হবে ব্যাংকঋণ হিসেবে। আর বাকি ৫০ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা দেওয়া হবে এককালীন অনুদান হিসেবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক নিশ্চিত করেছে, এই অর্থায়নের জন্য উদ্যোক্তাকে কোনো ধরনের সহায়তামূলক জামানত দিতে হবে না। তবে ব্যাংকের প্রদত্ত অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। নির্ধারিত সময়ে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে বা অন্য কাজে অর্থ ব্যবহার করা হলে অনুদানের সুবিধাটি বাতিল হয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে অনুদানের টাকাও ঋণে রূপান্তরিত হবে এবং তা পরবর্তী সময়ে সরকারি পাওনা হিসেবে আদায় করা হবে।
কর্মসূচির আওতায় সুবিধা পেতে আবেদনকারীকে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে। আবেদন গ্রহণের শেষ তারিখে প্রার্থীর বয়স সর্বোচ্চ ২৮ বছরের মধ্যে হতে হবে। প্রার্থীকে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে এবং তাঁর কাছে একটি বাস্তবায়নযোগ্য ব্যবসায়িক ধারণা বা পরিকল্পনা থাকতে হবে।
এর আগে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়েছেন—এমন কেউ এ কর্মসূচিতে আবেদন করতে পারবেন না। পাশাপাশি ঋণখেলাপি ব্যক্তি বা সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মচারীরা এ প্রকল্পের আওতায় আসবেন না। আবেদনে কোনো ভুল বা মিথ্যা তথ্য দেওয়া হলে তা সরাসরি বাতিল করা হবে।
কৃষিভিত্তিক শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হস্তশিল্প, মৎস্য, পশুপালন, পর্যটন, হালকা প্রকৌশল এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের তরুণেরা এ সুবিধার আওতায় আসবেন। এ ছাড়া ই-কমার্স, ফিনটেক, এডটেক, অ্যাগ্রিটেক, হেলথটেকসহ প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপ ও যেকোনো আয় উপযোগী বৈধ উদ্যোগে অর্থায়ন করা হবে।
আবেদন শুরুর তারিখ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আবেদনের শেষ তারিখ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬
বয়সসীমা: আবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখে সর্বোচ্চ ২৮ বছর
অর্থায়নের পরিমাণ: মোট ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত (ঋণ ও অনুদান ৫০:৫০ অনুপাত)
আবেদনের প্রক্রিয়া: বাংলাদেশে ব্যাংকে অফিশিয়াল ওয়েবসাইট, এসএমই পোর্টাল এবং দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে আবেদন ফরমটি সরাসরি ডাউনলোড করা যাবে।
আবেদন জমা দেওয়ার স্থান: নিজ এলাকার যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখা
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: পূরণ করা আবেদন ফরম, জাতীয় পরিচয়পত্র, ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রদত্ত নাগরিকত্ব সনদ, ছবি এবং শিক্ষাগত ও প্রশিক্ষণ সনদ (যদি থাকে)।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান ও বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান চার দিনের সরকারি সফরে জাপান গেছেন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) তিনি জাপানের উদ্দেশে বাংলাদেশ ত্যাগ করেন বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। আইএসপিআর জানায়, সফরকালে তিনি জাপানের আইচি-নাগোয়া শহরে অনুষ্ঠিতব্য ২০তম এশিয়ান গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবে অংশ নেবেন। এছাড়া জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এশিয়ান গেমসের বিভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্টে উপস্থিত থাকবেন। সফরে তিনি এশিয়ান গেমস ও বিভিন্ন অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকেও অংশ নেবেন। টিটি/জেএইচ
৫০০ বছরের পুরোনো হস্তলিখিত তুলট কাগজের পুঁথি, আর ১৮৫১ সালে রচিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের কালজয়ী শিশুশিক্ষা গ্রন্থ ‘বোধোদয়’। আছে শিশুদের শতাব্দীপ্রাচীন পাঠ্যবই ‘আমার সাথী’ আর পাঁচ আনা মূল্যের দুষ্প্রাপ্য বাংলা পাঠ্যবই ‘মুক্তাহার’-এর মতো বইও। শুধু তা–ই নয়, সংগ্রহে আছে ১৩৫৫ সালে প্রকাশিত পাঁচ সিকা মূল্যের কাব্য সাহিত্য ‘জয়গান’।শরিফুল ইসলামের ব্যক্তিগত এমন সংগ্রহ আগ্রহী পাঠকের নজর কাড়বে। দুষ্প্রাপ্য অসংখ্য বইয়ের পাশাপাশি সত্তরের দশকের পত্রিকা-ম্যাগাজিন ও ব্রিটিশ আমলের রেলওয়ের টিকিটসহ নানা দুর্লভ জিনিসপত্রও স্থান পেয়েছে তাঁর সংগ্রহশালায়।শরিফুল ইসলামের সংগ্রহশালায় ৫০০ বছরের পুরোনো হস্তলিখিত তুলট কাগজের পুঁথি। হারুয়া, কিশোরগঞ্জ। ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬শরিফের ব্যক্তি উদ্যোগে গড়া এ সংগ্রহশালা কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পশ্চিম হারুয়া এলাকার কসাইখানা সড়কের পাশে অবস্থিত। স্থানীয় লোকজন চেনেন ‘পুরোনো বুকশপ’ নামে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ব্যবহারকারীদের কাছে পরিচিত ‘ওল্ড কালেকশন’ হিসেবে। নিজের ভাড়া বাসার কাছে মাঝারি আকারের একটি দোকানঘরে এই সংগ্রহশালা গড়ে তুলেছেন শরিফ।গত শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শরিফের পুরোনো বুকশপে ঢুকতেই চোখে পড়ে শেলফে সাজানো পুরোনো সব বই–পুস্তক আর পত্রিকা। অচেনা মলাট আর অনেক ছেঁড়া বই দেখেই বুঝা যায়, এগুলো পুরোনো সংগ্রহ। ইতিহাসের সাক্ষী ৬০-৭০ বছরের পুরোনো কিছু পত্রিকা বাঁধাই করে দেয়ালে টানিয়ে রেখেছেন শরিফ।যেভাবে সংগ্রাহক হয়ে ওঠেনশরিফুল ইসলামের বয়স ৩৮ বছর। তিনি নওগাঁ জেলার রানীনগর উপজেলার কাশিমপুর এলাকার বাসিন্দা। তবে ১২ বছর ধরে তিনি কিশোরগঞ্জের পশ্চিম হারুয়া এলাকায় বসবাস করে কাগজ কেনাবেচার ছোটখাটো ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। বিয়েও করেছেন কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে। স্ত্রী জেসমিন আক্তার একজন গৃহিণী। পুরোনো বই-পুস্তক আর দুর্লভ জিনিসপত্র সংগ্রহে স্ত্রীও তাঁকে উৎসাহ দিয়ে আসছেন। তাঁদের লাবিবা আক্তার ও জায়েন জিসান নামের দুটি সন্তান রয়েছে।দুষ্প্রাপ্য বইপত্র আর পুরোনো জিনিস সংগ্রহে আগ্রহের বিষয়ে জানতে চাইলে শরিফ প্রথম আলোকে বলেন, শ্বশুরবাড়ি কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে হওয়ার কারণে সেখানে বেশ কিছুদিন বসবাস করার সুযোগ হয় তাঁর। ২০১৫ সালের শুরুর দিকে তিনি হাওরাঞ্চলের নির্দিষ্ট কিছু দোকানে একটি বিষয় লক্ষ করেন। ৪০-৫০ বছর আগের নিউজ প্রিন্টের পুরোনো পত্রিকা-ম্যাগাজিন একটু বেশি দামে বিক্রি করছেন কিছু দোকানি।শরিফ বলেন, এটা দেখে তিনি একটু অবাক হন। তখন কৌতূহলবশত জানার চেষ্টা করেন, এগুলো যাঁরা কেনেন, সেগুলো দিয়ে তাঁরা কী করেন? খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, এই কাগজগুলো তাঁরা হাতে কেটে টুকরা টুকরা করে বিড়ি তৈরি করে হাওরাঞ্চলের কৃষক, জেলে ও শ্রমজীবী মানুষদের কাছে বিক্রি করেন। তিনি বলেন, এসব বইপত্র ও পত্রিকায় ইতিহাসের অনেক কিছু জড়িয়ে আছে। অথচ সেগুলোকে কেটে টুকরা করে বিড়ি বানিয়ে ধূমপানের প্রসার ঘটানো হচ্ছে।শরিফ বলেন, ‘তাৎক্ষণিক আমার মাথায় আসে—আমি ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতির এমন স্মৃতি এভাবে ধ্বংস করতে দেব না। আমি এগুলো সংগ্রহ করব। সেই ভাবনা থেকে আমি নেমে পড়লাম ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাক্ষী পুরোনো সেসব বইপত্র ও পত্রিকা সংগ্রহ করার কাজে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সেই থেকেই দুর্লভ-দুষ্প্রাপ্য বইপত্রের পাশাপাশি প্রাচীন জিনিসপত্র সংগ্রহ করার আগ্রহ তৈরি হয় আমার। তখন থেকে যখন যেখানে যা পেয়েছি, তাই সংগ্রহ করে রাখার চেষ্টা করেছি।’‘বোধোদয়’, ‘জয়গান’ ও ‘মুক্তাহার’-এর মতো পুরোনো বইপত্র রয়েছে শরিফুল ইসলামের সংগ্রহশালায়। হারুয়া, কিশোরগঞ্জ। ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬পুরোনো বুকশপের কিছুটা দূরেই রয়েছে একটি বড়সড় গুদামঘর। সারা দেশ থেকে পুরোনো সব বই-পুস্তক প্রথমে গুদামঘরে এনে রাখেন শরিফ। তারপর সেখান থেকে জহুরির মতো মণি-মুক্তা খুঁজে বাছাই করে পুরোনো বুকশপ তথা সংগ্রহশালায় রাখেন।এই সংগ্রাহক বলেন, ‘বিভিন্ন এলাকার অনেক লোক নিজ উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী মূল্যবান বইসহ নানা জিনিসপত্রের জন্য আমাকে খবর দেন। সারা দেশ থেকে আমি দুষ্প্রাপ্য বইপত্র আর জিনিসপত্র সংগ্রহ করি।’শরিফ বলেন, ‘দেশ ও দেশের বাইরে থেকে অনেক মানুষ আমার কাছ থেকে এসব জিনিসপত্র কেনেন। অনেকে আমার ফেসবুক পেজ থেকেও অনলাইনে জিনিসপত্র সংগ্রহ করেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই সংগ্রহশালার জন্য আমি আমার জীবনের শ্রম-ঘাম উৎসর্গ করে যাচ্ছি। তবে এই ভেবে ভালো লাগে যে এই সংগ্রহশালা থেকে অনেকে উপকৃত হচ্ছেন।’এক পত্রিকা ৬০ হাজার টাকায় বিক্রিফেসবুকে ‘ওল্ড কালেকশন’ নামে শরিফের একটি পেজ আছে। সেখানে দুষ্প্রাপ্য বইসহ দুর্লভ নানা জিনিসপত্রের ছবি দেন তিনি। এখান থেকে দেখে অনেকে সেগুলো কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেন। যে জিনিস দুটি বা বেশি থাকে, একটি রেখে সেগুলো বিক্রি করে দেন।ব্যক্তি উদ্যোগে পুরোনো বইপত্রের মূল্যবান সংগ্রহশালা গড়ে তুলেছেন শরিফুল ইসলাম। হারুয়া, কিশোরগঞ্জ। ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬দুর্লভ কিছু বই অনেক বেশি দামে কিনতে চাইলেও শরিফ বিক্রি করতে চান না। তবে ১৯৭১ সালের ১৭ ডিসেম্বর প্রকাশিত ‘দৈনিক বাংলাদেশ’ পত্রিকার একটি সংস্করণ এক প্রবাসী লেখকের কাছে ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। স্বাধীনতার আগ পর্যন্ত এই পত্রিকাটি ‘দৈনিক পাকিস্তান’ নামে প্রকাশিত হতো। এ ছাড়া ১৯৭০ সালে রচিত গোয়েন্দা উপন্যাস ‘দুষ্টগ্রহ’ নামে একটি বই এক অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসীর কাছে ৪০ হাজার টাকায় তিনি বিক্রি করেন।আছে পাম্প লাইট, পুরোনো টেলিফোন সেট৬০ থেকে ৭০ হাজার পুরোনো বইপত্র সংগ্রহ করেছেন শরিফ। রয়েছে বহু বছর আগে হাতে লেখা বিভিন্নজনের নানা গুরুত্বপূর্ণ ও সাড়াজাগানো চিঠিও।বইপত্র ও পত্রিকা-ম্যাগাজিন ছাড়াও আরও নানা পুরোনো জিনিসপত্র রয়েছে শরিফের সংগ্রহে। ঘরে ঢুকতেই বাঁ পাশের শেলফে সাজানো পুরোনো কম্পিউটার, টেপ রেকর্ডার, পাম্প লাইট, ব্রিটিশ আমলের ট্রাংক, পুরোনো থালাবাসন, ক্যাসেট প্লেয়ার, টেলিফোন সেট ও পুরোনো সেই সাদাকালো টেলিভিশন। এ ছাড়া রয়েছে পুরোনো অনেক ধাতব মুদ্রা।প্রাথমিকভাবে সংগ্রহ করা পুরোনো বই থেকে গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান বই আলাদা করছেন শরিফুল ইসলাম। হারুয়া, কিশোরগঞ্জ। ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬পুরোনো বুকশফে ধুলাজমা বই দেখছিলেন কিশোরগঞ্জ গুরুদয়াল সরকারি কলেজে স্নাতকোত্তরে পড়া মোজাহিদুল ইসলাম। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। গড়ে তুলেছেন ‘কিশোরগঞ্জ ভলান্টিয়ার্স’ নামের স্থানীয় একটি সামাজিক সংগঠন।মোজাহিদ বললেন, সময়-সুযোগ পেলেই তিনি শরিফুল ইসলামের পুরোনো বুকশপে চলে আসেন। ধুলাবালু জমা এ দোকানেও পাওয়া যেতে পারে মূল্যবান বইপত্রের সন্ধান। সে আশায় ধুলার আস্তরণ মুছে বইপত্র খুঁজে দেখছেন তিনি।এই শিক্ষার্থী বলেন, শরিফুল ইসলামের ছোট্ট দোকানটিতে আছে অসংখ্য মূল্যবান পুরোনো বইপত্র ও পত্রিকা। এসব বইপত্র ও পত্রিকা ইতিহাসের ঘটনাপ্রবাহের দলিল ও সাক্ষী। অতীতে কোন সময় কী ঘটেছিল, তার সঠিক ইতিহাস জানতে গবেষক, লেখক, কবি-সাহিত্যিকসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সংগ্রাহকেরা শরিফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অনেকে দেশের বাইরে থেকেও অনলাইনে বই সংগ্রহ করেন।বইপত্র ও পত্রিকা-ম্যাগাজিন ছাড়াও আরও নানা পুরোনো জিনিসপত্র রয়েছে শরিফুল ইসলামের সংগ্রহে। হারুয়া, কিশোরগঞ্জ। ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬মোজাহিদ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এখানে আসা-যাওয়ায় বুঝতে পারলাম, শরিফুল ইসলাম অনেকটা আর্থিক কষ্টে আছেন। দোকানটি রাস্তার পাশে হওয়ায় ধুলাবালুর যন্ত্রণায় ভুগছেন। এ ছাড়া তাঁর সংগ্রহ করা মূল্যবান জিনিসপত্র ঠিকমতো সংরক্ষণ করতে পারছেন না। শেলফে কাচের ব্যবস্থা করতে পারলে সেগুলো আরও সুরক্ষিত থাকত। সরকারসহ সমাজের বিত্তশালীরা সংগ্রহশালাটিকে সমৃদ্ধ করতে এগিয়ে আসবেন, এমন প্রত্যাশা এই শিক্ষার্থীর।’
পাবনার ঈশ্বরদী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ইপিজেড) স্থাপিত এসপিএস এগ্রোটেক লিমিটেড পড়েছে শুল্কসংক্রান্ত জটিলতায়। বিদেশি বিনিয়োগের এ কারখানাটি উৎপাদনে যাওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়, যা বহাল রয়েছে প্রায় ১৬ মাস ধরে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কারখানাটিতে ‘ক্রুড রাইস ব্রান অয়েল’ বা ধানের তুষ থেকে তেল উৎপাদন শুরুর পরই রপ্তানি শুল্ক নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। এরপর সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে চিঠি চালাচালি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতার কারণে এটি আর চালু করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি প্রতিষ্ঠানটির। এখন কারখানা বন্ধ থাকায় শুধু বিনিয়োগকারীই নন, সেই সঙ্গে ৩৫০ জন শ্রমিক, রপ্তানি আয়, বৈদেশিক মুদ্রা এবং সরকারের ভ্যাট-ট্যাক্স আদায়ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এসপিএস এগ্রোটেকের স্বত্বাধিকারী প্রদীপ্ত মজুমদার। তার দাবি, কারখানায় বর্তমানে প্রায় ২০ কোটি টাকার পণ্য পড়ে আছে। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় এসব পণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কারখানাটি চালু ও রপ্তানির সুযোগ দিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ চেয়ে অর্থমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছে এসপিএস এগ্রোটেক। সম্প্রতি দেওয়া এই আবেদনে ‘দ্য এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন অথরিটি অ্যাক্ট-১৯৮০’-এর ১৫(বি) ধারার আওতায় বিষয়টি নিষ্পত্তির অনুরোধ জানানো হয়েছে। আরও পড়ুন বিমান কি বোয়িংয়ের আরও ১১ উড়োজাহাজ কিনছে? চুক্তির সময় ছিল না শুল্ক অর্থ মন্ত্রণালয়ে দেওয়া প্রতিষ্ঠানটির আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ঈশ্বরদী ইপিজেডের দ্বিতীয় ফেজের ১৩৩-১৩৬ ও ১৬৩-১৬৬ নম্বর প্লটে বিদেশি বিনিয়োগে কারখানাটি স্থাপন করা হয়। এজন্য ২০২১ সালের ১ এপ্রিল বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) সঙ্গে চুক্তি করে এসপিএস এগ্রোটেক। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, চুক্তি সম্পাদনের সময় ক্রুড রাইস ব্রান অয়েল বাংলাদেশ থেকে রপ্তানিতে কোনো শুল্ক ছিল না। সেই হিসাবেই বিনিয়োগ ও কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও বৈধ কাগজপত্র সংগ্রহের পর ২০২৫ সালের ১২ এপ্রিল উৎপাদন শুরু হয়। তবে রপ্তানি কার্যক্রমে শুল্কসংক্রান্ত জটিলতা দেখা দেওয়ার পর ১৭ এপ্রিল কারখানাটি বন্ধ হয়ে যায় বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) অপরিশোধিত ও পরিশোধিত ক্রুড রাইস ব্রান অয়েল রপ্তানিতে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। পরে ১৭ সেপ্টেম্বর তা কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয় বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এরপর ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট-পরবর্তী বাংলাদেশ কাস্টমস ট্যারিফে ক্রুড রাইস ব্রান অয়েল রপ্তানিতে ২৫ শতাংশ কাস্টমস ডিউটি আরোপ করা হয়। একই সঙ্গে গত ৮ জুন জারি করা এসআরও নম্বর-১৭৭ অনুযায়ী এ পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ রেগুলেটরি ডিউটি আরোপ করা হয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। এসপিএস এগ্রোটেকের দাবি, এসব শুল্ক ইপিজেডের বাইরের প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য হলেও ইপিজেডভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বিষয়টি আইনগতভাবে কীভাবে প্রযোজ্য হবে, সেটিই মূল জটিলতা। আরও পড়ুন বাব আল-মান্দেবও অনিরাপদ, জ্বালানি-বাণিজ্যে বাড়ছে ঝুঁকি দেড় বছরেও সমাধান হয়নি শুল্ক জটিলতা সমাধানে বিষয়টি সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে গড়ালেও এখনো স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২৫ সালের ২ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের বিনিয়োগ সমন্বয় কমিটির ষষ্ঠ সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সভার সিদ্ধান্তে বলা হয়, ইপিজেডে উৎপাদিত ক্রুড রাইস ব্রান অয়েল রপ্তানির ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের বিষয়টি যুক্তিযুক্ত কি না, তা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বেপজা দ্বিপক্ষীয় সভার মাধ্যমে সমাধান করবে। এর ধারাবাহিকতায় ২৩ ডিসেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বেপজার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সভা হয়। সভার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে বিষয়টি ‘দ্য এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন অথরিটি অ্যাক্ট-১৯৮০’-এর ১৫(বি) ধারার আওতায় নিষ্পত্তির জন্য অনুরোধ জানানো হয়। এর তিন মাস পর ৮ এপ্রিল এনবিআর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে রাইস ব্রান অয়েল রপ্তানির ক্ষেত্রে রেগুলেটরি ডিউটি আরোপের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট মতামত দিতে অনুরোধ করে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও প্রায় সাড়ে তিন মাস পর ১৯ জুলাই সুস্পষ্ট মতামতসহ একই আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুনরায় চিঠি দেয়। তবে এতসব প্রক্রিয়ার পরও কারখানাটি চালু হয়নি। অর্থাৎ, কারখানা বন্ধ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে দফায় দফায় আলোচনা ও পত্র যোগাযোগ হলেও দীর্ঘ সময়েও কার্যকর সমাধান না হওয়ায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ প্রতিষ্ঠানটির। ঈশ্বরদী ইপিজেডের দ্বিতীয় ফেজের ১৩৩-১৩৬ ও ১৬৩-১৬৬ নম্বর প্লটে বিদেশি বিনিয়োগে কারখানাটি স্থাপন করা হয়। এজন্য ২০২১ সালের ১ এপ্রিল বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) সঙ্গে চুক্তি করে এসপিএস এগ্রোটেক। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্বেগ অর্থ মন্ত্রণালয়ে দেওয়া আবেদনে এসপিএস এগ্রোটেক উল্লেখ করেছে, কারখানাটি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় প্রতিষ্ঠানটি ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে গড়ে ওঠা একটি রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান এভাবে দীর্ঘদিন উৎপাদনের বাইরে থাকায় বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, বাংলাদেশে বছরে সাড়ে চার থেকে পাঁচ কোটি মেট্রিক টন ধান উৎপাদিত হয়। ধানের ৭ থেকে ৮ শতাংশ হিসাবে বছরে ৩২ থেকে ৩৫ লাখ মেট্রিক টন তুষ পাওয়া যায়। কারখানাটিতে বছরে এক লাখ ২০ হাজার থেকে এক লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন তুষ কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, এটি দেশের মোট উৎপাদিত তুষের ৪ থেকে সাড়ে ৪ শতাংশ। ফলে তাদের কারখানায় কাঁচামাল হিসেবে তুষ ব্যবহারের কারণে স্থানীয় বাজারে সংকট তৈরি হবে না বলেও আবেদনে দাবি করা হয়েছে। এসপিএস এগ্রোটেকের পক্ষ থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সমাধানের সুপারিশ চাওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, শুল্কসংক্রান্ত জটিলতার কারণে একটি সম্ভাবনাময় রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা শুধু ওই কোম্পানির আর্থিক ক্ষতির বিষয় নয়, এর সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, রপ্তানি আয় ও দেশের শিল্পোন্নয়নের বিষয়ও জড়িত। তাই ইপিজেডভুক্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত ক্রুড রাইস ব্রান অয়েল রপ্তানিতে শুল্ক আরোপের বিষয়টি বিদ্যমান আইন ও ইপিজেডের নীতিগত সুবিধার আলোকে দ্রুত নিষ্পত্তি করে কারখানাটি পুনরায় চালুর সুযোগ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। আরও পড়ুন করছাড়ের সুফল নেই বাজারে, উল্টো বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম ‘কেন এমন পরিস্থিতি হলো, সেটিই বোধগম্য নয়’ এ বিষয়ে নিজের ক্ষোভ ও হতাশার কথা তুলে ধরেছেন প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী প্রদীপ্ত মজুমদার। ভারতীয় এই বিনিয়োগকারী জাগো নিউজকে বলেন, কোনো বিদেশি বিনিয়োগকারী বিশ্বের যে কোনো দেশে আইন-কানুন মেনে বিনিয়োগ করার পর তার কারখানা বন্ধ হয়ে গেলে শুধু তিনিই ক্ষতিগ্রস্ত হন না, একই সঙ্গে দেশের শ্রমিক, রপ্তানি, বৈদেশিক মুদ্রা আয় এবং সরকারের রাজস্ব আদায়-কিছুই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ‘আমাদের কারখানায় প্রায় ৩৫০ জন শ্রমিক কাজ করেন। তাদের কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি সরকারের রপ্তানি আয়, বৈদেশিক মুদ্রা এবং ভ্যাট-ট্যাক্স আদায়ের সুযোগও বন্ধ হয়েছে। কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো, সেটিই আমার বোধগম্য নয়,’ যোগ করেন প্রদীপ্ত মজুমদার। তিনি বলেন, ‘কোনো দেশে যখন বিদেশি বিনিয়োগ আসে, তখন ওই দেশই সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়। আমার ৪৫ বছরের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতায় আমি এটিই শিখেছি।’ বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এই বিনিয়োগকারী জানান, নিচে কী হচ্ছে বা কী ধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে এসব বিষয় ওপরের মহলে সঠিকভাবে যাচ্ছে না। ফলে সঠিক সিদ্ধান্তও আসছে না। আরও পড়ুন টেকসই-পরিবেশবান্ধব খাতে বেড়েছে ঋণ বিতরণ-আদায় বিনিয়োগ করে প্রায় দেউলিয়া হওয়ার অবস্থায় নিজের বিনিয়োগের বিষয়ে প্রদীপ্ত মজুমদার বলেন, ‘আমি বড় কোনো বিনিয়োগকারী নই, মধ্যম শ্রেণির একজন বিনিয়োগকারী। জীবনের সঞ্চিত অর্থ দিয়ে এখানে বিনিয়োগ করেছি। ঈশ্বরদীর কারখানায় ১০০ কোটি টাকার মতো বিনিয়োগ করেছি। পুরো অর্থ বিদেশ থেকে এনে বিনিয়োগ করা হয়েছে। এখন সেই বিনিয়োগই তাকে সর্বস্বান্ত হওয়ার পথে নিয়ে গেছে।’ ‘আদালতের আদেশও যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় আমাদের কারখানা পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার পথে। এই কারখানায় বিনিয়োগ করে আমি প্রায় দেউলিয়া হওয়ার অবস্থায় চলে গেছি,’ বলেন তিনি। প্রদীপ্ত মজুমদার জানান, কারখানায় প্রায় ২০ কোটি টাকার পণ্য পড়ে আছে। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় তা নষ্ট হচ্ছে, পোকায় খেয়ে ফেলছে। কিছু তেলও পড়ে আছে। কীভাবে এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাবেন, তার কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছেন না। এ বিষয়ে এনবিআর, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বেপজা, অর্থ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, এমনকি মুখ্য সচিবের কাছেও গেছেন। সবাই শুধু বলছেন- ‘হবে, দেখছি, করছি’। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ফল পাননি। কোনো ক্লিয়ারেন্সও পাননি। কারখানা বন্ধ, তার সর্বস্ব শেষ হওয়ার পথে। ঈশ্বরদীর কারখানায় ১০০ কোটি টাকার মতো বিনিয়োগ করেছি। পুরো অর্থ বিদেশ থেকে এনে বিনিয়োগ করা হয়েছে। এখন সেই বিনিয়োগই তাকে সর্বস্বান্ত হওয়ার পথে নিয়ে গেছে।- স্বত্বাধিকারী প্রদীপ্ত মজুমদার ৯৯ শতাংশই বাংলাদেশি শ্রমিক বিদেশি বিনিয়োগের সুফল তুলে ধরে এসপিএস এগ্রোটেকের এই স্বত্বাধিকারী বলেন, তার কারখানায় কাজ করা শ্রমিকদের প্রায় ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশই বাংলাদেশি। বিদেশি কর্মী ছিলেন মাত্র দুজনের মতো। কারখানাটি বন্ধ থাকায় ঈশ্বরদী ইপিজেডে কর্মরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। একই সঙ্গে দেশের রপ্তানি ও বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সুযোগও বন্ধ রয়েছে। প্রদীপ্ত মজুমদার বলেন, সবকিছু মিলিয়ে তার সামনে এখন একটাই পথ, তা হলো কারখানাটি চালু করা। এটি চালু করতে পারলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হবে। তা না হলে তিনি রাস্তায় বসে যাবেন। তবে তিনি বসে যাওয়ার আগে এই দেশের ক্ষতিটাই হবে সবচেয়ে বেশি। কারণ এমন অভিজ্ঞতার কথা জানলে বিদেশি অন্য বিনিয়োগকারীরাও বাংলাদেশে বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হবেন। কারখানা বন্ধের জন্য সরাসরি এনবিআরকে দায়ী করেছেন এই বিনিয়োগকারী। তিনি বলেন, শুধু ‘এনবিআরের কারণেই এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। এনবিআরের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ নেই, বিষয়টি মূলত মানসিকতার।’ আরও পড়ুন বড় হচ্ছে ইলেকট্রিক স্কুটারের বাজার, মাসে বিক্রি সাড়ে ৩ হাজার দূতাবাসেও যোগাযোগ, সমাধান হয়নি বিদেশি বিনিয়োগকারী হিসেবে নিজ দেশের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে প্রদীপ্ত মজুমদার বলেন, বিনিয়োগের সময় দুই দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করেই বাংলাদেশে এসেছেন। সমস্যা তৈরির পরও কয়েকবার দূতাবাসে গেছেন এবং কয়েকটি চিঠি দিয়েছেন। তিনি বলেন, দূতাবাস থেকেও বলা হয়েছে- ‘আমরা দেখছি, হচ্ছে’। কিন্তু দূতাবাসের দেওয়া তথ্য বা বক্তব্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে শুনছে না। বেপজার ভূমিকা সম্পর্কে তিনি জানান, বেপজা তাদের অনেক সহযোগিতা করছে এবং তাদের পক্ষেই রয়েছে। কিন্তু বেপজা সরাসরি কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না। আরও পড়ুন নিজেদের আয়ের ডলারে প্রথমবার তেলের দাম পরিশোধ বিপিসির আর কেউ যেন এমন পরিস্থিতির শিকার না হোন দীর্ঘদিন ধরে কারখানা বন্ধ থাকায় নিজের ক্ষতির পাশাপাশি ভবিষ্যৎ বিদেশি বিনিয়োগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রদীপ্ত মজুমদার। তিনি বলেন, ‘আমি চাই না, জীবনে আর কোনো বিনিয়োগকারী এ ধরনের পরিস্থিতির শিকার হোন।’ তার মতে, বিদেশি বিনিয়োগ যে কোনো দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিনিয়োগকারীর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দেশের শ্রমিক, রপ্তানি, বৈদেশিক মুদ্রা আয়, ভ্যাট-ট্যাক্স এবং শিল্পায়নের সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তাই দ্রুত কারখানাটি চালুর সুযোগ তৈরি করে সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান করা উচিত। এমএএস/একিউএফ/এমএফএ