জাতীয়

তাল দিয়ে আইসক্রিম বানাবেন যেভাবে

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
তাল দিয়ে আইসক্রিম বানাবেন যেভাবে
তাল দিয়ে আইসক্রিম বানাবেন যেভাবে

ভাদ্রের ভ্যাপসা গরমে হঠাৎ আইসক্রিম খেতে মন চাইতেই পারে। বাজারে নানা স্বাদের আইসক্রিম তো পাওয়া যায়ই, তবে এই মৌসুমে চাইলে ঘরেই বানিয়ে নিতে পারেন একেবারে ভিন্ন স্বাদের আইসক্রিম। এখন তালের মৌসুম। পাকা তাল দিয়ে পিঠা-পায়েসসহ নানা রকমের খাবার তৈরি করেন অনেকেই।

তবে তাল দিয়ে যে মজার আইসক্রিমও বানানো যায়, তা হয়তো অনেকেরই জানা নেই। তাল দিয়ে তৈরি এই ঘরোয়া আইসক্রিমে থাকবে মৌসুমি ফলের স্বাদ আর ঠান্ডা মিষ্টি মজার এক দারুণ সমন্বয়। বাড়ির ছোট থেকে বড়-সবার কাছেই ভিন্ন স্বাদের এই আইসক্রিম বেশ পছন্দের হতে পারে।

ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

আসুন জেনে নেওয়া যাক তালের আইসক্রিম বাড়িতেই কীভাবে বানাবেন-

উপকরণ

  • পাকা তালের ঘন রস ১ কাপ
  • হুইপিং ক্রিম ১ কাপ
  • ঘন দুধ বা কনডেন্সড মিল্ক আধা কাপ
  • গুঁড়া দুধ ৩ থেকে ৪ টেবিল চামচ
  • চিনি স্বাদমতো

প্রস্তুত প্রণালি

প্রথমে একটি সসপ্যানে তালের রস নিয়ে মাঝারি আঁচে ১০ থেকে ১৫ মিনিট ভালোভাবে জ্বাল দিন। রস কিছুটা ঘন হয়ে এলে চুলা বন্ধ করে দিন। এভাবে জ্বাল দিলে তালের কাঁচা গন্ধ ও তেতো ভাব অনেকটাই কমে যাবে। এরপর তালের রসটি পাতলা পরিষ্কার কাপড়ে ছেঁকে নিন। ছেঁকে নেওয়া রস ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা রেখে সম্পূর্ণ ঠান্ডা করে নিন। চাইলে আগেই তৈরি করে ফ্রিজেও রেখে দিতে পারেন।

এবার একটি বড় পাত্রে ঠান্ডা হুইপিং ক্রিম নিন। ইলেকট্রিক বিটার দিয়ে মাঝারি গতিতে ২ থেকে ৩ মিনিট বিট করুন। ক্রিম কিছুটা ফ্লাফি ও হালকা হয়ে এলে বিট করা বন্ধ করুন।

এরপর ক্রিমের মধ্যে ভালোভাবে ঠান্ডা করে রাখা তালের রস, কনডেন্সড মিল্ক ও গুঁড়া দুধ দিয়ে দিন। স্প্যাচুলা দিয়ে সব উপকরণ ধীরে ধীরে আলতো হাতে মিশিয়ে নিন। খেয়াল রাখবেন, বেশি জোরে মেশালে ক্রিমের ফ্লাফি ভাব নষ্ট হয়ে যেতে পারে। সব উপকরণ ভালোভাবে মিশে মসৃণ একটি মিশ্রণ তৈরি হলে বুঝবেন আইসক্রিমের বেস প্রস্তুত।

আরও পড়ুন

বাড়িতে বানান ভিন্ন স্বাদের মালাই ক্যারামেল পুডিং

এবার মিশ্রণটি ছোট মাটির হাঁড়িতে ঢেলে দিন। আইসক্রিমের ওপর যাতে বরফের আস্তরণ না পড়ে, সেজন্য হাঁড়ির মুখটি ফয়েল পেপার দিয়ে ভালোভাবে আটকে দিন। এরপর হাঁড়িটি ডিপ ফ্রিজে রেখে দিন।

আরও পড়ুন

কমলার মতো দেখতে মিষ্টি, রেসিপি জানলে আজই বানাবেন

অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা অথবা সারা রাত ডিপ ফ্রিজে রাখলেই জমে যাবে সুস্বাদু তালের আইসক্রিম। পরিবেশনের আগে কয়েক মিনিট বাইরে রেখে একটু নরম করে নিন। এরপর স্কুপ করে বাটিতে তুলে পরিবেশন করুন মজার স্বাদের ঘরোয়া তালের আইসক্রিম।

এসএকেওয়াই

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
সাগরে নৌজাহাজের ধাক্কা, কূটনীতিক তলব ভারত ও পাকিস্তানের
সাগরে নৌজাহাজের ধাক্কা, কূটনীতিক তলব ভারত ও পাকিস্তানের

আন্তর্জাতিক জলসীমায় পাকিস্তান ও ভারতের দুটি যুদ্ধজাহাজের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে বুধবার দুই দেশই একে অপরের শীর্ষ কূটনীতিককে তলব করেছে। গত বছরের চার দিনের সামরিক সংঘাতের পর পরমাণু শক্তিধর প্রতিবেশী এই দুই দেশের মধ্যে এটিই প্রথম প্রকাশ্যে আসা নতুন উত্তেজনা।গত মঙ্গলবার উত্তর আরব সাগরে ওই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ঘটনার জন্য দেশ দুটি একে অপরকে দায়ী করছে।ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, পাকিস্তানি নৌজাহাজের ‘অনভিপ্রেত ও পেশাদারিত্বহীন আচরণের’ কারণে এই সংঘর্ষ ঘটেছে। এ কারণে নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত পাকিস্তানের জ্যেষ্ঠ কূটনীতিককে তলব করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।অন্যদিকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে তলব করেছে। ভারতীয় নৌজাহাজের ‘উসকানিমূলক ও অগ্রহণযোগ্য আচরণের’ বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে তারা।ভারতের সূত্রের দাবি, উত্তর আরব সাগরে নিয়মিত নজরদারি চালানোর সময় একটি পাকিস্তানি যুদ্ধজাহাজ তীব্র গতিতে ভারতের যুদ্ধজাহাজের খুব কাছে চলে আসলে এ সংঘর্ষ হয়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, পাকিস্তানের এই আচরণ ১৯৯১ সালের সামরিক মহড়া ও যুদ্ধজাহাজ চলাচলের দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন। চুক্তি অনুযায়ী দুর্ঘটনা এড়াতে দুই দেশের নৌজাহাজ ও সাবমেরিনের মধ্যে অন্তত তিন নটিক্যাল মাইল দূরত্ব বজায় রাখা বাধ্যতামূলক।অন্যদিকে পাকিস্তান সরকারের দাবি, দ্বিবার্ষিক সামরিক মহড়ায় অংশ নেওয়া তাদের একটি যুদ্ধজাহাজের বিপজ্জনকভাবে কাছে এসে ভারতীয় জাহাজটি ‘আক্রমণাত্মক মহড়া’ চালিয়েছে।উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে কাশ্মীর ইস্যুকে কেন্দ্র করে দুই দেশই কূটনৈতিক সম্পর্ক অবনমন করে। এরপর থেকে দিল্লি ও ইসলামাবাদে কোনো রাষ্ট্রদূত নেই, চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স বা ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনাররা মিশন পরিচালনা করছেন।

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
কোলাহল পেরিয়ে সিডনিতে অন্য এক জেমস

কোলাহল পেরিয়ে সিডনিতে অন্য এক জেমস

সিটিটিসির মাধ্যমে গুম-খুনের মামলায় অভিযোগ দাখিল, সাবেক এডিসি ইশতিয়াকসহ আসামি পাঁচ

সিটিটিসির মাধ্যমে গুম-খুনের মামলায় অভিযোগ দাখিল, সাবেক এডিসি ইশতিয়াকসহ আসামি পাঁচ

বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে বিজিএমইএর নেতাদের মতবিনিময়

বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে বিজিএমইএর নেতাদের মতবিনিময়

মক্কা নগরীর দিকে হুতিদের ড্রোন, সৌদি যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের দাবি
মক্কা নগরীর দিকে হুতিদের ড্রোন, সৌদি যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের দাবি

পবিত্র মক্কা নগরী লক্ষ্য করে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিরা একটি ড্রোন ছুঁড়েছে বলে অভিযোগ করেছে সৌদি আরব। তবে আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই সেটি ভূপাতিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ রিয়াদ গতকাল বুধবার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, হুতিদের এ ধরনের অপচেষ্টা ‘চূড়ান্ত সীমার’ লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হবে। তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করা হবে না। এ ঘটনায় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ ও জোট নিন্দা জানিয়েছে। মক্কা নগরীকে লক্ষ্য করে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওই ড্রোন ছোড়া হয়েছিল। তবে সৌদি আরবের এ দাবিকে ‘মিথ্যা’ অভিহিত করে হুতিরা বলেছে, এ ধরনের কথায় কেউ আর আগের মতো বিভ্রান্ত হয় না। অবশ্য ইরান–সমর্থিত গোষ্ঠীটি সৌদি আরবের একটি এফ–১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার পাশাপাশি দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি কোম্পানি আরামকোর একটি স্থাপনা ও বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে। গত কয়েক দিন ধরে তারা সৌদির সামরিকঘাঁটিসহ অন্যান্য স্থাপনায় হামলার দাবি করে আসছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স কয়েকটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তারা ওমানে হুতি প্রতিনিধিদের সঙ্গে ‘গোপনে’ বৈঠক করেছেন। এমন সময়ে এ বৈঠকের খবর প্রকাশ্যে এল, যখন হুতিরা ঝটিকা হামলায় লোহিত সাগরের মাইয়ুন (পেরিম) দ্বীপ ও উপকূলবর্তী কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মোখা শহর দখলে নিয়েছে। এতে করে বাব আল–মানদেব প্রণালিতে তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার হয়েছে। ফলে সৌদি আরবের তেল ও গ্যাস রপ্তানি আরও কমে এসেছে। বর্তমানে ইয়েমেনের তাইজ ও মারিব প্রদেশের কয়েকটি শহরে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে হুতিদের তীব্র সংঘর্ষ চলছে।মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষক লরেঞ্জো কামেল আল-জাজিরাকে বলেন, হুতিদের শুধু ইরানের ছায়া–শক্তি (প্রক্সি) হিসেবে দেখলে তাদের ভূমিকা ঠিকভাবে বোঝা যাবে না। আঞ্চলিক অস্থিরতাকে কাজে লাগিয়ে তারা নিজেদের স্বার্থ ও অভ্যন্তরীণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে এবং সৌদি আরবের হস্তক্ষেপ বন্ধে চাপ দিচ্ছে।সৌদির কঠোর হুঁশিয়ারিইয়েমেনে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল–মালকি গতকাল এক বিবৃতিতে বলেন, গত মঙ্গলবার হুতিরা মক্কা নগরী লক্ষ্য করে একটি ড্রোন ছোড়ে। তবে তা সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশের আগে মক্কার দক্ষিণে ভূপাতিত করা হয়েছে। এর আগে ২০১৭ সালের জুলাই মাসেও হুতিরা মক্কা নগরী লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেণপাস্ত্র ছুঁড়েছিল। হুতি মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে যথাযথ ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে জোট কোনো দ্বিধা করবে না।হুতিদের হামলার আশঙ্কায় মঙ্গলবার মক্কার পাশাপাশি তাইফ ও জেদ্দাতেও নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছিল সৌদি সরকার। তবে অল্প পরে তা তুলেও নেওয়া হয়।হুতিদের হামলাচেষ্টাকে ‘কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসী কর্মকান্ড’ উল্লেখ করে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘দুই পবিত্র মসজিদ (মক্কার মসজিদুল হারাম ও মদিনার মসজিদে নববি), তীর্থযাত্রী ও পুরো সৌদি ভূখণ্ড, দেশের নাগরিক ও বাসিন্দাদের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার বৈধ অধিকার’ তাদের রয়েছে।ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে চলছে তীব্র লড়াই। মঙ্গলবার দেশটির আল-জওফ প্রদেশে গোলা ছোড়ার দৃশ্যহুতিদের পলিটব্যুরোর সদস্য হাজেম আল-আসাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘মক্কাকে লক্ষ্যবস্তু করার যে দাবি করা হচ্ছে, তা মিথ্যার পুনরাবৃত্তি। এর আগেও এ ধরনের মিথ্যা দাবি করা হয়েছে। এতে এখন আর কেউ বিভ্রান্ত হয় না।’নাম প্রকাশ না করার শর্তে মক্কার একজন বাসিন্দা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘আমার মনে হয় সতর্কসংকেত আতঙ্ক তৈরি করেছে... তবে মক্কায় জীবনযাত্রা স্বাভাবিক আছে। এর আগেও মক্কায় এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে।’বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের নিন্দাপবিত্র মক্কা নগরীকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার খবরের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গতকাল এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় বলেছে, বাংলাদেশ মক্কা আল-মুকাররমার পবিত্রতা এবং সৌদি আরবের অন্যান্য পবিত্র স্থানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা পুনর্ব্যক্ত করছে। এসব পবিত্র স্থান সুরক্ষায় সৌদি আরব ও দেশটির জনগণের প্রতি বাংলাদশ সংহতি জানাচ্ছে।৫৭টি মুসলিম দেশের জোট ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি), আরব লিগ, জর্ডান, কুয়েত, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান ও ভারতও নিন্দা জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে আরব লিগের মহাসচিব নাবিল ফাহমি বলেন, মক্কার নিরাপত্তা ও ইসলামের পবিত্র স্থানগুলোর পবিত্রতা ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা অত্যন্ত গর্হিত বিষয়।সৌদি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবিইয়েমেনের মারিব এলাকায় সৌদি আরবের একটি এফ–১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে হুতিরা। গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি গতকাল বলেন, স্থানীয়ভাবে তৈরি ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য একটি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত করা হয়েছে।মারিবের উত্তর-পশ্চিমে হেলান পর্বতের কাছে বিমানটি ভূপাতিত করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানিয়েছে আল–জাজিরা। তবে যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের বিষয়ে সৌদি আরবের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।হুতিদের দাবি, গত কয়েক দিনে ইয়েমেনে তাদের অবস্থান লক্ষ্য করে অন্তত ৪৫০টি বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন, তাদের বাহিনী ও সৌদি আরব হুতিদের অবস্থানে বিমান হামলা চালাচ্ছে। তবে সৌদি আরব এ পর্যন্ত হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলার কথা স্বীকার করেনি।হুতিদের সঙ্গে মার্কিন কর্মর্তাদের বৈঠকসংশ্লিষ্ট পাঁচটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, গত রোববার ওমানের রাজধানী মাসকাটে হুতিদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা গোপনে বৈঠক করেছেন। ওমান সরকার বৈঠকটি আয়োজনে সহায়তা করেছে বলে জানিয়েছে দুটি সূত্র।সূত্রমতে, বৈঠকে হুতিরা যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজে হামলা না করার এবং ২০২৫ সালের যুদ্ধবিরতি মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। একটি সূত্রের ভাষ্য, হুতিরা ইসরায়েলি জাহাজ বা সৌদি আরবের মালিকানাধীন জাহাজ ছাড়া অন্য কোনো বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালাবে না।ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয় ২০১৪ সালে। ওই বছর হুতিরা রাজধানী সানা দখল করে এবং দেশটির বিভিন্ন এলাকায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বাড়ায়। ২০১৫ সালের মার্চে সৌদি আরবের নেতৃত্বে একটি জোট ইয়েমেন সরকারের সমর্থনে সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু করে। তবে ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতির পর পক্ষগুলোর মধ্যে সংঘাত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। তবে সংঘাত নতুন করে তীব্রতর হওয়ায় পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে।ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৫ সালের মার্চে হুতিদের ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। এরপর তাদের ওপর দুই মাস বিমান হামলা চালায়। একই সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখে। পরে গত বছরের মে মাসে হুতিদের সঙ্গে একটি যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছায় যুক্তরাষ্ট্র। চুক্তিতে একে অপরের ওপর হামলা না চালাতে সম্মত হয়েছিল দুই পক্ষ।ইয়েমেনে সংঘাত তীব্রতর হচ্ছেবর্তমানে ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলে সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে তীব্র সংঘাত চলছে। আল–জাজিরা জানিয়েছে, গতকাল ইয়েমেনের মারিব প্রদেশের পূর্ব আল-বালাক এলাকাসহ কয়েকটি ফ্রন্টে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। সরকারি বাহিনীর দাবি, তারা হুতিদের হামলা ঠেকিয়ে দিচ্ছে। তায়েজ প্রদেশের দক্ষিণাঞ্চলেও হুতিদের বড় ধরনের হামলা প্রতিহত করেছে।সরকারি বাহিনীর ভাষ্যমতে, বাব আল-মানদেব প্রণালির কাছাকাছি কাহবুব পর্বতমালার দিকে আরও এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে হুতিরা। সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় তায়েজ ও লাহজ প্রদেশের মানুষ যে যেদিকে পারে পালিয়ে যাচ্ছে।জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) তথ্যমতে, ইয়েমেনে সম্প্রতি নতুন করে সংঘাত শুরুর পর থেকে দেশটির ভেতরে ১ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে দুই হাজারের বেশি মানুষ বাব আল-মানদেব প্রণালি পাড়ি দিয়ে লোহিত সাগরের পশ্চিম তীরের দেশ জিবুতিতে আশ্রয় নিয়েছে।

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
মোদির জন্মদিনে ভারতজুড়ে প্রদীপ জ্বালানোর কর্মসূচি বিজেপির, কংগ্রেসের সমালোচনা

মোদির জন্মদিনে ভারতজুড়ে প্রদীপ জ্বালানোর কর্মসূচি বিজেপির, কংগ্রেসের সমালোচনা

আনিসুল হকসহ চারজনের বিরুদ্ধে দুদকের অভিযোগপত্র অনুমোদন

আনিসুল হকসহ চারজনের বিরুদ্ধে দুদকের অভিযোগপত্র অনুমোদন

জিয়াউল আহসানকে একক ভ্যানে না আনার আবেদন

জিয়াউল আহসানকে একক ভ্যানে না আনার আবেদন

চাঁনখারপুলের মেস থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার
চাঁনখারপুলের মেস থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

রাজধানীর চাঁনখারপুল এলাকার একটি মেসের কক্ষ থেকে অনিক চন্দ্র পাল নামে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রয়িং অ্যান্ড পেইন্টিং বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মেসের কক্ষ থেকে তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসক অনিককে মৃত ঘোষণা করেন।অনিক চাঁনখারপুলের পি কে গাঙ্গুলি লেনের একটি ভবনের চতুর্থ তলায় মেসে থাকতেন।অনিকের মেসসঙ্গী ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জয় ভূঁইয়া জানান, সোমবার থেকে তাঁর সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। মঙ্গলবার রাতে অনিকের এক সহপাঠী ফোনে তাঁকে না পেয়ে মেসে গিয়ে খোঁজ নেওয়ার অনুরোধ করেন। এরপর জয় ও ওই সহপাঠী অনিকের কক্ষের সামনে গিয়ে বেশ কিছুক্ষণ ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাননি।জয় ভূঁইয়ার ভাষ্য, কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় তাঁরা সন্দেহ করেন। পরে জানালার কাচ ভেঙে ভেতরে তাকালে অনিককে ফ্যানের সঙ্গে গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় দেখতে পান। এরপর দরজা খুলে তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।অনিকের বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী ও মেসের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মৃত্যুর কয়েক দিন আগে অনিকের প্রেমের সম্পর্কের বিচ্ছেদ হয়। এর পর থেকে তিনি অনেকটা নীরব ও একাকী হয়ে পড়েছিলেন। তাঁর মুঠোফোনও বন্ধ ও ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়।খবর পেয়ে ঢাকা মেডিকেলে যান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রয়িং অ্যান্ড পেইন্টিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর সুবাস পাল। তিনি বলেন, ‘স্টুডেন্টরা (শিক্ষার্থী) আমাকে ঘটনা জানানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই আমি ঢাকা মেডিকেলে পৌঁছাই। কিন্তু ততক্ষণে আমাদের স্টুডেন্ট আর বেঁচে ছিল না।’অনিকের গ্রামের বাড়ি সিলেট জেলার শিবপুর উপজেলায়।বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিক ইকবাল বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, এটা আত্মহত্যার ঘটনা। মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।’

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
বনশ্রীতে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষ, প্রাণ গেল মাইলস্টোনের শিক্ষিকার

বনশ্রীতে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষ, প্রাণ গেল মাইলস্টোনের শিক্ষিকার

সুইমিংপুলে সাঁতার কাটতে গিয়ে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যু

সুইমিংপুলে সাঁতার কাটতে গিয়ে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যু

আর্মার-ক্যাভালরি বিষয়ে বাংলাদেশ-মার্কিন সেনাদের অভিজ্ঞতা বিনিময়

আর্মার-ক্যাভালরি বিষয়ে বাংলাদেশ-মার্কিন সেনাদের অভিজ্ঞতা বিনিময়

0 Comments