গাজীপুরের টঙ্গী স্টেশন রোড এলাকায় সড়ক দখলমুক্ত ও যানজট নিরসনে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে গাজীপুর সিটি করপোরেশন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সিব্বির আহমেদের নেতৃত্বে এ অভিযান চালানো হয়।
অভিযানকালে টঙ্গী-কালীগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাট ও অস্থায়ী স্থাপনা গুড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে দীর্ঘদিনের অবৈধ দখল থেকে ফুটপাত ও সড়কটি মুক্ত হওয়ায় এটি পুনরায় পথচারী এবং যানবাহন চলাচলের উপযোগী হয়ে উঠেছে। সড়কটি দখলমুক্ত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সাধারণ পথচারীরা।
অভিযান শেষে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সিব্বির আহমেদ জানান, নগরীর যানজট নিরসন এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এই ধরনের উচ্ছেদ অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।
অভিযান পরিচালনাকালে মহানগর বিএনপি নেতা সরকার শাহনূর ইসলাম রনি, মহানগর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক আব্দুর রহিম খান কালা, মহানগর তারেক জিয়া পরিষদের সদস্য সচিব বীর রহমান, যুবদল নেতা ফারুক মৃধাসহ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এনএইচআর
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
শরীয়তপুরের জাজিরায় সরকারি বরাদ্দে স্যানিটারি ল্যাট্রিন দেওয়ার কথা বলে কয়েকটি অসহায় পরিবারের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিকেনগর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এস্কানদার ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, ল্যাট্রিন দেওয়ার আশ্বাসে কারও কাছ থেকে সাড়ে ৬ হাজার থেকে ১৩ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও সরকারিভাবে এসব ল্যাট্রিন পেতে নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ হাজার টাকা, যা চূড়ান্ত তালিকা শেষে দিতে হবে ব্যাংকের মাধ্যমে। এদিকে অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। জাজিরা উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরে দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে স্যানেটারি ল্যাট্রিন বিতরণের একটি প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। জাজিরা উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬০০টি। যা প্রত্যেক ইউনিয়ন ভেদে পাবে ৫০টি। ইতোমধ্যে স্যানেটারি ল্যাট্রিন বিতরণে দপ্তরটি থেকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের কাছে দুস্থ ও অসহায় পরিবারের একটি খসড়া তালিকা চাওয়া হয়েছে। যা যাচাই-বাছাই শেষে অনুমোদন দেওয়া হবে। পরে পূর্ণাঙ্গ তালিকা অনুযায়ী সুবিধাভোগীরা পাঁচ হাজার টাকার সরকারি চালানে ব্যাংকের মাধ্যমে জমা দিয়ে এসব স্যানেটারি ল্যাট্রিন পাবে। স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি স্যানেটারি ল্যাট্রিন বিতরণের জন্য ৩৫ জনের একটি খসড়া তালিকা প্রস্তুত করেন বিকেনগর ইউপি চেয়ারম্যান এস্কান্দার ভুঁইয়া। ওই তালিকার বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে স্যানেটারি ল্যাট্রিন দেওয়ার আগেই সাড়ে ছয় হাজার থেকে ১৩ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। বাবুল নামে এক ব্যক্তি বলেন, চেয়ারম্যান বলেছে আমাকে ল্যাট্রিন দিবে তাই তালিকায় আমার নাম দেওয়া হয়েছে। ল্যাট্রিনের জন্য আমার কাছ থেকে সাড়ে ১২ হাজার টাকা নিয়েছে। অনেকদিন হয়ে গেছে, কিন্তু আমি এখনো ল্যাট্রিন পাইনি। খসড়া তালিকাভুক্ত আরেক ভুক্তভোগী সকিনা বলেন, স্যানিটারি ল্যাট্রিন দেওয়ার কথা বলে চেয়ারম্যানের লোক খোকন হাওলাদার আমার কাছ থেকে ১২ হাজার টাকা নিয়েছেন। তবে এখনো ল্যাট্রিন পাইনি। এদিকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি পরিষ্কার করেন ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত আসনের এক নারী সদস্য। তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ল্যাট্রিন দেওয়ার কথা বলে ইউপি চেয়ারম্যান এস্কান্দার ভুঁইয়া ১২ হাজার করে টাকা দাবি করেছেন। আমার কয়েকজন পরিচিত অসহায় পরিবারের লোকদের জন্য চেয়ারম্যানের কাছে সুপারিশ করলে ১০ হাজার করে টাকা সংগ্রহ করে দিতে বলেন। ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হলে তিনি ল্যাট্রিনের ব্যবস্থা করে দিবেন, আর নয়তো দিবেন না। পরে আমি দুজনের কাছ থেকে ১০ হাজার করে টাকা এনে চেয়ারম্যানকে দিয়েছি। যদিও টাকা নেয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন বিকেনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস্কান্দার ভুঁইয়া। তিনি বলেন, টাকা নেওয়ার বিষয়ে আমি কিছু জানিনা। এসব সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট কথা। আমাকে রাজনৈতিকভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে জাজিরা উপজেলা জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী বলেন, ‘সরকারিভাবে পুরো উপজেলায় দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে ৬০০ স্যানিটারি ল্যাট্রিন বিতরণের জন্য বরাদ্দ হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের কাছে তালিকা চাওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে তারা খসড়া তালিকা আমাদের দিয়েছেন। তা এখন যাচাই বাছাই করা হবে। তবে এখনো চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত হয়নি। চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত হওয়ার পর প্রত্যেক পরিবারকে সরকারি ফি বাবদ ৫ হাজার টাকা করে ব্যাংকে জমা দিতে হবে। বিকেনগরের ইউপি চেয়ারম্যানের টাকা সংগ্রহের বিষয়টি আমার জানা নেই।’ এব্যাপারে জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল ইমরান বলেন, ‘আপনার মাধ্যমে বিষয়টি অবগত হলাম। তবে এ সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। ভুক্তভোগীরা চাইলে নাম প্রকাশ ছাড়াও অভিযোগ দিতে পারেন। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’ বিধান মজুমদার অনি/কেজে/এএসএম
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর সুপ্রিম কোর্টের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাকে ‘আমলে নিচ্ছেন না’ বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ট্রাইব্যুনালের ভেতরে ও বাইরে পোশাকধারী এবং পোশাকধারী ছাড়াও সবসময় কঠোর নিরাপত্তা থাকে। এটি আগেও ছিল, এখনো আছে। আর ককটেল বিস্ফোরণ—এগুলো আমরা আমলে নিচ্ছি না। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করা হয়। রায় ঘোষণার পর দুপুর সোয়া একটার দিকে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান গেটে প্রবেশপথের বাইরে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওইদিন ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেল এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। আরও পড়ুন আমরা এই রায়ে শুকরিয়া আদায় করছি: চিফ প্রসিকিউটর রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। সাত আসামির সবাই পলাতক। রায়ে প্রত্যেক আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্তেরও আদেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আদালত সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলাটি করা হয়। প্রসিকিউশনের অভিযোগ ছিল, আন্দোলন দমনে তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা বিভিন্ন নির্দেশনা, বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ভূমিকা রাখেন। মামলায় ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে আন্দোলন দমনে নির্দেশনা দেওয়া, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দলীয় নেতাকর্মীদের সক্রিয় করার পাশাপাশি ইন্টারনেটের গতি কমানোসহ বিভিন্ন বিষয়ে নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। আরও পড়ুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী / ৭ জনের ফাঁসির রায়ের পর ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়, জড়িতরা শনাক্ত ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত অভিযোগের মধ্যে ১১ জুলাই সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে ফোনালাপ, ১৪ জুলাই গণভবনে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকা এবং ১৫ জুলাই ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যের বিষয়ও ছিল। চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম রায় ঘোষণার পর জানিয়েছিলেন, মামলায় প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে চারটি করে অভিযোগ ছিল এবং অধিকাংশ অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন। এটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সপ্তম রায়। এফএইচ/এমকেআর
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার ও অপরাধী শনাক্তকরণে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে ক্যাম্পাসে নতুন ডিজিটাল সিস্টেমের আওতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিসম্পন্ন সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, এসব ক্যামেরার মাধ্যমে ক্যাম্পাসে কে প্রবেশ করছে, কে বের হচ্ছে- তা আরও কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। কোনো দুর্ঘটনা বা অপরাধ ঘটলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শনাক্ত করতেও প্রযুক্তিটি সহায়ক হবে। তবে প্রশাসনের এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও শিক্ষার্থীদের একটি অংশের প্রশ্ন- সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর বাস্তবায়ন কবে? আর শুধু ক্যামেরা স্থাপন করলেই কি ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও বিচারহীনতার সমস্যার সমাধান হবে? আরও পড়ুন মেয়াদ শেষ, আরও ৯০ দিন দায়িত্বে থাকছে ডাকসু কমিটি প্রযুক্তি আসছে, কিন্তু তার ব্যবহার, তথ্যের নিরাপত্তা, জবাবদিহি এবং রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাবমুক্তভাবে পরিচালনা এসব প্রশ্নও এখন সামনে এসেছে। ‘অপরাধী শনাক্তে জটিলতা ছিল’ ঢাবির প্রক্টর চারুকলা অনুষদের গ্রাফিক্স ডিজাইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. ইসরাফিল রতন বলেন, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদারে নতুন ডিজিটাল সিস্টেম ও এআইভিত্তিক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়ে কাজ করছে প্রশাসন। তিনি বলেন, গত ৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এআইভিত্তিক ক্যামেরার মাধ্যমে ক্যাম্পাসে মানুষের প্রবেশ ও বের হওয়ার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হবে। ক্যাম্পাসে প্রবেশকারী ব্যক্তিদের চেহারাও ক্যামেরায় স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হবে। আরও পড়ুন ঢাবি ক্যাম্পাসে স্বস্তি ফেরালো সড়কবাতি, এখন দাবি কার্যকর সিসি ক্যামেরা প্রক্টরের ভাষ্য, এর আগে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন দুর্ঘটনা ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলেও অনেক ক্ষেত্রে সিসিটিভি ফুটেজে জড়িত ব্যক্তির চেহারা স্পষ্টভাবে পাওয়া যেত না। ফলে অপরাধী শনাক্ত করতে জটিলতা তৈরি হতো। এ কারণেই নতুন প্রযুক্তির সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন। ‘ভালো উদ্যোগ, কিন্তু এত দেরিতে কেন?’ প্রশাসনের পরিকল্পনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আরিফ হোসাইন বলেন, ক্যাম্পাসে ডিজিটাল সিস্টেমের এআই ক্যামেরা স্থাপন হলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী হবে। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে উদ্যোগটি নিতে এতসময় লাগল কেন- এ প্রশ্নও রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। আরিফ বলেন, ক্যাম্পাসে কোনো দুর্ঘটনা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে প্রশাসনকে বিভিন্নভাবে জানানো হয়। অভিযোগ বা স্মারকলিপির মাধ্যমেও বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। প্রশাসন যখন আগে থেকেই এসব বিষয়ে অবগত, তখন সিদ্ধান্ত নিতে এত দেরি কেন, সেটি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। আরও পড়ুন ঢাবির ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান করলেন ‘মবের শিকার’ তাহসিন জাহান তার ভাষায়, বিভিন্ন ঘটনায় বারবার তদন্ত কমিটি গঠনের কথা বলা হলেও সেই তদন্তের ফলাফল নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। আরিফের প্রশ্ন, নতুন এআই ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত কবে বাস্তবায়ন হবে? আদৌ হবে কি না, নাকি এটি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কমানোর জন্য দেওয়া আরেকটি আশ্বাস- সেটিও এখন দেখার বিষয়। ‘শুধু ক্যামেরা থাকলেই নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না’ এআই ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে বাস্তব ব্যবস্থাপনার ওপর- এমনটাই মনে করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থী লিনা। তিনি বলেন, উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের চলাচল নিয়ন্ত্রণে আনা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হতে পারে। তবে শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন, ক্যামেরা শনাক্ত করার পর সেই তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা থাকবে কি না। ‘এআই ক্যামেরা কীভাবে কাজ করবে, সেটিও স্পষ্ট করতে হবে’ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী তাসনিয়া রহমান বলেন, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এআই ক্যামেরা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক উদ্যোগ। আরও পড়ুন ডাকসু সংগ্রহশালা / গোলাম আজমকে জুতাপেটার ছবি টানানোর কারণ জানালেন অর্ক তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। একই সঙ্গে অনেক সময় বহিরাগতদের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশও নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করে। তবে তাসনিয়ার প্রশ্ন, প্রযুক্তিটি বাস্তবে কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়নে অনেক সময় লাগে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেটি পুরোপুরি কার্যকর হয় না। তাই এআই ক্যামেরার কার্যক্রম যেন কোনো ধরনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রভাব বা পক্ষপাতের কারণে প্রভাবিত না হয়, সে বিষয়ে কী ব্যবস্থা রাখা হবে- এটি গুরুত্বপূর্ণ। তারমতে, শুধু বহিরাগত বা সন্দেহজনক ব্যক্তিকে শনাক্ত করলেই হবে না, শনাক্ত হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে কার কাছে অ্যালার্ট যাবে এবং কীভাবে দ্রুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেটিও স্পষ্ট হওয়া দরকার। আরও পড়ুন জিন্নাহর ছবি ছেঁড়ার পর গোলাম আযমের ছবি টাঙানো নিয়ে নতুন বিতর্ক তাসনিয়া বলেন, এআই ক্যামেরার প্রযুক্তিগত সক্ষমতার পাশাপাশি এর অপারেশনাল নিয়ন্ত্রণ, জবাবদিহি ও রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে বহিরাগতদের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ ঠেকাতে প্রযুক্তিটি বাস্তবে কী ভূমিকা রাখবে, সেটিও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। ‘সিসিটিভি লাগানোর কথা শুনি, কিন্তু ঘটনার পর ফুটেজ কোথায়?’ ক্যাম্পাসে নিরাপত্তার জন্য নতুন সিসিটিভি স্থাপনের উদ্যোগকে ইতিবাচক বললেও প্রশাসনের পূর্ববর্তী ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ঢাবির সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক। তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে বিভিন্ন সময়ে নারী হেনস্তার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফুটবল বিশ্বকাপের স্ক্রিনিংয়ের সময়ও নারী হেনস্তার অভিযোগ এসেছে। কয়েক সপ্তাহ আগে টিএসসিতে ছাত্র ইউনিয়নের এক নারী কর্মীকে হেনস্তার অভিযোগও পাওয়া গেছে। মোজাম্মেল হকের প্রশ্ন, কোনো ঘটনা ঘটার পর প্রশাসনকে জানানো হলে তদন্ত কমিটি গঠনের কথা বলা হয়; কিন্তু অভিযোগগুলোর বিচার আদৌ হয় কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের আগে ক্যাম্পাসে যে ধরনের বিচারহীনতার অভিযোগ ছিল, পরবর্তীসময়েও তার পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে। নতুন ল্যাম্পপোস্ট ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের কথা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় বলা হলেও ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা যখন সিসিটিভি ফুটেজ চান, তখন অনেক সময় ক্যামেরা নষ্ট বা ফুটেজ পাওয়া যাচ্ছে না- এমন কথা শোনা যায় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তারমতে, নতুন এআই ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্ত অবশ্যই ইতিবাচক। কিন্তু প্রশ্ন হলো-বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আদৌ সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন করতে পারবে কি না। ‘বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না’ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহমুদুর রহমান মাহী বলেন, ডিজিটাল সিস্টেমের এআই ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই। তারমতে, বাস্তবায়ন হলে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা বাড়বে এবং এটি শিক্ষার্থীদের স্বার্থে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তবে ক্যাম্পাসে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন দুর্ঘটনা ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রশাসনকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। মাহী বলেন, এআই ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে-এটাই এখন প্রত্যাশা। ‘ঢাবির মতো খোলামেলা ক্যাম্পাসে এটি প্রয়োজন’ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ছোয়া বলেন, ক্যাম্পাসে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন নারী হেনস্তার ঘটনার প্রেক্ষাপটে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এআই ক্যামেরা স্থাপন অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। তিনি বলেন, ঢাবির মতো ক্যাম্পাসে নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে। সে ক্ষেত্রে সিসিটিভি ক্যামেরার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সাধারণ ক্যামেরার তুলনায় এআইভিত্তিক ক্যামেরা হলে তা আরও কার্যকর হতে পারে। তবে, প্রশাসনের আরও আগে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল বলেও মনে করেন তিনি। সাধারণ সিসিটিভি-এআই সিসিটিভির পার্থক্য কোথায়? এআইভিত্তিক সিসিটিভি ক্যামেরা সাধারণ সিসিটিভি ক্যামেরার তুলনায় কীভাবে আলাদা এবং এটি নিরাপত্তায় কতটা কার্যকর হতে পারে- এ বিষয়ে ঢাবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ড. সাইফুল হক বলেন, সাধারণ সিসিটিভি মূলত ঘটনা রেকর্ড করে। কোনো অপরাধ বা দুর্ঘটনা ঘটার পর তদন্তের প্রয়োজনে সেই ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। অন্যদিকে, এআইভিত্তিক সিসিটিভি ক্যামেরাকে পর্যাপ্ত তথ্য ও উপাত্ত দিয়ে পরিচালনা করা গেলে এটি শুধু ভিডিও রেকর্ডিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্যও বিশ্লেষণে সহায়তা করতে পারে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে কতজন মানুষ ছিল- এ ধরনের তথ্যও এআইভিত্তিক ক্যামেরা থেকে পাওয়া সম্ভব হতে পারে। অর্থাৎ ক্যামেরা শুধু রেকর্ড সংরক্ষণ না করে সেই রেকর্ড থেকে প্রয়োজনীয় ডেটা সরবরাহেও ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশে এ ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে কি না-জানতে চাইলে ড. সাইফুল হক বলেন, দেশে অনেক ধরনের প্রযুক্তি এরই মধ্যে এসেছে এবং ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে ঢাবি প্রশাসন এআইভিত্তিক ক্যামেরা কীভাবে পরিচালনা করবে এবং এর ডেটা কীভাবে প্রক্রিয়াজাত করবে, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। প্রযুক্তির সঙ্গে সামনে আসছে নতুন প্রশ্ন ঢাবি ক্যাম্পাসে এআই ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। অপরাধ বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর শুধু ফুটেজ খোঁজার পরিবর্তে তাৎক্ষণিক শনাক্তকরণ ও তথ্য বিশ্লেষণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে, প্রযুক্তি কোনো সমস্যার পূর্ণ সমাধান নয়। ক্যামেরা স্থাপনের পাশাপাশি সেটি সচল রাখা, পর্যাপ্ত কাভারেজ নিশ্চিত করা, ফুটেজ সংরক্ষণ, তথ্যের নিরাপত্তা, কে এসব তথ্য দেখতে পারবেন- এসব বিষয়েও সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, কোনো ঘটনা ঘটলে ক্যামেরার তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না। কারণ শিক্ষার্থীদের বড় অংশের প্রশ্ন এখন শুধু ‘ক্যামেরা আসবে কি না’-এটি নয়। প্রশ্ন হলো, ক্যামেরা আসার পর সেটি কতটা কার্যকর হবে, কার জবাবদিহির মধ্যে থাকবে এবং কোনো অপরাধের প্রমাণ সামনে এলে তার ভিত্তিতে আদৌ ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না। প্রশাসনের নতুন উদ্যোগ তাই একদিকে যেমন ক্যাম্পাসের নিরাপত্তায় প্রযুক্তিগত সম্ভাবনার দরজা খুলছে, অন্যদিকে বাস্তবায়ন, জবাবদিহি, তথ্যের নিরাপত্তা ও বিচার নিশ্চিত করার প্রশ্নও সামনে আসছে। শেষ পর্যন্ত এআই ক্যামেরা ঢাবির নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কার্যকর পরিবর্তন আনবে, নাকি এটি কেবল আরেকটি প্রশাসনিক ঘোষণায় সীমাবদ্ধ থাকবে- তার উত্তর মিলবে বাস্তবায়নের পরই।আরটি/এমএএইচ/ এমএফএ