জাতীয়

গাজায় ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ধসে শিশুসহ নিহত ১৪, ধ্বংসস্তূপে চাপা ৫০ শিশুসহ প্রায় ১০০

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
গাজায় ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ধসে শিশুসহ নিহত ১৪, ধ্বংসস্তূপে চাপা ৫০ শিশুসহ প্রায় ১০০
গাজায় ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ধসে শিশুসহ নিহত ১৪, ধ্বংসস্তূপে চাপা ৫০ শিশুসহ প্রায় ১০০

ফিলিস্তিনের বিধ্বস্ত গাজা নগরীতে একটি বহুতল আবাসিক ভবন ধসে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে শিশু পাঁচটি। অনেকে এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন।

গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা দপ্তর আজ বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে।

ধসে পড়া ভবনটিতে ইসরায়েলি হামলায় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি পরিবারগুলো আশ্রয় নিয়েছিল। ভবনটি ইসরায়েলি হামলায় আগেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ঝুঁকিপূর্ণ সেই ভবনেই থাকতেন যুদ্ধে ঘরবাড়ি হারানো অসহায় ফিলিস্তিনিরা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় লোকজন জানান, অন্তত ছয়টি পরিবারের সদস্যরা ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে আছেন। উদ্ধার তৎপরতা চলছে।

ঘটনাস্থলে কর্মরত গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা দপ্তরের বরাতে আল–জাজিরা জানায়, ভবনটির ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো প্রায় ১০০ মানুষ আটকা পড়ে আছে। এর মধ্যে প্রায় ৫০ শিশু রয়েছে।

ভবন ধসের এ ঘটনার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করেছে গাজার কর্তৃপক্ষ। গাজার গণমাধ্যম দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এ ঘটনার জন্য আমরা দখলদার পক্ষ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পুরোপুরি দায়ী করছি। বহুতল আবাসিক ভবনটি ধসে পড়ার ঘটনা এ অঞ্চলে চলমান মানবিক বিপর্যয়কে আরও তীব্র করে তুলেছে।’

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করে ইসরায়েল। এখন যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও উপত্যকাটিতে হামলা থামায়নি দেশটি। ঘটছে প্রাণহানিও। যুদ্ধের জেরে পুরো গাজায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধে গাজার ৯২ শতাংশ আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস করা হয়েছে। লাখ লাখ বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি এখন তাঁবু বা অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাস করছেন।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
এনআরবিসি ব্যাংকে নিয়োগ, ৪০ বছর বয়সেও আবেদন
এনআরবিসি ব্যাংকে নিয়োগ, ৪০ বছর বয়সেও আবেদন

এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসি ‘রিলেশনশিপ ম্যানেজার’ পদে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এরই মধ্যে আবেদন শুরু হয়েছে, চলবে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে পারবেন। তবে প্রার্থীকে অবশ্যই স্নাতক অথবা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী হতে হবে। এক নজরে এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ তথ্যের ধরন বিবরণ প্রতিষ্ঠানের নাম এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসি পদের নাম রিলেশনশিপ ম্যানেজার পদসংখ্যা নির্ধারিত নয় চাকরির ধরন বেসরকারি, ফুল টাইম প্রার্থীর ধরন নারী-পুরুষ শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক অথবা স্নাতকোত্তর অভিজ্ঞতা ৪-৭ বছর বেতন ও অন্যান্য সুবিধা আলোচনা সাপেক্ষে বয়সসীমা সর্বোচ্চ ৪০ বছর সূত্র বিডিজবস ডটকম আবেদন করার নিয়ম ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আবেদন শুরু: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আবেদনের শেষ তারিখ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আবেদন পদ্ধতি: অনলাইনে কর্মস্থল: যে কোনো জেলায় কাজ করার মানসিকতা থাকা আবশ্যক। আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসি। আরও পড়ুন৫৩৮ জনকে নিয়োগ দেবে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, আবেদন ফি ৫৬ টাকাএইচএসসি পাসে বিজিবির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন ফি ৫৬ টাকাবর্ডার গার্ড বাংলাদেশে চাকরি পাওয়ার সহজ উপায়সেনাবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, ৪০ বছর বয়সেও আবেদনের সুযোগনৌবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এইচএসসি পাসেই অফিসার ক্যাডেট হওয়ার সুযোগসেনাবাহিনীর চাকরি পেতে যেসব যোগ্যতা আপনাকে এগিয়ে রাখবে১১২ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেবে বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনসেনাবাহিনী নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এসএসসি পাসেই আবেদন১৪২ জনকে নিয়োগ দেবে সমরাস্ত্র কারখানা, এসএসসি পাসেও আবেদনসেনাবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এইচএসসি পাসেই আবেদনের সুযোগ এমআইএইচ

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
লোডশেডিংয়ে শীর্ষে ময়মনসিংহ

লোডশেডিংয়ে শীর্ষে ময়মনসিংহ

চট্টগ্রামে ডেঙ্গু প্রতিরোধে অভিযান, ৪ জনকে জরিমানা

চট্টগ্রামে ডেঙ্গু প্রতিরোধে অভিযান, ৪ জনকে জরিমানা

লংমার্চ না করে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বান রাশেদ খাঁনের

লংমার্চ না করে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বান রাশেদ খাঁনের

আর্জেন্টিনা দলে প্রথম ডাক পাওয়া কে এই রোমান ভেগা
আর্জেন্টিনা দলে প্রথম ডাক পাওয়া কে এই রোমান ভেগা

বিশ্বকাপের পর প্রথম প্রীতি ম্যাচ খেলতে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। এর মাঝে লিওনেল মেসি জাতীয় দল থেকে অবসর ঘোষণা করায় সবাই ভেবেছিলেন প্রীতি ম্যাচের জন্য আর্জেন্টিনার এই স্কোয়াড হবে পরবর্তী অধ্যায়ে পা রাখার।মানে মেসি-পরবর্তী অধ্যায়ের। কিন্তু মেসির প্রভাব এমনই যে তিনটি প্রীতি ম্যাচের একটিতে আর্জেন্টিনা তাঁকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর স্কোয়াড থেকে সবার চোখ ঘুরে গেছে কিংবদন্তির ওপর। সব আলোচনায় এখন বেনিনের বিপক্ষে মেসির বিদায়ী ম্যাচ। রোমান ভেগা কি তাতে একটু আড়ালে পড়ে গেলেন?মেসির জন্য বিদায়ী ম্যাচ আয়োজন করছে আর্জেন্টিনা, খেলবেন শেষবারের মতোঅবশ্যই। তবে ২২ বছর বয়সী এই লেফট ব্যাক এখনো এমন কোনো তারকা হয়ে ওঠেননি, যাঁর ওপর আলাদা করে চোখ রাখতে হয়। আসলে আর্জেন্টিনার স্কোয়াড ঘোষণা হলে সবারই চোখ থাকে নতুন কারও ওপর। মেসি গত মাসে জাতীয় দল ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ার পর এবার তো এ বিষয়ে সমর্থকদের আগ্রহ ছিল আরও বেশি। কারণ মেসি-পরবর্তী আর্জেন্টিনা জাতীয় দল কেমন হয়, তা দেখার অপেক্ষায় ছিলেন সবাই। কিন্তু সেই স্কোয়াডেও মেসি থাকায় রোমান ভেগা যে প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের স্কোয়াডে ডাক পেলেন, সেটা হয়তো অনেকেরই চোখ এড়িয়ে গেছে।তবে আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, স্কোয়াডে রোমানই সবচেয়ে বড় চমক। টিওয়াইসি স্পোর্টসের দাবি, রাশিয়ার ক্লাব জেনিত সেন্ট পিটার্সবার্গে খেলা রোমান আর্জেন্টিনা দলের এমন একটি পজিশনে সমস্যার সমাধান হতে পারেন, যেখানে খেলোয়াড়ের সংকট রয়েছে।ভেগার পজিশন লেফট ব্যাক। কিন্তু খেলতে পারেন মিডফিল্ডার কিংবা দ্বিতীয় সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার হিসেবেও। ভেগার খেলার ধরন কেমনতাঁর পজিশন লেফট ব্যাক। কিন্তু খেলতে পারেন মিডফিল্ডার কিংবা দ্বিতীয় সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার হিসেবেও। ওদিকে আর্জেন্টিনার লেফট ব্যাক পজিশনে নিকোলাস তালিয়াফিকো দীর্ঘদিন সেবা দিচ্ছেন। এখনই তাঁর বয়স ৩৪ বছর। আগামী বিশ্বকাপের আগে এই পজিশনে তাই কাউকে তৈরি করতে হবে। সম্ভবত এই ভাবনা থেকেই ভেগাকে দলে ডেকেছেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি।ভেগা বাঁ পায়ের ফুটবলার। বিরামহীনভাবে উইং ধরে ওঠা-নামা করতে পারেন। আক্রমণে ওঠার পথে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে ড্রিবলিং করে পেছনে ফেলতে পারেন হরহামেশাই। গতি, ম্যাচ রিড করার ক্ষমতা, পায়ের কাজ, খেলা নিয়ন্ত্রণ ও শক্তিশালী শট নেওয়ায় এরই মধ্যে বেশ নজর কাড়ছেন ভেগা।উঠে আসার পথটা যেমন ছিলডিয়েগো ম্যারাডোনা, হুয়ান রোমান রিকেলমে, ফার্নান্দো রেদোনদো এবং অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের মতো তারকা বিশ্ব ফুটবলকে উপহার দিয়েছে আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্স। এই কারণে ক্লাবটিকে কেউ কেউ ‘বিশ্ব ফুটবলের বীজতলা’ও বলেন। ভেগা উঠে এসেছেন এই ক্লাব থেকেই। বয়সভিত্তিক দল থেকে ২০২১ সালে এই ক্লাবের হয়ে আর্জেন্টিনার শীর্ষ লিগে তাঁর অভিষেক।বুয়েনস এইরেসে ২০০৪ সালে জন্মানো ভেগার বয়স যখন ১৮ বছর, তখন তাঁকে ৫০ হাজার ইউরোয় এক বছরের জন্য ধারে বার্সেলোনায় পাঠায় জুনিয়র্স। ৪৫ লাখ ইউরোয় পরে তাঁকে স্থায়ীভাবে কেনার সুযোগ থাকলেও বার্সা সে পথে হাঁটেনি। কাতালান ক্লাবটির ‘বি’ দলে ১৭টি ম্যাচ খেলে আবারও আর্জেন্টিনার ক্লাবটিতে ফেরেন ভেগা। জুনিয়র্সের একাদশে ধীরে ধীরে নিয়মিত হন। ক্লাবটির হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৬৩ ম্যাচে ১ গোলের সঙ্গে ৩টি গোল করিয়েছেন।২০২৫ সালের জুলাইয়ে ভেগাকে ৯০ লাখ ডলারে কেনে জেনিত সেন্ট পিটার্সবার্গ।ভেগা ডাক পেয়েছেন আর্জেন্টিনার বয়সভিত্তিক দলেও। অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে ৫ ম্যাচ ও অনূর্ধ্ব-২৩ দলের হয়ে ২ ম্যাচ খেলার পথে তাঁকে দেখা গেছে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপেও।২০২৫ সালের জুলাইয়ে ভেগাকে ৯০ লাখ ডলারে কেনে জেনিত সেন্ট পিটার্সবার্গ। চুক্তি হয় পাঁচ বছরের। শুরুতে ক্লাবটির মূল দলে নিয়মিত তাঁকে দেখা না গেলেও এখন নিয়মিতই খেলছেন। গত মৌসুমে রাশিয়ান সুপার লিগ জয়ের পথে খেলেন ১৪ ম্যাচ, সব মিলিয়ে মৌসুমে ২৩ ম্যাচ। এ বছর জিতেছেন রাশিয়ান সুপার কাপও। সব মিলিয়ে রাশিয়ান ক্লাবটির হয়ে এ পর্যন্ত ৩৪ ম্যাচ খেলেছেন ভেগা।মজার ব্যাপার, ভেগা জেনিতে যোগ দেওয়ার ছয় মাস পরই তাঁকে কিনতে উঠেপড়ে লেগেছিলেন আর্জেন্টিনার ক্লাব রিভার প্লেটের তৎকালীন কোচ মার্সেলো গ্যালার্দো। কিন্তু সেই দর–কষাকষি আর আলোর মুখ দেখেনি।ক্লাব ফুটবলে ভালো খেলাটা ধরে রাখলে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের লেফট ব্যাক পজিশনে ভেগাকে নিয়মিত দেখা যাবে বলে ধারণা দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলোর। সন্দেহ নেই ভেগা সেই চেষ্টাই করবেন। অন্তত জাতীয় দলে প্রথম ডাক পাওয়ার পর তাঁর ইনস্টাগ্রাম স্টোরি দেখে সেটাই মনে হয়, ‘যেটার স্বপ্ন দেখেছি।’ভেগা খেলেছেন অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপেও।ভেগার স্বপ্ন তো পূরণ হলো। এখন আর্জেন্টাইনদের স্বপ্নপূরণের পালা। পারবেন তো? এবারের আন্তর্জাতিক বিরতিতে তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। ৩০ সেপ্টেম্বর কর্দোবায় প্রথম ম্যাচটি বলিভিয়ার বিপক্ষে। ৩ অক্টোবর বুয়েনস এইরেসে স্কালোনির দলের প্রতিপক্ষ বুরকিনা ফাসো। এরপর বেনিনের বিপক্ষে ৬ অক্টোবর শেষ প্রীতি ম্যাচ। স্কালোনির নজর কাড়তে ভেগাকে যা করার এসব ম্যাচেই করতে হবে।

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
কলার ছড়ির ভেতর লুকিয়ে ছিল ফণিমনসা সাপ

কলার ছড়ির ভেতর লুকিয়ে ছিল ফণিমনসা সাপ

গুম হওয়া ছাত্রদল নেতা আলামিনের মায়ের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী

গুম হওয়া ছাত্রদল নেতা আলামিনের মায়ের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী

রেস্তোরাঁর টয়লেটে কিশোরীকে ধর্ষণ করেন ট্রান্সজেন্ডার পুলিশ সদস্য

রেস্তোরাঁর টয়লেটে কিশোরীকে ধর্ষণ করেন ট্রান্সজেন্ডার পুলিশ সদস্য

পৃথিবীর অদৃশ্য ঢাল রক্ষার যে গল্প
পৃথিবীর অদৃশ্য ঢাল রক্ষার যে গল্প

সূর্যের আলো ছাড়া পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না। কিন্তু সেই সূর্যই এমন কিছু অদৃশ্য রশ্মি ছড়িয়ে দেয়, যা অতিরিক্ত মাত্রায় পৃথিবীর প্রাণী, উদ্ভিদ ও পরিবেশের জন্য ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে। এই বিপজ্জনক অতিবেগুনি রশ্মির বড় অংশকে আটকে দিয়ে পৃথিবীকে সুরক্ষা দেয় বায়ুমণ্ডলের একটি পাতলা স্তর। সেটিই ওজোন স্তর। অথচ একসময় মানুষের তৈরি রাসায়নিকের কারণে সেই সুরক্ষাকবচই ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়েছিল। সেই সংকট থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পই আন্তর্জাতিক ওজোন দিবসের সবচেয়ে বড় তাৎপর্য। প্রতি বছর ১৬ সেপ্টেম্বর বিশ্বজুড়ে পালিত হয় আন্তর্জাতিক ওজোন স্তর সংরক্ষণ দিবস। জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক নাম ‘ইন্টারন্যাশনাল ডে ফর দ্য প্রিজারভেশন অব দ্য ওজোন লেয়ার’। দিনটি শুধু একটি পরিবেশ দিবস নয়, বরং বৈশ্বিক পরিবেশ রক্ষায় মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মারক। কারণ ওজোন স্তরের সংকট দেখিয়েছে, মানুষের কর্মকাণ্ড যেমন পৃথিবীর পরিবেশকে বিপদের মুখে ফেলতে পারে, তেমনি বিজ্ঞানভিত্তিক সিদ্ধান্ত ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে সেই ক্ষতি অনেকাংশে কাটিয়েও ওঠা সম্ভব। পৃথিবীকে ঘিরে থাকা বায়ুমণ্ডলের একটি উচ্চস্তর হলো স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার। এই স্তরের মধ্যে ভূপৃষ্ঠ থেকে অনেক ওপরে রয়েছে ওজোনের ঘনত্বপূর্ণ অঞ্চল। ওজোন মূলত তিনটি অক্সিজেন পরমাণুর সমন্বয়ে গঠিত একটি গ্যাস। ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি ওজোন বায়ুদূষণের জন্য ক্ষতিকর হলেও স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের ওজোনের ভূমিকা সম্পূর্ণ ভিন্ন। এটি অনেকটা পৃথিবীর জন্য বিশাল এক সানগ্লাসের মতো কাজ করে। সূর্যের আলো ও তাপ যেমন পৃথিবীতে প্রাণের জন্য প্রয়োজনীয়, তেমনি সূর্য থেকে আসা ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মির প্রায় সবটাই ওজোন স্তর শোষণ করে নেয়। আরও পড়ুন ফুটপাতে হলুদ টাইলস বসানোর রহস্য জানেন? এই সুরক্ষা না থাকলে অতিবেগুনি রশ্মি সরাসরি পৃথিবীর পৃষ্ঠে পৌঁছাত। মানুষের শরীরে অতিরিক্ত অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে। ত্বকে তীব্র রোদে পোড়া, চোখে ছানি এবং ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। একই সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও দুর্বল হয়ে যেতে পারে। শুধু মানুষ নয়, অতিরিক্ত অতিবেগুনি বিকিরণ প্রাণিজগতের জন্যও ক্ষতিকর। উদ্ভিদও এর বাইরে নয়। অতিরিক্ত অতিবেগুনি রশ্মি উদ্ভিদের পাতার ক্ষতি করতে পারে, ব্যাহত করতে পারে সালোকসংশ্লেষণ। এর ফলে কৃষি উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। সমুদ্রের ক্ষুদ্র ভাসমান জীব ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটনও অতিরিক্ত অতিবেগুনি রশ্মির প্রতি সংবেদনশীল। অথচ এই অণুজীবগুলো সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খলের ভিত্তি এবং পৃথিবীর অক্সিজেন উৎপাদনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে ওজোন স্তরের ক্ষতি শুধু আকাশের ওপরের কোনো বৈজ্ঞানিক সমস্যা নয়, এর সঙ্গে পৃথিবীর প্রায় সব জীবনের নিরাপত্তাই জড়িত। বিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শিল্প ও প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের সঙ্গে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। খাদ্য সংরক্ষণ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ, স্প্রে ক্যান ও শিল্পকারখানায় ব্যবহারের জন্য তৈরি হয় বিভিন্ন কৃত্রিম রাসায়নিক। এর মধ্যে ক্লোরোফ্লুরোকার্বন বা সিএফসি ছিল অন্যতম। সে সময় এসব রাসায়নিককে প্রায় আদর্শ উপাদান হিসেবে দেখা হতো। এগুলো তুলনামূলক সস্তা, সহজে আগুন ধরে না এবং ব্যবহারের ক্ষেত্রে কার্যকর ছিল। ফলে ফ্রিজ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, অ্যারোসল স্প্রে ও শিল্পে ব্যবহৃত ফোমসহ নানা পণ্যে সিএফসি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতে থাকে। কিন্তু ১৯৭০-এর দশকে বিজ্ঞানীরা এসব রাসায়নিকের বায়ুমণ্ডলে দীর্ঘমেয়াদি আচরণ নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে ভয়াবহ তথ্য পান। সিএফসি নিচের বায়ুমণ্ডলে সহজে ভেঙে যায় না। দীর্ঘ সময় ধরে এগুলো ধীরে ধীরে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে পৌঁছায়। সেখানে সূর্যের তীব্র বিকিরণে সিএফসি ভেঙে গিয়ে ক্লোরিন পরমাণু মুক্ত করে। এই ক্লোরিন ওজোন অণুর সঙ্গে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটিয়ে সেগুলো ধ্বংস করতে পারে। একটি ক্লোরিন পরমাণু পরপর বিপুলসংখ্যক ওজোন অণু ধ্বংস করতে সক্ষম হওয়ায় সমস্যাটি দ্রুত গুরুতর হয়ে ওঠে। ১৯৮০-এর দশকের শুরুতে অ্যান্টার্কটিকার ওপরের বায়ুমণ্ডলে ওজোন স্তরের অস্বাভাবিক ক্ষয় ধরা পড়ে। বছরের নির্দিষ্ট সময়ে সেখানে ওজোনের ঘনত্ব এতটাই কমে যায় যে তৈরি হয় বিশাল ‘ওজোন গহ্বর’। এই ঘটনা বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানী, নীতিনির্ধারক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করে। পরিষ্কার হয়ে যায়, শিল্পোন্নয়নের আড়ালে মানুষের ব্যবহৃত কিছু রাসায়নিক পৃথিবীর প্রাকৃতিক সুরক্ষাব্যবস্থাকেই দুর্বল করে দিচ্ছে। আরও পড়ুন বিবেকের চোখে গণতন্ত্র ও নৈতিকতা এরপরই শুরু হয় নজিরবিহীন আন্তর্জাতিক উদ্যোগ। ১৯৮৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর কানাডার মন্ট্রিয়েলে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা স্বাক্ষর করেন ‘মন্ট্রিয়েল প্রোটোকল অন সাবস্ট্যান্সেস দ্যাট ডিপ্লিট দ্য ওজোন লেয়ার’ নামে ঐতিহাসিক চুক্তিতে। এর মাধ্যমে ওজোন স্তর ধ্বংসকারী রাসায়নিকের উৎপাদন ও ব্যবহার ধীরে ধীরে বন্ধ করার জন্য দেশগুলো প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়। উন্নত দেশগুলো উন্নয়নশীল দেশগুলোকে নিরাপদ বিকল্প প্রযুক্তি ও উপাদানে যাওয়ার ক্ষেত্রেও সহায়তা করার অঙ্গীকার করে। মন্ট্রিয়েল প্রোটোকলের সাফল্য আন্তর্জাতিক পরিবেশ কূটনীতির একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হয়ে ওঠে। বিশ্বের প্রায় সব দেশ এতে যুক্ত হয় এবং ওজোন স্তর ধ্বংসকারী সিএফসি ব্যবহারের অবসানে কাজ করে। এর ফলে ওজোন স্তরের ক্ষয় থামানো সম্ভব হয়। বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণেও এখন দেখা যাচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত ওজোন স্তর ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের পথে রয়েছে। বর্তমান আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারগুলো অব্যাহত থাকলে চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি নাগাদ ওজোন স্তর আগের সুস্থ অবস্থায় ফিরে আসতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের প্রত্যাশা। তবে একটি পরিবেশগত সমস্যা নিয়ন্ত্রণে এলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। সিএফসির বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হাইড্রোফ্লুরোকার্বন বা এইচএফসি ওজোন স্তরকে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত না করলেও পরে নতুন উদ্বেগ তৈরি করে। এসব গ্যাস শক্তিশালী গ্রিনহাউস গ্যাস হিসেবে বায়ুমণ্ডলে তাপ আটকে রাখে এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়নে ভূমিকা রাখে। ফলে পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে একটি সমস্যা সমাধান করতে গিয়ে যেন নতুন সংকট তৈরি না হয়, সে বিষয়টিও সামনে আসে। এই পরিস্থিতিতে ২০১৬ সালে রুয়ান্ডার রাজধানী কিগালিতে বিশ্বনেতারা মন্ট্রিয়েল প্রোটোকলে নতুন সংশোধনী গ্রহণ করেন, যা ‘কিগালি সংশোধনী’ নামে পরিচিত। এর লক্ষ্য ছিল এইচএফসির ব্যবহারও ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা এবং এমন শীতলীকরণ প্রযুক্তির দিকে এগিয়ে যাওয়া, যা একই সঙ্গে ওজোন স্তর রক্ষা ও বৈশ্বিক উষ্ণায়ন মোকাবিলায় সহায়ক। প্রতি বছর ওজোন দিবসের নানা কর্মসূচিতে তাই শুধু ওজোন স্তরের বিজ্ঞান নয়, পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই শীতলীকরণ প্রযুক্তি, বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়গুলোও গুরুত্ব পায়। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানে আয়োজন করা হয় আলোচনা, বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকল্প ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি। নতুন প্রজন্মের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়াই এসব আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। ব্যক্তিগত পর্যায়েও কিছু দায়িত্ব রয়েছে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহার, পুরোনো ফ্রিজ ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র দক্ষ কারিগরের মাধ্যমে রক্ষণাবেক্ষণ করা এবং এসব যন্ত্র পরিত্যাগের সময় পরিবেশসম্মত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি। হাঁটা, সাইকেল চালানো বা গণপরিবহন ব্যবহারের মতো অভ্যাসও সামগ্রিক বায়ুদূষণ কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব শীতলীকরণ প্রযুক্তি ও নীতিকে সমর্থন করাও গুরুত্বপূর্ণ। আরও পড়ুন সমকামিতা সম্পর্কে দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা কী বলছে, এর শাস্তি কী? আন্তর্জাতিক ওজোন দিবস তাই কেবল ক্যালেন্ডারের একটি পরিবেশ দিবস নয়। এটি মানুষের তৈরি একটি বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় মানুষেরই সম্মিলিত সাফল্যের গল্প। বিজ্ঞানীদের সতর্কবার্তা গুরুত্ব দিয়ে শোনা, দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা তৈরি করা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা গেলে পৃথিবীর বড় পরিবেশগত সংকটও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, ওজোন স্তরের ইতিহাস তারই প্রমাণ। ১৬ সেপ্টেম্বর তাই শুধু ওজোনকে স্মরণ করার দিন নয়, পৃথিবীর অদৃশ্য এই সুরক্ষাকবচকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ রাখার অঙ্গীকার নতুন করে মনে করিয়ে দেওয়ার দিন। কেএসকে

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
জিপিএ-৫ বা ভালো ফলাফল জীবনের সাফল্যের একমাত্র মাপকাঠি নয়

জিপিএ-৫ বা ভালো ফলাফল জীবনের সাফল্যের একমাত্র মাপকাঠি নয়

দুবাইয়ের ভাইরাল ‘কিশতা’ ডেজার্ট বানাবেন যেভাবে

দুবাইয়ের ভাইরাল ‘কিশতা’ ডেজার্ট বানাবেন যেভাবে

পরিদর্শনে এসে প্রতিমন্ত্রীর রুদ্ধদ্বার বৈঠক, নতুন করে তদন্ত কমিটি

পরিদর্শনে এসে প্রতিমন্ত্রীর রুদ্ধদ্বার বৈঠক, নতুন করে তদন্ত কমিটি

0 Comments