জাতীয়

চার উড়োজাহাজ, ১৯ ছিনতাইকারী—নিজের পাতা ফাঁদেই কি আটকে গেল যুক্তরাষ্ট্র

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
চার উড়োজাহাজ, ১৯ ছিনতাইকারী—নিজের পাতা ফাঁদেই কি আটকে গেল যুক্তরাষ্ট্র
চার উড়োজাহাজ, ১৯ ছিনতাইকারী—নিজের পাতা ফাঁদেই কি আটকে গেল যুক্তরাষ্ট্র

এক সকালেই ধসে পড়েছিল নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ার। কিন্তু সেদিন যে পৃথিবী তৈরি হয়েছিল, তার ধাক্কা এখনো শেষ হয়নি। ৯/১১-এর পর শুরু হওয়া ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ আফগানিস্তান ও ইরাক পেরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘ অস্থিরতার এক নতুন অধ্যায় তৈরি করেছে। আজকের ইরান যুদ্ধ সেই বাস্তবতারই অংশ।

সময়টা তখন সকাল ৮টা ৪৬ মিনিট। ঠিক এর আগমুহূর্ত পর্যন্তও নিউইয়র্ক ছিল আর দশটা দিনের মতোই—অফিসগামী মানুষের ঢল, স্কুলে যাওয়ার তাড়ায় ব্যস্ত শিশু, রাস্তায় গাড়ির জট। কেউ জানতেন না, পরের কয়েক মিনিটেই ইতিহাসের গতিপথ চিরকালের জন্য বদলে যাবে। কেউ কল্পনাও করেননি, এ সাধারণ সকালটাই খোদাই হয়ে যাবে মানুষের স্মৃতিতে একটিমাত্র নাম হয়ে—৯/১১ (নাইন/ইলেভেন)।

এরপর যা ঘটেছিল, তা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ভূগোল আর রাজনীতিই বদলায়নি—বদলে দিয়েছে গোটা বিশ্বের নিরাপত্তা-দৃষ্টিভঙ্গি, ধর্মীয় সহাবস্থানের সমীকরণ, এমনকি কোটি কোটি মানুষের দৈনন্দিন জীবন। ২৫ বছর আগে ২০০১ সালের আজকের দিনের (১১ সেপ্টেম্বর) সেই ভয়াবহ সকালের রেশ এখনো টাটকা। আজও প্রতিবছর নিউইয়র্কে নিহত ব্যক্তিদের নাম পড়া হয়, নীরবতা পালন করা হয়, বিশ্বজুড়ে আলোচনা চলে ঘটনার আড়ালে চাপাপড়া সত্যিটা নিয়ে। প্রশ্ন একটাই—সেদিন আসলেই কী ঘটেছিল?

সেই সকাল: যখন সময় থমকে গিয়েছিল

যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের সময় অনুযায়ী সকাল ৮টা ৪৬ মিনিট। আমেরিকান এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ১১ হঠাৎ আছড়ে পড়ে নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের নর্থ টাওয়ারে। প্রথম মুহূর্তে অনেকেই ভেবেছিলেন, এটি নিছক দুর্ঘটনা। কিন্তু ঠিক ১৭ মিনিট পর, সকাল ৯টা ৩ মিনিটে, ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ১৭৫ আছড়ে পড়ে সাউথ টাওয়ারে। এ দ্বিতীয় আঘাতেই গোটা বিশ্ব বুঝে যায়—এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং সুপরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা।

নর্থ টাওয়ারে আঘাতের পরপরই আকাশে দেখা যায় আগুনের বিশাল কুণ্ডলী, শহরজুড়ে নেমে আসে ধুলার আস্তরণ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছিলেন, ভবন থেকে মানুষ লাফিয়ে পড়ছিল, রাস্তায় ধুলোয় ঢাকা মানুষ ছুটে পালাচ্ছিল, চারদিকে শুধু আর্তচিৎকার। আহত ও নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন অফিসকর্মী, পর্যটক, এমনকি স্কুলশিশুও।

এভাবে বিপদ যখন একের পর এক নেমে আসছিল, তখন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট ছিল একেবারেই স্বাভাবিক। প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ তখন ক্ষমতায় মাত্র ৯ মাস, নিউইয়র্কের মেয়র রুডি জুলিয়ানির মেয়াদও শেষের পথে। বেসবল তারকা ডেরেক জিটার তখনো নিউইয়র্ক ইয়াঙ্কিজের অধিনায়ক, যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় গানের সাপ্তাহিক তালিকা ‘বিলবোর্ড হট ১০০’–এর শীর্ষে জেনিফার লোপেজ ও জা রুলের গান ‘আই’ম রিয়েল’।

ঘটনাক্রমে সেদিন ছিল নিউইয়র্ক শহরের প্রাইমারি নির্বাচনের দিনও। সকাল ছয়টায় ভোটকেন্দ্র খোলার কয়েক ঘণ্টা পরই ঘটে এ ট্র্যাজেডি।

মিনিটে মিনিটে ধ্বংস

সেদিনের প্রতিটি মুহূর্তই ছিল আতঙ্কের। চারটি উড়োজাহাজ একযোগে ছিনতাই হয়েছিল, আর প্রতিটির গন্তব্য ছিল আলাদা। ঘটনাপ্রবাহ ছিল অনেকটা এমন—

• সকাল ৭টা ৫৯ মিনিট: বোস্টনের লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৭৬ যাত্রী, ১১ ক্রু এবং ৫ ছিনতাইকারীসহ উড়াল দেয় আমেরিকান এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ১১।

• সকাল ৮টা ১৫ মিনিট: একই বিমানবন্দর থেকে ৫১ যাত্রী, ৯ ক্রু ও ৫ ছিনতাইকারী নিয়ে উড়াল দেয় ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ১৭৫।

• সকাল ৮টা ২০ মিনিট: ওয়াশিংটনের ডালেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৫৩ যাত্রী, ৬ ক্রু ও ৫ ছিনতাইকারী নিয়ে ওড়ে আমেরিকান এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ৭৭।

• সকাল ৮টা ৪২ মিনিট: নিউ জার্সির নিউয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৩৩ যাত্রী, ৭ ক্রু ও ৪ ছিনতাইকারী নিয়ে ওড়ে ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ৯৩।

• সকাল ৮টা ৪৬ মিনিট: ফ্লাইট ১১ আছড়ে পড়ে নর্থ টাওয়ারে।

• সকাল ৯টা ৩ মিনিট: ফ্লাইট ১৭৫ আছড়ে পড়ে সাউথ টাওয়ারে।

• সকাল ৯টা ৩৭ মিনিট: ফ্লাইট ৭৭ আঘাত হানে পেন্টাগনে।

• সকাল ৯টা ৫৯ মিনিট: ধসে পড়ে সাউথ টাওয়ার।

• সকাল ১০টা ৩ মিনিট: ফ্লাইট ৯৩ পেনসিলভানিয়ার একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়।

• সকাল ১০টা ২৮ মিনিট: ধসে পড়ে নর্থ টাওয়ার।

উল্লেখ্য, চতুর্থ উড়োজাহাজ ‘ফ্লাইট ৯৩’–এর লক্ষ্য ছিল ওয়াশিংটনের ক্যাপিটল ভবন—মার্কিন কংগ্রেসের প্রাণকেন্দ্র। কিন্তু যাত্রী ও ক্রুরা সাহস দেখিয়ে ছিনতাইকারীদের প্রতিরোধ করায় উড়োজাহাজটি লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি, বরং পেনসিলভানিয়ার শ্যাঙ্কসভিলের কাছে একটি ফাঁকা মাঠে বিধ্বস্ত হয়।

ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার চত্বরে শুধু জোড়া টাওয়ারই নয়, ধ্বংস হয়েছিল আরও পাঁচটি ভবন। ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কারের কাজ চলে মাসের পর মাস, আনুষ্ঠানিকভাবে সর্বশেষ স্টিলের টুকরো সরানো হয় ২০০২ সালের ৩০ মে।

দীর্ঘ প্রায় এক বছর ধরে পরিকল্পনাকারীরা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে উড়োজাহাজ চালানোর প্রশিক্ষণ নেন এবং লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করেন। তাঁরা এতটাই নিখুঁতভাবে মার্কিন সমাজে মিশে গিয়েছিলেন যে স্থানীয় প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কর্মীরাও কিছু সন্দেহ করেননি।

প্রাণহানি ছিল ভয়াবহ

এসব হামলায় নিহত হন মোট ২ হাজার ৯৭৭ জন। তাঁরা ছিলেন বিশ্বের ৯০টি দেশের। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২ হাজার ৭৫৩ জন প্রাণ হারান নিউইয়র্কে, পেন্টাগনে ১৮৪ জন, আর পেনসিলভানিয়ায় ৪০ জন।

ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার তখন যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক শক্তির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হতো, আর টুইন টাওয়ার ছিল শহরের সবচেয়ে উঁচু ভবন। হামলার সময় এ ভবন কমপ্লেক্সে ১৬ হাজার ৪০০ থেকে ১৮ হাজার মানুষ অবস্থান করছিলেন বলে মনে করা হয়। নর্থ টাওয়ারে হামলায় কেউ বাঁচতে পারেননি, তবে সাউথ টাওয়ারের ওপরের তলা থেকে ১৮ জন বেঁচে যান।

১৯৪১ সালে পার্ল হারবারে জাপানি হামলায় প্রায় ২ হাজার ৪০০-এর বেশি মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার পর, ৯/১১-ই যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ঘটা সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে চিহ্নিত হয়। শুধু মহামারি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগই এর চেয়ে বেশি মার্কিন নাগরিকের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার এর আগেও একবার হামলার শিকার হয়েছিল। ১৯৯৩ সালে ভবনের নিচে একটি ভ্যানে বোমা বিস্ফোরণে ছয়জন নিহত ও বহু মানুষ আহত হন।

৯/১১ হামলায় নিহত হয়েছিলেন ১৯ হামলাকারীও। শুধু ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে দুটি বিমান হামলায় প্রাণ হারান ২ হাজার ৭৫৩ জন। আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধার করতে গিয়ে প্রাণ যায় ৩৪৩ ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও ৬০ পুলিশ সদস্যের।

শুধু তাৎক্ষণিক মৃত্যুই নয়, এ হামলার দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিও ছিল ভয়াবহ। ধ্বংসস্তূপ থেকে ছড়িয়ে পড়া বিষাক্ত ধুলার কারণে বহু মানুষ পরবর্তী বছরগুলোতে ক্যানসার ও শ্বাসতন্ত্রের দীর্ঘমেয়াদি অসুখে আক্রান্ত হন। নিউইয়র্ক সিটির স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গ্রাউন্ড জিরোতে কাজ করা প্রায় ১০ হাজার ফার্স্ট রেসপন্ডার পরবর্তী সময়ে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ারে জঙ্গি হামলা চালানো হয়

হামলার নেপথ্যে: আল-কায়েদার জন্ম ও পরিকল্পনা

এ ভয়াবহ হামলার নেপথ্যে ছিল চরমপন্থী সংগঠন আল-কায়েদা। এটির জন্ম ১৯৮০-এর দশকে আফগানিস্তানে, তৎকালীন সোভিয়েত বাহিনীর আগ্রাসনের প্রেক্ষাপটে। ১৯৯০-এর দশক থেকে সংগঠনটি বৈশ্বিক পরিসরে হামলা চালাতে শুরু করে। ১৯৯৩ সালে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে প্রথম বোমা হামলার পেছনেও ছিল তাদের হাত, এমনটাই মনে করা হয়। এরপরের বছরগুলোতে বিভিন্ন দেশে হোটেল, দূতাবাস ও জাহাজে হামলা চালায় সংগঠনটি। কিন্তু ৯/১১ ছিল তাদের সবচেয়ে বড়, সবচেয়ে সুপরিকল্পিত অভিযান।

হামলার পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে কেউ কেউ ছিলেন মার্কিন নাগরিক বা গ্রিন কার্ডধারী, যা তাঁদের যুক্তরাষ্ট্রে অবাধে প্রবেশ ও ফ্লাইট প্রশিক্ষণ স্কুলে ভর্তি হওয়ার সুযোগ করে দেয়। মনে করা হয়, মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি, বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও আগ্রাসী ইসরায়েলকে দিয়ে চলা অব্যাহত সমর্থনের প্রতিশোধ নেওয়াই ছিল এসব হামলার মূল উদ্দেশ্য।

দীর্ঘ প্রায় এক বছর ধরে পরিকল্পনাকারীরা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে উড়োজাহাজ চালানোর প্রশিক্ষণ নেন এবং লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করেন। তাঁরা এতটাই নিখুঁতভাবে মার্কিন সমাজে মিশে গিয়েছিলেন যে স্থানীয় প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কর্মীরাও কিছু সন্দেহ করেননি।

নিরাপত্তাব্যবস্থার মারাত্মক ফাঁক

ঘটনার দিন হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র ও বক্স-কাটার ব্যবহার করে উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ নেন। প্রতিটি উড়োজাহাজ দূরপাল্লার যাত্রার জন্য পূর্ণ জ্বালানি নিয়ে উড়ছিল বলে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড ছিল আরও ভয়াবহ। তবে ফ্লাইট ৯৩-এর যাত্রীরা যেভাবে সাহস দেখিয়ে ককপিটে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন, তাতে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হোয়াইট হাউস বা ক্যাপিটল ভবন রক্ষা পায়।

উড়োজাহাজের নিরাপত্তাব্যবস্থায় থাকা ফাঁকফোকর, সীমিত স্ক্যানিং–সুবিধা এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে তথ্য বিনিময়ে দুর্বলতা—এসবই হামলাকারীদের সুযোগ করে দিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে গঠিত তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনেও উঠে আসে, গোয়েন্দা তথ্য সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে হয়তো এ হামলা ঠেকানো সম্ভব ছিল।

মুসলিমদের জন্য শুরু অন্ধকার এক অধ্যায়

হামলার ঠিক পরপরই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত মুসলিম ও আরব বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকদের জীবনে নেমে আসে নতুন সংকট। বহু মসজিদে আগুন দেওয়া হয় বা ভাঙচুর করা হয়, মুসলিমদের ওপর নেমে আসে হত্যার হুমকি ও হয়রানি।

২০১১ সালে মার্কিন কংগ্রেসে দেওয়া সাউদার্ন পোভার্টি ল সেন্টারের সাক্ষ্য অনুযায়ী, শুধু মুসলিম বলে মনে হওয়ার কারণেই অনেককে মারধর, আক্রমণ এমনকি বন্দুকের মুখে ফেলা হয়েছিল।

মিনেসোটার ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর ৯/১১ ও এর পরবর্তী বৈষম্য নিয়ে এবিসি নিউজকে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী হিসেবে তাঁরাও (মুসলিমরা) সেদিন আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাঁর ভাষায়, ‘এ দেশ, এ কমিউনিটি তাঁদেরও। হামলায় মুসলিম ফায়ার সার্ভিসের কর্মীসহ বহু মুসলিম নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।’

মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরোর (এফবিআই) তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণাজনিত অপরাধ বেড়ে যায় প্রায় ১৬১৭ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ইসলামভীতি থেকে সৃষ্ট ঘৃণামূলক অপরাধের অন্যতম সর্বোচ্চ সংখ্যা এটি। এমন অপরাধের ঘটনা ২০০০ সালে ছিল ২৮টি। ২০০১ সালে তা একলাফে বেড়ে দাঁড়ায় ৪৮১টিতে।

হামলার ছয় দিন পর, ২০০১ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর, তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ওয়াশিংটনের ইসলামিক সেন্টারে গিয়ে মুসলিমবিরোধী ঘৃণাকে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেছিলেন, ‘সন্ত্রাস ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা নয়। ইসলাম মানে শান্তি, আর সন্ত্রাসীরা শান্তির প্রতিনিধিত্ব করে না। তারা প্রতিনিধিত্ব করে অশুভ শক্তি ও যুদ্ধের।’

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ভয়াবহ হামলার পর জ্বলছে টুইন টাওয়ার। এই হামলায় নিহত হয় প্রায় তিন হাজার মানুষ

সে সময়ের পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপ বলছে, হামলার পরও যুক্তরাষ্ট্রের ৫৯ শতাংশ মানুষ মুসলিম মার্কিনদের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করতেন, যদিও ৪০ শতাংশ মানুষ মনে করতেন, হামলাকারীরা অন্তত আংশিকভাবে ধর্মীয় কারণেই এ হামলা চালিয়েছিলেন।

কিন্তু যাঁরা মুসলিমদের প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করতেন, তাঁরা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন—যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মুসলিমদের নিশানা করে বোমা হামলার হুমকি, অগ্নিসংযোগ ও হামলা তখন খবরের শিরোনামে পরিণত হয়।

মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের আরব আমেরিকান স্টাডিজ সেন্টারের পরিচালক স্যালি হাওয়েল বলেন, ৯/১১ পরবর্তী সময়ে মুসলিম ও সন্ত্রাসবাদ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এতটাই ভয় তৈরি হয়েছিল যে সন্ত্রাস মোকাবিলার নামে নাগরিকদের ওপর নজরদারি, হয়রানি ও ফাঁদে ফেলার মতো নতুন নতুন সুযোগ তৈরি করা হয়।

বছর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ইসলামবিদ্বেষী তথা ঘৃণামূলক অপরাধের সংখ্যা কমেছিল, পরে আবার বেড়ে যায়। কিন্তু তত দিনে ক্ষতি যা হওয়ার হয়ে গেছে।

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বার্কলের ইসলামোফোবিয়া রিসার্চ অ্যান্ড ডকুমেন্টেশন প্রকল্পের প্রধান হাতেম বাজিয়ান জানান, তাঁদের এক জরিপে প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ জানিয়েছিলেন, পশ্চিমা বিশ্বে মুসলিম হিসেবে বসবাস করা অবস্থায় তাঁরা নিজেদের পরিবার ও সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে অন্তত কিছুটা হলেও উদ্বিগ্ন থাকেন।

ইসলামভীতি রাজনীতির হাতিয়ার

প্রতিটি নির্বাচনী মৌসুমে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত মুসলিমদের মধ্যে এ নিরাপত্তাহীনতা আরও বেড়ে যায়। ইসলামভীতি ক্রমেই পরিণত হয় একটি রাজনৈতিক হাতিয়ারে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ বেশ কিছু পরিচিত মুখ ও গণমাধ্যম ভাষ্যকার মুসলিম এবং আরব মার্কিনদের নিয়ে ভয় উসকে দিয়ে নিজেদের সমর্থকগোষ্ঠীকে আরও উজ্জীবিত করার চেষ্টা করেন।

খ্রিষ্টান হওয়া সত্ত্বেও সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বিরুদ্ধে দুই মেয়াদেই মুসলিমবিরোধী বাগাড়ম্বর ব্যবহার করা হয়েছিল। তাঁর জন্মস্থান ও ধর্ম নিয়ে বর্ণবাদী এবং জেনোফোবিক (বিদেশি বা ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষের প্রতি ভয়/বিদ্বেষ) গুজব ছড়িয়ে তাঁর প্রতি অবিশ্বাস তৈরির চেষ্টা হয়েছিল।

হামলার ঠিক পরপরই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত মুসলিম ও আরব বংশোদ্ভূত মার্কিনদের জীবনে নেমে আসে নতুন সংকট। বহু মসজিদে আগুন দেওয়া হয় বা ভাঙচুর করা হয়, মুসলিমদের ওপর নেমে আসে হত্যার হুমকি ও হয়রানি।

বিরোধীরা মিথ্যা দাবি করেছিলেন যে ওবামা যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ না করায় প্রেসিডেন্ট হওয়ার যোগ্যই নন অথবা তিনি গোপনে ইসলাম ধর্ম পালন করেন। যদি তা সত্যও হতো, তবু প্রেসিডেন্ট হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা তৈরি করত না।

হাতেম বাজিয়ানের ভাষায়, ওবামাকে গোপন মুসলিম হিসেবে তুলে ধরে ইসলামভীতিকে ভোটের বাক্সে রূপান্তরিত করা হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৬ সালের নির্বাচনী মৌসুমেও মুসলিমবিরোধী মনোভাব অব্যাহত ছিল। সে সময় ইসলামভীতিজনিত ঘৃণামূলক অপরাধ আবার বেড়ে যায়। এফবিআইয়ের হিসাবে ২০০১ সালে এমন ঘটনা ঘটেছিল ৪৮১টি, যা পরের বছরই কমে দাঁড়ায় ১৫৫টিতে। এরপর ২০১৫ সালে তা আবার বেড়ে হয় ২৫৭, আর ২০১৬ সালে ৩০৭। অবশ্য, এর পর থেকে এ সংখ্যা ক্রমশ কমেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রাজনৈতিক অঙ্গনে ছড়ানো মুসলিমবিরোধী বক্তব্যের সঙ্গে এই ঘৃণা বৃদ্ধির সম্পর্ক রয়েছে। নিজের প্রথম দফার নির্বাচনী প্রচারজুড়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসলাম ধর্ম ও মুসলিমদের সমালোচনার লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিলেন, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

২০১৫ সালের নভেম্বরে ট্রাম্প এবিসি নিউজে ভিত্তিহীন দাবি করেন, ‘নিউ জার্সিতে আরব অধ্যুষিত এলাকার লোকজন টুইন টাওয়ার ধসে পড়ার দৃশ্য দেখে উল্লাস করছিলেন।’ ২০১৬ সালের মার্চে সিএনএনে ট্রাম্প আরেকটি অযৌক্তিক দাবি করেন, ‘ইসলাম ধর্মের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি একধরনের ঘৃণা লুকিয়ে আছে।’

ট্রাম্প প্রশাসনের শুরুর মাসগুলোতে পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপে দেখা যায়, প্রায় ৭৫ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম মার্কিন মনে করতেন, যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ব্যাপক বৈষম্য রয়েছে।

টুইন টাওয়ারে ৯/১১ হামলা

ট্রাম্পের ‘মুসলিম নিষেধাজ্ঞা’: বিতর্কিত নির্বাহী আদেশ

প্রথম দফায় ক্ষমতায় বসার অল্প কিছুদিনের মধ্যেই ট্রাম্প এমন একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন, যেখানে বেশ কয়েকটি মুসলিম-অধ্যুষিত দেশ থেকে অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

সমালোচকদের দাবি, নির্বাচনী প্রচার–প্রচারণার সময় মুসলিমদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার যে ডাক ট্রাম্প দিয়েছিলেন, এ আদেশের মাধ্যমে তা আইনি রূপ দেওয়া হয়।

আদালতে এ পদক্ষেপ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে, শেষ পর্যন্ত ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্ট এর একটি সংশোধিত সংস্করণ বহাল রাখে। এ নিষেধাজ্ঞা প্রভাবিত করেছে ইরান, সোমালিয়া, ইয়েমেন, সিরিয়া ও লিবিয়ার মতো মুসলিম-অধ্যুষিত দেশের ভ্রমণকারী ও অভিবাসীদের। সঙ্গে যুক্ত হয় উত্তর কোরিয়া এবং ভেনেজুয়েলার কিছু নাগরিকও, আর ২০২০ সালে আরও কয়েকটি দেশ এ তালিকায় যুক্ত হয়।

২০১৭ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২১ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত, প্রেসিডেন্ট বাইডেন নিষেধাজ্ঞাটি বাতিল করার আগপর্যন্ত—মার্কিন পররাষ্ট্র বিভাগে তথ্য অনুযায়ী, এর কারণে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধার মুখে পড়েন।

ট্রাম্প ও তাঁর সমর্থকেরা এ আদেশকে ইসলামভীতিমূলক বলার বিরোধিতা করে দাবি করেন, ‘এটি ছিল সন্ত্রাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে রক্ষা করার পদক্ষেপ।’

তবে অধিকারকর্মীরা মনে করেন, এখন আর কার্যকর না থাকলেও এ আদেশ মুসলিমদের প্রতি ঘৃণা ও ভয়কে বৈধতা দিয়েছিল, যা যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ও জীবনযাপন তাঁদের জন্য আরও কঠিন করে তুলেছিল।

প্রতিরোধের গল্প: মুসলিম কমিউনিটির উত্থান ও সংগ্রাম

এত প্রতিকূলতার মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমরা থেমে থাকেননি। ধীরে ধীরে তাঁরা সরকারে, টেলিভিশনে ও জনজীবনের নানা ক্ষেত্রে প্রতিনিধিত্ব অর্জন করেছেন।

২০০৭ সালে প্রথম মুসলিম হিসেবে কংগ্রেসে নির্বাচিত হন মিনেসোটার ডেমোক্র্যট প্রতিনিধি কিথ এলিসন। এরপর ২০১৮ সালে ভোটাররা প্রথমবারের মতো দুজন মুসলিম নারীকে কংগ্রেসে পাঠান—ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ইলহান ওমর ও রশিদা তালিব।

রশিদা তালিব এবিসি নিউজকে বলেছিলেন, তাঁর মুসলিম পরিচয় ও পটভূমি তাঁকে বুঝতে সাহায্য করে ইসলামভীতি ও জেনোফোবিয়া থেকে কী ক্ষতি হতে পারে। তাঁর ভাষায়, ‘শুধু ধর্মের ভিত্তিতে মানুষকে নিশানা করলে, দেশ আরও অনিরাপদ হয়ে ওঠে এবং তা ঘৃণা ও বর্ণবাদকেই আরও উসকে দেয়।’

পিউ রিসার্চ সেন্টারের হিসাবে, যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম জনসংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। ২০২০ সালে তা প্রায় ৩৮ লাখ ৫০ হাজারে পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হয়। গত ২০ বছরে দেশজুড়ে মসজিদও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় সম্প্রদায় নিয়ে গবেষণা করা সংগঠন কো–অপারেটিভ কংগ্রেগেশনাল স্টাডিজ পার্টনারশিপের (সিসিএসপি) তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ২০৯টি। তা ২০২০ সালে দ্বিগুণের বেশি বেড়ে দাঁড়ায় অন্তত ২ হাজার ৭৬৯টিতে।

হাতেম বাজিয়ানের মতে, পশ্চিমা বিশ্বে ইসলামকে যেভাবে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরা হয়, বাস্তবতা তার থেকে অনেক দূরে।

পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপ বলছে, বেশির ভাগ মার্কিন কোনো মুসলিমকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না অথবা তাঁদের সম্পর্কে তেমন কিছু জানেন না বলে স্বীকার করেন। প্রতিষ্ঠানটির জ্যেষ্ঠ গবেষক বশির মোহাম্মদের মতে, যাঁরা ব্যক্তিগতভাবে কোনো মুসলিমকে চেনেন, তাঁদের মধ্যে ইসলাম ও মুসলিমদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি তুলনামূলক বেশি ইতিবাচক থাকে।

স্যালি হাওয়েল বলেন, মুসলিমদের এভাবে আড়ালে থাকাই ইসলামভীতিকে শক্তি জোগায়। মুসলিমরা যখন তাঁদের প্রতিষ্ঠান, নাম, হিজাব কিংবা রেস্তোরাঁর হালাল সাইনবোর্ডের মাধ্যমে অমুসলিমদের কাছে দৃশ্যমান হয়ে ওঠেন, তখনই লোকজন বুঝতে পারেন, তাঁদের সহকর্মী বা প্রতিবেশীরাও আসলে মুসলিম—আর এতেই কাটতে শুরু করে অজানা ভয়।

‘ইসরায়েলি গোয়েন্দারা আগেই জানতেন’

বিশ্ব যখন ৯/১১-এর স্মৃতিচারণায় ব্যস্ত, তখন নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে একটি দাবি। মার্কিন সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার টাকার কার্লসন সম্প্রতি দাবি করেছেন, ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা ৯/১১ হামলা সংঘটিত হওয়ার আগেই এ সম্পর্কে জানত। একটি প্রামাণ্যচিত্র সিরিজে তিনি এ বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার বাইরে থাকা নানা তথ্যও সামনে এনেছেন।

ব্রিটিশ সাংবাদিক, টেলিভিশন উপস্থাপক ও লেখক পিয়ার্স মরগানের অনুষ্ঠান ‘আনসেন্সরড নিউজ’-এ কার্লসন বলেন, ইসরায়েলের নেতৃত্ব কখনোই ৯/১১ হামলা নিয়ে তাদের মনোভাব লুকায়নি; বরং তাদের ধারণা ছিল, এ হামলা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্ককে আরও গভীর করে তুলেছে।

কার্লসন স্পষ্ট করে বলেন, তিনি কখনোই দাবি করেননি যে ইহুদিরা এ হামলা চালিয়েছে; বরং তাঁর ভাষ্য, এমন অভিযোগ তোলা আসলে প্রকৃত প্রশ্নগুলো ধামাচাপা দেওয়ার একটি কৌশল, যা সত্যিকারের অনুসন্ধানকে দুর্বল করে দেয়।

কার্লসন উল্লেখ করেন, হামলার পরপরই ইসরায়েলি নেতা (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী) বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ক্যামেরার সামনে বলেছিলেন, ‘এ ঘটনা আসলে ভালো। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র এমন এক সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে, যেখানে ইসরায়েল কয়েক দশক ধরে অস্তিত্বের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।’ তিনি ৯/১১ হামলার সঙ্গে পার্ল হারবারে জাপানি হামলার তুলনাও করেছিলেন।

হামলার ওই ঘটনার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পসহ বেশ কিছু পরিচিত মুখ ও গণমাধ্যম ভাষ্যকার মুসলিম এবং আরব মার্কিনদের নিয়ে ভয় উসকে দিয়ে নিজেদের সমর্থকগোষ্ঠীকে আরও উজ্জীবিত করার চেষ্টা করেন।

কার্লসন এ প্রসঙ্গে বহুল আলোচিত ‘ইসরায়েলি আর্ট স্টুডেন্টস’ ইস্যুও সামনে আনেন, যা নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে খুবই সীমিত ধারণা রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। তাঁর কথায়, যুক্তরাষ্ট্রে এ তথাকথিত শিল্পশিক্ষার্থীদের কেউ কেউ প্রকৃতপক্ষে শিল্পশিক্ষার্থী ছিলেন না, বরং ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁদের যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার করে কিছুদিন আটকে রাখা হলেও পরে কোনো অভিযোগ ছাড়াই ছেড়ে দেওয়া হয়।

কার্লসন দাবি করেন, এফবিআইয়ের নথি অনুযায়ী ওই শিক্ষার্থীদের কয়েকজন হামলার দৃশ্য ধারণ করেছিলেন এবং দৃশ্যত হামলার বিষয়ে আগে থেকেই তাঁদের ধারণা ছিল।

এই ‘ইসরায়েলি আর্ট স্টুডেন্টস’-এর প্রথম খোঁজ পাওয়া যায় ২০০০ সালের শেষ দিকে, যখন তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সামরিক স্থাপনায় হাজির হতে শুরু করেন। সেখানে তাঁরা ছবি বিক্রি ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার চেষ্টা করতেন। তাঁরা বারবার এমন সব স্থাপনায় যাতায়াত করতেন, যেখানে সাধারণত সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার থাকে না, এমনকি কোনো কোনো সামরিক কর্মকর্তার ব্যক্তিগত বাড়িতেও তাঁদের দেখা গেছে।

ওই সময়কার গণমাধ্যম প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০১ সালের শুরু থেকে হামলার আগপর্যন্ত এমন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে অন্তত ১৪০ জন ইসরায়েলি নাগরিককে আটক করা হয়। হামলার পর আটক করা হয় আরও প্রায় ৬০ জনকে। অভিযোগ আছে, এ দলের কিছু সদস্য হামলাকারীদের আবাসস্থলের কাছাকাছি এলাকায় বাড়ি ভাড়াও নিয়েছিলেন।

‘সন্ত্রাসবিরোধী’ যুদ্ধ ও বৈশ্বিক প্রভাব

৯/১১-এর পরপরই জর্জ ডব্লিউ বুশ তথাকথিত ‘ওয়ার অন টেরর’ বা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দেন।

২০০১ সালের ৭ অক্টোবর আফগানিস্তানে শুরু হয় ‘অপারেশন এনডিউরিং ফ্রিডম’। এ সামরিক অভিযানে তালেবান ক্ষমতাচ্যুত হলেও যুদ্ধ চলতে থাকে বহু বছর।

২০০৩ সালে ‘গণবিধ্বংসী অস্ত্র’ থাকার অজুহাতে ইরাকেও যুদ্ধ শুরু করে মার্কিন বাহিনী। দেশটির অভ্যন্তরে বিমানবন্দর ও সীমান্তে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয়। চালু করা হয় প্যাট্রিয়ট অ্যাক্ট, যার মাধ্যমে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান ও নাগরিকদের ওপর নজরদারির নিয়ম আরও জোরদার হয়।

৯/১১-এর প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের সীমানা পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়ে গোটা বিশ্বে। ২০ বছর পর মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর হাতে ক্ষমতাচ্যুত তালেবানই ২০২১ সালে আবারও আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ফিরে আসে। এক অভূতপূর্ব ও ঝোড়ো গতির অভিযানে পশ্চিমা-সমর্থিত দুর্নীতিবাজ আশরাফ গনি সরকারকে হটিয়ে দিয়ে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে, বিশেষত ইরাক ও সিরিয়ায় বেড়ে যায় অস্থিতিশীলতা। ন্যাটো ও জাতিসংঘ যুক্তরাষ্ট্রের ‘সন্ত্রাসবিরোধী’ অভিযানে সমর্থন জোগায়, গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি করে এবং সামরিক সহায়তা দেয়। ৯/১১-এর পর বিশ্বজুড়ে প্রায় ৭০টির বেশি দেশ তাদের সন্ত্রাসবিরোধী আইন শক্তিশালী করে এবং সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধি করে।

হামলার আর্থিক ক্ষতিও ছিল বিশাল। যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে দেখা দেয় বড় ধরনের পতন, বিমা খাতে হয় বিপুল ক্ষতি, দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ে বিমান ও পর্যটন খাতে।

নিউইয়র্ক সিটির অবকাঠামোগত ক্ষতির পরিমাণ ছাড়িয়ে যায় ৬০ বিলিয়ন (৬ হাজার কোটি) ডলার। শুধু গ্রাউন্ড জিরো থেকে ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার করতেই ব্যয় হয় ৭৫০ মিলিয়ন (৭৫ কোটি) ডলার। ক্ষতিপূরণ তহবিল থেকে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য বিতরণ করা হয় ৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ। হামলার পরের তিন মাসেই নিউইয়র্ক সিটির অর্থনীতি হারায় প্রায় ১ লাখ ৪৩ হাজার চাকরি।

ওসামা বিন লাদেন নিহত

আল-কায়েদার তৎকালীন প্রধান ওসামা বিন লাদেন আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্ত এলাকায় প্রায় এক দশক ধরে আত্মগোপনে ছিলেন। ২০১১ সালে মার্কিন নেভি সিল বাহিনী পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাঁকে হত্যা করে।

বিন লাদেনকে হত্যার ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সন্ত্রাসবিরোধী’ অভিযানের এক বড় প্রতীকী বিজয় হিসেবে দেখানো হলেও, যুক্তরাষ্ট্রসহ সারা বিশ্বেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রবণতা থেমে যায়নি। দেশে দেশে এখনো নামে-বেনামে সন্ত্রাসীরা রয়েছে সক্রিয়।

কী শিক্ষা রেখে গেল ৯/১১

দুটি টাওয়ার ধসে পড়তে সময় লেগেছিল মাত্র কয়েক ঘণ্টা, কিন্তু তার রেশ বয়ে বেড়াচ্ছে পুরো একটি প্রজন্ম। ৯/১১ শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের কালো দিন নয়—এটি বদলে দিয়েছে গোটা বিশ্বের নিরাপত্তাদর্শন, রাজনীতির ভাষা, এমনকি মানুষে মানুষে আস্থার সমীকরণও।

এ হামলা প্রমাণ করেছে, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড মোকাবিলায় শুধু বোমা-বন্দুক যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও বৈষম্যহীন বিশ্বব্যবস্থা। অথচ বাস্তবতা হলো, এ হামলার পর থেকেই কোটি কোটি নিরপরাধ মুসলিমকে বইতে হয়েছে শুধু নাম, পোশাক বা বিশ্বাসের কারণে সন্দেহের মুখে পড়ার এক অদৃশ্য বোঝা। ইসলামভীতির এই ছায়া ২৫ বছরেও কাটেনি; বরং প্রয়োজনমতো রাজনীতির মঞ্চে বারবার ফিরে এসেছে।

আর ঠিক যখন মনে হচ্ছিল ৯/১১-এর গল্প বলা শেষ, তখনই সামনে এসেছে এ হামলা নিয়ে ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের আগাম জানাশোনার চাঞ্চল্যকর দাবি। এটা প্রমাণ করে, এ হামলার পেছনের প্রকৃত সত্য নিয়ে প্রশ্নের শেষ নেই, বরং তা সময়ে সময়ে নিচ্ছে নতুন মোড়।

এখানেই উঠে আসে এক অস্বস্তিকর প্রশ্ন—আফগানিস্তান থেকে ইরাক, লিবিয়া থেকে সিরিয়া, আর এখন ইরান পর্যন্ত বিস্তৃত এক দীর্ঘ যুদ্ধ ও ইসলামভীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কি নিজেই নিজের পাতা ফাঁদে আটকে পড়ল?

[তথ্যসূত্র: এবিসি নিউজ, ‘টুয়েন্টি ইয়ার্স আফটার নাইন/ইলেভেন, ইসলামোফোবিয়া কন্টিনিউস টু হান্ট মুসলিমস’ সেপ্টেম্বর ১১, ২০২১; সিবিএস, ‘নিউইয়র্ক সিটি চেঞ্জড ফরএভার অন নাইন/ইলেভেন, এ লুক ব্যাক অ্যাট হোয়াট আনফোল্ডেড’, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৫ ও আরটি]

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৩,৮০০ কোটি ডলার, মাসে খরচ বাড়ছে আরও ৩০০ কোটি
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৩,৮০০ কোটি ডলার, মাসে খরচ বাড়ছে আরও ৩০০ কোটি

ইরানের সঙ্গে প্রায় ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৩৮ বিলিয়ন (৩ হাজার ৮০০ কোটি) ডলার। এ খরচ প্রতি মাসে আরও ৩ বিলিয়ন (৩০০ কোটি) ডলার করে বাড়তে পারে বলে আভাস দিয়েছে মার্কিন কংগ্রেসের নির্দলীয় বাজেট গবেষণাপ্রতিষ্ঠান কংগ্রেসনাল বাজেট অফিস (সিবিও)। ট্রাম্প প্রশাসন যখন এ সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আবার সচল করার উপায় খুঁজছে, তখনই যুদ্ধের এ বিপুল খরচের হিসাব সামনে এল। সিবিওর হিসাব অনুযায়ী, গত ১ আগস্ট পর্যন্ত হওয়া এ খরচের জেরে ২০২৭ সালের প্রথম ৩ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বাড়তে পারে। যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান এ ব্যয় মার্কিন অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুতে টান ফেলেছে এবং জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে অন্য কোনো সম্ভাব্য সংঘাতের মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা নিয়ে যেমন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তেমনি চাপ বাড়ছে দেশটির এমনিতেই টানাপোড়েনে থাকা ফেডারেল বাজেটের ওপর।যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত ও অত্যাধুনিক অস্ত্রের মজুতে টান, তীব্র সংকটে মার্কিন বাহিনীএ খরচের পরিমাণ গত ২১ জুলাই মার্কিন সিনেটের এক শুনানিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের দেওয়া ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের হিসাবের কাছাকাছি। সিবিও জানিয়েছে, ব্যয়ের সিংহভাগই গেছে দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়া গোলাবারুদ বাবদ।যুক্তরাষ্ট্রের এ সামরিক মজুত আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে প্রায় পাঁচ বছর লাগতে পারে। এর আগে গত আগস্টে রয়টার্স তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র তাদের দূরপাল্লার নিখুঁত নিশানার (প্রিসিশন) ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় পুরোটা ব্যবহার করে ফেলেছে। কংগ্রেসের আর্থিক নিরীক্ষকদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কোনো সহযোগিতা করেনি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে সিবিও।যুক্তরাষ্ট্রের এ সামরিক মজুত আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে প্রায় পাঁচ বছর লাগতে পারে। এর আগে গত আগস্টে রয়টার্স তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র তাদের দূরপাল্লার নিখুঁত নিশানার ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় পুরোটা ব্যবহার করে ফেলেছে। কংগ্রেসের আর্থিক নিরীক্ষকদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কোনো সহযোগিতা করেনি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে সিবিও।অবশ্য হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি এক বিবৃতিতে ইরানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হামলাকে মার্কিন কর্মী ও স্বার্থ রক্ষায় একটি নির্ধারক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। প্রেসিডেন্টের সব কৌশলগত লক্ষ্য এবং এর বাইরের প্রয়োজনীয়তা পূরণের জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে পর্যাপ্ত গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জামের মজুত রয়েছে বলে দাবি তাঁর। প্রাকৃতিক গ্যাসের পাইপলাইনের একটি মডেল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পতাকা এবং এক ডলারের নোট। ছবিটি একটি প্রতীকী চিত্র হিসেবে ১৮ জুন ২০২৫ তোলামার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেলও গোলাবারুদের ঘাটতিসংক্রান্ত প্রতিবেদনের তথ্য প্রত্যাখ্যান করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট যখন, যেখানে চাইবেন, সেখানেই আঘাত হানার মতো সব ধরনের প্রস্তুতি পেন্টাগনের রয়েছে বলে তাঁর মন্তব্য।মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের বাজেট কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য এবং পেনসিলভানিয়ার প্রতিনিধি ব্র্যান্ডন বয়েলের অনুরোধে যুদ্ধের এ ব্যয়সংক্রান্ত তদন্তটি পরিচালনা করা হয়।ব্র্যান্ডন বয়েল, মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের বাজেট কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্যইরানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিপর্যয়কর যুদ্ধ ইতিমধ্যে বহু সাহসী মার্কিন সেনার প্রাণ কেড়ে নিয়েছে ও অনেককে আহত করেছে। মানবিক এ ক্ষয়ক্ষতির বাইরে, সিবিওর নির্দলীয় প্রতিবেদনটি স্পষ্ট করে দিয়েছে, যুদ্ধ মার্কিন করদাতাদের শত শত কোটি ডলার খসিয়ে চলেছে এবং খরচ ক্রমাগত বেড়েই চলেছে।এক বিবৃতিতে ব্র্যান্ডন বয়েল বলেন, ‘ইরানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিপর্যয়কর যুদ্ধ ইতিমধ্যে বহু সাহসী মার্কিন সেনার প্রাণ কেড়ে নিয়েছে ও অনেককে আহত করেছে। মানবিক এ ক্ষয়ক্ষতির বাইরে, সিবিওর নির্দলীয় প্রতিবেদনটি স্পষ্ট করে দিয়েছে, যুদ্ধ মার্কিন করদাতাদের শত শত কোটি ডলার খসিয়ে চলেছে এবং খরচ ক্রমাগত বেড়েই চলেছে।’হরমুজে সহায়তা না করা দেশগুলোর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পেরহরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে সাম্প্রতিক হামলা এবং এ অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় আক্রমণের খরচ এ প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এ ছাড়া যুদ্ধ পরিচালনার জন্য নেওয়া ঋণের ব্যয়ও এতে ধরা হয়নি, যা যুক্ত হলে মোট খরচে আরও শত শত কোটি ডলার যোগ হতে পারে।ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত মার্কিন সামরিক বাহিনীর ১৮ জন সদস্য নিহত হয়েছেন বলে তথ্য প্রকাশ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে সাম্প্রতিক হামলা এবং এ অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় আক্রমণের খরচ এ প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এ ছাড়া যুদ্ধ পরিচালনার জন্য নেওয়া ঋণের ব্যয়ও এতে ধরা হয়নি, যা যুক্ত হলে মোট খরচে আরও শত শত কোটি ডলার যোগ হতে পারে।ইরান যুদ্ধে চার মাসেই অন্তত ৫২টি যুদ্ধবিমান–ড্রোন হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
টি-টোয়েন্টিতে রোহিত শর্মাকে পেছনে ফেললেন বাটলার

টি-টোয়েন্টিতে রোহিত শর্মাকে পেছনে ফেললেন বাটলার

জুলাইয়ের মানুষকে জুলাই জাদুঘরের মহাপরিচালক করা সরকারের সঠিক সিদ্ধান্ত

জুলাইয়ের মানুষকে জুলাই জাদুঘরের মহাপরিচালক করা সরকারের সঠিক সিদ্ধান্ত

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নাগরিক সচেতনতা-প্রজননস্থল ধ্বংস জরুরি: মেয়র শাহাদাত

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নাগরিক সচেতনতা-প্রজননস্থল ধ্বংস জরুরি: মেয়র শাহাদাত

সেপ্টেম্বরের ১৬ দিনে আগস্টের চেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী
সেপ্টেম্বরের ১৬ দিনে আগস্টের চেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী

ডেঙ্গুতে প্রতিদিন সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়ছে। চলতি মাসে আজ বুধবার পর্যন্ত যতজন আক্রান্ত হয়েছেন, তা আগস্টের মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যার চেয়ে বেশি। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সাতজন ডেঙ্গুতে মারা গেছেন। এ সময় ১ হাজার ৭৫৩ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এটি চলতি বছরে এক দিনে সর্বোচ্চ রোগী ভর্তি। গত সোমবার চলতি বছরের সর্বোচ্চ ভর্তির রেকর্ড ছিল। আজ দুই দিনের মধ্যেই সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে গেল। এ মাসে রোগী আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চলতি বছরের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৫৬ হাজার ৯১৬ জন। এর মধ্যে চলতি মাসে আজ পর্যন্ত রোগীর সংখ্যা ২১ হাজার ৭০। গত আগস্ট মাসে রোগীর সংখ্যা ছিল ২০ হাজার ৫৩৬। এরই মধ্যে গত মাসের মৃত্যুর রেকর্ড পার হয়ে গেছে। আজ পর্যন্ত চলতি মাসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৭৪ জন। গত মাসে এ সংখ্যা ছিল ৫৪।জনস্বাস্থ্য ও কীটতত্ববিদেরা এ মাসের শুরুতেই উচ্চ সংক্রমণের আশঙ্কা করেছিলেন। কীটতত্ত্ববিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কবীরুল বাশার আজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ মাসে রোগীর সংখ্যা ৩০ হাজার ছাড়িয়ে যাবে বলে আমরা আগেই আশঙ্কা করেছিলাম। এর কারণ হলো শুরু থেকেই ডেঙ্গু নিয়ে একধরনের অবহেলা দেখা গেছে। প্রধানমন্ত্রী যে উদ্যোগ নিয়েছেন, সেটিকে সাধুবাদ জানাই। এটা আগামী নভেম্বর পর্যন্ত চলবে আশা করি। কিন্তু এসব উদ্যোগ শুধু মিডিয়া কাভারেজের মধ্যে না রেখে সত্যিকার অর্থে বাস্তবায়ন করা হলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে।’সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় যে সাতজন মারা গেছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই ঢাকার বাইরের। তাঁদের মধ্যে তিনজনই খুলনা বিভাগের। অন্য চারজন চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের। এ সময়ে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন দুই সিটির বাইরে ঢাকা বিভাগের অন্যত্র। এ সংখ্যা ৩৯৪। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রোগী হয়েছেন খুলনা বিভাগে—৩৪৯ জন।এখন পর্যন্ত দেশে সর্বোচ্চ রোগী ভর্তি হয়েছেন দুই সিটির বাইরে ঢাকা বিভাগে—৯ হাজার ৫০৬ জন। এরপরেই আছে খুলনা বিভাগ—৯ হাজার ৩১২ জন।

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
১,১৫০ টাকার নামজারিতে ৭০ হাজার দাবি, রাঙ্গাবালীতে তহশিলদারের ভিডিও ভাইরাল

১,১৫০ টাকার নামজারিতে ৭০ হাজার দাবি, রাঙ্গাবালীতে তহশিলদারের ভিডিও ভাইরাল

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের নতুন মহাপরিচালক এহসান মাহমুদ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের নতুন মহাপরিচালক এহসান মাহমুদ

অবুঝ রায়হানের পা কেটে বানানো হয় ‘ভিক্ষার মেশিন’

অবুঝ রায়হানের পা কেটে বানানো হয় ‘ভিক্ষার মেশিন’

গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিল, ওসির পর সরানো হলো ডিসিকেও
গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিল, ওসির পর সরানো হলো ডিসিকেও

রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের মিছিলকে কেন্দ্র করে এবার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো ডিএমপির গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এম তানভীর আহমেদকে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) পরবর্তী জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কাছে দায়িত্ব অর্পণ করে তাকে ডিএমপি সদর দপ্তরে রিপোর্ট করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদের সই করা এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এম তানভীর আহমেদকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রশাসনিক কারণে ঢাকা মেট্রোপলিটন সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হলো। আরও পড়ুন গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি ক্লোজড এর আগে, একই দিন গুলশান মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দাউদ হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়। ওসির প্রত্যাহার আদেশে বলা হয়, প্রশাসনিক কারণে ১৬ সেপ্টেম্বর পূর্বাহ্নে ডিএমপি সদর দপ্তর ও প্রশাসন বিভাগের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে দাউদ হোসেনকে সংযুক্ত (ক্লোজড) করা হলো। গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর গুলশান থানাধীন ৩ নম্বর সড়কের কেএফসি-সংলগ্ন সড়কে মিছিল করে কার্যক্রমে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে গেলে মিছিলকারীরা পুলিশের দিকে ককটেল নিক্ষেপ করে। এসময় হাতেনাতে দুজনকে গ্রেফতার ও পাঁচটি ককটেল উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনার পর এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৫ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আরও পড়ুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী / গুলশানে আ’লীগের মিছিলের বিষয়ে তথ্য ছিল, তবে পুলিশ আন্দাজ করতে পারেনি গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিলের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য ছিল। তবে শুক্রবার পুলিশ হয়তো আন্দাজ করতে পারেনি যে ওই সময় ওই এলাকায় জুমার নামাজ পড়তে এসে তারা এরকম একটা কিছু করতে পারে। গুলশানে মিছিলের বিষয়ে তিনি বলেন, বেলা ১১টার দিকে জুমার নামাজ আদায়ের কথা বলে সেখানে কিছু লোক জড়ো হয়েছিল। পরে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। টিটি/এমকেআর

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
এনসিএলে বাড়ল মর্যাদা, ব্যাগি ক্যাপ পেয়ে অধিনায়কদের উচ্ছ্বাস

এনসিএলে বাড়ল মর্যাদা, ব্যাগি ক্যাপ পেয়ে অধিনায়কদের উচ্ছ্বাস

দুর্ঘটনার কবলে বহনকারী মাইক্রোবাস, অক্ষত মহিবুল্লাহ বাবুনগরী

দুর্ঘটনার কবলে বহনকারী মাইক্রোবাস, অক্ষত মহিবুল্লাহ বাবুনগরী

ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির স্থানীয় বিল ২৭০ দিন পর ওভারডিউ

ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির স্থানীয় বিল ২৭০ দিন পর ওভারডিউ

0 Comments