জাতীয়

এসবি প্রধানের দায়িত্বে কামরুল আহসান, অতিরিক্ত আইজিপি ও ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের বদলি

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
এসবি প্রধানের দায়িত্বে কামরুল আহসান, অতিরিক্ত আইজিপি ও ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের বদলি
এসবি প্রধানের দায়িত্বে কামরুল আহসান, অতিরিক্ত আইজিপি ও ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের বদলি

পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) পদে পদোন্নতি পাওয়া মো. কামরুল আহসানকে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার আরও পাঁচ কর্মকর্তাকে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে বদলি করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশে প্রজ্ঞাপনে সই করেছেন পুলিশ-১ শাখার উপসচিব তৌছিফ আহমেদ।

এদিকে পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) পদমর্যাদার পাঁচ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে।

মো. কামরুল আহসান

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি পাওয়া পুলিশ অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক মো. কামরুল আহসানকে ঢাকায় পুলিশের বিশেষ শাখার অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে বদলি করা হয়েছে। এর ফলে তিনি এসবি প্রধানের দায়িত্বও পালন করবেন। এত দিন এসবি প্রধানের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত আইজিপি সরদার নুরুল আমিনকে পুলিশ অধিদপ্তরে বদলি করা হয়েছে।

ঢাকার রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের পরিচালক (ডিআইজি) থেকে অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি পাওয়া মো. সায়েদুর রহমানকেও পুলিশ অধিদপ্তরে বদলি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (চলতি দায়িত্ব) থেকে অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি পাওয়া মো. মাইনুল হাসানকে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি (বিপিএ), রাজশাহীর সারদার অধ্যক্ষ হিসেবে বদলি করা হয়েছে। এত দিন বিপিএর অধ্যক্ষের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত আইজিপি জি এম আজিজুর রহমানকে ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

এ ছাড়া ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি থেকে অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি পাওয়া মো. ইকবাল হোসেনকে পুলিশ অধিদপ্তরে বদলি করা হয়েছে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

পুলিশের ডিআইজি পদমর্যাদার পাঁচ কর্মকর্তার বদলি

এদিকে পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) পদমর্যাদার পাঁচ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ঢাকা রেঞ্জ ও খুলনা রেঞ্জে ডিআইজি হিসেবে দুজনকে পদায়ন করা হয়েছে।

অ্যান্টিটেররিজম ইউনিট, ঢাকা মহানগর পুলিশের বিশেষ শাখায় (সিটি এসবি), রেলওয়ে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশে প্রজ্ঞাপনে সই করেছেন জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখার উপসচিব তৌছিফ আহমেদ।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পুলিশ অধিদপ্তরের ডিআইজি মো. রেজাউল করিমকে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে বদলি করা হয়েছে। খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি পদে পদায়ন করা হয়েছে। এসবি ঢাকার ডিআইজি মীর আশরাফ আলীকে রেলওয়ে পুলিশের ডিআইজি পদে বদলি করা হয়েছে।

পুলিশের অ্যান্টিটেররিজম ইউনিটের ডিআইজি মোহাম্মদ মুসলিমকে রাজারবাগের কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের পরিচালক (ডিআইজি) পদে পদায়ন করা হয়েছে। এ ছাড়া মাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) মেট্রোরেল পুলিশের ডিআইজি সিদ্দিকী তানজিলুর রহমানকে ঢাকায় সিটি এসবির ডিআইজি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
রাত ৮টার পর দোকানপাট খোলা রাখতে চান মালিকেরা, সৌরবিদ্যুতের জন্য ঋণের দাবি
রাত ৮টার পর দোকানপাট খোলা রাখতে চান মালিকেরা, সৌরবিদ্যুতের জন্য ঋণের দাবি

আগামী ছয় মাসের মধ্যে নিজস্ব সোলার প্যানেল স্থাপনের শর্তে রাত আটটায় দোকান বন্ধ করার বাধ্যবাধকতা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছে দোকান মালিক সমিতি। এ সমিতির নেতারা জানিয়েছেন, চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকটে দেশের অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছেন। লোডশেডিং এবং রাত আটটায় বন্ধের সিদ্ধান্তের কারণে দোকান ও প্রতিষ্ঠানে বেচাকেনা অনেক কমে গেছে, ব্যবসায়ের ক্ষতি বাড়ছে। এ অবস্থায় দেশের সব মার্কেট ও বড় বিপণিবিতানগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ (সোলার প্যানেল) স্থাপনে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি।বিপণিবিতানের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) বা বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ২ শতাংশ সুদে বিশেষ ঋণসহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে দোকান মালিক সমিতি। সংগঠনটি বলেছে, স্বল্প সুদে এই ঋণসহায়তা পেলে আগামী ছয় মাসের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিপণিবিতানগুলো স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া সম্ভব।আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর মগবাজারে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন।এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন দোকান মালিক সমিতির মহাসচিব মো. জহিরুল হক ভূঁইয়া, সহসভাপতি আব্দুল কাইয়ুম তালুকদার ও হেজাজুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুজ্জামান, আব্দুল মোতালেব রুবেল, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জসীম উদ্দীন আহমেদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাফেজ হারুন, বাংলাদেশ কেমিক্যাল অ্যান্ড পারফিউমারি মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলামসহ রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটের ব্যবসায়ী নেতারা।সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মধ্যপ্রাচ্য ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। রাত আটটায় দোকান বন্ধের সিদ্ধান্ত এবং সন্ধ্যা ছয়টা থেকেই বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং শুরু হওয়ায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা চরম আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে দ্রুততম সময়ে সোলার প্যানেল স্থাপনই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।এমন পরিস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনসংক্রান্ত ১০ দফা দাবি জানায় দোকান মালিক সমিতি। সংগঠনটি বলেছে, বিপণিবিতানে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল স্থাপনের জন্য সর্বোচ্চ ৭ বছর মেয়াদে মাত্র ২ শতাংশ সুদে (কিস্তিভিত্তিক) ঋণ প্রদান করতে হবে। সোলার প্যানেল যেন মানসম্পন্ন হয়, সে জন্য বিএসটিআই ও ইডকলের ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক করা এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।সোলার প্যানেল স্থাপনের পর লাইসেন্স ফি ও সার্ভিস চার্জ প্রদান থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সমিতি। উৎপাদিত অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ সাড়ে ১০ শতাংশ হারে জাতীয় গ্রিডে বিক্রির সুযোগ আরও সহজ ও জোরালো করার দাবি সংগঠনটির।অন্যান্য প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগ ও বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির যৌথ চুক্তির মাধ্যমে দ্রুত সরঞ্জাম সরবরাহ ও স্থাপন নিশ্চিত করা; সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন কার্যক্রম তদারকি এবং যেকোনো সমস্যা ও দুর্বলতা নিরসনে তিন মাস মেয়াদি একটি শক্তিশালী রেগুলেটরি বোর্ড গঠন করা; ব্যক্তিমালিকানাধীন, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা জেলা পরিষদের অধীনে থাকা যেসব মার্কেট কাঠামোগত অনুমোদনের জটিলতায় আছে, সেগুলোর সোলার প্যানেল স্থাপনের আবেদন সহজ করা; সোলার প্যানেল স্থাপনের খরচ বহন ও ঋণ পরিশোধের জন্য একটি টেকসই তহবিল ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা।আগামী ছয় মাসের মধ্যে নিজস্ব সোলার প্যানেল স্থাপনের শর্তে ব্যবসায়ীদের জন্য রাত আটটায় দোকান বন্ধ করার বাধ্যবাধকতা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছে দোকান মালিক সমিতি।দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘আমরা এই বিদ্যুৎ–সংকটের দীর্ঘ সময় আর ভুগতে রাজি না। বাংলাদেশে বিভিন্ন জেলা, উপজেলা পর্যন্ত আমাদের বিপণিবিতান আছে। বিপণিবিতানগুলোর ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করা গেলে এবং ব্যবসায়ীরা সৌর প্যানেলের ঋণ পরিশোধ করে দিতে পারলে অনেক ক্ষেত্রে মার্কেটকে বিদ্যুৎ বিল দিতেই হবে না। উল্টো আমরা বন্ধের দিনগুলোতে বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারব।’হেলাল উদ্দিন আরও বলেন, ‘যদি মাত্র ২ শতাংশ সুদে ৫ বছর অথবা ৭ বছর মেয়াদি ঋণ দেওয়া হয়, তাহলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সারা দেশে দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হব।’

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
৩৬ বছরের ফার্নিচার ব্যবসার সাফল্য

৩৬ বছরের ফার্নিচার ব্যবসার সাফল্য

প্যারিসে বিলাসিতা আর মিলানে ঐতিহ্য, তাহলে লন্ডন ফ্যাশন উইকের পরিচয় কী?

প্যারিসে বিলাসিতা আর মিলানে ঐতিহ্য, তাহলে লন্ডন ফ্যাশন উইকের পরিচয় কী?

মোহাম্মদপুরে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে মোটরসাইকেল ও টাকা ছিনতাই

মোহাম্মদপুরে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে মোটরসাইকেল ও টাকা ছিনতাই

হুতিদের ঠেকাতে সামরিক সহায়তা চেয়ে মিত্রদের দ্বারে সৌদি আরব, সাড়া পাবে কি
হুতিদের ঠেকাতে সামরিক সহায়তা চেয়ে মিত্রদের দ্বারে সৌদি আরব, সাড়া পাবে কি

ইয়েমেনের ইরান–সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সাম্প্রতিক দিনগুলোয় সৌদি আরবের দিকে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ছে। এসব মোকাবিলায় টালমাটাল অবস্থায় পড়েছে রিয়াদ। এর মধ্যেই শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র আর ড্রোন ধ্বংসে ব্যবহৃত প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্রের সংকট দেখা দিয়েছে তাদের। পরিস্থিতি সামাল দিতে আঞ্চলিক ও পশ্চিমা মিত্রদের দ্বারস্থ হয়েছে সৌদি আরব সরকার। তাদের কাছে অতিপ্রয়োজনীয় সহায়তা চাওয়া হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছেন, এমন দুজন আঞ্চলিক কর্মকর্তা গতকাল বুধবার এ কথা জানান। এই কর্মকর্তারা বলেন, সৌদি আরবের পক্ষ থেকে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান আর মিসরের সঙ্গে সহায়তার বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আরও স্পষ্ট করে বললে, ইরান–সমর্থিত হুতি ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র–ড্রোন ঠেকাতে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে রিয়াদ।সৌদি আরবের প্রধান মিত্র ও অস্ত্র সরবরাহকারী যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধরত যুক্তরাষ্ট্র নিজেও এখন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অস্ত্রের সংকটে। গত ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা টানা যুদ্ধের জেরে দেশটিতে এসব অস্ত্রের মজুত কমতির দিকে। এ কারণে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের মুখাপেক্ষী না থেকে অন্যান্য দেশের কাছে সহায়তা চাইছে, বলেন সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা।জ্বালানি তেলের শীর্ষ রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব। ধনী দেশটি এখন হুতিদের সবচেয়ে বড় নিশানা। সৌদি আরবের প্রধান আঞ্চলিক প্রতিপক্ষ ইরান হুতিদের সমর্থন দিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে শুধু সামরিক সহায়তা নয়, নিরাপদ পথে জ্বালানি তেল রপ্তানির উপায় খোঁজাও সৌদি সরকারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোনোটিরই আপাত সহজ সমাধান দেখা যাচ্ছে না।ওই দুই কর্মকর্তা নিজেদের নাম–পরিচয় প্রকাশ করার অনুমতি দেননি। বলেছেন, এ বিষয় নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি তাঁদের নেই। তাই তাঁরা পরিচয় প্রকাশ করতে চান না।এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে সৌদি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাৎক্ষণিক সাড়া পাওয়া যায়নি।সৌদির অভিযোগ, হুতিদের নাকচচলমান ইরান যুদ্ধের জেরে নতুন করে সংঘাতে জড়িয়েছে সৌদি আরব ও হুতিরা। এটা এখন ইরান যুদ্ধের নতুন একটি ফ্রন্ট। গতকাল সৌদি আরব অভিযোগ করে, পবিত্র নগরী মক্কার দিকে ড্রোন ছুড়েছে হুতিরা। এ ঘটনায় বিভিন্ন দেশ ও সংগঠন নিন্দা জানিয়েছে। তবে সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার কোনো লক্ষণ এ পর্যন্ত দেখা যায়নি।মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর জন্মস্থান মক্কা। পবিত্র কাবা এ নগরে অবস্থিত। মুসলিমদের কাছে পবিত্র নগরী হিসেবে স্বীকৃত মক্কা। প্রতি বছর পবিত্র হজ পালনের সময় বিশ্বের লাখো মুসল্লি এখানে জড়ো হন। এ পবিত্র নগরীর দিকেই হুতিদের ছোড়া ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে সৌদি আরব।তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য। পাকিস্তান পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। তুরস্ক ও পাকিস্তান মিলে সম্প্রতি সৌদি আরবের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে। ‘মক্কা চুক্তি’ নামে পরিচিত এ চুক্তির সামনে প্রথম চ্যালেঞ্জ হিসেবে এসেছে হুতিরা। তবে পাকিস্তান ও তুরস্কের কর্মকর্তারা বলেন, হুতিকে প্রতিহত করতে সৌদি আরব তাদের সরাসরি কোনো অনুরোধ জানায়নি।সৌদি আরব হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, পবিত্র নগরীতে হুতিদের এ ধরনের হামলার চেষ্টা ‘চূড়ান্ত সীমা’ লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হবে। তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করা হবে না।তবে ইয়েমেনের সীমান্ত থেকে প্রায় ১ হাজার ১০০ কিলোমিটার বা ৬৮০ মাইল দূরের পবিত্র নগরীটিতে ড্রোন পাঠানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে হুতিরা।এর মধ্যেই গতকাল ইয়েমেনের আকাশে সৌদি আরবের একটি এফ–১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে হুতিরা। ভূপাতিত যুদ্ধবিমানটির ধ্বংসাবশেষের ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে।সৌদি আরবের এফ–১৫ যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছেন হুতি যোদ্ধারা। ইয়েমেনের মারিব প্রদেশ, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬মিত্রদের পাশে পেতে মরিয়াজ্বালানি তেলের শীর্ষ রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব। ধনী দেশটি এখন হুতিদের সবচেয়ে বড় নিশানা। দেশটির প্রধান আঞ্চলিক প্রতিপক্ষ ইরান হুতিদের পেছনে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে শুধু সামরিক সহায়তা নয়, নিরাপদ পথে জ্বালানি তেল রপ্তানির উপায় খোঁজাও সৌদি সরকারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোনোটিরই আপাত সহজ সমাধান দেখা যাচ্ছে না।—জেডি ভ্যান্স, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্টসৌদি আরবের সঙ্গে ওয়াশিংটনের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। হুতিদের সঙ্গেও যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি আলোচনা করেছে।অতিসম্প্রতি সৌদি আরবে এক হামলায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি জ্বালানি তেলের পাইপলাইন (ইস্ট–ওয়েস্ট পাইপলাইন) বন্ধ হয়ে গেছে। এর পেছনে ইরাকের ইরানপন্থী মিলিশিয়াদের কথা বলা হচ্ছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, পাইপলাইনটি টানা কয়েক সপ্তাহ বন্ধ থাকতে পারে। এ ছাড়া হুতিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা ও লোহিত সাগরে দেশটির জাহাজে হামলা করছে।এদিকে লোহিত সাগরের বাব আল-মানদেব প্রণালির কয়েকটি দ্বীপ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে হুতিরা। প্রণালিটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে। ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেল রপ্তানি কার্যত বন্ধ রয়েছে। সৌদি আরবের সামনে হরমুজের বিকল্প ছিল বাব আল–মানদেব। কিন্তু সেখানেও হুতিদের নিয়ন্ত্রণ নতুন সংকটের জন্ম দিয়েছে।হরমুজের পর বাব আল–মানদেব দিয়ে জ্বালানি তেল রপ্তানিতে সংকটের বিষয়টি আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম চড়া করেছে। ইতিমধ্যে দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। জ্বালানি নিয়ে সংকটে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ বহু দেশ।আঞ্চলিক এক কর্মকর্তা বলেন, সৌদি আরব এখন ‘খুব কঠিন অবস্থায়’ পড়েছে। কারণ, দেশটিকে শুধু সামরিক ঘাঁটি কিংবা গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা রক্ষা করলেই হচ্ছে না। দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা তেল স্থাপনাগুলোও নিরাপদ রাখতে হচ্ছে।অন্য আরেক কর্মকর্তা বলেন, হুতিদের বিরুদ্ধে সম্মিলিত পদক্ষেপ নিতে সৌদি আরব আন্তর্জাতিক মিত্রদের পাশে টানার চেষ্টা করছে। তিনি জানান, ইয়েমেন পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ওমান ও মিসর নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েছে।ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান নিউ আমেরিকার ফেলো অ্যাডাম ব্যারন বলেন, এটা শুধু হুতি বনাম সৌদি আরবের ইস্যু নয়। আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের বৃহত্তর পথগুলো কীভাবে নিরাপদ রাখা যায়, সেটিও এখন মুখ্য বিষয়।—অ্যাডাম ব্যারন, ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান নিউ আমেরিকার ফেলোএটা শুধু হুতি বনাম সৌদি আরবের ইস্যু নয়। আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের বৃহত্তর পথগুলো কীভাবে নিরাপদ রাখা যায়, সেটিও এখন মূল বিষয়।বিষয়টি সম্পর্কে জানাশোনা আছে এমন দুই কর্মকর্তা বলেন, ওমানের মাসকাটে গত সপ্তাহান্তে হুতি প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। বৈঠকে একজন হুতি কর্মকর্তা নিজেও উপস্থিত ছিলেন। আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের কৌশল নিয়ে দুপক্ষ কথা বলেছে।এর বাইরে বৈঠকটি সম্পর্কে আর বিস্তারিত জানা যায়নি। সংবাদমাধ্যমের সামনে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার অনুমতি না থাকায় সংশ্লিষ্ট সূত্রও নাম–পরিচয় গোপন রাখার অনুরোধ করেছে।কূটনৈতিক সহায়তায় আগ্রহআঞ্চলিক ও পশ্চিমা মিত্রদের কাছে মরিয়া হয়ে সামরিক সহায়তা চাইছে সৌদি আরব। জানা গেছে, মিত্র দেশগুলো সামরিক সহায়তা দিতে খুব একটা আগ্রহী নয়; বরং তারা কূটনৈতিক সহায়তা দিতে আগ্রহী।যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র টম ওয়েলস গত মঙ্গলবার বলেন, যুক্তরাজ্য ও সৌদি আরবের খুবই ‘ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব’ রয়েছে। তবে সৌদি আরব সামরিক সহায়তা চেয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি। সৌদি আরবের ভূখণ্ডে ব্রিটিশ সেনারা আছেন কি না—সেটি জানাতেও অস্বীকৃতি জানান ওয়েলস।এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর কর্মকর্তারা ইউরোপে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থার তীব্র সংকটের কথা স্বীকার করেন। এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবকে সহায়তা করার মতো সক্ষমতা ইউরোপের আছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।এদিকে তুরস্কের একজন সরকারি কর্মকর্তা বলেন, উত্তেজনা কমানোর চেষ্টার অংশ হিসেবে দেশটি ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে আলোচনা করছে। তবে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। সংবাদমাধ্যমের সামনে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার অনুমতি না থাকায় তিনিও নাম–পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি।তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য। পাকিস্তান পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। তুরস্ক ও পাকিস্তান মিলে সম্প্রতি সৌদি আরবের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে। ‘মক্কা চুক্তি’ নামে পরিচিত এ চুক্তির সামনে প্রথম চ্যালেঞ্জ হিসেবে এসেছে হুতিরা। তবে পাকিস্তান ও তুরস্কের কর্মকর্তারা এপিকে বলেন, হুতিকে প্রতিহত করতে তাদের কাছে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো অনুরোধ আসেনি। \B\Bমক্কায় হামলাচেষ্টার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নিন্দা জানাতে গিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন পাকিস্তান ও সৌদি আরব ‘অটলভাবে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে’ একসঙ্গে রয়েছে। অন্যদিকে, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান সৌদি আরবের প্রতি সংহতি জানিয়ে তুর্কি রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম আনাদোলুকে বলেন, এ ঘটনায় কোনো দেশই ‘নির্লিপ্ত থাকতে পারে না’।\B\Bঅস্ত্র হাতে ইয়েমেনের হুতি যোদ্ধারাসৌদি–হুতি বিবাদ থেকে দূরে যুক্তরাষ্ট্রসৌদি আরবের কাছে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সেই সঙ্গে অন্য ধরনের সহায়তার প্রতিশ্রুতিও বেশ আগে থেকেই পেয়ে আসছে সৌদি সরকার। তবে মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তাদের কথায় বোঝা যাচ্ছে, ওয়াশিংটন এখন সৌদি–হুতি সংঘাতে সরাসরি জড়াতে আগ্রহী নন।গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, সৌদি আরবের সঙ্গে ওয়াশিংটনের ‘নিয়মিত যোগাযোগ’ রয়েছে। অন্যদিকে হুতিদের সঙ্গেও যুক্তরাষ্ট্র ‘সরাসরি আলোচনা’ করেছে।সৌদি আরব সামরিক হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানিয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড সৌদি বাহিনীকে গোয়েন্দা তথ্য আদান–প্রদান ও সামরিক পরিকল্পনায় সহায়তা বৃদ্ধির জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই মার্কিন কর্মকর্তা আরও বলেন, গত সপ্তাহে আটটি দেশের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের নিয়ে বসেছিল যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। জার্মানিতে ওই বৈঠক হয়। মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি করার সুযোগ নিয়ে সেখানে আলোচনা হয়েছে।তবে ওই বৈঠকে কোন কোন দেশ অংশ নেয়, তা জানাননি ওই মার্কিন কর্মকর্তা।চীন সফরে আব্বাস আরাগচিযুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধরত ইরান থেকে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি তেল কেনে চীন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি চীন সফরে গেছেন।চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ইয়েমেন ও লোহিত সাগরে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ওয়াং ই।অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, তেহরান এ অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনতে চায়। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক চায়।\B\B\Bআরও পড়ুন\B:\B\Bউপসাগরীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন ট্রাম্প, হুতিদের সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তাদের গোপন বৈঠকে কী আলোচনা হলোমক্কার কাছে হুতিদের ড্রোন হামলা বলে প্রচারিত ভিডিওটি ২০২৫ সালের মদিনারক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে সৌদি আরবের এফ–১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি হুতিদেরপবিত্র মক্কা নগরীর দিকে হুতিরা ড্রোন ছুড়েছে বলে অভিযোগ সৌদি আরবের, নিরাপত্তা সতর্কতা জারিমারিব-তাইজে হুতিদের অগ্রযাত্রা, ইরান যুদ্ধে নতুন চাপের মুখে সৌদি-যুক্তরাষ্ট্রযুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত ও অত্যাধুনিক অস্ত্রের মজুতে টান, তীব্র সংকটে মার্কিন বাহিনী\B\B

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে টিকতে হলে যে প্রস্তুতি নিতে হবে শিক্ষার্থীদের’

‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে টিকতে হলে যে প্রস্তুতি নিতে হবে শিক্ষার্থীদের’

নিউক্লিয় বল বলতে কি বুঝায়

নিউক্লিয় বল বলতে কি বুঝায়

পশ্চিম বাজার থেকে জেলা মৌলভীবাজার হলো কীভাবে

পশ্চিম বাজার থেকে জেলা মৌলভীবাজার হলো কীভাবে

বন্ধ চার পাটকল চুক্তিতে চালু করল আবুল খায়ের গ্রুপ 
বন্ধ চার পাটকল চুক্তিতে চালু করল আবুল খায়ের গ্রুপ 

ফরিদপুর ও মাদারীপুরের বন্ধ চার পাটকল চুক্তিতে চালু করেছে দেশের এই শিল্পগ্রুপ। এসব পাটকলে কর্মসংস্থান হয়েছে ১৫ হাজার শ্রমিকের।ফরিদপুরের রাজ্জাক জুট ইন্ডাস্ট্রিজ নানা সমস্যায় বন্ধ হয়ে যায়। এতে পাটকলটির অনেক শ্রমিক বেকার হন। বন্ধ সেই কারখানা চলতি বছর চালু করেছে আবুল খায়ের গ্রুপ। এখন পাটকলটির উৎপাদিত পণ্য রপ্তানিও হচ্ছে। রাজ্জাক জুট ইন্ডাস্ট্রিজের পাশাপাশি আরও তিনটি বন্ধ পাটকল সম্প্রতি চালু হয়েছে আবুল খায়ের গ্রুপের হাত ধরে। অন্য তিনটি পাটকল হচ্ছে ফরিদপুরের ফরিদপুর জুট ফাইবার্স ও দাহমাশী জুট ইন্ডাস্ট্রিজ এবং মাগুরার এআর জুট মিলস। বন্ধ এই চার পাটকল চালুর ফলে নতুন করে কারখানাগুলোতে কর্মসংস্থান হয়েছে ১৫ হাজার শ্রমিকের। বন্ধ ও রুগ্​ণ এই চার পাটকল নতুন করে চালু করে পাটপণ্য উৎপাদন করছে আবুল খায়ের গ্রুপের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান শাহ অ্যাগ্রো লিমিটেড।আবুল খায়ের গ্রুপের কর্মকর্তারা জানান, গত বছর পাট কেনাবেচার ব্যবসা শুরু করে এই শিল্পগোষ্ঠী। একপর্যায়ে পাটপণ্যের ব্যবসায় নামার অংশ হিসেবে বেসরকারি খাতের চারটি বন্ধ পাটকলের সঙ্গে চুক্তি করা হয়। তারপর চলতি বছরের বিভিন্ন সময় এই পাটগুলো চালু করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নতুন করে চালু করা চার পাটকল থেকে বছরে ৮০ হাজার মেট্রিক টন পাটের সুতা ও পাটজাত পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে আবুল খায়ের গ্রুপ। এখন পর্যন্ত এসব পাটকলে উৎপাদিত ১২০ কোটি মার্কিন ডলারের পাটের সুতা রপ্তানি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তুরস্ক ও চীনে এসব পাটপণ্য রপ্তানি করা হয়।► নতুন করে চালু করা চার পাটকল থেকে বছরে ৮০ হাজার মেট্রিক টন পাটের সুতা ও পাটজাত পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে আবুল খায়ের গ্রুপ। জানতে চাইলে আবুল খায়ের গ্রুপের হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড লিগ্যাল শেখ শাবাব আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘পাটপণ্যের ব্যবসা অনেক বেশি মূলধননির্ভর। দেশের বেসরকারি খাতে অনেক পাটকল বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। তাই নতুন কারখানা না করে আমরা বন্ধ কারখানার মালিকদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে সেগুলো চালু করেছি। আমরা পাট কিনে কারখানায় দিচ্ছি। কারখানার কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের ব্যবস্থাপনা করে পণ্য উৎপাদন করে। সেই পণ্য আমরা বিদেশে রপ্তানি করি।’শেখ শাবাব আহমেদ জানান, বন্ধ চার পাটকল চালুর পর আরও ২-৩টি বন্ধ পাটকল চালুর বিষয়ে এসব পাটকলের মালিকপক্ষের সঙ্গে চুক্তির আলোচনা চলছে। সেগুলো চূড়ান্ত হলে সেখানেও পাটপণ্য উৎপাদন করা হবে। এ ছাড়া সরকারি বন্ধ ৩-৪টি পাটকল ইজারায় নেওয়ার আবেদনও করেছে আবুল খায়ের গ্রুপ।শেখ শাবাব আহমেদ, করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড লিগ্যাল বিভাগের প্রধান, আবুল খায়ের গ্রুপ বেসরকারি খাতে অনেক পাটকল বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। তাই নতুন কারখানা না করে আমরা বন্ধ কারখানার মালিকদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে সেগুলো চালু করেছি। শেখ শাবাব আহমেদ আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতে বেশি মূল্যের (ভ্যালু অ্যাডেড পণ্য) পাটপণ্য উৎপাদনের জন্য আমরা চেষ্টা করছি। তখন আমরা বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করব। তখন নতুন কারখানাও করতে হবে। বাংলাদেশের পাটের মান উন্নত। পরিবেশবান্ধব এই পণ্যের বৈশ্বিক বাজারও রয়েছে। সে জন্য আমাদের প্রতিষ্ঠান পাটপণ্যে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে পরোক্ষভাবে হলেও পাটচাষিদের ভাগ্যের উন্নয়ন হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’পাটপণ্য রপ্তানিতে আবুল খায়ের গ্রুপের বিনিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান তাপস প্রামাণিক প্রথম আলোকে বলেন, গতানুগতিক ধারার বাইরে কিছুটা ভিন্নভাবেই পাটপণ্যের ব্যবসায় এসেছে আবুল খায়ের গ্রুপ। বন্ধ কারখানার মালিকদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে সেসব কারখানা চালুর নতুন ব্যবসায়িক মডেলটি মন্দ নয়। আবুল খায়ের মতো বড় শিল্পগ্রুপ যদি পাটপণ্যের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা ও বহুমুখী পাটপণ্যের বাজার ধরার জন্য মনোযোগী হয়, তাহলে দেশ খাতটি থেকে অনেক বেশি উপকৃত হবে।

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
তিন বছর পর থ্রেডসের প্রতিদ্বন্দ্বী এক্স ব্যবহারের কারণ জানালেন মার্ক জাকারবার্গ

তিন বছর পর থ্রেডসের প্রতিদ্বন্দ্বী এক্স ব্যবহারের কারণ জানালেন মার্ক জাকারবার্গ

প্রসববেদনার সময় কি নামাজ আদায় করতে হবে

প্রসববেদনার সময় কি নামাজ আদায় করতে হবে

একাধিক বালিশে ঘুমালে কি ঘাড়ে সমস্যা হতে পারে 

একাধিক বালিশে ঘুমালে কি ঘাড়ে সমস্যা হতে পারে 

0 Comments