জাতীয়

‘স্বর্গের পাথর’ ও সোনার খনি: নিয়ন্ত্রণ কখনো সেনাবাহিনীর কখনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর, নেপথ্যে কী

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
‘স্বর্গের পাথর’ ও সোনার খনি: নিয়ন্ত্রণ কখনো সেনাবাহিনীর কখনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর, নেপথ্যে কী
‘স্বর্গের পাথর’ ও সোনার খনি: নিয়ন্ত্রণ কখনো সেনাবাহিনীর কখনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর, নেপথ্যে কী

বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত রত্ন জেড, বিশেষ করে উজ্জ্বল সবুজ ‘ইম্পেরিয়াল জেড’ আসে মিয়ানমার থেকে। চীনে বহু শতাব্দী ধরে বিরল রত্ন জেডকে ‘স্বর্গের পাথর’ বলা হয়। মিয়ানমারে সোনাসহ বিরল নানা খনিজের খনি যার নিয়ন্ত্রণে থাকে, অস্ত্র কেনার সামর্থ্য ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর সক্ষমতাও তার বেশি। বিস্তারিত উঠে এসেছে আইসিজির বিশেষ অনুসন্ধানে।

বৈদ্যুতিক গাড়ি ও বায়ুবিদ্যুতের টারবাইন থেকে শুরু করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ডেটা সেন্টার, অলংকার ও ক্ষেপণাস্ত্র—বিশ্বের বহু গুরুত্বপূর্ণ শিল্প নানা ধরনের খনিজের ওপর নির্ভরশীল। এমন গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু খনিজ রয়েছে মিয়ানমারে, যার মধ্যে রয়েছে টিন, সোনা, ‘স্বর্গের পাথর’ ও ভারী বিরল মৃত্তিকা। মূল্যবান এসব সম্পদের বড় অংশ উত্তোলন করা হচ্ছে দেশটির সংঘাতপূর্ণ এলাকায়। এসব এলাকার নিয়ন্ত্রণ মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী এবং বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে বারবার বদল হচ্ছে।

খনিজ সম্পদ মিয়ানমারের সংঘাতের মূল কারণ নয়। দেশটির সংঘাত মূলত ক্ষমতা, রাজনৈতিক পরিচয় ও জাতিগত স্বায়ত্তশাসনের লড়াই। তবে মূল্যবান খনিজ সম্পদের খনি ও বাণিজ্যপথের নিয়ন্ত্রণ সামরিক বাহিনী এবং তার বিরোধীদের অর্থ, অস্ত্র কেনার সামর্থ্য ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর সক্ষমতা দিচ্ছে।

‘দ্য ক্রিটিক্যাল মিনারেলস লিংকিং মিয়ানমারস সিভিল ওয়ার টু দ্য ওয়ার্ল্ড’ (মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধকে বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত করছে যেসব গুরুত্বপূর্ণ খনিজ) শীর্ষক ভিজ্যুয়াল অনুসন্ধানে এ কথা বলা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের সংঘাত নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ (আইসিজি) এই অনুসন্ধান করেছে, যা গত বৃহস্পতিবার নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

অনুসন্ধান তৈরিতে মাঠপর্যায়ের গবেষণা ও সাক্ষাৎকারের পাশাপাশি উপগ্রহের চিত্র, সংঘাতের উপাত্ত, খনি এলাকার রাতের আলো, আন্তর্জাতিক বাজারদর এবং বাণিজ্যের তথ্য বিশ্লেষণ করেছে ক্রাইসিস গ্রুপ। এতে দেখানো হয়েছে, মিয়ানমারের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর সিদ্ধান্তও কীভাবে বিশ্ববাজার ও আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে।

টিন: একটি খনির সিদ্ধান্তে নড়ে বিশ্ববাজার

মিয়ানমারের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে চীন সীমান্তবর্তী ‘মান মাও’ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ টিনের খনিগুলোর একটি। এলাকাটি নিয়ন্ত্রণ করে ইউনাইটেড ওয়া স্টেট আর্মি (ইউডব্লিউএসএ)। ২০ হাজারের বেশি সদস্যের এই সশস্ত্র গোষ্ঠী কার্যত স্বশাসিত একটি অঞ্চল পরিচালনা করে। ১৯৮৯ সাল থেকে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে তাদের যুদ্ধবিরতি রয়েছে।

২০১০-এর দশকের শেষ ও ২০২০-এর দশকের শুরুর দিকে মিয়ানমার বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম টিন উৎপাদনকারী দেশে পরিণত হয়। চীন ও ইন্দোনেশিয়ার পরই ছিল দেশটির অবস্থান। মিয়ানমারের টিনের বড় অংশ আসত মান মাও থেকে। সর্বোচ্চ উৎপাদনের বছরগুলোতে চীনের আমদানি করা টিন আকরিকের ৯০ শতাংশের বেশি সরবরাহ করেছিল মিয়ানমার।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সঙ্গে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতির ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত প্যারেডে ইউনাইটেড ওয়া স্টেট আর্মির (ইউডব্লিউএসএ) স্পেশাল ফোর্সের স্নাইপাররা। পাংসাঙ, ওয়া রাজ্য, ১৯ এপ্রিল ২০১৯

উপগ্রহের চিত্রে দেখা যায়, ২০১০-এর দশকে মান মাওয়ে খনির দ্রুত সম্প্রসারণ হয়েছে। আগে যেখানে বন ছিল, সেখানে সড়ক, আকরিক রাখার জায়গা, খনির বর্জ্যের স্তূপ এবং শ্রমিকদের আবাসন গড়ে উঠেছে। সর্বোচ্চ পর্যায়ে মিয়ানমার থেকে চীনে টিনের ঘন আকরিক রপ্তানির মূল্য বছরে ১০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছিল।

২০২৩ সালের এপ্রিলে সম্পদ নিরীক্ষার কথা বলে মান মাওয়ে খনন বন্ধের ঘোষণা দেয় ওয়া কর্তৃপক্ষ। ওই বছরের আগস্টে উৎপাদন প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এর পরপরই লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জে টিনের দাম ১০ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়। চীনের ধাতু গলানোর কারখানাগুলো বিকল্প সরবরাহকারী খুঁজতে শুরু করে।

চলতি বছরের জুনে চীনের আমদানি করা টিন আকরিকের ৩৭ শতাংশ আসে মিয়ানমার থেকে। দেশটি আবার চীনের সবচেয়ে বড় একক সরবরাহকারীতে পরিণত হয়েছে। যদিও উৎপাদন এখনো আগের পর্যায়ে ফেরেনি।

অনুসন্ধানের সময় বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে কথা বলে পাওয়া তথ্যমতে, খনি বন্ধের পেছনে শুধু সম্পদ নিরীক্ষা ছিল না। মান মাওয়ের খনি পরিচালনাকারী সাতটি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ, ওয়া নেতৃত্বে প্রজন্মের পরিবর্তন এবং খনির রাজস্ব ভাগাভাগি নিয়ে অভ্যন্তরীণ বিরোধের ভূমিকা ছিল।

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে নতুন খনি খননের অনুমতির আবেদন নেওয়া শুরু হয়। প্রথম অনুমতি দেওয়া হয় জুলাইয়ে। এরপর চীনে আকরিক পাঠানো আবার শুরু হয়। চলতি বছরের জুনে চীনের আমদানি করা টিন আকরিকের ৩৭ শতাংশ আসে মিয়ানমার থেকে। দেশটি আবার চীনের সবচেয়ে বড় একক সরবরাহকারীতে পরিণত হয়েছে। যদিও উৎপাদন এখনো আগের পর্যায়ে ফেরেনি।

মান মাও খনির একটি টিন প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানার ভেতরে ইউডব্লিউএসএ সদস্যরা। মিয়ানমার, ৫ অক্টোবর ২০১৬

২০২৩ সাল থেকে গভীর ও উন্নত মানের খনিজ থাকা খনিগুলোতে পানি জমে আছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ১১টি খনিপথ থেকে পানি সরানোর খরচ ভাগাভাগির নিয়ম করে ওয়া কর্তৃপক্ষ। উপগ্রহের চিত্রে নতুন ভবন এবং রাতের আলো বাড়তে দেখা গেলেও উৎপাদন আগের জায়গায় ফেরেনি।

এদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) তথ্যভান্ডার সম্প্রসারণের সঙ্গে টিনের চাহিদাও বাড়ছে। সার্ভার ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রের বিভিন্ন অংশ যুক্ত করার ‘সোল্ডারে’ টিন ব্যবহৃত হয়। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে টিনের দাম টনপ্রতি ৫৩ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যায়। অর্থাৎ উন্নত কম্পিউটার অবকাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের সরবরাহ নির্ভর করছে এমন একটি খনির ওপর, যার নিয়ন্ত্রণ মিয়ানমারের রাষ্ট্রের হাতে নেই।

সোনা: প্রতিরোধযুদ্ধের অর্থের উৎস

মিয়ানমারে সরকার ও বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর আয়ের উৎস হিসেবে সোনার খনি দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর সংঘাত, অর্থনৈতিক পতন এবং বিশ্ববাজারে সোনার দাম বাড়ার কারণে দেশটির মধ্য ও উত্তরাঞ্চলের কিছু এলাকায় নতুন করে সোনা তোলার হিড়িক পড়েছে।

উপগ্রহের চিত্র বিশ্লেষণে ক্রাইসিস গ্রুপ দেখেছে, অভ্যুত্থানের পর সাগাইং অঞ্চলের কিছু এলাকায় সোনা তোলার পরিসর ১৬০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

সরকারি হিসাবে মিয়ানমারে বছরে মাত্র ৫০০ কেজি সোনা উৎপাদিত হয়। তবে অনানুষ্ঠানিক উৎপাদন এর অন্তত ১০ গুণ বেশি হতে পারে। সেই হিসাবে দেশটির সোনা শিল্পের মূল্য বছরে প্রায় ১০০ কোটি ডলার। এই খাতে কয়েক লাখ মানুষের কর্মসংস্থানও রয়েছে।

সোনার খনির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য বিভিন্ন সময় হামলা চালিয়েছে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী

সাগাইং অঞ্চলের সামরিক সরকারবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো বলছে, সোনা উত্তোলনের ওপর কর আরোপ তাদের অস্ত্র ও গোলাবারুদ কেনার অর্থ জোগানের অল্প কয়েকটি উপায়ের একটি। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কিছু নেতা ব্যক্তিগতভাবেও এই ব্যবসা থেকে লাভবান হচ্ছেন। তাঁদের কেউ কেউ নিজেরাই নদীতে সোনা তোলার নৌযান চালাচ্ছেন।

সামরিক সরকারের স্থানীয় কর্মকর্তারাও খনি থেকে সুবিধা পাচ্ছেন। হামলা না করার বিনিময়ে তাঁরা খনিশ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ঘুষ এবং অনানুষ্ঠানিক কর নিচ্ছেন। অন্যদিকে প্রতিরোধ গোষ্ঠীর আয়ের উৎস বন্ধ করতে সোনার খনিতে বিমান হামলাও চালিয়েছে সামরিক বাহিনী। ৯ মাসে অন্তত আটটি শহরাঞ্চলে খনি লক্ষ্য করে কয়েক ডজন হামলার খবর দিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।

সোনা তুলতে নদীর তলদেশ ও চর খনন করা হচ্ছে। চিন্দুইন নদীতে শুষ্ক মৌসুমে জেগে ওঠা উর্বর চর খননের পর আর চাষের উপযোগী থাকছে না। খনির কাজ নদীর তীর ছাড়িয়ে বন, ধানখেত ও বসতবাড়ির কাছাকাছিও ছড়িয়ে পড়েছে। কৃষকদের কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো তাঁদের জমি খনি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করতে চাপ দিচ্ছে।

সামরিক সরকারের স্থানীয় কর্মকর্তারাও খনি থেকে সুবিধা পাচ্ছেন। হামলা না করার বিনিময়ে তাঁরা খনিশ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ঘুষ এবং অনানুষ্ঠানিক কর নিচ্ছেন।

খনি থেকে তোলা সোনা নৌকা, সড়ক বা উড়োজাহাজে মান্দালয়ের পরিশোধনাগারে পাঠানো হয়। মিয়ানমারের মুদ্রা কিয়াতের মূল্যমানের অস্থিতিশীলতা, মূলধন নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনার চাহিদার কারণে দেশের ভেতরেও এর বড় বাজার রয়েছে। তবে ভারত ও বাংলাদেশে তুলনামূলক বেশি দাম পাওয়া যায় বলে সীমান্তপথে সোনা পাচারও করা হয়।

এই খাত যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইরত গোষ্ঠীগুলোকে অর্থ জোগাচ্ছে। একই সঙ্গে এটি কৃষিজমি নষ্ট করছে, পানি দূষিত করছে, স্থানীয় প্রভাবশালীদের সম্পদ বাড়াচ্ছে এবং খনির আশপাশের জনগোষ্ঠীকে সামরিক হামলার ঝুঁকিতে ফেলছে।

জেড: ‘স্বর্গের পাথর’ ঘিরে নিয়ন্ত্রণের লড়াই

চীনে বহু শতাব্দী ধরে জেডকে ‘স্বর্গের পাথর’ বলা হয়। এটি আভিজাত্য, সুরক্ষা ও সৌভাগ্যের প্রতীক। বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত মানের জেডের বড় অংশ, বিশেষ করে উজ্জ্বল সবুজ ‘ইম্পেরিয়াল জেড’ আসে মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলের কাচিন রাজ্যের হপাকান্ত থেকে।

প্রতিবছর হপাকান্তের খনি থেকে শত শত কোটি ডলারের জেড চীনের দিকে যায়। এই বাণিজ্যের অর্থ পায় খনি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা। একই সঙ্গে খনি, আশপাশের সড়ক এবং সীমান্ত পারাপারের পথ নিয়ন্ত্রণকারী সশস্ত্র পক্ষগুলোও এই অর্থের ভাগ পায়।

মিয়ানমারে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের আগে হপাকান্টে রাতের বেলায় জেডের সন্ধানে ঘুরে বেড়ানো খনি শ্রমিকেরা (যাঁরা ‘ইয়েমাসে’ নামে পরিচিত)

১৯৯৪ সালে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও কাচিন ইনডিপেনডেন্স অর্গানাইজেশনের (কেআইও) মধ্যে যুদ্ধবিরতির পর হপাকান্তের খনিতে বড় পরিবর্তন আসে। ছোট পরিসরের খননের জায়গায় শিল্পভিত্তিক বিশাল খনি গড়ে ওঠে। ১৯৯০ সাল থেকে তোলা উপগ্রহের চিত্রে এই রূপান্তর দেখা যায়।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কয়েক লাখ অভিবাসী শ্রমিক হপাকান্তে যান। তাঁদের অনেকে খনির বর্জ্যের মধ্যে মূল্যবান পাথর খুঁজে জীবন বদলানোর প্রত্যাশা করেন। কিন্তু খনির সম্প্রসারণের মানবিক ও পরিবেশগত মূল্য অনেক বড়। শ্রমিকদের মধ্যে মাদকাসক্তি ছড়িয়ে পড়েছে। খনির বর্জ্যের ধসে বারবার বহু শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। শিল্পভিত্তিক খনন পাহাড় কেটে হপাকান্তের বিস্তীর্ণ এলাকাকে ধুলাময় ও পরিত্যক্ত ভূমিতে পরিণত করেছে।

চীনের অর্থনীতি সম্প্রসারিত হওয়ার সঙ্গে ২০০০ ও ২০১০-এর দশকে জেডের চাহিদা ও মুনাফা বাড়ে। তবে সরকারি হিসাবে এই বাণিজ্যের সামান্য অংশই ধরা পড়ে। উন্নত মানের পাথর প্রায়ই সরকারি নিলাম এড়িয়ে অনানুষ্ঠানিক পথে চীনে যায়। পথে কর্মকর্তা ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অর্থ দেওয়া হয়।

পরিবেশ ও মানবাধিকারবিষয়ক অনুসন্ধানী বেসরকারি সংস্থা গ্লোবাল উইটনেসের হিসাবে, ২০১৪ সালে মিয়ানমারের জেড শিল্পের মূল্য সর্বোচ্চ ৩ হাজার ১০০ কোটি ডলার হতে পারে। এটি ছিল দেশটির তৎকালীন সরকারি মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় অর্ধেক। ২০১২ সালের শেষ দিক থেকে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরু হলে প্রকাশ্যে বিলাসী পণ্য কেনা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এরপর জেডের আয় সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে কমলেও শিল্পটি এখনো বছরে শত শত কোটি ডলারের।

অভ্যুত্থানের পর প্রথম কয়েক বছর হপাকান্তের জেড খনি সরাসরি সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। ২০২৪ সালের মার্চে কেআইও বড় অভিযান শুরু করে। তারা চীনের সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা, বাণিজ্য ফটক এবং বিরল মৃত্তিকার খনি দখল করে।

২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর কাচিন রাজ্যে সংঘাত বেড়ে যায়। কেআইও সামরিক সরকারের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠে। সংগঠনটি নতুন গঠিত পিপলস ডিফেন্স ফোর্সেসের (পিডিএফ) সদস্যদের প্রশিক্ষণ ও সহায়তাও দিয়েছে।

অভ্যুত্থানের পর প্রথম কয়েক বছর হপাকান্তের জেড খনি সরাসরি সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। ২০২৪ সালের মার্চে কেআইও বড় অভিযান শুরু করে। তারা চীনের সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা, বাণিজ্য ফটক এবং বিরল মৃত্তিকার খনি দখল করে। এর ফলে কাচিন রাজ্যের লাভজনক ও কৌশলগত কয়েকটি এলাকার নিয়ন্ত্রণ বদলে যায়। একই সঙ্গে হপাকান্তের খনি ও সেখানকার লাভের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে লড়াইয়ের ক্ষেত্র তৈরি হয়।

বিরল মৃত্তিকা: সবুজ জ্বালানি ও সমরাস্ত্রের একই উৎস

বৈদ্যুতিক গাড়ি, বায়ুবিদ্যুতের টারবাইন ও উন্নত অস্ত্রে ব্যবহৃত শক্তিশালী চুম্বক তৈরির জন্য ভারী বিরল মৃত্তিকা প্রয়োজন। এসব উপাদানের মধ্যে মিয়ানমার বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ডিসপ্রোসিয়াম ও টার্বিয়ামের জন্য।

ডিসপ্রোসিয়াম ও টার্বিয়াম বৈদ্যুতিক গাড়ির মোটর, বায়ুবিদ্যুতের টারবাইন এবং আধুনিক অস্ত্রের নির্দেশনা ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় ব্যবহৃত উচ্চক্ষমতার চুম্বকের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ২০২৬ সালের যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাতে ব্যবহৃত গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মজুত আবার গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও এই খনিজ প্রয়োজন।

মিয়ানমারের পাহাড়ি সীমান্তবর্তী অঞ্চলের লিচিং পুলগুলো (রাসায়নিক পদ্ধতিতে খনিজ নিষ্কাশন জলাধার) ওই এলাকার প্রাকৃতিক দৃশ্য বদলে দিয়েছে

বিরল মৃত্তিকার বাজারে চীনের প্রাধান্য রয়েছে। তবে পরিবেশবিধি কঠোর করার পর ২০১০-এর দশকের শুরু থেকে দেশটি ভারী বিরল মৃত্তিকা উত্তোলন কমাতে থাকে। ২০১৬ সালে চীনের এই খনিজ উৎপাদনের কেন্দ্র চিয়াংসি প্রদেশের অনেক খনি বন্ধ করে দেওয়া হয়। দক্ষিণের ইউনানসহ অন্য প্রদেশগুলোর ছোট খনিতেও উৎপাদন কমে যায়।

এরপর খনিজ উত্তোলনের কাজ সীমান্ত পেরিয়ে মিয়ানমারে সরে যায়। সেখানে খনি এলাকার নিয়ন্ত্রণকারী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো পরিবেশ সুরক্ষার খুব কম ব্যবস্থা নিয়েই খনন চালানোর অনুমতি দেয়।

২০১৪ সালে মিয়ানমার থেকে চীনে বিরল মৃত্তিকা রপ্তানির মূল্য ছিল প্রায় ১৫ লাখ ডলার। ২০২১ সালে তা বেড়ে প্রায় ৭৮ কোটি ডলারে ওঠে। ওই বছর মিয়ানমার চীনের ভারী বিরল মৃত্তিকার কাঁচামালের সবচেয়ে বড় একক উৎসে পরিণত হয়।

২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর গৃহযুদ্ধ সম্প্রসারিত হলে খনিগুলোর নিয়ন্ত্রণেও পরিবর্তন আসে। আগে প্রধান খনি এলাকা মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর অনুগত সীমান্তরক্ষী বাহিনীগুলোর নিয়ন্ত্রণে ছিল। ২০২৪ সালের শেষ দিকে কাচিন ইনডিপেনডেন্স অর্গানাইজেশন ওই এলাকা দখল করে। এরপর খনির রাজস্ব সামরিক সরকার ও তার সহযোগীদের পরিবর্তে কেআইওর হাতে যেতে শুরু করে।

এই খনিজ তুলতে পাহাড়ের ভেতর বিষাক্ত রাসায়নিক ঢোকানো হয়। পরে খনিজমিশ্রিত তরল পাহাড়ের নিচে তৈরি পুকুরে জমা করা হয়। উপগ্রহের চিত্রে পাহাড়ের গাছপালা পরিষ্কার, রাসায়নিক তরল রাখার পুকুর ও বর্জ্য এলাকার দ্রুত সম্প্রসারণ দেখা গেছে।

কেআইও খনির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর চীন কিছুদিনের জন্য সীমান্ত বন্ধ করে দেয়। বিরল মৃত্তিকা আমদানির পাশাপাশি খনিতে ব্যবহৃত উপকরণ রপ্তানিও বন্ধ রাখে দেশটি। কিন্তু এই সরবরাহের গুরুত্বের কারণে চীন পরে সীমিত বাণিজ্য চালু করে। ২০২৫ সালের অক্টোবরের শেষ দিকে বাণিজ্য পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়।

বিরল মৃত্তিকার নিয়ন্ত্রণ কেআইওকে চীনের সঙ্গে দর-কষাকষির শক্তি দিয়েছে। সীমান্তের অন্য সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে যুদ্ধবিরতিতে যেতে চীন যে মাত্রায় চাপ দিয়েছে, কেআইওর ক্ষেত্রে তেমনটি করেনি। ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, কৌশলগত এই খনিজের সরবরাহকারী হিসেবে কেআইওর গুরুত্ব এর অন্তত একটি কারণ।

তবে এই সম্পদ কেআইওর জন্য একই সঙ্গে শক্তি ও দুর্বলতার উৎস। বিরল মৃত্তিকার সরবরাহে দীর্ঘ বিঘ্ন চীন মেনে নেবে না। ফলে খনির নিয়ন্ত্রণ কেআইওকে প্রভাব দেওয়ার পাশাপাশি বেইজিংয়ের চাপের মুখেও ফেলতে পারে।

মিয়ানমারে বিশেষ খনিজ উপাদান সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াকরণ করা হয়

উপগ্রহের চিত্রে দেখা গেছে, কাচিন রাজ্যে বিরল মৃত্তিকার খননের এলাকা দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। পূর্বাঞ্চলীয় শান রাজ্যে তুলনামূলক ছোট একটি খনি এলাকা মাত্র এক বছরে তিন গুণ হয়েছে।

এই খনিজ তুলতে পাহাড়ের ভেতর বিষাক্ত রাসায়নিক ঢোকানো হয়। পরে খনিজমিশ্রিত তরল পাহাড়ের নিচে তৈরি পুকুরে জমা করা হয়। উপগ্রহের চিত্রে পাহাড়ের গাছপালা পরিষ্কার, রাসায়নিক তরল রাখার পুকুর ও বর্জ্য এলাকার দ্রুত সম্প্রসারণ দেখা গেছে। অনেক খনি গড়ে উঠেছে নদী ও জলাধারের কাছে।

পূর্ব শান রাজ্যের খনির দূষণ মেকং নদীর উপনদীতে ছড়িয়ে পড়েছে। মিয়ানমার থেকে প্রবাহিত নদীতে দীর্ঘস্থায়ী আর্সেনিক দূষণ পেয়েছে থাইল্যান্ডের কর্তৃপক্ষ। আঞ্চলিক পর্যবেক্ষণেও থাইল্যান্ড ও লাওসে দূষণ পৌঁছানোর তথ্য পাওয়া গেছে।

দূষণ মিয়ানমারে, নিয়ন্ত্রণ চীনের হাতে

চীন নিজের ভূখণ্ডে দূষণকারী খনি বন্ধ করেছে। কিন্তু খনিজ উত্তোলনের সবচেয়ে ক্ষতিকর অংশ সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারে সরে গেছে। ফলে পরিবেশগত ক্ষতি হচ্ছে মিয়ানমারে। অন্যদিকে খনিজ পরিশোধন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও চূড়ান্ত পণ্য তৈরির নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে চীন।

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন মোকাবিলায় জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির দিকে যাওয়া জরুরি। কিন্তু সেই পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল এখন মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী–নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে আসছে। সেগুলো তোলার প্রক্রিয়ায় ব্যাপক পরিবেশগত ক্ষতি হচ্ছে এবং দূষণ সীমান্ত পেরিয়ে অন্য দেশেও পৌঁছাচ্ছে।

একই সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে এখন সমরাস্ত্রের চাহিদাও যুক্ত হয়েছে। বৈদ্যুতিক গাড়ি ও বায়ুবিদ্যুতের টারবাইনের পাশাপাশি উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র, প্রতিরক্ষা অস্ত্র এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবকাঠামোর কাঁচামালও আসছে মিয়ানমারের সংঘাতপূর্ণ এলাকা থেকে।

এভাবে মিয়ানমারের খনিজ সম্পদ স্থানীয় যুদ্ধ, চীনের শিল্পব্যবস্থা এবং বিশ্ব অর্থনীতিকে একই শৃঙ্খলে যুক্ত করেছে। আন্তর্জাতিক চাহিদা খনি সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখছে। আর খনি থেকে পাওয়া অর্থ মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও তার সশস্ত্র বিরোধীদের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য জোগাচ্ছে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
রাজধানীতে নারীসহ ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার
রাজধানীতে নারীসহ ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার

​রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, মতিঝিল, শাহবাগ ও কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে এক নারীসহ ৫ ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার ব্যক্তিদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ​পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের প্রাথমিক পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। তাদের বেশিরভাগকেই ভবঘুরে প্রকৃতির বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। যাত্রাবাড়ী থানার শনির আখড়া ইউটার্ন এলাকা থেকে আনুমানিক ৪৫ বছর বয়সী এক পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। যাত্রাবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আসাদুজ্জামান জুয়েল জানান, স্থানীয়দের ভাষ্যমতে ওই ব্যক্তি এলাকায় ভবঘুরে হিসেবে ঘোরাঘুরি করতেন। ধারণা করা হচ্ছে, অসুস্থতার কারণেই রাস্তায় তার মৃত্যু হয়েছে। বেলা সোয়া ১১টার দিকে মরদেহ ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। এদিকে, মতিঝিলে নটরডেম কলেজের বিপরীত পাশের রাস্তা থেকে প্রায় ৫০ বছর বয়সী এক পুরুষকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন নাসির নামে এক ব্যক্তি। উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা ১১টার দিকে তিনি মারা যান। উদ্ধারকারীর ধারণা, ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিনের অসুস্থতা ও অনাহারে মারা গিয়ে থাকতে পারেন। শাহবাগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশ থেকে আনুমানিক ৩০ বছর বয়সী এক নারীকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করান স্টাফরা। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা সোয়া ১১টার দিকে তিনি মারা যান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগের ওয়ার্ড মাস্টার আইয়ুব আলী। ​অন্যদিকে, শাহবাগ থানাধীন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের মোড়ের ফুটপাত থেকে আনুমানিক ৩০ বছর বয়সী আরেক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেন শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বিজয় মন্ডল। তাকেও ভবঘুরে প্রকৃতির বলে ধারণা করছে পুলিশ। কামরাঙ্গীরচরের ঝাউলাহাটি এলাকা থেকে ৬৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। কামরাঙ্গীরচর থানার ডিউটি অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) প্রাণেশ্বর দাস জানান, স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। ওই ব্যক্তি এলাকায় ঘোরাঘুরি করতেন এবং ভবঘুরে প্রকৃতির ছিলেন। পুলিশ জানায়, নিহতদের পরিচয় শনাক্তে আইনি প্রক্রিয়া চলছে এবং ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। কেএজেডআইএ/এএমএ

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
২৫২ কোটি টাকা দেনা, আদালতের রায়ে দেউলিয়া চালকল ব্যবসায়ী

২৫২ কোটি টাকা দেনা, আদালতের রায়ে দেউলিয়া চালকল ব্যবসায়ী

রায় ঘোষণা মঙ্গলবার, কাদের-সাদ্দাম-ইনানসহ ৭ আসামির কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ

রায় ঘোষণা মঙ্গলবার, কাদের-সাদ্দাম-ইনানসহ ৭ আসামির কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ

পল্লবীতে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে আহত যুবকের মৃত্যু, গ্রেপ্তার ২

পল্লবীতে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে আহত যুবকের মৃত্যু, গ্রেপ্তার ২

জিন্নাহর ছবি টানানোয় প্রতিবাদ, ব্যবস্থা
নেবে প্রশাসন
জিন্নাহর ছবি টানানোয় প্রতিবাদ, ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি টানানো নিয়ে বিতর্কের তৈরি হয়েছে। গতকাল সোমবার সংগ্রহশালায় থাকা জিন্নাহর তিনটি ছবি ছিঁড়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী। প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নও।জিন্নাহর ছবি ডাকসু সংগ্রহশালায় রাখা হয়েছে—এই খবর জানাজানি হলে রোববার রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন।জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমকে জুতাপেটা করার একটি ছবি গতকাল বিকেলে ডাকসু সংগ্রহশালায় টানিয়ে দিয়েছে ছাত্র ফেডারেশন।দিনভর প্রতিবাদ ও সমালোচনার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীকে আহ্বায়ক করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।উপমহাদেশ ও বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনার বিরল আলোকচিত্র, পেপার কাটিং এবং গুরুত্বপূর্ণ দলিল ডাকসু সংগ্রহশালায় রক্ষিত আছে। সংগ্রহশালাটি সংস্কারের পর গত রোববার আবার চালু করা হয়। এতে নতুন করে রাখা হয় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি। এর মধ্যে একটি ছবি ১৯৪৮ সালে ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানের (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক অনুষ্ঠানের, যেখানে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘কেবল উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’। আরও স্থান পায় ১৯৪০ সালের মার্চ মাসে লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বার্ষিক সম্মেলনের একটি দলগত ছবি ও ডন পত্রিকার প্রতিবেদনের পেপার কাটিং। আরও রাখা হয় ছাত্রসংঘের সাবেক নেতা আবদুল মালেকের ছবি। বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একক বা গৌরবোজ্জ্বল কোনো ছবি রাখা হয়নি, যা আগে ছিল।ছিঁড়ে ফেলা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবিজিন্নাহর ছবি ভাঙচুরের ঘটনার পর ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ সাংবাদিকদের বলেন, জিন্নাহর ছবি রাখার পাশাপাশি ছবির নিচে তাঁর বাংলা ভাষাবিরোধী অবস্থানের বক্তব্যও উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, জিন্নাহর ছবি না দিলে বলা হতো, তাঁর (জিন্নাহ) বাংলা ভাষাবিরোধী অবস্থান লুকানো হয়েছে।জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা নিয়ে ফরহাদ বলেন, ‘যিনি ছবিটি ছিঁড়েছেন, তিনি উর্দু বিভাগের শিক্ষার্থী। এ কারণে তিনি জিন্নাহর প্রতি আলাদা দরদ থেকে এমনটি করে থাকতে পারেন।’এর আগে গতকাল সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে ডাকসু সংগ্রহশালায় গিয়ে জিন্নাহর তিনটি ছবি ছিঁড়ে ফেলে প্রতিবাদ জানান আবু তৈয়ব হাবিলদার নামের এক শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের শিক্ষার্থী। সর্বশেষ ডাকসু নির্বাচনে তিনি সহসভাপতি (ভিপি) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।আবু তৈয়ব সাংবাদিকদের বলেন, ‘যে জিন্নাহ আমাদের মাতৃভাষার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত দিয়েছিল, যে জিন্নাহ ১৯৪৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে ছাত্রছাত্রীদের গ্রেপ্তার করেছিল, সেই জিন্নাহ ডাকসুতে স্থান পেতে পারে না।’ছাত্রসংগঠনের প্রতিবাদএক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জিন্নাহর বিতর্কিত ছবি প্রদর্শনের প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। ক্ষমতাসীন দল বিএনপির অঙ্গসংগঠনটি অভিযোগ করেছে, ভাষা ও স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিকভাবে ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন করা হয়েছে। ছবিটি অপসারণ এবং ডাকসুকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর আদর্শ প্রচারের স্থান হিসেবে ব্যবহার বন্ধের দাবি জানিয়েছে ছাত্রদল।মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি স্থাপন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি অপসারণের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন। সংগঠনের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্বাধীনতাসংগ্রামের নেতা হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সংগ্রহশালা থেকে সরিয়ে দেওয়া ইতিহাস বিকৃতির শামিল। দ্রুত জিন্নাহর ছবি অপসারণ ও শেখ মুজিবের ছবি পুনর্বহাল না হলে শিক্ষার্থীরা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি, আর কী যুক্ত হলো, কী বাদ গেলগতকাল বেলা তিনটার দিকে ছাত্র ফেডারেশনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক অর্ক বড়ুয়ার নেতৃত্বে একদল শিক্ষার্থী গোলাম আযমকে জুতাপেটা করার ছবিটি টানান। জিন্নাহর ছবি যেখানে লাগানো হয়েছিল, তার ওপরে ১৯৮১ সালে বায়তুল মোকাররমে গোলাম আযমকে জুতাপেটা করার ছবিটি টানানো হয়।ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন করার প্রতিবাদে জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমকে জুতাপেটা করার ছবি সাঁটিয়ে দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ফেডারেশনের নেতা–কর্মীরাঅর্ক বড়ুয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘জুমা (ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বিষয়ক আন্দোলন) বলেছিল, তার ইচ্ছা করেছে তাই জিন্নাহর ছবি লাগিয়েছে। ঠিক তেমনই আমাদের ইচ্ছা করেছে গোলাম আযমের ছবি লাগাতে, তাই লাগিয়েছি।’গতকাল বিকেলে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ-বিসিএল—এই তিন বাম ছাত্রসংগঠন বিক্ষোভ সমাবেশ এবং সংবাদ সম্মেলন করে। রাত আটটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্বরে অবস্থিত ‘জুলাই নির্ভীক’ স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতারা ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহ ও আবদুল মালেকের ছবি টানানো নিয়ে প্রতিবাদ জানান।স্বাধীনতা আন্দোলনের চরিত্রগুলোকে সরিয়ে নতুন ইতিহাস সৃষ্টির চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়: অধ্যাপক তানজীমউদ্দিনব্যবস্থা নেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনঅধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীকে আহ্বায়ক করে করা কমিটি ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহ ও তৎকালীন ছাত্রসংঘের সাবেক নেতা আবদুল মালেকের ছবি রাখার ঘটনা তদন্ত করবে। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি না নিয়ে শিক্ষক মূল্যায়নের ওয়েবসাইট চালু এবং অনুমতি ছাড়া ‘নির্ভীক জুলাই’ ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করার বিষয়েও তদন্ত করবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এ কথা জানিয়েছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ছবি লাগানো বা ডাকসুর নেওয়া এই কার্যক্রমগুলোর বিষয়ে তিনি আগে থেকে অবগত ছিলেন না। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি লিখিত বক্তব্যও দিয়েছে। এ এতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ যেকোনো সিদ্ধান্ত উপাচার্যের নির্দেশনা সাপেক্ষে গ্রহণ করবে। কিন্তু ডাকসু ‘নির্ভীক জুলাই’ নামে কলাভবন-সংলগ্ন ডাকসু ভবনের পশ্চিম পাশে ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে যে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করেছে, তা সিন্ডিকেট কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কোনোরূপ অনুমতি বা আলোচনা করে স্থাপন করেনি, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আইন অনুযায়ী এখতিয়ারবহির্ভূত।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহ এবং ছাত্রসংঘের নেতা আবদুল মালেকের ছবি প্রদর্শনের বিষয়টিও ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালায় এমন ছবি প্রদর্শন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।ডাকসুর পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মূল্যায়নের জন্য অনুমোদন ছাড়া ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
ফ্ল্যাট প্রতারণার মামলায় রিমান্ড শেষে কারাগারে হরিদাস তরণী

ফ্ল্যাট প্রতারণার মামলায় রিমান্ড শেষে কারাগারে হরিদাস তরণী

সাদিক কায়েমকে পাটওয়ারী ‘আসুন প্রতিযোগিতা হোক’

সাদিক কায়েমকে পাটওয়ারী ‘আসুন প্রতিযোগিতা হোক’

জ্বালানির দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে সিরিয়াজুড়ে বিক্ষোভ

জ্বালানির দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে সিরিয়াজুড়ে বিক্ষোভ

কিমের কি গোপন কোনো ছেলে আছে, খুঁজছেন দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দারা
কিমের কি গোপন কোনো ছেলে আছে, খুঁজছেন দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দারা

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং–উনের গোপন কোনো ছেলে আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখছেন দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দারা। গত বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (এনআইএস) এ তথ্য জানিয়েছে।২০১১ সালে বাবার মৃত্যুর পর উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতায় আসেন কিম। এনআইএসের সর্বশেষ মূল্যায়ন অনুযায়ী, কিমের পর সম্ভবত দেশটির দায়িত্ব নেবেন তাঁর মেয়ে। ধারণা করা হয়, ওই মেয়ের বয়স বর্তমানে প্রায় ১৩ বছর। তাঁর নাম কিম জু এ।বিবৃতিতে এনআইএস বলেছে, কিম জুর কোনো বড় ভাই আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছে তারা। তবে কিমের কোনো ছেলেসন্তান থাকলেও, সে হয়তো তাঁর উত্তরসূরি হওয়ার অবস্থায় নেই। এ ছাড়া কিমের আরেকটি ছোট সন্তান রয়েছে। তবে সে ছেলে নাকি মেয়ে, তা নিশ্চিত নয়।কিমের পর তাঁর মেয়ে দেশের দায়িত্ব নেবেন বলে ধারণা করা হয়এর আগে ২০২৩ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার এক আইনপ্রণেতা বলেছিলেন, সংসদীয় কমিটিকে দেওয়া এক ব্রিফিংয়ে এনআইএস জানিয়েছিল, কিম জু এর একজন বড় ভাই আছে। তবে সেবারও পরে গোয়েন্দা সংস্থাটি জানিয়ে দেয়, উত্তর কোরিয়ার নেতার ছেলে আছে—এমন প্রতিবেদন তারা এখনো যাচাই করে দেখছে।কিমের কোনো ছেলে আছে কি না, তা উত্তর কোরিয়ার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, দেশটির রাজনৈতিক ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে পুরুষতান্ত্রিকতা। ১৯৪৮ সালে উত্তর কোরিয়া প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশটির তিনজন নেতাই কিম পরিবারের পুরুষ সদস্য।সে হিসেবে কিমের উত্তরসূরি তাঁর মেয়ে হতে যাচ্ছেন কি না, তা নিয়ে কিছু বিশেষজ্ঞের সন্দেহ রয়েছে। তাঁদের মতে, উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ কর্মকর্তারা একজন নারীর নেতৃত্ব মেনে না–ও নিতে পারেন। এ ছাড়া কিম জু এ যদি শেষ পর্যন্ত ক্ষমতাও পান, তাহলে দেশটির শাসনভার তাঁর পরিবারের হাত থেকে চলে যেতে পারে। কারণ, কিম জু এ যদি বিয়ে করেন এবং তাঁদের সন্তান যদি পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হন, তাহলে কিম পরিবারের বাইরে ক্ষমতা চলে যাবে।তিন কিমের ৭৮ বছর: যেভাবে টিকে আছে উত্তর কোরিয়া

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুনের পর চার মৃত্যু, পদদলিত হওয়ার তথ্য নাকচ প্রশাসনের

ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুনের পর চার মৃত্যু, পদদলিত হওয়ার তথ্য নাকচ প্রশাসনের

ভুয়া ওয়ারেন্টে গ্রেফতার ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ যাচাইয়ের নির্দেশ

ভুয়া ওয়ারেন্টে গ্রেফতার ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ যাচাইয়ের নির্দেশ

পাকিস্তানপন্থী রাজনীতি আবার প্রাসঙ্গিক করার অপচেষ্টা চলছে: ছাত্রশক্তি

পাকিস্তানপন্থী রাজনীতি আবার প্রাসঙ্গিক করার অপচেষ্টা চলছে: ছাত্রশক্তি

0 Comments