এ বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট করেছিল বাংলাদেশ। পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় নিরাপত্তার কারণে বিশ্বকাপে খেলতে ভারতে দল পাঠায়নি বাংলাদেশের তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের দাবি করেছিল। সেই দাবিতে আইসিসি সাড়া না দেওয়ায় বাংলাদেশও যায়নি বিশ্বকাপ খেলতে।
বিশ্বকাপে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের। সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল একাধিকবারই তা বলেছেন। একই কথা বলেছেন ওই সময় বিসিবি সভাপতির দায়িত্বে থাকা আমিনুল ইসলামও।
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার কারণ উদ্ঘাটনে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত প্রতিবেদন আজ প্রকাশ করা হয়েছে।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন কমিটির প্রধান যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. এ কে এম ওয়ালী উল্লাহ। কমিটির অপর দুই সদস্য বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবির বর্তমান প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর।

কিন্তু বাংলাদেশের বিশ্বকাপ বয়কট করার দায় কার—২২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে এ নিয়ে সুষ্পষ্ট কোনো বক্তব্য নেই। তবে সরকারের কার সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপ খেলতে যায়নি—সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলা হয়েছে, সিদ্ধান্তটা ছিল অধ্যাপক আসিফ নজরুলের (অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা)।
প্রতিবেদনের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা, তদন্ত কমিটি এত বড় একটি ঘটনার তদন্ত করেছে, অথচ সেখানে সংশ্লিষ্ট তিন গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ—অধ্যাপক আসিফ নজরুল, বিসিবির সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম ও আইসিসির সঙ্গে তারা কথা বলতে পারেনি। আসিফ নজরুলের বিভিন্ন সাক্ষাৎকার আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।
তদন্তের মূল ভিত্তি ছিল একটি চিঠি, যেটি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে বিসিবির কাছে পাঠানো হয়েছিল। যেখানে নির্দেশনা ছিল, নিরাপত্তার কারণে বাংলাদেশ ভারতে টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যাবে না।
প্রতিবেদনে ক্রীড়া সাংবাদিক, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সিনিয়র সহকারী কোচ সালাহউদ্দিন, বাংলাদেশ টেস্ট দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন, টি–টুয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাস, বিসিবির সভাপতি তামিম ইকবালের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।

কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমিনুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে কথা বলতে পারিনি।’ এক প্রশ্নে তিনি বলেন, সরকারের সিদ্ধান্তেই বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপে যেতে পারেনি। ‘মোস্তাফিজুর রহমানের বিষয়টা ছিল ঘরোয়া টুর্নামেন্ট ঘিরে। সেটা আন্তর্জাতিক ইস্যু হওয়া উচিত ছিল না’—বলেছেন তিনি।
প্রতিবেদনে ১৯ নম্বর পাতায় বলা হয়েছে, সিদ্ধান্ত একজন ব্যক্তির নেওয়া উচিত নয়। এই একজন ব্যক্তি কে? লিখিত প্রতিবেদনে এর উল্লেখ না থাকলেও সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার ফয়সাল বলেন, ‘এই একজন’ বলতে তাঁরা তখনকার ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলকেই বুঝিয়েছেন। কার কারণে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলেনি—এমন প্রশ্নে ওয়ালী উল্লাহ বলেন, ‘এটা সরকারের সিদ্ধান্ত ছিল। এর বাইরে আর কী বলব!’
প্রতিবেদনে তদন্ত কমিটি মূলত টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে দল না পাঠানোর ঘটনা প্রবাহই তুলে ধরেছে; সঙ্গে কিছু সুপারিশও দিয়েছে। কমিটির বক্তব্য, দোষী কে—সেটা খোঁজার জন্য তারা তদন্ত করেনি। কমিটির সদস্য ওয়ালী উল্লাহ একপর্যায়ে বলেন, ‘যেহেতু সরকার সিদ্ধান্ত দিয়েছে, সরকারকে দোষারোপ করি কীভাবে!’
তবে নিজেদের মতামত দিতে গিয়ে ব্যারিস্টার ফয়সাল বলেন, ‘আমরা মনে করি, বাংলাদেশের যাওয়া উচিত ছিল। বিশেষজ্ঞরাও মনে করেন, যাওয়া উচিত ছিল।’ তবে বিশ্বকাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত ঠিক ছিল কি না—এমন প্রশ্নে ওয়ালী উল্লাহ বলেন, ‘সঠিক না বেঠিক, কীভাবে বলব! তখনকার প্রেক্ষাপটে সরকার সিদ্ধান্ত দিয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বিসিবিকে। বিসিবি সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছে।’ অন্য এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘সরকারের সিদ্ধান্তের কারণে খেলতে যেতে পারেনি বাংলাদেশ। দোষটা কার আপনারা বুঝে নেন।’
প্রতিবেদনের উপসংহারে উল্লেখ করা হয়েছে, এ সংকট বিসিবির ভেতরের কিছু গভীর ও কাঠামোগত দুর্বলতা উন্মোচন করেছে। বলা হয়েছে কূটনৈতিক ব্যর্থতার কথাও।
কমিটি সাতটি সুপারিশও দিয়েছে। যার মধ্যে আছে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতাকে সব ধরনের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন থেকে মুক্ত রাখা, খেলোয়াড় ও সমর্থকদের স্বার্থ রক্ষায় বিসিবির আনুষ্ঠানিক নীতিমালা তৈরি করা, বিসিবির স্বায়ত্তশাসনকে শক্তিশালী করার মতো বিষয়গুলো। ভবিষ্যতে বিসিবির সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও যোগাযোগের মাধ্যমগুলো স্পষ্ট করার কথাও বলা হয়েছে সুপারিশে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
প্রেমে ব্যর্থ হয়ে মদে ডুবে যাওয়া, পার্বতীকে হারিয়ে নিজের জীবন শেষের দিকে ঠেলে দেওয়া—‘দেবদাসের’ এই চেনা ছবি বহুবার সিনেমায় এসেছে। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘দেবদাস’ বাংলা সাহিত্যের এমন এক প্রেমিক চরিত্র, যার ব্যর্থতা, আত্মবিনাশ আর বিরহ পপ কালচারে প্রায় মিথে পরিণত হয়েছে। কিন্তু তামিল নির্মাতা অরুণ মাথেশ্বরনের ‘ডিসি’ সেই চেনা দেবদাসকে একেবারে অন্য জগতে নিয়ে যায়। এখানে দেবদাস মদে ডুবে নিঃশেষ হন না, বরং হতাশা সহিংস হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। প্রেমের ব্যর্থতা তাকে আত্মবিনাশী না করে করে তোলে প্রতিশোধপরায়ণ। আজ ১৫ সেপ্টেম্বর শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মদিন, এ উপলক্ষে দেখতেই পারেন দেবদাসের সহিংস রূপ।একনজরেসিনেমা: ‘ডিসি’ধরন: রোমান্টিক অ্যাকশনপরিচালনা: অরুণ মাথেশ্বরনঅভিনয়: লোকেশ কঙ্গরাজ, ওয়ামিকা গাব্বি, সানজানা কৃষ্ণমূর্তি, অবিনাশ রঘুদেবন ও কৃষ্ণ দয়ালস্ট্রিমিং: সান নেক্সটদৈর্ঘ্য: ২ ঘণ্টা ২০ মিনিটছবির নামের ‘ডি’ এসেছে দেবদাসের নতুন রূপ দাস থেকে; আর ‘সি’ মূলত চন্দ্রাকে ঘিরে। ছবির সবচেয়ে বড় চমক লোকেশ কঙ্গগরাজ। এ সময়ের আলোচিত এই দক্ষিণি নির্মাতা অভিনয় করেছেন সিনেমাটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে! তাঁর দাস চরিত্রটি এক পলাতক গ্যাংস্টার। যুক্ত সশস্ত্র ডাকাত দলের সঙ্গে। পুলিশের অস্ত্রের চালান লুট, এক পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যা—এসবের পর পুলিশ তার পেছনে নামে। কর্মকর্তা ভোগরাজকে (কৃষ্ণ দয়াল) ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ, ‘নিষ্ঠুর হও’। ফলে মরিয়া ভোগরাজ দাস ও তার দলের পিছু নেয়। যার পরিণতি অনিবার্য সংঘর্ষ।উপন্যাসে ‘দেবদাস’-এ নায়ক ধীরে ধীরে নিজের জীবন নষ্ট করে। ‘ডিসি’ সেই জায়গাটাই উল্টে দেয়। দাসের ভেতরের যন্ত্রণা তাকে নিষ্ক্রিয় করে না, বরং সহিংস করে তোলে। সে মানুষ হত্যা করে, পুলিশের সঙ্গে লড়াই করে, আবার একই সঙ্গে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ায়। এই দ্বৈততাই তাকে প্রচলিত নায়ক নয়, অ্যান্টিহিরো হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।শরৎচন্দ্রের গল্পের পার্বতী এখানে পার্বতীই—চরিত্রটিতে অভিনয় করেছেন সানজানা কৃষ্ণমূর্তি। তবে এই পার্বতী সেই জমিদারবাড়ির মেয়ে নন। তিনি একজন ক্লাব গায়িকা। দাসের সঙ্গে তাঁর পরিচয়ও হয় খুব সংক্ষিপ্ত এক সময়ে। দুজন ঠিক করেন, তাঁরা একে অপরের কাছে অপরিচিতই থাকবেন। অথচ সেই অপরিচয়ই তাঁদের কাছে স্বীকারোক্তির নিরাপদ জায়গা হয়ে ওঠে। পার্বতী দাসের মায়ের প্রিয় গান গাওয়ায় তার প্রতি দাসের টান তৈরি হয়। দুজনের মধ্যে অল্প সময়ের জন্য তৈরি হয় একধরনের আশ্রয়।এই সম্পর্ককে দীর্ঘ সময় দেওয়ার সুযোগ পায় না ছবি। পুলিশের হামলায় পার্বতী আহত হয়, আর দাস আবার পালাতে বাধ্য হয়। কিন্তু সম্পর্কটির স্বল্পস্থায়িত্বই যেন ছবির নতুন দেবদাসের চরিত্রটি বোঝানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সে ভালোবাসতে চায়, কিন্তু তার জীবন এমন এক সহিংস বাস্তবতায় আটকে আছে, যেখানে ভালোবাসার জন্য সময়ই নেই।এরপর গল্পে আসে চন্দ্রা—মূল ‘দেবদাস’-এর চন্দ্রমুখীর নতুন রূপ। ওয়ামিকা গাব্বির অভিনয়ে চন্দ্রা একজন যৌনকর্মী, যাকে শৈশব থেকেই একটি যৌনপল্লিতে আটকে রাখা হয়েছে। প্রায় ১৮ বছর ধরে সে বন্দী। প্রতিদিন অসংখ্য পুরুষের যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়া এই নারী যখন দাসের সামনে আসে, তখন তার গল্প দাসকে নাড়া দেয়। সে চন্দ্রাকে সেই বন্দিদশা থেকে বের করে আনে। চন্দ্রাও স্বেচ্ছায় তার সঙ্গে চলে আসে।‘ডিসি’ সিনেমার দৃশ্য। আইএমডিবি‘ডিসি’র অ্যাডাপ্টেশন সবচেয়ে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে এই অংশে। মূল ‘দেবদাস’-এ পার্বতী ও চন্দ্রমুখী নায়কের জীবনে দুই ভিন্ন আবেগের প্রতীক। ‘ডিসি’ তাঁদের চরিত্রকে নতুন সামাজিক বাস্তবতায় বসিয়েছে। পার্বতী এখানে ক্ষণস্থায়ী ভালোবাসা, আর চন্দ্রা হয়ে উঠেছে বন্দিত্ব থেকে মুক্তির প্রতীক। দাস ও চন্দ্রার সম্পর্ক শুধু প্রেম নয়; দুজন বিধ্বস্ত মানুষ একে অপরের মধ্যে নিজেদের ক্ষত চিনে নেওয়া। চন্দ্রার সঙ্গে দাসের সম্পর্ককে ‘বনি অ্যান্ড ক্লাইড’-এর সঙ্গে তুলনা করা যায়। যৌনপল্লির দেয়ালে থাকা আর্থার পেনের ছবির পোস্টারও সে ইঙ্গিতই দিয়েছে। তবে ‘ডিসি’ শেষ পর্যন্ত শুধু সেই সিনেমার বিখ্যাত অপরাধী-জুটির অনুকরণে আটকে থাকে না। বরং দাস ও চন্দ্রাকে নিয়ে নিজের নতুন দুনিয়া তৈরি করতে চায়—যেখানে প্রেমের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বেঁচে থাকা।এ সম্পর্কের সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্যগুলোর একটি চন্দ্রার প্রথম সমুদ্র দেখা। জীবনের এতটা সময় চার দেয়ালের মধ্যে কাটানোর পর বিশাল সমুদ্রের সামনে দাঁড়িয়ে তার বিস্ময় দর্শককে চরিত্রটির অতীত বুঝতে সাহায্য করে। কোনো বড় সংলাপ ছাড়াই মুকেশ জির ক্যামেরা সেই মুহূর্তকে বড় করে তোলে। আরেকটি মুহূর্তে দাস চন্দ্রার আঙুল খুঁজে নেয়—ঘনিষ্ঠতার জন্য নয়, শুধু নিশ্চিত হওয়ার জন্য যে সে এখনো তার পাশে আছে। এমন ছোট দৃশ্যগুলোই ‘ডিসি’কে নিছক গ্যাংস্টার ছবি হয়ে উঠতে দেয় না।অরুণ মাথেশ্বরনের সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁর দৃশ্য নির্মাণ। ‘সানি কায়িধাম’ ও ‘ক্যাপ্টেন মিলার’-এর মতো ছবিতে যে স্টাইলাইজড সহিংসতার ভাষা তিনি তৈরি করেছেন, ‘ডিসি’তেও তার ব্যবহার করেছেন। অ্যাকশন দৃশ্যগুলোর কোরিওগ্রাফি, রক্তপাতকে নান্দনিকভাবে ফ্রেমবন্দী, আর ক্যামেরা ও সম্পাদনা মিলে সহিংসতাকে প্রায় কবিতার মতো উপস্থাপন করেছে।‘ডিসি’ সিনেমার পোস্ট। আইএমডিবিবিশেষ করে দাস ও চন্দ্রার সাক্ষাতের পরের দীর্ঘ করিডর-অ্যাকশন দৃশ্যটি ছবির অন্যতম সেরা অংশ। অনিরুদ্ধ রবিচন্দ্রনের ‘রাগা অব রিভেঞ্জ’ বাজতে শুরু করলে রক্তাক্ত সংঘর্ষটি শুধু অ্যাকশন থাকে না, যেন দুই চরিত্রের পুরোনো জীবন শেষ হয়ে নতুন জীবনের শুরু হয়।আরেকটি দুর্দান্ত মুহূর্ত তৈরি হয়েছে ‘বাম বা দিগা’ গানে। একদিকে দেখা যায় দাসের ওপরে পুলিশের নির্যাতন, অন্যদিকে চন্দ্রার ওপর চলা যৌন নিপীড়ন। গানটি প্রাণবন্ত, প্রায় আনন্দময়; অথচ পর্দায় চলছে ভয়াবহ সহিংসতা। এই অদ্ভুত বৈপরীত্য দুই চরিত্রের আলাদা বন্দিত্বকে এক জায়গায় নিয়ে আসে। তাঁদের শরীর ভিন্ন জায়গায় বন্দী, কিন্তু যন্ত্রণার অভিজ্ঞতা একই।‘ডিসি’র সংগীত তাই শুধু দৃশ্যের পেছনে বাজে না, অনেক সময় দৃশ্যের আবেগ তৈরি করে। অনিরুদ্ধের আবহসংগীত ছবির অন্যতম বড় শক্তি। কোথাও কোথাও মনে হয়, চিত্রনাট্য যে আবেগ পুরোপুরি তৈরি করতে পারেনি, সংগীত সেটিকে পূরণ করছে। ফলে ‘ডিসি’ দেখার অভিজ্ঞতা অনেকটাই নির্ভর করে অনিরুদ্ধ সংগীতের ওপর।মুকেশ জির ক্যামেরায় মাটির কাছাকাছি থাকা রঙের সঙ্গে রক্তের লালকে বারবার আলাদা করে তোলা হয়েছে। চন্দ্রার যৌনপল্লির ঘরকে প্রায় পরাবাস্তব এক ক্যানভাসের মতো সাজানো হয়েছে। দেয়ালে ভ্যান গঘ ও দালির ছবি, বড় বড় দেয়ালচিত্র, উজ্জ্বল রং—সবকিছু চরিত্রটির বন্দিত্বের ভেতরকার অদ্ভুত জগৎকে তুলে ধরে।চন্দ্রার সাজেও রয়েছে আরেকটি সিনেম্যাটিক ইঙ্গিত। শাড়ি, টকটকে লাল লিপস্টিক, চুলে লাল গোলাপ—সব মিলিয়ে সিল্ক স্মিতার স্মৃতি উসকে দেয়। এক দৃশ্যে তাকে ‘সিল্ক’ বলেও ডাকা হয়। দাসের হাতে রুপালি কড়া আবার বিজয়ের ‘মাস্টার’ ছবির কথা মনে করিয়ে দেয়।‘ডিসি’ সিনেমার দৃশ্য। আইএমডিবিতবে এত সব নান্দনিকতা সত্ত্বেও ‘ডিসি’র সবচেয়ে বড় সমস্যা চিত্রনাট্যে। ছবির গল্পের কাঠামো যতটা চমকপ্রদ, চরিত্র নির্মাণ ততটা গভীর নয়। পুলিশি দুর্নীতি, অপরাধীদের প্রতি রাষ্ট্রীয় সহিংসতা, নারী নির্যাতন—এতগুলো বিষয় ছবিতে এসেছে, কিন্তু সব কটিকে সমান গভীরতায় অনুসন্ধান করা হয়নি।ফলে কোনো কোনো জায়গায় মনে হয়, গল্পের ফাঁকা জায়গা পূরণ করতে অ্যাকশন ব্যবহার করা হয়েছে। ১৪২ মিনিটের দৈর্ঘ্যও তখন কিছুটা বেশি মনে হয়। একের পর এক বন্দুকযুদ্ধ, ছুরিকাঘাত ও হত্যাকাণ্ড দর্শককে রোমাঞ্চ দিলেও সব সময় আবেগগতভাবে নাড়া দিতে পারে না।দাস চরিত্রটিও একই সমস্যায় ভোগে। লোকেশের অভিনয়ে সংযম আছে, চোখে রাগ আছে, শরীরী ভাষায় যন্ত্রণা আছে। তিনি চিৎকার করে আবেগ প্রকাশ করেন না; নীরবতাতেই চরিত্রটিকে বহন করেন। প্রথমবার অভিনেতা হিসেবে তাঁর স্বচ্ছন্দ উপস্থিতি নিঃসন্দেহে চমকপ্রদ। কিন্তু চিত্রনাট্য চরিত্রটির ভেতরের দ্বন্দ্বকে যতটা গভীরভাবে অনুসন্ধান করা দরকার ছিল, তা করেনি। ফলে কোথাও কোথাও দাস রহস্যময় না হয়ে অস্বচ্ছ মনে হয়—সে কেন এতটা সহিংস, তার নৈতিক সীমা কোথায়, সেই প্রশ্নের সব উত্তর মেলে না।ওয়ামিকা গাব্বিও চন্দ্রাকে আকর্ষণীয় করে তুলেছেন। তাঁর অভিনয়ে একদিকে শিশুসুলভ বিস্ময়, অন্যদিকে পৃথিবীর কাছে বহুবার পরাজিত এক নারীর কঠোরতা। বন্দিত্ব থেকে বেরিয়ে এসে ক্ষমতার স্বাদ পাওয়ার পর চন্দ্রার আচরণে যে পরিবর্তন আসে, সেটি বিশ্বাসযোগ্য। তবে চন্দ্রাকে স্বাধীন নারীর চরিত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলেও ছবিটি পুরোপুরি পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বের হতে পারে না। একজন পুরুষ তাকে উদ্ধার করবে, তারপর সে নিজের শক্তি আবিষ্কার করবে—এই পরিচিত কাঠামোই শেষ পর্যন্ত থেকে যায়।নির্বাক সিনেমা থেকে ওটিটি: দেবদাস–ললিতারা বদলেছেন, শরৎচন্দ্র থেকে গেছেনসানজানা পার্বতীর চরিত্রে সংযত অভিনয় করেছেন। চন্দ্রার বিপরীতে তাঁর চরিত্রের কোমলতা দাসের জীবনে দুই নারীর আলাদা অবস্থান স্পষ্ট করে। অন্যদিকে কিটি চরিত্রে অবিনাশ রঘুদেবন ও ভোগরাজের চরিত্রে কৃষ্ণ দয়ালও উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে নিষ্ঠুর পুলিশ কর্মকর্তা ভোগরাজ ছবির ক্ষমতার কাঠামোকে প্রতিনিধিত্ব করে।ছবির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন নৈতিকতা। দাস ও তার দল অপরাধী, কিন্তু তাদের পেছনে ছুটতে থাকা পুলিশও যখন ‘নিষ্ঠুর হও’ নির্দেশ পায়, তখন প্রশ্ন ওঠে—আইনের নামে সংঘটিত সহিংসতা কি অপরাধীদের সহিংসতার চেয়ে আলাদা? দাসের গ্যাংয়ের নামের সঙ্গেও এখানে একধরনের ব্যঙ্গ আছে। তাদের নেতা আরাসু—তামিল ভাষায় যার অর্থ ‘সরকার’। রাষ্ট্র যে পরিবেশ তৈরি করে, সেই পরিবেশই যখন অপরাধী তৈরি করে, তখন অপরাধী ও রাষ্ট্রের সহিংসতার সীমারেখা কোথায়—ছবিটি এই প্রশ্ন তোলে।‘ডিসি’ সিনেমা হিসেবে আরও শক্তিশালী হতে পারত। কারণ, তার ভিজ্যুয়াল ভাষায় যে উচ্চাকাঙ্ক্ষা, চিত্রনাট্য সব সময় সেই উচ্চতায় পৌঁছায় না।তবু ছবিটিকে একেবারে ব্যর্থ বলা যায় না। কারণ, শরৎচন্দ্রের ‘দেবদাস’-এর মতো বহুল ব্যবহৃত একটি গল্পকে তামিল গ্যাংস্টার জগতের মধ্যে বসানো সহজ কাজ নয়। অরুণ মাথেশ্বরন সেই ঝুঁকি নিয়েছেন এবং অন্তত দৃশ্যগতভাবে একটি স্বতন্ত্র জগৎ তৈরি করেছেন। মূল গল্পের প্রেম, বিরহকে তিনি রূপান্তর করেছেন সহিংসতা, মুক্তি, বেঁচে থাকা ও প্রতিশোধের গল্পে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হওয়ায় শূন্য হওয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেতে তিনজন ফরম সংগ্রহ করেছেন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে তারা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানান। মনোনয়ন ফরম সংগ্রহকারীদের একজন জেলা বিএনপির নেতা ওবায়দুল্লাহ মাসুদ। ফরম সংগ্রহের পর তিনি বলেন, ৪৩ বছর বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত আছি। ১৯৮৯ সালে ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের জিএস এবং ১৯৯০ সালে ভিপি ছিলাম। বিগত ১৭ বছর অনেক হামলা-মামলার শিকার হয়েছি। দল ও প্রধানমন্ত্রী আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি মনে করি, দলকে এই আসন উপহার দিতে পারবো। আরও পড়ুন ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির মনোনয়নপত্র নিলেন মির্জা ফয়সাল আমিন জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিনের পক্ষেও মঙ্গলবার মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হয়েছে। তার পক্ষে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী নয়াপল্টন থেকে ফরম নেন। এ আসনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা অন্যজন হলেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান সুলতানুল ফেরদৌস নম্র চৌধুরী। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিক্রি করা হয়। পূরণ করা ফরম আগামীকাল বুধবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে জমা দিতে হবে। এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় বিএনপি চেয়ারম্যানের গুলশান কার্যালয়ে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হবে। আরও পড়ুন গণতন্ত্র রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় কাজ: রাষ্ট্রপতি গত ২১ আগস্ট রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সংবিধানের ৫০(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকেই তার সংসদীয় আসনটি শূন্য হয়। পরে সংসদ সচিবালয় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আসনটি শূন্য ঘোষণা করে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় আসনটি শূন্য হওয়ার পর সেখানে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। ২৯ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র বাছাই, ৭ অক্টোবর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ৮ অক্টোবর প্রতীক বরাদ্দ হবে। ভোটগ্রহণ হবে ২৯ অক্টোবর। কেএইচ/কেএসআর
ব্রোকারেজ হাউজ-মার্চেন্ট ব্যাংকে মানিলন্ডারিং ইউনিট গঠনের নির্দেশ পুঁজিবাজারে অর্থপাচার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন ঠেকাতে মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নজরদারি আরও জোরদার করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এখন থেকে ব্রোকারেজ হাউজ, মার্চেন্ট ব্যাংক, পোর্টফোলিও ম্যানেজার, সিকিউরিটিজ কাস্টডিয়ান ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে পৃথক মানিলন্ডারিং পরিপালন ইউনিট গঠন করতে হবে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করেছে বিএফআইইউ। এতে পুঁজিবাজারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান নির্বাহীদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। সার্কুলারে বলা হয়েছে, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ে চিফ অ্যান্টি মানিলন্ডারিং কমপ্লায়েন্স অফিসারের (ক্যামলকো) নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিট (সিসিইউ) গঠন করতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের শাখাগুলোতে শাখা অ্যান্টি মানিলন্ডারিং কমপ্লায়েন্স অফিসার (বিএএমএলকো) নিয়োগ দিতে হবে। মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন প্রতিরোধে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে নিজস্ব নীতিমালা প্রণয়ন এবং তা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গ্রাহকের তথ্য যাচাইয়ে গুরুত্ব নতুন নির্দেশনায় গ্রাহকের হিসাব খোলার সময় নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এজন্য জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন সনদসহ প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করতে হবে। চাইলে ইলেকট্রনিক কেওয়াইসি (ই-কেওয়াইসি) পদ্ধতিও ব্যবহার করা যাবে। এছাড়া জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের রেজ্যুলুশন এবং বাংলাদেশ সরকারের তালিকাভুক্ত ব্যক্তি বা নিষিদ্ধ সত্তার সঙ্গে কোনো গ্রাহকের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা নিয়মিত যাচাই করতে হবে। সন্দেহজনক লেনদেন হলেই রিপোর্ট গ্রাহকদের লেনদেন নিয়মিত পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে বিএফআইইউ। কোনো লেনদেন জটিল, অস্বাভাবিক, অসামঞ্জস্যপূর্ণ বা সন্দেহজনক মনে হলে তা লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট শাখার বিএএমএলকোকে জানাতে হবে। পরে কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিট বিষয়টি যাচাই করবে। যাচাই শেষে প্রয়োজন হলে গো-এএমএল ওয়েবের মাধ্যমে দ্রুত বিএফআইইউতে রিপোর্ট করতে হবে। এ ধরনের রিপোর্ট করার সময় সংশ্লিষ্ট তথ্যের গোপনীয়তা কঠোরভাবে রক্ষা করতে হবে। ছয় মাস পরপর স্ব-মূল্যায়ন মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা যাচাই করতে নির্ধারিত চেকলিস্ট অনুযায়ী প্রতি ছয় মাসে একবার স্ব-মূল্যায়ন করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে এসব কার্যক্রম যাচাইয়ের ব্যবস্থা রাখতে হবে। কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই করতে হবে। একই সঙ্গে তাদের মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন প্রতিরোধসংক্রান্ত বিষয়ে নিয়মিত পেশাগত প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। হিসাব বন্ধের পরও তথ্য রাখতে হবে গ্রাহকের হিসাব বা ব্যবসায়িক সম্পর্ক শেষ হয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট গ্রাহক ও লেনদেনের তথ্য-উপাত্ত সংরক্ষণ করতে হবে। ব্যবসায়িক সম্পর্ক সমাপ্ত হওয়ার তারিখ থেকে অন্তত পাঁচ বছর পর্যন্ত এসব তথ্য ও প্রয়োজনীয় দলিল সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে বিএফআইইউ। বিএফআইইউর নতুন এ নির্দেশনার ফলে পুঁজিবাজারের মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর গ্রাহক যাচাই, লেনদেন পর্যবেক্ষণ এবং সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত ও রিপোর্টিং ব্যবস্থায় আরও কঠোরতা আসবে। ইএআর/এমকেআর