জাতীয়

১০০ কোটি আয় থেকে মা হওয়া—সব নিয়ে বললেন সামান্থা

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
১০০ কোটি আয় থেকে মা হওয়া—সব নিয়ে বললেন সামান্থা
১০০ কোটি আয় থেকে মা হওয়া—সব নিয়ে বললেন সামান্থা

তিন বছর পর পর্দায় ফিরেছেন সামান্থা রুথ প্রভু। প্রত্যাবর্তনটা যে এমন হবে, হয়তো তিনিও ভাবেননি। ‘মা ইনতি বঙ্গারাম’ শুধু বক্স অফিসে ১০০ কোটি রুপি আয় করা ছবি নয়, এই সিনেমার মাধ্যমে নিজেকে অ্যাকশন তারকা হিসেবেও নতুন করে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। অথচ এই সাফল্যের ঠিক আগের কয়েকটি বছর ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটি। অসুস্থতা, কাজ থেকে দূরে থাকা, নিজের পরিচয় নিয়ে নতুন করে ভাবা—সব মিলিয়ে বদলে গেছে জীবনকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি।

এখন সেই সামান্থার জীবন আরও এক বড় পরিবর্তনের সামনে। তিনি মা হতে চলেছেন। জীবনের এই নতুন অধ্যায় নিয়ে যেমন উচ্ছ্বসিত, তেমনি কাজ ও নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও যথেষ্ট সচেতন। দ্য হলিউড রিপোর্টার ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে নিজের এই বদলে যাওয়া সময়, সিনেমার সাফল্য, স্বামী ও পরিচালক রাজ নিদিমোরুর সঙ্গে কাজ, অসুস্থতার অভিজ্ঞতা এবং নারীদের নিয়ে তাঁর ভাবনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি।

পর্দার স্বর্ণা আর বাস্তবের সামান্থা
‘মা ইনতি বঙ্গারাম’-এ সামান্থার চরিত্রের নাম স্বর্ণা। ছবির শুরুতে শাড়ি পরা, চুড়ি হাতে স্বামীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া এক সাধারণ নারীকে দেখা যায়। পরে সেই চুড়ি খুলে রেখে পরিবারের জন্য যুদ্ধে নামেন তিনি। চরিত্রটির এই রূপান্তরের সঙ্গে নিজের জীবনেরও একটা যোগ খুঁজে পান সামান্থা।

ছবিটির গল্প লিখেছেন রাজ নিদিমোরু। অভিনেত্রী সাই পল্লবী চরিত্রটি করতে না পারায় রাজ সামান্থাকে প্রস্তাব দেন এবং পরে তাঁকে মাথায় রেখেই চিত্রনাট্যের বড় অংশ নতুন করে লেখেন। সামান্থার ভাষায়, স্বর্ণার গল্প তাঁর জীবনের কিছু অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত। অবশ্য বাস্তবে তাঁকে কখনো খলনায়কদের পেটাতে হয়নি। কিন্তু বারবার পড়ে গিয়ে আবার উঠে দাঁড়ানোর যে ক্ষমতা অনেক নারীর মধ্যে থাকে, স্বর্ণার মধ্যে তারই অতিরঞ্জিত রূপ দেখেছেন তিনি।

এ কারণে শুটিংয়ের সময় স্বর্ণা, সামান্থা ও ছবির পরিচালক ঝাঁসির মধ্যকার সীমারেখাও অনেক সময় ঝাপসা হয়ে গিয়েছিল। চরিত্রটি যেন তাঁর নিজের জীবনেরই আরেক সংস্করণ হয়ে উঠেছিল।

রাজের সঙ্গে কাজ করার আরেকটি সুবিধা হলো, তাঁর সামনে সামান্থার কোনো ভয় কাজ করেনি। সাধারণত অভিনয়ের সময় একজন শিল্পীর মনে থাকে—কোনো দৃশ্য একটু অন্যভাবে করলে পরিচালক বা অন্যরা কী ভাববেন। রাজের ক্ষেত্রে সেই দ্বিধা ছিল না। কারণ, তিনি জানতেন, মানুষটি তাঁকে পুরোপুরি বোঝেন এবং তাঁর পাশে আছেন।

এই আস্থার কারণেই ‘মা ইনতি বঙ্গারাম’-এর অনেক দৃশ্য এক টেকেই করা হয়েছে। চরিত্রটির জন্মের শুরু থেকেই সামান্থা প্রক্রিয়ার অংশ ছিলেন। ফলে স্বর্ণার পৃথিবী, মানসিকতা ও পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁর ধারণা ছিল পরিষ্কার। ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালেই তাই চরিত্রটির মধ্যে ঢুকে যেতে পেরেছেন।

অভিনয় ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন
সামান্থার ক্যারিয়ার প্রায় দুই দশকের। তাঁর প্রথম ছবি ‘মসকোইন কাবেরি’। কিন্তু ক্যারিয়ারের এতটা পথ পেরিয়ে একসময় সত্যিই অভিনয় ছেড়ে দেওয়ার কথা ভেবেছিলেন তিনি।

এক বছর বিরতি নেওয়ার পর সামান্থার মনে হয়েছিল, জীবনে অন্য কিছু করা দরকার। অসুস্থতার কারণেও চিকিৎসকেরা তাঁকে বিশ্রামে থাকতে এবং অন্য কিছু করার কথা বলেছিলেন। ২০২২ সালে মায়োসাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার পর বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সেই পরামর্শকে গুরুত্ব দিয়েই বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ শুরু করেন তিনি। একাধিক ব্যবসায় যুক্ত হয়ে নিজেকে ‘সিরিয়াল উদ্যোক্তা’ বলেও অভিহিত করেছেন সামান্থা। তখন নিজের নতুন জীবন বেশ উপভোগও করছিলেন। কিন্তু ‘সিটাডেল’–এর শুটিংয়ের সময় অসুস্থ শরীরে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর জন্য সুখকর ছিল না। পুরো একটি ইউনিট তাঁর জন্য অপেক্ষা করছে, মানুষের সময় নষ্ট হচ্ছে—এই ভাবনা তাঁকে কষ্ট দিত। একসময় তাই ঠিক করেছিলেন, এবার অভিনয়ের বদলে প্রযোজনায় মন দেবেন। ‘মা ইনতি বাঙ্গারাম’ প্রযোজনা করবেন, পর্দার আড়াল থেকে নিজের পছন্দের সিনেমা তৈরি হতে দেখবেন—এতেই যেন সন্তুষ্ট ছিলেন।
রাজ অবশ্য সেই সিদ্ধান্ত মেনে নেননি। শেষ পর্যন্ত তাঁর বিশ্বাস এবং সাহসই সামান্থাকে আবার ক্যামেরার সামনে ফিরিয়ে আনে। এর আগেও ‘সিটাডেল’–এর সময় সামান্থা হাল ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন। এমনকি কাজ ছেড়ে দেওয়ার ই–মেইলও পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু নির্মাতারা তাঁকে ছাড়েননি। ‘মা ইনতি বাঙ্গারাম’–এর ক্ষেত্রেও রাজের বিশ্বাস তাঁকে ফিরিয়ে আনে।

সামান্থার মনে হয়েছিল, সাই পল্লবী চরিত্রটি না করলেও চিত্রনাট্যের মধ্যে এমন কিছু আছে, যা দর্শক, বিশেষ করে নারীরা দেখতে চাইবেন। সেই ‘সোনা’ গল্পটি হারিয়ে যাক, সেটা তিনি চাননি।

সামান্থা রুথ প্রভু। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

মাত্র ৫৪ দিনে সিনেমা
‘মা ইনতি বাঙ্গারাম’ তৈরির সময় নির্মাতারা ঝুঁকি নিতে চাননি। প্রায় তিন বছর পর সামান্থার সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে, তার ওপর মুক্তির আগে ছবিটি নিয়ে খুব একটা উচ্ছ্বাসও দেখা যাচ্ছিল না। ফলে দর্শক আদৌ প্রেক্ষাগৃহে আসবেন কি না, সে বিষয়ে তাঁরাও নিশ্চিত ছিলেন না।

এ কারণে বাজেট রাখা হয়েছিল যতটা সম্ভব নিয়ন্ত্রিত। মাত্র ৫৪ দিনে শুটিং শেষ করা হয়। এমনকি বাসের পুরো অ্যাকশন দৃশ্য, ক্লাইম্যাক্স এবং কয়েকটি অতিরিক্ত দৃশ্য এক দিনেই শুট করা হয়েছিল। ইউনিটের প্রত্যেকেই নিজেদের সামর্থ্যের সীমার বাইরে গিয়ে কাজ করেছিলেন।

সামান্থার মতে, ছবিটির সাফল্য কোনো একজনের নয়। প্রথম দিন থেকেই সেটে একটা ইতিবাচক শক্তি ছিল। প্রত্যেকে নিজের জায়গা থেকে একটু বেশি দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। প্রয়োজন হলে বন্ধু, পরিবার ও নিজেদের পরিচিতদের কাছ থেকে অর্থ জোগাড় করেছেন, নিজেরাও বিনিয়োগ করেছেন। ছবিটির চেহারা হয়তো আরও বড় বাজেট ও সময় দাবি করত; কিন্তু তাঁদের মনে হয়েছিল, বাড়তি কিছু না থাকলেও সিনেমাটি তার কথা বলতে পারবে।

ফলাফলও তাঁদের প্রত্যাশা ছাড়িয়ে যায়। প্রথম সপ্তাহান্তের পর সোমবার কী হয়, তা দেখার অপেক্ষায় ছিলেন সামান্থা। সোমবার পার হওয়ার পর আবার সপ্তাহান্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করেছেন। কিন্তু সিনেমার যাত্রা থামেনি।
সবচেয়ে আবেগের মুহূর্ত ছিল প্রেক্ষাগৃহে নারীদের উপস্থিতি। বিভিন্ন বয়সী নারী, পরিবার ও শিশুরা উৎসবের পোশাক পরে সিনেমা দেখতে এসেছেন। যেন শুধু ছবি দেখতে নয়, একটি উৎসব উদ্‌যাপন করতেই তাঁরা হলে গিয়েছিলেন। এক মাসের বেশি সময় পরও সেই দৃশ্য সামান্থাকে আবেগাপ্লুত করে।

সামান্থার কাছে এই সাফল্য এক রাতের ঘটনা নয়। মুক্তির প্রথম দিনের বড় সংগ্রহের পেছনে ছিল আগের দুই বছরের ধাপে ধাপে নিজেকে ঠিক করা, নতুন করে ভাবা এবং আরও ভালো সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া। বদলেছে শুধু একজন অভিনেত্রী হিসেবে সামান্থা নন, ব্যক্তি সামান্থাও।

সামান্থা রুথ প্রভু। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

অসুস্থতা তাঁকে কী শিখিয়েছে
অসুস্থ হওয়ার আগে সামান্থা নিজের পরিচয়কে মূলত কাজ, লক্ষ্য, ফলাফল ও সাফল্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতেন। কী করছেন, কতটা ভালো করছেন, কতটা অর্জন করছেন—এসব দিয়েই নিজের মূল্য নির্ধারণ করতেন। অসুস্থ হওয়ার পর প্রথমবার তাঁকে থেমে যেতে হয়। তখন তিনি নিজেকেই প্রশ্ন করেছিলেন—‘আমি যখন কিছুই করছি না, তখন আমি কে?’

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে সামান্থার জীবনে বড় পরিবর্তন আসে। তিনি বুঝতে শেখেন, একজন মানুষের মূল্য শুধু সে কী কাজ করছে, তার ওপর নির্ভর করে না। কাজের বাইরে যে মানুষটি, তারও মূল্য আছে। নিজের সময়, মানসিক শান্তি, স্বাস্থ্য এবং কোনো একটি প্রকল্পে দেওয়া মনোযোগ—সবকিছুরই মূল্য আছে। তাই এখন তিনি অনেক বেশি বেছে কাজ করেন।

ফলে সামান্থার সিনেমার সংখ্যা যেমন কমেছে, তেমনি বিজ্ঞাপনের কাজও কমেছে। ফিরে আসার পর অন্তত ১৫ থেকে ২০টি ব্র্যান্ডের কাজ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। বাইরে থেকে জীবনকে হয়তো ছোট মনে হতে পারে, কিন্তু তাঁর কাছে এটি এখন অনেক বেশি অর্থপূর্ণ ও উদ্দেশ্যপূর্ণ।
অসুস্থতা তাঁকে আত্মবিশ্বাসের আরেকটি সংজ্ঞাও শিখিয়েছে। একজন অভিনেতা হিসেবে সামান্থা জানতেন কীভাবে আত্মবিশ্বাসী হয়ে একটি ঘরে ঢুকতে হয়, কীভাবে নিজের উপস্থিতি দিয়ে বোঝাতে হয় যে তিনি সেখানে থাকার যোগ্য। শরীরচর্চা, রুটিন, চেহারা—সবকিছুর মধ্য দিয়ে সেই আত্মবিশ্বাস তৈরি করেছিলেন। কিন্তু অসুস্থতা বুঝিয়ে দিয়েছে, বাইরে থেকে যতই আত্মবিশ্বাসী দেখা যাক, শরীর খারাপ হলে এসব কিছুই সব সময় নিয়ন্ত্রণে থাকে না।

একসময় নিজের পরিচয় হারিয়ে ফেলেছেন বলে মনে হয়েছিল সামান্থার। পরে বুঝেছেন, অসুস্থতাকে থামাতে না পারলেও তার প্রতিক্রিয়া কী হবে, সেটি তাঁর হাতে। কৃত্রিম আত্মবিশ্বাস দেখানোর প্রয়োজন নেই। বরং স্থিতি, বিশ্বাস, আশা ও আবার উঠে দাঁড়ানোর ক্ষমতা—এসবই তাঁকে নতুন করে শক্ত করেছে।
সামান্থা স্বীকার করেন, একটা সময় তাঁর মনে হয়েছিল, ‘কেন আমার সঙ্গে এমন হলো?’ পরে সেই প্রশ্ন বদলে যায়—‘এখান থেকে কী শেখা যায়?’ সেই পরিবর্তনই তাঁর জীবনের অন্যতম বড় শিক্ষা।

সামান্থা রুথ প্রভু। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

রাজের সঙ্গে সম্পর্ক
পেশাগত ও ব্যক্তিগত—দুই ক্ষেত্রেই রাজ এখন সামান্থার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মানুষ। তাঁদের মধ্যে সিনেমা নিয়ে আলাদা কোনো নিয়ম নেই। সবকিছু নিয়েই কথা হয়। রাজকে প্রথমে পরিচালক হিসেবে চিনেছিলেন সামান্থা, পরে সম্পর্কের অন্য অধ্যায় এসেছে।

রাজের বিচারবুদ্ধির ওপর সামান্থার গভীর আস্থা। তাঁর মতে, রাজ সহজ মানুষ, সব সময় অন্যের ভালো চান এবং দুজনের মধ্যে মতবিরোধও খুব কম হয়। কারণ, তাঁরা একে অপরের কথা শোনেন। রাজ তাঁকে ভালো অভিনেতা হতে সাহায্য করেছেন—এ কথা নির্দ্বিধায় বলেন সামান্থা। তবে মজা করে এটাও বলেন, তিনি রাজকে আরও ভালো পরিচালক বানিয়েছেন—এ কথা তিনি বলতে পারবেন না। তাঁদের সম্পর্কের কোনো নির্দিষ্ট নিয়মও নেই। নিয়ম থাকলেও তা বেশি দিন টিকত না।

এবার মা হওয়ার পালা
জীবনের নতুন অধ্যায় নিয়েও সামান্থা বেশ স্বচ্ছন্দ। একটা সময় তিনি এবং রাজ দুজনেই মেনে নিয়েছিলেন—সন্তান হয়তো হবে, হয়তো হবে না। দুজনই যেকোনো ফলাফলের জন্য প্রস্তুত ছিলেন। তাই অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবরটি তাঁদের কাছে ছিল একেবারেই অপ্রত্যাশিত আনন্দ। ‘মা ইনতি বাঙ্গারাম’–এর গানের শুটিংয়ের সময় জানতে পারেন তিনি। নাচের স্টেপ করতে গিয়ে শরীর একটু খারাপ লাগছিল। পরে বুঝতে পারেন, জীবনে যেন সবকিছু নিজের জায়গায় এসে মিলে গেছে।
সামান্থা এখন সত্যিই উত্তেজিত। চারপাশের সবাই তাঁকে বলছেন, সন্তান এলে জীবন পুরোপুরি বদলে যায়। আর তিনি সেই পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত।

‘নিজেকে ছোট করে রাখার দিন শেষ’
কয়েক মাস আগে একটি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে গিয়ে সামান্থা বলেছিলেন, নারীরা নিজেদের অনেক সময় ইচ্ছা করেই ছোট করে রাখেন। অন্যের সাফল্যে অস্বস্তি হবে বলে নিজের অর্জনের কৃতিত্বও অনেক সময় নিজেরা পুরোপুরি নেন না। এখন তিনি মনে করেন, সেই সময় শেষ।

নিজেকে ছোট করে রাখার কোনো অর্থ নেই। নিজের সাফল্যের জন্য অন্যকে অজুহাত দেওয়ারও প্রয়োজন নেই। জীবনের অর্ধেক সময় অন্যকে কৃতিত্ব দিয়ে বা নিজের অর্জনে বিব্রত হয়ে কাটিয়ে দেওয়ার কোনো কারণ দেখেন না তিনি। প্রশংসা এড়িয়ে যাওয়ার অভ্যাসটিও বদলাতে চান। তাঁর মতে, প্রশংসা গ্রহণ করাও জরুরি।
নারীদের নিয়ে সামান্থার ভাবনাও একই জায়গায় দাঁড়িয়ে। এমন একটি সময় তিনি দেখতে চান, যখন কোনো সিনেমাকে শুধু নারীপ্রধান বলে আলাদা করে চিহ্নিত করার প্রয়োজন হবে না। নারী চরিত্রও পুরুষ চরিত্রের মতো জটিল, বৈপরীত্যপূর্ণ ও বাস্তব হবে। কোনো নারী শুধু নায়কের স্ত্রী, প্রেমিকা কিংবা নায়ককে সাহস দেওয়ার কারণ হয়ে থাকবে না; সে নিজের গল্পের কেন্দ্রীয় মানুষ হবে।

চুক্তি নিয়ে কোনো নারী অভিনেত্রীর দর-কষাকষি করাও যেন খবর না হয়—এমন একটি স্বাভাবিক শিল্পপরিবেশ চান সামান্থা। সেটে নিরাপত্তার বিষয়টিও যেন চাপা দেওয়ার মতো কিছু না থাকে; বরং সেটিই যেন ইন্ডাস্ট্রির ভিত্তি হয়।

‘মা ইনতি বাঙ্গারাম’ সিনেমার দৃশ্য। ইনস্টাগ্রাম থেকে

কথার চেয়ে কাজে বিশ্বাস
এই ভাবনাগুলোকে শুধু বক্তৃতার মধ্যে আটকে রাখতে চান না সামান্থা। তাঁর প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ত্রালালাতেও তিনি এসব নীতি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছেন।
নারী প্রতিনিধিত্ব, নতুন প্রতিভাকে সুযোগ দেওয়া এবং বিভিন্ন কণ্ঠকে সামনে আনা—এগুলোই সামান্থার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। ইতিমধ্যে দুটি সিনেমা প্রযোজনা করেছেন তাঁরা। ভবিষ্যতের কাজগুলোতেও শক্তিশালী নারী চরিত্র রাখার পরিকল্পনা আছে।

সামান্থার বিশ্বাস, একজন নারী যখন অন্য একজন নারীকে এগিয়ে যেতে দেখেন, তখন তাঁর নিজের মধ্যেও এগিয়ে যাওয়ার সাহস তৈরি হয়। নারীদের সবচেয়ে বড় যে মিথ্যাটি শেখানো হয়েছে, তা হলো—তাঁদের অপেক্ষা করতে হবে, কেউ এসে বেছে নেবে।

সঠিক চাকরি, সঠিক সম্পর্ক, পদোন্নতি—সবকিছুর জন্য অপেক্ষা করার বদলে নারীদের নিজেদের জীবন নিজেরাই বেছে নেওয়া উচিত বলে মনে করেন সামান্থা। কী চান, কীসের জন্য দাঁড়াবেন, কখন কোথা থেকে সরে আসবেন—সিদ্ধান্তগুলো নিজেরাই নিতে হবে। তাঁর বিশ্বাস, একজন নারী এক পা সামনে এগোলেই অন্যরাও তাঁর পথ অনুসরণ করার সাহস পেতে পারেন।

মাতৃত্বের কারণে খুব দীর্ঘ বিরতিতে যেতে চান না সামান্থা। তবে এবার নিজের শরীরের কথা শুনেই সিদ্ধান্ত নিতে চান। তাঁর প্রযোজিত কিছু সিনেমা আছে, ব্যবসাগুলোও ভালো চলছে—সেগুলোতেও সময় দিতে হবে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
সরকারি খরচে ৩০৬ জন প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ প্রশিক্ষণ পাবে বিকেএসপিতে
সরকারি খরচে ৩০৬ জন প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ প্রশিক্ষণ পাবে বিকেএসপিতে

তৃণমূলের ৩০৬ জন প্রতিভাবানকে বিকেএসপিতে পূর্ণ সরকারি খরচে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হক। বুধবার নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামের উদ্বোধনকালে তৃণমূল থেকে উঠে আসা উদীয়মান ক্রীড়াবিদদের ভবিষ্যতের দায়-দায়িত্ব সরকার বহন করবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। দেশজুড়ে আয়োজিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ প্রতিযোগিতার প্রথম আসরে অংশ নেওয়া এক লাখ ৬৮ হাজার কিশোর-কিশোরীর মধ্য থেকে নির্বাচিত ৩০৬ জন প্রতিশ্রুতিশীল খেলোয়াড়কে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে বিকেএসপিতে দুই মাসের নিবিড় প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষে সর্বোচ্চ সক্ষমতা দেখানো অ্যাথলেটদের পড়াশোনা ও খেলাধুলার সার্বিক খরচ বহনের মধ্য দিয়ে আগামী দিনের জাতীয় মানের অ্যাথলেট তৈরির মহাপরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জানান, খেলাধুলাকে কেবল সাময়িক বিনোদন বা স্বল্পসময়ের মাঠের অনুশীলনে সীমাবদ্ধ না রেখে নতুন প্রজন্মকে নিয়ে একটি সমৃদ্ধ ও পেশাদার ক্রীড়া পরিবেশ গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী ভাবনার আলোকে এবং বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি পূরণে তৃণমূল থেকে প্রতিভা অন্বেষণের এই বিশাল মহাযজ্ঞ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের জন্য ক্রীড়া ভাতা চালুর মাধ্যমে খেলাধুলাকে রাষ্ট্রীয় ও পেশাগত স্বীকৃতি দেওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও বেগবান করা হয়েছে। বর্তমানে দেশের তরুণ ও কিশোর সমাজকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, মাদকের ভয়াল থাবা এবং অতিরিক্ত ডিভাইস-আসক্তি থেকে দূরে সরিয়ে একটি সুস্থ ও দেশপ্রেমিক প্রজন্ম হিসেবে গড়ে তুলতে খেলাধুলার ভূমিকাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। আরআই/আইএইচএস/

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
২০২৬ ব্যালন ডি’অর: পরিসংখ্যানে এমবাপ্পে-মেসি, নাকি ট্রফিতে রদ্রি-ইয়ামাল?

২০২৬ ব্যালন ডি’অর: পরিসংখ্যানে এমবাপ্পে-মেসি, নাকি ট্রফিতে রদ্রি-ইয়ামাল?

সৌদি আরব থেকে ১৯৪ কোটি টাকার ইউরিয়া আমদানির অনুমোদন

সৌদি আরব থেকে ১৯৪ কোটি টাকার ইউরিয়া আমদানির অনুমোদন

‘আমি নিজেও একজন ফিল্মমেকার হতে চেয়েছিলাম’, এফডিসিতে তথ্য উপদেষ্টা

‘আমি নিজেও একজন ফিল্মমেকার হতে চেয়েছিলাম’, এফডিসিতে তথ্য উপদেষ্টা

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে পদক্ষেপ নিচ্ছে মালয়েশিয়া
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে পদক্ষেপ নিচ্ছে মালয়েশিয়া

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে ফেরানোর প্রক্রিয়া দ্রুত করতে দেশটির প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংকে মালয়েশিয়ায় সরকারি সফরের আমন্ত্রণ জানাবেন প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন তিনি। আনোয়ার বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করতেই তিনি দেশটির নেতাকে মালয়েশিয়ায় আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার মতে, দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা বজায় রাখার পাশাপাশি মিয়ানমারকে তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়েও দায়িত্ব নিতে হবে। গত জুলাইয়ে আনোয়ার জানিয়েছিলেন, মিয়ানমার নিপীড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ৫ হাজার সদস্যকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে। তবে এই উদ্যোগ নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মালয়েশিয়ায় জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার নিবন্ধিত ২ লাখ ১৫ হাজারের বেশি শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১ লাখ ২৬ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা। দেশটিতে থাকা শরণার্থীদের মধ্যে রোহিঙ্গারাই সবচেয়ে বড় জনগোষ্ঠী। দুই দেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মিয়ানমারের নাগরিককে স্বেচ্ছায় দেশে ফেরানোর প্রথম ধাপ শুরু হতে পারে। তবে তাদের মধ্যে কতজন রোহিঙ্গা থাকবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আনোয়ার বলেন, মিয়ানমার একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক শরণার্থীকে ফিরিয়ে নিতে না পারলে ধাপে ধাপে প্রত্যাবাসন করা যেতে পারে। তিনি বলেন, দুই সপ্তাহ আগে তিনি মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের জানিয়েছিলেন যে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টকে সরকারি সফরে আমন্ত্রণ জানানো হবে। এর উদ্দেশ্য রোহিঙ্গা সংকটের একটি বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজে বের করা। মালয়েশিয়ায় বাড়ছে উদ্বেগ মালয়েশিয়ায় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন আনোয়ার। এর মধ্যেই রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি কুয়ালালামপুরে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার কার্যালয়ের বাইরে জড়ো হওয়া শতাধিক রোহিঙ্গাকে আটক করেছিল মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ। উত্তরাঞ্চলীয় পেনাং রাজ্যে একটি অনানুষ্ঠানিক বসতি থেকে উচ্ছেদের হুমকির মুখে তাঁরা সেখানে জড়ো হয়েছিলেন। পরে তাদের কাছে জাতিসংঘের বৈধ নথি রয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়ার পর ছেড়ে দেওয়া হয়। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরানোর পরিকল্পনা ঘোষণার পর জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, মিয়ানমারে ফিরে গেলে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে। চলতি মাসের শুরুতে মিয়ানমার বিদেশে অবস্থানরত তাদের নাগরিকদের ‘নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ’ প্রত্যাবাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে প্রত্যাবাসন কীভাবে হবে এবং ফিরে যাওয়া ব্যক্তিদের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, তা নিয়ে এখনও নানা প্রশ্ন রয়েছে। শরণার্থী কনভেনশনে নেই মালয়েশিয়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়ায় অন্যতম বড় শরণার্থী জনগোষ্ঠীর বসবাস। তবে দেশটি ১৯৫১ সালের শরণার্থী কনভেনশনের স্বাক্ষরকারী নয়। ফলে দেশটির আইনে শরণার্থীদের আলাদা কোনো আনুষ্ঠানিক মর্যাদাও নেই। এদিকে মালয়েশিয়ায় থাকা রোহিঙ্গাদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর ঘটনাও সামনে এসেছে। বিভিন্ন অধিকার সংগঠনের অভিযোগ, এসব অনলাইন প্রচারণা রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ, ভয়ভীতি ও বৈষম্য বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। রোহিঙ্গারা মূলত মিয়ানমারের একটি মুসলিম সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর ব্যাপক দমন-পীড়নের পর লাখ লাখ রোহিঙ্গা দেশ ছেড়ে পালিয়ে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নেন। তাঁদের একটি বড় অংশ পরবর্তী সময়ে মালয়েশিয়াতেও আশ্রয় নেয়। এখন মালয়েশিয়া ও মিয়ানমারের মধ্যে প্রত্যাবাসন উদ্যোগ কতটা বাস্তবায়িত হয় এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয় কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সূত্র: এএফপি এমএসএম

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
বলের পরিবর্তনে জাতীয় লিগে রান বেশি হবে, প্রত্যাশা ক্রিকেটারদের

বলের পরিবর্তনে জাতীয় লিগে রান বেশি হবে, প্রত্যাশা ক্রিকেটারদের

পুরোনো পার্টসের চালানে মিললো ১৯ ইঞ্জিন, ২ গাড়ি

পুরোনো পার্টসের চালানে মিললো ১৯ ইঞ্জিন, ২ গাড়ি

আগামী মাসে মা হওয়ার কথা ছিল নূর জাহানের, ডেঙ্গুতে মৃত্যু

আগামী মাসে মা হওয়ার কথা ছিল নূর জাহানের, ডেঙ্গুতে মৃত্যু

১২৫৩৭ কোটি টাকার জ্বালানি তেল আমদানির অনুমোদন
১২৫৩৭ কোটি টাকার জ্বালানি তেল আমদানির অনুমোদন

এলএনজি ও পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির দুটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এর মধ্যে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান থেকে সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর সময়ে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিতে ব্যয় হবে ১২ হাজার ৫৩৭ কোটি ৪৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে প্রস্তাবগুলো অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর সময়ে জিটুজি পদ্ধতি ও আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ৫০:৫০ অনুপাতে জ্বালানি তেল আমদানির শর্ত শিথিলের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান থেকে জিটুজি চুক্তির আওতায় পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির লক্ষ্যে নেগোসিয়েশনে সম্মত প্রিমিয়াম, পরিমাণ ও বর্তমান রেফারেন্স প্রাইস অনুযায়ী ক্রয়প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আরও পড়ুন অতিরিক্ত ৬ লাখ ৯৫ হাজার টন জ্বালানি তেল আমদানির অনুমোদন এ প্রস্তাবের মোট চুক্তিমূল্য ১২ হাজার ৫৩৭ কোটি ৪৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এতে সুপারিশকৃত দরদাতা হিসেবে রয়েছে চীনের ইউনিপেক, ইন্দোনেশিয়ার বিএসপি এবং চীনের পেট্রোচায়না। প্রস্তাবটি উত্থাপন করে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। অন্যদিকে, কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসি  থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় আগামী ১০ নভেম্বর একটি অতিরিক্ত কার্গো এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) কেনার দর প্রস্তাবও অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে কমিটি। এ ক্ষেত্রে এলএনজির একক দর নির্ধারণ করা হয়েছে জেকেএম ০.০২ মার্কিন ডলার প্রতি এমএমবিটিইউ। সুপারিশকৃত দরদাতা কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসি। প্রস্তাবটি উত্থাপন করে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। এমএএস/ইএ

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
মুডিসের রেটিংয়ে গণতান্ত্রিক সরকারের প্রয়োজনীয়তা ফুটে উঠেছে: মাহদী আমিন

মুডিসের রেটিংয়ে গণতান্ত্রিক সরকারের প্রয়োজনীয়তা ফুটে উঠেছে: মাহদী আমিন

পঞ্চগড় পৌর আ’ লীগের সাধারণ সম্পাদক গ্রেফতার

পঞ্চগড় পৌর আ’ লীগের সাধারণ সম্পাদক গ্রেফতার

ডিজেলের দাম বাড়ায় ইউক্রেনকে দায়ী করছেন ট্রাম্প, সুবিধা দেখছে মস্কো

ডিজেলের দাম বাড়ায় ইউক্রেনকে দায়ী করছেন ট্রাম্প, সুবিধা দেখছে মস্কো

0 Comments