জাতীয়

পশ্চিম বাজার থেকে জেলা মৌলভীবাজার হলো কীভাবে

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
পশ্চিম বাজার থেকে জেলা মৌলভীবাজার হলো কীভাবে
পশ্চিম বাজার থেকে জেলা মৌলভীবাজার হলো কীভাবে

গ্রামীণ কৃষিপণ্যের হাট থেকে আজকের আধুনিক রেমিট্যান্স–নির্ভর ব্যবসা—স্থানীয় অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও বাণিজ্যিক বিবর্তনের এক জীবন্ত চিত্র।

বর্ষার স্নিগ্ধ সকালে মৌলভীবাজার শহরের প্রবেশপথে বাঁক নেওয়া মনু নদ পার হলেই শুরু হয় এক বিশাল বাণিজ্যিক কর্মযজ্ঞ। নদের সমান্তরালে এম সাইফুর রহমান রোড (পুরোনো সেন্ট্রাল রোড) ধরে কিছুটা এগোলেই দেখা মেলে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের অর্থনীতির অন্যতম স্নায়ুকেন্দ্র পশ্চিম বাজারের। প্রায় ছয় হাজার স্থায়ী ও অস্থায়ী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে গড়ে ওঠা এই বাণিজ্যকেন্দ্রের শিকড় প্রোথিত শত বছর আগের এক গ্রামীণ হাটের ইজারা প্রথা ও মনু নদকেন্দ্রিক বাণিজ্যের গভীরে।

বাজারের ভেতরে আধুনিক বাণিজ্যিক ভবনের দাপট বেশি চোখে পড়লেও আজও ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে পুরোনো ‘সাধনা ঔষধালয়’ এবং আরও প্রাচীন টেলিফোন ও টেলিগ্রাফ ভবন। শতবর্ষী এই টেলিগ্রাফ ভবনের দেয়াল যেন সেকালের বাণিজ্যিক যোগাযোগের গল্প বলে। একসময় যে মনু নদের ঘাটকে কেন্দ্র করে এখানকার ব্যবসার গোড়াপত্তন হয়েছিল, অপরিকল্পিত বাণিজ্যিক নগরায়ণের চাপে আজ বাজার থেকে সেই নদের নাগাল পেতে বেশ খানিকটা পথ হাঁটতে হয়।

কালের পরিক্রমায় নদের পুরোনো লঞ্চঘাট হারিয়ে গেলেও পশ্চিম বাজার সময়ের সঙ্গে নিজেকে রূপান্তর করেছে। গ্রামীণ কৃষিপণ্যের হাট থেকে আজকের আধুনিক রেমিট্যান্স–নির্ভর ব্যবসাকেন্দ্রটি মৌলভীবাজারের অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও বাণিজ্যিক বিবর্তনের এক জীবন্ত চিত্র।

হাটের গোড়াপত্তন ও ‘তুলা’ প্রথা

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ইতিহাস-অনুরাগী সৈয়দ আবদুল মতালিব রঞ্জুর তথ্য অনুযায়ী, ১৮১০ সালে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর সঙ্গী হজরত সৈয়দ শাহ মোস্তফা (রহ.)-এর ভ্রাতুষ্পুত্র হজরত ইয়াছিন (রহ.)-এর উত্তরসূরি জমিদার মৌলভী সৈয়দ কুদরত উল্লাহ মনু নদের পশ্চিম তীরে একটি বাজার প্রতিষ্ঠা করেন। ১৭৯৩ সালে তিনি মুন্সেফ বা বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। পরে তাঁর নামানুসারে জনপদটি ‘মৌলভীবাজার’ নামে পরিচিতি লাভ করে। এই জনপদ তৎকালীন দক্ষিণ শ্রীহট্টের অংশ ছিল। 

শুরুর দিকে পশ্চিম বাজারে সপ্তাহে দুই দিন—সোম ও বৃহস্পতিবার হাট বসত। স্থানীয় কৃষকেরা তেল, চাল, ধান, তাজা সবজি, হাওরের মাছ, শুঁটকিসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য নিয়ে আসতেন।

তখন হাটের রাজস্ব বা কর আদায়ের পদ্ধতিও ছিল আলাদা। ইজারাদার বা জমিদারেরা হাটে আসা বিক্রেতাদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট হারে খাজনা আদায় করতেন, যা স্থানীয় ভাষায় ‘তুলা’ নামে পরিচিত ছিল। এটিই ছিল হাটের আয়ের মূল উৎস। কৃষিপণ্যের বিনিময়ে বা নগদ অর্থে এই তুলা আদায় করা হতো এবং তা জমিদারদের মূলধন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখত।

বাণিজ্যিক কাঠামোর দিক থেকে পশ্চিম বাজারের নিজস্ব চরিত্র ছিল। পাশের উপজেলা শ্রীমঙ্গল ঐতিহাসিকভাবে চা ও কৃষিপণ্যের পাইকারি বাণিজ্যের হাব হিসেবে পরিচিত হলেও পশ্চিম বাজার শুরু থেকেই শক্তিশালী খুচরা বাজার হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে।

নদীপথের বাণিজ্যের সোনালি যুগ

সড়কপথের উন্নয়নের আগে এ অঞ্চলের ব্যবসার প্রধান মাধ্যম ছিল নৌপথ। স্থানীয়দের স্মৃতিচারণায় উঠে আসে মনুমুখ বাজারের কথা। মনু নদ কুশিয়ারা নদীতে যেখানে মিশেছে, সেখানে গড়ে ওঠা মনুমুখ বাজারের কাছে অতীতে একটি লঞ্চঘাট ছিল। এই ঘাটকে কেন্দ্র করে কুশিয়ারা নদী হয়ে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল, ভৈরব ও নারায়ণগঞ্জের মতো বড় বাণিজ্যিক হাবের সঙ্গে লঞ্চ ও স্টিমারে পণ্য পরিবহন হতো।

এই নদীপথের বাণিজ্যের বড় অংশজুড়ে ছিল ‘সোনালি আঁশ’ পাট। মনুমুখ লঞ্চঘাটকে কেন্দ্র করে পাটের বড় সরবরাহব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল। গ্রামের কৃষকদের কাছ থেকে পাট সংগ্রহ করে কারখানায় প্রক্রিয়াজাত করার পর তা নৌপথে নারায়ণগঞ্জ বা ভারতে পাঠানো হতো। পাটের ব্যবসার কারণে তখন এলাকাটি অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে।

পাটের পাশাপাশি কাঠের ব্যবসাও ছিল অর্থনীতির আরেক স্তম্ভ। রাজকান্দি সংরক্ষিত বন, জুড়ী বন বিভাগ ও লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের পাহাড়ি এলাকার গাছ কাটা হতো। গাছ কেটে প্রায় ১৫ ফুট লম্বা লগ তৈরি করে হাতি দিয়ে টেনে নদীর স্রোতে ভাসিয়ে ঘাটে আনা হতো। চা-শিল্পের প্যাকিং বাক্স তৈরিতেও শিমুল, আম, কদম ও হারিশগাছ ব্যবহৃত হতো। ১৯৮৯ সালে সংরক্ষিত বনের গাছ কাটার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞার পর কাঠের ব্যবসায় ভাটা পড়ে। একই সময়ে নদী ভরাট হয়ে নৌ-বাণিজ্যও বন্ধ হয়ে যায়।

রেমিট্যান্সের জোয়ার

পাট ও কাঠের সেই ব্যবসা এখন নেই, বন্ধ নদীপথও। তবে পশ্চিম বাজারের অর্থনীতি থেমে যায়নি। বরং তা রূপ নিয়েছে রেমিট্যান্স–নির্ভর আধুনিক খুচরা বাজারে।

বর্তমান পশ্চিম বাজার উৎসবনির্ভর কোনো বাজার নয়। দেশের অনেক বাজার যেখানে ঈদ বা পূজার দিকে তাকিয়ে থাকে, পশ্চিম বাজারে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ ও তাঁদের দেশে ফেরার সময়ের বেচাকেনা বড় ভূমিকা রাখে। স্থানীয় ব্যবসায়ী রিপন সরদারের ভাষায়, ‘এই এলাকায় মানুষের হাতে পয়সা আছে। তাই বাজার চলে।’

ইউরোপ-আমেরিকায় গ্রীষ্ম বা শীতকালীন ছুটি শুরু হলে দলে দলে প্রবাসী দেশে ফেরেন। তখন পশ্চিম বাজারের ব্যবসাও বাড়ে। তাঁদের রুচি ও ক্রয়ক্ষমতা মাথায় রেখে দোকানগুলোর সাজসজ্জা ও ব্র্যান্ডিংয়েও পরিবর্তন এসেছে। ইউরোপ-আমেরিকার বিপণিবিতানের আদলে অনেক দোকানে আধুনিক ইন্টেরিয়র দেখা যায়। বাজারের কেন্দ্রের শপিং মলগুলোও মানসম্মত পণ্যের জন্য ক্রেতাদের কাছে বিশ্বস্ত।

কসমেটিকস ও পোশাক ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার বলেন, ‘আমাদের ব্যবসার মূল প্রাণই হলো প্রবাসীরা।’ লন্ডন-আমেরিকা বা মধ্যপ্রাচ্য থেকে তাঁরা ছুটিতে এলে বেচাকেনা বহুগুণ বেড়ে যায়। তাঁদের রুচি ও চাহিদা অনুযায়ী বিদেশি ব্র্যান্ডের আদলে পণ্য সাজানো হয়।

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স পশ্চিম বাজারের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান জ্বালানি। দৈনিক কোটি কোটি টাকার ব্যবসায়িক লেনদেন, আমদানি-রপ্তানির এলসি খোলা এবং বৈদেশিক মুদ্রা ভাঙানোর সুবিধার জন্য পশ্চিম বাজার ও এম সাইফুর রহমান রোড এলাকায় এক্সিম ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংকসহ দেশের প্রায় প্রতিটি ব্যাংকের শাখা এবং এক্সচেঞ্জ হাউস গড়ে উঠেছে।

যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ক্রেতা ফয়সল আহমেদ বলেন, ছোটবেলায় বাবার হাত ধরে এই বাজারে আসতেন। তখন বাজারটি অনেক সাদামাটা ছিল। এখন আধুনিক শপিং মলের সাজসজ্জা ভালো লাগে। তবে বাজারের পরিধি বাড়লেও হাঁটার পরিবেশ ও পার্কিং–সুবিধা সেই অনুযায়ী গড়ে ওঠেনি।

প্রায় ছয় হাজার স্থায়ী ও অস্থায়ী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে গড়ে ওঠা এই বাণিজ্যকেন্দ্রের বার্ষিক লেনদেনের পরিমাণ দুই থেকে তিন হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে বলে স্থানীয় ব্যবসায়ী, বাজারের কয়েকটি মালিক সমিতি, ব্যাংক কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়। তবে সামষ্টিক অর্থনীতির চাপ ও মূল্যস্ফীতির কারণে বর্তমানে ব্যবসা-বাণিজ্যে কিছুটা ধীরগতি রয়েছে বলে জানান স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

ঐতিহ্যের টিকে থাকার লড়াই

কাঠের প্রাচুর্যের কারণে পশ্চিম বাজারে একসময় কাঠের ফার্নিচার ও বাদ্যযন্ত্র তৈরির শিল্প গড়ে ওঠে। বাদ্যযন্ত্রের বাজার এখনো টিকে আছে। ‘আলো মিউজিক সেন্টার’-এর মালিক পিঙ্কু দাস জানান, একটি হারমোনিয়াম বানাতে প্রায় সাত দিন সময় লাগে। দাম ১২ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা। আকাশমণি, গামারি, কেরোসিন, মেহগনি ও সেগুন কাঠ দিয়ে এসব তৈরি হয়। তবে ক্ষুদ্র কুটিরশিল্পীরা মূলধনসংকটে ভুগছেন।

পশ্চিম বাজারে ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্পের আরেকটি নিদর্শন বেতের ফার্নিচার। শিফা কেইন ফার্নিচারের দোকানে সোফা, চেয়ার, দোলনা, মোড়া ও নানা ধরনের বেতের আসবাব পাওয়া যায়। একসময় বৃহত্তর সিলেট বাঁশ ও বেতশিল্পের জন্য পরিচিত হলেও কাঁচামালের অভাব এবং আধুনিক প্লাস্টিক-বোর্ডের আসবাবের দাপটে শিল্পটি হুমকির মুখে। স্বত্বাধিকারী শাহিন মিয়া জানান, পরিবেশবান্ধব ও কারুকার্যময় এসব আসবাব এখনো শৌখিন ক্রেতা এবং বিশেষ করে দেশে আসা প্রবাসীদের আকর্ষণ করে।

কাঁচামালের অভাব, দক্ষ কারিগরের সংকট ও সস্তা বিকল্প আসবাবের কারণে অনেকেই ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, বিসিকের মাধ্যমে সহজ শর্তে ঋণ ও কাঁচামালের সহজলভ্যতা নিশ্চিত না হলে বেতশিল্প হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

কৃষিপণ্য ও মাছের বাজার

ব্যবসায়ীরা জানান, কৃষিপণ্যের বাজারও এখন বাইরের জেলার ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। কলার আড়তদার মোহাম্মদ আতাউর রহমান ও নূর মিয়া জানান, স্থানীয় উৎপাদন নগণ্য হওয়ায় সাগর, সবরি ও চাঁপা কলার প্রায় পুরোটাই রাজশাহী ও বগুড়া থেকে আসে। বিভিন্ন আয়োজনে ব্যবহৃত পান আসে বরিশাল থেকে। একসময় যে বাজার তিসি, কাউন ও চিনার মতো কৃষিপণ্য রপ্তানি করত, এখন তা অন্য জেলার ওপর নির্ভরশীল।

পশ্চিম বাজারের পাইকারি মৎস্য আড়তে বৃহত্তর সিলেটের মৎস্য অর্থনীতির চিত্রও দেখা যায়। একসময় হাইল হাওর বা হাকালুকির প্রাকৃতিক মাছের ওপর বাজারটি অনেকটাই নির্ভরশীল থাকলেও এখন ৯০-৯৫ শতাংশ মাছই আসে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা পুকুর থেকে।

স্থানীয় আড়তদারদের মতে, ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শীত মৌসুমে হাওর-বিলের প্রাকৃতিক মাছ পাওয়া যায়। বছরের বাকি সময় বাণিজ্যিক মৎস্য খামারগুলোই বাজারের মূল চালিকা শক্তি। প্রতিদিন ভোর থেকে আড়তে কোটি টাকার মাছ নিলামে বেচাকেনা হয়। এসব মাছ স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা ও রেস্তোরাঁয় যায়।

অবকাঠামোর সংকট

ব্যবসা-বাণিজ্যের এত প্রসার থাকলেও শহরে অবকাঠামোগত সংকট রয়েছে। শহরের বিসিক শিল্প এলাকার অবস্থা করুণ। দু-তিনটি স্থানীয় বেকারি কোনোমতে টিকে থাকলেও বেশ কিছু কারখানা পরিত্যক্ত। ব্যাংকঋণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করেও অব্যবস্থাপনার কারণে সেগুলো বন্ধ হয়ে গেছে।

সরু রাস্তা ও অপরিকল্পিত নির্মাণের কারণে শহরে যানজটও লেগে থাকে। মুদি ও কৃষিপণ্যের পাইকারি ব্যবসায়ী সুধীর চন্দ্র বলেন, রাস্তাঘাট বেহাল হওয়ার কারণে মালবাহী ট্রাক বাজারে ঢোকাতে কষ্ট হয়। এতে পরিবহন খরচ বাড়ে এবং তার প্রভাব পড়ে পণ্যের দামে।

মনু নদের তীরের পশ্চিম বাজার তাই শুধু পণ্য কেনাবেচার জায়গা নয়; এটি মৌলভীবাজারের আর্থসামাজিক পরিবর্তনের এক জীবন্ত মানচিত্র। জমিদারদের ‘তুলা’ আদায়ের হাট থেকে পাট ও কাঠের ব্যবসা, সেখান থেকে আজকের রেমিট্যান্স–নির্ভর আধুনিক খুচরা বাজার—সময় ও অর্থনীতির সঙ্গে পশ্চিম বাজারও বদলে গেছে।

একদিকে আধুনিক শপিং মল, ইউরোপীয় ধাঁচের বিপণিবিতান ও ব্যাংকের সারি; অন্যদিকে কাঠের বাদ্যযন্ত্রের দোকান, কলার আড়ত, মাছের বাজার, পানের দোকান, মুদিদোকান—সব মিলিয়ে পশ্চিম বাজারে ঐতিহ্য ও আধুনিক বাণিজ্যের সহাবস্থান। ব্যাংকঋণের সহজলভ্যতা, প্রশস্ত রাস্তাঘাট ও পরিত্যক্ত বিসিক নগরীর মতো কাঠামোগত সমস্যাগুলো সমাধান করা গেলে মনুতীরের এই বাজার আগামী দিনেও বৃহত্তর সিলেটের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকা শক্তি হয়ে থাকতে পারে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
টাঙ্গাইলে শুধু শাড়িই নয়, নীরবে গড়ে উঠেছে ছেলেদের পোশাকের বাজার
টাঙ্গাইলে শুধু শাড়িই নয়, নীরবে গড়ে উঠেছে ছেলেদের পোশাকের বাজার

টাঙ্গাইলের সঙ্গে শাড়ি শব্দটি এমনভাবে সেঁটে গেছে যে এখানে তৈরি অন্য পোশাকগুলো প্রায় আড়ালেই থেকে যায়। অথচ পুরুষদেরও নানা রকম পোশাক ও অনুষঙ্গের একটা বাজার নীরবে এখানে গড়ে উঠেছে।টাঙ্গাইলে পুরুষদের সুতি কাপড়ের আরামদায়ক পাঞ্জাবি, শার্ট বা ফতুয়া তৈরি করে অনেক ফ্যাশন হাউস। উৎসবের আগে শাড়ির পাশাপাশি সেসব পোশাকেরও চাহিদা বাড়ে। টাঙ্গাইল শাড়ি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রঘুনাথ বসাক বলেন, ‘শাড়ির জন্য টাঙ্গাইল বিখ্যাত হলেও পুরুষদের আনস্টিচ কাপড় বা থানের চাহিদাও কম না। কাপড়ের বুনন আরামদায়ক হওয়ার একটা বড় ক্রেতা শ্রেণি টাঙ্গাইলের থান কাপড় কিনে পাঞ্জাবি, শার্ট ও ফতুয়ার মতো পোশাক তৈরি করেন। আর তাই এই বাজারটাও ধীরে ধীরে বাড়ছে।’তাঁতের কাপড়ে গামছার চেকতাঁতের কাপড়ে গামছার বুনন। মডেল: ইমন, পোশাক: টাঙ্গাইল শাড়ি কুটিরতাঁতের কাপড়ের তৈরি পাঞ্জাবিটির নকশা গামছার চেক থেকে অনুপ্রাণিত। গাঢ় নীল রঙের রেগুলার ফিট পাঞ্জাবিটি উৎসব-পার্বণেও পরা যায়। বুনন কৌশল গামছার মতো হওয়ায় আরাম মিলবে সারা দিন। শাড়ির সঙ্গে মানানসই ব্লাউজ খুঁজে না পাওয়ায় গড়ে উঠল যে ব্র্যান্ডটাঙ্গাইলের মার্সেরাইজড কটনে তৈরি পাঞ্জাবিপাঞ্জাবির কাপড়টি মার্সেরাইজড কটনের।মডেল: ইমন, পোশাক: টাঙ্গাইল শাড়ি কুটিরটাঙ্গাইলের তাঁতে তৈরি এই পাঞ্জাবির কাপড়টি মার্সেরাইজড কটন। এটি সুতির এমন একটি ধরন, যেখানে একটি বিশেষ রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সুতা বা কাপড়ের থানকে উন্নত রূপ দেওয়া হয়। এই কাপড়ে তৈরি পোশাক তাই দেখতে চকচকে ও সিল্কের মতো মসৃণ লাগে।টাঙ্গাইল থান কাপড়ে টাইডাইটাইডাই টাঙ্গাইল থানে তৈরি শার্ট।মডেল: ইমন, পোশাক: টাঙ্গাইল শাড়ি কুটিরটাঙ্গাইল থান কাপড় কিনে সেটাকে টাইডাই করে বানানো হয়েছে এই হাফহাতার শার্ট। গরমে আরামদায়ক হওয়ায় তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে সেগুলো।টাঙ্গাইল কাপড়ের ফতুয়াএমন ফতুয়ায় মিলবে আরাম। মডেল: ইমন, পোশাক: টাঙ্গাইল শাড়ি কুটিরপিওর সুতি কাপড়ের এই টাঙ্গাইল থানেও টাইডাই করা হয়েছে। নকশা বেছে নেওয়া হয়েছে ডিজাইনারের পছন্দমতো। সাদার মধ্যে হলদে রঙের নকশা করা এই হাফহাতার ফতুয়া ক্যাজুয়াল লুকের জন্য উপযুক্ত। তবে উৎসবের সময়েও একবেলা ফুরফুরে মেজাজে কাটানো যাবে এমন পোশাকে।টাঙ্গাইলের পাঞ্জাবির জমিনে বুটি নকশা পাঞ্জাবির জমিনে বুটি নকশা।মডেল: ইমন, পোশাক: টাঙ্গাইল শাড়ি কুটিরনকশাটি চিরায়ত টাঙ্গাইল কাপড়ের। সাধারণত আনস্টিচ হিসেবে এমন পাঞ্জাবির কাপড় তৈরি করেন টাঙ্গাইলের তাঁতিরা। সুতির এই পাঞ্জাবির জমিনে বুটি নকশা আর বাটন প্লেটে বিশেষ জ্যামিতিক নকশা, যা মূলত টাঙ্গাইল শাড়ির পাড়ের নকশা থেকে অনুপ্রাণিত। পোশাক: কুমুদিনীসুনেরাহ্‌ বিনতে কামাল বললেন, ‘আমি আসলে কিছুটা সময়ের জন্য পেতনি হতেও চাই’

News সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ 0
মালিবাগে ককটেল বিস্ফোরণ

মালিবাগে ককটেল বিস্ফোরণ

প্রচণ্ড গরমেও উচ্ছ্বাসে ছেদ পড়েনি, আনন্দে ভাসল হাজারো শিক্ষার্থী

প্রচণ্ড গরমেও উচ্ছ্বাসে ছেদ পড়েনি, আনন্দে ভাসল হাজারো শিক্ষার্থী

সার না পেয়ে কুড়িগ্রামে সড়ক অবরোধ, চার ঘণ্টা গুদামে অবরুদ্ধ কৃষি কর্মকর্তা

সার না পেয়ে কুড়িগ্রামে সড়ক অবরোধ, চার ঘণ্টা গুদামে অবরুদ্ধ কৃষি কর্মকর্তা

ডাকসুর সংগ্রহশালায় সাহিত্যিকদের নামে ভুল ছবি, সমালোচনার পর পরিবর্তন
ডাকসুর সংগ্রহশালায় সাহিত্যিকদের নামে ভুল ছবি, সমালোচনার পর পরিবর্তন

ডাকসুর সংগ্রহশালায় ছয় সাহিত্যিকের নামের সঙ্গে ভুল ছবি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। সমালোচনার পর ১৭ সেপ্টেম্বর ছবিগুলো সরিয়ে নতুন ছবি সংযুক্ত করা হয়। বিস্তারিত ভিডিও প্রতিবেদনে—

News সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ 0
এআই ইস্যুতে কেন বিশ্বনেতাদের এক হতে হবে

এআই ইস্যুতে কেন বিশ্বনেতাদের এক হতে হবে

পুত্রবধূকে কোপাতে বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে কুপিয়ে থানায় আত্মসমর্পণ

পুত্রবধূকে কোপাতে বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে কুপিয়ে থানায় আত্মসমর্পণ

এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে মাহমুদুল, স্বপ্ন প্রকৌশলী হওয়ার

এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে মাহমুদুল, স্বপ্ন প্রকৌশলী হওয়ার

পাকিস্তানে পুলিশ লাইনসে ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহত ১৬, আহত ৫০
পাকিস্তানে পুলিশ লাইনসে ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহত ১৬, আহত ৫০

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের কোহাট পুলিশ লাইনসে ভয়াবহ বিস্ফোরণে পাঁচজন পুলিশ সদস্যসহ ১৬ জন নিহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার দুপুরের দিকে পুলিশ লাইনসের একটি মসজিদে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এই হামলার দায় স্বীকার করেছে হাফিজ গুল বাহাদুরের নেতৃত্বাধীন ইত্তেহাদুল মুজাহিদিন।পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ‘ডন’–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে খাইবার পাখতুনখাওয়ার পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজি) জুলফিকার হামিদ নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করে জানান, এই বিস্ফোরণে ৫০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। তিনি জানান, প্রথমে একজন আত্মঘাতী হামলাকারী বিস্ফোরকবোঝাই গাড়ি নিয়ে ভবনের গেটে আঘাত হানে। এর পরপরই আত্মঘাতী হামলাকারীদের কয়েকজন কাউন্টার টেররিজম ডিপার্টমেন্ট ভবনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাদের হত্যা করা হয়। আরও অন্তত তিনজন স্পেশাল ব্রাঞ্চ ভবনের দিকে অগ্রসর হয়।আইজি জুলফিকার হামিদ জানান, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে।টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, একটি ভবনের ধসে পড়া দেয়ালের পাশে মানুষজন জড়ো হয়েছেন, তারা ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ করছেন এবং আহতদের সাহায্য করছেন। ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও অ্যাম্বুলেন্স দেখা যায়।বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় বিকেলে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ঘটনাস্থলে হামলাকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধ চলছিল। পাশাপাশি হতাহতদের উদ্ধারে অভিযানও চলছিল।বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, হামলার সময় মসজিদে মুসল্লিরা নামাজ আদায় করছিলেন।খাইবার পাখতুনখাওয়ার আইজি জুলফিকার হামিদ এক বিবৃতিতে জানান, একজন আত্মঘাতী হামলাকারী স্পেশাল ব্রাঞ্চ ভবনের কাছে বিস্ফোরণে ঘটিয়ে নিজেকে উড়িয়ে দেয়। একই বিবৃতিতে জানানো হয়, এক আত্মঘাতী হামলাকারীসহ ছয়জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদির কার্যালয় থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়, নিরপরাধ নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু বানানোর এই ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আহতদের দ্রুততম সময়ে সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদের এমন কাপুরুষোচিত কর্মকাণ্ড দিয়ে জাতির মনোবল ভেঙে দেওয়া যাবে না।’পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। বিদেশি মদদপুষ্ট জঙ্গিদের সম্পূর্ণ নির্মূল করা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত জরুরি বলে উল্লেখ করেন তিনি। প্রেসিডেন্ট জারদারি আহতদের সুস্থতা কামনা করেন।এর আগে ২০১০ সালে কোহাট পুলিশ লাইনসের ঠিক পেছনে অবস্থিত পুলিশ কলোনির ভেতর একটি রিমোট-কন্ট্রোল নিয়ন্ত্রিত বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে প্রধানত পুলিশ সদস্যদের স্বজনসহ ২০ জন নিহত ও ৯০ জনেরও বেশি আহত হন।

News সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ 0
গয়না, পিণ্ড ও পেস্ট আকারে আনলেন ৪৫ ভরি সোনা, কৌশলে কাস্টমস পার হলেও ধরা পড়লেন

গয়না, পিণ্ড ও পেস্ট আকারে আনলেন ৪৫ ভরি সোনা, কৌশলে কাস্টমস পার হলেও ধরা পড়লেন

ঢাকায় ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের যাত্রাবিরতি

ঢাকায় ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের যাত্রাবিরতি

ফিলিপাইনে স্কুলে কিশোরের বন্দুক হামলায় নিহত ৩, গুলিবিদ্ধ ৮

ফিলিপাইনে স্কুলে কিশোরের বন্দুক হামলায় নিহত ৩, গুলিবিদ্ধ ৮

0 Comments