জাতীয়

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে বিল পাস: ট্রাম্প সই করলেই ভারতের ওপর ১০০% শুল্ক

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে বিল পাস: ট্রাম্প সই করলেই ভারতের ওপর ১০০% শুল্ক
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে বিল পাস: ট্রাম্প সই করলেই ভারতের ওপর ১০০% শুল্ক

রাশিয়া ও ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের লক্ষ্যে গতকাল বুধবার এক গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ। বিলটি এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সইয়ের জন্য পাঠানো হবে। ট্রাম্প বিলটিতে সই করবেন বলে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

প্রতিনিধি পরিষদে গতকাল হওয়া ভোটাভুটিতে বিলটির পক্ষে ২৬২ ও বিপক্ষে ১৫৯ ভোট পড়ে।

এ পদক্ষেপের অধীন রাশিয়ার সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি দেশটির ধনকুবের, তাঁদের পরিবারের সদস্য ও রাশিয়ার আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও আসবে। ট্রাম্পের অনুরোধে এই প্যাকেজে ইরানের অস্ত্র ও জ্বালানি খাতে অর্থের জোগান কমানোর লক্ষ্যে তাঁর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতাও বাড়ানো হবে।

৬১ পৃষ্ঠার এ বিল গত মাসে কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে ৮৬-১১ ভোটে পাস হয়। প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের সম্মানে বিলটির নাম রাখা হয়েছে ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’। গত জুলাইয়ে আকস্মিক মৃত্যুর আগে গ্রাহাম এ উদ্যোগের জোরালো সমর্থক ছিলেন।

বিলটিতে রাশিয়ার জ্বালানি খাতকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের সবচেয়ে বড় ক্রেতা দেশগুলোর ওপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি এসব দেশ থেকে আমদানি করা পণ্যে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হয়েছে। এসব দেশের মধ্যে চীন ও ভারতও থাকতে পারে।

এ বিলের লক্ষ্য হলো, রাশিয়ার রাজস্ব আয়ের উৎসগুলো ব্যাপকভাবে কমিয়ে দেওয়া। যুক্তরাষ্ট্র এভাবে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মস্কোর অর্থের জোগান বন্ধ করতে চায়। ২০২২ সালে ইউক্রেনে আক্রমণ করে রাশিয়া। এর মধ্য দিয়ে ইউক্রেনের সঙ্গে দেশটির পুরোদমে যুদ্ধ শুরু হয়, যা এখনো চলছে।

নির্দলীয় গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) বলেছে, ‘এ আইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, উল্লেখযোগ্য পরিমাণে রাশিয়ার জ্বালানি কেনা তৃতীয় দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ রাখা।’

যেসব দেশ রাশিয়ার জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেবে এবং যাদের আমদানি রাশিয়ার বার্ষিক প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানির ১৫ শতাংশের কম, বিলটিতে তাদের জন্য ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানায় সিএসআইএস।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নীতিবিষয়ক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান আটলান্টিক কাউন্সিল বলেছে, যদি চীন রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখে, তবে বিলটি ‘ট্রাম্প প্রশাসনকে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে চীন থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেবে। এই পদক্ষেপের ভিত্তি হলো, শুল্ক আরোপ করলে চীন রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি আমদানি কমাতে বাধ্য হবে’।

রাশিয়ার একটি তেলের পাইপলাইন

এ পদক্ষেপের অধীন রাশিয়ার সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি দেশটির ধনকুবেররা, তাঁদের পরিবারের সদস্য ও রুশ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও থাকবে।

ট্রাম্পের অনুরোধে এ প্যাকেজে ইরানের অস্ত্র ও জ্বালানি খাতে অর্থের জোগান কমানোর লক্ষ্যে তাঁর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতাও বাড়ানো হবে।

প্রতিনিধি পরিষদের কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় ডেমোক্র্যাট সদস্য বিলটির সমালোচনা করেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, এটি ট্রাম্পকে ব্যাপকভাবে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেবে এবং তিনি এটির অপব্যবহার করতে পারেন। তবে শেষ পর্যন্ত এসব আপত্তি বিলটি ঠেকানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।

প্রতিনিধি পরিষদের কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় ডেমোক্র্যাট সদস্য বিলের সমালোচনা করেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, এটি ট্রাম্পকে ব্যাপকভাবে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেবে এবং তিনি এর অপব্যবহার করতে পারেন। তবে শেষ পর্যন্ত এসব আপত্তি বিলটি ঠেকানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।

প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন (রিপাবলিকান—লুইজিয়ানা) গত সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি সব সময়ই রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিলটির পক্ষে ছিলাম। তবে এ নিয়ে আমাদের একটি ঐকমত্য তৈরি করতে হয়েছে এবং আমার মনে হয়, এখন সেই ঐকমত্য আমাদের আছে।’

ইউক্রেনকে সমর্থনকারী যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অ্যাডভোকেসি সংগঠন র‍্যাজম ফর ইউক্রেনের ড্যানিয়েল বালসন বিলটি পাস হওয়াকে ‘গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এক বিবৃতিতে বালসন বলেন, ‘এমন এক সময় বিলটি পাস হলো, যখন রাশিয়ার কর্মকর্তারা পূর্ণমাত্রায় সেনা মোতায়েনের দিকে এগোচ্ছেন এবং ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর বোমাবর্ষণ জোরদার করছেন। এ বিল একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে, পুতিন যত দিন ইউক্রেনের ওপর দুর্ভোগ চাপিয়ে যাবেন, তত দিন কংগ্রেসও তাঁর ওপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত রাখবে।’

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
অদৃশ্য জীবাণু, দৃশ্যমান অবদান: মাইক্রোবায়োলজিস্টদের গল্প
অদৃশ্য জীবাণু, দৃশ্যমান অবদান: মাইক্রোবায়োলজিস্টদের গল্প

জীবাণু শব্দটির সঙ্গে আমাদের পরিচয় সেই ছোটবেলা থেকেই। ছোটবেলায় জ্বর-সর্দি-কাশি হলে চিকিৎসকের কাছে গেলে প্রায়ই শুনতাম—‘ভাইরাল ফিভার।’ তখন প্রশ্ন করতাম, ‘ভাইরাল আবার কী?’চিকিৎসক খুব সহজ করে বোঝাতেন—ভাইরাস অতি ক্ষুদ্র একধরনের জীবাণু, যা খালি চোখে দেখা যায় না। বিভিন্ন ভাইরাস মানুষের শরীরে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। আবার ভাইরাস ও অন্যান্য অণুজীবকে কেন্দ্র করে রোগ প্রতিরোধ, টিকা উন্নয়ন ও বিভিন্ন জৈবপ্রযুক্তিগত গবেষণাও পরিচালিত হয়। ভাইরাসের পাশাপাশি ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, প্রটোজোয়া এবং আরও নানা ধরনের অণুজীব আমাদের পৃথিবীর জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।সেখান থেকেই হয়তো জীবাণু সম্পর্কে আমার প্রথম কৌতূহল তৈরি হয়েছিল। পরে বুঝেছি, সব অণুজীব মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়। বরং অণুজীবের বিশাল একটি অংশ পরিবেশ, খাদ্য, কৃষি, শিল্প, মানবদেহের স্বাভাবিক জীবপ্রক্রিয়া এবং গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিছু অণুজীব রোগ সৃষ্টি করে, আবার কিছু অণুজীব মানুষের উপকার করে এবং রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতিতেও ভূমিকা রাখে।এই বিশাল ও বৈচিত্র্যময় অণুজীবজগৎকে জানা, তাদের বৈশিষ্ট্য, আচরণ, পরিবর্তন, রোগ সৃষ্টির প্রক্রিয়া, নিয়ন্ত্রণ এবং উপকারী ব্যবহার সম্পর্কে গবেষণা করাই অণুজীববিজ্ঞানের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র। আর এই গুরুত্বপূর্ণ কাজের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত অণুজীববিজ্ঞানীরা।করোনাকাল: অণুজীববিজ্ঞানের গুরুত্ব নতুন করে অনুভবমনে পড়ে সেই দিনগুলোর কথা। ২০২০ সালে করোনা সংক্রমণের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো পৃথিবীর মানুষ এক অভূতপূর্ব আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যায়। হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক, পিপিই—যেসব জিনিস সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ ছিল না, সেগুলো রাতারাতি হয়ে উঠল অপরিহার্য।‘লকডাউন’ শব্দটিও আমাদের জীবনের অভিধানে স্থায়ীভাবে জায়গা করে নিল। ঘরবন্দী জীবন, রাস্তায় নীরবতা, পিপিই পরা মানুষ, হাসপাতালের ব্যস্ততা-সবকিছুই ছিল অভূতপূর্ব।করোনা আমাদের অনেক কিছু শিখিয়েছে।আমরা শিখেছি ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধির গুরুত্ব। নিয়মিত হাত ধোয়া, প্রয়োজন অনুযায়ী মাস্ক ব্যবহার, কাশি-হাঁচির শিষ্টাচার এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন ব্যবস্থা যে শুধু করোনার জন্য নয়, অন্যান্য সংক্রামক রোগের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ-তা আমরা নতুন করে উপলব্ধি করেছি।আমরা আরও শিখেছি, একটি অণুজীব কতটা দ্রুত মানুষের ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং পুরো সমাজকে প্রভাবিত করতে পারে।বিজ্ঞানীদের প্রতি আস্থা কেন জরুরিকরোনাকালে পৃথিবীর মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেছে কার্যকর টিকার জন্য। বিজ্ঞানীরা তখন দিন-রাত গবেষণা করেছেন। ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য, সংক্রমণ, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা, পরীক্ষা-পদ্ধতি এবং টিকা উন্নয়ন—প্রতিটি ক্ষেত্রে দ্রুত অগ্রগতি হয়েছে।টিকা নিয়ে নানা আলোচনা, প্রশ্ন, ভয় ও দ্বিধাও আমরা দেখেছি। কিন্তু একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে—বৈজ্ঞানিক গবেষণা ছাড়া এমন বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।একই সঙ্গে এটিও মনে রাখতে হবে, কোনো টিকাই সব ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি সম্পূর্ণ শূন্যে নামিয়ে দেয় না। সংক্রমণ প্রতিরোধে টিকা, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি, জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা, রোগ শনাক্তকরণ এবং দায়িত্বশীল আচরণ—সবকিছুরই নিজস্ব ভূমিকা রয়েছে।সংকটকালে মাইক্রোবায়োলজিস্টদের ভূমিকাকরোনাকালে স্বাস্থ্যকর্মী, চিকিৎসক, নার্স, প্রশাসন, সাংবাদিক, ব্যাংকার, খাদ্য ও ওষুধশিল্পের কর্মীদের পাশাপাশি অণুজীববিজ্ঞানীরাও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।করোনা শনাক্তকরণে পিসিআর (PCR)-ভিত্তিক পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত হয়ে অসংখ্য অণুজীববিজ্ঞানী গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। দেশের বিভিন্ন ল্যাবরেটরিতে নমুনা পরীক্ষা, জীবাণু শনাক্তকরণ, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ এবং গবেষণার মতো কাজে তারা দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের অনেকেই স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নিজের নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়েও কাজ করেছেন।এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—অণুজীববিজ্ঞান শুধু একটি একাডেমিক বিষয় নয়; এটি জনস্বাস্থ্য, চিকিৎসা, খাদ্য, পরিবেশ, শিল্প ও জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত।ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে মাইক্রোবায়োলজিস্টদের ভূমিকাবাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে অণুজীববিজ্ঞানীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাইক্রোবায়োলজি ল্যাবরেটরি, কোয়ালিটি কন্ট্রোল, কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স, উৎপাদন, গবেষণা ও উন্নয়ন, পরিবেশ মনিটরিং এবং বিভিন্ন কোয়ালিটি অপারেশনে মাইক্রোবায়োলজিস্টরা কাজ করছেন।একটি ওষুধের গুণগত মান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে মাইক্রোবায়োলজিস্টদের কাজ শুরু হয় অনেক আগেই।ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত পানির মাইক্রোবায়োলজি কোয়ালিট পরীক্ষা করা হয়। পানিতে অণুজীবের মাত্রা গ্রহণযোগ্য সীমার মধ্যে আছে কি না এবং নির্দিষ্ট ক্ষতিকর কিছু উপস্থিত আছে কি না—এসব নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়।একজন মানুষ যখন নিরাপদ একটি ওষুধ হাতে পান, সেই নিরাপত্তার পেছনে অনেক মানুষের সম্মিলিত শ্রমের পাশাপাশি একজন মাইক্রোবায়োলজিস্টের অদৃশ্য কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অবদানও থাকে।তরুণ মাইক্রোবায়োলজিস্টদের সামনে প্রশ্নপ্রতিবছর সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অসংখ্য মাইক্রোবায়োলজি গ্র্যাজুয়েট বের হচ্ছেন। কেউ সরকারি চাকরিতে যাচ্ছেন, কেউ ফার্মাসিউটিক্যাল, ডায়াগনস্টিক, গবেষণা বা অন্যান্য শিল্পে যোগ দিচ্ছেন, আবার অনেকে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের জন্য দেশের বাইরে পাড়ি দিচ্ছেন।কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরোনোর পর একজন নতুন মাইক্রোবায়োলজিস্টের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়—‘আমি কোথায় যাব? কোন সেক্টরে কাজ করব? আমার জন্য কোন ক্যারিয়ার পথটি উপযুক্ত?’অনেকেই সিনিয়র ভাই-বোন, শিক্ষক, বন্ধু কিংবা নিজের ব্যক্তিগত প্রচেষ্টার মাধ্যমে উত্তর খুঁজে নেন। কিন্তু একটি সুসংগঠিত ও প্রাতিষ্ঠানিক ক্যারিয়ার নির্দেশনার ব্যবস্থা থাকলে এই পথ অনেক সহজ হতে পারে।একজন মাইক্রোবায়োলজিস্ট শুধু একটি নির্দিষ্ট ল্যাবরেটরিতে সীমাবদ্ধ নন। ওষুধশিল্প, ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরি, ফুড অ্যান্ড বেভারেজ শিল্প, বায়োটেকনোলজি, ভ্যাকসিনের উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্য, গবেষণা, অ্যাকাডেমিয়া এবং পরিবেশবিজ্ঞান—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই তাদের কাজের সুযোগ রয়েছে।প্রয়োজন শুধু সঠিক দিকনির্দেশনা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সুযোগের সঙ্গে যোগসূত্র তৈরি করা।মাইক্রোবায়োলজিস্টদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগবাংলাদেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন এবং চাকরি–সম্পর্কিত ফোরাম দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের মধ্যে যোগাযোগ তৈরি, ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং, প্রশিক্ষণ, শিক্ষাবৃত্তি, নেটওয়ার্কিং এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে কাজ করছে বিএসএম, বিপিএমএফ, জিএমএস, ডিইউএমএএ, ডিইউএমডিএএ, আইএসবিএম-এ ধরনের উদ্যোগ আরও সংগঠিত ও কার্যকর হলে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও তরুণ পেশাজীবীরা উপকৃত হবেন।একই সঙ্গে মাইক্রোবায়োলজিস্টদের পেশাগত ভূমিকা, দায়িত্ব, দক্ষতা এবং কর্মক্ষেত্রকে আরও সুসংগঠিতভাবে উপস্থাপনের প্রয়োজন রয়েছে।মাক্রোবায়োলজি কাউন্সিল—সময় এসেছে কি ভাবারপ্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মাইক্রোবায়োলজিস্ট তৈরি হচ্ছে। তাদের শিক্ষা, পেশাগত দক্ষতা এবং বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে উপযুক্ত সুযোগ তৈরির বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।তাই একটি মাক্রোবায়োলজি কাউন্সিল বা অনুরূপ কোনো পেশাগত প্ল্যাটফর্ম প্রয়োজন কি না-এ নিয়ে এখনই গঠনমূলক আলোচনা শুরু করা যেতে পারে।আজ আলোচনা শুরু করলে হয়তো আগামীকালই ফল পাওয়া যাবে না। কিন্তু আজ শুরু না করলে সেই কাঙ্ক্ষিত উদ্যোগ আরও কয়েক বছর পিছিয়ে যেতে পারে।প্রশ্নটি তাই শুধু একটি সংগঠন তৈরির নয়; বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মাইক্রোবায়োলজিস্টদের জন্য একটি সুসংগঠিত পেশাগত পথ তৈরি করার।অণুজীববিজ্ঞান শুধু রোগের গল্প নয় আমরা যখন ‘জীবাণু’ শব্দটি শুনি, তখন অনেক সময় শুধু রোগের কথাই মনে করি। কিন্তু অণুজীবের পৃথিবী তার চেয়ে অনেক বড়। অণুজীব আমাদের পরিবেশের অংশ। খাদ্য উৎপাদনে তাদের ভূমিকা রয়েছে। শিল্পে তাদের ব্যবহার রয়েছে। অণুজীববিজ্ঞানীদের কাজ শুধু ‘জীবাণু ধ্বংস করা’ নয়। বরং কোন অণুজীব ক্ষতিকর, কোনটি উপকারী, কীভাবে ক্ষতিকর অণুজীবকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং উপকারী অণুজীবকে মানবকল্যাণে কীভাবে ব্যবহার করা যায়—এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজাও অণুজীববিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।আমাদের প্রত্যাশা বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্প আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। এই শিল্পকে আরও এগিয়ে নিতে হলে দক্ষ জনবল, গবেষণা, প্রযুক্তি, উদ্ভাবনের বিকল্প নেই।এই অগ্রযাত্রায় ফার্মাসিস্ট, কেমিস্ট, বায়োকেমিস্ট, মাইক্রোবায়োলজিস্ট, ইঞ্জিনিয়ারসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিটি পেশাজীবীর নিজস্ব ভূমিকা রয়েছে।মাইক্রোবায়োলজিস্টদের সেই ভূমিকা আরও দৃশ্যমান, সুসংগঠিত এবং মর্যাদাপূর্ণ করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, পেশাজীবী সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।প্রয়োজন তরুণদের জন্য পরামর্শদাতা।প্রয়োজন দক্ষতা উন্নয়ন।প্রয়োজন ক্যারিয়ার গাইডেন্স।সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন-অনুপ্রেরণা, উৎসাহ ও মনোবল।একজন নতুন মাইক্রোবায়োলজি শিক্ষার্থী যেন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই বুঝতে পারে—তার পড়াশোনার মূল্য কোথায়, তার সম্ভাবনার ক্ষেত্রগুলো কী এবং কীভাবে সে দেশের মানুষের জন্য একজন দক্ষ পেশাজীবী হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারে।আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের একজন শিক্ষার্থী ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশ না হয়ে সম্ভাবনার দিকে তাকাবে।যেখানে একজন তরুণ মাইক্রোবায়োলজিস্ট শুধু চাকরি খুঁজবেন না—নিজের জ্ঞান, দক্ষতা ও গবেষণার মাধ্যমে নতুন কর্মক্ষেত্র ও নতুন সম্ভাবনাও তৈরি করবেন।কারণ, অণুজীব অদৃশ্য হতে পারে, কিন্তু তাদের প্রভাব দৃশ্যমান।আর সেই অদৃশ্য জগৎকে বুঝে মানুষের জীবনকে আরও নিরাপদ, সুস্থ ও সমৃদ্ধ করার কাজে যারা নিয়োজিত—তাদের অবদানও দৃশ্যমান হওয়া প্রয়োজন।শেষ কথা আন্তর্জাতিক অণুজীব দিবস শুধু অণুজীবের কথা মনে করার একটি দিন নয়; এটি অণুজীববিজ্ঞানীদের অবদানকে নতুন করে উপলব্ধি করারও একটি সুযোগ।করোনা মহামারি আমাদের দেখিয়েছে, অদৃশ্য একটি জীবাণু কতটা দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে পারে। একই সঙ্গে বিজ্ঞান, গবেষণা ও দক্ষ অণুজীববিজ্ঞানীরা কীভাবে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অবদান রাখতে পারেন, তাও আমরা দেখেছি।তাই অণুজীবকে শুধু ভয় নয়—বিজ্ঞান দিয়ে বুঝতে হবে, গবেষণা দিয়ে জানতে হবে এবং মানবকল্যাণে কাজে লাগাতে হবে।একটু সুনজর, একটু আলোচনা, আর একটু উদ্যোগ—এই তিনটিই পারে আগামী প্রজন্মের মাইক্রোবায়োলজিস্টদের আরও দক্ষ করে গড়ে তুলতে এবং দেশের সেবা করার পথকে আরও প্রশস্ত করতে।অণুজীব অদৃশ্য—কিন্তু মাইক্রোবায়োলজিস্টদের অবদান যেন আর অদৃশ্য না থাকে।আন্তর্জাতিক অণুজীব দিবস-২০২৬-এ বাংলাদেশের সব মাইক্রোবায়োলজিস্ট, শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীর প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা।* লেখক: মনোজিৎ কুমার রায়, মাইক্রোবায়োলজিস্টনাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: ns@prothomalo.com

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
আঙিনায় বনভোজন

আঙিনায় বনভোজন

হার্ভার্ডের একাডেমি স্কলারস প্রোগ্রাম, মাসে ৬৬৬৬ ডলার স্টাইপেন্ড, করুন আবেদন

হার্ভার্ডের একাডেমি স্কলারস প্রোগ্রাম, মাসে ৬৬৬৬ ডলার স্টাইপেন্ড, করুন আবেদন

চাঁদের পাশে শুক্র গ্রহ কেন দেখা গেল

চাঁদের পাশে শুক্র গ্রহ কেন দেখা গেল

সিটি করপোরেশন থেকে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে বসবে সৌর প্যানেল
সিটি করপোরেশন থেকে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে বসবে সৌর প্যানেল

সিটি করপোরেশন থেকে ইউনিয়ন পরিষদ—স্থানীয় সরকারের এসব প্রতিষ্ঠানের ছাদে বসবে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল।শুধু দাপ্তরিক ভবন নয়, প্রতিষ্ঠানগুলোর অধীন মিলনায়তন, ডাকবাংলো ও হাটবাজারের স্থায়ী শেডের ছাদেও সৌরবিদ্যুতের প্যানেল বসানো হবে।প্যানেলে উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে নিজস্ব চাহিদা মেটাবে প্রতিষ্ঠানগুলো। উদ্ধৃত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে প্রতিষ্ঠানগুলো আয় করতে পারবে।মীর শাহে আলম, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীস্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো মানুষের দৈনন্দিন সেবার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। আমরা চাই, বিদ্যুতের সমস্যায় এসব সেবা যেন ব্যাহত না হয়। ভবনের ছাদ কাজে লাগিয়ে নিজেদের বিদ্যুৎ উৎপাদন করলে খরচ কমবে। ব্যাটারি ব্যাকআপ জরুরি কাজ চালু রাখতে সহায়তা করবে। আবার বাড়তি বিদ্যুৎ গ্রিডে দিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো আয় করতে পারবে। শহর থেকে ইউনিয়ন পর্যন্ত এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে আমরা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও সক্ষম করতে চাই।দেশে বিদ্যুৎ-সংকটের মধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ এই উদ্যোগ নিয়েছে। ১৪ ও ১৫ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগের পৃথক চিঠিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবনে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সঙ্গে রাখতে বরা হয়েছে অন্তত দুই ঘণ্টার ব্যাটারি ‘ব্যাকআপ’।উদ্যোগটি সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হবে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর রাজস্ব আয় বাড়ানোর বিষয়টি নতুন এই নির্দেশনায় গুরুত্ব পেয়েছে।বিদ্যুৎ বিভাগের ১ সেপ্টেম্বরের প্রজ্ঞাপনের সূত্র উল্লেখ করে চিঠিগুলোতে বলা হয়েছে, টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে সরকারের উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই ব্যবস্থা নিতে হবে।বিদ্যুৎ-সংকটের এই সময়ে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর ছাদ কাজে লাগানোর উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন নবায়নযোগ্য জ্বালানিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁরা বলছেন, এতে আলাদা স্থান ছাড়াই বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে। দিনের বেলায় প্রতিষ্ঠানগুলোর দাপ্তরিক চাহিদার একটি অংশ এই সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে মেটানো গেলে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমতে পারে।আগামী বছরের জানুয়ারির মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করার নির্দেশনা দেওয়া হবে বলে প্রথম আলোকে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।জানতে চাইলে মীর শাহে আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো মানুষের দৈনন্দিন সেবার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। আমরা চাই, বিদ্যুতের সমস্যায় এসব সেবা যেন ব্যাহত না হয়। ভবনের ছাদ কাজে লাগিয়ে নিজেদের বিদ্যুৎ উৎপাদন করলে খরচ কমবে। ব্যাটারি ব্যাকআপ জরুরি কাজ চালু রাখতে সহায়তা করবে। আবার বাড়তি বিদ্যুৎ গ্রিডে দিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো আয় করতে পারবে। শহর থেকে ইউনিয়ন পর্যন্ত এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে আমরা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও সক্ষম করতে চাই।’যেসব স্থানে বসবে প্যানেল সিটি করপোরেশনগুলোকে পাঠানো চিঠিতে নিজস্ব ভবন, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের কার্যালয়, বাসভবন, মিলনায়তন, ডাকবাংলো ও অতিথিশালার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের কথা বলা হয়েছে। করপোরেশনের অধীন মার্কেট–হাটবাজারের স্থায়ী শেডে আয়তন বিবেচনায় এই ব্যবস্থা নিতে হবে।পৌরসভা ও জেলা পরিষদের ভবন, মিলনায়তন, ডাকবাংলোসহ অধীনস্থ মার্কেট–হাটবাজারের স্থায়ী শেড এই নির্দেশনার আওতাভুক্ত।উপজেলা পরিষদ ভবনের পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও চেয়ারম্যান বা প্রশাসকের বাসভবন, কর্মচারীদের আবাসিক ভবন এবং অধীনস্থ হাটবাজারের স্থায়ী শেডে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করতে হবে।ইউনিয়ন পরিষদের ভবনগুলোর ক্ষেত্রে এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য জেলা প্রশাসকদের চিঠি দেওয়া হয়েছে।ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ কিনবে সরকারঅর্থায়ন, বিশেষ প্রণোদনা অর্থায়নের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বিবেচনা করা হয়েছে। যেমন—আর্থিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের রাজস্ব কিংবা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির অর্থ এই খাতে ব্যয় করতে পারবে।আবার যেসব প্রতিষ্ঠান আর্থিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়, সেগুলো বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকাভুক্ত কোম্পানির আর্থিক–কারিগরি সহায়তায় কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে। এ ক্ষেত্রে জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচির নির্দেশিকা অনুসরণ করতে হবে। প্যানেল স্থাপনকারী কোম্পানির সঙ্গে পরবর্তী ২০ বছরের মেরামত–রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তি করার নির্দেশনা রয়েছে।খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, গবেষণা পরিচালক, সিপিডিসৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের আগে ছাদের কারিগরি উপযোগিতা যাচাইসহ নীতিমালা অনুযায়ী সর্বোচ্চ দক্ষতার প্যানেলের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট বাজেট ও লোকবল রাখতে হবে।সরকারের সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণ উদ্যোগের সঙ্গে এই সিদ্ধান্তের যোগসূত্র রয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ ১ সেপ্টেম্বর ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে বিশেষ প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। এতে বলা হয়েছে, নিজস্ব চাহিদা মিটিয়ে বাড়তি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিটে ১০ টাকা ৫০ পয়সা দেওয়া হবে। প্রণোদনার এই দাম পেতে হলে ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সৌরবিদ্যুৎব্যবস্থা স্থাপন করতে হবে। এই সময়ের পর তা বসালে বিশেষ এ সুবিধা মিলবে না।এই দামে বিদ্যুৎ কেনা হবে ২০৩০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। বিদ্যুৎ বিক্রির টাকা প্রতি তিন মাস পরপর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে জমা হবে। এ ছাড়া সৌরবিদ্যুতের প্যানেল, ব্যাটারি, ইনভার্টার, মিটারসহ সব যন্ত্রপাতি হতে হবে সরকার নির্ধারিত মানের।শুল্কমুক্ত সুবিধা পাচ্ছে সৌরবিদ্যুৎ উপকরণ আমদানি, কমবে বিদ্যুৎ খরচবিশেষজ্ঞ পরামর্শ সরকারি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের আলোচনা আগেও হয়েছে। ২০২৫ সালে সরকারি দপ্তর, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ভবনে তিন হাজার মেগাওয়াটের ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল।একই বছরের আগস্টে আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যানশিয়াল অ্যানালাইসিস (আইইইএফএ)–এর এক বিশ্লেষণে একে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণের ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি ভবনের প্রকৃত সক্ষমতা যাচাই, অর্থায়ন ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়।বিদ্যুৎ-সংকটের এই সময়ে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর ছাদ কাজে লাগানোর উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন নবায়নযোগ্য জ্বালানিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁরা বলছেন, এতে আলাদা স্থান ছাড়াই বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে। দিনের বেলায় প্রতিষ্ঠানগুলোর দাপ্তরিক চাহিদার একটি অংশ এই সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে মেটানো গেলে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমতে পারে।তবে এ জন্য ভবনের উপযোগিতা যাচাই, মানসম্মত যন্ত্রপাতি ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, উদ্যোগটি ঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ের সেবা নির্বিঘ্নে সচল থাকবে। এতে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন–ব্যবহারে উৎসাহিত হবে।বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান কেন ‘ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ’বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম প্রথম আলোকে বলেন, সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের আগে ছাদের কারিগরি উপযোগিতা যাচাইসহ নীতিমালা অনুযায়ী সর্বোচ্চ দক্ষতার প্যানেলের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট বাজেট ও লোকবল রাখতে হবে।এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার বিভাগে একটি তদারকি সেল গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। তিনি বলেন, কোন প্রতিষ্ঠান উদ্যোগ নিয়েছে, কোথায় কাজ শেষ হয়েছে, কত বিদ্যুৎ নিজেরা ব্যবহার করছে, কতটা গ্রিডে যাচ্ছে—এসব তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ করতে হবে। এসব তথ্য জাতীয় পর্যায়ে প্রকাশ করলে কত বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরকারি ব্যয় সাশ্রয় হলো, তা সহজেই বোঝা যাবে।সৌরবিদ্যুৎ যেভাবে বাংলাদেশের জন্য বিরাট সম্ভাবনা

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
এসবি প্রধানের দায়িত্বে কামরুল আহসান, অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার আরও ৫ কর্মকর্তার বদলি

এসবি প্রধানের দায়িত্বে কামরুল আহসান, অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার আরও ৫ কর্মকর্তার বদলি

ছফার ‘পুষ্প, বৃক্ষ এবং বিহঙ্গ পুরাণ’–এ কী আছে

ছফার ‘পুষ্প, বৃক্ষ এবং বিহঙ্গ পুরাণ’–এ কী আছে

হ্যাটট্রিকের কথা ভুলেই গিয়েছিলেন খালেদ

হ্যাটট্রিকের কথা ভুলেই গিয়েছিলেন খালেদ

এনসিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে
এনসিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত এনসিসি ব্যাংকের ১২তম ইজিএমে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নূরুন নেওয়াজ সেলিম, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সালামসহ পরিচালক, স্বতন্ত্র পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রমুখবেসরকারি খাতের ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের (এনসিসি) ১২তম বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) গত মঙ্গলবার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ব্যাংকের সংঘবিধির ধারা ১০৮(১) সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। ব্যাংকটির এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সংঘবিধির সংশোধনী প্রস্তাবে চেয়ারম্যান নির্বাচন–সংক্রান্ত নতুন বিধি যুক্ত করা হয়েছে। তাতে পরিচালকদের মধ্য থেকে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে সবাই ব্যাংকটির চেয়ারম্যান হওয়ার সুযোগ পাবেন।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নূরুন নেওয়াজ সেলিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ইজিএমে ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সালাম, পরিচালক খায়রুল আলম চাকলাদার, মো. মঈনুদ্দিন, মোহাম্মদ সাজ্জাদ উন নেওয়াজ, তানজিনা আলী, সৈয়দ আসিফ নিজাম উদ্দীন, শামিমা নেওয়াজ, মোরশেদুল আলম চাকলাদার, নাহিদ বানু ও মীর সাজেদ উল বাসার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অংশ নেন। এ ছাড়া সভায় ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম শামসুল আরেফিন, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম খোরশেদ আলম, মো. জাকির আনামসহ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও শেয়ারধারীরা অংশ নেন।

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
প্রাইম ব্যাংক পেল আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

প্রাইম ব্যাংক পেল আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

চীন যেভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরিয়ে দিতে চায়

চীন যেভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরিয়ে দিতে চায়

মেট্রোরেল: এত ব্যয়ে ভাড়া কত দাঁড়াবে

মেট্রোরেল: এত ব্যয়ে ভাড়া কত দাঁড়াবে

0 Comments