জাতীয়

তিশা কখনো বোল্ড লুকে, কখনো বাঙালি সাজে

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
তিশা কখনো বোল্ড লুকে, কখনো বাঙালি সাজে
তিশা কখনো বোল্ড লুকে, কখনো বাঙালি সাজে

অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা দেশের ছোটপর্দা ও বড়পর্দার পরিচিত মুখ। একসময় তার জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে। অভিনয়ের পাশাপাশি ফ্যাশন ও স্টাইলিংয়েও বরাবরই নিজের আলাদা একটি স্বাক্ষর রেখেছেন এই অভিনেত্রী। ইদানীং পর্দায় তুলনামূলক কম দেখা গেলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার উপস্থিতি যে ভক্তদের নজর এড়ায় না, তারই প্রমাণ মিলল সাম্প্রতিক কিছু লুকে। কখনো সাহসী গ্ল্যামার, আবার কখনো চিরচেনা বাঙালি সাজ-দুই ভিন্ন অবতারে যেন দুই রকম তিশাকে দেখা গেল।

ছবি: ফেসবুক থেকে

সাম্প্রতিক গ্ল্যাম লুকে তিশাকে দেখা গেছে বেশ বোল্ড ও আত্মবিশ্বাসী অবতারে। পরনে ছিল ধূসর রঙের স্লিভলেস ফ্লেয়ার টপ। টপটির কাট ও ফ্লেয়ার তার লুককে দিয়েছে আধুনিক এবং স্টাইলিশ আবহ। খুব বেশি আনুষঙ্গিক যোগ না করেও পোশাকটির মধ্যেই তৈরি হয়েছে নজরকাড়া ফ্যাশন স্টেটমেন্ট।

ছবি: ফেসবুক থেকে

এই সাজে সবচেয়ে বেশি চোখে পড়েছে তার লম্বা ঝুলের সাদা পাথরের দুল। ধূসর পোশাকের সঙ্গে সাদা দুলের কনট্রাস্ট পুরো লুকটিকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে। শুধু পোশাক বা গয়নাতেই থেমে থাকেননি তিশা। তার বডি ল্যাঙ্গুয়েজ ও মুখের অভিব্যক্তিতেও ছিল আত্মবিশ্বাসী বোল্ডনেস। ফলে সাধারণ একটি স্লিভলেস টপও তার স্টাইলিংয়ে হয়ে উঠেছে বেশ গ্ল্যামারাস।

ছবি: ফেসবুক থেকে

এই লুকের আরেকটি আকর্ষণ ছিল তিশার চুল। মেসি ওয়েট হেয়ার স্টাইল তার পুরো সাজে যোগ করেছে কিছুটা এজ ও আধুনিকতার ছোঁয়া। ভেজা-ভেজা টেক্সচারের চুলের সঙ্গে মিনিমাল মেকআপ এবং ম্যাট লিপস। ম্যাট ফিনিশের ঠোঁট এবং স্বাভাবিক ত্বকের টোনকে প্রাধান্য দিয়ে সাজটি রাখা হয়েছে পরিমিত। ফলে তার মুখের স্বাভাবিক সৌন্দর্যই বেশি ফুটে উঠেছে।

 ছবি: ফেসবুক থেকে

তবে গ্ল্যামারাস ধূসর লুকের পাশাপাশি তিশার আরেকটি সাজ যেন একেবারেই অন্য গল্প বলছে। এখানে তাকে দেখা গেছে গাঢ় লাল রঙের সুতি বা খাদি টেক্সচারের শাড়িতে। শাড়িটির পাড়ে রয়েছে হালকা রুপালি বা অফ-হোয়াইট রঙের সূক্ষ্ম স্ট্রাইপ, যা সাদামাটা শাড়িটিকেও দিয়েছে মার্জিত একটি আবহ।

ছবি: ফেসবুক থেকে

শাড়ির সঙ্গে ছিল একই কাপড়ের হাফহাতা লাল ব্লাউজ। ব্লাউজের হাতার মোড়াতেও শাড়ির পাড়ের সঙ্গে মিল রেখে সূক্ষ্ম বর্ডার রাখা হয়েছে। পুরো পোশাকেই তাই ফুটে উঠেছে পরিমিত বাঙালি সৌন্দর্য।

 ছবি: ফেসবুক থেকে

লাল শাড়ির সঙ্গে তিশার গয়নাতেও ছিল পুরোপুরি বাঙালি আমেজ। কানে পরেছিলেন সোনালি রঙের ঝোলানো দুল, যার নকশায় ছিল ফিলিগ্রি বা খাঁজকাটা কাজের ছোঁয়া। দুই হাতেও ছিল চুড়ি ও বালা। এক হাতে গাঢ় লাল রেশমি চুড়ির সঙ্গে সোনালি মেটালের বালা, অন্য হাতে ঐতিহ্যবাহী চওড়া কঙ্কণ মিলিয়ে সাজটি হয়ে উঠেছে আরও পরিপূর্ণ।

ছবি: ফেসবুক থেকে

চুলে ছিল একেবারে ক্লাসিক সাজ। মাঝখানে সিঁথি করে চুল পেছনে টেনে সাধারণ খোঁপা করেছেন তিশা। আবার কখনো খোলা চুলে নিজেকে করেছেন আকর্ষণীয়। কপালে ছোট লাল টিপ, ন্যাচারাল বেস মেকআপ এবং হালকা নুড লিপস্টিকে তিশাকে মনে হয়েছে একেবারে চিরচেনা বাঙালি নারী। চোখের সাজও ছিল খুবই হালকা।

ছবি: ফেসবুক থেকে

একদিকে ধূসর স্লিভলেস টপে আধুনিক, সাহসী তিশা, অন্যদিকে লাল শাড়িতে ঐতিহ্যবাহী বাঙালি সৌন্দর্য-দুই লুকেই আলাদা করে নজর কাড়লেন অভিনেত্রী।

এসএকেওয়াই

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
লংমার্চ না করে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বান রাশেদ খাঁনের
লংমার্চ না করে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বান রাশেদ খাঁনের

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় লংমার্চ না করে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিশেষ সহকারী রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, লংমার্চের মাধ্যমে জ্বালানি সংকট আরও ঘনীভূত না করে সরকারকে সহযোগিতা করা উচিত। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। রাশেদ খাঁন বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার বারবার আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে। সংকট সমাধানে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া উচিত। ১৯ সেপ্টেম্বর আবারও লংমার্চের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে রাশেদ খাঁন বলেন, ওই কর্মসূচির পরিবর্তে সরকারি দলের সঙ্গে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দেওয়া যেতে পারে। তিনি বলেন, ‘আপনারা ১৯ সেপ্টেম্বর আবারও লংমার্চ করবেন। আমি অনুরোধ করতে চাই, প্রয়োজনে সরকারি দল যেহেতু বিএনপি, তাদের কাছে আপনারা আলোচনার প্রস্তাব রাখুন।’ রাশেদ খাঁন আরও বলেন, লংমার্চের মাধ্যমে জ্বালানি সংকটকে আরও ঘনীভূত না করে সরকারকে সহযোগিতা করা প্রয়োজন। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বিরোধী দলগুলোর কাছে তাদের প্রস্তাব জনগণ ও সরকারের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়েছে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিরোধী দলের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব এসেছে কি না, তা তার জানা নেই, বলেও উল্লেখ করেন রাশেদ খাঁন। জুলাই জাতীয় সনদ প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন রাশেদ খাঁন। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভিন্নমত থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ থাকা উচিত। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থান ও জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে যতটুকু ভিন্নমত ছিল, সেটিকে পুঁজি করে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রাখলে রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণের প্রক্রিয়া কতটা এগোবে, সেটি প্রশ্নের বিষয়। রাশেদ খাঁন দাবি করেন, স্বাক্ষরিত জুলাই জাতীয় সনদের পুরোটা বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে। এরপরও এ নিয়ে বিতর্ক ও মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা অনাকাঙ্ক্ষিত। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও প্রশাসনে দলীয়করণ নিয়ে রাশেদ বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের ১৬ বছরের অব্যবস্থাপনা, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাস এবং ফখরুদ্দীন আহমদ ও মইন উদ্দিনের সরকারের দুই বছর- সব মিলিয়ে দীর্ঘ সময়ের সমস্যা ও সংকট বর্তমান সরকারকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে। টিটি/এমএএইচ/

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
আর্জেন্টিনা দলে প্রথম ডাক পাওয়া কে এই রোমান ভেগা

আর্জেন্টিনা দলে প্রথম ডাক পাওয়া কে এই রোমান ভেগা

কলার ছড়ির ভেতর লুকিয়ে ছিল ফণিমনসা সাপ

কলার ছড়ির ভেতর লুকিয়ে ছিল ফণিমনসা সাপ

গুম হওয়া ছাত্রদল নেতা আলামিনের মায়ের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী

গুম হওয়া ছাত্রদল নেতা আলামিনের মায়ের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী

রেস্তোরাঁর টয়লেটে কিশোরীকে ধর্ষণ করেন ট্রান্সজেন্ডার পুলিশ সদস্য
রেস্তোরাঁর টয়লেটে কিশোরীকে ধর্ষণ করেন ট্রান্সজেন্ডার পুলিশ সদস্য

জার্মানিতে এক রেস্তোরাঁয় এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক ট্রান্সজেন্ডার নারী পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ট্রনস্টেইন আঞ্চলিক আদালতে এ বিষয়ে মামলার শুনানিতে নিজের দোষও স্বীকার করেছেন ওই পুলিশ সদস্য। জজ আন্দ্রেয়া বার্টশমিড জানিয়েছেন, মাজা এস নামের ৫৫ বছর বয়সী ওই ট্রান্সজেন্ডার নারী পুলিশ সদস্যের সাড়ে তিন বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। খবর ডেইলি মেইলের। গ্রেফতারের পর জার্মানির বাভারিয়া প্রদেশের ব্যামবার্গ কারাগারে ওই পুলিশ সদস্যকে নারী কয়েদিদের সঙ্গে রাখা হয়। তবে, গত পাঁচ মাস ধরে তাকে স্ট্যাডহেইম কারাগারে পুরুষ বন্দিদের সঙ্গেই রাখা হচ্ছে। জার্মান ট্যাবলয়েড বিল্ডকে অভিযুক্তের আইনজীবী বলেন, পুরুষদের সঙ্গে রাখাটা প্রতিদিনকার জীবনে তার (অভিযুক্ত) কাছে বোঝার মতো। শারীরিক অনুশীলনের সময় তাকে উদ্দেশ্য করে শিষ বাজানো হয়। তার শারীরিক পরীক্ষাগুলোও পুরুষ অফিসাররাই করছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ওই ট্রান্সজেন্ডার পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে শিশু ও প্রাণি পর্নোগ্রাফির ২ হাজারেরও বেশি ফাইল পাওয়া গেছে। তার কাছ থেকে একটি কালাশনিকভ বন্দুকও জব্দ করা হয়েছে। জানা যায়, ২০২৪ সাল থেকে তার অপরাধের শুরু। তিনি ওই বছর তিন বছর বয়সী শিশুদের যৌন নির্যাতনের মতো পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট ইন্টারনেটে আপলোড করেছিলেন। এ ঘটনার পর তার বাসায় ও কর্মক্ষেত্রে পুলিশ অভিযান চালায়। পরবর্তীতে মাজা এসকে পুলিশ থেকে বরখাস্ত করা হয় এবং ১৯ হাজার ইউরো জরিমানা করা হয়। যখন তার বিরুদ্ধে পূর্ববর্তী ওই অপরাধের তদন্ত চলছিল তখন তিনি তার পরিচিত এক ব্যক্তির ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে মোটরসাইকেলে করে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার জন্য ডাকেন। পরে তাকে ম্যাকডোনাল্ডস রেস্তোরাঁর টয়লেটে নিয়ে ধর্ষণ করেন। ২০২৫ সালের আগস্টের এ ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে যখন তার বাগদত্তা স্টেফানি মাজার মোবাইল ফোনে যৌন উত্তেজক কথোপকথন দেখতে পান। তিনি বলেন, আমি প্রচণ্ড বিচলিত ও হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম এবং শিশুটিকে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে সব ঠিক আছে কি না। তিনি আরও বলেন, পরে ওই কিশোরী আমাকে জানায়, মাজা তাকে টয়লেটে নিয়ে যায় এবং তার মুখ থেকে শুরু করে সারা শরীরে চুমু খায়। পরে স্টেফানি নিজেই ওই কিশোরীর হয়ে পুলিশের কাছে গিয়ে অভিযোগ জানান। আরও জানা যায়, মাজা ওই কিশোরীকে আরও একবার এক সুইমিং পুলে ঘুরে আসার পর নির্যাতন করেন। এএমএ

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
পৃথিবীর অদৃশ্য ঢাল রক্ষার যে গল্প

পৃথিবীর অদৃশ্য ঢাল রক্ষার যে গল্প

জিপিএ-৫ বা ভালো ফলাফল জীবনের সাফল্যের একমাত্র মাপকাঠি নয়

জিপিএ-৫ বা ভালো ফলাফল জীবনের সাফল্যের একমাত্র মাপকাঠি নয়

দুবাইয়ের ভাইরাল ‘কিশতা’ ডেজার্ট বানাবেন যেভাবে

দুবাইয়ের ভাইরাল ‘কিশতা’ ডেজার্ট বানাবেন যেভাবে

পরিদর্শনে এসে প্রতিমন্ত্রীর রুদ্ধদ্বার বৈঠক, নতুন করে তদন্ত কমিটি
পরিদর্শনে এসে প্রতিমন্ত্রীর রুদ্ধদ্বার বৈঠক, নতুন করে তদন্ত কমিটি

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ড ও হতাহতের ঘটনার পর হাসপাতাল পরিদর্শনে এসে প্রায় ৭০ মিনিট রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি এম ইকবাল হোসেইন। তবে বৈঠক শেষে তিনি অগ্নিকাণ্ডের স্থান পরিদর্শন করেননি। আহত রোগী বা তাদের স্বজনদের সঙ্গেও কথা বলেননি। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা ১০ মিনিটে প্রতিমন্ত্রীর গাড়িবহর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছায়। এর আগে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর থেকে জারি করা সফরসূচিতে সকাল পৌনে ১০টায় হাসপাতালে উপস্থিতি ও পরিদর্শনের কথা উল্লেখ ছিল। হাসপাতালের উপপরিচালক জাকিউল ইসলামসহ চিকিৎসক নেতারা প্রতিমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে প্রশাসনিক ভবনে পরিচালকের কক্ষে নিয়ে যান। তবে অসুস্থতার কারণে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাকির হোসেন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না। আরও পড়ুন মমেক হাসপাতালে আগুন: হাজেরা বেগমের মৃত্যু হলো কীভাবে? বৈঠকে ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সহসভাপতি আবু ওয়াহাব আকন্দ, হাসপাতাল প্রশাসনের কর্মকর্তা ও চিকিৎসক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। দুপুর ১২টা ২২ মিনিটে রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষ হয়। পরে প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে কীভাবে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা আরও ভালো করা যায়, তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ড ও হতাহতের বিষয়ে সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রীর পক্ষে উত্তর দেন সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ। তিনি বলেন, পদদলিত হয়ে কেউ মারা যাননি। আগুনের আতংকে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা হয়েছে বলেও জানান তিনি। আবু ওয়াহাব আকন্দ বলেন, ‘পাড়া লেগে (পদদলিত হয়ে) কেউ মারা যায়নি। তারা আগুন-আতংকে সেন্সলেস হয়ে গিয়েছিল। যারা মারা গেছে তাদের অভিভাবকের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। আমরা ওই দিন ক্লিয়ার করে দিয়েছি। যে নিউজটা আসছে ছয়জন মারা গেছে, এর মধ্যে এখনো একজন চিকিৎসাধীন।’ একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘ছয়জনের মৃত্যুর খবর আমরা মিথ্যা প্রমাণিত করেছি। যারা মারা গেছে, তাদের দুজনের স্বাভাবিক মৃত্যু। অন্য দুজন মারা গেছে আগুন-আতংকে। নো পদদলিত মৃত্যু। পদদলিতও না, অগ্নিদগ্ধও না।’ পদদলিত হয়ে কয়েকজনের মৃত্যুর দাবি করে পরিবারের সদস্যদের বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কমিটি হয়েছে। তারা তদন্ত করার পর যেটা বের হবে, তখন প্রশ্ন করলে উত্তর দিতে পারব। দোয়া করেন যেন সবকিছু ভালো থাকে।’ হাসপাতালে রোগীর চাপ ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি নষ্ট থাকার বিষয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, হাসপাতালে বর্তমানে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় চারগুণ রোগীর চাপ রয়েছে। একই সঙ্গে নষ্ট মেশিনসহ বিভিন্ন সমস্যার সমাধান একদিনে সম্ভব নয়। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এটার সলিউশন একদিনে হবে না। আমরা ট্রাই করছি, ফিউচারে কী হবে, এগুলো নিয়ে কথাবার্তা বলেছি। এরপর একটি বড় সভা করা হবে। ইঞ্জিনিয়ারদের বলেছি, এটা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য কী কী প্ল্যান করা দরকার, তারা করুক। তখন বলতে পারবো। এখন আমি নিজেই জানি না, বলবো কীভাবে?’ প্রতিমন্ত্রীর সফর প্রসঙ্গে হাসপাতালের উপপরিচালক জাকিউল ইসলাম বলেন, তিনি বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। হাসপাতালের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আগের তদন্ত কমিটি বাতিল করে নতুন ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আগের কমিটিতে লিফট ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত অধিদপ্তরের দুই প্রকৌশলীকে সদস্য করা হয়েছিল। এ নিয়ে সমালোচনার পর বুধবার নতুন কমিটি গঠন করা হয়। নতুন তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক গোলাম রহমান ভূঁইয়াকে। হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খানকে করা হয়েছে সদস্যসচিব। কমিটিতে আরও দুই চিকিৎসক, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (দক্ষিণ) এবং ফায়ার সার্ভিসের একজন সহকারী পরিচালককে সদস্য করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। আরও পড়ুন ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুন / হুড়োহুড়ি করে সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়েই ৪ জনের মৃত্যু, দাবি স্বজনদের এর আগে মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালের উপপরিচালক জাকিউল ইসলাম সই করা আদেশে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটিকেও তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল। আগের কমিটিতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ময়মনসিংহের নির্বাহী প্রকৌশলী অর্ণব বিশ্বাসকে দ্বিতীয় সদস্য এবং উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মাজেদুর রহমানকে তৃতীয় সদস্য করা হয়েছিল। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটের দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আটতলা ভবনের ১১ নম্বর লিফটে আগুন লাগে। এতে লিফটের বাইরের আবরণ পুড়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুন লাগার পর হাসপাতালের বিভিন্ন তলা থেকে রোগী ও স্বজনরা আতংকে হুড়োহুড়ি করে নিচে নামার চেষ্টা করেন। এসময় অনেকে আহত হন। ঘটনাটিতে কয়েকজনের মৃত্যুর তথ্য সামনে এলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে পদদলিত হয়ে মৃত্যুর বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে বের করার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। হোসাইন সুলভ/এসআর/এএসএম

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
নগ্ন বিজ্ঞাপন নিয়ে বিতর্ক, দুই লাখের বেশি ফলোয়ার হারালেন সিডনি সুইনি

নগ্ন বিজ্ঞাপন নিয়ে বিতর্ক, দুই লাখের বেশি ফলোয়ার হারালেন সিডনি সুইনি

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অডিট আপত্তি শূন্যে নামিয়ে আনার নির্দেশ ইউজিসির

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অডিট আপত্তি শূন্যে নামিয়ে আনার নির্দেশ ইউজিসির

বেপরোয়া মোটরসাইকেলের ধাক্কায় বৃদ্ধ নিহত, তিন কিশোর আটক

বেপরোয়া মোটরসাইকেলের ধাক্কায় বৃদ্ধ নিহত, তিন কিশোর আটক

0 Comments